Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Vijaya Ekadashi: শ্রীরামচন্দ্র এই ব্রত পালন করেছিলেন! এবছর বিজয়া একাদশী ১৬ ফেব্রুয়ারি

    Vijaya Ekadashi: শ্রীরামচন্দ্র এই ব্রত পালন করেছিলেন! এবছর বিজয়া একাদশী ১৬ ফেব্রুয়ারি

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় একাদশী হল বিজয়া একাদশী (Vijaya Ekadashi)। অর্থাৎ কৃষ্ণ পক্ষের একাদশী তিথি। নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। এবছর ১৬ ফেব্রুয়ারি পড়েছে এই তিথি। হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, এই একাদশী তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ পূজার্চনা করা হয়ে থাকে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই একাদশীতে (Vijaya Ekadashi) ভক্তি সহকারে পুজো করলে জয় লাভের পথ প্রশস্ত হয়। পাশাপাশি সমস্ত বাধা বিপত্তি থেকে মুক্তিও পাওয়া যায়। 

    চলতি বছরে বিজয়া একাদশী (Vijaya Ekadashi) তিথি কখন শুরু হচ্ছে

    পঞ্জিকা অনুযায়ী  ১৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে একাদশী তিথি শুরু হবে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ২টো ৪৯ মিনিট অবধি তা চলবে। 

    বিজয়া একাদশীর (Vijaya Ekadashi) দিন কী করবেন এবং কী করবেন না

    হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন জুয়া খেলা অনুচিত। বিশ্বাস মতে, এমন করলে ব্যক্তির বংশ নষ্ট হয়।
        
    একাদশীর (Vijaya Ekadashi) রাতে ঘুমোতে নিষেধ করা হয়েছে শাস্ত্রে। সারা রাত জেগে ভগবান বিষ্ণুর মন্ত্র জপ করা উচিত।
        
    শাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন চুরি করলে পরবর্তী ৭টি প্রজন্ম সেই পাপের অংশীদার হয়ে পড়ে।
         
    একাদশী (Vijaya Ekadashi) তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভের জন্য খাওয়া-দাওয়া ও ব্যবহারে সাত্ত্বিকতা রাখা উচিত। কর্কশ শব্দ ব্যবহার করে কারও সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়। ক্রোধ ও মিথ্যাকথা এড়িয়ে চলা উচিত।
        
    বিজয়া একাদশীর (Vijaya Ekadashi) দিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে যাওয়া উচিত।

    বিজয়া একাদশীর (Vijaya Ekadashi) পৌরাণিক আখ্যান

    পৌরাণিক গল্প অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে কোনও একসময়ে ভগবান কৃষ্ণের কাছে ফাল্গুন একাদশী সম্পর্কে জানার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির। ফাল্গুন একাদশীর মাহাত্ম্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে, ‘হে কৌন্তেয়, নারদ মুনি সবার প্রথমে এই একাদশী সম্পর্কে জেনেছিলেন ব্রহ্মার কাছ থেকে। এরপর তোমাকে আমি এ সম্পর্কে  অবগত করছি। এর সূত্রপাত ত্রেতা যুগে। সীতা হরণের পর রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সুগ্রীবের সেনার সঙ্গে লঙ্কার দিকে যাত্রা করেন রামচন্দ্র। কিন্তু লঙ্কা পৌঁছনোর আগেই বিশাল সমুদ্র তাঁদের পথ আটকে দেয়। রামচন্দ্র লক্ষ্মণের কাছ থেকে সমুদ্র পার করার উপায় জানতে চাইলে, লক্ষ্মণ বলেন, প্রভু আপনি সর্বজ্ঞ, তবে তা সত্ত্বেও জানতে চাইলেন, কিন্তু আমিও কোনও উপায় দেখছিনা। কিন্তু এখান থেকে কিছু দূরেই বকদালভ্য মুনির আশ্রম রয়েছে। তাঁর কাছে এর কোনও না-কোনও উপায় নিশ্চয়ই পাওয়া যেতে পারে। এরপরই বকদালভ্য মুনির কাছে পৌঁছন রামচন্দ্র। সমস্যা শোনার পর ঋষি তাঁকে ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে সমস্ত সেনা-সহ উপবাস পালনের কথা বলেন। বলেন, ‘এই ব্রতর প্রভাবে সমুদ্র পার করতে সফল হবেন তাঁরা এবং লঙ্কা বিজয়ও সম্ভব হবে। পৌরাণিক কাহিনী মতে, একাদশী ব্রত পালন করার পরই রামসেতুর নির্মাণ করে লঙ্কাবিজয় করেন রামচন্দ্র। তারপর থেকেই ছড়িয়ে পড়ে এই তিথির মাহাত্ম্য। ভক্তদের বিশ্বাস বিজয়া একাদশী (Vijaya Ekadashi) পালন করলে শত্রু বিজয় করা যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

     

  • Kartik Puja: শিব-পার্বতীর পুত্র কীভাবে হলেন দেব সেনাপতি কার্তিক, জেনে নিন সেই গল্প

    Kartik Puja: শিব-পার্বতীর পুত্র কীভাবে হলেন দেব সেনাপতি কার্তিক, জেনে নিন সেই গল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবদম্পতির বাড়ির সামনে কার্তিক (Kartik Puja) রেখে এসেছে, এমন বন্ধু আমাদের পরিচিত মহলে নিশ্চয়ই রয়েছে। স্বয়ং মহাদেব-পুত্র তাঁদের বাড়িতে এসেছেন বলে কথা! গৃহকর্তা বা কর্ত্রীকে তাই পরপর চার বছর এই পুজো করতে হয়। কিন্তু বাড়ির সামনে কার্তিক ঠাকুরই বা কেন রাখা হয়? নিছক মজার উদ্দেশ্যেই নবদম্পতির বাড়ির সামনে কার্তিক ঠাকুর রাখা হয় না। এরমধ্যে লোকাচার রয়েছে। কী সেই লোকাচার? নবদম্পতির কোলে যেন কার্তিকের মতো পুত্র আসে। হঠাৎ কার্তিকের মতো পুত্রের আকাঙ্খা কেন? এর জন্য আমাদের জানতে হবে একটি পৌরাণিক আখ্যান।

    কার্তিকের পৌরাণিক কাহিনী

    পুরাণ অনুযায়ী, দেবাদিদেব মহাদেবের পুত্র হলেন দেব সেনাপতি কার্তিক (Kartik Puja)। তাঁর অপর নাম স্কন্দ। স্কন্দমাতা মানে হল কার্তিকের মাতা। দেবী পার্বতীর এই রূপেরই পুজো করা হয় নবরাত্রির পঞ্চমীর দিন। পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, বজ্রাঙ্গ নামে এক অসুর রাজা ছিলেন। তিনি ছিলেন দিতির পুত্র। দেবতাদের রাজা ইন্দ্রকে বজ্রাঙ্গ সিংহাসনচ্যুত করে, বন্দি করেন। দেবতাদের প্রতি বজ্রাঙ্গের এই রোষ আসলে ছিল তাঁর প্রতিশোধ। কারণ ইতিপূর্বে দিতির অসংখ্য পুত্রকে মানে বজ্রাঙ্গের নিজ ভাইদের দেবতারা হত্যা করেছিল। বজ্রাঙ্গের হাতে বন্দি ইন্দ্রকে মুক্ত করতে আসেন ব্রহ্মা এবং কাশ্যপ মুনি। কাশ্যপ মুনি ছিলেন বজ্রাঙ্গের পিতা, অর্থাৎ দিতির স্বামী। ব্রহ্মা এবং কাশ্যপ মুনির অনুরোধে বজ্রাঙ্গ তখনকার মতো ইন্দ্রকে মুক্ত করেন। 

