Author: Ishita Mondal

  • Uniform Civil Code: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে বাংলা, গঠিত হল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

    Uniform Civil Code: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে বাংলা, গঠিত হল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের দিকে আরও একধাপ এগোল পশ্চিমবঙ্গ। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও অসমের পর, এবার সেই পথেই হাঁটছে বাংলা (UCC In West Bengal)। ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ৯ জনের একটি বিশেষ কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বিলের খসড়া তৈরি করতে কমিটি গঠন করা হবে। সেইমতোই জারি হয়েছে কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি।

    কারা রয়েছেন কমিটিতে?

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর বিষয়ে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের (UCC In West Bengal)। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে রয়েছেন, মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় (Tathagata Roy), আবাসিক কমিশনার দুষ্যন্ত নারিয়ালা, আইএএস অফিসার শত্রুঘ্ন সিং, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, বঙ্গবাসী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা রত্না ভট্টাচার্য, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন গোপাল চন্দ্র মিশ্র, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং বেঙ্গল সম্ভোগের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নির্মাল্য ভট্টাচার্য।

    ঠিক কী কাজ করবে কমিটি?

    কমিটির কাজ বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মতামত নেওয়া। নবান্ন সূত্রে খবর, এই আইনের রূপরেখা ঠিক করতে যে কমিটি গঠন করা হচ্ছে, তার সদস্যরা এবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সরাসরি সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করবেন। এক্ষেত্রে মূল বিলের খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে আমজনতার মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

    ইতিমধ্যেই অসম এবং উত্তরপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করে একটি প্রাথমিক ড্রাফট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এই আইন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকায় তাড়াহুড়ো করতে চায় না প্রশাসন। সেই কারণেই কমিটি দেড় মাসের মধ্যে সব পক্ষের মতামত যাচাই করে রাজ্যের কাছে জমা দেবে চূড়ান্ত সুপারিশপত্র। এই কমিটি গঠনের জন্য রাজ্যের আইন দফতর ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে, দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন কমিটির প্রধান রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। বৈঠকে মূলত এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি রাজ্যে কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় চালু করা যায়, তার আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে।

    কী এই ইউসিসি (Uniform Civil Code)?

    বর্তমানে আমাদের দেশে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি বণ্টন, সন্তান দত্তক নেওয়া বা উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলি বিভিন্ন ধর্মের মানুষ তাঁদের নিজস্ব ধর্মীয় আইন অনুযায়ী পালন করেন। কিন্তু অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু হয়ে গেলে দেশের সমস্ত নাগরিক–তিনি যে ধর্ম, জাতি কিংবা লিঙ্গেরই হোন না কেন, সবার জন্য একটিই মাত্র আইন কার্যকর হবে।

    মূল উদ্দেশ্য (UCC In West Bengal)

    এই বিধি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হল, আইনের চোখে সমতা – ধর্ম কিংবা জাতি নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে একই আইনের ছায়ায় নিয়ে আসা। এবং নারীর অধিকার রক্ষা। বিভিন্ন ধর্মীয় নিয়মে নারীরা সম্পত্তি বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে যে বৈষম্যের শিকার হন, তা দূর করে পুরুষ ও নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাও এই বিধি প্রণয়নের উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সব ধর্মের আলাদা আইন বন্ধ হয়ে যাবে। তখন দেশ বা রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিকের বিয়ে, ডিভোর্স কিংবা সম্পত্তির অধিকার, একটি মাত্র সরকারি আইন দিয়েই পরিচালিত হবে। এক কথায়, চালু হয়ে যাবে “এক দেশ, এক আইন”।

  • Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus: স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, এবার বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus: স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, এবার বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার থেকে সিলেবাসেও শ্যামাপ্রসাদ! শিক্ষাব্যবস্থায় বড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus)।

    স্কুল স্তরের পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছেন ‘ভারত কেশরী’ তথা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus)। এদিন মিত্র ইনস্টিটিউশনে জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনটাই ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)।

    সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদের (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus) কোন কোন অধ্যায়?

