Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Lord Kartikeya: দেবাদিদেব মহাদেব কেন দেব সেনাপতির পদটি ছেড়ে দিয়েছিলেন কার্তিককে?

    Lord Kartikeya: দেবাদিদেব মহাদেব কেন দেব সেনাপতির পদটি ছেড়ে দিয়েছিলেন কার্তিককে?

    স্বামী অলোকেশানন্দ

    আমি কিছুদিন তামিলনাড়ুতে ছিলাম। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের লোক থাকলেও মুরুগন্‌ অর্থাৎ কার্তিকের (Lord Kartikeya) পুজোর খুব প্রচলন আছে। কার্তিক সম্বন্ধে এখানকার মানুষের কাছ থেকে যা জেনেছি, তা সকলকে জানানোর জন্যই আমার এই ছোট একটি লেখা।

    পৌরানিক কাহিনী, কবি কালিদাসের কাব্য এবং এখানকার জনশ্রুতি অনুযায়ী কার্তিকের জন্ম কৃত্তিকা নক্ষত্র তিথিতে। ব্রহ্মার বরে বলীয়ান হয়ে তারকাসুর যখন স্বর্গের দেবতাদের খুব অত্যাচার করতে লাগল, তখন দেবতারা শিবের কাছে একটি পুত্রের জন্য প্রার্থনা করতে লাগলেন। কারণ তারকাসুর বধের জন্য শিবপুত্রের প্রয়োজন, তাও আবার তার বয়স হতে হবে সাতদিন। তারকাসুর সাধনা করে এইরূপ বর পেয়েছিলেন ব্রহ্মার কাছ থেকে।

    সংক্ষেপে কার্তিকের (Lord Kartikeya) জন্ম

    শিব ও পার্বতী সেই সময় গভীর তপস্যায় ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। দেবতারা শিবের ধ্যান ভাঙানোর জন্য রতি ও মদনদেবকে পাঠালেন। কিন্তু এদের কামনাময় নৃত্যে ধ্যান ভাঙল না। তখন কামদেব শিবের উপর কামবান ছুড়ে দিলেন। তাতে শিবের ধ্যান ভেঙে গেল। কিন্তু ক্রোধে তাঁর ত্রিনয়ন থেকে অগ্নি বেরিয়ে মদনদেবকে ভস্ম করে দিলেন। অন্যদিকে, কামের প্রভাবে পার্বতীর সঙ্গে মিলনে জন্ম হল কার্তিকের। জন্ম হয় শরবনে। তাই কার্তিকের আরেক নাম সারস্বত। ঘটনাচক্রে শিশু কার্তিক এসে পড়ে শরবনের সরোবরে। সেখানে তখন ছয়জন কৃত্তিকা স্নান করছিলেন। তাঁরা শিশুটিকে কোলে নিয়ে দেখেন, তাঁর ছয়টি মাথা। ক্ষুধার্থ শিশুটিকে ছয় কৃত্তিকা মিলে দুগ্ধ পান করালেন। ছয় মুখে ছয়জনের দুগ্ধ পান করেছেন, তাই নাম ষড়ানন।  তাঁরাই লালন-পালন করাতে তাঁর নাম হয়ে গেল কার্তিকেয় বা কার্তিক (Lord Kartikeya)।

    কীভাবে শুরু গৃহস্থের বাড়িতে পুজো (Lord Kartikeya)?

    এই কৃত্তিকারা ছিলেন ঋষি পত্নী। সেই ঋষিরা কার্তিককে মেনে নিতে পারেনি, এমনকি ভেবেছেন যে ওই ঋষি পত্নীদের অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক থেকেই কার্তিকের জন্ম। তাই তাঁদের তাড়িয়ে দেন। কার্তিক তাঁদের মায়ের সন্মান দিয়ে রেখে দেন। পরে তাঁদের সহায়তায় গৃহস্থ লোকেরা কার্তিকের পুজো শুরু করেন সন্তানের মঙ্গলের জন্য। এমনকি ওই ঋষি পত্নীরা এমন  প্রচার করেছেন, যার সন্তান নেই অর্থাৎ অপুত্রক সে যদি কার্তিকের পুজো করে, তা হলে সেই বিঘ্ন নাশ হবে। আরও প্রচার হল, যদি কার্তিকের পুজো না করে, তাহলে অপদেবতা গৃহস্থের ঘরে প্রবেশ করে অমঙ্গল ঘটাবে। সেই থেকেই গৃহস্থের বাড়িতে কার্তিকের (Lord Kartikeya) মূর্তি রেখে দিলেই পুজো করতে হয়, না হলে অমঙ্গল হবে। তাই সেই মূর্তি পুজো করে বিসর্জন দেবার রীতি।

    দক্ষিণ ভারতে কার্তিক (Lord Kartikeya) পুজোর প্রচলন ভালোই

    মহাভারতে তাঁকে স্কন্দ নামেও পাওয়া যায়। বাংলায় কার্তিক পুজো খুব বেশি না হলেও দক্ষিণ ভারতে কার্তিক পুজোর প্রচলন আছে ভালোই। তামিল ভাষায় কার্তিক এখানে মুরুগান্‌, মালয়ালম ভাষায় মায়ুরী কন্‌দস্বামী। আবার কন্নড় ও তেলেগুতে তিনি সুব্রহ্মণ্য নামে পরিচিত। তামিল দেশের সকল লোক খুব ভক্তি করেন এবং তাঁরা বিশ্বাস করেন, তামিল দেশের রক্ষাকর্তা তিনি। যেখানে যেখানে তামিল সম্প্রদায়ের লোকের আধিক্য, সেখান সেখানে মুরুগান্‌ অর্থাৎ কার্তিকের (Lord Kartikeya) পুজোর প্রচলন আজও আছে। যেমন দক্ষিণ ভারত ছাড়াও সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া, মরিশাস ও শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কাতে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ শ্রদ্ধা ও খুব ভক্তি করেন। তার জন্য শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ অংশে কার্তিকের উদ্দেশে কথারাগাম উৎসর্‌গিত করেছেন। সিঙ্ঘলি ভাষায় কথারাগম-এর অর্থ দেবালয়।

    কার্তিক (Lord Kartikeya) কি চিরকুমার?

    অনেকের ধারণা কার্তিক চিরকুমার। বিভিন্ন পৌরানিক কাহিনি ও তামিল রাজ্যে জনশ্রুতি–কার্তিকের দুটি বিয়ে। শিব ও পার্বতীর তপস্যা ও সংযম থেকে কার্তিকের জন্ম। জন্মের ছয় দিনের দিন কার্তিকের বিয়ে হয় দেবসেনার সঙ্গে। কেউ বলেন, তিনি ব্রহ্মার কন্যা আবার কেউ বলেন, ইন্দ্রর কন্যা। কেউ কেউ বলেন, দেবসেনাকে বিয়ে করে নাম হয় দেব সেনাপতি। আবার অনেকে বলেন তার জন্মের ছয়দিনের মধ্যে বড় হয়ে যাওয়া, তারকাসুর বধ, দেবতাদের যে কোনও যুদ্ধে কার্তিকের (Lord Kartikeya) বীরত্ব প্রকাশ-এই সব কারণে শিব দেবসেনার পদটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাই তিনি দেব সেনাপতি।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Success Story: রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কঠোর পরিশ্রমে আজ খ্যাতির শিখরে! কে এই হস্তশিল্পী?