    দৈত্য হয়েও এমন দয়ার ভাব বজ্রাঙ্গের মধ্যে দেখতে পেয়ে ব্রহ্মা তাঁকে বরদান করতে ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন। বজ্রাঙ্গ তখন তপস্বী হওয়ার বর প্রার্থনা করলেন এবং বাকি জীবন যেন তিনি ধর্ম পথে চলতে পারেন সেই আশীর্বাদ ব্রহ্মার কাছে চাইলেন। ব্রহ্মা তাঁর মানস কন্যা বরাঙ্গীর সঙ্গে বজ্রাঙ্গের বিবাহ দিলেন। বজ্রাঙ্গ এবং বরাঙ্গী বনের মধ্যে কুটির বানিয়ে ধর্ম কর্ম করতে লাগলেন। বজ্রাঙ্গ তপস্যায় রত থাকতেন এবং বরাঙ্গী গৃহ কর্ম সম্পাদন করতেন।

    একদিন দেবরাজ ইন্দ্র ওই কুটিরের পাশ দিয়ে যেতে যেতে বরাঙ্গীকে দেখতে পেয়ে পুরনো অপমানের বদলা নিতে চাইলেন। কখনও বানর সেজে, কখনও ভেড়া বা কখনও সাপ হয়ে কুটির লন্ডভন্ড করতে লাগলেন। ক্রন্দনরত অবস্থায় বরাঙ্গী তাঁর স্বামী বজ্রাঙ্গকে এসব বিষয়ে বললে, বজ্রাঙ্গ ব্রহ্মাকে স্মরণ করলেন। ব্রহ্মা প্রকট হয়ে বর দিতে চাইলে বজ্রাঙ্গ বললেন, “আমাকে এমন পুত্র দিন, যে দেবতাদের উপর অত্যাচার করতে সমর্থ হবে।”‌ ব্রহ্মা বজ্রাঙ্গের মনোমত বরদান করলেন। বরাঙ্গীর গর্ভে জন্ম হল তারক নামের অসুরের‌।

    পরবর্তীতে তারকাসুরের উপর ব্রহ্মার বরদান ছিল যে- “একমাত্র শিবের বালক পুত্র ছাড়া, কারও হাতে তিনি হত হবেন না।” ব্রহ্মার বরদানে অজেয়, অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন তারকাসুর। কারণ তিনি জানতেন শিব কখনও বিবাহ করবেন না এবং ত্রিভুবনে ব্রহ্মার বরদানে তাঁকে হত্যা করতে পারে এমন ক্ষমতা কোনও দেবতা, মানুষ বা জীবজন্তুর নেই। তারকাসুর দেবলোক নিজের দখলে আনেন। দেবরাজ ইন্দ্র সিংহাসনচ্যুত হলেন। বিতাড়িত দেবতারা বুঝতে পারলেন শিবের বিয়ে দিতে পারলে তবে তাঁর পুত্রই তারকাসুরকে বধ করতে পারবেন।

    আয়োজন শুরু হল শিব-পার্বতীর বিবাহের। সেখানেও তারকাসুরের আক্রমণ হল। সেই সময় মাতা চন্দ্রঘন্টার রূপ ধারণ করে পার্বতী দেবী অসুরদের বিতাড়িত করেন। এরপর সুসম্পন্ন হয় শিব-পার্বতীর বিবাহ। জন্ম হয় কার্তিকের (Kartik Puja)। মাতা পার্বতী তখন হন স্কন্দমাতা অর্থাৎ কার্তিক জননী। দৈববাণী পেয়ে দেবরাজ ইন্দ্র কার্তিককে সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। এক প্রবল যুদ্ধে কার্তিকের হাতে তারকাসুর হত হলেন। দেবতারা তাঁদের হৃত স্বর্গরাজ্য পুনরায় নিজেদের দখলে আনলেন। এমনটাই লেখা রয়েছে “স্কন্দপুরাণে”। শিব-পার্বতীর পুত্রের জন্মই হয়েছিল তারকাসুরের বধ এবং স্বর্গ রাজ্যে দেবতাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য। তাই প্রতিটি সন্তান যেন ‘কার্তিক’ এর মতো হয় এই কামনায় বাড়ি বাড়ি পুজো হয় কার্তিকের। 

    আরও পড়ুন: মহা পঞ্চমীর মাহাত্ম্য: জানুন তারকাসুর বধ ও স্কন্দমাতার আখ্যান

    কার্তিকের প্রণাম মন্ত্র 

    দেব সেনাপতি কার্তিকের প্রণাম মন্ত্রটি হল –
     
    ওঁ কার্ত্তিকের মহাভাগ দৈত্যদর্পনিসূদন।
    প্রণোতোহং মহাবাহো নমস্তে শিখিবাহন।
    রুদ্রপুত্র নমস্ত্তভ্যং শক্তিহস্ত বরপ্রদ।
    ষান্মাতুর মহাভাগ তারকান্তকর প্রভো।
    মহাতপস্বী ভগবান্ পিতুর্মাতুঃ প্রিয় সদা।
    দেবানাং যজ্ঞরক্ষার্থং জাতস্ত্বং গিরিশিখরে।
    শৈলাত্মজায়াং ভবতে তুভ্যং নিত্যং নমো নমঃ।
     
    অনুবাদ: হে মহাভাগ, দৈত্যদলনকারী কার্তিক দেব তোমায় প্রণাম করি। হে মহাবাহু, ময়ূর বাহন, তোমাকে নমস্কার। হে রুদ্রের (শিব) পুত্র, শক্তি নামক অস্ত্র তোমার হাতে। তুমি বর প্রদান কর। কৃত্তিকা তোমার ধাত্রীমাতা। জনক-জননী প্রিয় হে মহাভাগ, হে ভগবান, তারকাসুর বিনাশক, হে মহাতপস্বী প্রভু তোমাকে প্রণাম। দেবতাদের যজ্ঞ রক্ষার জন্য পর্বতের চূড়ায় তুমি জন্মগ্রহণ করেছ। হে পার্বতী দেবীর পুত্র তোমাকে সতত প্রণাম করি।

    বাংলায় কার্তিক পুজো বেশ জনপ্রিয়

    বাংলায় কার্তিক পুজো (Kartik Puja) প্রায় সর্বত্রই হয়, এর মধ্যে হুগলির বাঁশবেড়িয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার কার্তিক পুজো  ব্যাপক জনপ্রিয়। এই দুই জায়গায় কার্তিক পুজোকে কেন্দ্র করে উৎসবে মাতেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। সুসজ্জিত আলোর মালা, মণ্ডপসজ্জার কারুকার্য, বিভিন্ন হিন্দু দেব-দেবীদের বিশালাকার প্রতিমার সঙ্গে থাকে নানা রকমের বাজনা।

  • Bolla Kalipuja: রাসপূর্ণিমার পরেই হয় এই পুজো! জানেন দক্ষিণ দিনাজপুরের ‘বোল্লা কালীপুজোর’ ইতিহাস? 