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বাংলার বর্তমান প্রজন্মকে রাজ্যের সঠিক ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে মূলত যে বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া হবে-

    • পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ও ইতিহাস: ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এর প্রেক্ষাপট।
    • দেশপ্রেম ও অখণ্ড ভারত: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রপ্রেম এবং অখণ্ড ভারতের যে রাজনৈতিক ভাবনা, তা শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে।
    • শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপ্রসারে উপাচার্য হিসেবে তাঁর যে অসামান্য অবদান ও কর্মজীবন, এবার থেকে তাও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে চর্চিত হবে।

    আর কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অসীম রাষ্ট্রপ্রেম এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের মূল স্রোতে ধরে রাখার যে ঐতিহাসিক ভূমিকা, তা বর্তমান প্রজন্মের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জানা জরুরি। এবার থেকে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরেই তাঁর এই অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে পড়ানো হবে।”

    মিত্র ইনস্টিটিউশনের জন্য অনুদান

    এদিন নিজের বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) স্মৃতিবিজড়িত স্কুল ‘মিত্র ইনস্টিটিউশন’-এর দুর্দশা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন “অতীতে এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলের দিকে কেউ নজর দেয়নি”। এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদানেরও ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    জিরাটে তৈরি হবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

    পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) আদি পৈতৃক ভিটে হুগলির জিরাটে একটি আধুনিক ও বৃহৎ লাইব্রেরি (গ্রন্থাগার) তৈরি করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে গবেষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আরও বেশি পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন, বলেই মনে করছেন তিনি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই শিক্ষাব্যবস্থা ও সিলেবাসে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা ঘোষণার পর এটা স্পষ্ট যে, নতুন সরকার বাংলার জন্ম-ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে।

  • Shyama Prasad Mukherjee: নতুন মোড়কে শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী, ইকো পার্কে ১২৫ ফুটের মূর্তি, মহাকরণেও বিশেষ শ্রদ্ধা

    Shyama Prasad Mukherjee: নতুন মোড়কে শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী, ইকো পার্কে ১২৫ ফুটের মূর্তি, মহাকরণেও বিশেষ শ্রদ্ধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে উদযাপিত হলো ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী (Shyama Prasad Jayanti celebration)। এই প্রথমবার রাজ্যে মহাসমারোহে সরকারি উদ্যোগে পালিত হলো ‘ভারত কেশরী’-র জন্মজয়ন্তী। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

    মহাকরণে ঐতিহাসিক সূচনা

    রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রশাসনিক ভবন মহাকরণে (রাইটার্স বিল্ডিংস) সরকারি উদ্যোগে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস (Shyama Prasad Jayanti celebration) পালন করা হলো। এদিন সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও বহু কর্মচারী মহাকরণে এসে তাঁর মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

    ইকো পার্কে বিশাল মূর্তির শিলান্যাস

    বাংলার ইতিহাসে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) অবদানকে এতদিন আড়ালে রাখা হয়েছিল বলে দাবি বর্তমান রাজ্য সরকারের। তাই এই বিশেষ দিনটিতে একাধিক ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে নিউটাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি তৈরির সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। এদিন কলকাতায় এসে এই মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

    পৈতৃক ভিটে দর্শন ও স্মরণ সভা

    ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) পৈতৃক বাসভবন।  মূর্তির শিলান্যাস ও ফলক উন্মোচনের পর সেখানেও যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মধ্য় দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অমিত শাহ। এরপর সায়েন্স সিটির সংলগ্ন বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণ সভাতেও যোগ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভা থেকেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে গোটা রাজ্যবাসীর কাছে তুলে ধরেন শাহ।

    নতুন সরকারি ঘোষণা

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মদিনে প্রতিবছরই ৬ জুলাই সরকারি ছুটি থাকবে। হুগলির জিরাটে তাঁর আদি পৈতৃক ভিটেতে মিউজিয়াম তৈরি করা হবে এবং সেখানেও একটি নতুন মূর্তিও বসানো হবে”। ইতিমধ্যেই বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ভোল বদলে দেওয়ার কাজে হাত দিয়েছে রাজ্য সরকার।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকেই বাংলার এই মনিষীকে নিয়ে আবেগ ও চর্চা দুই-ই বেড়েছে। শুধু মুখের কথায় আটকে না থেকে, সরকার যেভাবে দ্রুততার সাথে ১২৫ ফুটের মূর্তির শিলান্যাস করলো, তা প্রশাসনিক তৎপরতারই প্রমাণ দেয়।

  • Baruipur: বারুইপুরকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স নীতি, অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’, সাফ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Baruipur: বারুইপুরকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স নীতি, অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’, সাফ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট”- বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    বারুইপুরের মর্মান্তিক ও নৃশংস নাবালিকা খুনের ঘটনাকে (Baruipur) কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এই চরম সংবেদনশীল আবহে সোমবার রাজ্য সরকারের কড়া এবং আপসহীন অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাবালিকা খুনের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলছে বলে স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বারুইপুরের এই বর্বরোচিত ঘটনার (Baruipur) গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিচার করে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে, তার জন্য এই দলের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে আইজি (IG) পদমর্যাদার একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে। আইজি-র সরাসরি নেতৃত্বে পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স যৌথভাবে দিনরাত কাজ করছে। ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই মূল লক্ষ্য। মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর।

    তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান,”পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের জালে জড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর পলাতক দুই মূল অভিযুক্তের ফোনে হওয়া পারস্পরিক কথোপকথনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অডিও রেকর্ড বা সিডিআর (CDR) ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে। এই তথ্যপ্রমাণ মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে”।

    নির্যাতিতার পরিবারের পাশে সরকার

    তদন্তের পাশাপাশি নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের প্রতি রাজ্য সরকারের পূর্ণ সমবেদনা ও সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, ঘটনার পরেই নিজে উদ্যোগী হয়ে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁনার বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। তিনি নৃশংসতার বিরুদ্ধে সঠিক ও দ্রুত বিচার চেয়েছেন। একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর এই দাবি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত। পরিবার যেভাবে জাস্টিস চেয়েছে এবং সরকার ও পুলিশের কাছ থেকে যে যে ধরণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে, তার সবটাই তারা পাবেন। এ বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।”

    অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি দেশের আইন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সাজার পক্ষে সওয়াল করে বলেন, “এই জঘন্য অপরাধের জন্য প্রথমটার তো বিচার দেবই, দোষীদের ফাঁসি বা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট (Capital Punishment) দেব। কোনও অপরাধী যাতে পার না পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।”

    স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি

    তবে শুধু অপরাধীদের শাস্তিই নয়, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রীকে। নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় থানায় যে ‘মিসিং ডায়েরি’ বা নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশের তরফ থেকে কোনওরকম গড়িমসি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই খতিয়ে দেখবেন। শুভেন্দু অধিকারী নিজে আগামিকাল বারুইপুরের পুলিশ সুপারের (SP) অফিসে যাচ্ছেন। নিখোঁজ ডায়েরি পাওয়ার পর লোকাল পুলিশের ঠিক কী ভূমিকা ছিল? তারা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করেছিল কি না? তার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন বা অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। বললেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রবিবারের তাণ্ডব ও বিরোধীদের কড়া বার্তা

    নাবালিকা খুনের মূল ঘটনার (Baruipur) পাশাপাশি, গত রবিবার বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় যে ব্যাপক উত্তেজনা, ভাঙচুর ও আইন অমান্যের ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মূল খুনের মামলা ছাড়াও পুলিশ আরও তিনটি পৃথক স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে গণপিটুনি, সরকারি সম্পত্তি তথা রেললাইনে ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের আহত করার ঘটনা।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ রবিবার ভোরে পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। তাকে যৌন নির্যাতনের পর খুনের অভিযোগে কুলপি রোড ও রেললাইন অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চলে এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই ধারাবাহিক ও কড়া বার্তার পর এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, বারুইপুর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন এখন অল-আউট অ্যাকশনে নামছে। একদিকে যেমন নাবালিকা খুনের মূল অপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির কাঠে ঝোলানোর জন্য আইনি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, অন্যদিকে ঘটনার দিন যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও সমান্তরালভাবে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার, আইজি-র নেতৃত্বে গঠিত ‘সিট’-এর তদন্তে আগামী দিনে আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

  • Rath Yatra 2026: চিহ্নিত রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ অনুদান! বড় ঘোষণা নবান্নর, পুণ্যার্থীদের সুবিধায় জেলায় জেলায় ‘সেবা শিবির’

    Rath Yatra 2026: চিহ্নিত রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ অনুদান! বড় ঘোষণা নবান্নর, পুণ্যার্থীদের সুবিধায় জেলায় জেলায় ‘সেবা শিবির’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে এই প্রথম রথযাত্রা (Rath Yatra 2026)। আর প্রথমবারেই বড় চমক নবান্নের। ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাকে আরও জমকালো করতে এক ঐতিহাসিক প্যাকেজের ঘোষণা রাজ্য সরকারের। এবার রাজ্যের চিহ্নিত রথযাত্রা কমিটিগুলোকে ৫ লক্ষ টাকা করে বিশেষ অনুদান (West Bengal Govt Grant)। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও সরকার রথযাত্রার জন্য এত বড় আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করল।

    কী কী ঘোষণা করা হয়েছে?

