Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Navratri 2023: কাল থেকে শুরু হচ্ছে নবরাত্রি, কেন এবং কীভাবে পালন করা হয় জানেন?

    Navratri 2023: কাল থেকে শুরু হচ্ছে নবরাত্রি, কেন এবং কীভাবে পালন করা হয় জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আশ্বিন এবং চৈত্র মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথি থেকে পরের ন’দিন অবধি মা দুর্গার নয়টি অবতারের পুজো নবরাত্রি (Navratri 2023) নামে পরিচিত। আরও সরল ভাষায় বলতে গেলে শরৎকালের নবরাত্রি মহালয়ার পরদিন থেকে শুরু হয়। ন’দিন ধরে মা দুর্গার ন’টি অবতারের পুজো দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধুমধাম করে হয়। প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বী নয়, শিখ এবং জৈন সমাজের মধ্যেও নবরাত্রি পালনের রীতি দেখা যায়।

    এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মা দুর্গার এই ন’টি অবতার কী কী—

     ‘শ্রী বরাহপুরাণে’ হরিহর ব্রহ্মা ঋষির দ্বারা রচিত দেবী কবচে লেখা রয়েছে-
    প্রথমং শৈলপুত্রী চ
     দ্বিতীয়ম্ ব্রহ্মচারিণী ।
    তৃতীয়ং চন্দ্রঘণ্টেতি কুষ্মাণ্ডেতি চতুর্থকম্ ।।
    পঞ্চমং স্কন্দমাতেতি,
     ষষ্ঠম্ কাত্যায়নীতি চ।
    সপ্তমং কালরাত্রীতি মহাগৌরীতি চাষ্টমং।।
    নবমং সিদ্ধিদাত্রী চ
     নবদুর্গা প্রকীর্তিতাঃ ।।

    মাতা শৈলপুত্রী: নবরাত্রির (Navratri 2023) প্রথম দিনে মাতা শৈলপুত্রীর পুজো করা হয়। দেবীর নামের অর্থ “পাহাড়ের কন্যা”। তাঁর ভক্তদের বিশ্বাস, মাতা শৈলপুত্রীর আশীর্বাদ স্বরূপ সুস্থ, রোগমুক্ত জীবন পাওয়া যায়। মাতার নৈবেদ্যতে খাঁটি ঘি অর্পণ করা হয়। এই দেবীর আরাধনায় মূলাধার চক্র শুদ্ধ হয়।

    মাতা ব্রহ্মচারিণী: নবরাত্রির দ্বিতীয় দিনে এই দেবীর পুজো হয়। ব্রহ্মচারিণী মাতাকে খুশি করতে ভক্তরা চিনি নিবেদন করে থাকেন। বিশ্বাস মতে, মাতা তাঁর ভক্তদের দীর্ঘায়ু প্রদান করেন। এই দেবীর উপাসনার দ্বারা সাধিস্তান চক্র শুদ্ধ হয় হয় বলে ভক্তরা মনে করে।

    মাতা চন্দ্রঘণ্টা: তৃতীয় দিনে মাতা চন্দ্রঘণ্টার প্রতি ভক্তি নিবেদন করা হয়। এই দেবীর বাহন বাঘ। উগ্র মূর্তি এই দেবীকে ক্ষীর ভোগ অর্পণ করেন ভক্তরা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ করেন এবং যাবতীয় বাধা-বিঘ্ন দূর করেন।

    মাতা কুষ্মান্ডা: চতুর্থ দিনে মাতা কুষ্মান্ডার প্রতি ভক্তি নিবেদিত হয়‌। শাস্ত্র মতে, এই দেবী মহাবিশ্বের স্রষ্টা। তিনি তাঁর ভক্তদের জ্ঞানদানের দ্বারা বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটান এবং কর্মক্ষেত্রে জটিলতা দূর করেন। দেবীকে মালপোয়া ভোগ অর্পণ করা হয়।

    মাতা স্কন্দমাতা: নবরাত্রির (Navratri 2023) পঞ্চম দিনে মাতা স্কন্দমাতার আরাধনা করেন ভক্তরা। ভগবান কার্তিককে কোলে নিয়ে উপবিষ্ট এই দেবীর আশীর্বাদ পেতে ভক্তরা কলা নিবেদন করেন। দেবীর আশীর্বাদে ভক্তের জীবনে পরম সুখ ও শান্তি আসে বলে বিশ্বাস।

    মাতা কাত্যায়নী: ঋষি কাত্যায়নের কন্যা, শক্তির প্রতীক তথা যোদ্ধা দেবী কাত্যায়নী মাতার পুজো নবরাত্রির (Navratri 2023) ষষ্ঠ দিনে সম্পন্ন হয়। ভক্তদের তিনি শক্তি, ধর্ম ও জাগতিক সুখ প্রদান করেন বলে বিশ্বাস। তাঁকে ভক্তদের মধু নিবেদনের রীতি চালু রয়েছে।

    মাতা কালরাত্রি: সপ্তমী পুজো হয় এই দেবীর। দেবী ত্রিশূলধারী। মাতা কালরাত্রির আশীর্বাদে জীবনের সমস্ত কুপ্রভাব বিনষ্ট হয় বলে ভক্তদের ধারণা। মাতাকে গুড় নিবেদন করা হয়।

    মাতা মহাগৌরী: উজ্জ্বল সৌন্দর্যের প্রতীক এই দেবী অষ্টমীতে ভক্তদের দ্বারা আরাধিত হন। মাতা মহাগৌরীর একহাতে ত্রিশূল ও অপর হাতে ডমরু থাকে। তাঁর নৈবেদ্যতে নারকেল রাখার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস রয়েছে, মাতার আশীর্বাদ স্বরূপ ভক্তদের ভালো বিবাহ হয়।

    মাতা সিদ্ধিদাত্রী: নবরাত্রির (Navratri 2023) শেষদিনে পুজো হয় এই দেবীর। তিনি ভক্তদের জীবনে সমস্ত অশুভ প্রভাব বিনষ্ট করেন এবং সাফল্য আনেন বলে ভক্তদের ধারণা। মাতা সিদ্ধিদাত্রীকে ভক্তরা তিল নিবেদন করে থাকেন।

