মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজও জামিন পেলেন না কুন্তল ঘোষ (Kuntal Ghosh)। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূলের হুগলির যুবনেতাকে আরও ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল নগর দায়রা আদালত। ফলে আপাতত ৩ মার্চ পর্যন্ত প্রেসিডেন্সি জেলেই থাকতে হবে কুন্তলকে।
এদিকে এদিনই আদালত চত্বরে আত্মহত্যার হুমকি দিলেন কুন্তল ঘোষ (Kuntal Ghosh)। হুগলির যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বলেন, “দোষী সাব্যস্ত হলেই আত্মহত্যা করব।” সম্প্রতি কুন্তলকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট৷ তাঁর কাছে ১০০ কোটি টাকা ও মূল্যবান গাড়ি থাকার অভিযোগ উঠেছে৷ শুক্রবার কুন্তলকে আদালতে পেশ করে ইডি৷ সেই সময় তিনি দাবি করেন, “তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন। এগুলো যদি প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আত্মহত্যা করব।” নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়ার পর প্রথমে ইডি হেফাজতে ছিলেন কুন্তল৷ এখন তিনি রয়েছে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে৷ এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে রয়েছেন তিনি৷ বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে কুন্তল ঘোষকে জেরা করে তদন্তকারী আধিকারিকরা রাজ্যের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। কুন্তল ঘোষ ইডিকে জানান, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির লভ্যাংশের টাকা পেতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্য-সহ রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালীরা।
আরও পড়ুন: খরচে লাগাম টানতে দিল্লি-মুম্বাইয়ের অফিস বন্ধ করল ট্যুইটার, কাজ হবে বাড়ি থেকেই
শুক্রবার এই মামলার শুনানি ছিল নগর দায়রা আদালতে। আদালত কক্ষে ইডি এবং তাঁর আইনজীবী নিজেদের কথা জানানোর পরেই হঠাৎ কুন্তল জানান, তিনিও কিছু বলতে চান। বিচারক তাঁকে কথা বলার অনুমতি দেন। কুন্তল (Kuntal Ghosh) বলেন, “সব কিছুর মধ্যে একটা পর্দা রয়েছে…।” কুন্তলের বাড়িতে থেকে একটি ধূসর রঙের ডায়েরি উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা। সেই ডায়েরির পাতায় সাঙ্কেতিক লেখার পাশাপাশি গানের কলিও খুঁজে পায় ইডি। শুক্রবার কোর্ট রুমে এই ডায়েরি নিয়ে কিছু বলতে শুরু করেছিলেন কুন্তল। কিন্তু ‘ডায়েরি’ শব্দটি শোনামাত্রই বিচারক কুন্তলকে থামিয়ে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি নতুন কিছু বলতে চান?” কুন্তল থমকে গিয়ে আবার বলতে শুরু করেন। বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “হ্যাঁ। বলতে চাই। গোপাল দলপতির আন্ডারে…”। কিন্তু এ বারও বাক্য সম্পূর্ণ করতে পারেননি কুন্তল। বিচারক আবার তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনার যদি কিছু নতুন বলার থাকে আইনজীবীর মারফত বলুন।” এরপরেই চুপ করে যান কুন্তল। প্রায় আর কোনও কথাই বলতে পারেননি শুনানি চলাকালীন পুরো সময়ে। পরে কুন্তলের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁর আইনজীবী বিচারককে জানান, তাঁদের নতুন কিছু বলার নেই।
এবার সিবিআই হেফাজতে কুন্তল?
এদিকে সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, এবার কুন্তলকে (Kuntal Ghosh) জেরার জন্যে হেফাজতে নিতে পারে সিবিআই। কুন্তলকে হেফাজতে নিতে চেয়ে আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা। আদালত থেকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টও জারি করা হয়েছে। আগামী সোমবার আদালতে পেশ করা হবে কুন্তল ঘোষকে। সিবিআই আধিকারিকরা চাইছেন বিষয়টির গভীরে যেতে। নিয়োগ দুর্নীতিতে কীভাবে কুন্তলের নাম জড়াল তা জানতে।