    • কারা পাবেন এই ৫ লক্ষ টাকা? নবান্নের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সব রথযাত্রা কমিটি কিন্তু এই অনুদানের টাকা পাবে না। জেলাশাসকদের দেওয়া তালিকার উপর ভিত্তি করেই রাজ্যের বাছাই করা ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হবে ৫ লক্ষ অর্থসাহায্য (West Bengal Govt Grant)।
    • রথের আকার ও ঐতিহ্য: কোন কমিটির রথযাত্রা কত বড়? তাদের ঐতিহ্য কেমন? তার উপর ভিত্তি করেই এই ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।
    • টাকা দেওয়ার সময়সীমা: আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে রথযাত্রা (Rath Yatra 2026)। নবান্নর তরফে সাফ জানানো হয়েছে, উৎসব শুরুর ৩ দিন আগে অর্থাৎ ১৩ জুলাই নির্বাচিত কমিটিগুলোর হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হবে।
    • পুণ্যার্থীদের জন্য অভিনব ‘সেবা শিবির’ (Special Seva Camps): উৎসবের জৌলুস বাড়ানোর পাশাপাশি পুণ্যার্থীদের সুরক্ষাতেও সমান জোর দিচ্ছে প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি জেলায় ১ লক্ষ টাকা খরচে তৈরি হবে বিশেষ ‘সেবা শিবির’। এই শিবিরগুলো থেকে বিশুদ্ধ পানীয় জল ও ওআরএস (ORS) পাবেন পুণ্যার্থীরা। এছাড়াও পাবেন, প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা। যেকোনও ধরণের আপৎকালীন প্রয়োজনীয় সহায়তাও।

    পুজো অনুদানেও বড় বদল! কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?

    বিগত তৃণমূল জমানায় শুধু দুর্গাপুজোর ক্লাবগুলোকে অনুদান দেওয়া হতো, যা গত বছরের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। তবে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নীতি কিছুটা আলাদা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সব পুজো কমিটিকে ঢালাও অনুদান দেওয়া নাও হতে পারে। শুধুমাত্র যেসব কমিটির প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে, তদন্ত করে তাদেরই অনুদান দেওয়া হবে। নবান্নের জোড়া পদক্ষেপে বঙ্গে রথযাত্রার জৌলুস এবং নিরাপত্তা, বহুগুণ বাড়বে বলে আশাবাদী উৎসবের আয়োজক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

  • Jirat Museum: ‘শিকড়ের টানে জাগল জিরাট’, রাতারাতি খবরের শিরোনামে হুগলির অখ্যাত গ্রাম!

    Jirat Museum: ‘শিকড়ের টানে জাগল জিরাট’, রাতারাতি খবরের শিরোনামে হুগলির অখ্যাত গ্রাম!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুগলির প্রত্যন্ত গ্রাম জিরাট। এই মাটিতে কোনওদিনও পা-ই রাখেননি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায় (Shyama Prasad Mukherjee)। কিন্তু আজ সেখানেই তৈরি হচ্ছে নতুন ইতিহাস। রাতারাতি বদলে গেল হুগলির এই অচেনা গ্রামের ভাগ্য! কেন জানেন?

    একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুটের বিশাল মূর্তির (Shyama Prasad Statue) শিলান্যাস। অপরদিকে, শিরোনামে হুগলির প্রত্যন্ত গ্রাম জিরাট। এই গ্রামেরই স্মৃতিমন্দির পাড়ায় অবস্থিত শ্যামাপ্রসাদের পৈতৃক ভিটে। এবার সেখানেই মিউজিয়াম (Jirat Museum) তৈরির ঘোষণা রাজ্য সরকারের।

    শিকড়ের টানে জিরাটের স্মৃতিমন্দির পাড়া

    কলকাতা থেকে হুগলির জিরাটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। ব্যান্ডেল-কাটোয়া রেল লাইনের জিরাট স্টেশন থেকে মেরেকেটে দেড় কিলোমিটার এগোলে রাস্তার উপরেই চোখে পড়বে এই পুরোনো বাড়ি। এটাই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) দাদু গঙ্গাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভিটে। পেশায় তিনি ছিলেন চিকিৎসক। যদিও পরবর্তীতে গঙ্গাপ্রসাদবাবু পরিবার নিয়ে কলকাতায় চলে যান। ফলে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সবার পড়াশোনা, বড় হয়ে ওঠা এবং কর্মজীবন কেটেছে কলকাতাতেই।

    উৎসবের আমেজে জিরাট

    স্থানীয় গ্রামবাসীদের মতে, একসময় বেশ কয়েক কাঠা জমি নিয়ে ছিল এই সমৃদ্ধ বাড়িটি। কিন্তু সময়ের নিয়মে পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে জমি বিক্রি হতে হতে এখন বাড়ি ও জমি মিলিয়ে অবশিষ্ট মাত্র ৬-৭ কাঠা। বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ভোল বদলে দেওয়ার কাজে হাত দিয়েছে রাজ্য সরকার। উঠোনের জঙ্গল, আগাছা ছেঁটে রূপ দেওয়া হচ্ছে হেরিটেজ স্থলের। তৈরি হচ্ছে মিউজিয়াম (Jirat Museum)। আর সরকারের এই উদ্যোগে গ্রামজুড়ে এখন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।

    ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বা তাঁর বাবা ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়—কোনওদিনও সশরীরে এই গ্রামে পা রাখেননি। তাও আজ ঘরে ঘরে আনন্দের বন্যা! কারণ, এই মহানায়কের শিকড়ের টানেই আজ বিশ্বদরবারে নতুন পরিচয় পাচ্ছে জিরাট গ্রাম। জিরাটে পর্যটকদের ঢল, বাড়ছে পরিচিতি। যা রাতারাতি বদলে দিচ্ছে এলাকার অর্থনীতি। জিরাটের মাটি আজ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে এক নতুন রূপকথার জন্ম দিচ্ছে।

    • স্মৃতির কোলাজ: এই গ্রামেই রয়েছে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নামের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাঠাগার। পাশাপাশি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) নামের একটি ক্লাবও রয়েছে।

    চুরির আতঙ্ক পেরিয়ে এবার রূপান্তরের পালা

    অতীতে এই পৈতৃক বাড়িতে দু-দুবার চুরির ঘটনা ঘটায় গ্রামবাসীদের মনে একটা আতঙ্ক ছিল। কিন্তু সেই সব এখন অতীত। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ক্লাবের মাঠেই এবার সরকারি উদ্যোগে মহাসমারোহে ভারত কেশরীর জন্মদিবস পালন করা হয়। পরম শ্রদ্ধায় ঘরের ছেলের ইতিহাসকে আগলে রেখে এক নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন জিরাটের বাসিন্দারা।

  • Amit Shah Kolkata Visit: ১২৫ ফুট মূর্তির শিলান্যাস, শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী পালনে কলকাতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

    Amit Shah Kolkata Visit: ১২৫ ফুট মূর্তির শিলান্যাস, শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী পালনে কলকাতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালির জাতিসত্তা রক্ষা ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনের নায়ক ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee)। আজ তাঁরই ১২৫তম জন্মজয়ন্তী। বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে সেজেছে গোটা কলকাতা থেকে জেলা। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে বিজেপি সরকার। স্বাভাবিকভাবেই আজকের দিনকে ঘিরে নানাবিধ অনুষ্ঠানের আয়োজন। একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।

    • ১২৫ ফুট মূর্তির শিলান্যাস (Shyama Prasad Statue): সোমবার রাজারহাটের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুটের বিশাল মূর্তির (Shyama Prasad Statue) শিলান্যাস কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের।

    • পৈতৃক ভিটেতে শ্রদ্ধার্ঘ্য: ভবানীপুরে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্প স্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah)।

    • মিলন মেলায় মূল সভা: শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মিলন মেলা প্রাঙ্গণেও জনসভা শাহের।

    এদিন ঘোষিত তিনটি কর্মসূচিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)-সহ অন্যান্য নেতা ও মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়করা। মিত্র ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনা করতেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এদিন তাঁর সেই স্কুলেও যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, বিধানসভাতেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন। আলোয় সাজিয়ে তোলা হয় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত স্কুল মিত্র ইনস্টিটিউশন ও পৈতৃক ভিটে।

    বাঙালি হিন্দুদের নিজস্ব ভূখণ্ড

    ১৯৪০, যখন দেশভাগ নিশ্চিত হয়ে আসছিল, গোটা বাংলা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হওয়ার মুখে। বাঙালি হিন্দুদের ভবিষ্যৎ যখন সম্পূর্ণ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এক বীরের মতো ইতিহাস বদলে দিতে এগিয়ে আসেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee)। তাঁর আপসহীন ও দূরদর্শী লড়াইয়ের ফলেই তৎকালীন সময়ে কংগ্রেস ও ব্রিটিশ শক্তি বাংলাকে বিভক্ত করতে বাধ্য হয়েছিল। এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হয় বাঙালি হিন্দুদের নিজস্ব ও নিরাপদ এক ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ।

    সুকিয়া স্ট্রিটে শ্যমাপ্রসাদের ফলক ভাঙচুর, গ্রেফতার ১

    দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই মহানায়কের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল, তাকেই আজ জনগণের চর্চায় নিয়ে আসতে চাইছে বিজেপি। তবে এই উদ্‌যাপনের আবহের মাঝেই উত্তর কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটে ঘটে গেল এক আপত্তিজনক ঘটনা। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির বেদি এবং নামের ফলক ভাঙচুর। ফলকটি ভেঙে মূর্তির সামনেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রাখার অভিযোগ। ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয় আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ। গ্রেফতার রূপেশ হাজরা নামে এক ব্যক্তি। নারকেলডাঙার ওয়ার্ডস ইনস্টিটিউশন স্ট্রিটের বাসিন্দা ধৃত ওই ব্যক্তিকে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

  • Jodhpur Airport: যোধপুরে রাজকীয় ঐতিহ্যের আধুনিক রূপান্তর, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ডানা মেলল নয়া ‘উড়ান’