    Success Story: রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কঠোর পরিশ্রমে আজ খ্যাতির শিখরে! কে এই হস্তশিল্পী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মানুষের কর্মই তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ করে। ভালো কর্ম যে কোনও মানুষের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে সক্ষম। আজকের প্রতিবেদন তেমনই একজনকে নিয়ে, যিনি তাঁর কর্ম প্রতিভায় নিজেকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন, তিনি রুমা দেবী (Success Story)।

    কে এই রুমা দেবী?

    রুমা দেবী রাজস্থানের বারমের জেলার একজন বাসিন্দা। রাজস্থান হস্তশিল্প যেমন শাড়ি, বিছানার চাদর, কুর্তা এবং অন্যান্য পোশাক তৈরিতে উন্নত এক রাজ্য। দেশ-বিদেশের সমস্ত জায়গায় রাজস্থান আজ তার হস্তশিল্পের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছে। এই রাজস্থানী হস্তশিল্পের একজন কারিগর তথা শিল্পী হলেন রুমা দেবী। তাঁর নিজস্ব একটি গ্রুপ আছে যারা বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে অবস্থিত বারমের, জেলমের এবং বিকানের জেলার প্রায় ৭৫টি গ্রামের ২২ হাজার মহিলাকে কর্মসংস্থান প্রদান করছে (Success Story) এবং তাঁদের শিল্প সিঙ্গাপুর, জার্মানি এবং কলম্বোর ফ্যাশন উইকেও প্রদর্শিত হয়েছে।

    সাফল্যের রাস্তা মোটেও সহজ ছিল না (Success Story)

    বর্তমানে অনেক মহিলাই তাঁদের নিজস্ব শিল্পীসত্তা এবং কাজের নিরিখে দেশ-বিদেশ জুড়ে অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন। কিন্তু আর কয়েকজন সাধারণ মানুষের মতো রুমা দেবীর সফলতার রাস্তা (Success Story) কখনও সহজ ছিল না। এর পিছনে আছে এক কঠিন জীবন সংগ্রামের কাহিনি। ১৯৮৮ সালের নভেম্বরে রাজস্থানের বারমের জেলার রাতওয়াসার গ্রামে পিতা খেতারাম এবং মাতা ইমরাতি দেবীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন রুমা দেবী। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই মাকে হারান তিনি। তার পর তাঁর পিতা আবার একটি বিয়েও করেন। রুমা বেড়ে ওঠেন তাঁর ৭ বোন ও এক ভাইয়ের সাথে। রুমাদেবী তাঁর মামার কাছে বড় হন। সেই গ্রামেরই একটি সরকারি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। রাজস্থানে পানীয় জলের খুব সমস্যা থাকায় রুমা দেবী ১০ কিলোমিটার দূর থেকে গরুর গাড়িতে বসে পানীয় জল নিয়ে আসতেন। এরপর মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর বিবাহ হয় বারমের জেলার মঙ্গল বেরি গ্রামের বাসিন্দা টিকুরামের সাথে।

    কীভাবে তিনি সফলতা (Success Story) অর্জন করেন?

    ১৯৯৮ সালে গ্রামীণ বিকাশ এবং চেতনা সংস্থা তৈরি হয়েছিল। এই এনজিওর লক্ষ্য ছিল গ্রামের হস্তশিল্পগুলির মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর করা। ২০০৮ সালে রুমা দেবী এই এনজিওর সাথে যুক্ত হন। এরপর শুরু হয় তাঁর কঠোর পরিশ্রম। নতুন নতুন ডিজাইন এবং আরও নানা হস্তশিল্পের এক খ্যাতনামা শিল্পী হিসেবে রুমা দেবী নাম অর্জন করেন। এর পর তাঁকে সেই এনজিওর চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে সেই এনজিওর সঙ্গে প্রায় ২২ হাজার মহিলা যুক্ত৷ এইসব নারীরা ঘরে বসেই তাঁদের হস্তশিল্প তৈরি করেন। রুমা দেবী তাঁদের হস্তশিল্প তৈরি করা পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে সব রকম সহায়তা করে থাকেন। সেইসব নারীদের ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার প্রায় কোটি  টাকা (Success Story)।

    রুমা দেবীর অর্জিত সম্মান (Success Story)

    রুমা দেবী ভারতের মহিলাদের জন্য সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘নারী শক্তি পুরস্কার ২০১৮’ তে পুরস্কৃত হন। এমনকি রুমা দেবীকে ১৫ এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি আমেরিকায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের হাওয়ার্ড ইন্ডিয়া সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখান থেকে হাওওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুদের হস্তশিল্পের পণ্য তৈরি শেখানোর সুযোগ পান। সেখানে পাশাপাশি তাঁর পণ্য প্রদর্শনেরও সুযোগ  পেয়েছিলেন। রুমা দেবী সোশ্যাল মিডিয়াতেও খুব সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে থাকেন। তাঁর বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ারের সংখ্যা কয়েক লাখ। ফেসবুকে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ। ট্যুইটারে তাঁকে অনুসরণ করেন ৬ হাজার ৫০০ মানুষ। 
    সম্প্রতি রুমা দেবী তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একসাথে তাঁর কুঁড়েঘরে থাকার ছবি এবং তার ইউরোপ ভ্রমণের ছবি প্রকাশ করেছেন। ২০১৫-১৬ সালে অনুষ্ঠিত জার্মানির বৃহত্তম বাণিজ্য মেলা, যেখানে অংশগ্রহণের জন্য ফি প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা, সেখানে রুমা দেবী ও তাঁর গ্রুপকে বিনামূল্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল (Success Story)।

    রুমা দেবীকে নিয়ে লেখা হয় একটি বইও

    সম্প্রতি নিধি জৈন নামক এক লেখিকা ‘হাউসলে কা হুনার’ নামক একটি বই প্রকাশ করেন, যা রুমা দেবীকে নিয়ে লেখা। বইটিতে রুমা দেবীর সংগ্রাম এবং তাঁর সাফল্যের পুরো কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে। কীভাবে তিনি একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে বিদেশেও তাঁর শিল্পকে তুলে ধরেছেন এবং বিদেশে পৌঁছে হাজার হাজার নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন (Success Story), তার উল্লেখ এই বইতে আছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Moustache: তাগড়াই গোঁফের কেরামতি! টেনে নিয়ে গেলেন যাত্রী সহ আস্ত একটি টোটো!

    Moustache: তাগড়াই গোঁফের কেরামতি! টেনে নিয়ে গেলেন যাত্রী সহ আস্ত একটি টোটো!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘গোঁফের আমি, গোঁফের তুমি, তাই দিয়ে যায় চেনা।’ সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ছড়া ‘গোঁফচুরি’র শেষ দুটি লাইনের কথা মনে করিয়ে দিলেন বাংলারই এক ব্যক্তি। ছোট থেকেই গোঁফ (Moustache) রাখা তাঁর সখ। গোঁফের জন্য স্ত্রীর সঙ্গে একাধিক বার ঝগড়াও হয়েছে। তবে নিজের সখ মেটাতে সব কিছু উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছেন এলাকার ‘গোঁফদা’ ওরফে অশোক মাহাতো। পেশায় একজন টোটো চালক। তবে তার গোঁফের কেরামতি দেখলে অবাক হতে হয়। গোঁফ দিয়েই তিনি তুলে ফেলছেন বাটখারা, ইট। গোঁফ দিয়েই টেনে আনছেন টোটো। যা দেখে স্তম্ভিত এলকার মানুষজন।