    দেশের বিভিন্নপ্রান্তে নবরাত্রি

    নবরাত্রি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন নামে পরিচিত রয়েছে। যেমন নভরাত্রি, নঔরাত্রি, নবরাহত্রি, নবরাতম, নঔরাতম ইত্যাদি। আচার, অনুষ্ঠান, রীতি, প্রথা মেনে পালিত হওয়া নবরাত্রিতে ভক্তরা ন’দিন যাবৎ উপবাস রাখেন। তার সঙ্গে ইন্দ্রিয় সংযমের বিধিও পালন করা হয়। এসময় তামসিক খাবার যথা মাছ, মাংস, ডিম ভক্তরা খান না। ক্ষৌরকর্ম করেন না, প্রত্যহ ভোরবেলায় উঠে স্নান করে দেবীকে ভক্তরা নৈবেদ্য নিবেদন করেন। সনাতন সংস্কৃতির ধারক, বাহক ও পালক হল এই নবরাত্রি ব্রত।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Mukutmanipur: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়েই হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে বাঁকুড়া জেলার মুকুটমণিপুর

    Mukutmanipur: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়েই হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে বাঁকুড়া জেলার মুকুটমণিপুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর বুকে যদি এক টুকরো স্বর্গ বলে কোনও জায়গা থেকে থাকে, তবে নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায় সেই জায়গাটির নাম “মুকুটমণিপুর” (Mukutmanipur)। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার এক ছোট্ট, নির্জন পর্যটন কেন্দ্র এই মুকুটমণিপুর। শুধুমাত্র আপন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়েই এই মুকুটমণিপুর হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে যে কোনও প্রকৃতি প্রেমিক পর্যটকের। একদিকে কংসাবতী বা কাঁসাই নদী, অপর দিকে ছোট ছোট পাহাড়ের সারি, অগভীর বনানী, নীল আকাশ—। আর কী চাই সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকের? আর যদি হয় পূর্ণিমা রাত, তাহলে তো আর কথাই নেই। চাঁদের রুপোলি আলোয় স্নান করা মুকুটমণিপুর তখন “কল্প লোকের গল্প গাথা”।

    পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা অপূর্ব স্থান

    একই সঙ্গে দেখে নেওয়া যায় কাঁসাই নদীর ওপর প্রায় ১১ কিমি দীর্ঘ ও ৩৮ মিটার উঁচু বাঁধটি, ৪ কিমি দূরে অম্বিকা নগরে দেবি অম্বিকার প্রাচীন মন্দির। ইচ্ছে হলে আর হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসুন প্রায় ৫৯ কিমি দূরে আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম “সুতান”, প্রায় ৪০ কিমি দূরে ঘন অরণ্য পরিবৃত “রানি বাঁধ”, প্রায় ৪৩ কিমি দূরে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা এক অপূর্ব সুন্দর স্থান “ঝিলিমিলি” প্রভৃতিও (Mukutmanipur)।

    কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন?

    যাতায়াত–কলকাতার ধর্মতলার শহিদ মিনার বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি বাস যাচ্ছে মুকুটমণিপুর (Mukutmanipur)। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২৪৪ কিমি। বাসে সময় লাগে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা। এছাড়া ট্রেনে বাঁকুড়া অথবা বিষ্ণুপুর এসে সেখান থেকে বাসে যাওয়া যায় মুকুটমণিপুর। দূরত্ব বাঁকুড়া ৫৬ এবং বিষ্ণুপুর ৮২ কিমি । প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি কলকাতা থেকে মুকুটমণিপুর গামী সব বাসই যাচ্ছে বাঁকুড়া জেলার দুটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বিষ্ণুপুর এবং জয়পুর ফরেস্টের ওপর দিয়ে ।
    থাকা-খাওয়া–মুকুটমণিপুরে বেশ কিছু হোটেল, লজ রয়েছে থাকা এবং খাওয়ার জন্য। আবার প্রয়োজন মনে করলে বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুরে থেকেও ঘুরে নেওয়া যায় মুকুটমণিপুর (Mukutmanipur)।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Birendra Krishna Bhadra: তাঁর কণ্ঠেই শোনা যাবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, জানুন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জীবনকথা

    Birendra Krishna Bhadra: তাঁর কণ্ঠেই শোনা যাবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, জানুন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জীবনকথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  তাঁর কণ্ঠস্বরই বার্তা নিয়ে আসে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের। রেডিওতে এবারও ভোরবেলায় বেজে উঠবে “আশ্বিনের শারদপ্রাতে…. । বোঝা যায়, কৈলাস থেকে মায়ের আসার সময় হয়ে গিয়েছে। মূলত এই কণ্ঠস্বরই পুজোর আমেজ, গন্ধ, আনন্দ সব বয়ে আনে। তিনি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের (Birendra Krishna Bhadra) স্তোত্র পাঠ ছাড়া যেন দুর্গাপুজো সম্পূর্ণই হয় না।

    বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্ম ও বংশ পরিচয়

    ১৯০৫ সালের ৪ অগাস্ট উত্তর কলকাতায় আহিরীটোলায় জন্মগ্রহণ করেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র (Birendra Krishna Bhadra)। তাঁর পিতার নাম রায়বাহাদুর কালীকৃষ্ণ ভদ্র ও মা সরলাবালা দেবী। জানা যায়, ঠাকুমা যোগমায়া দেবীর কেনা ৭, রামধন মিত্র লেনে উঠে আসেন তাঁর পরিবারবর্গ। তাঁর পিতা কালীকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন বহুভাষাবিদ। তিনি ১৪টি ভাষা জানতেন বলেও শোনা যায়। বাংলা সাহিত্য জগতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯২৭ সালে তিনি “রায়বাহাদুর” খেতাব পান। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ১৯২৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট ও ১৯২৮ সালে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক হন।

