Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Debi Chaudhurani Kali Puja: ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী কাল্পনিক নয় বরং ঐতিহাসিক চরিত্র, জানুন তাঁদের কালী পুজোর কথা

    Debi Chaudhurani Kali Puja: ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী কাল্পনিক নয় বরং ঐতিহাসিক চরিত্র, জানুন তাঁদের কালী পুজোর কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আনন্দ মঠের পর এটাই ছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় কোনও উপন্যাস, যেখানে ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রাম এবং চরমপন্থী জাতীয়তাবাদ স্থান পেয়েছিল। ইতিমধ্যে পাঠক হয়তো বুঝতে পেরেছেন, এখানে ‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাসের কথাই বলা হচ্ছে। ১৮৮৪ খ্রীস্টাব্দে লিখিত এই উপন্যাসের চরিত্র হরবল্লভের পুত্রবধূ মানে ব্রজেশ্বর এর স্ত্রী প্রফুল্লর শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়া এবং জঙ্গল মধ্যে ডাকাত দলের সর্দার ভবানী পাঠকের সুনিপুণ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘দেবী চৌধুরানী’ হয়ে ওঠার গল্প প্রত্যেক বাঙালির কাছেই এভারগ্রীন। কখনো পুরোনো হয়না‌। শার্লক হোমসের ঠিকানায় (২২১/বি বেকার স্ট্রিট, লন্ডন) একসময় প্রচুর চিঠি পাঠাতেন পাঠকরা। তাঁরা ভাবতেন আর্থার কোনান ডায়েল সৃষ্ট এই চরিত্র কাল্পনিক নয় বরং বাস্তবিক। শার্লক হোমস তো কাল্পনিক ছিল কিন্তু জানেন কি ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানী সত্যিই ঐতিহাসিক চরিত্র ছিলেন এবং তাঁরা মা কালীর আরাধনা করতেন। তাঁদের প্রচলিত কালী পুজো (Debi Chaudhurani Kali Puja) আজও ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে। শুধু তাই নয় জলপাইগুড়ি তে রয়েছে একটি মন্দির যেখানে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর মূর্তি রয়েছে।

    জলপাইগুড়ি জেলার শিকারপুর চা বাগান ঘেরা ছোট্ট গ্রামে ঐতিহাসিক দেবী চৌধুরানী মন্দির। পাশাপাশি দুটি মন্দির রয়েছে এখানে। তার মধ্যে একটি মা কালীর মন্দির (Debi Chaudhurani Kali Puja)। কালী মন্দিরের পাশের মন্দিরে একটি পুরুষ ও নারী মূর্তি রয়েছে। পাশাপাশি বাঘ, শিয়াল ও আরও কিছু বিগ্রহ আছে। অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন এটি শিব-পার্বতীর মন্দির। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, বিগ্রহটি ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানীর। মূলত দেবী চৌধুরানীর মন্দিরের খ্যাতিতেই বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা এখানে আসেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে এটি বাড়তি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এখানকার কালীমন্দিরও জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ বলেই স্থানীয় ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে। এই মন্দিরে রীতিমতো নিয়ম ও নিষ্ঠার সাথে বছরে দুবার কালীপুজো হয়। একবার আষাঢ় মাসে, আরেকবার কার্তিক মাসে।  বরং এখানকার কালীপূজার আলাদা রোমাঞ্চ রয়েছে ভক্তদের কাছে। ঝোপ জঙ্গলে ভরা, অরণ্য মাঝে এই কালী মন্দিরের অবস্থান। শহরের কোলাহল থেকে নির্জন বনে দেবীর উপাসনা ভক্তদের মধ্যে ‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাস কে জীবন্ত করে তোলে‌। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সারারাত জেগে এই পুজো দেখতে যান।

    অন্যদিকে মালদহের রতুয়া ২ নম্বর ব্লকের গোবরজনা গ্রামের কালী মাতা ঠাকুরানি মন্দির (Debi Chaudhurani Kali Puja) । প্রচলিত বিশ্বাস মতে, ঘন অরণ্যে ঘেরা ছিল গোবরজনা গ্রাম। পাশেই বয়ে চলেছে কালিন্দ্রী নদী। একবার ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানী বজরা নিয়ে যাচ্ছিলেন কালিন্দ্রী নদী বেয়ে। তাঁদের গন্তব্য বঙ্গের উত্তরে। কিন্তু তাঁদের বজরা মাঝ পথেই থেমে গেছিল নদীর এক বালিয়াড়িতে। দেবী চৌধুরানী স্বপ্নাদেশ পেলেন মা কালীর। তিনি সেখানে তাঁদের পুজো নিতে চান। ভবানী পাঠক এবং দেবী চৌধুরানী সেখানেই মায়ের মূর্তি তৈরি করে পুজো সম্পন্ন করলেন। এই পুজোয় আজও লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়‌। যদিও, ধুমধাম করে সম্পন্ন হওয়া গোবরজনার এই কালীপুজো দেবী চৌধুরানী চালু করেছিলেন বলে অনেকেই মানতে চাননা‌। ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক ছিলনা‌। রাঢ় বঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের সাথেও জড়িয়ে রয়েছে এই দুই গুরু শিষ্যার নাম। গবেষকরা মনে করেন, দেবী চৌধুরানি যে বজরা নিয়ে ডাকাতি করতে যেতেন, সেই বজরা নিয়ে ভেসে এসে দামোদরের পারে গভীর জঙ্গলে আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে এই জায়গা থেকেই নিজের কাজ চালিয়ে যেতেন ঐতিহাসিক দুই চরিত্র ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানি। বর্তমান দুর্গাপুরের অম্বুজা কলোনিতে রয়েছে ভবানী মাতার মন্দির। এই মন্দিরটি ভবানী পাঠকের মন্দির বলে জনশ্রুতি রয়েছে। একটা সময় এই মন্দিরে এসে আত্মগোপন করেছেন বহু বিপ্লবী। এমনকি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর এখানে এসে রাত্রিযাপনের কথাও প্রচলিত রয়েছে। দুর্গাপুরের এই এলাকায়  জঙ্গল ঘেরা পরিবেশের এই মন্দিরে অনেক ভক্ত আসেন ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর মন্দির দর্শন করতে। তারাপীঠের মায়ের রীতি মেনে শ্যামাকালী পুজোর আগের নিশিরাতে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী আরাধিত এই মা কালীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এই পুজোর বিশেষ রীতি হলো ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি উচ্চারণ।

  • Sai Baba: সাইবাবার জীবন জুড়ে রয়েছে নানান অলৌকিক কাহিনী! তাঁর তিরোধান দিবসে জানুন সেই গল্প

    Sai Baba: সাইবাবার জীবন জুড়ে রয়েছে নানান অলৌকিক কাহিনী! তাঁর তিরোধান দিবসে জানুন সেই গল্প