    Jodhpur Airport: যোধপুরে রাজকীয় ঐতিহ্যের আধুনিক রূপান্তর, প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ডানা মেলল নয়া ‘উড়ান’

    মাধ্য়ম নিউজ ডেস্ক: দ্রুত বদলাচ্ছে আজকের ভারত। রাস্তাঘাট, রেল ব্যবস্থা থেকে বিমান পরিষেবা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও অনায়াস করে তুলছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ হোক বা পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন-বিশ্বমঞ্চে ভারত আজ শক্তিশালী দেশ হিসেবে এগিয়ে চলেছে। এই উন্নয়নের ধারা বজায় রেখেই রাজস্থানে (Rajasthan) একগুচ্ছ বড় প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)।

    যোধপুর বিমানবন্দরের নয়া টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন (Jodhpur Airport)

    ইতিহাসের শহর যোধপুরে এবার আধুনিকতার ছোঁয়া। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে মরু শহরে বইল উন্নয়নের জোয়ার। যোধপুর বিমানবন্দরের নতুন এবং আধুনিক টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মাও (Bhajanlal Sharma)। প্রায় ৪৮০ কোটি টাকা খরচে এই নতুন টার্মিনাল ভবনটি তৈরি হয়েছে। এটি রাজস্থানের পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির এক চমৎকার মেলবন্ধন। টার্মিনালটি (Terminal) রাজস্থানের রাজকীয় রাজপ্রাসাদের মতো করে সাজানো হয়েছে। এর দেওয়ালে রয়েছে বিভিন্ন নকশা। খিলান ও ঝরোকার মতো নকশাগুলি পর্যটকদরে নজর কাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    পরিবেশবান্ধব ভাবনা

    শুধু আধুনিকতাই নয়, পরিবেশের সুরক্ষাকেও রাখা হয়েছে অগ্রাধিকারের তালিকায়। বিদ্যুৎ ও জলের অপচয় রোধে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যার মূল লক্ষ্য দেশের অন্যতম সেরা ৫-স্টার GRIHA রেটিং অর্জন করা। বিশাল আয়তনের এই নতুন টার্মিনাল ভবনটি প্রায় ২৩,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। বছরে প্রায় ২০ লক্ষ যাত্রীকে বিশ্বমানের পরিষেবা দেবে। ব্যস্ততম সময়ে ১ হাজারেরও বেশি যাত্রী সামলাতে সক্ষম।

    বালোত্রায় মেগা প্রকল্প 

    যোধপুরের অনুষ্ঠান শেষ করেই সোজা বালোত্রায় চলে যান প্রধানমন্ত্রী। রাজস্থানের উন্নতির স্বার্থে ১.০৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। দেশবাসীর বিমানযাত্রার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সূচনা হলো ‘উড়ান’ (UDAN) প্রকল্পের। এর মূল লক্ষ্য হল, দেশের প্রত্যন্ত ও ছোট শহরগুলিকে বিমান মানচিত্রে যুক্ত করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত এবং গতিশীল করা। আগামী ১০ বছরের জন্য এই প্রকল্পের বাজেট ২৮,৮৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পের লক্ষ্য হল দেশের যেসব ছোট শহরে বিমান চলে না বা পুরানো রানওয়ে পড়ে রয়েছে, সেগুলিকে নতুন বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করা। পাহাড় বা দুর্গম অঞ্চলে যাতায়াত সহজ করতে ৩,৬৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০টি নতুন হেলিপ্যাড তৈরি করা। বিমান সংস্থাগুলিকে সরকার ৫ বছর পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য (VGF) দেবে। যাতে তারা কম ভাড়ায় সাধারণ মানুষকে উড়ানের সুযোগ করে দিতে পারে। ছোট বিমানবন্দর ও হেলিপ্যাডগুলি যাতে ঠিকঠাক চলে, সেজন্য সরকার বার্ষিক আর্থিক অনুদান দেবে। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দুটি উন্নত হেলিকপ্টার (HAL Dhruv) ও দুটি বিমান (HAL Dornier) এই কাজের জন্য কেনা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যোধপুর ও বালোত্রার এই নতুন প্রকল্পগুলি শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাই উন্নত করবে না, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও পর্যটন শিল্পেও জোয়ার আনবে। আয় বাড়বে সাধারণ মানুষের।বিশেষজ্ঞদের মতে, যোধপুরের নয়া টার্মিনাল, বালোত্রার বিশাল প্রকল্প এবং ‘উড়ান’ সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় উপহার। এর জেরে মরুরাজ্যে পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। চাঙা হবে হোটেল ও পরিবহণ ব্যবসা। হাজার হাজার মানুষের রোজগার বাড়বে, প্রশস্ত হবে কর্মসংস্থানের পথও।