    কর্মজীবনে প্রবেশ

    বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র (Birendra Krishna Bhadra) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি বেতার সম্প্রচারক, নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক। দীর্ঘদিন অল ইন্ডিয়া রেডিও-য় বেতার সম্প্রচারকের কাজ করেছেন। কলকাতার আকাশবাণীর অত্যন্ত সুপরিচিত মুখ তিনি। রেডিও ছিল তাঁর প্রাণ। তিনি একাধিক নাটক রচনা ও প্রযোজনাও করেন। এমনকি নিজে পরিচালনা ও অভিনয় করেছেন। ১৯৫৫ সালে ‘নিষিদ্ধ ফল’ নামে একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও রচনা করেছিলেন তিনি।

    ‘মহিষাসুরমর্দিনী’

    তাঁর সর্বাধিক পরিচিত বেতার সম্প্রচার হল ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। এই অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা করেছিলেন বাণীকুমার ভট্টাচার্য এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক। এই অনুষ্ঠানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ভাষ্য ও শ্লোকপাঠ প্রত্যেক বাঙালির মন ছুঁয়ে যায়। সেই ১৯৩১ সাল থেকে আজও প্রতি বছর ‘মহালয়া’-র দিন ভোর চারটের সময় কলকাতার আকাশবাণী থেকে এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয়ে আসছে। অর্থাৎ ২০২৩ সালে ৯২ বছর পূর্তি হবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-এর।

    ১৯৭৬ সালে উত্তমকুমারের কন্ঠে শোনা যায় মহিষাসুরমর্দিনী

    এত প্রতিভার পরেও তাঁর জীবনে খারাপ সময় আসেনি, এটা বলাটা বোধহয় ভুল হবে। সালটা ১৯৭৬। হঠাৎই, আকাশবাণী কর্তৃপক্ষের ইচ্ছায় চিরাচরিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের (Birendra Krishna Bhadra) পরিবর্তে বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা উত্তমকুমারকে দিয়ে অন্য একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করানোর কথা ঠিক হল। জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে উত্তমকুমারের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। সমালোচনার ঝড়, বিক্ষোভে পুনরায় সে বছর ষষ্ঠীর দিনই আবার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সেই চিরাচরিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্প্রচার করা হয়। তারপর থেকে  আকাশবাণী কখনও তাঁর কণ্ঠস্বর বদল করার কথা ভাবেনি। 

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: বৈকুন্ঠপুর রাজ পরিবারের পুজোর ইতিহাসে নরবলি! প্রতিমার গায়ের রং তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা

    Durga Puja 2023: বৈকুন্ঠপুর রাজ পরিবারের পুজোর ইতিহাসে নরবলি! প্রতিমার গায়ের রং তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়িতে প্রাচীন ঐতিহ্য মেনেই জন্মাষ্টমীর পর দিন দুর্গামণ্ডপে কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর শুরু হয়। এই বছর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো ৫১৩ বছরে পদার্পণ করবে। রাজ পরিবারের কূলপুরোহিত শিবু ঘোষাল জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নিরঞ্জনের পর প্রতিমার মূল কাঠামোকে জল থেকে তুলে রাজবাড়ির মণ্ডপে রেখে দেওয়া হয়। সেই কাঠামোকেই পুজো (Durga Puja 2023) করা হয়। কাঠামো পুজোর পর নান্দোৎসব এবং দধিকাদা খেলা হয়। কাদা খেলার মাটি দিয়েই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়।

    ইতিহাসে নরবলির কথা

    বৈকুন্ঠপুর রাজ পরিবারের দুর্গাপুজোর ইতিহাসে নরবলির কথা শোনা যায়। রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা শিষ্য সিংহ পাঁচশো বছর আগে জঙ্গলে শিকারে গিয়ে দেবীর পুজো করার জন্য নরবলির প্রয়োজন মনে করেন। তাঁদেরই এক সঙ্গীকে বলি দিয়ে সেই রক্ত দিয়ে দুর্গার পুজো (Durga Puja 2023) করা হয়েছিল। সেই থেকে প্রতিমার গায়ের রং তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা। এখন চালের মণ্ডকে মানুষের প্রতিকৃতি বানিয়েই প্রতীকী নরবলি দেওয়ার রেওয়াজ আছে।

    শূন্যে রাইফেলের গুলি 

    ইংরেজি ১৫১৫ সালে বৈকুন্ঠপুর রায়কত রাজ এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা শিষ্য সিংহ নরবলি দিয়ে মৃন্ময়ী মা ভগবতীর পুজোর (Durga Puja 2023) সূচনা করেছিলেন। শিষ্য সিংহের ভাই বিশ্ব সিংহ ছিলেন কোচবিহার রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। রাজবাড়ির পুজাকে ঘিরে শহর ও শহরতলির মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। স্মরণাতীত কালের প্রথা মেনেই রাজবাড়ির দিঘিতে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। এমনকি পুরানো প্রথা মেনে শূন্যে ১ বা দুই রাউন্ড রাইফেলের থেকে গুলি ছোঁড়া হয়। রাজবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জনের পরেই শহরের অন্যান্য প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

    একচালার প্রতিমা

    দেবী দুর্গা এখানে একচালা (Durga Puja 2023)। এই একচালার মধ্যেই দেবী বিগ্রহের সাথে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী, দেবীর বাহন থাকে। দেবীর বাম দিকে সহচরী জয়া, ডান দিকে বিজয়া একচালার বাইরে থাকেন। ডানদিকে শিব, ব্রহ্মা এবং ছোট সিংহাসনে ঘটের সামনে বিষ্ণু বা বৈকুন্ঠনাথ অবস্থিত থাকেন। রাজ পরিবারের সদস্য প্রণত বসু বলেন, রাজ বংশের এই পুজো অতীতের সমস্ত রীতি রেওয়াজ মেনেই নিষ্ঠার সাথে করা হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: দুর্গাপুরের হাকিম বাড়ির পুজোয় নবপত্রিকা আনা হয় আগমনী গান গেয়ে

