শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: সারা বছর ধরেই শিবলিঙ্গের পুজো চলে। দেবাদিদেব মহাদেব অল্পতেই সন্তুষ্ট। পুজোর উপকরণ বলতে দুধ, বেলপাতা, গঙ্গাজল সঙ্গে ধুতুরা ফুল বা যে কোনও সাদা ফুল হলে ভাল হয়। শিব আরাধনার সবচেয়ে বড় উৎসব হল মহাশিবরাত্রি (Shivaratri)। সারা বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই বিশেষ তিথিতে মেতে ওঠেন শিব পুজোয়।
সাধারণভাবে প্রতিমাসে একটি করে শিবরাত্রি (Shivaratri) থাকে তবে হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছর কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হওয়া মহাশিবরাত্রি সবচেয়ে পবিত্র মানা হয়। এই দিন উপোস করে ব্রত পালন করেন ভক্তরা। সন্ধ্যায় শিবলিঙ্গের পুজো হয়। হিন্দুপুরাণ মতে এই তিথিতে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন শিব ও পার্বতী। পণ্ডিতদের মতে, ২০২৩ সালে মহাশিবরাত্রি তিথিতে একাধিক শুভ যোগের বিশেষ সংযোগ তৈরি হচ্ছে।
এবছরের মহাশিবরাত্রি (Shivaratri) তিথি এবং চার প্রহরের পুজোর নির্ঘণ্ট
চলতি বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার মহাশিবরাত্রি পালিত হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, চতুর্দশী তিথির সূচনা হচ্ছে – ১৮ ফেব্রুয়ারি, রাত ৮টা ০২ মিনিটে এবং সমাপ্ত হচ্ছে – ১৯ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে।
মহাশিবরাত্রিতে (Shivaratri) চার প্রহরের পুজো হয়
এবছর প্রথম প্রহরের পূজার সময় – ১৮ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪২ মিনিট।
দ্বিতীয় প্রহরের পূজার সময় – ১৮ ফেব্রুয়ারি, রাত ৮টা ৪২ মিনিট থেকে রাত ১১টা ৫০ মিনিট।
তৃতীয় প্রহরের পূজার সময় – ১৮ ফেব্রুয়ারি, রাত ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা ৫৮ মিনিট।
চতুর্থ প্রহরের পূজার সময় – ১৯ ফেব্রুয়ারি, রাত ২টা ৫৮ মিনিট থেকে সকাল ৬টা ০৬ মিনিট।
ব্রতভঙ্গের সময় – ১৯ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৬টা ০৬ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৪৩ মিনিট। শিবরাত্রিতে (Shivaratri) নিশীথ কালে পুজোর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি, রাত ১১টা ২৫ মিনিট থেকে মধ্যরাত ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত নিশীথ কাল থাকবে।
চলতি বছরের মহাশিবরাত্রিতে (Shivaratri) তৈরি হচ্ছে অনেকগুলি শুভযোগ
জ্যোতিষীরা বলছেন, এবছরের মহাশিবরাত্রিতে (Shivaratri) বিশেষ সংযোগ থাকছে। এই দিনেই শনি প্রদোষ ব্রত পড়েছে। এই ধরনের সংযোগ শনি দোষ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, যাঁরা পুত্র লাভ করতে চান তাঁদের জন্যও এই সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, সন্তান লাভের পথে বাধা এলে তাঁরা এই যোগে পূজার্চনা করে নিজের মনস্কামনা পূর্ণ করতে পারেন। সর্বার্থ সিদ্ধি যোগও এই দিনে গঠিত হচ্ছে।
শিবরাত্রিতে গ্রহের অবস্থান এ সময় স্বরাশি কুম্ভে বিরাজ করবেন শনি। সূর্য ১৩ ফেব্রুয়ারি কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করবে। যে কারণে আবার শনি-সূর্যের যুতি তৈরি হবে। শনি অস্ত অবস্থায় থাকবেন। যার ফলে সূর্যের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। এই সংযোগ কেরিয়ার ও আর্থিক দিক দিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে করা হয়। এই শুভ যোগে শিবের পুজো করলে শনির দোষও দূর হবে। এই সময় বৃহস্পতি মীন রাশিতে বিরাজ করবে। যার ফলে হংস রাজযোগ তৈরি হবে, যা কেরিয়ারের জন্য অত্যন্ত লাভদায়ক।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।
Leave a Reply