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: পুণের নামকরা ব্যক্তিত্ব, সম্ভ্রান্ত মানুষ ভীমাজী পেটেল টাঙা থেকে আশ্রমের গেটে নামলেন। দুরারোগ্য যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত তিনি। উপাসনা করে থাকেন তিনি , এমন সব ঠাকুরের কাছে মানত করেও কোনও ফল হয়নি। শীর্ণকায় শরীরে আশ্রমের দরজা  থেকে সন্ন্যাসীর  কাছ পর্যন্ত যাওয়ার ক্ষমতাও তাঁর নেই। কঙ্কালসার দেহটিকে টানতে টানতে, ধুঁকতে থাকা ভীমা, হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে সন্ন্যাসীর পায়ে গিয়ে পড়লেন। বললেন, ‘আমাকে তুমি কৃপা করো, রোগ থেকে মুক্ত করো’। একগাল হেসে সন্ন্যাসী হেসে বললেন, ‘তাঁর কৃপা হলে তুমি আবার দাঁড়িয়ে উঠবে, আবার আগের মতোই বাঁচবে’। এই কথা বলে ওই বাবাজী ধুনির পাশে জমে থাকা ভস্ম থেকে একমুঠো ভস্ম নিয়ে ভীমার মাথায় মাখিয়ে দিলেন। সামনে বসে থাকা ভক্তরা বিস্মিত হয়ে দেখলো, কঙ্কালসার হয়ে যাওয়া ভীমাজীর মৃতপ্রায় দেহটা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। আগের থেকে তাঁর চোখমুখ অনেক উজ্জ্বল। হাজার হাজার মানুষের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই অলৌকিক ঘটনার কোনও ব্যাখ্যা খুঁজে না পাওয়া গেলেও, ভীমাজী কিন্তু সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। ভক্তরা স্তম্ভিত হয়ে জয়ধ্বনি দিয়ে উঠল বাবাজীর নামে। এমন প্রচলিত বহু গল্প রয়েছে এই বাবাজী সম্পর্কে।

    গল্প যাই থাকুক উনবিংশ শতকে তিনি ছিলেন এই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মগুরু। শিরডির সাইবাবা। আজ তাঁর তিরোধান দিবস। ১৯১৮ সালের ১৫ই অক্টোবর তাঁর প্রয়াণ হয়। প্রচলিত বিশ্বাস মতে, ব্রাহ্মণ ঘরে ১৮৩৫ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। অনেক ভক্তের মতে, তিনি ছিলেন সদ্গুরু, সুফি পির বা কুতুব। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়লেও, ভারতেই তিনি সর্বাধিক শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। সাই বাবার প্রকৃত নাম জানা যায় না শিরডিতে আগমনের পর তাকে “সাই” নাম দেওয়া হয়। তার জন্ম বা জন্মস্থান সংক্রান্ত কোনও প্রামাণিক তথ্য আজও জানা যায় না। সাই বাবা তাঁর পূর্বাশ্রমের কথা জানিয়ে যাননি। সাই শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। এই শব্দের অর্থ “সাক্ষাৎ ঈশ্বর” বা “দিব্য”। ভারতীয় ভাষাগুলিতে সাম্মানিক “বাবা” কথাটির অর্থ “পিতা”, অর্থাৎ, সাই বাবা নামের অর্থ “দিব্য পিতা” বা “পিতৃরূপী সন্ত”। তাঁর পিতামাতা, জন্মের বৃত্তান্ত এবং ষোলো বছর বয়সের পূর্বের কথা জানা যায় না।

    আরও পড়ুন : ভোল বদলে ঢোকার চেষ্টা করছে শহুরে নকশালরা, গুজরাটবাসীকে সতর্ক করলেন মোদি

    সাই বাবা পার্থিব বস্তুর প্রতি আগ্রহী ছিলেন না।  আত্ম-উপলব্ধি ছিল তাঁর প্রিয় বিষয়। তিনি সন্ত হিসেবে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বিশ্বের নানা অংশের মানুষ তার পূজো করেন। ভালবাসা, ক্ষমা, পরস্পরকে সহায়তা, দান, সন্তুষ্টি, আন্তরিক শান্তি ও ঈশ্বর ও গুরুর প্রতি ভক্তির শিক্ষা দিতেন। আমেদাবাদের শিরডিতে পৌঁছে লোকমধ্য তাঁর বাণী দিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন তিনি। যে মসজিদে তিনি বাস করতেন, তার একটি হিন্দু নামও দিয়েছিলেন। এই নামটি হল “দ্বারকাময়ী”।  শিরডির একটি হিন্দু মন্দিরে তাকে সমাহিত করা হয়। তাঁকে ঘিরে বাংলাতেও পাঁচালী পাওয়া যায় ,  
    ভিক্ষা করি চাল আনি অন্ন রন্ধন করি।
    পশুপক্ষীকে দিয়ে তবে খেতেন পেট ভরি।।
    কখনো আশ্রিতদের কিছু অন্ন দিয়ে।
    অর্ধ পেট ভোজনেও থাকতেন তৃপ্ত হয়ে।।
    ভারতেই নয়, বিদেশেও হিন্দু, মুসলিম, শিখ ইত্যাদি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা তাঁর পুজো করে থাকেন।

  • Neel Saraswati Puja: কথিত আছে, দেবী নীল সরস্বতীর আশীর্বাদে জন্ম তারাশঙ্করের, কথাসাহিত্যিক-এর পৈতৃক ভিটের পুজোর কথা জানুন

    Neel Saraswati Puja: কথিত আছে, দেবী নীল সরস্বতীর আশীর্বাদে জন্ম তারাশঙ্করের, কথাসাহিত্যিক-এর পৈতৃক ভিটের পুজোর কথা জানুন

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’, ‘গণদেবতা’ এর মতো জনপ্রিয় উপন্যাসগুলির লেখক তিনি। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে তিনিই এ বাংলার অন্যতম প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক। বীরভূম জেলার লাভপুরের এই প্রতিভাবান কথাসাহিত্যিক তাঁর ‘গণদেবতা’ উপন্যাসের জন্য ১৯৬২ সালে পেয়েছিলেন জ্ঞানপীঠ পুরস্কার।  তিনি ছিলেন মা তারার আটটি রূপের অন্যতম রূপ নীল সরস্বতীর (Neel Saraswati Puja) ভক্ত। মা তারা তাঁর গৃহের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাইতো গণদেবতা, ধাত্রীদেবতা, কবি প্রভৃতি উপন্যাসে বারবার উঠে এসেছে মা তারার প্রসঙ্গ। কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (Tarasankar Bandyopadhyay) তখনও জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পাননি। সে সময় তাঁর গৃহের নীল সরস্বতী পূজা সম্পন্ন করতেন পুরোহিত গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য।

    কথিত আছে, লাভপুরের অদূরে কোতলঘোষা গ্রামের এই পূজারী ব্রাহ্মণ কে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় জিজ্ঞাসা করেন , “ভচ্চার মশায় , পুরস্কার পাবো তো?” প্রত্যুত্তরে গৌরী বাবু বলেন, “হ্যাঁ , নিশ্চয়ই পাবে।”‌ একথা বলার কিছুদিনের মধ্যেই এই বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান। এমনটাই বললেন সুভাষ ভট্টাচার্য‌। গৌরীশঙ্কর বাবুর পুত্র। বর্তমানে কথাসাহিত্যিক-এর গৃহের নীল সরস্বতী (Neel Saraswati Puja) পূজার পুরোহিত। কিন্তু তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গৃহে নীল সরস্বতীর পূজার প্রচলন কবে থেকে? কেনই বা তাঁর গৃহে নীল সরস্বতীর পূজা  শুরু হলো? এর উত্তর জানতে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে অনেকখানি।