    Durga Puja 2023: দুর্গাপুরের হাকিম বাড়ির পুজোয় নবপত্রিকা আনা হয় আগমনী গান গেয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বৃটিশ ভারতে একজন ইংরাজি শিক্ষায় শিক্ষিত যুবক। নেমে পড়েন বৃটিশদের সঙ্গে ঠিকাদারি ব্যবসায়। প্রচুর অর্থ আয়ের পর তিনি মাত্র ৩৯ বছর বয়সে জমিদারি কেনেন। গড়ে তোলেন বড় দালান আর দুর্গামন্দির। ১২৭৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দেবী দুর্গার। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের দেবী দুর্গা এবার ১৫৬ বছরে পা দিল। গোপালপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার সে যুগ থেকে এ যুগ খুবই অভিজাত এবং শিক্ষিত পরিবার। বৃটিশ ভারতে সেই আমলে আসানসোলে আদালত ছিল। সেই সময় ভারতীয় বিচারকদের সাম্মানিক ভাতা দেওয়া হত। রামশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের মধ্যম সন্তান সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্য্যায় ছিলেন সেই আমলের সাম্মানিক বিচারক। তাই গোপালপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপুজোকে হাকিম বাড়ির পুজো বলা হয়। অভিজাত এই পরিবারের ছেলেমেয়েরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বাস করেন কর্মসূত্রে। তবে পুজোর চারদিন তাঁরা ফিরে আসেন নিজের গ্রামে, নিজেদের পুজোর (Durga Puja 2023) আনন্দ উপভোগ করতে।

    একই হাঁড়িতে ভোগ ১৫৬ বছর ধরে (Durga Puja 2023)

    রামশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় যে প্রথায় পুজো (Durga Puja 2023) করতেন, আজও সেভাবেই পুজো চলে। শরীকী প্রথায় ভাগ হয়নি এই পুজো। একই হাঁড়িতে ভোগ হয় একসঙ্গে ১৫৬ বছর ধরে। মাটির থালা-বাটি-গ্লাসে ভোগ দেওয়া হয় দেবী দুর্গাকে। ১০৮ পদ্ম দেওয়া হয় অষ্টমীর মাহেন্দ্রক্ষণে। এখনও জমিদারি প্রথা মেনে অষ্টমীর মাহেন্দ্রক্ষণে বলির সময় বন্দুক চালানো হয়। ১৫৬ বছর আগে শুরু হয়েছিল আগমনী গান গেয়ে নবপত্রিকা আনা। আজও সেই প্রথা রয়েছে। কবি নীলকন্ঠ মুখোপাধ্যায় রচিত আগমনী গান গেয়ে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের নবপত্রিকা আনা হয়। লক্ষ্মী মন্দিরে স্থাপনের পরেই দেবীর নবপত্রিকা মন্দিরে নিয়ে আসা হয়।

    এই প্রজন্ম বলি প্রথার বিরুদ্ধে (Durga Puja 2023)

    আগে নবমীর দিনে (Durga Puja 2023) গ্রামের তিন দেবতার কাছে ছাগ বলি দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এই প্রজন্ম বলি প্রথার বিরুদ্ধে বলে। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে দেবীর উদ্দেশ্যে বলি দেওয়া হয় চালকুমড়ো। দশমীর দিনে সিঁদুর খেলার প্রচলন রয়েছে। দেবীকে নিরঞ্জনের সময় বরণ করেন পরিবারের গৃহবধূরা। আগে দেবীর নিরঞ্জনের সকালে অর্থাৎ দশমীর সকালে নীলকন্ঠ পাখি ছাড়া হত কৈলাসে বার্তা দেওয়ার জন্য, উমা বাপের বাড়ি থেকে শিবের কাছে ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন নীলকন্ঠ পাখি আর মেলে না, তাই সেই প্রথা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। 
    বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য সিদ্ধার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “১৫৫ পার হয়ে এবার ১৫৬ বছরে পা দিয়েছে রামশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত দেবী দুর্গা এবং এখনও যৌথ পারিবারিক পুজো হয়ে আজও জেলার মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে।”

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: রায় জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হবে শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়ে

    Durga Puja 2023: রায় জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হবে শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শূন্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালিয়ে রায় জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা করা হয়। ২২৩ বছর ধরে চলে আসা এই রেওয়াজ আজও অব্যাহত মালদা জেলার পূর্বপ্রান্তে হবিবপুর থানার সিঙ্গাবাদ তিলাসন এলাকায় সিঙ্গাবাদ জমিদার বাড়িতে (Durga Puja 2023)। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের ফলে এই জমিদারির সিংহভাগ অংশ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, তথা বর্তমান বাংলাদেশে পড়লেও আজও ভারতীয় ভূখণ্ডে সীমান্তের কাঁটাতার থেকে ৫০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত বিশাল রায় জমিদার বাড়ি। সময়ের সাথে জমিদারি চলে গিয়েছে। সুবিশাল বাড়ির বিভিন্ন অংশ জুড়ে ধরেছে ফাটল। কিন্তু এখনও অক্ষুন্ন রয়েছে ঐতিহ্য।

    বিপ্লবীদের পরামর্শে দেবী দুর্গার আরাধনা (Durga Puja 2023)

    সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে ডালের ব্যবসা করতে বাংলায় এসেছিলেন অবোধনারায়ণ রায়। মালদা জেলার হবিবপুর থানার সিঙ্গাবাদ স্টেশনে ট্রেনে করে এই ডাল নিয়ে আসতেন তিনি। এরপর নৌকাপথে সেই ডাল ঢাকা, রাজশাহী সহ কলকাতার খিদিরপুর বন্দরে বিক্রির উদ্দেশ্যে যেত। ব্যবসার সুবিধার জন্য এই এলাকায় ব্রিটিশ সরকারের কাজ থেকে তৎকালীন প্রায় তিন হাজার টাকায় জমিদারিত্ব ক্রয় করেন তিনি। এরপর এই এলাকায় শুরু করেন বসবাস। পরবর্তীতে তিনজন বিপ্লবীর পরামর্শে দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। ২২৩ বছর ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জমিদারির সিংহভাগ অংশ চলে যায় সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে অর্থাৎ বাংলাদেশে বাকি অংশ রয়ে যায় ভারতবর্ষে।

