Author: suman-das

  • Shamik Bhattacharya: “তোমাকে মিস করছি… হে বীর”, অভিষেককে কটাক্ষ শমীকের, ফলতায় সংখ্যালঘুদের আশ্বাস বিজেপির

    Shamik Bhattacharya: “তোমাকে মিস করছি… হে বীর”, অভিষেককে কটাক্ষ শমীকের, ফলতায় সংখ্যালঘুদের আশ্বাস বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গত শনিবার এই কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মনোনীত প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে আয়োজিত একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি শাসকদলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের কড়া সমালোচনা করেন। এর ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ রবিবার, ফলতার মাটিতে দাঁড়িয়ে এক ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করার পাশাপাশি, তাঁকে ফলতায় এসে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সশরীরে প্রচার করার আহ্বান জানান শমীক।

    রাজনৈতিক দাপট আজ অপ্রাসঙ্গিক (Shamik Bhattacharya)

    আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শনিবারের সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি প্রার্থীকে ন্যূনতম এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। রবিবার শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) সেই লক্ষ্যমাত্রাকে আরও প্রসারিত করে সোয়া লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ের দাবি জানান। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক পরিহাসের সুরে তিনি বলেন, “প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পুলিশি বেষ্টনী ব্যতিরেকে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের চিরাচরিত রাজনৈতিক দাপট আজ অপ্রাসঙ্গিক। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক যদি ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে আসেন, তবে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মী সমর্থকেরা তাঁকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক সৌজন্য প্রদর্শন করবেন। হে বীর তোমায় মিস করছি, তুমি এসো। যিনি বলেছিলেন ডিজে বাজাবেন, আমি বলছিলাম হারমোনিয়াম, জলতরঙ্গও বাজাতে পারেন। সব বাড়ির মধ্যে। যাঁরা লড়াই  করবেন বলছিলেন, বাড়িতে এখন শ্যাডো প্র্যাক্টিস করছেন। যাঁরা বিশু ছিলেন তাঁরা এখন শিশু হয়ে গেছেন। আর পথ নেই।”

    তৃণমূলের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের

    উল্লেখ্য, বিগত লোকসভা নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তবে শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যে তৃণমূলের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার কার্য পরিচালনায় শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এক প্রকার অনীহা ও জড়তা নজরে আসছে। বিগত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বিজেপি কর্মীদের ওপর নানাভাবে রাজনৈতিক হিংসার দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা গিয়েছে। সমস্ত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিজেপি কর্মীরা যেখানে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন, সেখানে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি আজ অত্যন্ত সীমিত।”

    সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

    উক্ত সমাবেশ থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক বার্তা প্রদান করেন। শমীক (Shamik Bhattacharya) আশ্বস্ত করে বলেন, “সাধারণ সংখ্যালঘু নাগরিকদের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও আদর্শগত বা রাজনৈতিক বিরোধ নেই। দেশকে নিজের মাতৃভূমি হিসেবে গভীর প্রত্যয়ের সাথে গ্রহণ করেন এবং বিজেপি সর্বদা আপনাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজ্যে বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন ঘটেছে এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আইনি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে, তবে প্রশাসন আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

    দ্রুত এই অঞ্চলে শিল্পায়ন

    ফলতার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে শমীক (Shamik Bhattacharya) ভট্টাচার্য জানান, সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং কোনও প্রকার ভীতি ব্যতিরেকে তাঁরা নিজেদের প্রচার কর্মসূচি ও জনসভা পরিচালনা করতে পারেন; বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও রূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে না। তবে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পুনরায় রাজনৈতিক ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন তিনি। পরিশেষে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা দূরীকরণের আশ্বাস দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি উল্লেখ করেন, নবগঠিত সরকার দ্রুত এই অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বাস্তবায়ন করবে, যাতে স্থানীয় যুবসমাজকে জীবিকার তাগিদে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিন রাজ্যে গমন করতে না হয়।

    বিজেপির প্রতিকে টেপ লাগানো হয়েছিল

    উল্লেখ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূলের সর্বভারতীয়  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “যারা আমাদেরকে এসে ধমকাচ্ছে, বাংলার মাটিতে এসে বাঙালিকে চমকাচ্ছে, ‘উল্টা করকে লটকা দেগা’, আমি বলব, সৎ সাহস থাকলে ৪ তারিখ বাংলায় থাকবেন। বেলা ১২টার পর কথা হবে, দেখা হবে। কে কাকে উল্টো করে টাঙায়, বাংলার মানুষ দেখিয়ে দেবে ৪ তারিখ।”

    ফলতায়  এদিন তা নিয়েও বক্তব্য রাখেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “ডায়মন্ড হারবারের কিছু অংশের মানুষকে বোঝানো হয়েছিল, বিরোধী বলে কিছু রাখতে নেই। এখন আমরা বলছি, উত্তরাধিকার কেমন আছ? হয় সোমা ঘোষকে পাঠাচ্ছি লালপার সাদা শাড়ি পড়ে বরণ করবে,  আর নয়তো গ্রিন করিডর করে দিচ্ছি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাড়ি চলে যাও। কী যেন বলে ছিলে, হোদল কুতকুত।”

    তবে ৪ মে ফলাফল ঘোষনার পর তৃণমূলের যে ভরাডুবি হয়েছে তার জেরে বড় নেতাদের আনাগোনা কমে গিয়েছে । এই কেন্দ্রে ব্যাপক ছাপ্পা এবং বিজেপির প্রতীকে টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের কাছে নালিশ যেতেই ২১ মে ফের আরেকবার ভোট গ্রহণ হবে।

  • Ramakrishna 649: “শ্রীরামকৃষ্ণ ঈষৎ হাস্য করিলেন ও সঙ্কেত করিয়া রামকেই জিজ্ঞাসা করিতেছেন—রোগের কথাও উঠবে?”

