Category: স্বাস্থ্য

Get updates on Health News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    Blood Pressure in Summer: গরমে বাড়ছে রক্তচাপ! কীভাবে এই আবহাওয়ায় স্বাভাবিক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বেলা বাড়তেই রোদের দাপট বাড়ছে। চৈত্র মাসের শেষ জানান দিচ্ছে, চলতি বছর গরমের প্রকোপ বাড়বে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, তীব্র রোদ আর অস্বস্তিকর আবহাওয়া শরীরে গভীর প্রভাব ফেলবে। বিশেষত, রক্তচাপ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা থাকছে। গরমে বাড়তে পারে রক্তচাপ। কমবয়সী থেকে প্রৌঢ়, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই আবহাওয়া তাঁদের জন্য যেমন বাড়তি সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনি হঠাৎ করেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়ে, অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন গরমে রক্তচাপ বাড়ে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার সঙ্গে শরীরের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষত তাপমাত্রার পরিবর্তনে শরীরে গভীর প্রভাব পড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরমে ঘাম হয়। এর ফলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়। শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণ জল কমে গেলে,রক্ত ঘন হয়ে যায়। তখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
    • গরমে অস্বস্তি বাড়ে। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতাও বাড়ে। তাই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
    • গরমের ঘাম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মানসিক চাপ বাড়ায়। স্ট্রেস হরমোনের সঙ্গে শরীরের রক্তচাপের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই স্ট্রেস বাড়লেই রক্তচাপ উর্ধ্বমুখী হয়।
    • গরমে সাময়িক আরাম পেতে অনেকেই বারবার প্যাকেটজাত পানীয় খায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ধরনের পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে লবন, মিষ্টি এবং নানান প্রক্রিয়াজাত পদার্থ থাকে। এগুলি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

    হঠাৎ রক্তচাপ বাড়লে কী বিপদ হতে পারে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে গেলে শরীরে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। হৃদপিণ্ডের ওপরে সরাসরি প্রভাব পড়ে। হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
    • হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গরমে স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে। তার নেপথ্যে থাকে হঠাৎ করেই রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
    • রক্তচাপ বাড়লে চোখের ওপরে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রক্তচাপ হঠাৎ বাড়লে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়।
    • তাছাড়া রক্তচাপ বাড়লে কিডনির উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। কিডনির কার্যকারিতা কমে। তাছাড়া বমি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও হতে পারে।

    কীভাবে এই আবহাওয়ায় রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখবন?

    • চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুক্তভোগীদের এই আবহাওয়ায় নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি।
    • নিয়মিত পরীক্ষা করলে তাঁদের রক্তচাপ কতখানি ওঠানামা করছে, সেটা স্পষ্ট বোঝা যাবে। ফলে, আগাম সতর্কতা নেওয়া সহজ হবে। বড় বিপদ এড়ানো‌ যাবে।
    • লাগাতার প্রচন্ড মাথা যন্ত্রণা, বমি ভাব, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
    • গরমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে হবে। তবে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে। আরামের জন্য প্যাকেটজাত পানীয় নয়। ডাবের জল, টক দইয়ের সরবত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
    • অতিরিক্ত লবন দেওয়া খাবার নয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার নয়। বরং নিয়মিত খাবারের তালিকায় সব্জি, ফল রাখা জরুরি বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এতে অস্বস্তি কমবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোলে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
    • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আধ ঘন্টা হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত হাঁটলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    Autism in India: অটিজম আক্রান্তের জীবন মূল্যবান! ভারতে কেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর পাঁচ জনের মতো পরিচিত ছন্দে জীবন কাটে না। নিজের কথা বোঝানোর ভঙ্গি আলাদা। আনন্দ-দুঃখ-যন্ত্রণা প্রকাশের ধরণ ভিন্ন। তবে অধিকাংশের থেকে আলাদা হলেও, মানবাধিকারের প্রশ্নে কিন্তু তারা সকলের সঙ্গে এক সারিতেই রয়েছেন‌। ২ এপ্রিল ছিল অটিজম সচেতনতা দিবস। আর চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, অটিজম সচেতনতায় আক্রান্তদের মানবাধিকার নিয়ে সচেতনতা প্রসার সবচেয়ে জরুরি। এ বছরের থিম, ‘autism and humanity: every life has value.’ আর পাঁচজনের থেকে ব্যতিক্রম বলেই, মানবাধিকার লঙ্ঘন করা যায় না। অটিজম আক্রান্তের প্রতি মানবিক থাকা জরুরি।‌ কারণ প্রত্যেক জীবন মূল্যবান। অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। অটিজম নিয়ে আরো বেশি সচেতনতা জরুরি। তার সঙ্গে সঙ্গে সমাজে এই মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠাও জরুরি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    অটিজম কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম হলো মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা। এর নেপথ্যে থাকে দিন ঘটিত কারণ। এই সমস্যা শিশুর কথা বলা, অন্যদের মনের ভাব প্রকাশ, সামাজিক মেলামেশায় প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ অটিজম আক্রান্ত অন্যদের দেখে কোনও কাজ করতে শিখতে পারে না। তাঁরা এক কাজ বারবার করেন। তীব্র আলো, শব্দে তাঁদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাঁরা অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।

    ভারতে কি অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩৬ জন শিশুর মধ্যে ১ জন অটিজম আক্রান্ত।‌ গত এক দশকে এই সমস্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