    এগিয়ে চলেছে নতুন ভারত

    যোধপুর (Jodhpur Airport) বা বালোত্রার এই কাজগুলি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, এটি পুরো ভারতের উন্নতির একটি অংশ মাত্র। একদিকে ভারত মহাকাশ বিজ্ঞানে ‘চন্দ্রযান’ ও ‘গগনযান’ মিশন নিয়ে বিশ্বের দরবারে নাম কুড়োচ্ছে, আর অন্যদিকে দেশের ভেতরে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন, হাজার হাজার কিলোমিটার লম্বা নতুন এক্সপ্রেসওয়ে এবং আধুনিক বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে তুলছে। পরিবেশ বাঁচাতে ভারত এখন সৌরশক্তি ও গ্রিন হাইড্রোজেনের ওপরও জোর দিচ্ছে। এককথায়, উন্নত ভারতের যে স্বপ্ন আমরা নিরন্তর দেখে চলেছি, অহরহ তার সুফল পৌঁছে যাচ্ছে দেশের প্রতিটি কোণে।

  • 700-Year Old Banyan Tree: বিজ্ঞানের হাত ধরে ইতিহাসের হদিশ, মুঙ্গেরে মিলল ৭০০ বছরের পুরানো বটগাছ!

    700-Year Old Banyan Tree: বিজ্ঞানের হাত ধরে ইতিহাসের হদিশ, মুঙ্গেরে মিলল ৭০০ বছরের পুরানো বটগাছ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের মুঙ্গেরে খোঁজ মিলল বুড়ো বটের! গাছটির বয়স ৭০০ বছর। লোককথা নয়, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বয়স নির্ধারণ করা হল ওই অতিকায় বট গাছের। এই আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের সবচেয়ে সঠিকভাবে বয়স নির্ণয় করা প্রাচীনতম বট গাছ (World’s Oldest Accurately Dated Banyan Tree) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল মুঙ্গেরের ওই গাছ।

    কীভাবে জানা গেল আসল বয়স? (700-Year Old Banyan Tree) 

    আমাদের মতো গরম ও আর্দ্র অঞ্চলের (Tropical region) গাছের গুঁড়িতে সাধারণত স্পষ্ট গোল গোল বৃদ্ধির বলয় বা ‘গ্রোথ রিংস’ (Growth Rings) তৈরি হয় না। আর এই বলয় দেখেই যেহেতু সাধারণ পদ্ধতিতে গাছের বয়স মাপা হয়, তাই এই ধরনের গাছের সঠিক বয়স জানা বিজ্ঞানীদের কাছে বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু লখনউয়ের Birbal Sahni Institute of Palaeosciences-এর বিজ্ঞানী তৃণা বোস, ময়াঙ্ক শেখর এবং অখিলেশ কে যাদব সেই কঠিন কাজটাও সহজ করে দিলেন। বিজ্ঞানীরা প্রথমে গাছটির ঝুরি থেকে তৈরি হওয়া একটা মোটা গুঁড়ি এবং একটি পুরানো ডাল থেকে সামান্য কাঠ কেটে নেন। এরপর ল্যাবরেটরিতে সেই কাঠের সবচেয়ে শক্ত অংশটুকু আলাদা করা হয়। সবশেষে, ‘রেডিওকার্বন ডেটিং’ (Radiocarbon dating) নামের এক আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং বিশেষ কম্পিউটারের সফটওয়্যারের সাহায্যে নিখুঁতভাবে মেপে দেখা যায় যে, গাছটির বয়স প্রায় ৭০০ বছর (700-Year Old Banyan Tree)! স্থানীয়রা জানতেন, মুঙ্গেরের ঐতিহাসিক ‘বড় বাংলোর’ পাশে ৩০০-৩৫০ বছর আগে কেউ হয়তো এই গাছটি (Banyan Tree) রোপণ করেছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞানীদের এই নতুন গবেষণা সব হিসেব ওলটপালট করে দিল! আসলে, ওই বাংলো তৈরি হওয়ারও বহু বছর আগে থেকেই বটগাছটি সেখানে রয়েছে।

    সাফল্যের মুকুটে আরও এক পালক(India’s Milestones)

    তবে এই প্রথম নয়, বিশ্বমঞ্চে এর আগেও একাধিকবার পরিবেশ ও বিজ্ঞানভিত্তিক মাইলফলক (Milestones) স্পর্শ করেছে ভারত। মুঙ্গেরের এই আবিষ্কার ভারতের সেই গৌরবময় তালিকায় আরও একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে উঠল। চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3)-এর সফলভাবে চাঁদে অবতরণ থেকে শুরু করে মঙ্গলাকাশে ভারতের কৃতিত্ব বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ‘Project Tiger’ এবং ‘Project Elephant’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত আজ বিশ্বের দরবারে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অন্যতম পথপ্রদর্শক। এর আগে ভারতের প্রাচীন জলবায়ু (Past climates) এবং সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক পরিবেশ গবেষণায়ও ভারতীয় বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