    Ramakrishna 649: “শ্রীরামকৃষ্ণ ঈষৎ হাস্য করিলেন ও সঙ্কেত করিয়া রামকেই জিজ্ঞাসা করিতেছেন—রোগের কথাও উঠবে?”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৩ই এপ্রিল

                                                ঈশ্বরকোটির কি কর্মফল, প্রারব্ধ আছে? যোগবাশিষ্ঠ

    পরদিন মঙ্গলবার, রামনবমী; ১লা বৈশাখ, ১৩ই এপ্রিল, ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দ। প্রাতঃকাল, — ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) উপরের ঘরে শয্যায় বসিয়া আছেন। বেলা ৮টা-৯টা হইবে। মণি রাত্রে ছিলেন, প্রাতে গঙ্গা স্নান করিয়া আসিয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিতেছেন। রাম (দত্ত) সকালে আসিয়াছেন ও প্রণাম করিয়া উপবেশন করিলেন। রাম ফুলের মালা আনিয়াছেন ও ঠাকুরকে নিবেদন করিলেন। ভক্তেরা অনেকেই নিচে বসিয়া আছেন। দুই-একজন ঠাকুরের ঘরে আছেন। রাম ঠাকুরের সহিত কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (রামের প্রতি) — কিরকম দেখছ?

    রাম — আপনার সবই আছে। এখনই রোগের সব কথা উঠবে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ ঈষৎ হাস্য করিলেন ও সঙ্কেত করিয়া রামকেই জিজ্ঞাসা করিতেছেন — “রোগের কথাও উঠবে?”

    ঠাকুরের (Ramakrishna) চটিজুতা আছে, পায়ে লাগে। ডাক্তার রাজেন্দ্র দত্ত মাপ দিতে বলিয়াছেন, — তিনি ফরমাশ দিয়া আনিবেন। ঠাকুরের পায়ের মাপ লওয়া হইল। এই পাদুকা এখন বেলুড় মঠে পূজা হয়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ মণিকে সঙ্কেত করিতেছেন, “কই, পাথরবাটি?” মণি তৎক্ষণাৎ উঠিয়া দাঁড়াইলেন, — কলিকাতায় পাথরবাটি আনিতে যাইবেন (Kathamrita)।

    শ্রীরামকৃষ্ণ বলিতেছেন, “থাক্‌ থাক্‌ এখন।”

    মণি — আজ্ঞা না, এঁরা সব যাচ্ছেন, এই সঙ্গেই যাই।

    মণি নূতন বাজারের জোড়াসাঁকোর চৌমাথায় একটি দোকান হইতে একটি সাদা পাথরবাটি কিনিলেন। বেলা দ্বিপ্রহর হইয়াছে, এমন সময়ে কাশীপুরে ফিরিয়া আসিলেন ও ঠাকুরের কাছে আসিয়া প্রণাম করিয়া বাটিটি রাখিলেন। ঠাকুর সাদা বাটিটি হাতে করিয়া দেখিতেছেন। ডাক্তার রাজেন্দ্র দত্ত, গীতাহস্তে শ্রীনাথ ডাক্তার, শ্রীযুক্ত রাখাল হালদার, আরও কয়েজন আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘরে রাখাল (Kathamrita), শশী, ছোট নরেন প্রভৃতি ভক্তেরা আছেন। ডাক্তারেরা ঠাকুরের পীড়া সম্বন্ধে সমস্ত সংবাদ লইলেন।

    শ্রীনাথ ডাক্তার (বন্ধুদের প্রতি) — সকলেই প্রকৃতির অধীন। কর্মফল কেউ এড়াতে পারে না! প্রারব্ধ!

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কেন, — তাঁর নাম করলে, তাঁকে চিন্তা করলে, তাঁর শরণাগ্য হলে —

    শ্রীনাথ — আজ্ঞে, প্রারব্ধ কোথা যাবে? — পূর্ব পূর্ব জন্মের কর্ম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — খানিকটা কর্ম ভোগ হয়। কিন্তু তাঁর নামের গুণে অনেক কর্মপাশ কেটে যায়। একজন পূর্বজন্মের কর্মের দরুন সাত জন্ম কানা হত; কিন্তু সে গঙ্গাস্নান করলে। গঙ্গাস্নানে মুক্তি হয়। সে ব্যক্তির চক্ষু যেমন কানা সেইরকমই রইল, কিন্তু আর যে ছজন্ম সেটা হল না।

  • PM Modi: নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ‘আফসলাইডাইক’ বাঁধে প্রধানমন্ত্রী মোদি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ডাচ মডেল কেন প্রয়োজন ভারতের, জানেন?

