Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Durga Puja: মহা ষষ্ঠীতে পূজিতা হন দেবী কাত্যায়নী! জানেন ঋষি কাত্যায়ন কন্যার ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ হয়ে ওঠার কাহিনী? 

    Durga Puja: মহা ষষ্ঠীতে পূজিতা হন দেবী কাত্যায়নী! জানেন ঋষি কাত্যায়ন কন্যার ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ হয়ে ওঠার কাহিনী? 

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: হিমালয়ের কোলে ঘন অরণ্য ঘেরা এক ঋষির আশ্রম। কাত্য গোত্র ধারী ঐ ঋষির নাম কাত্যায়ন। দীর্ঘদিন তিনি মাতা অম্বিকাকে নিজের কন্যা রূপে পাওয়ার জন্য তপস্যায় রত ছিলেন। পুরাণে কথিত আছে, দেবী তাঁর এই তপস্যায় প্রসন্ন হয়েছিলেন এবং তাঁকে এরূপ বর দিয়েছিলেন যে-  “যখন দেবতাদের প্রয়োজন হবে তখন তিনি তাঁর কন্যা রূপে অবতীর্ণ হবেন”। বামন পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুরের কাছে স্বর্গ রাজ্য হারিয়ে বিতাড়িত দেবতারা শরণাপন্ন হয়েছিলেন ত্রিদেব অর্থাৎ ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের কাছে। মহর্ষি কাত্যায়ন এর আশ্রমে এই ত্রিদেবের তেজ থেকে উদ্ভব হয়  অষ্টাদশ ভূজা এক নারী মূর্তির, ইনিই মাতা কাত্যায়নী।  নবরাত্রির মহাষষ্ঠীর দিন আরাধিতা হন দেবী কাত্যায়নী। মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে সমস্ত দেবগণ নিজেদের অস্ত্র দ্বারা সাজাতে শুরু করলেন মাতা কাত্যায়ানীকে। শিব দিলেন তাঁর ত্রিশূল, ভগবান বিষ্ণু প্রদান করলেন তাঁর সুদর্শন চক্র,অগ্নি দিলেন শক্তি, বায়ু দিলেন ধনুক, সূর্য দিলেন তীরভরা তূণীর, ইন্দ্র দিলেন বজ্র, কুবের দিলেন গদা, ব্রহ্মা দিলেন অক্ষমালা ও কমণ্ডলু, কাল দিলেন খড়্গ ও ঢাল এবং বিশ্বকর্মা দিলেন কুঠার ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র। এইভাবে সমস্ত দেবতা তাঁদের অস্ত্র তুলে দিলেন দেবীর হাতে মহিষাসুর বধের নিমিত্তে।

    পুরাণে কথিত আছে, এরপর দেবী গেলেন মহিষাসুরের সাথে যুদ্ধ করতে। মহিষাসুরের দুইজন চর দেবীকে দেখে ,মহিষাসুরের নিকটে গিয়ে তাঁর রূপ বর্ণনা করলেন। দেবীর রূপে মুগ্ধ  মহিষাসুর,দেবীকে লাভ করতে চাইলেন। মাতা কাত্যায়নী তখন শর্ত দিলেন যে, তাঁকে লাভ করার পূর্বে , যুদ্ধে পরাস্ত করতে হবে। শুরু হলো মহিষাসুরের সাথে মাতা কাত্যায়নীর এক প্রবল যুদ্ধ। মাতা কাত্যায়নী ছিলেন তাঁর বাহন সিংহের উপর সওয়ার, অন্যদিকে মহিষাসুর ছিলেন মহিষের রূপে। পুরাণে আরও উল্লেখ রয়েছে, যুদ্ধ চলাকালীন মাতা কাত্যায়নী পা দিয়ে তীব্র আঘাত করেন ওই ছদ্মবেশী মহিষকে। আঘাতে মহিষাসুর ধরাতলে পতিত হলে, মাতা কাত্যায়নী তাকে ত্রিশূল দ্বারা বধ করেন। এভাবেই মাতা কাত্যায়নী হয়ে ওঠেন ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। যে মহিষাসুরমর্দিনীকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর সম্পন্ন হয় দুর্গাপুজো। যে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তব প্রত্যহ মহালয়ার ভোরবেলায় বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে আমরা শুনতে পাই। পুরাণ অনুযায়ী , দেবতারা যুদ্ধ শেষে মাতার কাত্যায়নীর উদ্দেশ্যে পুষ্প বৃষ্টি করেন। রম্ভা পুত্র মহিষাসুরের অত্যাচারে যে দেবতারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন তাঁরাই আবার স্বর্গরাজ্যের অধিকার ফিরে পেলেন মাতা কাত্যায়নীর কৃপায়।

    আরও পড়ুন: মহা পঞ্চমীর মাহাত্ম্য: জানুন তারকাসুর বধ ও স্কন্দমাতার আখ্যান

    বামন পুরাণে উল্লেখিত এই আখ্যান বরাহ পুরাণ এবং দেবী ভাগবত পুরাণেও একইভাবে উল্লেখ করা আছে। অন্যদিকে কালিকা পুরাণ অনুযায়ী ,দেবী কাত্যায়নী তিনবার মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। আদি সৃষ্টি কল্পে অষ্টাদশভূজা উগ্রচণ্ডী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। দ্বিতীয় সৃষ্টি কল্পে ষোড়শভুজা ভদ্রকালী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। আবার তৃতীয় সৃষ্টি কল্পে দশভূজা দেবী দুর্গা রূপে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। মহিষাসুর তৃতীয়বার বধ হওয়ার পর দেবীর আশীর্বাদে তিনি চিরতরে দেবীর পদতলে স্থান পান।

    বেদের অন্য একটি আখ্যান অনুযায়ী, কাত্যায়নী ও মৈত্রেয়ী ছিলেন শতপথ ব্রাহ্মণের রচয়িতা ঋষি যাজ্ঞবল্ক্যের দুই স্ত্রীর নাম। শাক্তরা মনে করেন, মাতা কাত্যায়নী যোদ্ধা দেবী ঠিক মাতা চন্ডী বা ভদ্রকালীর মতোই। মহর্ষি পতঞ্জলি রচিত ‘মহাভাষ্য’ গ্রন্থে মাতা কাত্যায়নীকে সৃষ্টির আদি শক্তিরূপে বর্ণনা করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: জানুন মাতা কুষ্মান্ডার কাহিনী, মহাচতুর্থীর দিন আরাধিতা হন দেবী