    গোঁফ (Moustache) দিয়ে টানলেন যাত্রী সহ টোটো

    অশোক মাহাতো প্রথমে তার গোঁফ দিয়ে দু’টি এক কেজির বাটখারা চাগিয়ে তোলেন। পরবর্তীতে বাটখারার বদলে জায়গা নেয় দু’টি আস্ত ইট। যে ইটের ওজন প্রায় ১০ কেজির কাছাকাছি। সফলভাবে দুটি ইট গোঁফ দিয়ে চাগিয়ে তোলার পর রাউন্ড নম্বর থ্রি। এবারের লক্ষ্য গোঁফ দিয়ে টোটো টানা। গোঁফের (Moustache) মধ্যে দড়ি বেঁধে অনায়াসে একটি টোটোকে টেনে নিয়ে চলে যেতে সক্ষম হন অশোকবাবু। পরবর্তীতে আরেকটু কঠিন করার জন্য টোটোর মধ্যে একজন লোককে বসিয়ে দেওয়া হয়। কী আশ্চর্য, তাঁকেও টেনে নিয়ে এগিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি। গোঁফ দিয়ে ওয়েট লিফটিংয়ের মতো একেবারে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়ে চলেছেন হুগলির কোন্নগরের কানাইপুর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা অশোক মাহাতো। 

    ‘গোঁফের (Moustache) জন্য জোটে বিশেষ সম্মান’

    অশোকবাবু বলেন, গোঁফ (Moustache) রাখা তাঁর ছোট থেকেই শখ। শেষ ২০ বছর ধরে এই গোঁফ তিনি রেখে আসছেন। তিনি যেখানেই যান গোঁফের জন্য বিশেষ সম্মান পান। গোঁফের জন্য পরিচর্যাও করতে হয়। নিজের গোঁফের পরিচর্যার জন্য বাইরের বাজারের কোনও বিয়ার্ড অয়েল বা এই জাতীয় তেল তিনি ব্যবহার করেন না। দেশীয় সরষের তেল তাঁর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ। 

    কী বলছেন তাঁর স্ত্রী?

    অশোক মাহাতোর স্ত্রী অঞ্জনা মাহাতো জানান, বিয়ের পর থেকেই গোঁফ (Moustache) রাখার প্রবণতা বাড়ে অশোকের। প্রথমে গোঁফের জন্য তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হলেও বর্তমানে গোঁফের কেরামতির জন্য তাঁরা সকলেই গর্ব বোধ করেন। 

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Self Reliance: ৩০ বছর ধরে মাত্র ১ টাকায় গরমাগরম আলুর চপ, ফুলুরি, বেগুনি!

    Self Reliance: ৩০ বছর ধরে মাত্র ১ টাকায় গরমাগরম আলুর চপ, ফুলুরি, বেগুনি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাত্র এক টাকায় তেলেভাজা বিক্রি করছেন হাওড়ার সলপ বাজারের গোপালচন্দ্র দে (Self Reliance)। তাও এক-দু’ বছর নয়, বিগত ৩০ বছর ধরে। এই দুর্মূল্যের বাজারে যেখানে দৈনন্দিন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, সেখানে মাত্র এক টাকায় মিলছে গরমাগরম আলুর চপ, ফুলুরি, বেগুনি। এছাড়াও সিঙাড়া, কচুরি, নিমকিও পাওয়া যাচ্ছে এক টাকা দামেই। ডোমজুড়ের সলপ বাজারে সপ্তাহে প্রতিদিন দু’ বেলাই স্থানীয় মানুষের রসনাতৃপ্তি ঘটিয়ে চলেছেন গোপালবাবু, মাত্র এক টাকাতে।

    ন্যূনতম ছ’ টাকার নিচে কিছু তো মেলেই না!

    বর্ষাকালে গরমাগরম তেলেভাজা সহযোগে মুড়ির সঙ্গে বাঙালির নস্টালজিক যোগাযোগ। বিকেলের আড্ডা বা ঘরোয়া জলখাবার, তেলেভাজা-মুড়ি বাঙালির পছন্দের খাদ্য তালিকায় সব সময়ই ‘হট ফেভারিট’। সুগার, প্রেশার, কোলেস্টেরলের চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজও শীর্ষস্থান অধিকার করে আছে তেলেভাজা-মুড়ি। কোভিড অতিমারির জেরে অর্থনৈতিক সংকট চলছে। জিনিসপত্রের দাম ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বিশেষত সর্ষের তেলের মূল্য আকাশ ছুঁয়েছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই খাওয়ায় লাগাম টানতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মুড়ি-তেলেভাজাও সেই লাগাম টানার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। কলকাতা বা হাওড়ার যে কোনও তেলেভাজার দোকানে ন্যূনতম ছ’ টাকার নিচে কিছু মেলে না। কিন্তু সলপ বাজারের গোপালচন্দ্র দে-র তাতে কিছু যায় আসে না। তিনি ওই এক টাকাতেই বেচে চলেছেন (Self Reliance) গরম তেলেভাজা। তাই বলে খাবারের গুণগত মানের সঙ্গে আপস করতে রাজি নন তিনি। লাভক্ষতির কথা মাথায় না রেখে স্থানীয় মানুষের হাতে এই নামমাত্র দামেই টাটকা খাবার তুলে দিচ্ছেন তিনি।

    বয়স বেড়েছে, উৎসাহ এতটুকু কমেনি (Self Reliance)

    আদি বাড়ি হাওড়ার আমতায়। আর্থিক প্রতিকূলতার কারণে পড়াশোনা বেশিদূর হয়নি। তাই রুটি-রুজির টানে বাবার হাত ধরে চলে আসেন ডোমজুড়ের সলপে। বছর পঞ্চাশেক আগে ডোমজুড়ের সলপ বাজারে রাস্তার ধারে পান-বিড়ির দোকান করেন তিনি (৬৫)। কিন্তু ব্যবসায় সেভাবে লাভ না হওয়ায় বাবার কথামতো ৩০ বছর আগে তেলেভাজার দোকান খোলেন। ব্যস, শুরুতেই ছক্কা। ১ টাকায় গোপালবাবু চপ, মুড়ি, বেগুনি, কচুরি, ডালের বড়া, সিঙ্গারা, নিমকি সহ নানা সুস্বাদু খাবার বিক্রি করতে থাকেন (Self Reliance)। জিভে জল আনা সেই খাবারের স্বাদ পেতে খদ্দেররাও ভিড় জমাতে শুরু করেন। বয়স বাড়লেও গোপালবাবু একই উৎসাহে কাজ করে চলেছেন। এক ছেলে মাঝে মাঝে বাজার করে দিয়ে গেলেও কার্যত এক হাতেই তিনি দোকান সামলান। সকাল, বিকেল এবং সন্ধ্যাবেলায় নিয়ম করে বিক্রি করেন বাঙালির প্রিয় তেলেভাজা।

    ‘যতদিন বেঁচে থাকব, এই এক টাকাতেই তেলেভাজা বেচব’ (Self Reliance)

    সলপ বাজারের মোড়েই একচিলতে আটপৌরে দোকান। ব্যবসায় লাভক্ষতির প্রশ্নে তিনি বলেন, লাভ কম হলেও তাঁর পুষিয়ে নিতে অসুবিধা হয় না। ফলে বিক্রিবাটা ভালোই হচ্ছে। আগে পান, বিড়ি, সিগারেট বেচতেন গোপালবাবু। বিগত ৩০ বছর ধরে তেলেভাজা, মুড়ি, চানাচুর ইত্যাদি বিক্রি করছেন। তাঁর নিজের কথায়, যতদিন বেঁচে থাকব, এই এক টাকাতেই তেলেভাজা বেচব। সর্ষের তেলের দাম বাড়লেও খাবারের দাম ওই এক টাকাই থাকবে! দুর্মূল্যের বাজারে সামান্য টাকায় মানুষের হাতে খাবার তুলে দিলে মানুষ খুশি হয়। আনন্দ পায়। মানুষের এই আনন্দটুকুই আমার কাছে বিরাট পাওয়া। জানাচ্ছেন গোপালবাবু (Self Reliance)।

    কী বলছেন ক্রেতারা?