    PM Modi: নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ‘আফসলাইডাইক’ বাঁধে প্রধানমন্ত্রী মোদি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ডাচ মডেল কেন প্রয়োজন ভারতের, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত ‘আফসলাইডাইক’ বাঁধ পরিদর্শনে (Netherlands Afsluitdijk Dam) গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর চার দেশীয় ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেতেনের (Rob Jetten) সঙ্গে তিনি এই সুবিশাল জলকপাট ও বাঁধ এলাকাটি ঘুরে দেখেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক সৌজন্য সফর মনে হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই পরিদর্শনের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।

    জল ব্যবস্থাপনায় পথপ্রদর্শক নেদারল্যান্ডস (PM Modi)

    পরিদর্শন শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) ডাচ প্রযুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, “জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডস এক যুগান্তকারী কাজ (Netherlands Afsluitdijk Dam) করেছে। সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের এই অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। আজ সকালে আফসলাইডাইক বাঁধটি পরিদর্শন করে এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছি। এই পরিদর্শনে আমার সঙ্গী হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী রব জেতেনকে ধন্যবাদ। সেচকাজ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ জলপথের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে আমরা ভারতে এই ধরণের আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    প্রকৌশল এবং উদ্ভাবনের এক অনন্য প্রতীক!

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও এই সফরকে ভারত-ডাচ অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের এক অনন্য প্রতীক! নেদারল্যান্ডসের চমৎকার জল ব্যবস্থাপনা, বন্যা প্রতিরোধ ও মিষ্টি জল সংরক্ষণের প্রতীক এই আফসলাইডাইক বাঁধ। এই সফরটি গুজরাটের উচ্চাভিলাষী ‘কল্পসর প্রকল্প’-এর (Kalpasar Project) ক্ষেত্রে ডাচ (Netherlands Afsluitdijk Dam) দক্ষতার প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরেছে।”

    ভারতের জলশক্তি মন্ত্রক এবং ডাচ পরিকাঠামো মন্ত্রকের মধ্যে  প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য একটি সম্মতিপত্রও (Letter of Intent) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    কী এই আফসলাইডাইক বাঁধ?

    নেদারল্যান্ডসের সমুদ্রের জলের সঙ্গে লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল এই আফসলাইডাইক বাঁধ। প্রায় ৮০ বছর আগে তৈরি হওয়া এই ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধটি উত্তর সাগরকে (North Sea) মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং ‘আইসেলমির’ (IJsselmeer) নামক একটি বিশাল মিষ্টি জলের হ্রদ তৈরি করেছে। এটি মূলত সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এবং ভয়াবহ বন্যা থেকে নিম্নভূমি অঞ্চলের নেদারল্যান্ডসকে রক্ষা করে।

    ৮০০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়

    বর্তমানে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে এই প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক করে “আফসলাইডাইক ২.০” রূপ দেওয়া হচ্ছে। নতুন এই নকশাটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে এটি আগামী ১০,০০০ বছরে একবার আসতে পারে এমন প্রলয়ঙ্কারী ঝড়কেও অনায়াসে রুখে দিতে পারে। এতে আধুনিক স্লুইস গেট, উন্নত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মাছের চলাচলের করিডোর এবং জোয়ার-ভাটা ও সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।

    ভারতের ‘কল্পসর প্রকল্প’ ও ডাচ মডেলের প্রয়োজনীয়তা

    ভারতের কেন এই ডাচ মডেল (Netherlands Afsluitdijk Dam) প্রয়োজন, তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে গুজরাটের খাম্বাত উপসাগরে প্রস্তাবিত ‘কল্পসর প্রকল্প’-এর মধ্যে। গত কয়েক দশক ধরে সমীক্ষার স্তরে থাকা এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল সমুদ্রের বুকে একটি বাঁধ তৈরি করে বিশ্বের বৃহত্তম মিষ্টি জলের জলাধার তৈরি করা।

    ডাচদের মতোই ভারতও খাম্বাত উপসাগরে বাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটার শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচের জল পৌঁছানো এবং জলপথ ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত করতে চায়। হাইড্রোলিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জলবিজ্ঞান প্রযুক্তিতে নেদারল্যান্ডসের শতাব্দী প্রাচীন জ্ঞান এবং ভারতের বিশাল কর্মযজ্ঞের মেলবন্ধন ঘটলে খাম্বাত উপসাগরের এই অবাস্তব মনে হওয়া প্রকল্পটিকেও বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও মিষ্টি জলের সংকটের মাঝে প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) এই সফর ভারতের ভবিষ্যৎ পরিকাঠামো ও জল সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল।

  • Ashwini Vaishnaw: রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩টি নতুন রেল প্রকল্পের অনুমোদন কেন্দ্রের, চলবে জয়পুরগামী নতুন এক্সপ্রেস

    Ashwini Vaishnaw: রেলযাত্রীদের জন্য সুখবর! পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩টি নতুন রেল প্রকল্পের অনুমোদন কেন্দ্রের, চলবে জয়পুরগামী নতুন এক্সপ্রেস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেলযাত্রী (Indian Railway) এবং রাজ্যের রেল পরিকাঠামোর জন্য বড় সুখবর। পশ্চিমবঙ্গের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন রেল প্রকল্প ও পরিষেবার অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) এই অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

    রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর পরিকাঠামো ক্ষেত্রে রেল মন্ত্রকের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এই প্রকল্পগুলি বড় ভূমিকা নেবে। নতুন অনুমোদিত ৩টি প্রধান রেল প্রকল্পগুলি হোল…