    Bolla Kalipuja: রাসপূর্ণিমার পরেই হয় এই পুজো! জানেন দক্ষিণ দিনাজপুরের ‘বোল্লা কালীপুজোর’ ইতিহাস? 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুরাণ মতে, দেবী কালীর একাধিক রূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। দশম মহাবিদ্যার প্রথম নামটিই হলো ভীষণ দর্শনা দেবী কালী। এছাড়াও রয়েছে, দক্ষিণাকালী, কৃষ্ণকালী, সিদ্ধকালী, গুহ্যকালী, শ্রীকালী, ভদ্রকালী, চামুণ্ডাকালী, শ্মশানকালী ও মহাকালী। পৌরাণিক নাম ছাড়াও মাতা কালী স্থানীয় নামগুলিতেও সমানভাবে জনপ্রিয়। কোথাও ডাকাতকালী তো কোথাও বড়মা। সারাবছরই বিভিন্ন সময়ে দেবী কালীর আরাধনা করা হয়।

    বোল্লা কালীর ইতিহাস

    কালীপুজোর পরেই হয় রাসপূর্ণিমা। এই রাসপূর্ণিমার পরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে বোল্লা কালী পুজো অনুষ্ঠিত হয়। বোল্লা একটি গ্রামের নাম। অবস্থান, বালুরঘাট শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। লোককথা অনুযায়ী, আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগের ঘটনা। এই এলাকার জমিদার ছিলেন বল্লভ চৌধুরি। তার নাম অনুসারেই এলাকার নাম হয়েছে বোল্লা। সেসময় স্থানীয় এক মহিলা একটি কালো পাথরখণ্ড কুড়িয়ে পেয়ে সেটিকেই দেবী কালীরূপে পুজো শুরু করেছিলেন। এরপর স্থানীয় জমিদার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে মামলায় জড়িয়ে যান। এমন সংকটের সময়, স্থানীয় জমিদার বোল্লা মায়ের কাছে মানত করে মামলায় জয় লাভ করেন বলেই কথিত রয়েছে। লোককথা অনুযায়ী, দেবী কালী জমিদারকে উদ্ধারের জন্য স্বয়ং আবির্ভূত হয়েছিলেন। কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসাবে তিনি দেবী কালীর একটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। সেই বছর, রাস পূর্ণিমার পরের শুক্রবারে  পুজোর আয়োজন শুরু হয়, এই ধারা আজও চলছে।

    আরও পড়ুন: জানুন রঘু ডাকাতের কালী পুজোর গল্প

    অন্য একটি মতে, একসময় এই গ্রামে ডাকাতদের অত্যাচার শুরু হয়েছিল। তখন দেবী কালী ভয়ঙ্করী রূপ ধারণ করেন। মাতা কালীর ভীষণ রূপ দেখা মাত্র ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তখন থেকেই বোল্লা কালী পুজোর সূচনা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস মতে, বোল্লা কালী অত্যন্ত জাগ্রত। ভক্তদের সমস্ত মনোবাসনা পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর আশীর্বাদে ভক্তদের জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধ বর্ষিত হয়। তিনদিন ধরে মেলা চলে এই পুজোকে কেন্দ্র করে। শুধুমাত্র দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা নয়, রাজ্য থেকেও বহু মানুষ আসেন এই উৎসবে সামিল হতে। বিশালাকার বোল্লা কালী মাতার পুজোয় লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। ভক্তরা ,পুজোর জন্য ছোটো ছোটো কালী প্রতিমা এবং বিভিন্ন অলঙ্কার সঙ্গে আনেন। তিনদিন ধরে পুজো চলার পর বোল্লা কালী মাতার প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয় মন্দির সংলগ্ন পুকুরে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Nabadwip: নবদ্বীপের রাসে রয়েছে হরেক কাহিনী! জানেন সেই গল্প?

    Nabadwip: নবদ্বীপের রাসে রয়েছে হরেক কাহিনী! জানেন সেই গল্প?

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: ভারতবর্ষের মন্দির নগরী বলা হয়ে থাকে ‘বারাণসী’ কে। নবদ্বীপ ঘুরলে মনে হতেই পারে এ যেন বারাণসীর আরেকটি নতুন সংস্করণ। প্রাচীন বাংলার বিদ্যাচর্চার কেন্দ্র ছিল নবদ্বীপ। প্রাচীন এই নগরীকে  বলা হতো ‘বাংলার অক্সফোর্ড’। বহুগুণী এবং পন্ডিত মানুষদের পান্ডিত্যে সমৃদ্ধ এই জনপদে জন্ম নিয়েছিলেন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। বাংলার সেন রাজাদের এই রাজধানী আক্রমণ করেন ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজী। লুন্ঠন, হত্যা ধর্মান্তরকরণের পরেও অক্ষত ছিল ঐতিহ্যবাহী এই নগরীর সাংস্কৃতিক পরিবেশ। হিন্দু ধর্মের শাক্ত, বৈষ্ণব, শৈবদের পীঠস্থান বলুন বা তীর্থস্থান বলুন, সেটা নবদ্বীপ। পুণ্যতোয়া গঙ্গা নদীর স্রোতের ধ্বনি, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের রীতি দেখলে মনে হতেই পারে যেন ঋক বৈদিক যুগের কোনও নগরীতে আপনি উপস্থিত হয়েছেন।

    নবদ্বীপের  ‘রাস’ অতি জনপ্রিয়। রাস পূর্ণিমার বিশেষ তিথিতে গোটা নবদ্বীপ শহর সেজে ওঠে আলোর মালায়। চোখে পড়ে মণ্ডপের কারুকার্য। নবদ্বীপের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে অগণিত মানুষের সমাবেশ ঘটে। রাজ্য, দেশ ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও অনেক মানুষ রাস উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। জনশ্রুতি রয়েছে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু নবদ্বীপে প্রথম রাসযাত্রার সূচনা করেন। বলা হয়ে থাকে ‘রস’ থেকে ‘রাস’ শব্দটি এসেছে। এর অর্থ আনন্দ বা দিব্য অনুভূতি। গোপিনীরা শ্রী কৃষ্ণের সাথে এই আনন্দ ভাগ করে নিতেন। পৌরাণিক এই ঘটনার স্মরণেই রাস যাত্রার উদ্ভব বলে বিশ্বাস রয়েছে। মূলত বৈষ্ণবীয় ভাবধারার এই রাস যাত্রা নবদ্বীপে আজ অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর মৃত্যুর পর রাসযাত্রার ওপরে বৈষ্ণবীয় ভাবধারার প্রভাব ক্ষীণ হতে থাকে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে থাকে ‘শাক্ত’ ভাবধারা। তাই নবদ্বীপে বর্তমান যে রাসযাত্রা সেটার উপর শাক্ত ভাবধারার প্রভাব সব থেকে বেশি। মদ ,মাংস ,আড়ম্বর এগুলি হলো বীরাচার বা শাক্ত ভাবধারার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। নবদ্বীপের রাসযাত্রায় এগুলো বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

    আরও পড়ুন: রাত পোহালেই জগদ্ধাত্রীর আরাধনায় মাতবে বাঙালি! জানেন কে এই পুজোর শুরু করেন?