    আজ থেকে ১২৬ বছর আগে। ১৮৯৭ সাল নাগাদ। তখন লাভপুরের জমিদার ছিলেন হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। সতীপীঠ ফুল্লরা তে এসময় সাধনা করতেন তান্ত্রিক রামজী গোঁসাই ওরফে বলভদ্র পান্ডে। তিনি হরিদাস বাবু ও তাঁর স্ত্রী প্রভাবতী দেবীকে আশ্বিন মাসে দুর্গাপুজোর অন্তে শুক্ল চতুর্দশীর রাতে মা তারার আরেক রূপ নীল সরস্বতী (Neel Saraswati Puja) পূজার পরামর্শ দেন। তাঁর কথামতো নীল সরস্বতী পুজো সম্পন্ন করার ঠিক দশমাস পরে ৮ই শ্রাবণ ১৩০৫ সালে জন্ম হয় তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মা তারার আশীর্বাদে তিনি ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন, এই বিশ্বাসের জন্যই তাঁর নাম তারাশঙ্কর রাখা হয়‌। তখন থেকেই নীলসরস্বতীর পুজোর প্রচলন হয়, এই কথাসাহিত্যিক এর  গৃহে। দুর্গাপূজার পরে শুক্লা চতুর্দশী যা কিনা মা তারার আবির্ভাব তিথি হিসেবে গণ্য হয় , এই তিথিতেই নীল সরস্বতীর পুজো হয় লাভপুরের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে।

    দেবীর গাত্রবর্ণ নীল (Neel Saraswati Puja)। সমগ্র দেহে সাপ জড়ানো। ভীষণ দর্শনা এই দেবীর পায়ের নীচে জটাধারী শবরূপ মহাদেব থাকেন। দেবীর  গলায় মুন্ড মালা, হাতে নরমুন্ড ও পরনে বাঘছাল থাকে। শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে সন্ধ্যায় এই পুজো শুরু হয়, চলে মধ্যরাত্রি অবধি। যজ্ঞও হয়। অন্যতম সতীপীঠ ফুল্লরা তলাতে প্রথমে দেবীর পুজো হয় তারপর কথাসাহিত্যিক এর বাড়িতে পুজো হয়। প্রথমে গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে এক মন্দিরে এই পুজো সম্পন্ন হত। যা এলাকায় তারা মায়ের ডাঙ্গা নামেই প্রসিদ্ধ। পরে মন্দির বেহাল হয়ে গেলে, এই পুজো সম্পন্ন হতে থাকে কথাসাহিত্যিক এর পারিবারিক দুর্গা মন্দিরে। কথাসাহিত্যিক এর ভাইপো পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় তারা মায়ের ডাঙ্গায় অবস্থিত মন্দিরটি সংস্কার করেন ২০১৩ সালে। তখন থেকে নীল সরস্বতীর পুজো আবার তারা মায়ের ডাঙ্গায় সম্পন্ন হয়, যেমনটা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মের পরে হতো‌। এ প্রসঙ্গে কথিত আছে, দলিত সম্প্রদায়ের মানুষজনকে এই পুজোতে তখন ফুল্লরা মন্দিরে যেতে দেওয়া হতো না। তখন দলিত সম্প্রদায়ের লোকেরা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের কাছে এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারপর তাঁদের জন্য তৈরী হয় নবফুল্লরা তলা। যেটি বর্তমান তারাশঙ্কর ভবনের একেবারে পাশেই। লাভপুরের নীল সরস্বতীর পুজো সমগ্র গ্রামের মানুষজনের আস্থা, বিশ্বাস ও ভক্তির আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে আজ। আগে এই পুজোতে ছাগলবলি দেওয়া হতো। কিন্তু, এখন তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তার সঙ্গে তারামায়ের ভোগ হিসেবে খিচুড়ি, লুচি, সুজি থাকে। গ্রামের প্রায় সমস্ত মানুষ জন রাত্রিতে পাত পেড়ে মায়ের প্রসাদ গ্রহণ করেন।

  • Tarapith: আজ তারা মায়ের আবির্ভাব দিবস! উত্তরমুখী তারা মা’কে এদিন পশ্চিম মুখে বসানো হয় কেন জানেন?

    Tarapith: আজ তারা মায়ের আবির্ভাব দিবস! উত্তরমুখী তারা মা’কে এদিন পশ্চিম মুখে বসানো হয় কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথিত আছে আশ্বিনের শুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে মা তারার (Tara Maa) আবির্ভাব ঘটে তারাপীঠে (Tarapith Temple)। জনশ্রুতি,কোজাগরী পূর্ণিমার আগের দিন তারাপীঠ মহাশ্মশানের শ্বেত শিমুল গাছের নীচে দেবীর শিলামূর্তি পেয়েছিলেন ঋষি বশিষ্ঠ। পরে সেই মূর্তি তলিয়ে যায় কালের গর্ভে। পাল রাজাদের আমলে জয়দত্ত সওদাগর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে দেবীর শিলা মুর্তি উদ্ধার করে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। জয়দত্তের পর নাটোরের রানি পুনরায় তৈরি করেন মন্দির। 

    আজ শনিবার, তারা মায়ের আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে  সকাল থেকেই তারাপীঠ মন্দিরে ভক্তদের ঢল নেমেছে। শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর তোড়জোড়। তারা মা সাধারণভাবে উত্তরমূখী হলেও, এ দিন তাঁকে পশ্চিম দিকে মুখ করে বসানো হয়। আয়োজন করা হয় বিশেষ পুজোর। তার জন্য চলছে শেষ লগ্নের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে মন্দির চত্বরে বহু দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় জমিয়েছেন শুধুমাত্র আজকের দিনে মা তারার দর্শনের জন্য। কথিত আছে,  বাংলার ১১০৮ ও ইংরেজির ১৭০১ সালে তান্ত্রিক ও পুরোহিতরা এই আবির্ভাব তিথিতে বিশ্রাম মন্দিরের পূর্ব দিকে মুখ করে পুজোয় বসতেন ৷ সে সময় মালুটির নানকার রাজা রাখর চন্দ্র মায়ের সামনে আরাধনায় বসেন৷ তা দেখে তান্ত্রিক, সাধকরা রাজাকে পুজোয় বাধা দেন৷ শুধু তাই নয়, তাঁর পুজো বন্ধ করে দেন৷ অভিমান করে রাজা চলে যান দ্বারকা নদীর পশ্চিম পাড়ে ৷ সেখানেই ঘট প্রতিষ্ঠা করে শুরু করেন পুজো৷ পুজো শেষে ফিরে যান মলুটি গ্রামে ৷ সেই রাতেই তৎকালীন প্রধান তান্ত্রিক আনন্দনাথকে স্বপ্নে দেখা দেন তারা মা৷ বলেন, রাখরচন্দ্র আমার ভক্ত, সে অভিমান করে চলে গিয়েছে ৷ এ বার থেকে আমার পুজো যেন পশ্চিম মুখে মলুটির কালিবাড়ির দিকে মুখ করেই করা হয় ৷ তারপর থেকে এই দিকে দেবী-কে একদিনের জন্য পশ্চিম মুখে বসিয়ে পুজো করার রীতি।

    আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর পরে পূর্ণিমা তিথিতে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মাতে বাঙালি! জানেন কেন “কোজাগরী” পুজো বলে?