    দেবী কাত্যায়নীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় তৈত্তিরীয় আরণ্যক গ্রন্থে। মার্কন্ডেয় রচিত ‘দেবী মাহাত্ম্যে’ মাতা কাত্যায়নীর দিব্য লীলার বর্ণনা রয়েছে, এর সাথে সাথে দেবী ভাগবত পুরাণেও মাতা কাত্যায়নীর লীলা বর্ণিত হয়েছে। আবার বৈষ্ণবদের ভাগবত পুরাণেও মাতা কাত্যায়নীর  পূজার উল্লেখ পাওয়া যায়। ভাগবত পুরাণে এটি কাত্যায়নী ব্রত নামেই পরিচিত। ব্রজের গোপীরা শ্রী কৃষ্ণকে পতি রুপে পেতে এই ব্রত উদযাপন করতো। মাঘ মাস জুড়ে এই ব্রত চলতো। যমুনা নদীর তীরে মাতা কাত্যায়নীর মাটির মূর্তি তৈরী করে দীপ, ফল, চন্দন, ধূপ দ্বারা মাতার আরাধনা করার পরম্পরা ছিল উত্তর ভারতে। আবার একই ভাবে মকর সংক্রান্তি তে, দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল উৎসবে মাতা কাত্যায়নীর পুজো চালু রয়েছে।

    তন্ত্রে বর্ণিত ধ্যানমন্ত্রে মাতা কাত্যায়নীকে দশভূজা মহিষাসুরমর্দিনীর রূপেই বর্ণনা করা হয়েছে:
    সব্যপাদসরোজেনালঙ্কৃতোরুমৃগাধিপাম্।
    বামপাদাগ্রদলিতমহিষাসুরনির্ভরাম্।।
    সুপ্রসন্নাং সুবদনাং চারুনেত্রত্রয়ান্বিতাম্।
    হারনূপুরকেয়ূরজটামুকুটমণ্ডিতাম্।
    বিচিত্রপট্টবাসামর্ধচন্দ্রবিভূষিতাম্।।
    খড়্গখেটকবজ্রাণি ত্রিশূলং বিশিখং তথা।
    ধারয়ন্তীং ধনুঃ পাশং শঙ্খং ঘণ্টাং সরোরুহাম্।
    বাহুভির্ললিতৈর্দেবীং কোটিচন্দ্রসমপ্রভাম্।।

    মাতা কাত্যায়নীর এই স্বরূপ শৌর্য ,তেজ এবং পরাক্রমের প্রতীক বলেই বিবেচিত হয়। পুরাকালে মাতা কাত্যায়নী যেমন মহিষাসুরকে বধ করে আসুরিক শক্তি তথা অশুভ শক্তির বিনাশ করেছিলেন ঠিক একইভাবে ভক্তদের জীবন থেকে সমস্ত অশুভ শক্তিকে তিনি বিনষ্ট করেন এবং আসুরিক যা কিছু প্রবৃত্তি সেটাও তিনি ধ্বংস করেন বলেই বিশ্বাস রয়েছে ভক্তদের। মাতার এই রূপের উপাসনা করলে সমস্ত অশুভ প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত করা যায়, জীবনের সমস্ত বাধা বিঘ্ন দূর হয়, রোগ, ভয়, ব্যাধি সমস্ত কিছু মাতা হরণ করে নেন বলেই ভক্তদের ধারণা। মাতা কাত্যায়নীর ভক্তরা নৈবেদ্যতে মায়ের উদ্দেশ্যে মধু নিবেদন করেন। এতে মা সন্তুষ্ট হন ‌।

  • Durga Puja: নবরাত্রির পরেই যুদ্ধে যেতেন রাজারা, কেন জানেন?

    Durga Puja: নবরাত্রির পরেই যুদ্ধে যেতেন রাজারা, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবার একটা গোটা বছরের অপেক্ষা। সকাল সকাল তাই একটা ক্ষণও বৃথা যেতে দিইনা আমরা। স্নান সেরে এক্কেবারে মন্ডপে, বাড়ির পুজো হলে তো আবেগ আর একটু বেশী থাকে। সিঁদুর খেলা, মন্ত্রপাঠ , ঘট বিসর্জনের সাথেই আর একটি রীতি নিশ্চয়ই আমাদের দৃষ্টি এড়ায় না। ছোট্ট অনুষ্ঠানটি হলো অপরাজিতা গাছের পুজো। পুজো শেষে অপরাজিতা লতা হাতে জড়িয়ে নিই আমরা। জানেন কি বিজয়া দশমীতে এই অপরাজিতা গাছের পুজো কেন হয়? কেনই বা অপরাজিতা লতা আমরা ধাগা হিসেবে বাঁধি নিজেদের হাতে।  বিজয়লাভের সঙ্কল্প বা প্রতিজ্ঞা নিয়ে হয় অপরাজিতা পুজো। জনশ্রুতি হলো ,আগেকার দিনে নবরাত্রির পরই রাজারা যুদ্ধযাত্রা করতেন। দিনটা হত বিজয়া দশমী। যুদ্ধের জন্য এই সময়টাকেই বেছে নিতেন রাজারা। তার অবশ্য কিছু কারণ ছিল। আচার্য চাণক্য বা কৌটিল্য  তাঁর ‘অর্থশাস্ত্র’তে লিখেছেন এই সময়টাই যুদ্ধযাত্রার শ্রেষ্ঠ সময়। পণ্ডিত রঘুনন্দন তাঁর ‘তিথিতত্ত্ব’ গ্রন্থেও একই কথা বলেছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজা যদি দশমী তিথির  পর যুদ্ধ যাত্রার  সূচনা করেন, তাহলে তার পরাজয় কখনো হয় না। তাই যুদ্ধে অপরাজেয় থাকতে এদিন যাত্রা করতেন রাজারা।  বিজয়কে বরণ বা আলিঙ্গনের প্রত্যাশা নিয়েই করা হত অপরাজিতা পুজো। যে ধারা আজও প্রবহমান।