    জনশ্রুতি আছে, মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নবদ্বীপে শাক্ত রাসের প্রবর্তন করেন। একাধারে এই রাজার নামের সাথে বাংলায় প্রথম জগদ্ধাত্রী পূজার ইতিহাস যেমন সম্পর্কিত, একইভাবে রাসযাত্রার ইতিহাসও সম্পর্কিত। শক্তি, বীরাচার এবং রাজসিক গুণের আচরণ রাজা করবেন, একথাই তো স্বাভাবিক। মনে করা হয়, বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাব রাসযাত্রার উপর থেকে ক্ষীণ হতে শুরু করে যখন থেকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এখানে শাক্ত রাসের সূচনা করেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্র পোড়ামাতলায় ভবতারণ শিব ও ভবতারিণী শক্তিমূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। কথিত আছে, রাসযাত্রায় তিনি নবদ্বীপের পণ্ডিতকে প্রচুর দানধ্যান করতেন। রাসযাত্রার প্রথমদিকে নবদ্বীপে শুধুই পটপুজো হতো। কথিত আছে, মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নাটোর থেকে মৃৎশিল্পী নিয়ে আসেন। তারপর থেকেই রাসযাত্রায় মূর্তিপূজা হতে থাকে।

    গোবিন্দদাসের পদাবলীতে উল্লেখিত বৃন্দাবনে গোপিনীদের সঙ্গে কৃষ্ণ যখন রাসলীলায় মগ্ন, স্বর্গের দেবদেবীরা তখন তা দেখতে বৃন্দাবনে এসেছিলেন। ভক্তদের বিশ্বাস, রাসলীলা দেখার জন্য দেবদেবীরা এসেছিলেন নবদ্বীপেও। চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থানে রাস উপলক্ষে সাড়ে তিনশো দেবদেবীর পুজো হয়। পোড়ামাতলায় মহিষমর্দিনী মাতার পুজো হয়। রাসে কেবলমাত্র এই প্রতিমার পুজোই তিনদিন ব্যাপী দুর্গামন্ত্রে হয়। শতবর্ষ প্রাচীন ওলাদেবীতলার মুক্তকেশীর ভোগ দেওয়ার রীতি রয়েছে ইলিশমাছ সহযোগে। খড়েরগোলার বিন্ধ্যবাসিনী অষ্টভুজার আরাধনা বৈষ্ণব মতে হয়ে থাকে। নবদ্বীপের রাসে শাক্তমূর্তি বেশী দেখা যায়। দেবী কালিকা কত বিচিত্র নামে পূজিতা হন এই রাসযাত্রায়—বামকালী, নৃত্যকালী, উড়ন্তকালী, মুক্তকেশীকালী, মহানিশাকালী, তোতাপুরীকালী ইত্যাদি। সাধক রামপ্রসাদের কালী ভাবনার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায় ‘শবশিবার’ রূপকল্পনায়। এখানে ভূমিতে পরে আছে শব তার উপরে শায়িত আছেন শিব এবং সর্বোপরি দেবী মহামায়ার অধিষ্ঠান। দেবীর পাদস্পর্শে শব রূপান্তরিত হয়েছে শিবে। বড় বড় প্রতিমাগুলি নবদ্বীপ শহর পরিক্রমণ করে। রাসযাত্রার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এটি। বিশালাকার গৌরাঙ্গি মাতার শোভাযাত্রা দেখতে গোটা নবদ্বীপ শহরে ভিড় উপচে পড়ে। রাসযাত্রার এই কয়েকটা দিনে হিন্দু ধর্মের প্রধান দেব-দেবীদের একসাথে পুজো নবদ্বীপ শহরেই দেখা যায়।

  • Maa Jagadhatri: সারদা মায়ের জন্মভিটেতেও পুজো হয় দেবী জগদ্ধাত্রীর! জানেন এর পিছনের গল্প?

    Maa Jagadhatri: সারদা মায়ের জন্মভিটেতেও পুজো হয় দেবী জগদ্ধাত্রীর! জানেন এর পিছনের গল্প?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান গদাধর চট্টোপাধ্যায় পরবর্তীকালে হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। তাঁর সহধর্মিণী সারদা দেবী বলতেন “আমি সকলের মা”। বাস্তবিকই তিনি ঠাকুরের শিষ্যদের মা হয়ে উঠেছিলেন। আজও ঠাকুরের সঙ্গেই তিনি ঘরে ঘরে পূজিতা হন। রামকৃষ্ণ-সারদা দেবী, মাতা কালীর আরাধনা করতেন। কিন্তু জানেন সারদা মায়ের নামের সাথে জগদ্ধাত্রী পুজোও সম্পর্কিত। সারদা মায়ের  জন্মভিটে জয়রামবাটির জগদ্ধাত্রী পুজো বিশেষ প্রসিদ্ধ। ১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর  বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার অন্তর্গত প্রত্যন্ত গ্রাম জয়রামবাটির এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে সারদা দেবীর জন্ম হয়। সারদা দেবীর মাতার নাম ছিল শ্যামাসুন্দরী দেবী।

    আরও পড়ুন: রাত পোহালেই জগদ্ধাত্রীর আরাধনায় মাতবে বাঙালি! জানেন কে এই পুজোর শুরু করেন?

    কথিত আছে, সারদাদেবীর মা শ্যামাসুন্দরী দেবী খুব অল্প বয়সেই বিধবা হন‌। বিধবা শ্যামাসুন্দরী দেবীর পক্ষে সংসারের ভরণপোষণ কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। সাংসারিক চাপে শ্যামাসুন্দরী দেবী বাধ্য হয়ে গ্রামের এক ধনী ব্রাহ্মণের বাড়িতে ধান ভানার কাজ বেছে নেন, যদিও  মা সারদা ততদিনে রামকৃষ্ণ জায়া হয়ে গিয়েছেন। শোনা যায়, মা সারদা দক্ষিণেশ্বর থেকে বাপের বাড়ি এলে,  শ্যামাসুন্দরী দেবীকে ধান ভানার কাজে সাহায্য করতেন। জয়রামবাটিতে সেসময় কালীপুজোতে গ্রামের জনৈক ব্রাহ্মণ নব মুখার্জী, প্রত্যেক গ্রামবাসীর ঘর থেকে মা কালীর পুজোর জন্য নৈবেদ্যের চাল নিতেন। হঠাৎ সে বছর কোনও এক অজ্ঞাত কারণে নব মুখার্জী শ্যামাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে চাল নৈবেদ্য নিতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনায় শ্যামাসুন্দরী দেবী অত্যন্ত মর্মাহত হন। অভাবের সংসার হলেও তিনি মা কালীর উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য অর্পণ করতে অপারগ নন। এই ভাবনায় শ্যামাদেবী একরাশ দুঃখ নিয়ে সারারাত কাঁদতে থাকেন। নিদ্রাহীন রাত্রিতে  হঠাৎ তিনি লক্ষ্য করেন, তাঁর পাশে এক দেবী এসে তাঁকে বলছেন – ‘কাঁদছ কেন মেয়ে? তোমার নৈবেদ্য মা কালীর পুজোর জন্য নেয়নি তো কী হয়েছে, আমি তোমার নৈবেদ্য গ্রহণ করবো’। শ্যামাদেবীর বিশ্বাসে আবির্ভূত এই দেবী ছিলেন স্বয়ং মাতা জগদ্ধাত্রী। সেই বছরই অর্থাৎ ১৮৭৭ সালে  জয়রামবাটিতে শুরু হয় জগদ্ধাত্রী পুজো। পুজোতে দক্ষিণেশ্বর থেকে এসে অংশগ্রহণ করেন স্বয়ং সারদাদেবীও। শোনা যায় এই পুজোর কথা শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে  রামকৃষ্ণদেব বলেছিলেন- “মা আসছে, যা যা খুব মঙ্গল হবে তোদের।”

    আরও পড়ুন: কার্তিক মাসে গ্রাম বাংলায় পালিত হয় ‘যমপুকুর ব্রত’! জানেন এর নেপথ্য গল্প?