    ১. কলকাতা- জয়পুর নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন (Ashwini Vaishnaw)

    কলকাতা ও রাজস্থানের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার্থে রেল মন্ত্রক একটি নতুন দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছে। ১৮০৬১/১৮০৬২ সাঁতরাগাছি-খাতিপুরা এক্সপ্রেস খড়গপুর হয়ে কলকাতার সাঁতরাগাছি এবং জয়পুরের খাতিপুরা স্টেশনের (Indian Railway) মধ্যে চলাচল করবে। এই নতুন ট্রেনটি চালু হলে পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা এবং পারিবারিক কারণে দুই রাজ্যের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে এবং বর্তমান ট্রেনগুলির ওপর চাপ কমবে।

    ২. নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি লাইনের ডবলিং (দ্বৈতকরণ)

    উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ রেল করিডোর নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে প্রায় ৭.১৫ কিলোমিটার রেল লাইনের ডবলিং বা দ্বৈতকরণের কাজ অনুমোদন পেয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লাইনে ডবল ট্র্যাকিংয়ের কাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনের (Indian Railway) গতি বাড়বে, যানজট ও বিলম্ব কমবে এবং রেলের পরিচালন ক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

    ৩. শালবনী-আদ্রা তৃতীয় লাইনের সমীক্ষা

    দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে শালবনী থেকে আদ্রা পর্যন্ত ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত তৃতীয় রেল লাইনের ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’ (FLS)-র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সমীক্ষার পর একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (DPR) তৈরি করা হবে। খনিজ ও শিল্পসমৃদ্ধ এই অঞ্চলে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেনের মসৃণ চলাচলের জন্য এই তৃতীয় লাইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

    ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

    রেলমন্ত্রী (Ashwini Vaishnaw) জানিয়েছেন ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামো (Indian Railway) উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১৪,২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তার পাশাপাশি চলতি মাসেই রাজ্যে রেলের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও ৮৯৫.৩০ কোটি টাকার একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় রেল।

    রেল মন্ত্রকের আধিকারিকদের মতে, এই নতুন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের ব্যস্ততম রেল রুটগুলির জট কেটে যাবে, যাত্রীদের ভ্রমণের সময় কমবে এবং সার্বিকভাবে রাজ্যের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

  • Demolition: হাওড়া স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার’ দাওয়াইয়ের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

    Demolition: হাওড়া স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার’ দাওয়াইয়ের হুঁশিয়ারি মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার সন্ধ্যায় বিশাল পুলিশবাহিনীর উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুর কর্তৃপক্ষ হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন (Howrah Railway Station) সংলগ্ন এলাকায় চালায় উচ্ছেদ অভিযান। এলাকার বেশ কিছু অবৈধ দখল ও বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দিতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালীন কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোটা এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তায়। পুরসভার আধিকারিকরা বুলডোজার (Demolition) ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত কাঠামো ভেঙে দেন।

    আইনের গন্ডির মধ্যে থেকে কাজ করুন (Demolition)

    হাওড়ার এই ঘটনার  প্রেক্ষিতে রবিবার সকালে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যজুড়ে সব ধরণের বেআইনি নির্মাণ ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খড়গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “দেশজুড়েই এবার বুলডোজার চলবে। যেখানেই বেআইনি নির্মাণ দেখা যাবে, সেখানেই বুলডোজার নামানো হবে। বাংলায় ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার প্রথম দিন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। যারা এই ধরণের বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাছে আমার অনুরোধ—আইনের গন্ডির মধ্যে থেকে কাজ করুন। সরকার আপনাদের সব রকম সহযোগিতা করবে। তবে সরকারি জমি দখল করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি কলকাতার তিলজলা এলাকায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দু’জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর এলাকার একাধিক বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তার পরেই সেখানে চালানো হয়েছিল উচ্ছেদ অভিযান। তার রেশ ধরেই হাওড়ায় (Howrah Railway Station) চালানো হল এই অভিযান। ইতিমধ্যেই শিয়ালদা স্টেশন চত্বরও হকার মুক্ত করা হয়েছে।

    ‘আমরা তাড়াহুড়ো করছি না’

    রাজ্যের আর এক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল উচ্ছেদ অভিযানের সাফাই গেয়ে জানান, প্রশাসন সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, “যদি কোনও বেআইনি নির্মাণ থাকে, তবে আমরা প্রথমে নোটিশ পাঠাব এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখতে চাইব। বৈধ কোনও কাগজ না থাকলে আমরা নির্মাণের অনুমতি দেব না। তবে আমরা কোনও তাড়াহুড়ো করছি না, বাসিন্দাদের নথিপত্র দেখানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে।”

    আগের সরকার ব্যর্থ ছিল

    হাওড়ার (Howrah Railway Station) এই উচ্ছেদ অভিযান সমর্থন করেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষও। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে তিলজলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সাধারণ বাসিন্দারা প্রশাসনের এই আকস্মিক সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, উচ্ছেদ বা ভাঙচুর শুরু করার আগে বাড়িঘর থেকে নিজেদের জরুরি নথিপত্র ও আসবাবপত্র বের করে নেওয়ার জন্য প্রশাসন যেন তাঁদের আরও কিছুটা সময় দেয়।