    সাদা অপরাজিতা গাছকে বিজয়া দশমীর পুণ্য তিথিতে পুজো করা হয়। গাছটিকে দেবীরূপে কল্পনা হয় , ঠিক যেমনটা মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকাকে স্নান করানোর সময় কল্পনা করা হয়ে থাকে। নবপত্রিকা যেমন নব দুর্গার প্রতীক, মা দুর্গার বৃক্ষরূপ ভেবে পুজো করা হয় একই ভাবে অপরাজিতা গাছ কে দেবীর বিজয়ের প্রতীক মেনে পুজো করা হয়। অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক, আসুরিক সমস্ত শক্তিকে বিনাশের প্রতীক।  ফুল, বেলপাতা দিয়ে পুজো হয় অপরাজিতা গাছের। অনেকে আবার ঘটস্থাপন করেও পুজো করেন। পুজোর ফল লাভের জন্য হাতে অপরাজিতা লতা বাঁধার রীতির কথা তো আগেই বলা হয়েছে। পুজোর সময় দেবীর উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানানো হয়, ‘‘হে অপরাজিতা দেবী, তুমি সর্বদা আমার বিজয় যাত্রা কে অক্ষুণ্ন রাখো। শত্রু পক্ষকে  বিনাশ করার মতো পর্যাপ্ত শক্তি ও ক্ষমতা আমাকে প্রদান করো। অশুভ সমস্ত শক্তি যেন পরাভূত হয় আমার কাছে। আমাকে তুমি অপ্রতিরোধ্য করে তোলো। আমার সমস্ত আত্মীয়, পরিবার, পরিজন , মিত্রদের  মঙ্গল করো । শত্রু পক্ষকে ধ্বংস করে বিজয় লাভের জন্য আমি তোমাকে দক্ষিণ হাতে  ধারণ করছি। তুমি শত্রু নাশ করে নানা সমৃদ্ধির সাথে আমাকে বিজয় দান কর। আমার জীবন যেন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, সমৃদ্ধি তে পরিপূর্ণ হয়। রামচন্দ্র যেমন অত্যাচারী  রাবণের উপর বিজয় লাভ করেছিলেন, আমিও যেন সেইরূপ জয় লাভ করতে পারি”। এমনিতেই দশমী তিথির মাহাত্ম্য অনেক বেশী। এই তিথিতেই রাবণ বধ, আবার এই তিথিতেই মহিষাসুর বধ, মহাভারতে এই তিথিতেই পান্ডবরা অজ্ঞাত বাস শেষে শমী বৃক্ষের কোটর থেকে তাঁদের লুকিয়ে রেখে যাওয়া অস্ত্র বের করেন। দশমীতে অস্ত্রপূজনও হয় তাই। আবার এই তিথিতেই কুবের অযোধ্যায় স্বর্ণবৃষ্টি করেছিলেন বলেই পৌরাণিক মত রয়েছে। বিজয়, সমৃদ্ধির এই পুণ্য তিথিতে মাতৃ আরাধনা করেই যুদ্ধ যাত্রার রীতি ছিল প্রাচীন ভারতীয় রাজাদের মধ্যে।

  • Durga Puja: দশমীতে কৈলাসে গিয়ে উমা আসার বার্তা দেয় কে? জানুন নীলকন্ঠ পাখির গল্প

    Durga Puja: দশমীতে কৈলাসে গিয়ে উমা আসার বার্তা দেয় কে? জানুন নীলকন্ঠ পাখির গল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যখন মোবাইল ফোন ছিল না, হোয়াটসঅ্যাপ ছিল না, ডাকঘরের পিওন ছিল না তখন বার্তা পাঠানোর উপায় কি ছিল জানেন? রূপকথার গল্পে রাজকুমারী তার প্রেমিককে চিঠি লিখলে পৌঁছে দিত কে? বার্তাবাহক পাখির ভূমিকায় সবথেকে জনপ্রিয় পাখির নাম পায়রা। প্রাচীন যুগের পটভূমিকায় রচিত চলচ্চিত্রগুলিতে আমরা দেখেছি পায়রার গলায় বার্তা বেঁধে তাকে উড়িয়ে দেওয়া হতো এবং নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে সেই বার্তা পায়রা পৌঁছে দিত। কোথাও হ্যাক হতো না সেই বার্তা। এরকমই একটি পাখির কাহিনী প্রচলিত আছে জানেন কি? যে পাখিকে পৌরাণিক মতে স্বয়ং মহাদেবের সঙ্গী মনে করা হয়। মহাদেবের বার্তাবাহক রূপে কাজ করে এই পাখি। আজকের দিনে বলতে পারেন নীলকন্ঠ পাখি হলো দেবাদিদেব মহাদেবের মোবাইল ফোন। এই পাখিই কৈলাসে গিয়ে শিবকে খবর দেয় বাপের বাড়ি থেকে উমা আসছে। বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ইন্ডিয়ান রোলার।

    আরও পড়ুন: জানেন বিজয়া দশমী কেন বলা হয়?

    বিজয়া দশমীর দিন নীলকন্ঠ পাখির দেখা পাওয়াকে শুভ এবং সৌভাগ্যদায়ী  বলে মনে করা হয়। কথিত আছে এই পাখিটি দেখা গেলে সম্পদ বৃদ্ধি পায় , জীবনের সমস্ত অশুভ প্রভাব বিনষ্ট হয়। ফলস্বরূপ, বাড়িতে নিত্য শুভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে থাকে। নীল কন্ঠ পাখি দেখার বিষয়ে বিভিন্ন ধারণা রয়েছে। নীল কন্ঠ পাখি উড়ে যাও, সেই কৈলাসে যাও, খবর দাও, উমা আসছে তখন নীলকন্ঠ পাখি আগমনের বার্তা নিয়ে মহাদেবের কাছে এসেছিল। আরেকটি জনপ্রিয় বিশ্বাস হলো, মনে করা হয়, রাবণবধের ঠিক আগে এই পাখিটির দেখা পান রামচন্দ্র। আবার অন্য একটি পৌরাণিক মতে  রাবণবধের আগেও, সেতুবন্ধনের সময় হাজির হয়েছিল নীলকণ্ঠ পাখি। পথ দেখিয়ে রাম-সেনাকে লঙ্কায় নিয়ে গিয়েছিল সে। এরকম পৌরাণিক কাহিনি থেকেই এই পাখির মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে সমস্ত জায়গায়। তখন থেকেই মনে করা হয়, এই পাখির দর্শন অত্যন্ত শুভ।