    আজকের দিনেই মা তারাকে মূল গর্ভগৃহ থেকে বের করে এনে বিশ্রাম কক্ষে রাখা হয়। সন্ধের পর আবাবও তাঁকে গর্ভগৃহে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়। সারাদিন বিরাম মঞ্চে থাকার পর বিকেলে আরতির পর তারা মা-কে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মূলমন্দিরে। স্নানের পর নবরুপে সাজানো হয় দেবীমূর্তিকে। রীতি অনুযায়ী আজ মা তারার উপোস। এ দিন মায়ের মধ্যাহ্ন ভোগ হয় না। দিনভর তাই ফল-মিষ্টি খান মা সন্ধ্যায় মূল মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে ভোগ নিবেদন করা হয়। মা তারা যেহেতু অভুক্ত থাকেন, তাই প্রসাদ নিবেদন না হওয়া পর্যন্ত আজ মন্দিরের সব সেবায়েত অভুক্ত থাকেন ৷ মাকে ভোগ নিবেদনের পর তাঁরা প্রসাদ গ্রহণ করেন।

  • Kojagari Puja: দুর্গাপুজোর পরে পূর্ণিমা তিথিতে ধন-সম্পদের দেবী  লক্ষ্মীর আরাধনায় মাতে বাঙালি! জানেন কেন “কোজাগরী” পুজো বলে? 

    Kojagari Puja: দুর্গাপুজোর পরে পূর্ণিমা তিথিতে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মাতে বাঙালি! জানেন কেন “কোজাগরী” পুজো বলে? 

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: “এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরেআমার এ ঘরে থাকো আলো করে “-  এই ছন্দেই বাঙালি ধনদেবীর আরাধনা করে।

    লক্ষ্মী দেবীকে এই রীতিতে আবাহন করার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর মাহাত্ম্য। শারদীয়া দুর্গাপুজোর অন্তে পূর্ণিমা তিথিতে পুজো হয় দেবী লক্ষ্মীর। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিনি ধন, ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধি, সুখ, শান্তি প্রদানকারী দেবী। বাংলার গৃহস্থ কত্রী থেকে সমাজের বণিক বা ব্যবসায়ী প্রত্যেকের কাছেই সাদরে পূজিতা হন এই দেবী। প্রতিমা ছাড়া শুধুমাত্র ঘট এবং অন্যান্য প্রতীকের মাধ্যমেও অনেক গৃহে দেবীর উপাসনা হয়। দুর্গাপূজার মন্ডপগুলিতেও কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো নিশ্চয়ই আমাদের দৃষ্টি এড়ায় না। গ্রাম বাংলায় ধানের গোলা সমেত মাটির দেওয়ালের বাড়ি এখন আর সেভাবে দেখা যায় না। লক্ষ্মী পুজো উপলক্ষে গোবরের গোলা এবং আলপনায় এই মাটির বাড়িগুলোই যেন সবথেকে বেশী প্রাণবন্ত হয়ে উঠতো।  

    এবার আসা যাক, “কোজাগরী” শব্দের আক্ষরিক বিশ্লেষণে- কোজাগরী শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ‘কো জাগতী’ থেকে। এর অর্থ ‘কে জেগে আছো?’ বিশ্বাস মতে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিনে ধন-সম্পদ-ঐশ্বর্য এর দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতীর্ণ হন এবং প্রতিটি ভক্তের বাড়ি গিয়ে সুখ, সমৃদ্ধি  প্রদান করেন। কথিত আছে, এ ক্ষেত্রে যে বাড়ির দরজা খোলা থাকে একমাত্র সেই বাড়িতেই প্রবেশ করেন দেবী কারও বাড়ির দরজা বন্ধ থাকলে, তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মী প্রবেশ করেন না ও সেখান থেকে ফিরে চলে যান। এ কারণে লক্ষ্মীপুজোর রাতে জেগে থাকার রীতি প্রচলিত আছে। সারা রাত জেগে লক্ষ্মী আরাধনাই এই পুজোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এখানেই কোজাগরী শব্দ এই লক্ষ্মী পুজোর সাথে সম্পর্কিত হয়ে ওঠে। বাংলার প্রতিটি ঘর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে , প্রদীপের আলোতে সুসজ্জিত থাকে।

    প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর পরে এই বিশেষ পূর্ণিমার রাতে যে ব্যক্তি জেগে পাশা খেলেন, দেবী লক্ষ্মী তাঁকে ধনসম্পদ দান করেন। মূর্তি ছাড়াও নানান প্রতীকের মাধ্যমে দেবীকে কল্পনা করে পুজো করা হয়, এই বিশেষ পূর্ণিমার রাতে।  গৃহস্থ কত্রীরা এই প্রতীকগুলির ভিন্ন ভিন্ন নামকরণও করেছেন যেমন আড়ি লক্ষ্মী। এ ক্ষেত্রে ধান ভর্তি ঝুড়ির ওপর কাঠের লম্বা দুটি সিঁদুর কৌটো লালচেলিতে মুড়ে লক্ষ্মীর রূপ দেওয়া হয়। “বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী”- বাণিজ্যের উপর মা লক্ষ্মীর কৃপা দৃষ্টি পেতে আবার কোন বণিক না চায়! তাই  কলার পেটোর তৈরি নৌকা লক্ষ্মী আরাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলিকে সপ্ততরী বলা হয়। বাণিজ্যিক নৌকার প্রতীক এই সপ্ততরী। অনেকেই পুজোর সময় এই সপ্ততরীতে টাকা, শস্য, হরিতকি, কড়ি, হলুদ রাখেন।

    পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ্মীসরা আঁকা হয়। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে এই সরায় অঙ্কিত পুতুলের সংখ্যাও বদল হয়ে যায়। কোথাও তিনটি, কোথাও পাঁচটি, কোথাও সাতটি পুতুল আঁকা হয়। এতে থাকে লক্ষ্মী, জয়া ও বিজয়া-সহ লক্ষ্মী, রাধাকৃষ্ণ, সপরিবার দুর্গা ইত্যাদি। সুরেশ্বরী সরা নামক একপ্রকারের সরা দেখা যায় যেখানে মহিষাসুরমর্দিনী অর্থাৎ মা দুর্গা আঁকা থাকে। আর এই সরার নীচের দিকে থাকেন সবাহন লক্ষ্মী। আবার কলার বের ও লক্ষ্মীর মুখ সমন্বিত পোড়া মাটির ঘটকেও লক্ষ্মী রূপে কল্পনা করে পুজো করা হয়। এই ঘটে চাল বা জল ভরে সেটিকে লক্ষ্মী কল্পনা করে পুজো করা হয়। অনেক জায়গায় গৃহস্ত কত্রীরা নিজেরাই এই পুজো করতে পারেন৷ শ্বেতপদ্ম ও শ্বেতচন্দন দ্বারা দেবী  লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। নৈবেদ্যতে ফলমূল তো রাখতেই হয়, বিশেষ ভাবে থাকে চিড়ে এবং নারকেল। আতপ চাল তো লাগেই।  ঘরে ঘরে আলো জ্বেলে রাখা হয়, ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে যে ঘরে আলো জ্বলে সেখানেই মা লক্ষ্মী পা রাখেন। মা লক্ষ্মীর ঘটের সামনে কড়ি রাখা হয়। প্রতিটি দ্বারে দ্বারে আলপনা দেন গৃহস্থ কত্রীরা। লক্ষ্মী দেবীর ১০৮ নাম জপ করলে এবং কোজাগরী পূর্ণিমার দিন লক্ষ্মী পাঁচালি পড়লে সৌভাগ্যের উদয় হয় , গৃহে সুখ, শান্তি, ধন , সম্পত্তি আসে বলেই ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে।

  • Ujjain Mahakal: উজ্জ্বয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরের গুরুত্ব জানেন? 

    Ujjain Mahakal: উজ্জ্বয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দিরের গুরুত্ব জানেন? 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্য প্রদেশের উজ্জ্বয়িনীতে রয়েছে মহাকালেশ্বর (Ujjain Mahakal) মন্দির (Temple)। এটি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের একটি। মঙ্গলবার বিকেলে এই মন্দিরের লোক করিডরের প্রথম ধাপের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এজন্য খরচ হয়েছে ৮৫০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে এই করিডর তৈরি করা হয়েছে। এই করিডরের ফলে মধ্যপ্রদেশের পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও জানান মোদি। এদিন লাল সুতোয় মোড়া ছিল পবিত্র জ্যোতির্লিঙ্গ। বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে বাজানো হয় শঙ্খ-ঘণ্টা। এর পর রীতি মেনে মন্দিরে পুজো করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে এদিন ছিলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও।

    নশো মিটার দীর্ঘ এই করিডরের উদ্বোধন করে মোদি বলেন, ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মহাকাল লোক করিডরের ফলে পুণ্যার্থীদের মন্দিরে আসতে আরও সুবিধা হবে। এই করিডরেই বিশ্বমানের নানা আধুনিক পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাও নিতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, সে লিঙ্গ তৈরি করা হয় না, স্বয়ম্ভু, নিজে থেকে মাটি ফুঁড়ে বের হয় তাকে  জ্যোতির্লিঙ্গ বলে। ভারতে মোট বারটি জ্যোতির্লিঙ্গ রয়েছে। তারই একটি হল মহাকালেশ্বর। ভগবান শিবের আর এক নাম মহাকাল। কাল শব্দের দুটি অর্থ। এক, সময়, দুই মৃত্যু। যেহেতু ভগবান শিব একই সঙ্গে সময় এবং মৃত্যুর দেবতা, তাই তিনি মহাকাল। উজ্জ্বয়িনীর মহাকালেশ্বর (Ujjain Mahakal) ছাড়াও আরও যে এগারোটি জ্যোর্তিলিঙ্গ রয়েছে, সেগুলি হল, গুজরাটের সোমনাথ ও নাগেশ্বর, অন্ধ্রপ্রদেশের মল্লিকার্জুন, মধ্য প্রদেশের ওঁকারেশ্বর, উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ, ভীমশঙ্কর, ত্র্যম্বকেশ্বর, মহারাষ্ট্রের গৃশ্নেশ্বর, বারাণসীর বিশ্বনাথ, দেওঘরের বৈদ্যনাথ এবং তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম।

    আরও পড়ুন : ভোল বদলে ঢোকার চেষ্টা করছে শহুরে নকশালরা, গুজরাটবাসীকে সতর্ক করলেন মোদি

    উজ্জ্বয়িনীর মহাকালেশ্বর (Ujjain Mahakal) মহাদেবের মন্দিরটি রয়েছে শিপ্রা নদীর পাড়ে। হিন্দুদের একাংশের মতে, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে মহাকালেশ্বরই সব চেয়ে পবিত্র। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ভগবান মহাকালেশ্বরের নির্দেশেই চালিত হয় এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা। কালিদাসের ‘মেঘদূতে’ও উল্লেখ রয়েছে মহাকালেশ্বরের জ্যোতির্লিঙ্গের।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Guhyakalika Temple: বীরভূমের নলহাটিতে পূজিতা হন দেবী গুহ্যকালী, জানুন ভীষণ দর্শনা এই দেবী সম্পর্কে

    Guhyakalika Temple: বীরভূমের নলহাটিতে পূজিতা হন দেবী গুহ্যকালী, জানুন ভীষণ দর্শনা এই দেবী সম্পর্কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হলো বীরভূম জেলা। এই জেলার তারাপীঠ, ফুল্লরা তলা সমেত সর্বত্র মাতৃসাধনার রীতি রয়েছে। এমনই এক মাতৃ আরাধনা সম্পন্ন হয় নলহাটি শহর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আকালীপুরে। ভীষণ দর্শনা এই দেবী গুহ্য কালিকা ( গোপন কালী) নামে পরিচিত। আকালীপুরের মন্দিরে (Guhyakalika Temple) গুহ্য কালী হলেন অধিষ্ঠাত্রী দেবী। যে মন্দির ৩০০ বছরের অধিক প্রাচীন বলেই মনে করা হয়। মহারাজা নন্দকুমার এই মন্দির স্থাপন করেছিলেন বলেই জানা যায়। গুহ্যকালী, দেবী কালীর একটি বিশেষ রূপ। দেবীভাগবত পুরাণ মতে, তিনি দেবী শতাক্ষীর শরীর থেকে উৎপন্না অন্যতমা মহাশক্তি। কোনও কোনও সাধক বা তান্ত্রিক এই রূপে কালীর আরাধনা করে থাকেন, তবে গৃহস্থের নিকট এই রূপ “অপ্রকাশ্য”। গুহ্যকালী দ্বিভুজা, সর্পভূষিতা ও খড়্গহস্তা। তাকে সূর্যকালী নামেও অভিহিত করা হয়। যে কোন কালী মূর্তির সাথে আমরা শায়িত অবস্থায় দেবাদিদেব মহাদেব কে দেখতে পাই‌। কিন্তু গুহ্য কালীর মূর্তির সাথে শিব শায়িত অবস্থায় থাকে না‌।