  • Bhojshala Verdict: ভোজশালা রায়, ধার জেলার সেই ঐতিহাসিক সরস্বতী মূর্তি কীভাবে পৌঁছাল লন্ডনে? ফেরতের দাবি

    Bhojshala Verdict: ভোজশালা রায়, ধার জেলার সেই ঐতিহাসিক সরস্বতী মূর্তি কীভাবে পৌঁছাল লন্ডনে? ফেরতের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি ঐতিহাসিক রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আদালত ধার জেলার বিতর্কিত ‘ভোজশালা’ (Bhojshala Verdict) চত্বরটিকে হিন্দু দেবী সরস্বতীর মন্দির (Saraswati Murti) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই রায়ের পর পরই ব্রিটিশ আমলে ভারত থেকে চুরি যাওয়া বাগদেবীর সরস্বতী মূল মূর্তিটি লন্ডন থেকে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হয়েছে। হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, এই রায় ঐতিহাসিক। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি ও মন্দির উদ্ধারের পর ইন্দোর হাইকোর্টের ভোজশালা সংক্রান্ত এই রায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজা ভোজের আমল ও গৌরবময় ইতিহাস (Bhojshala Verdict)

    ভোজশালার (Bhojshala Verdict) ইতিহাস একাদশ শতকের। পরমার রাজবংশের বিখ্যাত রাজা ভোজ ধারে সংস্কৃত শিক্ষার একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী, এটি ব্যাকরণ, দর্শন ও সাহিত্যের এক বিখ্যাত বিদ্যাপীঠ ছিল, যেখানে জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর (Saraswati Murti) আরাধনা হত নিয়মিত। এই বিদ্যাপীঠের প্রধান উপাস্য দেবী হিসেবে একটি অনন্য সরস্বতী মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল, যা পরমার আমলের ভাস্কর্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

    আক্রমণ ও ধ্বংসের ইতিহাস

    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মধ্য ভারতে বিভিন্ন ইসলামিক আগ্রাসনের সময় ভোজশালা (Bhojshala Verdict) চত্বরটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৩০৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি এই জায়গায় হামলা চালান, হত্যা করেন হাজার হাজার হিন্দু পণ্ডিত ও শিক্ষার্থীকে। পরবর্তী কালে ১৪০১ খ্রিস্টাব্দে দিলওয়ার খান এবং ১৫১৪ খ্রিস্টাব্দে মেহমুদ শাহ এই মন্দিরের অংশবিশেষ ধ্বংস করে সেটিকে দরগা ও মসজিদে রূপান্তর করার চেষ্টা করেন। তবে সেখানকার খোদাই করা স্তম্ভ ও শিলালিপি আজও প্রমাণ করে, এটি আদতেই একটি প্রাচীন হিন্দু শিক্ষাকেন্দ্র ও মন্দির ছিল। এই ভাঙচুরের পর মূল সরস্বতী মূর্তিটি দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে ছিল।

    ব্রিটিশ আমলে উদ্ধার ও লন্ডনে পাচার

    উনিশ শতকে ব্রিটিশ রাজত্বে মূর্তিটির ইতিহাসের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। ১৮৭৫ সালে ধার অঞ্চলে খননকার্য চালানোর সময় ব্রিটিশ অফিসার উইলিয়াম কিনক্লেড এই নান্দনিক মূর্তিটি উদ্ধার করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক মানসিকতার অংশ হিসেবে, ভারতের বহু অমূল্য সম্পদের মতোই এই মূর্তিটিকেও সম্মতি ছাড়াই দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮৮৬ থেকে ১৮৯১ সালের মধ্যে মূর্তিটি ইংল্যান্ডে পাচার করা হয়। বর্তমানে এটি লন্ডনের বিখ্যাত ‘ব্রিটিশ মিউজিয়াম’-এ মধ্যযুগীয় ভারতীয় ভাস্কর্যের নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। পাশ্চাত্যের কাছে এটি কেবল একটি প্রাচীন শিল্পসামগ্রী হলেও, ভারতীয়দের কাছে এটি একটি জীবন্ত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতীক।

    হাইকোর্টের রায় ও ভারতের আইনি অবস্থান

    সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ ২০০৩ সালের ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের (ASI) একটি আদেশ বাতিল করেছে। এখন থেকে ওই চত্বরে মুসলমানদের শুক্রবারের নামাজ পড়ার অনুমতি রদ করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা এবং বিচারপতি আলোক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভোজশালা (Bhojshala Verdict)  মূলত রাজা ভোজের তৈরি করা একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং এটি একটি সরস্বতী মন্দির (Saraswati Murti)।

    এই রায়ের পর আদালত উল্লেখ করেছে যে, কেন্দ্র সরকার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লন্ডন থেকে এই পবিত্র মূর্তিটি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এই পর্যবেক্ষণ ভারতের ‘#BringBackOurGods’ (আমাদের ঈশ্বরদের ফিরিয়ে দাও) আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।