    কেন ভারতে অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত এক দশকে অটিজম নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। বছর দশেক আগেও এই সমস্যা সম্পর্কে অধিকাংশ পরিবার অসচেতন ছিলেন। এর ফলে শিশু আক্রান্ত হলেও, চিহ্নিত হত না। কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এই সমস্যা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারছে। লাগাতার স্ক্রিনিং হচ্ছে। আর তার ফলেই শিশুদের এই সমস্যা রয়েছে কিনা, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া স্ক্রিনিং পদ্ধতিও উন্নত হচ্ছে। তাই মাইল্ড অটিজম অর্থাৎ খুব সামান্য সমস্যা থাকলেও, সেটা বোঝা সম্ভব হচ্ছে।

    অটিজম সচেতনতায় মূল চ্যালেঞ্জ কী?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের জীবন যাপনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সামাজিক অসচেতনতা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, আর পাঁচ জনের থেকে ভিন্ন হলেও, আক্রান্তের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার অধিকার রয়েছে, এ নিয়ে সচেতনতা কম। আক্রান্তের শিক্ষার অধিকার রয়েছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক সচেতনতা তলানিতে‌। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ স্কুলে অটিজম আক্রান্তের শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। ফলে, সমাজের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ অটিজম আক্রান্তদের কমে যায়। এর ফলে, তাঁদের জীবন যাপন আরো জটিল হয়ে যায়। তাঁদের সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা আরো কমে যায়। তাছাড়া, অনেকক্ষেত্রে আক্রান্তদের মানবিক সম্মান দেওয়া হয় না। তাঁদের কথা বলার সমস্যা নিয়ে বা সামাজিক যোগাযোগের জটিলতা নিয়ে কটুক্তি করা হয়। এর ফলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস আরও কমে যায়। লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি পারবে, এই সমস্যা কমাতে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অটিজম আক্রান্তের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা উচিত, এ নিয়ে সচেতনতা প্রসার জরুরি।‌ অটিজম আক্রান্ত শিশুর শিক্ষার অধিকার রয়েছে। তারা খেলবে, আঁকবে, সবকিছু করবে। তাঁদের সমস্ত কাজে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিতে হবে। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা প্রসার জরুরি। তবেই আক্রান্তেরা সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারবেন। প্রতিকূলতা কমবে।

     

  • Eyesight Problems: স্ক্রিন টাইম নয়, দৃষ্টিশক্তি কমার নেপথ্যে দায়ী এই সাধারণ অভ্যাস!

    Eyesight Problems: স্ক্রিন টাইম নয়, দৃষ্টিশক্তি কমার নেপথ্যে দায়ী এই সাধারণ অভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কমছে দৃষ্টিশক্তি! আট থেকে আশি, চোখের সমস্যায় কাবু! স্কুলের চৌকাঠে ঢোকার আগেই অনেক শিশুর চোখে চশমা! অনেকের দূরের জিনিস ঝাপসা দেখেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবন যাপনের অভ্যাসের জেরেই চোখের সমস্যা বাড়ছে। কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি কমছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার নেপথ্যে এক সাধারণ অভ্যাস রয়েছে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক কলেজ অফ অপ্টোমেট্রি-র গবেষকেরা এক পরীক্ষা চালিয়েছেন। তার সাম্প্রতিক রিপোর্ট বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাবে। বিশেষত, দূরের জিনিস স্পষ্ট ভাবে দেখার ক্ষমতা কমবে। শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়বে। দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা আর বয়সের সীমারেখায় আটকে থাকবে না। এই সমস্যার জেরে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যা চোখের দীর্ঘমেয়াদি জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    কোন অভ্যাসের জেরে এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হোক কিংবা অবসর যাপনের সঙ্গী হলো ল্যাপটপ, মোবাইলের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার জেরে চোখের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এর থেকেও বেশি বিপদ বাড়াচ্ছে এক সাধারণ অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই অন্ধকার ঘরে কিংবা আবছা আলোয় ল্যাপটপ‌ কিংবা মোবাইল দেখেন। অনেকেই কাজে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য ঘর অন্ধকার করে দেন। রাতে বিনোদনের জন্য মোবাইলে সময় কাটানোর সময় অন্ধকার ঘর বেশিরভাগ কম বয়সি ছেলেমেয়েদের পছন্দ। আর তাতেই বিপদ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অন্ধকারে কোনও জিনিস দেখার সময় চোখের পেশিতে মারাত্মক চাপ পড়ে। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে চোখের পেশি সংকুচিত হয়। সেই সংকোচনের ফলেই প্রতিফলিত হয়ে, আমরা যে কোনও বস্তু দেখতে পাই। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় চোখের পেশিতে বাড়তি চাপ পড়লে কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দৃষ্টিশক্তি কমে। এর ফলে, চোখ ঝাপসা হয়। দূরের জিনিস দেখার ক্ষমতাও কমে যায়।

    বিপদ এড়াতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখের শক্তি অক্ষুন্ন রাখতে কয়েকটি অভ্যাস বদল জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাতে ঘর অন্ধকার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস বদল জরুরি। ল্যাপটপে কাজ করা হোক কিংবা মোবাইলে সিনেমা দেখা, ঘরে আলো জ্বালানো জরুরি। তাহলে চোখের পেশির উপরে বাড়তি চাপ পড়বে না। স্ক্রিন টাইম নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দিনের কতটা সময় একটানা ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকব, সে নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। আধ ঘণ্টার বেশি একনাগাড়ে স্ক্রিনের দিকে থাকা চলবে না। চোখে বারবার জল দিতে হবে। কয়েক ঘণ্টা ল্যাপটপে বা মোবাইলের স্ক্রিনে সময় কাটালে, অন্তত আট ঘণ্টা বা চল্লিশ মিনিট বাগানে বা গাছে ঘেরা এলাকায় থাকতে হবে। তাছাড়া লেবু ও বেরি জাতীয় ফল নিয়মিত খেতে হবে, এতে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তাহলে চোখের স্নায়ু ও পেশির প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হবে। চোখের ক্ষমতা বজায় থাকবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Black Seed: হাঁপানি থেকে ডায়াবেটিস— ছয় রোগকে কাবু করবে কালোজিরা! জেনে নিন খাওয়ার সঠিক নিয়ম