    দেবী গুহ্যকালীর ধ্যানমন্ত্র অনুযায়ী দেবীর গাত্রবর্ণ গাঢ় মেঘের ন্যায়; তিনি লোলজিহ্বা ও দ্বিভুজা; গলায় পঞ্চাশটি নরমুণ্ডের মালা; কটিতে ক্ষুদ্র কৃষ্ণবস্ত্র; স্কন্ধে নাগযজ্ঞোপবীত; মস্তকে জটা ও অর্ধচন্দ্র; কর্ণে শবদেহরূপী অলংকার; হাস্যযুক্তা, চতুর্দিকে নাগফণা দ্বারা বেষ্টিতা ও নাগাসনে উপবিষ্টা; বামকঙ্কণে তক্ষক সর্পরাজ ও দক্ষিণকঙ্কণে অনন্ত নাগরাজ; বামে বৎসরূপী শিব; তিনি নবরত্নভূষিতা; নারদাদিঋষিগণ শিবমোহিনী গুহ্যকালীর সেবা করেন; তিনি অট্টহাস্যকারিণী, মহাভীমা ও সাধকের অভিষ্ট ফলপ্রদায়িনী। গুহ্যকালী নিয়মিত শবমাংস ভক্ষণে অভ্যস্তা। প্রতিবছর কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন গুহ্য কালীর পুজোকে কেন্দ্র করে উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয় আকালীপুরে। সাধারণত  কালীপুজো রাত্রিতে হলেও গুহ্য কালী পুজো রাত্রে হয় না। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে গুহ্য কালীমাতা রাত্রিতে লীলা করতে বের হন। তাই রাত্রিতে মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখার রীতি দেখা যায়। কালী পুজোতেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়না‌‌। 

    আরও পড়ুন: কথিত আছে, দেবী নীল সরস্বতীর আশীর্বাদে জন্ম তারাশঙ্করের, কথাসাহিত্যিক-এর পৈতৃক ভিটের পুজোর কথা জানুন

    মহারাজা নন্দকুমার মন্দির স্থাপন করলেও এই বিচিত্র কালীমূর্তিটি তাঁর দ্বারা নির্মিত হয়নি বলেই কথিত আছে। জনপ্রিয় জনশ্রুতি হলো, মগধরাজ জরাসন্ধ এই মূর্তিটি নির্মাণ করেছিলেন। কালক্রমে বিভিন্ন রাজার হাতে পূজিত হওয়ার পর কাশীরাজ চৈত সিংহের রাজ্যের এক কৃষক তার জমিতে মূর্তিটি খুঁজে পান। সংবাদ পেয়ে চৈত সিংহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেবী গুহ্যকালিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান। এদিকে ওয়ারেন হেস্টিংসও এই মূর্তির সন্ধান পেয়ে এটিকে লন্ডনের জাদুঘরে প্রেরণে উদ্যোগী হন। মূর্তিটি হেস্টিংসের হাত থেকে রক্ষা করতে, চৈত সিংহ সেটিকে গঙ্গাবক্ষে লুকিয়ে রাখেন। মহারাজা নন্দকুমার স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেটিকে কাশী থেকে নিজ জন্মস্থান বীরভূমের ভদ্রপুর গ্রামে নিয়ে আসেন। নন্দকুমার নিজে ছিলেন পরম শাক্ত ও দেবী মহাকালীর ভক্ত। ১৭৭৫ সালের গোড়ায় তিনি মুর্শিদাবাদ-বীরভূমের সীমান্তবর্তী আকালীপুর গ্রামে দেবী গুহ্যকালীর মন্দির নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু ওই বছর জুন মাসে তিনি ইংরেজের হাতে বন্দী হলে, মন্দির নির্মাণে ছেদ পড়ে। ফাঁসির পূর্বে তিনি পুত্র গুরুদাসকে তান্ত্রিক মতে দেবী গুহ্যকালীর প্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়ে যান। লোকশ্রুতি, ওই বছর ১৫ জুলাই মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছিল।

    মন্দিরের দক্ষিণে “পঞ্চমুণ্ডী” নামে পরিচিত একটি সিদ্ধাসন রয়েছে। আকালীপুরের দেবী গুহ্যকালীকে ভক্তেরা অতিশয় “জাগ্রত” দেবী মনে করেন। দূর-দূরান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা এই মন্দিরে “মানসিক” করে পূজা দেন।

  • Valmiki Jayanti 2022: আজ বাল্মীকি জয়ন্তী, রামায়ণের রচয়িতার জীবন কথা জানুন

    Valmiki Jayanti 2022: আজ বাল্মীকি জয়ন্তী, রামায়ণের রচয়িতার জীবন কথা জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাব্য রামায়ণের রচয়িতা তিনি। মর্যাদা পুরুষোত্তম রামচন্দ্রের বীরত্ব গাথা, তাঁর উন্নত নৈতিক চরিত্র কে সংস্কৃত শব্দের দ্বারা ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। এরপর বহু ভাষায়, বহু অঞ্চলে তাঁর রচনাকে প্রামাণ্য ধরে রামায়ণের অনুবাদ চলেছে। আজ মহর্ষি বাল্মীকির জন্মতিথি বা জন্মজয়ন্তী (Valmiki Jayanti 2022)। শারদীয়া দুর্গাপূজার পরের পূর্ণিমায় সারাদেশ ব্যাপী মহাসমারোহে পালিত হয় বাল্মীকি জয়ন্তী। কোথাও মহর্ষি বাল্মীকির প্রতিকৃতি কে পুজো করা হয় কোথাও আবার সুসজ্জিত শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

    কৃত্তিবাসী রামায়ণের সূচনায় মহর্ষি বাল্মীকির প্রথম জীবনের কাহিনী উল্লেখ রয়েছে। যা কমবেশি আমরা সকলেই শুনেছি। প্রথম জীবনে মহর্ষি বাল্মীকি ছিলেন একজন দস্যু। তাঁর পিতার নাম ছিল প্রচেতা। প্রথম জীবনে বাল্মীকির নাম ছিল রত্নাকর। তিনি দস্যুবৃত্তির দ্বারা পরিবারের ভরণ পোষণ করতেন। একদিন দেবর্ষি নারদ রাজপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে বাল্মীকি নারদের সন্নিকটে উপস্থিত হলে, দেবর্ষি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, দস্যুবৃত্তি করে তিনি যে পাপ করছেন তাঁর এই পাপের ভাগী তাঁর পরিবার হবে কি? নারদের কথায় তিনি তার পরিবারের সদস্যদের এই প্রশ্ন করলে সকলেই জানান যে তাঁর পাপের ভাগী তাঁরা হতে চান না। এরপর দস্যুজীবনের পরম সত্য উপলব্ধি করে তিনি দেবর্ষি নারদের নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করেন। নারদ তাঁকে রাম নাম জপ করতে শেখান এবং বলেন এই নামের দ্বারাই তাঁর পূর্বের পাপ ক্ষয় হবে‌।