    আমাদের সংস্কৃতিতে বট গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। মুঙ্গেরের এই ৭০০ বছরের বুড়ো গাছটি (700-Year Old Banyan Tree) কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, এটি নিজেই বাস্তুতন্ত্র। শত শত বছর ধরে অসংখ্য পাখি, কীটপতঙ্গ এবং বন্যপ্রাণের আশ্রয়স্থল এই বটগাছ। যুগ যুগ ধরে মানুষের সামাজিক মেলবন্ধন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই মহীরুহ। মুঙ্গেরের এই বট গাছের বয়স আবিষ্কার কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি ভারতের বিজ্ঞান সাধনার এক ঐতিহাসিক জয়। ৭০০ বছর ধরে ঝড়-ঝাপটা সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটবৃক্ষ যেমন আমাদের অতীতের কথা মনে করায়, তেমনই বিজ্ঞানীদের এই সাফল্য আমাদের এক গর্বিত ভারতের ছবিও ফুটিয়ে তোলে।

  • National Education Policy: ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবসে’ পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ডাক, ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে চাঁদের হাট

    National Education Policy: ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবসে’ পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ডাক, ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে চাঁদের হাট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০৪ সালের ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা বাঁচাও আন্দোলনে’র স্মৃতি এবং ‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসে’র প্রতিষ্ঠা দিবসের স্মরণে দেশজুড়ে পালিত হল ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’ (Indian Education Day)। প্রতি বছরের মতো এবারও ২ জুলাই পালিত হয় ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’। সেই মতোই কলকাতার ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজ ও শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের যৌথ উদ্যোগে ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’ (Indian Education Day) উদযাপন করা হয়। আয়োজন করা হয়েছিল আলোচনা সভারও।

    আলোচনার মূল বিষয় (National Education Policy)

    আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ”পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বাস্তবায়ন ” (National Education Policy)। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) পশ্চিমবঙ্গে কতখানি এবং কীভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা নিজেদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন ওই অনুষ্ঠানে।

    আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথা বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের পূর্ব ক্ষেত্রের ক্ষেত্র সঙ্ঘচালক জয়ন্ত রায়চৌধুরী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ সুরেশ গুপ্ত এবং পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক অধ্যাপক রঞ্জিত প্রসাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ তথা আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এবং প্রান্ত সংযোজিকা সুচেতা মুখার্জী।

    অতিথিদের তালিকায় ছিলেন প্রজ্ঞা প্রবাহের পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক অরবিন্দ দাস, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্র সংগঠনমন্ত্রী অপাংশু শেখর শীল এবং ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক রমেশ প্রামাণিক। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা, কেন্দ্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, গবেষক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বহু অভিভাবক। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy) প্রয়োগের বিভিন্ন দিক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এই আলোচনা ও যৌথ প্রয়াস আগামী দিনে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।

    দেশের প্রগতি ও শিক্ষার মেলবন্ধন

    অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বক্তা জয়ন্ত তাঁর বক্তব্যে ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র আদর্শের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই লক্ষ্যগুলি পূরণে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। ন্যাসের পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এ রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) কার্যকরের একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরেন। ভারতকেন্দ্রিক ও মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক বার্তা

    শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এবং পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বাংলায় এর বিস্তারের দিক-নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিক্ষকদের ভূমিকা

    ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজের অধ্যক্ষ শুভ্রনীল সোম তাঁর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন,”জাতীয় শিক্ষানীতি তখনই পুরোপুরি সফল হবে, যখন পঠন-পাঠনে শিক্ষকরা আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবেন এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে”। তিনি এও বলেন,”পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয় স্তরে এখনও রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি এবং তার নির্ধারিত $৫+৩+৩+৪$ পাঠ্যক্রম প্রণালী চালু করা সম্ভব হয়নি, যা দ্রুত হওয়া প্রয়োজন”। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই নয়া শিক্ষানীতি চালু হলে ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি সুবিধা পাবে। তখন আর শুধু মুখস্থ করে পাশ করার চাপ থাকবে না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বিষয় নিয়ে বাস্তবমুখী ও কাজের উপযোগী শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবে। কোনও কারণে মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও, পরে ফের সেখান থেকেই পড়া শুরু করা যাবে। মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন বাংলার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল ও স্বাবলম্বী করে তুলবে বলেই আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত গুণীজনেরা।

LinkedIn
Share