    Black Seed: হাঁপানি থেকে ডায়াবেটিস— ছয় রোগকে কাবু করবে কালোজিরা! জেনে নিন খাওয়ার সঠিক নিয়ম

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জীবন যাপনের ধরন বদলের সঙ্গে শক্তি বাড়াচ্ছে একাধিক রোগ।‌ সুস্থ জীবন যাপনে এবং রোগের দাপট কমাতে সাহায্য করতে পারে বাঙালির অতি পরিচিত মশলা। তেমনি একটি মশলা হলো কালোজিরা। একাধিক রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে কালোজিরা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রান্নায় নিয়মিত কালোজিরা ব্যবহার করলে নানান অসুখের ঝুঁকি কমবে!

    কালোজিরা খেলে কী উপকার পাওয়া যায়?

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কালোজিরায় থাইমোকুইনোন নামে এক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এই উপাদান রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, সর্দি-কাশিতে সকলেই ভুক্তভোগী। বিশেষত ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেই জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভোগেন। কালোজিরা খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। ফলে এই ধরনের বছরভর ভোগান্তি কমে।

    হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে!

    কালোজিরা অন্ত্র এবং পাকস্থলীর জন্য বিশেষ উপকারি। তাই এই মশলা রান্নায় ব্যবহার করলে হজম ভালো হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স বাড়লে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভোগেন। লাগাতার হজমের সমস্যা গ্যাস্ট্রিকের মতো জটিল রোগ তৈরি করে। তাই বয়স বাড়লে রান্নায় নিয়মিত কালোজিরা ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এতে হজম শক্তি বাড়ে। বদহজমের ভোগান্তি কমে।

    খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়!

    নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা সহজেই নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় খারাপ কোলেস্টেরল (LDL)। কালোজিরা এই খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাই হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে‌।

    রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, সব বয়সেই দাপট বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিস। এই সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। কিডনি ভালো থাকে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে!

    স্কুল বয়স থেকেই অতিরিক্ত ওজন এখন দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এই অতিরিক্ত ওজনের নেপথ্যে রয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক রোগের কারণ শরীরের বাড়তি ওজন। কালোজিরা এই ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কালোজিরা খেলে হজম ঠিক মতো হয়। শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমে না। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    কোন ছয় রোগকে কাবু করতে সাহায্য করে কালোজিরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য কম বয়স থেকেই নানান রোগের দাপট বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে যেমন হাঁপানির সমস্যা বাড়ছে, তেমনি স্কুল পড়ুয়ারাও ডায়াবেটিস আক্রান্ত হচ্ছে। বয়স কুড়ির চৌকাঠ পেরনোর পরেই উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে, কালোজিরার মতো ঘরোয়া উপাদানেও একাধিক রোগের প্রকোপ কমানো সম্ভব।

    • বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস রুখতে কালোজিরা বিশেষ সাহায্য করে। কারণ কালোজিরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
    • হাঁপানির ঝুঁকি কমায় কালোজিরা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর সংক্রামণের ঝুঁকিও কমায়। তাই কালোজিরা নিয়মিত খেলে সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমার পাশাপাশি হাঁপানির ঝুঁকিও কমে। অর্থাৎ সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমাতে এবং হাঁপানির ঝুঁকি এড়াতে কালোজিরা বিশেষ সাহায্য করে।
    • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কালোজিরা বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কালোজিরা নিয়মিত খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতাও স্বাভাবিক থাকে।
    • এছাড়াও ত্বকের জন্য কালোজিরা বিশেষ উপকারি। দূষণ ও একাধিক অন্যান্য কারণের জন্য ত্বকের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত কম বয়সিদের ব্রণ সহ একাধিক ত্বকের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কালোজিরা খেলে এই ধরনের সমস্যা কমানো যায়।

    কীভাবে কালোজিরা খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও ভাবেই কালোজিরা খেলে শরীরে উপকার হয়‌—

    • সকালে গরম জলের সঙ্গে এক চামচ কালোজিরা মিশিয়ে খেলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। মধুর সঙ্গে কালোজিরার গুঁড়ো মিশিয়ে খেলেও উপকার হয়।
    • তবে, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেলে, এই ধরনের উপকরণ খাওয়ায় আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। না হলে, দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে আবার রক্তচাপও কমে যেতে পারে। এর ফলে মাথা ঘোরা, বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
    • আবার, রান্নার মশলা হিসাবে কালোজিরা ব্যবহার করা যেতে পারে। যে কোনও তরকারি, মাছের ঝোলে উপকরণ হিসাবে কালোজিরা ব্যবহার করলেও শরীরে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
    • চুল ও ত্বকের সমস্যায় উপকার পেতে কালোজিরার তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, গরম তেলে কালোজিরা মিশিয়ে, সেটা চুল কিংবা ত্বকে ব্যবহার করলে ব্রণ কমে, চুল পড়ার ঝুঁকিও কমে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

     

  • Navratri Fasting: নবরাত্রিতে উপবাস! শুধু ঐতিহ্য নয়, এই রীতি কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত জানেন?