    আরও একটি মত রয়েছে এবিষয়ে। লঙ্কা বিজয়ে রাম ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ করেছিলেন। কারণ দশানন রাবণ ছিলেন ব্রাহ্মণ। তখন লক্ষ্মণ সহ রামচন্দ্র শিবের পুজো করেছিলেন এবং ব্রাহ্মণকে বধ করার পাপ থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। সেই সময় শিব নীলকন্ঠ পাখির রূপে পৃথিবীতে এসেছিলেন বলে অনেকের বিশ্বাস রয়েছে। নীলকণ্ঠ অর্থ, যার গলা নীল। দেবাদিদেব মহাদেব সমুদ্র মন্থন করার সময় বিষ পান করেছিলেন। কণ্ঠে সেই বিষকে ধারণ করার ফলে মহাদেবের কণ্ঠ নীল হয়ে যায়। তাই শিবের আর একটি নাম হলো নীলকণ্ঠ। নীলকণ্ঠ পাখিকে মর্ত্যলোকে শিবের প্রতিনিধি মানা হয় এবং দেবাদিদেব মহাদেবের রূপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। জনশ্রুতি অনুসারে, শিব পৃথিবীতে নীলকণ্ঠ পাখি রূপেই ঘোরাফেরা করেন। এই পাখিটিকে কৃষকদের মিত্রও বলা হয়। কারণ নীলকণ্ঠ পাখি জমিতে ফসলের সাথে জড়িত পোকামাকড় খেয়ে কৃষকদের উপকার করে থাকে। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, একসময় দুর্গাপুজোর পর এই পাখিকে উড়িয়ে দেওয়া বনেদী ও জমিদার পরিবারগুলির ঐতিহ্য ছিল। যেমন কলকাতার শোভাবাজার রাজবাড়িতে আগে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো হতো বিজয়া দশমীর দিনে। এখন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের দ্বারা এটা সম্ভব হয় না। তবে কাঠের বা মাটির নীলকন্ঠ পাখি তৈরী করে সেটি প্রতিমা নিরঞ্জনের আগে জলে দেওয়া হয়।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

     

  • Durga Puja: মন্ডপ হোক বা বাড়ি দশমীতে সিঁদুর খেলাই রীতি! জানেন এদিন কেন সিঁদুর খেলা হয়? 

    Durga Puja: মন্ডপ হোক বা বাড়ি দশমীতে সিঁদুর খেলাই রীতি! জানেন এদিন কেন সিঁদুর খেলা হয়? 

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: দশমীতে সিঁদুর খেলার রীতি রয়েছে। বারোয়ারী মন্ডপ হোক অথবা বাড়ির পুজো, শাড়ি পড়ে মাতৃ জাতিকে সিঁদুর খেলতে দেখা যায়। শুধুমাত্র বিবাহিত বা প্রচলিত ভাষায় সধবা মহিলারা নন, এখন অবিবাহিত মহিলারা , প্রচলিত ভাষায় যাদের কুমারী মেয়ে বলা হয় তাঁদেরকেও দেখি সিঁদুর খেলায় মেতে উঠতে। গালে সিঁদুর মেখে ,হাতে প্রসাদের রেকাবি নিয়ে সেলফি তুলে তা সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করাটাও এখন রীতি হয়ে গেছে। পুজো মানে তো প্রেমের মরসুম। মন্ডপের পুষ্পাঞ্জলিতে শাড়ি পাঞ্জাবিতে প্রেমিক প্রেমিকাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে। দশমীর দিন তাই প্রেমিকের হাতে সিঁদুরের ছোঁয়া না পেলে প্রেমটাও ঠিক জমে না।

    সিঁদুর খেলার প্রচলন ঠিক কবে থেকে তার সঠিক কোনও তথ্য-প্রমাণ নেই। ইতিহাসবিদ ও শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতদের কেউ কেউ বলেন দুশো বছর আগে সিঁদুর খেলার প্রচলন হয়েছিল। তখন বর্ধিষ্ণু জমিদার পরিবারগুলিতে দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের আগে বাড়ির মহিলারা একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে স্বামী ও পরিবার পরিজনদের মঙ্গল কামনা করতেন।  আবার অন্য  একটি মত অনুযায়ী, সিঁদুর খেলার ঐতিহ্য চারশো বছরের পুরনো। অন্য কোনও কারণ নয় শুধুমাত্র খেলার ছলেই এই প্রথার চল হয়। মায়ের বিসর্জনের দিন সকলের মনই ভারাক্রান্ত থাকে। তাই ওইদিন একটু আনন্দ-উল্লাসের জন্যই সিঁদুর খেলার প্রবর্তন হয়। সেই ঐতিহ্যই সমান ভাবে চলছে আজও।

    পুরাণ মতে  সিঁদুর ব্রহ্মের প্রতীক। বিবাহিত রমণীরা সেই ব্রহ্মস্বরূপ সিঁদুর সিঁথিতে ধারণ করে থাকেন স্বামী ও পরিবারের মঙ্গলকামনায়। শ্রীমদ্ভগবত অনুসারে, গোপিনীরা কাত্যায়নী ব্রত পালন করতেন। যমুনা নদীর তীরে মাতার মাটির মূর্তি স্থাপন করে, ধূপ ধুনো জ্বালিয়ে এই ব্রত পালিত হতো।  এরপর গোপীনিরা নাকি সিঁদুর খেলায় মেতে উঠতেন। একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে তাঁরা আসলে শ্রীকৃষ্ণের মঙ্গল কামনা করতেন বলেই কথিত রয়েছে।

    আরও পড়ুন: জানেন বিজয়া দশমী কেন বলা হয়?

    এই দিনে বিবাহিত মহিলারা প্রথমে মা দুর্গার উদ্দেশে সিঁদুর অর্পণ করেন। মহিলারা পান, মিষ্টি, সিঁদুর নিয়ে দেবীকে নিবেদন করেন। রীতি অনুযায়ী, মা দুর্গা যখন তার মাতৃগৃহ ছেড়ে শ্বশুর বাড়িতে যান, তখন তাকে সিঁদুর দিয়ে সাজাতে হয়। এরপর বিবাহিতারা একে অপরের গায়ে মুখে সিঁদুর লাগান এবং একে অপরকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানান। কথিত আছে যে এই সিঁদুর লাগালে বিবাহিতরা সৌভাগ্যবতী হওয়ার বর পান। বাঙালি মহিলাদের মধ্যে সিঁদুর খেলার সাথে ধুনুচি নাচও দেখা যায়। মনে করা হয় মা দুর্গা ধুনুচি নাচে খুশি হন। প্রাচীনকালে লাল সিঁদুরকে ভারতীয় নারীরা বেছে নিয়েছিলেন তাঁদের অন্যতম প্রসাধনী হিসেবে। আর বিবাহিতা মহিলাদের কপালে সিঁদুর থাকার অর্থ হল তাঁরা সন্তান ধারণের উপযুক্ত। এই বিশ্বাস থেকেই লাল রঙের সিঁদুর পরার রীতি চলে আসছে মনে করা হয়‌।

    পৌরাণিক মত অনুযায়ী, মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বিভিন্ন দেবতা বাস করেন। যেমন আমাদের কপালে থাকেন স্বয়ং ব্রহ্মা, তিনি আবার সৃষ্টির দেবতা। তাই ব্রহ্মাকে তুষ্ট করতেই কপালে লাল সিঁদুর পড়েন সকলে। শক্তির সাধক তান্ত্রিকরাও কপালে রক্তবর্ণ সিঁদুর ধারণ করে থাকেন। আসলে ব্রহ্মাকে তুষ্ট রাখার জন্যই এই ব্যবস্থা। এমনটাও হতে পারে স্বয়ং সৃষ্টি কর্তার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের জন্য হয়তো সিঁদুর খেলার সূচনা হয়েছিল প্রাচীন ভারতে‌। যে সময়ই সিঁদুর খেলার প্রচলন হয়ে থাকুক, যে উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকুক, দশমীতে একে অপরকে সিঁদুর মাখানোটা  এখন ছোটখাটো উৎসব বা অনুষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়েছে, অত্যন্ত আনন্দের সাথে, বছরের পর বছর ধর্মের এই রীতি, এই ঐতিহ্য পালন করে চলে চলেছেন মাতৃজাতি।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Durga Puja 2022: জানেন মহাষ্টমীর দিন “সন্ধিক্ষণের পুজো” কেন হয় ? 