    মূর্তি প্রত্যর্পণের জোরালো দাবি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বর্তমান ভারত সরকার বিগত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতের বহু প্রাচীন ও চুরি যাওয়া ঐতিহ্যবাহী মূর্তি ফিরিয়ে এনেছে। ইউনেস্কোর (UNESCO) হিসেব অনুযায়ী, ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ৫০,০০০ প্রাচীন মূর্তি ও শিল্পকর্ম পাচার হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই ধরণের প্রাচীন সামগ্রীর বেআইনি চোরাচালান দমনেও ভারত এখন বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারে এই সরস্বতী মূর্তিটি ফিরিয়ে আনার পক্ষে ভারতের দাবি অত্যন্ত জোরালো। কারণ প্রথমত, এর ঐতিহাসিক উৎস সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত। দ্বিতীয়ত, ভারতের আদালত এটিকে একটি মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবং তৃতীয়ত, এটি ঔপনিবেশিক শোষণের মাধ্যমে বেআইনিভাবে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভোজশালার (Bhojshala Verdict) এই আইনি জয় কেবল একটি ঐতিহাসিক সত্যকেই প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং লন্ডনে বন্দি থাকা মা সরস্বতীর মূর্তিকে (Saraswati Murti) স্বদেশে ফিরিয়ে আনার পথও প্রশস্ত করল কয়েক দশক পর।

  • Odisha Tribals: ওড়িশায় ধর্মান্তকরণের চেষ্টা! আদিবাসী সংস্কৃতি-ঐতিহ্যে বহিরাগতদের থাবার অভিযোগ

    Odisha Tribals: ওড়িশায় ধর্মান্তকরণের চেষ্টা! আদিবাসী সংস্কৃতি-ঐতিহ্যে বহিরাগতদের থাবার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার আদিবাসী (Odisha Tribals) অধ্যুষিত মালকানগিরি জেলায় ধর্মান্তকরণের (Religious Conversion) প্রক্রিয়া এবং তার ফলে স্থানীয় প্রাচীন সংস্কৃতির ওপর আঘাতের অভিযোগকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজেদের আদিম রীতিনীতি, সামাজিক ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি রক্ষার দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন এই দুর্গম এলাকার আদিবাসী গ্রামবাসীরা।

    খ্রিস্টান মিশনারি গোষ্ঠীর একাধিপত্য (Odisha Tribals)

    ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশা-ছত্তিশগড় সীমান্তের কাছে কালিমেল্লা ব্লকের মাঙ্গিপালি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খ্রিস্টান মিশনারি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত কিছু সংগঠনের ধর্মীয় কার্যকলাপ দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে গ্রামে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের (Religious Conversion) নিজস্ব পরিচয়, ঐতিহ্য ও প্রথা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি গ্রামের প্রতিনিধিরা মহকুমা শাসকের (Sub-Collector) দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। দাবি জানান, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের। প্রাক্তন বিধায়ক মুকুন্দ সোধি এবং প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান দেবা মাদকামির মতো স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে পল্লবী খাড়ার (Odisha Tribals) হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

    আদিবাসী সংস্কৃতি অবমাননার অভিযোগ  (Odisha Tribals)

    গ্রামবাসীদের (Odisha Tribals) সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঙ্গিপালি গ্রামে প্রায় ২৫০টি পরিবারের বাস, মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ১,০০০। এদের মধ্যে সিংহভাগই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, আগে মাত্র কয়েকটি পরিবার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলেও, বর্তমানে গ্রামের আরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ভিন্ন ভাষী মানুষ গ্রামে এসে নিয়মিত প্রার্থনা সভা ও ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন করছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এই ধরনের অনুষ্ঠানে আদিবাসীদের (Religious Conversion)  ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস, রীতিনীতি এবং পূজাপদ্ধতি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই ধরণের কার্যকলাপ চলতে থাকলে দীর্ঘদিনের আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

    প্রশাসনের কাছে আইনি পদক্ষেপের দাবি

    গ্রামবাসীরা (Odisha Tribals) প্রশাসনকে জানিয়েছেন, গ্রামে ঠিক কতজন মানুষ ধর্মান্তরিত হয়েছেন, তার একটি সরকারি তদন্ত বা যাচাইকরণ করা হোক। পাশাপাশি, তাঁদের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাতে কোনও ধরণের বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করার অনুরোধও জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মালকানগিরি একটি তফশিলি এলাকা (Scheduled Area)। সাংবিধানিক নিয়ম এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই অঞ্চলের আদিবাসী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষিত। তাই এই অঞ্চলের সামাজিক সম্প্রীতি ও আদিবাসী পরিচয় রক্ষায় প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

    আইন প্রয়োগের দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) জাতীয় সম্পাদক সুধাংশু পট্টনায়েক বলেন, “খ্রিস্টান মিশনারি দলগুলি বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে আদিবাসী সমাজকে তাদের পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটি কেবল আদিবাসী ঐতিহ্যের জন্যই নয়, দেশের সুরক্ষার জন্যও এক গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

    তিনি বলেন, “রাজ্যে ধর্মান্তকরণ (Odisha Tribals) বিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। আর সেই কারণেই বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ওড়িশা সরকারের উচিত এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা এবং অবৈধ ধর্মান্তকরণের (Religious Conversion) সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।”

  • Agnimitra Paul: শহরের পরিচ্ছন্নতায় ডিজিটাল পদক্ষেপ, অভিযোগ জানাতে নতুন অ্যাপ আনছে রাজ্য সরকার

    Agnimitra Paul: শহরের পরিচ্ছন্নতায় ডিজিটাল পদক্ষেপ, অভিযোগ জানাতে নতুন অ্যাপ আনছে রাজ্য সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গকে নির্মল ও পরিচ্ছন্ন (Instant Garbage Cleaning) করে তুলতে এক অভিনব প্রযুক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান রাজ্য সরকার (BJP Government)। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেন, “রাস্তায় জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত অপসারণে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (App) চালু করতে চলেছে পূর্ত দফতর।”