    Navratri Fasting: নবরাত্রিতে উপবাস! শুধু ঐতিহ্য নয়, এই রীতি কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে চৈত্র নবরাত্রি (Chaitra Navratri 2026)। চলবে ২৭ মার্চ রামনবমী (Ramnavami) পর্যন্ত। দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে এই উৎসব। উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশেই বছরের এই সময়ে নবরাত্রির উৎসব পালন হয়। হিন্দু শাস্ত্র (Hindu Traditions) মতে, নবরাত্রি অর্থাৎ নয় রাত ধরে মা দুর্গার আরাধনা করা হয়। পবিত্রতা, শান্তির প্রতি আস্থা রাখার পাশপাশি দুষ্টের দমন এবং শুভ শক্তির পালন, এই আর্জি নিয়েই দেশজুড়ে মা দুর্গার আরাধনা চলে। প্রথা অনুযায়ী, এই ন’দিন ধরে উপবাস রাখতে হয়। পালন করতে হয় সাত্ত্বিক জীবনযাপন। হিন্দু শাস্ত্রে, নবরাত্রি উদযাপনের (Navratri Fasting) এই পাঠ কিন্তু শুধুই ধর্মীয় রীতি নয়। বরং এর তাৎপর্য আরও গভীর।‌ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নয় রাতের এই ব্রত সুন্দর জীবন যাপনের (Healthy Lifestyle) পথ আরও সুগম করে। তাই নবরাত্রি উদযাপনের গভীরতা আরও বেশি।

    নবরাত্রি পালন কীভাবে সুস্থ জীবন যাপনের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নবরাত্রি উদযাপন শুধুই উপোস আর প্রার্থনা নয়। এই ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে এক গভীর জীবন‌বোধ এবং জীবন‌ যাপনের পদ্ধতি। যা খুবই স্বাস্থ্যকর! তাঁরা জানাচ্ছেন, নবরাত্রি পালনের সময় সকালে নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে ওঠা, যোগাসন করা, ধ্যান করার মতো নিয়ম পালনের কথা বলা হয়। সকলের কল্যাণের কথা চিন্তা করে ঈশ্বরের প্রার্থনার, নবরাত্রির অন্যতম আচার। অর্থাৎ একটি নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে জীবন যাপনের দিকে এই উৎসব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

    পজিটিভ এনার্জি আসে

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে ডায়াবেটিস থেকে স্থূলতা, রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মানসিক চাপ কমাতে, অবসাদ, উদ্বেগের মতো সমস্যা কমাতে ধ্যানের অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। নবরাত্রি পালনের (Navratri Fasting) জন্য সেই অভ্যাস জীবনে স্থায়ী হয়। ঈশ্বরের কাছে কল্যাণ প্রার্থনার মাধ্যমে মনে পজিটিভ এনার্জি বা ইতিবাচক শক্তি তৈরি হয়। যার ফলে নানান ভালো কাজের ইচ্ছে হয়। নানান নেতিবাচক ভাবনা দূর হয়। মানসিক শান্তি বজায় থাকে। এর ফলে অবসাদ, মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মতো সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    হজমের গোলমাল কমায়

    নবরাত্রি পালনের সময় উপোস করতে হয়। কিন্তু ঐতিহ্য মেনে এই উদযাপনে সম্পূর্ণ অভুক্ত থাকার রীতি (Hindu Traditions) নেই। নবরাত্রির সময় পুষ্টিকর অথচ সহজপাচ্য সাত্ত্বিক খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। প্রাণীজ প্রোটিন নয়। পরিমিত আহার শরীরের জন্য উপকারি এই ভাবনা বোঝানোর জন্য নবরাত্রি রীতি (Navratri Fasting) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব, স্থূলতা, বন্ধ্যত্ব, কোলেস্টেরলের সমস্যা কিংবা হৃদরোগের মতো জটিল অসুখের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস। তরুণ প্রজন্মের একাংশের অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংসের পদ খাওয়ার অভ্যাস অসুখ বাড়াচ্ছে। নবরাত্রি পালনের সময়ে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সাত্ত্বিক খাবার খাওয়ার রেওয়াজ খুবই স্বাস্থ্যকর। পাশপাশি, পরিমিত খাবারের অভ্যাস হজমের গোলমাল কমায়। দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। তাই নবরাত্রি পালন অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    মানসিক চাপ কমে

    নবরাত্রি (Navratri Fasting) উদযাপনের সময়ে সামাজিক যোগাযোগ নিবিড় হয়। প্রতিবেশি, আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে একাকিত্ব বাড়ছে। আর একাকিত্বের হাত ধরেই শরীর ও মনে বাসা বাঁধছে নানান রোগ।‌ নিয়মিত কথা বলা, পারিবারিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারলে নানান সঙ্কট সহজেই কাটানো যায়। তাই নবরাত্রি উদযাপনের মতো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করলে মানসিক চাপ কমে।

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে

    তবে, এর পাশপাশি নবরাত্রি যে সময়ে পালন হয়, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। তাঁরা জানাচ্ছেন, বছরে দু’বার নবরাত্রি (Navratri Fasting) পালন হয়। একটি চৈত্র মাসে অর্থাৎ বসন্ত ঋতুতে। আরেকটি শরৎ ঋতুতে।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, বছরের এই দুই সময়েই ঋতু পরিবর্তনের সময়ে আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন দেখা যায়। অর্থাৎ তাপমাত্রার রদবদল হয়। বাতাসে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার দাপট বাড়ে। ফলে নানান সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এই সময়ে শরীর সুস্থ রাখতে বাড়তি নজরদারি জরুরি। পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত যোগাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আবার অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও কমায়। তাই নবরাত্রি পালন করলে শরীর সুস্থ থাকবে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

     

  • Tooth Decay in Indian Kids: দাঁতের সমস্যায় কাবু অধিকাংশ ভারতীয় শিশু! খাদ্যাভ্যাস নাকি সচেতনতার অভাব?