    কথিত আছে, দস্যু সাধনায় বসেন এবং ব্রহ্মের বরে কবিত্বশক্তি পান। সাধনাকালে তাঁর দেহ বল্মীকের (সংস্কৃত তে যাকে পিঁপড়ের ঢিবি বলে) স্তুপে ঢেকে গিয়েছিল বলে তাঁর নামকরণ করা হয় বাল্মীকি (Valmiki Jayanti 2022)। এরপর অনেকেই তাঁর কাছ থেকে দীক্ষা নেন ও শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তাঁকে সংস্কৃত ভাষার আদি কবিও বলা হয়। প্রথম সংস্কৃত শ্লোকের রচয়িতা হিসেবে তাঁকেই মানা হয়‌। এই প্রসঙ্গে একটি কাহিনী রয়েছে। মহর্ষি বাল্মীকি একবার তাঁর শিষ্য ভরদ্বাজকে সাথে নিয়ে তমসা-তীর্থে স্নান করতে যাত্রা পথে প্রকৃতির অপরূপ নৈসর্গিক শোভা দেখছিলেন। এমন সময় এক ব্যাধ বাল্মীকির সামনে এক ক্রৌঞ্চযুগলের মধ্যে পুরুষ ক্রৌঞ্চকে তীরবিদ্ধ করে। স্ত্রী ক্রৌঞ্চটি করুণ সুরে বিলাপ করতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে ক্রদ্ধ বাল্মীকির মুখ থেকে অভিশাপ বাণীর আকারে উচ্চারিত হয় সৃষ্টির প্রথম শ্লোক :

    মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ।
    যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমোহিতম্।।

    – নিষাদ, তুই চিরকাল প্রতিষ্ঠা লাভ করবি না, কারণ তুই কামমোহিত ক্রৌঞ্চমিথুনের একটিকে বধ করেছিস। কথিত আছে এরপর বাল্মিকী ব্রহ্মাকে ব্যাধ এর কথা বলে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। ব্রহ্মা তখন বলেছিলেন, “শোকের সময় এটি তোমার মুখ হতে নিঃসৃত হয়েছে। অতএব, এটি শ্লোক নামে অভিহিত হোক। তুমি এরূপ শ্লোকে রামচরিত্রের আখ্যান রামায়ণ গ্রন্থ রচনা কর।” সেই অনুসারে মুনিবর বাল্মীকি রামায়ণ রচনা করেন। শোক থেকে উৎপন্ন এই শ্লোক সংস্কৃত সাহিত্যের প্রথম শ্লোক হিসেবে গণ্য হয়। পরবর্তীকালে এই শ্লোকের ছন্দেই বাল্মীকি সমগ্র রামায়ণ রচনা করেন। বাল্মীকি রচিত মূল রামায়ণে ২৪,০০০ শ্লোক ছিল। এই রামায়ণ ছয়টি (মতান্তরে সাতটি) কাণ্ড বা খণ্ডে বিভক্ত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ থেকে ১০০ অব্দের মধ্যে কোনো এক সময়ে এই মহাকাব্য রচিত হয় বলেই ঐতিহাসিকদের ধারণা। মহর্ষি বাল্মীকি রামায়ণ ব্যতীত যোগবশিষ্ঠ নামক অপর এক হিন্দু ধর্মগ্রন্থের রচয়িতা বলেও মনে করা হয়। অশ্বঘোষের বুদ্ধচরিত কাব্যে এই কবির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাল্মীকি কর্তৃক রামায়ণ রচনার নেপথ্য-আখ্যান অবলম্বনে বাল্মীকি-প্রতিভা গীতিনাট্যটি রচনা করেছিলেন।

  • Durga Puja: আজ বিদায়ের পালা! জেনে নিন বিজয়া দশমীর অর্থ 

    Durga Puja: আজ বিদায়ের পালা! জেনে নিন বিজয়া দশমীর অর্থ 

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: দশমী’ মানেই দুর্গা পুজোর শেষ। বন্ধুদের সাথে রেষ্টুরেন্টে খাওয়া, রাত পর্যন্ত মন্ডপের চেয়ারে বসে আড্ডা, অষ্টমীর সন্ধিক্ষণের উপবাস, মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা দর্শন, নবমীর পুষ্পাঞ্জলি সব কিছুতে ইতি টানে দশমী তিথি‌।  অপেক্ষায় থাকতে হয় আরও একটা বছর। বেশীরভাগ দুর্গাপুজো শেষ হয় দশমীতেই। এই দিনেই মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়, কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকে , যেমন বিজয়া দশমী বৃহস্পতিবারে হলে সাধারণত প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে পিতৃগৃহ মানে সোজা কথায় বাপের বাড়ি ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে পাড়ি দেন দেবী উমা। সেই কারণেই এই তিথিকে ‘বিজয়া দশমী’ বলা হয়। মা উমা সকলকে কাঁদিয়ে নিজের চার সন্তানকে সঙ্গে করে কৈলাসে ফিরে যান।

    দশমী প্রসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের একটি কাহিনী উল্লেখযোগ্য। রানী রাসমণীর জামাতা মথুরবাবু একসময় আবেগপ্রবন হয়ে দশমীর দিনেও মা দুর্গাকে বিসর্জন দেবেন না বলে জেদ ধরে বসেন। তখন রামকৃষ্ণদেব তাঁকে বোঝান, বিজয়ার অর্থ দেবীমা ও সন্তানের বিচ্ছেদ নয়। তিনি আরও বলেন যে, মা কখনও তার সন্তানের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেন না। এতদিন মা দালানে বসে পুজো নিয়েছেন এরপর মা মনের মন্দিরে বসে পুজো নেবেন। এরপরেই মথুর শান্ত হন এবং বিসর্জন দেওয়া হয় মা দুর্গার প্রতিমা।

    আরও পড়ুন: চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পেলেন সুইডেনের বিজ্ঞানী সভান্তে পাবো

    দশমী ঘিরে একটি পৌরাণিক কাহিনীও রয়েছে। পুরাণ অনুযায়ী, মা দুর্গা ন’দিন ন’ রাত্রি ব্যাপী প্রবল যুদ্ধ করেন মহিষাসুরের বিরুদ্ধে। অবশেষে দশমী তিথিতে মায়ের হাতে বধ হয় রম্ভা পুত্র মহিষাসুর। মহিষাসুরমর্দিনী হয়ে ওঠেন মা দুর্গা। ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে এই মহিষাসুর বধের জন্যই ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের তেজ থেকে সৃষ্ট হয়েছিল এক নারী মূর্তি। মহিষাসুরের ওপর ব্রহ্মার বরদান ছিল যে কোন পুরুষ তাকে বধ করতে পারবে না। এই কাহিনী আমরা সকলেই শুনেছি। সমস্ত আসুরিক শক্তির ওপর বিজয় প্রাপ্তি হয়েছিল অত্যাচারী মহিষাসুর বধের মধ্যে দিয়ে। সমস্ত দেবতা কূল বিজয় উৎসবে মেতেছিল। তাই এই একে বিজয়া দশমী বলা হয়।