    কথিত আছে, এই জগদ্ধাত্রী পুজোর পরই শ্যামাদেবীর সংসারে উন্নতি আসে। অভাব মিটে  যায়। সারদা দেবীও প্রতিবছর  জয়রামবাটিতে গিয়ে পুজোর খুঁটিনাটি সমস্ত ব্যাপার দেখতেন । শোনা যায়, প্রথম বছর প্রতিমা নিরঞ্জনের দিন বৃহস্পতিবার ছিল। তাই সারদা দেবী লক্ষ্মীবারে বিসর্জন করতে দেননি জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। পরদিন সংক্রান্তি ও তার পরদিন মাস পয়লা থাকায় ওই দুই দিনও বিসর্জন হয়নি। বিসর্জন হয় চতুর্থ দিনে।
    তাঁর প্রয়াণের পরেও বন্ধ হয়নি পুজো। আজও মহাসমারোহে জয়রামবাটিতে আরাধিতা হন দেবী জগদ্ধাত্রী। এরপর ১৯২৩ সালে বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী সারদানন্দজীর উদ্যোগে জয়রামবাটিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় মিশন। এখন পুজোর দায়িত্বে রয়েছে রামকৃষ্ণ মিশন। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয়।

  • Lunar Eclipse: কখন দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ? ভারতে কোথায় দেখা যাবে?

    Lunar Eclipse: কখন দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ? ভারতে কোথায় দেখা যাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির পরের দিন  ছিল সূর্যগ্রহণ। এটাই ছিল এই বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ। সামনের মাসে আসতে হতে চলেছে চন্দ্রগ্রহণ (Chandra Grahan 2022)। আগামী ৮ নভেম্বর অর্থাৎ কার্তিক মাসে পূর্ণিমার দিনই দেখা যাবে বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণ। 

    বিকেল সাড়ে ৫টার পর শুরু হবে গ্রহণ (Lunar Eclipse 2022), চলবে সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত (Chandra Grahan 2022 In India Date And Time)। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে গ্রহণ। ৮ নভেম্বরই রয়েছে দেব দীপাবলি। এমন পরিস্থিতিতে অনেক জ্যোতিষী চন্দ্রগ্রহণের একদিন আগে দেব দীপাবলি উদযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। 

    সময়

    চন্দ্রগ্রহণের তারিখ- ৮ নভেম্বর, মঙ্গলবার
    চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে – সন্ধ্যা ৫:৩২ মিনিটে
    চন্দ্রগ্রহণ শেষ হবে- সন্ধ্যা ৬:১৮ মিনিটে
    সূতক সময় শুরু হবে – সকাল ৯:২১ মিনিটে
    সূতক শেষ হবে – সন্ধ্যা ৬.১৮ মিনিটে

    ভারতে কোথায় দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ?

    চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে কলকাতা, শিলিগুড়ি, পাটনা, রাঁচি, গুয়াহাটি ইত্যাদি জায়গা থেকে দেখা যাবে।  

    ভারত ছাড়া আর কোথায় দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ? 

    দেব দীপাবলির দিন চন্দ্রগ্রহণ উত্তর ও পূর্ব ইউরোপ, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ অংশে দৃশ্যমান হবে।

    চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে জেনে নিন এই বিষয়গুলি

    হিন্দু ধর্ম অনুসারে, চন্দ্রগ্রহণের সূতক সময় গ্রহণের ৯ ঘন্টা আগে শুরু হয়।  

    ২০২২ সালের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দেখা যাবে। যা ভারতীয় সময় অনুযায়ী ৮ নভেম্বর দুপুর ১.৩২ থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭.২৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে।

    এই সময় গর্ভবতী মহিলাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।  
     
    সূতক সময়কে অশুভ বলে মনে করা হয়। সূতক কালের সূচনার পর কোনও শুভ কাজ করা হয় না।
     
    চন্দ্রগ্রহণের সময় বাড়ি থেকে বেরোনো অশুভ বলে মনে করা হয়।
     
    চন্দ্রগ্রহণের সময় ঘুমানো বা ধারালো বস্তু ব্যবহার করা উচিৎ নয়। 
       
    চন্দ্রগ্রহণের সময় স্নান ও দান করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। গ্রহণের দিন গঙ্গায় স্নান করার পরামর্শ দেন জ্যোতিষীরা।

    আরও পড়ুন: ‘অপমানজনক ও অবৈজ্ঞানিক’! ধর্ষণের ঘটনায় ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ নিষিদ্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট

    কী করে দেখবেন গ্রহণ?

    খালি চোখে দেখা যাবে গ্রহণ। ভালো ভাবে দেখতে দূরবীন ব্যবহার করতে পারেন। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Jagadhatri Puja: রাত পোহালেই জগদ্ধাত্রীর আরাধনায় মাতবে বাঙালি! জানেন কে এই পুজোর শুরু করেন?

    Jagadhatri Puja: রাত পোহালেই জগদ্ধাত্রীর আরাধনায় মাতবে বাঙালি! জানেন কে এই পুজোর শুরু করেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালীপুজো, ভাইফোঁটার পরে এবার জগদ্ধাত্রী পুজো। জগদ্ধাত্রী পুজোকে ঘিরে উৎসব মুখর বাঙালির নজর এবং গন্তব্য থাকে দুটি জায়গায় একটি কৃষ্ণনগর এবং অপরটি চন্দননগর। রাজনৈতিক দলগুলির সমাবেশ ‘ব্রিগেড চলো’, ‘কলকাতা চলো’ ইত্যাদি নামে পরিচিত। জগদ্ধাত্রী পুজোর দিন কোনও রাজনৈতিক দল ডাক না দিলেও ‘কৃষ্ণনগর চলো’ এবং ‘চন্দননগর চলো’ ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির হয় রাজ্যের বড় অংশের মানুষ।  সুসজ্জিত মন্ডপ, দূর্দান্ত আলোক সজ্জা, মাতা জগদ্ধাত্রীর প্রতিমা দেখতে লক্ষ মানুষের সমাগম হয় এই দুই শহরে। জমজমাট  জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য ভারতীয় রেল বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে। রাত বাড়লে মানুষের ঢল নামতে দেখা যায় দুই শহরে। কিন্তু জানেন কেন এই দুই শহরের জগদ্ধাত্রী পুজো এত জনপ্রিয় হলো? এর নেপথ্যে ইতিহাস কী? কারা শুরু করেছিল এই পুজো?