    ব্রিটিশ শাসকের আমল থেকেই জনপ্রিয় (Durga Puja 2023)

    ব্রিটিশ শাসকের আমল থেকে এই রায় জমদার বাড়ির পুজো বেশ জনপ্রিয়। হাজার হাজার মানুষ এই পুজোতে অংশগ্রহণ করেন। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও সীমান্তের ওপর থেকে মানুষ আসতেন এই পুজো দেখতে। কিন্তু বর্তমানে এখন সেই রকম পরিস্থিতি নেই। তবে রয়ে গেছে ঐতিহ্য। রয়েছে ইতিহাস। প্রাচীন এই জমিদার বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরলেও এখনও দেওয়ালে রয়েছে বিশাল কুমিরের ছাল, যা পূর্বপুরুষরা শিকার করেছিলেন। এখনও এই পুজো (Durga Puja 2023) উপলক্ষে চারদিন থাকে পাত পেড়ে খাওয়ার ব্যবস্থা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই সীমান্তবর্তী গ্রামে এই পুজোতে অংশগ্রহণ করতে আসেন মানুষ।

    ইতিহাসের সাক্ষী

    এই জমিদারির বংশধর রাকেশকুমার রায় জানান, এই বছরও চিরাচরিত প্রথা মেনে সপ্তমীর দিন পুনর্ভবা নদী থেকে পুজোর (Durga Puja 2023) জন্য জল নিয়ে আসা হবে। সেই সময় পাঁচ রাউন্ড শূন্যে গুলি চালিয়ে এই পুজোর সূচনা হয়, এই বছরও তা হবে। এই পুজোতে ভোগ রান্না থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু করেন উত্তরপ্রদেশের মৈথিল ব্রাহ্মণরা। দশমীর দিন এই তিলাসন গ্রামের পাশে পুনর্ভবা নদীতেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। তিনি আরও জানান, তাঁর পূর্বপুরুষের আমন্ত্রণে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এই পুজোতে অংশগ্রহণ করতে সিঙ্গাবাদ স্টেশন পর্যন্ত এসেছিলেন। কিন্তু জাতীয় কংগ্রেসের এক জরুরি বৈঠকের সূচনা পেয়েই মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে হয় তাঁকে। ইতিহাসের অনেক সাক্ষী এই পুজো আজও সমাদরে পালিত হয়ে আসছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: শঙ্খচিলের ডাকে হত অষ্টমীর বলি! ভোগে কাঁচকলা দিয়ে শুক্তো আর কচুশাক 

    Durga Puja 2023: শঙ্খচিলের ডাকে হত অষ্টমীর বলি! ভোগে কাঁচকলা দিয়ে শুক্তো আর কচুশাক 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ধমান জেলার বুদবুদ থানার খাণ্ডারী গ্রাম। এখানকারই অভিজাত পরিবার চট্টরাজ পরিবার। এই পরিবারে দেবী দুর্গার পুজো (Durga Puja 2023) হয় মহা ধুমধাম করে। আজও প্রাচীন রীতি মেনে দুর্গার আরাধনা হয় চট্টরাজ পরিবারে। খাণ্ডারীর চট্টরাজ পরিবারের দেবী দুর্গার প্রতিষ্ঠা হয় ১৫২৬ সালে। এ বছর চট্টরাজ পরিবারের দেবী দুর্গা ৪৯৭ বছরে পা দিল। সাবেক বর্ধমান জেলার (বর্তমানে দুই বর্ধমান জেলা) প্রাচীন দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম একটি দুর্গাপুজো হল খাণ্ডারী গ্রামের চট্টরাজ পরিবারের দুর্গাপুজো। পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন চট্টরাজ পরিবারের বৈদ্যনাথ চট্টরাজ।

    অষ্টমীর বলির প্রথা (Durga Puja 2023)

    চট্টরাজ পরিবারের দেবীর আরাধনায় (Durga Puja 2023) অষ্টমীর বলির একটি প্রথা ছিল। প্রাচীন কালের এই প্রথা এখন আর মেনে চলা সম্ভব হয়নি। কারণ, আকাশে এখন আর শঙ্খচিল দেখা যায় না। প্রাচীন কালে আকাশে উড়ত শঙ্খচিল। আর সেই শঙ্খচিল ডাকলে তবেই অষ্টমীর মাহেন্দ্রক্ষণে বলি হত। এখন আর অবশ্য সেই প্রাচীন প্রথা মেনে চলা সম্ভব হয় না।

    ভোগেও ব্যতিক্রমী ছোঁয়া (Durga Puja 2023)

    চট্টরাজ পরিবারের দেবীর আরাধনায় ভোগের মধ্যেও বেশ ব্যতিক্রমী ছোঁয়া রয়েছে। চট্টরাজ পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, বহুকাল আগে কোনও এক অজ্ঞাত ব্যক্তি পুজোর সময় দেবী দুর্গার মন্দিরের সামনে একটি ছাগল, এক কাঁদি কাঁচকলা আর কচু শাক রেখে দিয়ে যায়। অদ্ভুদভাবে চট্টরাজ পরিবারের এক কর্তা দেবীর স্বপ্নাদেশ পান, নবমীর দিন ছাগলটিকে বলি দিতে হবে এবং এবং সেই ছাগলের মাংস ভোগে দিতে হবে ও তার সাথে কাঁচকলা দিয়ে শুক্তো আর কচুশাক রান্না করে দিতে হবে। নবমীর দিন দেবীর নির্দেশ মতো ছাগ বলি দেওয়া এবং তার মাংস ভোগে দেওয়া এবং কাঁচকলা দিয়ে শুক্তো ও কচু শাক দেওয়া হয়। সেই প্রাচীন প্রথা (Durga Puja 2023) আজও মেনে চলে চট্টরাজ পরিবার। সিঁদুর খেলারও রেওয়াজ রয়েছে এই পরিবারের।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: জনাইয়ের চৌধুরী বাড়ির পুজো ৩৫০ বছরের পুরনো, দেবীর এখানে মাত্র চারটি হাত!