    অ্যাপের কার্যকারিতা ও মন্ত্রীর বক্তব্য (Instant Garbage Cleaning)

    মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেন, “সারা পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ এই অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল সমস্যার (Instant Garbage Cleaning) স্থায়ী সমাধানে এটি অত্যন্ত কার্যকর হবে।” ইতিমধ্যে সমস্ত কাজকর্মে নজর রাখতে পুরসভা এলাকায় ১২৮টি সিসিক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।

    • জিয়ো-ট্যাগিং প্রযুক্তি: এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা রাস্তায় পড়ে থাকা আবর্জনার ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন। জিয়ো-ট্যাগিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আবর্জনার সঠিক অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত হয়ে যাবে।
    • দ্রুত পরিষেবা: অভিযোগ পাওয়ার ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পুরসভাকে সেই স্থান পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পরিকাঠামো উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) পূর্বতন সরকারের শাসনকালের অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ড্রেন পরিষ্কার না হওয়া বা যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে থাকার সংস্কৃতি এবার বন্ধ হবে। কলকাতার মতো সুন্দর শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের অঙ্গীকার। নগরোন্নয়ন দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই অ্যাপটি জনসমক্ষে আনা হবে।”

    অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

    প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদেও বর্তমানে সরকার অত্যন্ত সক্রিয়। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা গড়িয়া মিতালি সঙ্ঘের নিকটবর্তী একটি অবৈধ ‘ক্লক টাওয়ার’ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে। আদালতের নির্দেশানুসারে মাঠের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা এই নির্মাণটি অপসারণ করা হচ্ছে। তিলজলার পর গড়িয়ার এই পদক্ষেপ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রযুক্তি এবং কড়া প্রশাসনিক নজরদারির মেলবন্ধনে রাজ্যের পৌর পরিষেবাগুলিতে এক আমূল পরিবর্তন আনতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এই ডিজিটাল উদ্যোগ (Instant Garbage Cleaning) সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

  • Ramakrishna 648: “শরীরের দাসত্ব—মনের দাসত্ব! ঠিক যেন মুটের অবস্থা! শরীর-মন যেন আমার নয়, আর কারু”

    Ramakrishna 648: “শরীরের দাসত্ব—মনের দাসত্ব! ঠিক যেন মুটের অবস্থা! শরীর-মন যেন আমার নয়, আর কারু”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১২ই এপ্রিল

    কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) কাশীপুরের বাগানে সেই উপরের ঘরে শয্যার উপর বসিয়া আছেন। ঘরে শশী ও মণি। ঠাকুর মণিকে ইশারা করিতেছেন — পাখা করিতে। তিনি পাখা করিতেছেন।

    বৈকাল বেলা ৫টা-৬টা। সোমবার চড়কসংক্রান্তি, বাসন্তী মহাষ্টমী পূজা। চৈত্র শুক্লাষ্টমী, ৩১শে চৈত্র, ১২ই এপ্রিল, ১৮৮৬।

    পাড়াতেই চড়ক হইতেছে। ঠাকুর একজন ভক্তকে চড়কের কিছু কিছু জিনিস কিনিতে পাঠাইয়াছিলেন। ভক্তটি ফিরিয়া আসিয়াছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কি কি আনলি (Kathamrita)?

    ভক্ত — বাতাসা একপয়সা, বঁটি — দুপয়সা, হাতা — দুপয়সা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — ছুরি কই?

    ভক্ত — দুপয়সায় দিলে না।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — যা যা, ছুরি আন। মাস্টার নিচে বেড়াইতেছেন। নরেন্দ্র ও তারক কলিকাতা হইতে ফিরিলেন। গিরিশ ঘোষের বাড়ি ও অন্যান্য স্থানে গিয়াছিলেন।

    তারক — আজ আমরা মাংস-টাংস অনেক খেলুম।

    নরেন্দ্র — আজ মন অনেকটা নেমে গেছে। তপস্যা লাগাও।

    (মাস্টারের প্রতি) — “কি Slavery (দাসত্ব) of body, — of mind! (শরীরের দাসত্ব — মনের দাসত্ব!) ঠিক যেন মুটের অবস্থা! শরীর-মন যেন আমার নয়, আর কারু।”

    সন্ধ্যা হইয়াছে; উপরের ঘরে ও অন্যান্য স্থানে আলো জ্বালা হইল। ঠাকুর বিছানায় উত্তরাস্য হইয়া বসিয়া আছেন; জগন্মাতার চিন্তা করিতেছেন। কিয়ৎক্ষণ পরে ফকির ঠাকুরের সম্মুখে অপরাধভঞ্জন স্তব পাঠ করিতেছেন। ফকির বলরামের পুরোহিতবংশীয়।

    প্রাগ্‌দেহস্থো যদাসং তব চরণযুগং নাশ্রিতো নার্চিতোঽহং,
    তেনাদ্যেঽকীর্তিবর্গৈর্জঠরজদহনৈর্বধ্যমানো বলিষ্ঠৈঃ,
    স্থিত্বা জন্মান্তরে নো পুনরিহ ভবিতা ক্বাশ্রয়ঃ ক্বাপি সেবা,
    ক্ষন্তব্যে মেঽপরাধঃ প্রকটিতবদনে কামরূপে করালে! ইত্যদি।