    Tooth Decay in Indian Kids: দাঁতের সমস্যায় কাবু অধিকাংশ ভারতীয় শিশু! খাদ্যাভ্যাস নাকি সচেতনতার অভাব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দাঁতের সমস্যায় কাবু অধিকাংশ ভারতীয় শিশু। দাঁতের ক্ষয়, মাড়ি ফুলে যাওয়া কিংবা মুখের ভিতরে সংক্রমণে ভোগান্তি বাড়ছে ভারতীয় শিশুদের। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মুখের ভিতরের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতনতার অভাবের জেরেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভারতীয় শিশুদের ওরাল হাইজিন সব সময় ঠিকমতো মেনে চলা হচ্ছে না। তাই দাঁত ও মুখের ভিতরের নানান রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

    কেন ভারতীয় শিশুদের দাঁতের সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় শিশুদের দাঁতের সমস্যা বাড়ার অন্যতম কারণ, খাদ্যাভ্যাস। অধিকাংশ ভারতীয় শিশুর প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজনের অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়। বিশেষত ছয় বছরের কম বয়সি শিশুদের অনেকেই নিয়মিত মিষ্টি এবং ক্যান্ডি, চকলেট জাতীয় খাবার খায়। তাই তাদের দাঁতের সমস্যা দেখা যায়। মিষ্টি দাঁতের ক্ষয় বাড়িয়ে দেয়। তাই অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে দাঁত ক্ষয় হয়। দাঁত মজবুত হয় না। খাবারের পাশপাশি মুখের ভিতরের স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার জেরেও দাঁতের সমস্যা দেখা যায়। নিয়মিত দুবার ব্রাশ করা উচিত। অধিকাংশ শিশুই নিয়মিত দুবার ব্রাশ করে না।‌ প্রত্যেকবার খাবার খাওয়ার পরে মুখ ও দাঁত ঠিকমতো পরিষ্কার করা জরুরি। অনেক সময়েই সেটা হয় না। তাই মুখের ভিতরে নানান সংক্রমণ দেখা যায়। ফলে, দাঁতের সমস্যাও তৈরি হয়। অতিরিক্ত চটজলদি খাবার খাওয়ার অভ্যাস দাঁতের সমস্যা তৈরি করছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রক্রিয়াজাত চটজলদি খাবারে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়। তাছাড়া শরীরে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য ভিটামিনের অভাব তৈরি করে। শরীরে খনিজ ও ভিটামিনের ঘাটতি হলে দাঁতের সমস্যা দেখা যায়।

    কোন ধরনের সমস্যা বেশি হচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন,‌ দাঁতের ভিতরে গর্ত হয়ে যাওয়া, কালো দাগ পড়ে যাওয়া আসলে দাঁতের ক্ষয় হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। অধিকাংশ ভারতীয় শিশুর দাঁতের ক্ষয় রোগ হয়। ফলে দাঁতে যন্ত্রণা হয়। ভোগান্তি বাড়ে। তাছাড়া মুখের ভিতরে সংক্রমণের জেরে মারি ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা যায়। আবার দুধের দাঁত ঠিকমতো পড়া এবং ওঠা নিয়েও সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

    কোন বয়সে দাঁতের সমস্যা বেশি হচ্ছে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সে দাঁতের সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, তিন বছরের কম বয়সি শিশুদের অনেকের দাঁত ওঠা নিয়ে জটিলতা দেখা যায়। তবে ৬ থেকে ১২ বছর বয়সিদের দাঁতের ক্ষয় এবং মারির সংক্রমণের সমস্যা বাড়ছে। এই বয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। আবার মুখের ভিতরের স্বাস্থ্যবিধি ও অনেক সময় তারা মেনে চলে না।‌ ঠিকমতো ব্রাশ করা কিংবা মুখ ধোয়া ঠিকমতো হয় না।‌ ফলে সংক্রমণ আটকানো কঠিন হয়।

    কীভাবে সন্তানের দাঁত ও মাড়ির যত্ন নিতে হবে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, প্রথম থেকেই দাঁতের মজবুত গঠনে নজর দেওয়া জরুরি। শিশু খাবারে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম থাকছে কিনা সেদিকে নজরদারি জরুরি। নিয়মিত দুধ, ডিম, পনির, লেবু, বেরি জাতীয় খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা জরুরি। এই ধরনের খাবার থেকে শিশু সহজেই শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম সংগ্রহ করতে পারে। এতে দাঁত মজবুত হয়। দাঁতের ক্ষয় রোগের ঝুঁকি কমাতে চিনি খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজরদারি জরুরি। শিশুদের নিয়মিত চকলেট বা ক্যান্ডি দেওয়া উচিত নয়। তাহলে দাঁতের ক্ষয় রোগের ঝুঁকি বাড়বে। তাছাড়া, শিশুরা যাতে চটজলদি প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে না পড়ে, সেদিকে নজরদারি জরুরি। মুখের ভিতরের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দাঁত ও মাড়ির সমস্যা কমবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • High-Protein Diet Risks: অতিরিক্ত প্রোটিন বিপদ বাড়াচ্ছে শহুরে ভারতীয়দের! কোন পথে আটকানো সম্ভব?