    গোপালবাবুর দোকানে নিয়মিত খাবার কেনেন ঝাঁপরদহ এলাকার একটি স্কুলের শিক্ষক জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ছাত্র বয়স থেকে গোপালদাকে দেখছি। অত্যন্ত হাসিখুশি, সৎ ও ভালো মানুষ। কোনও ফালতু ঝুটঝামেলার মধ্যে নেই। এক টাকাতে তেলেভাজা-মুড়ি বিক্রির ফলে গরিব মানুষ, পথচলতি মানুষ উপকৃত হচ্ছে। আর এক ক্রেতা লক্ষ্মীকান্ত সাউ প্রায় ৩০ বছর ধরে তেলেভাজা কিনছেন গোপালবাবুর (Self Reliance) দোকানে। কম পয়সায় এত সুস্বাদু মুখরোচক খাবার নিঃসন্দেহে ভালো বলে মনে করেন তিনি। এই দুর্মূল্যের বাজারে এক টাকা করে খাবার পাওয়া মানে সাধারণ মানুষের পয়সা বেঁচে যাচ্ছে, মন্তব্য লক্ষ্মীকান্তবাবুর। 

    বাবা পরলোকগত। কিন্তু তাঁর আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেছেন গোপালবাবু। ৩০ বছর ধরে তিনি ওই এক টাকাতেই খরিদ্দারকে বেচে চলেছেন গরম তেলেভাজা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Gouri Sen: ‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন’, কে এই গৌরী সেন, কেনই বা তিনি মিথ হয়ে উঠেছেন, জানেন কি ?

    Gouri Sen: ‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন’, কে এই গৌরী সেন, কেনই বা তিনি মিথ হয়ে উঠেছেন, জানেন কি ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন। এই কথাটা আম বাঙালির কাছে বহুদিন আগেই প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়েছে। এখন মনে হতেই পারে, আদৌ কি গৌরী সেন (Gouri Sen) বলে কেউ ছিলেন, না নিছক কাল্পনিক একটি নাম। আর যদি সত্যিই গৌরী সেন বলে কেউ থাকেন, তাহলে তাঁর বাড়ি কোথায়? তিনি বিপুল অর্থের অধিকারীই বা কী করে হলেন। আর তিনি কী এমন করেছিলেন যার জন্য তিনি এখনও মিথ হয়ে রয়েছেন। এসব প্রশ্ন সকলের মনেই ঘুরপাক খাওয়াটাই স্বাভাবিক। গৌরী সেনকে নিয়ে অজানা সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি আমরা।

    গৌরী সেনের বাড়ি কোথায়? তাঁর পারিবারিক অবস্থাই বা কেমন ছিল? (Gouri Sen)

    হুগলির সপ্তগ্রাম ছিল সেই সময় খুব সমৃদ্ধ নগর। প্রচুর বিত্তশালী মানুষের বসবাস ছিল। সেই সপ্তগ্রামেই গৌরী সেনের (Gouri Sen) পূর্ব পুরুষ অনিরুদ্ধ সেন বাস করতেন। পরবর্তীকালে কালের নিয়মে সরস্বতী নদী জৌলুস হারাতেই সপ্তগ্রামের গুরুত্ব কমতে শুরু করে। সরস্বতীর পরিবর্তে ভাগীরথী নদীতে রমরমিয়ে ব্যবসা শুরু হয়। হুগলিতে রাজকীয় বন্দর গড়ে ওঠে। ভাগীরথী নদীর মাধ্যমে চলে ব্যবসা বাণিজ্য। ভাগীরথী নদী তখন থেকে এই এলাকায় হুগলি নদী হিসেবে পরিচিত লাভ করে। সেই হুগলির বালিতে অনিরুদ্ধ সেন তাঁর দুই পুত্র নন্দরাম এবং পরাণচন্দ্রকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। নন্দরামের সাত সন্তান ছিল। তারমধ্যে গৌরীশঙ্কর ছিল সব থেকে ছোট। ১৬৪৮ সালে গৌরীশঙ্কর সেন (Gouri Sen) জন্মগ্রহণ করেন। এই গৌরীশঙ্করই পরবর্তীকালে দানবীর গৌরী সেন হিসেবে সুবে বাংলায় নাম করেন।

    গৌরী সেন কী করতেন? (Gouri Sen)

    গৌরী সেনের (Gouri Sen) পূর্ব পুরুষ হলধর সেন ছিলেন খুব প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তবে, তা ছিল সপ্তগ্রামে। হলধর সেনের বংশধর হিসেবে গৌরী সেনের বাবা নন্দরামের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। ফলে, সামান্য পুঁজি নিয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গৌরী সেন ব্যবসা শুরু করেন। সেই সময় কলকাতার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বৈষ্ণবচরণ শেঠের সঙ্গে অংশীদারী ব্যবসা শুরু করেন তিনি। সেই সময় মোটা কাপড়, শস্য, তেল, রাংতার ভালো বাজার ছিল। বড়বাজার ছিল তাঁর ব্যবসার ক্ষেত্র। বিভিন্ন জায়গা থেকে শস্য নিয়ে গৌরী সেন চাহিদা মতো নৌকা করেই জলপথে বিভিন্ন জায়গায় তা রফতানি করতেন। তাঁর সততা ও বুদ্ধির জোরে ব্যবসায় খুব তাড়াতাড়ি তিনি শ্রীবৃদ্ধি করেন।

    গৌরীশঙ্কর থেকে দানবীর গৌরী সেন হয়ে ওঠার কাহিনী কেমন ছিল, জানেন কি?

    প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি টার্নিং পয়েন্ট থাকে। গৌরী সেনের (Gouri Sen) কর্মজীবনে এটাই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। তবে, কাহিনীটা অলৌকিক মনে হতে পারে। জনশ্রুতি থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। ১৬ বছর বয়সে ব্যবসা শুরু করার কয়েক বছরের মধ্যেই রফতানি কারবার তাঁর বেশ জমে ওঠে। ব্যবসার সূত্র ধরেই মেদিনীপুরে ভৈরবচন্দ্র নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে। সেই সময় রাংতার ব্যবসা রমরমিয়ে চলত। বন্ধুর চাহিদা মতো সাত নৌকা শুদ্ধ রাংতা মেদিনীপুরে ভৈরবের কাছে তিনি পাঠিয়ে দেন। পথে একজন সাধু তাঁর একটি নৌকায় তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। সাধু একটি নৌকায় চেপে বসেন। মেদিনীপুর ঘাটে নৌকা লাগে। ভৈরবের কর্মচারী রাংতা নিয়ে যাওয়ার জন্য নৌকায় ওঠেন। কিন্তু, অলৌকিভাবে সেই রাংতা সবই রুপোয় পরিণত হয়। ভৈরবচন্দ্র ওই রুপো আত্মসাত্ না করেই ফের হুগলি ঘাটে তা পাঠিয়ে দেন। চন্দননগরে জলপথ প্রহরী সব নৌকা বাজেয়াপ্ত করেন। হাকিমের কাছে গৌরী সেনকে তলব করা হয়। তবে, হাকিম তাঁকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে বেকসুর খালাস করে দেন।