    ঘরে শশী, মণি, আরও দু-একটি ভক্ত আছেন।

    স্তবপাঠ সমাপ্ত হইল। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita) অতি ভক্তিভাবে হাতজোড় করিয়া নমস্কার করিতেছেন। মণি পাখা করিতেছেন। ঠাকুর ঈশারা করিয়া তাঁহাকে বলিতেছেন “একটি পাথরবাটি আনবে। (এই বলিয়া পাথরবাটির গঠন অঙ্গুলি দিয়া আঁকিয়া দেখাইলেন।) একপো, অত দুধ ধরবে? সাদা পাথর।”

    মণি — আজ্ঞা হাঁ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আর সব বাটিতে ঝোল খেতে আঁষটে লাগে।

  • Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবগঠিত বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কক্ষ। ভোট-পরবর্তী অশান্তি এবং কর্মীদের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে যদি কোনও তৃণমূল নেতা ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা মামালায় অভিযুক্ত হন তাহলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেমে। পালটা যুক্তিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওপর দিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করেই তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। ‘হাড়গোড় ভাঙা নয়”, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই ভাবে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলকে মনে করিয়েদিলেন দুর্বিষহ সন্ত্রাসের কথা।

    বিরোধী দলনেতার অভিযোগ ও উদ্বেগ (Suvendu Adhikari)

    স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্র বসুর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পর অধিবেশন শুরু হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ভয় নয়, ভরসা বিজেপির এই স্লোগান অর্থহীন, সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু তৃণমূল কর্মী বর্তমানে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত। এই ঘরছাড়া কর্মীরা নিরাপদে নিজ নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন সেই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যয় ও শর্তসাপেক্ষ আশ্বাস

    বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রেখে জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ব্যক্তি যদি প্রকৃতই ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তবে বিরোধী দলনেতা যেন সেই তালিকা ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP)-কে প্রদান করেন। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি ঘরছাড়া থাকলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার সসম্মানে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে দেবেন। তবে একটি শর্তও রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ না থাকে। যদি কোনও অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই আইনের সম্মুখীন হতে হবে। জেলে যেতে হবে।”

    ‘‘সদনে দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না’’

    বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশনে তৃণমূলের অপকর্মের আয়না দেখালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। তিনি বলেন, “তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে এতদিনে ১৫০ জন বিজেপি কর্মী খুন হতেন। এটা শুধুমাত্র সরকার গড়ার আর নির্বাচিত হয়ে আসার নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। আর সেই ধর্মযুদ্ধে যাঁরা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই।” এই প্রসঙ্গে তাপস রায় নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে বলেন, “স্যার, একটা জিনিস করতে হবে। এই সদনে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না। আইন করে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বিল এনে।”

    “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত, পাপমুক্ত, ভয়মুক্ত হয়েছে”

    ২০২৬ সালের বিধান সভা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ভয়মুক্ত হয়েছে।” ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। গতকাল আদালতে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তাপস রায় বলেন, “গতকাল কেউ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কারও নাম করিনি। সে বলেছিল, হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলব, সে যেন এবার বেরোয়। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ ও তৃণমূলই করবে।”

    ‘‘বেহায়া না হলে…ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে’’

    বিধানসভায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তাপস রায় (Tapas Roy) তৃণমূলকে নির্লজ্জ এবং বেহায়া বলেছেন। যারা ক্ষমতায় আসার আগে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় তাঁদের মুখে এই কথা কি শোভা পায়। তাপস রায় বলেন, “নির্লজ্জ, বেহায়া না হলে আজকে ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে। এর আগে একটাও রক্তপাতহীন, লাশহীন নির্বাচন হয়েছে? রক্তের উপর দিয়ে ভি সাইন দেখিয়েছে। স্যার, আজকে দেড়শোর উপর লাশ আপনাকে গুনতে হত বিজেপির। যদি এরা ক্ষমতায় ফিরে আসত। বাড়ি জ্বালিয়ে দিত। আর লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মী সমর্থক বাড়িছাড়া থাকত। আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, আমার নাম থাকে, আমাকে জেলে পাঠাবেন।’’

    ‘‘অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না’’

    উল্লেখ্য একসময় তৃণমূলে ছিলেন তাপস রায়। একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি দলের চরম দুর্নীতি এবং তোষণনীতির কারণে বিজেপিতে যোগদান করেন। এদিকে, ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসদ সিদ্দিকি বলেন, ‘‘আজ তাপস রায় যা বলেছেন, তা খুব একটা ফেলে দেওয়ার নয়। ২০২১ সালে ভোটের জেতার পর, ৬ মাস এমন দিন পার করেছি, যখন ভেবেছিলাম, আমি ইস্তফা দিয়ে দিই, যাতে আমার ছেলেগুলোর উপর অত্যাচার বন্ধ হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধায়ককের বলতেই দেওয়া হয়নি।’’

    পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান নওশাদ। তাঁর কথায়, “অতীতে আমাদের বক্তব্য শাসকদলের অপছন্দ হওয়ায় অনেক সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হত। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমাদের যে দাবিগুলি রয়েছে, সেগুলি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। আমরাও অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না।”

LinkedIn
Share