    High-Protein Diet Risks: অতিরিক্ত প্রোটিন বিপদ বাড়াচ্ছে শহুরে ভারতীয়দের! কোন পথে আটকানো সম্ভব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের প্রাতঃরাশে খান কয়েক ডিম। দুপুরে আবার পাতে থাকছে মাছ কিংবা মাংস! সন্ধ্যা হতেই চটজলদি খাবার না পেলে মন ভরে না। কখনও এগ চিকেন রোল, আবার কখনও চিকেন মোমো! বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সঙ্গী চিকেন পিৎজা কিংবা বার্গার! বিয়ের নেমন্তন্ন কিংবা জন্মদিন উদযাপন, মাছ-মাংস না থাকলে তো ভুরিভোজ অসম্পূর্ণ! আর এতেই বাড়াচ্ছে বিপদ! শহুরে ভারতীয়দের নিয়মিত খাবারের তালিকায় অধিকাংশ সময়েই প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন খাবার থাকছে। আর তার জেরেই নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    অতিরিক্ত প্রোটিন কী? শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে কি অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রোটিনের চাহিদা কতখানি, সেটা নির্ভর করে বয়স ও শরীরের ওজনের উপরে। অর্থাৎ, সাধারণত শরীরে প্রতি কেজিতে এক গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের ৮০ কেজি ওজন হলে, দিনে তাঁর ৮০ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। আবার প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার ওজন যদি ৫০ কেজি হয়, তাহলে দিনে তাঁর ৫০ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া জরুরি। তবে নিয়মিত খেলাধূলা করলে বা অতিরিক্ত জিম করলে, শরীরে প্রোটিনের বাড়তি চাহিদা হয়। অর্থাৎ, কেজি প্রতি ২ গ্রাম প্রোটিন জরুরি হয়। একজন খেলোয়াড়ের ৮০ কেজি ওজন হলে, তার ১৫০-১৬০ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি।

    ফাস্ট ফুডে রয়েছে অতিরিক্ত প্রোটিন ও ফ্যাট

    তবে সাধারণ মানুষের প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন নিয়মিত খাচ্ছেন। অর্থাৎ, শরীরে ৮০ গ্রাম প্রোটিন দরকার হলেও দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত তাঁরা ১৫০-২০০ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাবার খাচ্ছেন। যা খুবই বিপজ্জনক। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শহুরে ভারতীয়দের চটজলদি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাসের জেরেই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া হচ্ছে। পিৎজা, বার্গার, রোল কিংবা হটডগের মতো খাবারে প্রোটিন থাকে, মাংস, ডিম কিংবা পনির, সোয়াবিন জাতীয় খাবার দিয়েই এগুলো তৈরি হয়। তরুণ প্রজন্মের বহু শহুরে ভারতীয় এই ধরনের খাবার নিয়মিত খান। তার ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন ও ফ্যাট শরীরে যায়। যা সুস্থ থাকার পথে সমস্যা তৈরি করে।

    অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে শরীরে কী ক্ষতি হতে পারে?

    কিডনি সমস্যা হতে পারে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে অতিরিক্ত বর্জ্য তৈরি করে। ফলে কিডনির কার্যকারিতা বাড়ে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন খেলে কিডনির কাজ বাড়ে। ফলে কিডনির সমস্যা হতে পারে।

    ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রোটিন উপাদান শরীরে মিশতে জলের প্রয়োজন হয়। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে, অতিরিক্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। তবে অনেকেই সেই অনুপাতে জল পান করেন না। ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। তাই অতিরিক্ত গরমে বাড়তি প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।

    হজমের সমস্যা হতে পারে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রোটিন হজম করতে সময় লাগে। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে হজমের গোলমাল হতে পারে। লিভারের ওপরেও বাড়তি চাপ পড়ে।

    ওজন‌ বাড়তে পারে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অধিকাংশ সময়েই প্রোটিন জাতীয় খাবার অতিরিক্ত তেল ও মশলা ব্যবহার করে রান্না করা হয়। তাই শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমে। অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে, পর্যাপ্ত শারীরিক কসরত করা জরুরি। কিন্তু সেটা না হলে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে থাকবে। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, খাবারে প্রোটিন রাখার পাশপাশি কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, ফাইবার রাখাও জরুরি। অর্থাৎ, পনির, মাছ কিংবা মাংসের সঙ্গে সম পরিমাণে সব্জি, ফল খেতে হবে। তবেই হজম ঠিকমতো হবে। অতিরিক্ত ওজন বাড়বে না।

  • Adult Vaccination: টিকাকরণের হার মাত্র ২ শতাংশ! প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনে কেন বাড়তি গুরুত্ব প্রয়োজন?

    Adult Vaccination: টিকাকরণের হার মাত্র ২ শতাংশ! প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনে কেন বাড়তি গুরুত্ব প্রয়োজন?

     

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। আর সেই বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে রোগের চরিত্র! দাপট বাড়াচ্ছে একাধিক সংক্রামক রোগ। তাই দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য টিকাকরণ (Adult Immunization) জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষত ৫০ বছরের পরে নানান সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বায়ুদূষণ, জল দূষণের জেরে ফুসফুস, কিডনি ও রক্তের একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুস্থ দীর্ঘ জীবনের জন্য ভ্যাকসিন (Adult Vaccination) জরুরি। কিন্তু এ দেশের সাম্প্রতিক রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনের পরিসংখ্যান তলানিতে। আর সেটাই বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

    ভারতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকার হার কেমন?