    Durga Puja 2023: জনাইয়ের চৌধুরী বাড়ির পুজো ৩৫০ বছরের পুরনো, দেবীর এখানে মাত্র চারটি হাত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো, যে পুজোর মধ্যে আড়ম্বর কম, নিষ্ঠা বেশি। যে পুজোগুলিকে ঘিরে ইতিহাস জড়িয়ে আছে পরতে পরতে। এরকম একটি বনেদি বাড়ি হল হুগলির জনাইয়ের অন্তর্গত বাকসা গ্রামের চৌধুরী বাড়ি। প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো এই বাড়ি। পুজোর বয়সও প্রায় সমান (Durga Puja 2023)। জনশ্রুতি, নিশিপদ্ম ছায়াছবিতে উত্তম কুমারের লিপে মান্না দে’র সেই বিখ্যাত গান, “শুনেছি চৌধুরী বাড়িতে নাকি বসেছে আসর, এসেছে কলকাতারই নামকরা সেই নট্ট কোম্পানি” রচিত হয়েছিল এই চৌধুরী বাড়িকে ঘিরেই। রাধগোবিন্দ এই চৌধুরী বাড়ির কুলগুরু হওয়ায় দুর্গাপুজোর পাশাপাশি দোলযাত্রাও প্রসিদ্ধ। আর এই দোলযাত্রাকে ঘিরে গ্রামে মেলা থেকে শুরু করে কলকাতার বিখ্যাত যাত্রাদল নিয়ে অনুষ্ঠান করা প্রথম থেকেই এই বাড়ির রেওয়াজ।

    কাশী পৌঁছনোর আগেই মায়ের স্বপ্নাদেশ (Durga Puja 2023)

    লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও ইন্দিরা গান্ধীর আমলে দেশের অর্থমন্ত্রী শচিন্দ্র চৌধুরী ছিলেন এই চৌধুরী বংশেরই সন্তান। এই বাড়ির দুর্গাপুজোর বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। এখানে দেবীর দশ নয়, চার হাত। এখানে পুজোর কোনও উপাচার মহিলারা করতে পারেন না। সবই পুরুষরা করেন। এই বাড়ির এক বংশধর সুশান্ত চৌধুরী জানান, তাঁদের পূর্ব পুরুষ জগৎনারায়ণ চৌধুরী বর্ধমান রাজার দেওয়ান ছিলেন। বর্ধমান মহারাজাই এই বাকসা গ্রামে শতাধিক বিঘা জমি জগৎনারায়ণকে উপহার দেন। জগৎনারায়ণ ঠিক করেন, তিনি সেখানে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023) করবেন। কীভাবে মূর্তি হবে মায়ের, সেই ধারণা নিতিই তিনি কাশী রওনা হন। কিন্তু কাশী পৌঁছনোর আগেই তিনি মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। এরপর তিনি বাকসা ফিরে এসে মায়ের পুজো চালু করেন।

    চালচিত্রে রাধাগোবিন্দের স্থান (Durga Puja 2023)

    যেহেতু তাঁরা রাধাগোবিন্দের ভক্ত, তাই চালচিত্রের উপর জয়া-বিজয়ার জায়গায় রাধাগোবিন্দের স্থান দেওয়া হয়। আসলে এই পুজো ছিল শাক্ত ও বৈষ্ণব মতের মেলবন্ধন। পুজোর শুরুতে পাঁঠাবলিও হত। কিন্তু এখন ফল বলি হয়। সুদূর কসবা থেকে এসেছিলেন রঞ্জনা বসু। দীর্ঘদিন ধরে এই বাড়ির পুজো (Durga Puja 2023) তিনি দেখে আসেন। পুজোর প্রাক প্রস্তুতি দেখতে অনেকের সঙ্গে তিনিও আসেন।  

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: মহিলা পরিচালিত পুজোর প্রতিমাও গড়ছেন মহিলা শিল্পী

    Durga Puja 2023: মহিলা পরিচালিত পুজোর প্রতিমাও গড়ছেন মহিলা শিল্পী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বয়সে নবীন হলেও হাওড়ায় বেশ কয়েক বছর ধরে নজর কেড়েছে চক্রবেড়িয়া অজানা সঙ্ঘের মহিলা পরিচালিত দুর্গাপুজো (Durga Puja 2023)। কিন্তু এবার আরও নজরকাড়া বিষয় হল, তাদের পুজোয় ঠাকুরও গড়ছেন এক মহিলা শিল্পী, নাম মধুমিতা রায়। ডায়মন্ড হারবারের মধুমিতা বিবাহ সূত্রে গত ৩৫ বছর হাওড়ার বেতাইতলার বাসিন্দা। স্বামীর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে প্রতিমা গড়েন। চক্রবেড়িয়া অজানা সঙ্ঘের পুজো মহিলা পরিচালিত বলে অধিকাংশ কাজ তিনি নিজের হাতেই করছেন। তাঁদের কাজে এখন পাশে পেয়েছেন জামাইকেও। মধুমিতা বলেন, আমার স্বামী ও জামাই ছাড়া শিল্পীরা আছেন। সংসারের অন্য সব কাজ করার মধ্যে যতটা সময় পাই, ঠাকুর গড়ার কাজ করি। ব্যবসাটাও পুরোটাই আমি সামলাই।

    প্রতিমার মুকুট ও সাজ দক্ষিণ ভারতীয় ধাঁচে (Durga Puja 2023)