    Durga Puja 2022: জানেন মহাষ্টমীর দিন “সন্ধিক্ষণের পুজো” কেন হয় ? 

    শুভ্র চট্টোপাধ্য়ায়: মহাষ্টমীর (Mahastami) দিনে ঐ বিশেষ পুজোর কথা সবাই জানি। যে পুজোর কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকেনা, কখনো ভোরে, কখনো বা মাঝরাতে , কোনো কোনো বছর বিকেলে সম্পন্ন হয়। বিশেষ ঐ পুজো সমাপ্ত হয়েছে বোঝা যায় যখন একজন পুরোহিত দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ব্যাপক জোরে “জয় মা” ধ্বনি তোলেন। সাথে সাথেই শুরু হয় মাতার আরতি অনুষ্ঠান। পুজো মন্ডপের বাচ্চারা তখন পটকা ফাটাতে থাকে। প্রচলিত ভাষায় এই বিশেষ পুজোকে বলে ক্ষণের পুজো । বর্ণ বিপর্যয় হতে হতে এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে “ক্ষ্যানের” পুজো। ঐ পুজোর হলো আসল নাম হলো “সন্ধিপূজা” (Sandhi Puja)।  অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট থেকে নবমী শুরুর প্রথম ২৪ মিনিট ধরে চলে ঐ পুজো। এই সময়টাই সন্ধিক্ষণ।  কিন্তু সন্ধিপূজা করতে হয় কেন? এর তাৎপর্য বা মাহাত্ম্য কি রয়েছে ? এর উত্তর আছে আমাদের পৌরাণিক আখ্যান গুলিতে ।
    সন্ধিপূজা আসলে দৈত্য দলনী দেবী দুর্গার আর এক ভীষণ দর্শনা রূপের পূজা । সেই দেবীর নাম ‘চামুণ্ডা’ । অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডা চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী –  শুম্ভ নিশুম্ভ নামক দুই অসুর রাজা, চণ্ড ও মুন্ড নামের দুই দৈত্য কে পাঠিয়েছিল দেবীর সাথে যুদ্ধ করতে । চন্ড ও মুণ্ড বহু সেনা , অশ্ব , রথ , হাতি নিয়ে যুদ্ধে এলো‌ তারা হিমালয়ের চূড়ায় হাস্যরত দেবী অম্বিকা কে দেখতে পেল । দেবী চন্ডিকা তাদের দেখে ভীষণ ক্রুদ্ধা হলেন । ক্রোধে তাঁর মুখ মণ্ডল কৃষ্ণবর্ণা হল ।তখন দেবীর কপাল থেকে এক ভীষণ দর্শনা দেবী প্রকট হলেন । ভয়ঙ্করী , কোটর গতা , আরক্ত চক্ষু বিশিষ্টা। সেই ভয়ংকরা দেবী ভীষণ হুঙ্কার দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন । কত গুলি অসুরকে দেবী তার চরণ ভারে পিষে বধ করলেন । কোন কোন অসুর দেবীর খড়গের আঘাতে মারা গেল । যুদ্ধক্ষেত্রে এই ভাবে দেবী অসুর দের ধ্বংস করে ফেললেন । এরপর দেবী তার খড়গ তুলে ‘হং’ শব্দ করে চন্ডের দিকে ধেয়ে গেল । দেবী চন্ডের চুলের মুঠি ধরে খড়গ দ্বারা এক কোপে চণ্ডের শিরোচ্ছেদ করে ফেললেন । চন্ড অসুর বধ হল। চন্ড নিহত হয়েছে দেখে ক্রোধে মুন্ড দেবীর দিকে ধেয়ে গেলো । দেবী তার রক্তাক্ত খড়গ দিয়ে আর এক কোপে মুন্ড এর শিরোচ্ছেদ করলেন । এভাবে মুণ্ড বধ হল। চন্ড মুন্ড বধ হতে দেখেই  দেবতারা আনন্দে দেবীর জয়ধ্বনি দিতে থাকলেন‌। চন্ড ও মুন্ড কে বধ করেছিলেন বলেই দেবী “চামুণ্ডা” নামে প্রসিদ্ধ হন। অষ্টমী ও নবমী তিথির এই সন্ধিক্ষণে দেবী চামুণ্ডার-ই আরাধনা করা হয়। এই বিশেষ মুহুর্তে দেবী চন্ড ও মুন্ড কে বধ করেছিলেন বলে জানা যায় ।
    এই পুজোতে ১০৮ টি পদ্ম অর্পণ করা হয় মায়ের চরণে। এটা নিয়েও দুটি পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। 
    ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করার জন্য সন্ধিপূজার শেষে শ্রীরামচন্দ্র দেবীর পায়ে ১০৮টি পদ্ম উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন । তাই ভক্ত হনুমানকে পাঠিয়েছিলেন দেবীদহে । কিন্তু দেবীদহ থেকে ১০৭ টি পদ্ম নিয়ে ফিরেছিলেন পবনপুত্র । কারণ দেবীদহে আর পদ্ম ছিল না । সুতরাং মায়ের পায়ে দেওয়ার জন্য একটি পদ্ম কম পড়েছিল । সন্ধিক্ষণ সমাপ্ত হওয়ার  উপক্রম হলে শ্রীরামচন্দ্র ধনুর্বাণ দিয়ে নিজের নীল পদ্মের ন্যায় চোখ দুটির মধ্যে একটি তুলে মায়ের পায়ে অর্পণ করতে চেয়েছিলেন ১০৮ তম পদ্ম হিসেবে । চোখ উপড়ে ফেলার মুহূর্তে অবতীর্ণ হয়েছিলেন দেবী দুর্গা । মায়ের বরে বলীয়ান শ্রীরামচন্দ্র এই অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণেই রাবণ বধ করেছিলেন বলে ভক্তদের ধারণা । অন্য একটি পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, অসুর নিধনকালে দেবী দুর্গার সারা অঙ্গ জুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল ১০৮টি ক্ষত । ক্ষতগুলির যন্ত্রণা কমানোর জন্য ভগবান শিব মা দুর্গাকে দেবীদহে স্নান করার পরামর্শ দিয়েছিলেন । দেবীদহে স্নান করার পর মায়ের শরীরের সেই ১০৭টি ক্ষত থেকে সৃষ্টি হয়েছিল ১০৭টি পদ্ম । কিন্তু একটি ক্ষত তখনও অবশিষ্ট ছিল । দেবী দুর্গা ১০৮ তম ক্ষতের জ্বালায় খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন। এটা দেখে মহাদেবের চোখ থেকে নির্গত হয়েছিল এক ফোঁটা অশ্রু । অশ্রুকণাটি গিয়ে পড়েছিল মায়ের ১০৮ তম ক্ষতে । এতে মা দুর্গার শরীরের অবশিষ্ট ক্ষতটিও সেরে উঠেছিল । দেবীদহে থেকে গিয়েছিল ১০৭ টি পদ্ম।
    সন্ধিপুজা তে মহাফল লাভ হয় বলেই ভক্তদের ধারণা। মাতাকে প্রসন্ন করতে এই পুজোতে লাল জবা ফুল এবং নৈবেদ্য তে লাল যে কোন ফল অর্পণ করা হয়।