    উত্তর জানতে আমাদের যেতে হবে নবাব আলিবর্দী খাঁ-এর আমলে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের উপরে ১২ লক্ষ টাকা নজরানা দাবি করেন নবাব‌। কৃষ্ণচন্দ্র রায় দিতে অপারগ হলে, তাঁকে বন্দি করে নবাবের বাহিনী। মুর্শিদাবাদ অথবা বিহারের মুঙ্গেরে রাজাকে রাখা হয়। মুক্তির পর নদীপথে নিজের রাজ্যে ফিরছিলেন রাজা, এমন সময় বিজয়া দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জনের বাজনা শুনে তাঁর অন্তরে আকুলতা তৈরি হয়। দুর্গাপুজোয় অংশ না নিতে পারার আকুলতা। প্রাসাদে ফিরে রাজা মনের দুঃখে ঘুমোতে যান। কথিত আছে, ওই রাতে মাতা দুর্গা রাজাকে স্বপ্ন দেন, যে শুক্লা নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী রূপে তাঁকে পুজো করতে হবে। তখন থেকেই নাকি কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা।

    আরও পড়ুন: কার্তিক মাসে গ্রাম বাংলায় পালিত হয় ‘যমপুকুর ব্রত’! জানেন এর নেপথ্য গল্প?

    অন্য একটি মতে, ১৭৬৬ সালে কৃষ্ণনগরের রাজবাড়িতে জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়। আবার অনেকে কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র গিরিশচন্দ্রকে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির জগদ্ধাত্রী পূজার প্রবর্তক মনে করেন। কৃষ্ণনগরের প্রাচীন জগদ্ধাত্রী পুজোগুলোর মধ্যে চাষা পাড়াতে বুড়িমার পুজো অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। ৭৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার দ্বারা মাতা জগদ্ধাত্রীকে সাজানো হয় এখানে। এই দেবী অত্যন্ত জাগ্রত বলে এলাকার মানুষ মনে করেন এবং  দেবী তাঁর ভক্তদের সমস্ত মনস্কামনাও পূর্ণ করেন বলেই বিশ্বাস। এই পুজো শুরু হয় ১৭৯০ সালে। জগদ্ধাত্রী পুজোর দিন কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দরজা খুলে রাখার রীতি আজও চোখে পড়ে। তৎকালীন কৃষ্ণনগরের রানিমা রাজবাড়িতে বসেই প্রতিমা দর্শন করতেন। নিরঞ্জনের পূর্বে প্রতিমা রাজবাড়ির সামনে থেকে একবার ঘুরিয়ে আনতে হয়, এটাই এখানকার রীতি।

    অন্যদিকে ফরাসি ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল চন্দননগর। এখানকার জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা করেন ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অত্যন্ত  ঘনিষ্ঠ ছিলেন ইন্দ্রনারায়ণ। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন চন্দননগরের ফরাসি সরকারের দেওয়ান। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজো দেখে মুগ্ধ হয়ে ইন্দ্রনারায়ণ চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেন। তাঁর প্রচলিত পুজো চন্দননগরে আদি পুজো নামে বিখ্যাত। জনশ্রুতি আছে, আদি প্রতিমাকে জলে নিরঞ্জন করা মাত্রই শুশুক বা সাপের দেখা পাওয়া যায়। স্থানীয় বিশ্বাসে এই দেবী অত্যন্ত জাগ্রত এবং ভক্তদের সকল মনস্কামনা পূর্ণ করেন।

    সারা রাজ্যের মানুষ তো এই দুই শহরে ভিড় করেই জগদ্ধাত্রী উপাসনায়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেগ যেন আলাদাই থাকে। কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা , কর্মসুত্রে হায়দরাবাদে থাকেন প্রিয়াঙ্কা ঘোষাল। জগদ্ধাত্রী পুজো দেখতে বাড়ি এসেছেন। তাঁর মতে, “দুর্গাপুজোর উন্মাদনা তো আমাদের আছেই, তার সঙ্গে আমরা সারাবছর অপেক্ষা করে থাকি এই জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্যও। দুর্গা পুজোর দশমীতে অতটাও মন খারাপ করে না, কারণ জানি, মাতা দুর্গা জগদ্ধাত্রী রূপে আবার আসছেন।”

  • Jagadhatri Puja: দেবী জগদ্ধাত্রীর পৌরাণিক আখ্যান জানুন

    Jagadhatri Puja: দেবী জগদ্ধাত্রীর পৌরাণিক আখ্যান জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরসুমে দুর্গা পুজো, লক্ষ্মী পুজো, কালী পুজোর পরেই আসে জগদ্ধাত্রী পুজো। মা জগদ্ধাত্রী (Jagadhatri Puja) ত্রিনয়না, চতুর্ভূজা ও সিংহের উপর আসীন। তাঁর হাতে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ; গলায় নাগযজ্ঞোপবীত। দেবীর গাত্রবর্ণ উদীয়মান সূর্যের মতো। রাজসিক দেবী দুর্গা, তামসিক কালীর পরে সত্ত্ব গুণের দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজো হয়। দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজো অনুষ্ঠিত হয় দুর্গা পুজোর ঠিক একমাস পর কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে। কাত্যায়নীতন্ত্র অনুসারে কার্তিকী শুক্লা নবমীতে দেবী জগদ্ধাত্রীর আবির্ভূত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। দুর্গাকল্প অনুযায়ী,

    কার্তিকে শুক্লপক্ষেঽহনি ভৌমবারে জগৎপ্রসূঃ। 
    সর্বদেবহিতার্থায় দুর্বৃত্তশমনায় চ।।
    আবিরাসীৎ জগচ্ছান্ত্যৈ যুগাদৌ পরমেশ্বরী।।

    যার বাংলা অনুবাদ হলো, দেবতাদের হিত, দুর্বত্তের দমন এবং জগতের কল্যাণের  জন্য যুগের প্রারম্ভে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের মঙ্গলবারে পরমেশ্বরী  অর্থাৎ মাতা জগদ্ধাত্রী আবির্ভূতা হলেন।

    আবার শূলপাণি লিখছেন:
    কার্তিকোঽমলপক্ষস্য ত্রেতাদৌ নবমেঽহনি।
    পূজয়েত্তাং জগদ্ধাত্রীং সিংহপৃষ্ঠে নিষেদূষীম্।।

    অর্থাৎ ত্রেতাযুগের প্রারম্ভে কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে সিংহপৃষ্ঠে আসীন দেবী জগদ্ধাত্রীর পুজো করিবে। 

    সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী – এই তিন দিন মাতা জগদ্ধাত্রীর আরাধনা করে থাকেন ভক্তরা। তবে অনেকে নবমীর দিন তিন বার পুজা করে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী পুজো সম্পন্ন করেন। কোথাও কোথাও প্রথম বা দ্বিতীয় পুজোর পর কুমারী পুজোরও আয়োজন করা হয়। দুর্গা পুজোর মতোই জগদ্ধাত্রী পুজোতেও বিসর্জনকৃত্য বিজয়াকৃত্য নামে পরিচিত। এমনকি পুষ্পাঞ্জলি ও প্রণাম মন্ত্রসহ পুজোর অনেক মন্ত্রও দুর্গা পুজোর অনুরূপ। 

    পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী,  একবার দেবতা ও অসুরদের সংগ্রামে দেবগণ অসুরদের পরাস্ত করলেন। কিন্তু তাঁরা বিস্মৃত হলেন যে নিজ শক্তিতে নয়, বরং ব্রহ্মার বলে বলীয়ান হয়েই তাদের এই বিজয়। ফলত তাঁরা হয়ে উঠলেন অহংকার-প্রমত্ত। তখন দেবী লক্ষ্মী এক কুমারী বালিকার রূপ ধারণ করে তাদের সম্মুখে আবির্ভূত হলেন। তিনি একটি তৃণখণ্ড দেবতাদের সামনে রাখলেন। অগ্নি ও বায়ু তাদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও সেই তৃণখণ্ডটিকে দগ্ধ করতে বা উড়িয়ে দিতে পারলেন না। তখন দেবতারা ইন্দ্রকে বালিকার পরিচয় জানবার জন্য পাঠালেন। ইন্দ্র আত্ম অহংকার নিয়ে দেবীর সামনে আসেননি এসেছিলেন জিজ্ঞাসু মন নিয়ে, তাই ব্রহ্মরূপী দেবী মহালক্ষী তার সম্মুখ হতে তিরোহিত হলেন এবং নিমেষ তার সম্মুখের আকাশে দিব্য স্ত্রীমূর্তিতে আবির্ভূত হলেন হৈমবতী রমা। রমা, ব্রহ্মের স্বরূপ ব্যাখ্যা করে ইন্দ্রের জ্ঞানপিপাসা নিবৃত্ত করলেন। এই দেবী পুরাণে মাতা জগদ্ধাত্রী নামে প্রসিদ্ধ। জগদ্ধাত্রী অর্থাৎ জগৎ কে ধারণ যিনি করেন। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, মাতা জগদ্ধাত্রী সমগ্র জগতে কল্যাণকারী। তাঁর আরাধনায় ভক্তের জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি বিরাজ করে। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Akash Pradip: “আকাশ প্রদীপ জ্বলে…”, জানেন কার্তিক মাসে কেন জ্বালানো হয় এই প্রদীপ?

    Akash Pradip: “আকাশ প্রদীপ জ্বলে…”, জানেন কার্তিক মাসে কেন জ্বালানো হয় এই প্রদীপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে গাওয়া, ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে’ গানটি বাঙালির এক নস্টালজিয়া। এই ‘আকাশ প্রদীপ’ (akash Pradip) কয়েক বছর  আগেও কার্তিক মাসে বাংলার ঘরে ঘরে জ্বলে উঠত। এখন অবশ্য আধুনিকতার ছোঁয়ায় লোকাচার যেন হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও গ্রাম বাংলায় কার্তিক মাসের হালকা শীতের চাদর মোড়ানো সন্ধ্যায় সন্ধান পাওয়া যায় ‘আকাশ প্রদীপ’ এর। পুরাণ মতে , দীর্ঘ চার মাসের যোগনিদ্রা শেষে, কার্তিক (Kartik) মাসে জেগে ওঠেন ভগবান বিষ্ণু। তাঁকে প্রসন্ন রাখতে, ভক্তরা কার্তিক মাসের প্রথম দিন থেকে সংক্রান্তির দিন পর্যন্ত, প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় মাটির প্রদীপ ঘি বা তেল দিয়ে জ্বালিয়ে রাখেন। বাড়ির সব থেকে উঁচু স্থানে উত্তর অথবা পূর্ব দিকে মুখ করে রেখে এই প্রদীপ জ্বালানো হয়। লাঠির ডগায় ছাদের উপরেও এই প্রদীপ দিতে দেখা যায়। বর্তমান সময়ে প্রদীপের বদলে বৈদ্যুতিক বাতিও দেন অনেকে। বিশ্বাস, ভক্তদের আকাশ প্রদীপ অর্পণে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু তাঁদের মনস্কামনা পূরণ করেন। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে ভক্তদের জীবন। আরোগ্য ও আশীর্বাদ প্রদান করেন ভগবান বিষ্ণু।

    অন্য একটি কিংবদন্তি মতে, আশ্বিন মাসের মহালয়ার দিন পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়। তার পরের একটি মাস তাঁরা আনন্দ উৎসবে সামিল হন এবং পরলোকের উদ্দেশ্যে গমন করেন কালী পূজার অমাবস্যায়। এই প্রদীপ (akash Pradip) জ্বেলে আবাহন করা হয় পিতৃলোকে, প্রেতলোকে অবস্থান করা পূর্বপুরুষদেরও। যাতে তাঁরা আকাশ প্রদীপের আলোয় পথ চিনে আশীর্বাদ দিতে আসতে পারেন উত্তরসূরীদের।

    প্রদীপ হিন্দু ধর্মের যে কোনও অনুষ্ঠানের সব থেকে অপরিহার্য এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ধর্মীয় আচার, রীতি সবকিছুই সম্পন্ন হয় প্রদীপের দ্বারা। ভগবান বিষ্ণুর বন্দনা করতে তাই বেছে নেওয়া হয়েছে ‘আকাশ প্রদীপ’ (akash Pradip)। ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে সমর্পিত এই প্রদীপের ধরন আলাদা আলাদা হয় এবং তা ভক্তদের নানা মনোবাসনা পূরণের লক্ষ্যে জ্বালানো হয়। একনজরে আমরা দেখে নিই আকাশ প্রদীপের ধরন গুলি।

    ১. দ্বিমুখী প্রদীপ: ভগবানের অসীম কৃপা লাভ, আশীর্বাদ লাভ এবং দীর্ঘজীবনের অধিকারী হওয়া যায় দ্বিমুখী প্রদীপ জ্বালালে। এটাই ভক্তদের বিশ্বাস।

    ২. ত্রিমুখী প্রদীপ: লোকবিশ্বাস, এই প্রদীপ জ্বালালে শত্রুর কু-নজর থেকে ভগবান বিষ্ণু ভক্তদের রক্ষা করেন।

    ৩. চতুর্মুখী প্রদীপ: সন্তানের দীর্ঘজীবন কামনা করে মা-বাবারা এই প্রদীপ জ্বালেন।

    আরও পড়ুন: কার্তিক মাসে গ্রাম বাংলায় পালিত হয় ‘যমপুকুর ব্রত’! জানেন এর নেপথ্য গল্প?

    কার্তিক মাসব্যাপী সন্ধ্যার সময় অনেক গৃহে তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে‌।পুকুরে বা নদীতেও অনেক সময় প্রদীপ ভাসানো হয় ভগবানের আশীর্বাদ এবং কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে। আকাশপ্রদীপ দেওয়ার মন্ত্রটি হলো- “আকাশে সলক্ষ্মীক বিষ্ণোস্তোষার্থং দীয়মানে প্রদীপঃ শাকব তৎ।”আকাশে লক্ষ্মীর সঙ্গে অবস্থান করছেন যে বিষ্ণু, তাঁর উদ্দেশে দেওয়া হল এই প্রদীপ। ঘটের মতো প্রদীপকেও অনেক পণ্ডিত দেহেরই প্রতীক বলে মনে করেন। আকাশ-প্রদীপও (akash Pradip) নশ্বর শরীরের মতো ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম- এই পঞ্চভূতে তৈরি।

    ক্ষিতি অর্থাৎ মাটি, কায়া তৈরি করে। অপ অর্থাৎ জলে আকার পায়। তেজ অর্থাৎ আগুন, আত্মার মতোই স্থিত হয় তার অন্তরে। মরুৎ অর্থাৎ হাওয়া আগুনকে জ্বলতে সাহায্য করে। আর ব্যোম অর্থাৎ অনন্ত শূন্য জেগে থাকে প্রদীপের গর্ভে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Jom Pukur Brata: কার্তিক মাসে গ্রাম বাংলায় পালিত হয় ‘যমপুকুর ব্রত’! জানেন এর নেপথ্য গল্প? 