    জনশ্রুতি রয়েছে, দেবাদিদেব মহাদেব সাধু বেশেই তাঁর নৌকায় চেপেছিলেন। রাংতা থেকে রুপোয় রুপান্তরিত হওয়া, হাকিমের বেকসুর খালাস করে দেওয়ার পিছনেও মহাদেব রয়েছেন। পরে, তাঁকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে রুপো ভর্তি নৌকা নেওয়ার কথা বলা হয়। একইসঙ্গে স্বপ্নাদেশে শিবের মন্দির প্রতিষ্ঠার তিনি নির্দেশ পান। সেই রুপো বিক্রি করে রাতারাতি প্রচুর টাকার মালিক হলেন তিনি। স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর তিনি বাড়িতে শিবের মন্দিরও প্রতিষ্ঠা করেন। বিপুল পরিমাণ অর্থের অধিকারী হয়ে তিনি সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। কারও অর্থের অভাবে বিয়ে হচ্ছে না, কেউ চিকিত্সা করাতে পারছেন না, তিনি ত্রাতা হয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াতেন। অনেকে আবার মিথ্যা গরিবের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায় করে সেই টাকায় ফূর্তি করতেন। অনেকে তাঁকে বুঝে-শুনে অর্থ খরচ করার পরামর্শ দিতেন, তিনি তাঁদের বলেছিলেন, মহাদেবের কৃপায় আমি এই বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছি, এই অর্থের মালিক আমি নই, আমি ভান্ডারি মাত্র। তাই, যখন যার প্রয়োজন হবে তাঁকে আমি অর্থ দিয়ে সাহায্য করব। টাকার অভাবে কারও কোনও কাজ পড়ে থাকবে না। লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন। আমৃত্য সেই কথা তিনি রেখেছিলেন। তাঁর কাছে এসে কেউ খালি হাতে ফিরে যেতেন না।

    গৌরী সেনের মৃত্যু ও তাঁর উত্তরসূরীরা কোথায় বসবাস শুরু করেন?

    গৌরী সেনের (Gouri Sen) মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের লোকজন রাস্তায় মোহর ছড়িয়ে তাঁকে গঙ্গায় নিয়ে যান। হুগলির বালির বাড়িতেই তাঁর শ্রাদ্ধ হয়। তাঁর দুই সন্তান হরেকৃষ্ণ ও মুরলীধর। গৌরী সেনের মৃত্যুর পর মুরলীধর হুগলির বালির বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেন। আর হরেকৃষ্ণ বালির বাড়িতে রয়ে যান। হরেকৃষ্ণের দুই সন্তান ছিলেন বিশ্বেশ্বর ও ভীমচাঁদ। বিশ্বেশ্বরের পরিবারের লোকজন সকলেই কলকাতায় চলে যান। ভীমচাঁদ ও তাঁর উত্তরসূরীরা হুগলির বালির বাড়িতেই বসবাস করেন। কালের নিয়মে তাঁর বংশধরেরা আজ কোথায় তা জানা নেই। তবে, মানুষের জন্য কাজ করা গৌরী সেনের সেই কাজের মধ্যে দিয়ে তিনি এখনও আম বাঙালির কাছে অমর হয়ে রয়েছেন।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Freedom Struggle: রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বার্তায় মাতঙ্গিনী হাজরা ও কনকলতা বড়ুয়ার নাম, জানুন তাঁদের ইতিহাস

    Freedom Struggle: রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বার্তায় মাতঙ্গিনী হাজরা ও কনকলতা বড়ুয়ার নাম, জানুন তাঁদের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, ‘‘আমি সম্মান জানাই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের (Freedom Struggle)। যাঁদের আত্মবলিদানের কারণেই আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। মাতঙ্গিনী হাজরা, কনকলতা বড়ুয়ার মতো সমস্ত মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আমি শ্রদ্ধা জানাই যাঁরা ভারত মায়ের চরণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।’’ রাষ্ট্রপতি তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় মাতঙ্গিনী হাজরা এবং কনকলতা বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছেন। আজকে আমরা জানবো এই দুই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর (Freedom Struggle) সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

    মাতঙ্গিনী হাজরার ইতিহাস

    পশ্চিমবঙ্গের স্বাধীনতা সংগ্রামী (Freedom Struggle) ছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরা, ৭৩ বছর বয়সে ভারতছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার সময় ব্রিটিশ সরকারের গুলি তাঁকে ঝাঁঝরা করে দেয়। তমলুকের এই স্বাধীনতা সংগ্রামী গান্ধী বুড়ি নামেও পরিচিত। জানা যায়, মাতঙ্গিনী হাজরার জন্ম হয়েছিল তমলুকের হোগলা নামক গ্রামে ১৮৬৯ সালে। তাঁর প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে সেভাবে কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। কিন্তু সরকারের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মাতঙ্গিনী হাজরা (Freedom Struggle) ছিলেন একজন গরিব কৃষক কন্যা। যিনি তাঁর প্রথাগত শিক্ষা খুব বেশি দূর টেনে নিয়ে যেতে পারেননি। মাত্র ১২ বছর বয়সে মাতঙ্গিনী হাজরার বিবাহ হয় ত্রিলোচন হাজরার সঙ্গে। তাঁর স্বামীর বয়স তখন ৬০ বছর। মাতঙ্গিনী হাজরার যখন ১৮ বছর বয়স, তখন ত্রিলোচন হাজরা মারা যান। তাঁর কোনও সন্তান ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পরে মাতঙ্গিনী হাজরা সমাজ এবং দেশের কাজে নিজেদের উৎসর্গ করেন (Freedom Struggle)। ১৯ শতকের শুরুর দিকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ভারতবর্ষে নতুনভাবে বিস্তার লাভ করতে থাকে। এতেই প্রভাবিত হতে থাকেন মাতঙ্গিনী হাজরা। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী মণি ভৌমিকের লেখা ‘কোড নেম গড’ বইতে বলছেন, ‘‘মাতঙ্গিনী মহাত্মা গান্ধীর প্রতি খুব শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। যে কারণে তাঁকে গান্ধী বুড়ি নামে ডাকা হতো।’’  
    মাতঙ্গিনী হাজরা সম্পর্কে জানা যায় ১৯৩৩ সালে তমলুক শহরে একটি বিক্ষোভের সময় তিনি জাতীয় পতাকা হাতে গভর্নরের ব্যালকনির সামনে পৌঁছে যান এবং সেখানে স্লোগান দিতে থাকেন ‘গো ব্যাক লাট সাহেব’। ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে হেনস্তা করে। তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। এবং ৬ মাস এর জন্য তাঁর জেল হয়।  ৬১ বছর বয়সে মাতঙ্গিনী হাজরা ফের একবার গ্রেফতার হন। ১৯৩০ সালে আইন অমান্যের সময় (Freedom Struggle)। 

    এরপর ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেন মহাত্মা গান্ধী। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ছয় হাজার বিক্ষোভকারীর (Freedom Struggle) সঙ্গে সামনে থেকে মিছিলে হাঁটতে থাকেন ৭৩ বছর বয়সী মাতঙ্গিনী হাজরা। এই বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য ছিল যে তমলুক পুলিশ স্টেশনকে ব্রিটিশদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া। থানার সামনে মিছিল আসতেই পুলিশ বাধা সৃষ্টি করলে মাতঙ্গিনী হাজরা তাদেরকে আবেদন জানান যে মিছিলে গুলি যেন চালানো না হয়। এবং তখনই ব্রিটিশ পুলিশের রাইফেল গর্জে ওঠে তিন তিনবার। মাতঙ্গিনী হাজরার বুক ঝাঁঝরা করে দেয় ব্রটিশ পুলিশ। মৃত্যুর আগে তিনি বলতে থাকেন ‘বন্দেমাতরম’ এরপরেই সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। এবং ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হয় তমলুক। পরবর্তীকালে ১৯৪৪ সালে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার ভেঙে দেওয়া হয়।