  • Durga Puja: ‘নমঃ মহিষগ্নি মহামায়ে’, পুষ্পাঞ্জলির এই মন্ত্র দিয়েই শুরু হয় অষ্টমীর সকাল

    Durga Puja: ‘নমঃ মহিষগ্নি মহামায়ে’, পুষ্পাঞ্জলির এই মন্ত্র দিয়েই শুরু হয় অষ্টমীর সকাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘নমঃ মহিষগ্নি মহামায়ে, চামুন্ডে মুন্ডমালিনী’ এই মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমেই শুরু হয় অষ্টমীর সকাল। দুর্গাপুজোর (Durga Puja) চারদিনের মধ্যে অন্যতম হল অষ্টমী (Ashtami)। এদিনের ভোরটা যেন একেবারে অন্যরকম। খুব ভোরে উঠে, স্নান করে পরিষ্কার বা নতুন জামাকাপড় পরে, নির্দিষ্ট সময় মণ্ডপে উপস্থিত হন আপামর বাঙালি। পুজোর তিনদিন পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া গেলেও মহাষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি একেবারে অন্যরকম। অষ্টমী পুজোর শেষে শুরু হয় অঞ্জলি। বহু বাঙালি এই শুভক্ষণটার জন্য সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন। অষ্টমীর মাহাত্ম্যের কথা বিচার করে সবাই অষ্টমী তিথিতেই অঞ্জলি দিতে চান। সনাতন ধর্ম বলে, অষ্টমীতে অঞ্জলি দিলে সব কাজে সিদ্ধি লাভ হয়। সব বাধাবিঘ্ন দূর হয়। সন্তান ও অর্থ লাভ হয়। দুঃখ, শোক, রোগ দূর হয়। দারিদ্র নাশ ও শত্রু-ক্ষয় হয়। ভক্তরা গ্রহ-শান্তি লাভ করেন। অন্তরের পাশবিক কামনা বাসনা দূর হয়। অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার সময়ই মায়ের কাছে সেই কামনাই করেন সকলে।

    নমঃ আয়ুর্দ্দেহি যশো দেহি ভাগ্যং ভগবতি দেহি মে।
    পুত্রান্ দেহি ধনং দেহি সর্ব্বান্ কামাশ্চ দেহি মে।।
    হর পাপাং হর ক্লেশং হর শোকং হরাসুখম।
    হর রোগং হর ক্ষোভং হর মারীং হরপ্রিয়ে।

    অষ্টমী তিথিতেই দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবীর কাছে পরাস্ত হন অসুররাজ।  পুরাণ মতে, এদিন দেবীকে রণসাজে সাজান দেবতারা। নিজেদের অস্ত্র দেবীর হাতে তুলে দেন তাঁরা। প্রতিটি অস্ত্রকে এদিন দেবজ্ঞানে পুজো করা হয়। তাই একে বীরাষ্টমীও বলে। অষ্টমীর দিন দেবীকে অনেক জায়গায় মহা গৌরী রূপে পুজো করা হয়। অনেক জায়গায় অষ্টমাতৃকা ব্ৰহ্মাণী, মাহেশ্বরী, কৌমারী, বৈষ্ণবী, বরাহী, নরসিংহী, ইন্দ্রানী ও চামুণ্ডার পুজো করা হয়ে থাকে।

    জেনে নিন এবারের মহাঅষ্টমীর সময় ও তিথি:

    তারিখ – সোমবার ৩ অক্টোবর ২০২২ , বাংলা ১৬ ই আশ্বিন।
    সময় – বেলা ৩ টে ৫৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত অষ্টমী থাকবে।
    সন্ধিপূজা বেলা ৩ টে ৩৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ড থেকে বিকেল ৪ টে ২৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত।

  • Navratri 2022: জানুন মাতা কুষ্মান্ডার কাহিনী, আজ মহাচতুর্থীর দিন আরাধিতা হন দেবী

    Navratri 2022: জানুন মাতা কুষ্মান্ডার কাহিনী, আজ মহাচতুর্থীর দিন আরাধিতা হন দেবী

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: পুরাণে কথিত আছে, হাসির দ্বারা তিনি এ জগৎ বা বিশ্বসংসার সৃষ্টি করেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে তাঁকেই জগজ্জননী মানেন ভক্তরা। তিনিই সূর্যের তেজ স্বরূপা। তিনিই আসুরিক শক্তির বিনাশক। নবরাত্রির চতুর্থীতে ভক্তদের দ্বারা আরাধিত হন দেবী কুষ্মান্ডা।  

    পুরাণ অনুযায়ী, এ বিশ্ব যখন তৈরি হয়নি, প্রাণের স্পন্দন যখন কোথাও ছিল না, চারিদিকে যখন ঘন অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই ছিল না তখন এক মহাজাগতিক দৈব আলোকরশ্মি ক্রমশ নারী মূর্তির আকার ধারণ করতে থাকে। দৈব ক্ষমতার অধিকারী, জগতের সৃষ্টিকত্রী এই নারী মাতা কুষ্মান্ডা নামে পরিচিত। মহাবিশ্বে প্রাণের উৎস, শক্তির উৎস, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথের সৃষ্টিকর্ত্রী তিনি‌। তিনি সূর্যের কেন্দ্রে অবস্থান করেন। দিন ও রাত্রি তাঁর জন্যই হয়। জীবনের সমস্ত কর্মকাণ্ডের গতি তাঁর দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয় বলে মনে করেন ভক্তরা।