    Jom Pukur Brata: কার্তিক মাসে গ্রাম বাংলায় পালিত হয় ‘যমপুকুর ব্রত’! জানেন এর নেপথ্য গল্প? 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  গ্রাম বাংলায় অবিবাহিত  হিন্দু মহিলারা ‘যমপুকুর ব্রত’ উদযাপন করে থাকেন। সম্পূর্ণ কার্তিক মাস ব্যাপী এই ব্রত পালন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ,চার বছর এই ব্রত পালন করতে হয়। এই ব্রতের উদ্দেশ্য হলো- পরলোক গমন করেছে এমন প্রতিবেশী-আত্মীয়স্বজনরা যেন উদ্ধার পায় , শান্তি পায় এবং নরক যন্ত্রণা ভোগ না করে‌ ।

    বসতবাড়ির উঠোনে বা মেঝেতে আল দিয়ে অথবা পুকুর পাড়ে এই ব্রত করা হয়। প্রাচীন কালে এক ব্রাহ্মণী ছিলেন। তাঁর একটি পুত্র এবং একটি কন্যা সন্তান ছিল। কন্যার সাথে বিয়ে হয় যমরাজের। কন্যার বিবাহের পর ব্রাহ্মণীর খুব মন খারাপ হয়ে যায়। বাড়িতে তিনি কন্যার অভাব পূরণ করতে ছেলের বিয়ে দেন। ছেলের বৌ নিজ গুণে সবার মন জয় করে। কার্তিক মাস শুরু হতেই উঠোনে খুঁড়ে সে যমপুকুর ব্রত আরম্ভ করে, তা দেখে তাঁর শ্বাশুড়ির মনে হয় ছেলের বৌ তাঁকে তুকতাক করছে। উঠোনের যমপুকুর শ্বাশুড়ি বুজিয়ে দেয়। ছেলের বৌ যমকে উদ্দেশ্যে করে কাঁদতে কাঁদতে বলে -‘আমি তোমার উদ্দেশ্যে যমপুকুর ব্রত করলাম। আমার একবছর হলো’। এরপরের চারবছরে একই ভাবে শ্বাশুড়ির চোখের আড়ালে এই ব্রত সম্পন্ন করতে চায় তার ছেলের বৌ। কিন্তু প্রতিবারই ধরা পড়ে যায়। প্রতিবারই তার শ্বাশুড়ি যমপুকুর মাটি ফেলে বন্ধ করে দেয় এবং তাঁর ছেলের বৌ যমের উদ্দেশ্যে যমপুকুর ব্রত সম্পন্ন হওয়ার কথা বলে। এই ভাবে চারবছর ধরে ছেলের বৌ ‘যমপুকুর ব্রত’ সম্পন্ন করে‌। এরপর অসুস্থতার কারণে তাঁর শ্বাশুড়ি মারা যায়। শ্রাদ্ধ শান্তির জন্য যমরাজের স্ত্রী অর্থাৎ ব্রাহ্মণীর মেয়ে তখন বাপের বাড়ি যায় এবং কাজকর্ম সেরে পুনরায় যমরাজের কাছে ফিরে আসে। যমরাজ তখন তাঁর স্ত্রী কে বলে কখনও যমলোকের দক্ষিণ দিকে যাবে না। কৌতূহলী মনে যমরাজের স্ত্রী ভাবলো কি আছে দক্ষিণ দিকে ? দেখতেই হবে। দক্ষিণ দিকে যেতেই দেখলো তাঁর নিজের মা তখন নরক যন্ত্রণা ভোগ করছেন। যমরাজের স্ত্রী তখন ছুটে যমরাজের কাছে গিয়ে তাঁর নিজের মায়ের উদ্ধারের কথা বলে। যমরাজ তখন বলে, ‘যে ছেলের বৌকে তোমার মা এতো কষ্ট দিয়েছে , সে যদি তোমার মায়ের উদ্দেশ্যে যমপুকুর ব্রত উদযাপন করে তবেই তোমার মা উদ্ধার পাবেন’। কিন্তু সে কি রাজি হবে? যম একথা বলার পরেই তাঁর স্ত্রী ছুটে গেল বাপের বাড়ি। তখন দেখলো তার ভাইয়ের বৌ প্রসব যন্ত্রণা ভোগ করছে। কিন্তু প্রসব হচ্ছে না‌। যমের স্ত্রী তাঁকে বললো -” শ্বাশুড়ির উদ্দেশ্যে যমপুকুর ব্রত উদযাপন করলেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে” । তখন তার ভাইয়ের বৌ যমপুকুর ব্রত সম্পন্ন করলো । তার গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো এবং শ্বাশুড়ি উদ্ধার পেল।

    প্রথমেই ধান, মানকচু, কলা, হলুদ, কলমী, শুশনি, ও হিঞ্চের চারাগাছ, সুপুরি, কয়েকটি কড়ি এবং কয়েকটি মাটির মূর্তি সংগ্রহ করতে হয়।

    আরও পড়ুন: জনশ্রুতি, তাঁর নামেই হয়েছে রানাঘাট শহরের নামকরণ, জানুন রণ ডাকাতের কালীপুজোর গল্প

    এরপর চারটি ঘাটসহ চৌকো একটি পুকুর ( একহাত ×একহাত ক্ষেত্রফলের) কাটতে হয়। এটি জলপূর্ণ করে দক্ষিণদিকের ঘাটে আলপনার উপর মাটির যমরাজ, যমরাণী ও যমের পিসির মূর্তি স্থাপন করতে হয়। উত্তরদিকের ঘাটে মেছো ও মেছুনী, পূর্বদিকস্থ ঘাটে ধোপা ও ধোপানী, পশ্চিমদিকের ঘাটে মাটির কাক, বক, চিল, কুমির, কচ্ছপ, হাঙর ইত্যাদির মাটির মূর্তি রাখতে হয়। পুকুরের মাঝখানে একগোছা ধান, কলমী, শুশনি ও হিঞ্চে গাছ পুঁততে হয়; কচু, হলুদ প্রভৃতি গাছ পাড়ে থাকে। পুজোর সময় পুকুরের চারকোণে চার কড়া কড়ি, চারটি হলুদ ও সুপারি পুঁতে দিয়ে একটি প্রদীপ জ্বালতে হয়; তারপর পূর্বদিকে মুখ করে বসে ফুল সহযোগে যমের পুজা করতে হয়। পুকুরে জল দেওয়ার, গাছে জল ঢালার এবং মূর্তিগুলি পূজা করার আলাদা আলাদা মন্ত্র আছে। 

    পুজো শেষ করে বলতে হয়-
    “সাত ভাইয়ের বোন আমি ভাগ্যবতী।
    যমপুকুর পূজি আমি, সাক্ষী জগৎপতি।।” চার বছর এই ব্রত করতে হয়। চতুর্থ বছরে ব্রাহ্মণ ভোজন করানোর নিয়ম চালু রয়েছে। গ্রাম বাংলায় এই ব্রত আজও পালিত হয়।

LinkedIn
Share