    অন্য একটি কাহিনী অনুযায়ী, দেবী দুর্গার দক্ষকন্যা সতী হয়ে জন্মগ্রহণ এবং স্বামী নিন্দা সইতে না পেরে মৃত্যুবরণের গল্প আমাদের সকলেরই জানা। এরপর  ৫১টি অংশে সতীর মৃত দেহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পর শিব যখন তাণ্ডব থামালেন, তখন বিষ্ণু তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন দক্ষরাজকে ক্ষমা করে দিতে। শিব সেই অনুরোধ ফেলতে পারেননি। উপরন্তু সন্তানহারা বাবার দুঃখ ঘোচানোর জন্য তিনি বলেন, এর পরের জন্মে সতী জন্ম নেবেন হিমালয়রাজ হিমাবত কন্যা পার্বতী রূপে। তখন প্রতি বছর বিজয়া দশমীর দিন পার্বতী আসবেন দক্ষপুরীতে। সতীর বাবা-মায়ের সঙ্গে একটি দিনের জন্য দেখা করতে! তাই আজ পার্বতীর ঘরে ফেরার দিনও বটে বলে পৌরাণিক মত রয়েছে‌। এছাড়াও আজকের তিথিতেই রাক্ষসরাজ রাবণের উপর ভগবান রামচন্দ্র বিজয় প্রাপ্ত করেছিলেনবলে মনে করা হয়। তাই এটা বিজয়া দশমী। এদিন ছোটরা বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে, মিষ্টি মুখ করানো হয় মা উমার। মহিলা দের মধ্যে সিঁদুর খেলার রীতি দেখা যায়।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Durga Puja: মহানবমীর মাহাত্ম্য! জানুন মাতা সিদ্ধিদাত্রীর পৌরাণিক আখ্যান

    Durga Puja: মহানবমীর মাহাত্ম্য! জানুন মাতা সিদ্ধিদাত্রীর পৌরাণিক আখ্যান

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: নবরাত্রির শেষ দিনে পূজিতা হন মাতা সিদ্ধিদাত্রী। এই দেবী মা দুর্গার নবম রূপ বলে পরিগণিত হন। ভক্তদের বিশ্বাস মতে , মাতা সিদ্ধিদাত্রী  দেবাদিদেব মহাদেবের শরীরের অংশ। তাই তিনি অর্ধনারীশ্বর নামেও প্রসিদ্ধ। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মহাবিশ্ব যখন তৈরী হয়নি, চারিদিকে যখন ঘন অন্ধকার ছিল, প্রাণের চিহ্ন যখন কোথাও ছিল না তখন একটি দৈব আলোকরশ্মি নারী মূর্তির আকার ধারণ করতে থাকে। ইনিই দেবী মহামায়া, মহাশক্তি। এই আদিদেবীর থেকেই জন্ম হয়েছিল ত্রি শক্তির ব্রহ্মা, বিষ্ণু ,
    এবং মহেশ্বর। বিশ্ব বা জগত সংসার পরিচালনার জন্য এই আদিমাতা ত্রিদেব কে দায়িত্ব দেন। এরপরে মহাসাগরের তীরে বসে বহু বছর ধরে  মহামায়ার তপস্যায় রত ছিলেন ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর। তপস্যায় প্রসন্না হয়ে দেবী  তাঁদের সামনে ‘সিদ্ধিদাত্রী’ রূপে প্রকট হন।

    মাতা সিদ্ধিদাত্রী ভগবান ব্রহ্মাকে বিশ্বস্রষ্টার স্রষ্টা, ভগবান বিষ্ণু কে সৃষ্টি ও জগৎ রক্ষার ভূমিকা এবং দেবাদিদেব মহাদেব কে প্রয়োজন হলে জগৎ ধ্বংস করার ভূমিকা প্রদান করেন। ভক্তদের আরো বিশ্বাস , দেবী সিদ্ধিদাত্রী পরবর্তীতে সরস্বতী,লক্ষী, এবং মাতা পার্বতী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সিদ্ধিদাত্রী মাতা সর্বদাই ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের সাথে শক্তি হিসেবে আছেন , এটা বোঝাতেই তিনি এই ত্রিদেবের পত্নী রূপে অবস্থান করেন‌। পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী , দেবী সিদ্ধিদাত্রী জগৎ পরিচালনা, পালন এবং সংহারের জন্য অলৌকিক ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন এই ত্রিদেবকে। অতিপ্রাকৃত এই আটটি শক্তিকে মার্কণ্ডেয় পুরাণে অষ্টসিদ্ধি  বলা হয়েছে যা দেবী সিদ্ধিদাত্রী দেন।

    সিদ্ধি আট প্রকারের- 

    অণিমা : এই শক্তির দ্বারা দেহ কে আকারে ছোট করা যায়। 

    মহিমা: এই শক্তির দ্বারা দেহকে অসীম প্রসারিত করা যায় ।

    গরিমা : এই শক্তির দ্বারা দেহকে অকল্পনীয় ভারী করা যায়।

    লঘিমা: এই শক্তির দ্বারা দেহ ভারহীন হয়ে যায়।

    প্রাপ্তি: এই শক্তির দ্বারা সর্বভূতে বিরাজ করা যায়।

    প্রাকাম্য: এই শক্তির দ্বারা সমস্ত মনের কামনা পূর্ণ করা যায়।

    ঈশিত্ব : এই শক্তির দ্বারা প্রভুত্ব স্থাপন করা যায়।

    বশিত্ব: এই শক্তির দ্বারা সকলকে পরাধীন রাখা যায়।

    ভক্তদের বিশ্বাস, মার্কন্ডেয় পুরাণ অনুসারে যে ৮ প্রকার সিদ্ধি ,মাতা সিদ্ধিদাত্রী ব্রহ্মা-বিষ্ণু মহেশ্বর কে প্রদান করেছিলেন,মহানবমীর দিন মাতা সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করলে ভক্তদের মধ্যে এই সকল শক্তির প্রবেশ ঘটে।

    অন্য একটি পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, শিব মাতা অম্বিকার সাধনা করেছিলেন এবং মাতা তখন সিদ্ধিদাত্রী হয়ে দেবাদিদেব মহাদেব কে বরপ্রদান করেছিলেন। সর্ব সিদ্ধির অধীশ্বর হওয়ার বর, দেবাদিদেব মহাদেব পেয়েছিলেন, মাতা অম্বিকার কাছ থেকে । তাই ভগবান শিবকে সিদ্ধিনাথ বা সিদ্ধেশ্বর বলা হয়।

    অষ্টমীর সন্ধিপূজার সময়ই  দুর্গা মাতা মহিষাসুরকে  বধ করেছিলেন বলে অনেক পন্ডিতের মত রয়েছে।  আবার সন্ধিপুজোর সময়ই দেবী দুর্গার অন্য রূপ চামুন্ডা মাতা চন্ড ও মুন্ড কে বধ করেছিলেন বলে অনেক ভক্তের ধারণা রয়েছে।  অসুরবধের আনন্দে নবমী তিথিতে কাত্যায়ন ঋষির আশ্রমে দেবীর বন্দনায় মেতে উঠেছিলেন দেবতারা। এখানেই নবমী পুজোর মাহাত্ম্য বা গুরুত্ব বলে পন্ডিত দের ধারণা রয়েছে। হিন্দু শাস্ত্র মতে, এদিন তাই দেবীর সম্পূর্ণ পুজো সম্পন্ন হয়। এই তিথিতেই  বলি, হোম, কুমারী পূজা এবং ষোড়শ উপাচারের বিধান আছে। দেবীকে প্রসন্ন করতে নৈবেদ্য তে তিল নিবেদন করার রীতি দেখা যায় । ভক্তদের বিশ্বাস ,মাতা সিদ্ধিদাত্রীর কৃপায় জীবনের সমস্ত কুপ্রভাব বিনষ্ট হয় এবং সফলতা আসে জীবনে‌।

LinkedIn
Share