    কনকলতা বড়ুয়ার ইতিহাস 

    কনকলতা বড়ুয়াছিলেন অসমের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী। ভারতছাড়ো আন্দোলনে তিনি শহীদ হয়েছিলেন। কনকলতা বড়ুয়ার যখন ১৭ বছর বয়স তখন তিনি মৃত্যু বাহিনীতে যোগ দেন। অসমের গোহপুর পুলিশ স্টেশনের সামনে ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ সালে বিক্ষোভরত (Freedom Struggle) অবস্থায় পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয় কনকলতা বড়ুয়ার শরীর। ডিব্রুগড় ইউনিভার্সিটি প্রফেসর শিলা বোড়া বলছেন, ‘‘ওই ঘটনার মাত্র দুদিন আগেই তিনি মৃত্যু বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। গুলিতে লুটিয়ে পড়ার পরেও যতক্ষণ তিনি বেঁচে ছিলেন ততক্ষণ পর্যন্ত জাতীয় পতাকাকে তিনি মাটিতে পড়তে দেননি।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Howrah to Hooghly Rail: ১৫ অগাস্ট ১৮৫৪, হাওড়া-হুগলি রেল চলাচল শুরু, জানুন সেই ইতিহাস

    Howrah to Hooghly Rail: ১৫ অগাস্ট ১৮৫৪, হাওড়া-হুগলি রেল চলাচল শুরু, জানুন সেই ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৮৪৫ সালের জুন মাসে ইস্ট ইন্ডিয়া রেল কোম্পানি (Howrah to Hooghly Rail) প্রতিষ্ঠিত হয়। যার প্রাথমিক মূলধন ছিল এক কোটি পাউন্ড। এই কোম্পানির উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লির মধ্যে একটি রেল যোগাযোগ স্থাপন করা। এর অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন রোল্যান্ড ম্যাকডোনাল্ড স্টিফেনসন। ইনি পরবর্তীকালে নাইট উপাধিও পেয়েছিলেন। বলা হয় যে স্টিফেনসনের রক্তেই নাকি রেলপথ ছিল। কারণ তাঁর মামা ছিলেন কিংবদন্তি জর্জ স্টিফেনসন। যাঁকে ‘ফাদার অফ রেলওয়েস’ বলা হয়। এর পরবর্তীকালে রোল্যান্ড স্টিফেনসন কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেলপথের একটি সমীক্ষা করেন। এর পরের তিন বছর ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে কোম্পানি ব্রিটিশ সরকারের অনুমতি এবং অনুমোদন না পাওয়ার জন্য কাজ আটকে ছিল। পরবর্তীকালে কলকাতা থেকে রানীগঞ্জ পর্যন্ত ১৮৫০ সালে ট্রেন চালানোর (Howrah to Hooghly Rail) জন্য একটি অনুমোদন পাওয়া যায়। এরপরে তিন বছর স্টিফেনসন রেলওয়ে ট্রাকগুলি পর্যবেক্ষণ করেন এবং তিনি দেখেন যে তার মধ্যে কলকাতা থেকে পান্ডুয়া পর্যন্ত ট্রাক রেল চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল। জানা যায়, পরবর্তীকালে গুডউইল জাহাজে রেলের কোচ আসছিল ভারতে। যা সাগরদ্বীপের কাছে ডুবে যায়। এরপর প্রধান ইঞ্জিনিয়ার জর্জ টার্নবুল কলকাতার এক গাড়ি প্রস্তুত সংস্থার থেকে ডিজাইন করেন। এর ফলেই সময় নষ্ট হতে থাকে। পরবর্তীকালে ব্রিটেন থেকে ইঞ্জিন আনার কথা ছিল। কিন্তু তা ভুল করে অস্ট্রেলিয়াতে চলে যায় ভুল যোগাযোগের কারণে। অন্যদিকে ফরাসি সরকারেরও বাধার মুখে পড়ে রেলপথ নির্মাণের কাজ। তারা বলে যে চন্দননগরের ওপর দিয়ে রেল যাবে না। এভাবেই পিছতে থাকে ভারতে রেলপথে নির্মাণের কাজ।

    ২৮ জুন ১৮৫৪ হাওড়া-পান্ডুয়া রেল চলাচল

    পরবর্তীকালে ২৮ জুন ১৮৫৪ সালে হাওড়া থেকে পান্ডুয়া পর্যন্ত প্রথম সফলভাবে রেল ইঞ্জিন চলে (Howrah to Hooghly Rail)। এবং হাওড়া থেকে হুগলি পর্যন্ত একটি রেল ট্রায়াল রান সম্পন্ন করে ১১ অগাস্ট ১৮৫৪। সেখান ইঞ্জিনে ইন্ডিয়ান গেজেটের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরের দিন এ নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্টও বের করা হয়। সেই ট্রেন হাওড়া থেকে ছাড়ে সকাল সাড়ে আটটায় এবং হুগলি পৌঁছায় সকাল থেকে এগারোটায়। সেই ট্রেনে উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন যে জার্নি ছিল খুবই সুখকর। সেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয় কলকাতা এবং হাওড়ার মধ্যে একটি ব্রিজ স্থাপনের।

    ১৫ অগাস্ট ১৮৫৪ হাওড়া-হুগলি রেল চলাচল (Howrah to Hooghly Rail)

    ১৮৫৪ সালের ১২ অগাস্ট ইন্ডিয়ান গেজেট নিউজ পেপারে নোটিশ দেওয়া হয়, চলতি মাসের ১৫ তারিখ মঙ্গলবার হাওড়া থেকে হুগলির মধ্যে ট্রেন চলবে। সেখানে বলা হয়, হাওড়া থেকে এই ট্রেন ছাড়বে সকাল সাড়ে দশটায় এবং বিকাল সাড়ে পাঁচটায়। অন্যদিকে হুগলি থেকে (Howrah to Hooghly Rail) এই ট্রেন ছাড়বে সকাল ৮টা ১৩ এবং বিকাল ৩টে ৩৮-এ। এর মধ্যবর্তী স্টপেজ গুলি হল বালি, শ্রীরামপুর, চন্দননগর। এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেন চলাচল করবে হাওড়া থেকে পান্ডুয়া পর্যন্ত। যে সমস্ত নাগরিক মান্থলি পাস নিতে আগ্রহী তাঁদেরকে আবেদন করতে বলা হচ্ছে নিকটবর্তী রেলস্টেশনে (Howrah to Hooghly Rail)। তারপরে এই মান্থলি পাশের ভাড়া স্থির করা হবে। এবং কোনও মান্থলি পাস আগামী বছরের এক জানুয়ারির আগে শুরু হবে না। এই নোটিসের নিচে নাম লেখা ছিল রোনাল ম্যাকডোনাল্ড এবং তারিখ দেখেছিল ১২ অগাস্ট ১৮৫৪ কলকাতা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Heritage Building: হাওড়ায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি যেন আস্ত সংগ্রহশালা