    চক্রবেড়িয়া অজানা সঙ্ঘে দীর্ঘদিন ধরে সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, গত বছর আমরা প্রথম থিম পুজো করি। তবে প্রতিমায় কোনও বদল হয়নি। এবারে অবশ্য ঐক্যের বার্তা দিতে আমরা প্রতিমার মুকুট ও সাজ করছি দক্ষিণ ভারতীয় ধাঁচে। সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র শ্রীমানী বলেন, দুর্গাপুজো এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।দক্ষিণ ভারতের মমল্লাপুরমও এই তালিকায় বহু দিন ধরে রয়েছে। সেখানে যে দেবী দুর্গার মূর্তি রয়েছে, তাঁর সাজ দেখেই এমন ভাবনা। তবে আজকাল অনেক জায়গাতেই দক্ষিণী সাজ চোখে পড়ে। এবার আলাদা কোনও থিম না হলেও মহাদেবের বিশাল মূর্তি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মূর্তি তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবারের ভাবনা জটাধারায়।

    সঙ্ঘের সহ-সম্পাদক বরুণ সামন্ত বলেন, গতবার আমাদের পুজো (Durga Puja 2023) উদ্বোধন করেছেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সন্ন্যাসী। এবারেও কোনও সন্ন্যাসী এই পুজো উদ্বোধন করবেন বলে স্বামী প্রণবানন্দ প্রতিষ্ঠিত আশ্রম থেকে জানানো হয়েছে। মণ্ডপে প্রতিমা আসে মহালয়ার সকালে। পুজোর উদ্বোধন হয় পঞ্চমীতে। তারপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে নামী শিল্পীদের পাশাপাশি থাকেন স্থানীয় শিল্পীরাও।

    পশুবলি দেওয়া হয় না

    চক্রবেড়িয়া অজানা সঙ্ঘের পুজো হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। পুজো (Durga Puja 2023) চলাকালীন চণ্ডীপাঠ হয়। বলি হলেও এখানে পশুবলি দেওয়া হয় না। সন্ধিপুজোয় মণ্ডপ আলোকিত করা হয় তেলের আলোয়। আর চারদিন ধরে চলে আড্ডা। কারণ রান্নাবান্নার বালাই থাকে না। কুপন সিস্টেমে একেবারে বাঙালি খাওয়াদাওয়া। সপ্তমীতে মাছ, অষ্টমীতে লুচি, নবমীতে পাঁঠার মাংস, দশমীতে খিচুড়ি। সঙ্ঘের সিঁদুরখেলাও দেখার মতো। মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষদেরও দেখায় যায় সিঁদুর মেখে ঘুরতে।
    পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। তারই মধ্যে আগামী ৮ অক্টোবর ডেঙ্গি সচেতনতার জন্য সঙ্ঘ থেকে র‌্যালি বের হওয়ার কথা। তার ব্যানারও তৈরি করা হচ্ছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2023: সেন বাড়ির পুজোয় দেবীর ভোগের রান্নায় ব্যবহার করা হয় না তেল, হলুদ ও লবণ!

    Durga Puja 2023: সেন বাড়ির পুজোয় দেবীর ভোগের রান্নায় ব্যবহার করা হয় না তেল, হলুদ ও লবণ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্গি মারাঠি আক্রমণে জর্জরিত হয়ে সেন বংশের কোনও এক বংশধর শ্যামচরণ সেন/গোবিন্দচন্দ্র সেন তাঁদের আদি নিবাস চক ইসলামপুর ত্যাগ করে বহরমপুরে চলে আসেন। পরবর্তীকালে অধুনা বহরমপুর মিউনিসিপ্যালিটির অন্তর্গত তিন নম্বর গিরিজা চক্রবর্তী লেনে প্রতিষ্ঠিত হয় সেন বাড়ির পুজো (Durga Puja 2023)। আনুমানিক ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে (সময়টি অনেক আগেও হতে পারে) সেন বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন রাধাকৃষ্ণ সেন। যদিও এক্ষেত্রে কাণ্ডারির ভূমিকা নেন তাঁরই বাল্যবিধবা কন্যা বিন্দুবাসিনী দেবী। তবে বিন্দুবাসিনী দেবী অনেক আগে থেকেই এই বাড়িতে জগদ্ধাত্রী পুজো করতেন।

    পুজোর বৈশিষ্ট্য

    পরম্পরা অনুসারে সোজা রথের দিন পুরোহিত ও কারিগর দিয়ে প্রতিমার কাঠামোতে গঙ্গামাটি লেপানোর মাধ্যমে দুর্গাপুজো শুরু হয়। প্রতিমা গড়া হয় বাড়ির ঠাকুর দালানে। ভাদ্র মাসে সেন বাড়িতে প্রতিমা নির্মাণ বন্ধ থাকে। এটা এই বাড়ির রীতি তথা নিয়ম। সেন বাড়ির মূল পুজো (Durga Puja 2023) শুরু হয় ষষ্ঠীতে। এই সময় বাড়ির সধবা বউ কলস প্রদর্শন করেন। এরপর হয় দেবীর বোধন ও অধিবাস। ষষ্ঠীর দিন বাড়ির ঠাকুর দালানে টাঙানো হয় রচনা। সাত রকম ফল, বেলপাতা ও সোলার কদম ফুল দিয়ে তৈরি রচনা সেন বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সেন বাড়ির সন্ধিপুজো বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে। ১০৮ পদ্ম, ১০৮ ঘের প্রদীপ এবং ১০৮ বেলপাতা দেবীকে নিবেদন করা হয়। আগে সন্ধির শুরু ও সমাপন হত শূন্যে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে। যদিও আজ সেই প্রথা পারিবারিক কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেন বাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণব মতে, তাই পশুবলি নিষিদ্ধ। তবে নবমীতে আখ ও চালকুমড়ো বালি দেওয়া হয়। সেন বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য দশমীর অপরাজিতা পুজো, ঘট বিসর্জন ও দর্পণের বিসর্জনের মাধ্যমে পুজোর সমাপ্তি ঘটে। দশমীর বিকালে স্থানীয় মুটেদের ঘাড়ে চেপে বাড়ির দিকে মুখ করে দেবী বিসর্জনের জন্য যাত্রা করে।