    সৌরমন্ডলকে পরিচালিত করেন দেবী কুষ্মান্ডা। তাঁর মুখমন্ডল সূর্যের মতোই দীপ্তিমান। তেজোদীপ্ত। পণ্ডিতমহলের মতে— ‘কু’ শব্দের অর্থ কুৎসিত এবং ‘উষ্মা’ শব্দের অর্থ ‘তাপ’; ‘কুষ্মা’ শব্দের অর্থ তাই দুঃখ–দেবী জগতের সমস্ত দুঃখ এবং কষ্ট হরণ করে নিজের উদরে ধারণ করেন বলে তাঁর নাম ‘কুষ্মাণ্ডা’ মনে করা হয়। দেবাদিদেব মহাদেব যেমন সমুদ্র মন্থনের সময় সমস্ত বিষ নিজের শরীরে ধারণ করে দেবতাদের রক্ষা করেছিলেন একই ভাবে মাতা কুষ্মান্ডা এ জগতের সকল অশুভ প্রভাব, দুঃখ, কষ্ট, রোগ, যন্ত্রণা, পীড়াকে হরণ করে তাঁর ভক্তদের রক্ষা করেন। 

    আরও পড়ুন: আজ নবরাত্রির তৃতীয় দিনে পূজিতা হন মাতা চন্দ্রঘন্টা, জানুন তাঁর পৌরাণিক কাহিনী

    ভক্তরা মনে করেন, যখন এ বিশ্বে অসুরদের অত্যাচার বেড়ে গিয়েছিল তখন আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবী কুষ্মান্ডা। দেবী সিংহ সওয়ার। তিনি অষ্টভূজা। আটটি হাত সাজানো রয়েছে অস্ত্র তথা অন্যান্য সামগ্রী দ্বারা। চারটি হাতে রয়েছে – চক্র, গদা, তির ও ধনুক। অন্য চারটি হাতে রয়েছে জপমালা, পদ্ম, কলস এবং কমণ্ডলু। দেবীর হাতে অস্ত্র ছাড়াও দুটো পাত্র উল্লেখ করা হয়েছে। একটিতে থাকে অমৃত ও অপরটিতে থাকে রক্ত। অর্থাৎ দেবী কুষ্মান্ডার একহাতে সৃষ্টি ও অপর হাতে ধ্বংস। দেবীর বাহন সিংহকে ধর্মের প্রতীক বলে মনে করা হয়। ধর্মের স্থাপন এবং ধর্মকে বহন করে মাতা কুষ্মান্ডার সিংহ। 

    মাতা কুষ্মান্ডার সামনে কুমড়ো বলির প্রথা চালু আছে। দেবী কুষ্মান্ডার ভক্তরা মায়ের উদ্দেশ্যে শ্রিংগার সামগ্রী নিবেদন বা অর্পণ করে থাকেন। যেমন – সিঁদুর, কাজল, চুড়ি, বিন্দি, পায়ের আংটি, চিরুনি, আয়না, পায়ের পাতা, সুগন্ধি, কানের দুল, নাকের পিন, গলার মালা, লাল চুনরি ইত্যাদি। ভক্তদের বিশ্বাস মাতা কুষ্মান্ডাকে মালপোয়া, দই থেকে তৈরি যে কোনও পদ এবং হালুয়া নৈবেদ্য তে ভক্তি পূর্বক অর্পণ করলে মাতা প্রসন্ন হন। তিনি তাঁর ভক্তদের জীবনকে সুখী, শান্তি, সমৃদ্ধি, যশ, আয়ু দ্বারা পরিপূর্ণ করে তোলেন। ভক্তদের ব্রহ্ম জ্ঞানও তিনিই দান করেন।

    আরও পড়ুন: নবরাত্রি কেন পালন করা হয়? এর তাৎপর্য জানেন?

    “সুরসম্পূর্ণকলশম্ রুধিরালুপ্তমেব চ দধানা হস্তপদ্মভ্যাম কুষ্মাণ্ড শুভদস্তুমে”- এই বৈদিক মন্ত্রের দ্বারাই আরাধনা করা হয় মাতা কুষ্মান্ডাকে ।

    উত্তরপ্রদেশের কাশীতে মাতা কুষ্মান্ডার মন্দির খুব বিখ্যাত। ভক্তদের বিশ্বাস এই মন্দিরে অষ্টভূজা মাতা কুষ্মান্ডা স্বয়ং অবস্থান করেন এবং জগতের কল্যাণে রোগ, ভয়, দুঃখ হরণ করে ভক্তদের সুখ, আয়ু, যশ প্রদান করেন। কাশীর এই অঞ্চলে মাতা কুষ্মান্ডা মা দুর্গা নামেই অধিক পরিচিত। লোককথা অনুযায়ী, তিনি কাশীর দক্ষিণ দিককে রক্ষা করে চলেছেন। কাশীর অসি নদীর সঙ্গম স্থলে রয়েছে মাতা কুষ্মান্ডার অধিষ্ঠান। দেবী কুষ্মান্ডার এই মন্দির বেশ বড়ো এবং বহুচূড়া বিশিষ্ট‌। মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে মাতা কুষ্মান্ডা অবস্থান করেন। নবরাত্রির চতুর্থীর দিনে ভক্তদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায় এখানে।

  • Durga Puja 2022: দশমীর দিন মা দুর্গাকে কেন বিসর্জন দেওয়া হয় জানেন?

    Durga Puja 2022: দশমীর দিন মা দুর্গাকে কেন বিসর্জন দেওয়া হয় জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে মানুষের দেহ আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল ও মাটি এই পাঁচ উপাদান দিয়ে তৈরি। একই ভাবে পাঁচ উপাদান দিয়েই তৈরি হন প্রতিমাও। মাটির মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার পর তাকে প্রতিমা বলে। পুজো শেষে বিদায় বেলায় আমার সেই মূর্তি আবার প্রাণহীন হয়ে পড়ে। আর সেই মূর্তিকে আবার পঞ্চতত্ত্বে বিলীন করতেই, বিসর্জনের রেওয়াজ রয়েছে। প্রতিমা পুজোর শেষ ধাপ হল বিসর্জন (Durga Visarjan)। পুজো শেষে প্রতিমাকে জলে বিসর্জন দিয়ে আবার প্রকৃতিতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মে শুরু থেকেই গঙ্গা জলে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে। হিন্দু শাস্ত্রবিদদের মতে, আমাদের হৃদয়ে যে নিরাকার ঈশ্বর রয়েছেন, উপাসনার জন্য মাটির প্রতিমা তৈরি করে তাকে সাকার রূপ দেওয়া হয়। পুজোর শেষে পুনরায় সেই সাকার রূপকে বিসর্জন দিয়ে নিরাকার ঈশ্বরকে হৃদয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই কারণেই দুর্গা পূজার সময় যখন প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে পরের বছর আবার আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়।          