    Heritage Building: হাওড়ায় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি যেন আস্ত সংগ্রহশালা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অমর কথা সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটিও গল্প বা উপন্যাস পড়েননি, এমন বাঙালি বোধহয় বিরল। হুগলির দেবানন্দপুর, পরে বিহারের ভাগলপুর, সাবেক বার্মা অধূনা মায়ানমার, হাওড়া শহরের বাজেশিবপুর ইত্যাদি জায়গায় থেকেছেন শরৎবাবু। তবে তাঁর শেষ জীবনের আবাসস্থল হাওড়া জেলার পশ্চিম সীমান্তের গ্রাম সামতাবেড় (Heritage Building)। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৮, প্রায় বারো বছর তিনি কাটিয়েছিলেন নিজের কেনা এই বাড়িটিতে। জীবনের শেষ উপন্যাস বিপ্রদাস লিখেছিলেন এখানে বসেই।

    স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি (Heritage Building) দেখতে আসেন বহু মানুষ

    প্রচুর মানুষ এখানে আসেন তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি দেখতে। দেখতে আসেন বহু কালজয়ী গল্প-উপন্যাসের স্রষ্টার সাধনস্থল। ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার হেরিটেজ অ্যাক্ট আইন অনুসারে এটিকে ঐতিহ্য ভবন (Heritage Building) ঘোষণা করে। অমর কথা সাহিত্যিকের আবক্ষ মূর্তি উদ্বোধন করেন তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত। লাল টালিতে ছাওয়া দোতলা বার্মিজ প্যাটার্নের বাড়িটি তাঁর বার্মাতে থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। নিস্তব্ধ পরিবেশ যেন মন কেমনের অনুভূতি বহন করে। নীরব গাম্ভীর্য সমীহ আদায় করে নেয়। অনতিদূরেই রূপনারায়ণ নদীর তীর বেড়ানোর পক্ষে আদর্শ। কলকাতা বা অন্যান্য জায়গা থেকে অনেকেই আসেন এখানে পিকনিক করতে। মানুষ আসেন ঢিল ছোড়া দূরত্বে রূপনারায়ন নদীর তীরের পিকনিক স্পটে। এপারে হাওড়া ওপারে মেদিনীপুর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর জানুয়ারিতে শুরু হয় শরৎ মেলা। পানিত্রাস স্কুল মাঠে চলে এক সপ্তাহ ধরে।

    কীভাবে যাবেন?

    হাওড়া স্টেশন থেকে দক্ষিণ পূর্ব রেলপথে হাওড়া-খড়্গপুর শাখার দেউলটি স্টেশন থেকে মাত্র পনেরো-কুড়ি মিনিটের পথ সামতাবেড়। সরাসরি গাড়িতে করেও আসা যায়। সাঁতরাগাছি হয়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে। এ পথে টোটো চলে বেশি। স্টেশন থেকে টোটো বুকিং করেও আসা যায়। ঘুরে আসা যায় কাছাকাছি নাউপালা বাংলো। স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে শরৎবাবুর বাড়ি শরৎ কুঠী (Heritage Building) বলেই পরিচিত হয়ে গিয়েছে। পানিত্রাস রোড হয়ে পঞ্চায়েতের বানানো ঢালাই রাস্তা ধরে মিনিট পাঁচেক গেলেই শরৎচন্দ্রের বাড়ি।

    গড়ে উঠেছে সংগ্রহশালা

    ব্যক্তিগত উদ্যোগে শরৎচন্দ্রের ব্যবহৃত জিনিসপত্র নিয়ে একটি সংগ্রহশালা গড়ে উঠেছে এখানে। সাধারণত সকাল ৭টা থেকে ১২টা ও বিকেল ৪টে থেকে ৫.৩০ পর্যন্ত বাড়িটি সাধারণের জন্য খোলা থাকে। এখানে রয়েছে শরৎচন্দ্রের ব্যবহৃত বুক সেলফ, খাট, আরাম কেদারা, গড়গড়া, ভালভ্ সিস্টেম রেডিও, দেওয়াল ঘড়ি, রাধাকৃষ্ণের মূর্তি প্রভৃতি। রয়েছে হোমিওপ্যাথি ওষুধের শিশি যা তিনি গরীব মানুষের অসুখ-বিসুখে দিতেন। সবই বেশ ঝকঝকে তকতকে অবস্থায় রয়েছে। আর রয়েছে রোমাঞ্চকর অনুভূতি জাগানো সেই টেবিল ও চেয়ার। যেখানে বসেই সৃষ্টি হয়েছে মর্মস্পর্শী সাহিত্যের মণিমাণিক্য মহেশ, অভাগীর স্বর্গ, পল্লিসমাজ প্রভৃতি। বাড়ির ভিতরে তাঁর নিজের হাতে লাগানো পেয়ারা গাছ ও উল্টো দিকের জল টলটলে দিঘিটি হলো রামের সুমতির পটভূমি। গল্প অনুযায়ী রামের অতি প্রিয় এই গাছটি ও কার্তিক গণেশ খ্যাত দিঘির মাছ দুটির স্মৃতি যেন বইয়ের পাতা থেকে বাস্তবে উঠে আসে। পল্লিসমাজের রমেশ, রমা প্রভৃতি চরিত্রগুলি আজও যেন হেঁটে চলে ফেরে এখানে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গেও এই বাড়িটি (Heritage Building) জড়িয়ে রয়েছে। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অন্যতম আশ্রয়স্থল ছিল এই বাড়ি। এখানে একসময় এসেছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, বিপিনবিহারী গাঙ্গুলী, বাঘাযতীন প্রমুখ।

    সময় বের করে যাওয়াই যায়

    শহর কলকাতার যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু সময় বের করে আসাই যায় সামতাবেড় (Heritage Building)। খানিকটা গ্রাম্য পরিবেশ, সবুজের সমারোহ, নদীর ধার ভালোই লাগবে। মনে সাহিত্য ভাবনা না এলেও এক অন্য অনুভূতি যে হবেই তা হলফ করে বলা যায়। আর শরৎচন্দ্রের বাড়ি এলে তো নিজেকে হারিয়ে ফেলাই হবে! একটু অনিয়ম হবে? হোক না! শ্রীকান্তরা কোনকালেই বা নিয়ম মেনে চলতে চেয়েছে? শ্রীকান্তরা যে চিরকালের মূর্তিমান অনিয়ম!

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Vidyasagar: ২৯ জুলাই বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস! জানুন তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপলব্ধি

    Vidyasagar: ২৯ জুলাই বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবস! জানুন তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপলব্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৯ জুলাই ১৮৯১ সালে মহাপ্রয়াণ হয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের (Vidyasagar)। বাংলার নবজাগরণের অন্যতম ঋত্বিক ছিলেন তিনি। ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাঁর জীবনভর সংগ্রাম ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। বিধবা বিবাহ প্রচলনের তিনিই ছিলেন অন্যতম হোতা।  বোধোদয়, বর্ণপরিচয়, কথামালা, চরিতাবলী, ঋজুপাঠ প্রভৃতি অসংখ্য গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন ।  এছাড়াও রঘুবংশ, সর্বদর্শ সংগ্রহ, কুমারসম্ভব , কাদম্বরী, মেঘদূত, উত্তররামচরিত, অভিজ্ঞান শকুন্তলম প্রভৃতি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভগবতী দেবীর সন্তান পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (Vidyasagar) ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বিদ্যাসাগরের বর্ণনা

    কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগর (Vidyasagar) সম্পর্কে বলছেন, ‘‘গোপালের জীবনী লেখকের নিজের জীবনে, গোপালের সহিত কোনও কোনও অংশে এবং রাখালের সহিত বেশীরভাগ অংশের মিল পাওয়া যেত, প্রতিবেশী মথুর মণ্ডলের স্ত্রীকে রাগানোর জন্য যে প্রকার সভ্য বিগর্হিত আচরণ তিনি করেছিলেন, বর্ণপরিচয়ে সর্বজননিন্দিত রাখাল বেচারাও বোধহয় সেরুপ আচরণ কখনও করেনি। এই ক্ষীণতেজ দেশে আর কতগুলো রাখাল এবং তার জীবনী লেখকের আবির্ভাব ঘটলে বাঙালি জাতির শীর্ণ চরিত্রের অপবাদ ঘুচে যেতে পারতো।’’ কবিগুরুর আরও সংযোজন , ‘‘এই তার্কিক, দাম্ভিক, হৃদয়হীন জাতির প্রতি বিদ্যাসাগরের (Vidyasagar) ছিল এক তীব্র ঘৃণা , তিনি নিজের মধ্যে যা উপলব্ধি করতেন , চারপাশে আর কারও মধ্যে খুঁজে পেতেন না। তাঁর চারপাশের লোকজনেরা ভুরি পরিমাণ  বাক্য রচনা করতে পারত কিন্তু তিল পরিমাণ আত্মত্যাগ করতে পারতো না। বিদ্যাসাগরের (Vidyasagar) চরিত্র সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জয় লাভ করেছে । যে অবস্থায় মানুষ নিজের নিকট নিজেই প্রধান দয়ার পাত্র সে অবস্থায় তিনি অন্যদের দয়া করতেন।  স্কলারশিপের টাকার পুরোটাই ব্যয় করতেন সহপাঠীদের মিষ্টি খাওয়াতে। প্রচুর সম্পত্তি নিয়েও কোনও রাজপুত্র যা পাননি এই দরিদ্র পিতার দরিদ্র সন্তান পেলেন সেই সর্বোচ্চ সম্মান ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Indian Railways: ট্রেনের টিকিটের ৫ অঙ্কের নম্বরে লুকিয়ে কোন অজানা রহস্য?

    Indian Railways: ট্রেনের টিকিটের ৫ অঙ্কের নম্বরে লুকিয়ে কোন অজানা রহস্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ট্রেনে চড়তে কে না ভালোবাসে? আট থেকে আশি, সবারই ট্রেনের (Indian Railways) প্রতি এক অগাধ ভালোবাসা। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতে সব থেকে আরামদায়ক ও দ্রুততম মাধ্যমও হল ট্রেন। আর এই পরিষেবা ভারতীয়রা ১৭০ বছর ধরে পেয়ে আসছেন। এর মধ্যেই ঘটে গিয়েছে অনেক বিবর্তন, কয়লার ইঞ্জিন থেকে ডিজেল চালিত ইঞ্জিন আর এখন ইলেকট্রিক ইঞ্জিন। এই ভারতীয় রেলের এমন কিছু নিয়মবিধি আছে, যেগুলি হয়তো অনেকেরই অজানা। আসলে সাধারণ মানুষ সেগুলি নিয়ে ভাবার কথা মাথায়ও আনতে পারেন না। কিন্তু সেগুলি জানলে অবাকই হবেন। আজ আমরা এই প্রতিবেদনে এমনই অজানা তথ্য জানব ভারতীয় রেলের টিকিটের সম্বন্ধে। টিকিটের গায়ে থাকে একটি ৫ অঙ্কের নম্বর, যার মধ্যে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য তথ্য।

    ট্রেনের (Indian Railways) টিকিটের নম্বরের মধ্যে কী তথ্য লুকিয়ে থাকে?

    ট্রেনের টিকিট লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন রয়েছে অসংখ্য নম্বর। প্রত্যেকটি নম্বরের অনেক তাৎপর্য আছে। আপনার ভ্রমণ ও ট্রেন সংক্রান্ত প্রায় সমস্ত নথি এই টিকিটের মধ্যেই থাকে। তার মধ্যে যেটি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে, সেটি ৫ অঙ্কের একটি নম্বর। এই সংখ্যাটি আপনার গন্তব্যের সমস্ত খুঁটিনাটি বলে দিতে পারে। জেনে নেওয়া যাক এই রকমই কিছু লুকিয়ে থাকা তথ্য। 

    ট্রেনের (Indian Railways) টিকিটের মধ্যে থাকা 0 থেকে 9 নম্বরগুলির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। যদি আপনার টিকিটের প্রথমে 0 নম্বরটি থাকে, তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে সেটি কোনও স্পেশাল ট্রেন, অর্থাৎ এই ট্রেনটি কোনও হলিডে স্পেশাল বা গ্রীষ্মকালীন স্পেশাল বা অন্যান্য কোনও স্পেশাল ট্রেন হতে পারে। 
    আবার অপরদিকে আপনার টিকিটের প্রথম সংখ্যাটা যদি 1 অথবা 2 হয়, তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে এই ট্রেনটি দীর্ঘ পথ যাত্রা করে। আবার এই দুটি সংখ্যা থাকলে আপনাকে বুঝতে হবে এটি শতাব্দী, রাজধানী,গরিব রথ, দূরন্তর মতো বিশেষ শ্রেণির ট্রেন।

    আরও কিছু নম্বরের উদাহরণ, যা বিশেষ মানে বহন করে

    টিকিটের প্রথম সংখ্যাটি যদি 3 হয়, তবে জানতে হবে এই ট্রেনটি কলকাতা শহরতলির একটি ট্রেন (Indian Railways)। আবার মেট্রো শহর যেমন নয়াদিল্লি সেকেন্দ্রাবাদ, চেন্নাই ইত্যাদি শহরের শহরতলির ট্রেন হলে এতে টিকিটের প্রথম সংখ্যা 4 দিয়ে শুরু হবে। প্রথমে যদি 5 থাকে, তাহলে জানতে হবে এটি একটি যাত্রীবাহী ট্রেন। 6 ও 7 থাকলে সেটি যথাক্রমে MEMU ও DEMU ট্রেন। আর কিছু সংরক্ষিত ট্রেনের জন্য টিকিট নম্বর 8 দিয়ে শুরু হয়। আর মুম্বই সাবারবান ট্রেনের জন্য প্রথম সংখ্যাটি থাকে 9।

    দ্বিতীয় সংখ্যাটিরও বিশেষ অর্থ থাকে, কী সেটি?

    দ্বিতীয় সংখ্যাটি রেলের বিভাগ সম্বন্ধে আমাদের জানান দেয়। যদি কোনও রেলের (Indian Railways) প্রথম সংখ্যাটি 0, 1 অথবা 2 দিয়ে শুরু হয়, তাহলে বাকি 4 টি সংখ্যা রেলের জোন ও বিভাগ সমন্ধে আমাদের জানান দেয়। 
    সেন্ট্রাল রেলওয়ে, নর্থ সেন্ট্রাল রেলওয়ে, ওয়েস্ট সেন্ট্রাল রেলওয়ের জন্য দ্বিতীয় সংখ্যাটি থাকবে 0।
    পূর্ব মধ্য রেলওয়ে এবং পূর্ব রেলের জন্য থাকবে 3।
    উত্তর-উত্তর পশ্চিম এবং উত্তর মধ্য রেলওয়ের জন্য থাকে 4 নম্বর।
    জাতীয় পূর্ব ও উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের জন্য থাকে 5 নম্বর।
    দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম রেলওয়ের জন্য থাকে 6।
    দক্ষিণ-মধ্য এবং দক্ষিণ-পশ্চিম রেলওয়ের জন্য 7।
    সাউদার্ন ইস্টার্ন এবং ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের জন্য থাকে 8।
    উত্তর-পশ্চিম এবং পশ্চিম মধ্য রেলওয়েতে থাকে 9।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share