    প্রতিমার বৈশিষ্ট্য

    সেন বাড়ির একচালার সাবেকি প্রতিমা (Durga Puja 2023)। তবে তথাকথিত খাস বাংলা প্রতিমা নয়, এটাই এ বাড়ির রীতি। সেন বাড়ির মা দুর্গা দ্বিতীয় ডানহস্তের পরিবর্তে শেষ হস্তে মহিষাসুরকে ত্রিশূল দ্বারা বধ করেন। দেবী দুর্গা একই কাঠামোতে সপরিবারে বিরাজমান। সেই ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে যে শাল কাঠের কাঠামোতে পুজো শুরু হয়েছিল, আজও সেই কাঠামোতেই পুজো হয়ে আসছে। যদিও কালের নিয়ম ও সংস্কারের প্রয়োজনে বেশ কয়েকবার কাঠামোটির সংস্কার করা হয়েছে।

    ভোগের বৈশিষ্ট্য

    সেন বাড়ির ভোগ হয় নিরামিষ। বাড়িতে দেবীকে কখনই রান্না করা অন্য ভোগ দেওয়া হয় না। পরবর্তীতে লুচি, তরকারি, পাঁচ ভাজা, পাঁপড় ও বাড়ির তৈরির নারকেল নাড়ু নিবেদন করা হয়। আর নবমীতে পাকা কলার বড়া, পটল পোড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন ভোগের তালিকায় থাকে দই, ছানা, মিছরি, আদা, লেবু ও পান। দেবীর ভোগের রান্নায় কোনও রকম তেল, হলুদ ও লবণ ব্যবহার করা হয় না। তেলের পরিবর্তে গাওয়া ঘি ব্যবহার করা হয়, আর লবণের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় সন্দক লবণ। ষষ্ঠী থেকে নবমী (Durga Puja 2023) প্রতিদিন ১৭ টি করে নৈবেদ্য দেওয়া হলেও সন্ধি পুজোর সময় দেবীকে ১৯ টি নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। যদিও জমিদারি আমলে দেবীকে ১৭ রকমের চালের নৈবেদ্য চূড় করে দেওয়া হত। তবে আজও নৈবেদ্য প্রথমে কোনও ব্রাহ্মণের বাড়ি আগে যায়।

    পুজোর মাহাত্ম্য

    সেন বাড়ির ঠাকুর অত্যন্ত জাগ্রত। আজ থেকে বহু বছর আগে সপ্তমীর ঘট ভরে ফেরার পথে কোনও ভাবে ভুলক্রমে পুরোহিতের পা স্পর্শ করে। ওই দিনই পুরোহিতের মৃত্যু ঘটে, পুনরায় নতুন পুরোহিত দিয়ে পুজো শুরু হয়। অতীতে দুবার দেবীর কাঠামো ভাগীরথী নদীতে ভেসে গেলেও কোনও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে দুবার তা ফেরত পাওয়া যায়। কয়েক বছর আগে তীব্র পারিবারিক বিবাদের ফলে পুজো প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠাকুরের মহিমায় পুজো (Durga Puja 2023) অতীতের সেই রীতি-নীতি, নিয়ম-নিষ্ঠা ও পরম্পরা বজায় রেখে আজও চলছে।

    মহিলাদের ভূমিকা

    যেহেতু এই পুজোটি বিন্দুবাসিনী দেবীর ইচ্ছা অনুসারে, তাই পরবর্তীকালে সুচন্দ্র বদনী দেবী তাঁর নিষ্ঠা, ভক্তি, একাগ্রতা ও সাধনার মাধ্যমে এই পুজোকে আগলে রাখেন। মূলত তাঁরই উদ্যোগে এই বাড়িতে কয়েক বছর সন্ধি পুজোর সময় কুমারী পুজো (Durga Puja 2023) অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ সরমা সেন আমৃত্যু পুজোর প্রতি কর্তব্য অবিচল ছিলেন।

    এই পুজো কারা করতেন

    রাধাকৃষ্ণ সেনের মৃত্যুর পর তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র যোগেশচন্দ্র সেন ও পুত্রবধূ সুচন্দ্র বদনী দেবী এই পুজোর (Durga Puja 2023) দায়িত্ব নেন। জমিদার যোগেশচন্দ্র সেনের সময়কালকে সেন বাড়ির পুজোর স্বর্ণযুগ বলা হয়। পুজো উপলক্ষ্যে সেন বাড়িতে বসত চাঁদের হাট, আসতেন কাশিমবাজারের মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী, কমলারঞ্জন রায়, স্থানীয় জমিদার হরিবাবু সহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি। এই পুজোতে অনেক স্থানীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আগমন ঘটত। সেন বাড়িতে নবমীতে বসত যাত্রার আসর। কবিওয়ালা শোনাতেন কবিগান। নবমীতে স্থানীয় মানুষের নিমন্ত্রণ থাকত। পেশায় আইনজীবী যোগেশবাবুর আমলে সেন বাড়ির পুজো উৎকর্ষতার শীর্ষে পৌঁছায়।
    পরবর্তীকালে যোগেশচন্দ্র সেন ও সুচন্দ্র বদনী দেবীর মৃত্যুর পর তাঁর বংশধররা এই পুজো চালাতে থাকেন। এ ব্যাপারে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, যোগেশচন্দ্র সেন ও সুচন্দ্র বদনী দেবীর ষষ্ঠ পুত্র স্বর্গীয় প্রশান্তকুমার সেনের নাম। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিভিল সার্ভিস অফিসার প্রশান্তবাবু পুজো পরিচালনা, সংস্কার ও অন্যান্য বিষয়ে বিশেষ মনোযোগী হয়ে ওঠেনে। মূলত তাঁরই উদ্যোগে দশমীর সন্ধ্যায় দেবীর নৌকা ভাগীরথী ভ্রমণে সম্ভব হয়ে ওঠে।
    এখনও সেন বাড়িতে রীতিনীতি মেনেই সেই পুজো হয়ে আসছে এবং দূর দূরান্ত থেকে আসেন আত্মীয়-স্বজনরা।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share