    এক সর্বভারতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণের (Adult Immunization) হার বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় অনেকটাই কম। তাই বাড়ছে উদ্বেগ। ওই রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, এদেশের মাত্র ২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের টিকাকরণ (Adult Vaccination) হয়েছে। অর্থাৎ, রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো টিকা শুধুই শিশুস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। বরং প্রাপ্তবয়স্কদের একাধিক রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে টিকাকরণ জরুরি। এই সচেতনতা তলানিতে। আর সেই জন্য প্রতি ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়দের মধ্যে ৯৮ জন জনের কোনও প্রাপ্তবয়স্ককালে টিকা নেওয়া হয়নি। ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ ভারতীয় জানেন না, প্রাপ্তবয়স্কদের সুস্থ থাকার জন্য প্রাপ্তবয়স্ককালে টিকাকরণ জরুরি। শহরের তুলনায় গ্রামে টিকা করণের হার আরও কম। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দান হয়েছে মাত্র ১.৫ শতাংশ। নিউমোনিয়ার ০.৬ শতাংশ এবং হেপাটাইটিস বি রোগের টিকা নিয়েছেন ১.৯ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয়।

    কেন প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয়দের টিকাকরণের হার কম?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণের হার কম। বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশেও টিকাকরণ শুধুমাত্র শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গেই জড়িত থাকার ধারণা রয়েছে। ভারতেও প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণ কম হওয়ার অন্যতম কারণ এই সচেতনতার অভাব। শিশু অবস্থায় টিকা করণ হলেও একাধিক রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ৪০ বছরের পরে আবার টিকা করণ জরুরি হয়। শিশুদের টিকা করণ এবং বয়স্কদের টিকা করণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু রোগে পার্থক্য থাকে। বিশেষজ্ঞদের কাছে সে সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয় এই প্রসঙ্গে কথা বলেন না। ফলে তাঁদের মধ্যে সচেতনতাও তৈরি হয় না। অনেকক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণের ক্ষেত্রে খরচ একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের টিকাকরণে যেভাবে সরকার এবং প্রশাসন তৎপর, যেভাবে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণে সেই উদ্যোগের ঘাটতির রয়েছে। তাই টিকাকরণের হার তলানিতে ঠেকেছে।

    সুস্থ থাকতে কোন টিকায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    ভারতে নিউমোনিয়ার দাপট বাড়ছে! ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে প্রতি বছর ২.৫ থেকে ৩ লাখ প্রাস্ত বয়স্ক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বায়ুদূষণ বাড়ছে। তাই ফুসফুসের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া, ধূমপান ও তামাক সেবনের অভ্যাস ভারতীয়দের ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই পাল্লা দিয়ে নিউমোনিয়ার দাপট বাড়ছে। নিউমোনিয়া রুখতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণ জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, টিকা নেওয়া থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। মৃত্যুর সংখ্যাও কমবে। তাছাড়া চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকাকালীন, বয়স্কদের একাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। টিকা নেওয়া থাকলে শারীরিক জটিলতাও কমবে। তাই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতি বছর ভারতে ৩ লাখের বেশি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত হন। শুধুমাত্র বর্ষাকালেই আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভোগান্তি বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    বয়স্কদের হুপিং কাফ, হেপাটাইটিস রোধে টিকা কার্যকর

    এছাড়াও হুপিং কাশি রুখতেও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে বায়ুদূষণ বাড়ছে। দিন দিন বাতাসের গুণমান কমছে। তাই ফুসফুসের সংক্রমণের পাশপাশি শ্বাসনালীর সংক্রামণের ঝুঁকিও বাড়ছে। হুপিং কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই রোগ রুখতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে এই রোগের দাপট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ভারতীয়দের লিভারের রোগ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষত এই হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই রোগ রুখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো টিকাকরণ। প্রাপ্ত বয়স্কদের হেপাটাইটিস বি-র দাপট কমাতে টিকাকরণ জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Moringa Health Benefits: বসন্তে ভরসা সজনে! ভোগান্তির দাওয়াই লুকিয়ে শাক থেকে ডাঁটায়

    Moringa Health Benefits: বসন্তে ভরসা সজনে! ভোগান্তির দাওয়াই লুকিয়ে শাক থেকে ডাঁটায়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বেলা বাড়লেই বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। ঘাম হচ্ছে। আবার রাতের দিকে আবহাওয়া হালকা ঠান্ডা। কখনো কখনো এমন হাওয়ার দাপট, বেশ ঠান্ডা অনুভূতি! তাপমাত্রার এই রকমফের বসন্তের চেনা ছন্দ! কিন্তু আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা বাড়াচ্ছে বিপদ। শিশু থেকে প্রৌঢ় সকলেই প্রায় সর্দি-কাশিতে ভুগছে। আট থেকে আশি জ্বর, পেটের সমস্যায় কাবু। অনেকেই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ঘটিত একাধিক রোগে ভুগছেন। তাই বসন্ত ঋতুতে সুস্থ থাকতে, শরীরের দিকে বাড়তি নজরদারি (Spring Superfood) দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন বাঙালির অতি পরিচিত শাক-সব্জিই বসন্তের ভোগান্তি থেকে রেহাই দেবে। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের ভরসা, সজনে ডাঁটা এবং সজনে শাক (Moringa Health Benefits)।

    কেন বসন্তে ভরসা জোগাচ্ছে সজনে ডাঁটা এবং শাক?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তে তাপমাত্রা ক্রমাগত ওঠানামা করে। তাই আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হয়। আর তার জেরেই বাতাসে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। যে কেউ তাই নানান সংক্রামক রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। নানান রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। সজনে ডাঁটা এবং সজনে শাক (Moringa Health Benefits) রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। তাই এই সব্জি খেলে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। তাছাড়া, সজনে ডাঁটা এবং শাক ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং আয়রন, ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ সমৃদ্ধ। তাই এই খাবার সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমায়‌। তাই বসন্তের ভোগান্তি কমাতে সজনে ডাঁটা এবং শাক বিশেষ সাহায্য করে। তাছাড়া, চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্ত ঋতুতে হজমের সমস্যা বাড়ে। হঠাৎ গরম পড়ে যাওয়ার জন্য হজমের গোলমাল দেখা যায়। সজনে ডাঁটা এবং শাক ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই এই খাবার খেলে হজম শক্তি ভালো হয়‌।

    সজনে ডাঁটা এবং শাক শরীরে কী উপকার করে?

    হাড় মজবুত করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। তাই এই সব্জি খেলে হাড় মজবুত হয়। বাঙালিদের মধ্যে হাড়ের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত বাঙালি মহিলাদের হাড় ক্ষয় রোগের প্রকোপ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সব্জি খেলে হাড় মজবুত থাকবে।

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাই এই সব্জি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। শীতের শেষে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এই আবহাওয়ায় তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। এই পরিস্থিতিতে সজনে ডাঁটা এবং শাক বিশেষ উপকারি।

    ত্বক এবং চুলের জন্য বিশেষ উপকারি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। তাই নিয়মিত এই খাবার খেলে চুল পড়ার সমস্যা কমবে। ত্বক মসৃণ থাকবে।

    শরীর টক্সিন মুক্ত করতে বিশেষ সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের অতিরিক্ত বর্জ্য মুক্ত করতে সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভার ও কিডনি সুস্থ রাখতে এবং শরীরের টক্সিন মুক্ত করতে বিশেষ সাহায্য করে।

    কীভাবে এই সব্জি খাবেন?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর বয়স বছর দুয়েক হলেই সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। শিশু হোক বা বয়স্ক, সকলেই এই সব্জি খেতে পারেন। তাঁদের পরামর্শ, ডালে সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে (Spring Superfood)। যে কোনও সব্জি— করলা, বেগুন কিংবা কুমড়োর তরকারির সঙ্গে সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। সজনে শাক, রসুন দিয়ে হালকা ভেজেও খাওয়া যেতে পারে। মশলা হিসাবে রসুন খুবই উপকারি। আবার মাছের ঝোলেও সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। যেকোনও তরকারি, ডাল বা ঝোলে সজনে ডাঁটা দিলেই শরীরে উপকার হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Insomnia Among Indians: ঘুমেই লুকিয়ে রয়েছে ভালো থাকার চাবিকাঠি! কেন ঘুম-সমস্যায় ভুগছেন মানুষ?

    Insomnia Among Indians: ঘুমেই লুকিয়ে রয়েছে ভালো থাকার চাবিকাঠি! কেন ঘুম-সমস্যায় ভুগছেন মানুষ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভালো থাকার চাবিকাঠি রয়েছে ঘুমেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে ঘুম নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষের (Insomnia Among Indians) পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। শরীরে ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। তাই নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে অপর্যাপ্ত ঘুম। তাই বিশ্ব ঘুম দিবসে (World Sleep Day) চিকিৎসকদের পরামর্শ, ভালো থাকতে, সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    ভারতে কি বাড়ছে অনিদ্রার সমস্যা? কারা বেশি এই সমস্যায় ভুগছেন?

    ভারতে অনিদ্রার সমস্যা (Sleep Crisis in India) বাড়ছে। একাধিক সর্বভারতীয় সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত ঘুমের সমস্যায় ভোগেন (Insomnia Among Indians)। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। করোনা পরবর্তী কালে অনিদ্রার সমস্যা দেশ জুড়ে বেড়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে ষাটোর্ধ্ব মানুষদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা ছিল (Insomnia Among Indians)। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম চক্র বদলে যায়। অর্থাৎ শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন হয়। যার ঘুমের উপরে সরাসরি প্রভাব পড়ে। তাছাড়া বয়স বাড়লে নানান অসুখের কারণেও গভীর ঘুম হয় না। তবে গত কয়েক বছরে কম বয়সীদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বেড়েছে। ২০-৪০ বছর বয়সিদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বেড়ে যাওয়ার (Sleep Crisis in India) অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই বয়সিদের রাত জেগে মোবাইল দেখার অভ্যাস বেড়েছে। যার জেরে মস্তিষ্কের স্নায়ু বাড়তি উত্তেজিত হয়ে থাকে। তাই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ পর্যাপ্ত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই বয়সীদের অনেকেরই কাজের সময় গভীর রাত পর্যন্ত থাকে। তাই রাতে জেগে থাকার অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। যা শরীরের জন‌্য ক্ষতিকারক।

    কেন অনিদ্রার সমস্যাকে বাড়তি নজরদারি দেওয়া জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। নিয়মিত ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা শরীরের জন্য প্রয়োজন (Insomnia Among Indians)। নিয়মিত অপর্যাপ্ত ঘুম হলে একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে, মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। ঘুম হলে তবেই শরীরের পর্যাপ্ত হরমোন ক্ষরণ হবে। মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হলে, তবে সমস্ত স্নায়ু সক্রিয় থাকবে। কাজে মনোযোগ বাড়াতে এবং বিরক্তি কমাতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি (Sleep Crisis in India)। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে মস্তিষ্কের ঠিকমতো বিশ্রাম হয় না। এর জেরেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। কাজে মনোযোগ হয় না। ফলে কর্মজীবনেও তার গভীর প্রভাব পড়ে। তাই ঘুম পর্যাপ্ত জরুরি। এছাড়াও চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অপর্যাপ্ত ঘুমের জেরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তবেই দীর্ঘ সুস্থ জীবন সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share