    ‘দশমী’ কথাটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বিদায় বেলার যন্ত্রণার। আরও এক বছরের অপেক্ষা। দুর্গা পুজোর আনন্দে তাল কাটে এই দশমীতেই। বাঙালিদের কাছে মা দুর্গা ঘরের মেয়ে। আর ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরলে যেমন আনন্দ উপচে পড়ে, ঠিক সেভাবেই ফেরার সময় মন খারাপের সুর বাজে সানাইয়ে। বিজয়া দশমী সেই ভেজা চোখে বাঙালি বিদায় জানায় তার ঘরের মেয়ে উমাকে। ওই দিনই শশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন উমা। এই দিন বনেদি বাড়ির পুজোর পাশাপাশি বারোয়ারি পুজোতেও বাড়ির মহিলারা একে একে বরণ করেন প্রতিমাকে। তার পর চলে মহিলাদের সিঁদুর খেলা। কিছু বনেদী বাড়িতে প্রথা মেনে দেওয়া হয় কনকাঞ্জলি। এর পর প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গার ঘাটে সেখানে নৌকোতে চেপে বিসর্জন দেওয়া হয়। করোনা কালে ঠাকুর দেখানোর রীতিতে কাঁটছাট করা হয়েছে।           

    দশমীকে ‘বিজয়া’ বলার পিছনে পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। পুরাণের মহিষাসুর বধ কাহিনীতে বলা হয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে তাঁর বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিলেন দেবী দুর্গা। তাই তাকে ‘বিজয়া’ বলা হয়। এছাড়াও শ্রীশ্রীচণ্ডী কাহিনী অনুসারে, দেবীর আবির্ভাব হয় আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে। পরে শুক্লা দশমীতে মহিষাসুর বধ করেছিলেন তিনি। তাই বিজয়াকে দশমী বলা হয়। 

    উত্তর ও মধ্য ভারতে এই দিনে দশেরা উদযাপিত হয়। তবে তার তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। ‘দশেরা’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ‘দশহর’ থেকে। যার অর্থ দশানন রাবণের মৃত্যু। বাল্মীকি রামায়নে বলা হয়েছে, আশ্বিন মাসের ৩০ তম দিনে অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেন রাম, সীতা, ও লক্ষণ। রাবণ বধ ও রামচন্দ্রের এই প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যেই যথাক্রমে দশেরা ও দীপাবলি পালন করা হয়ে থাকে। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Durga Puja 2022: দুর্গাপুজোর নবমীতে হয় দক্ষিণান্ত, কেন জানেন?

    Durga Puja 2022: দুর্গাপুজোর নবমীতে হয় দক্ষিণান্ত, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহানবমী (Mahanabami)। মন খারাপের দিন। কারণ এই দিনটি চলে গেলেই মা দুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাসে (Kailash)। তাই তো সেই কবেই কবি বলেছিলেন, যেও না নবমী (Nabami) নিশি…। তবে প্রকৃতির নিয়ম মেনেই আসে নবমী তিথি। মহাপুজোর মহানবমী। দিনটির গুরুত্ব কম নয়।

    মহানবমীর আগে হয় সন্ধিপুজো। অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে মোট ৪৮ মিনিট। এই সময়টা কেবলই মহামায়ার এক রূপ দেবী চামুণ্ডার পুজো হয়। অষ্টমীতে যেহেতু অসুর, সিংহ, বিভিন্ন দেবদেবীর বাহন এবং অস্ত্রশস্ত্রের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়, সেহেতু নবমীর দিন তাঁদের প্রত্যেকের পুজো করতে হয়। এদিনই যেহেতু মহাপুজো সমাপনের দিন, সেহেতু এই দিনেই সম্পন্ন করতে হয় হোম। শাস্ত্র মতে, হোমের আগুন হল দেবদেবীর জিহ্বা স্বরূপ। তাই হোমাগ্নি প্রজ্জ্বলিত করে দিতে হয় আহুতি। এই আহুতি দেওয়া হয় প্রতিটি দেবদেবীর বীজমন্ত্র সহযোগে। যেহেতু দুর্গাই প্রধান দেবী, তাই এদিন তাঁর উদ্দেশ্যে দিতে হয় একশো আটটি বেলপাতার আহুতি। বাকি দেবদেবীদের উদ্দেশে ৮টি করে বেলপাতা। যজ্ঞ শেষে দেওয়া হয় পূর্ণাহুতি। এতে দেওয়া হয় একটি গোটা নারকেল, সোনার টুকরো এবং ফুলের মালা। যেসব পরিবারে সপ্তমীতে হোম শুরু হয়, তাঁরা হোমাগ্নি জ্বালিয়ে রাখেন নবমী পর্যন্ত। এই নবমীতে তাঁরাও দেন পূর্ণাহুতি। তার পরে হয় দক্ষিণান্ত। দেবীকে দিতে হয় কৈলাসে ফেরার পাথেয়।

    নবমীতে আরও একটি প্রথা পালিত হয় কোনও কোনও পরিবারে। সেটি হল শত্রু বলি। মানকচুর পাতায় চালের পিটুলি দিয়ে তৈরি করা হয় শত্রু। তার গায়ে মাখানো হয় রক্তচন্দন। পরে হাঁড়িকাঠে নিয়ে গিয়ে বলি করা হয় ওই কৃত্রিম শত্রু। অনেক পরিবারে আবার সন্দেশের শত্রু বানিয়ে বলি দেওয়া হয়। যাঁদের পরিবারে পশু বলি দেওয়ার চল রয়েছে, তাঁরা বলি দেন এদিন। অনেক পরিবারে আবার শত্রু নয়, কেবল কুমড়ো, আখ, কলা বলি দেওয়া হয়। নবমীতে দক্ষিণান্ত হয়ে গেলেই পুজো শেষ বলা যায়। কারণ দশমীতে দেবীর পুজো হয় নমো নমো করে। তাই সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর আগে মহা শব্দটি যোগ করা হলেও, দশমীতে তা হয় না।  

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।  

  • Durga Puja 2022: দশমীর দিন মা দুর্গাকে কেন বিসর্জন দেওয়া হয় জানেন?

    Durga Puja 2022: দশমীর দিন মা দুর্গাকে কেন বিসর্জন দেওয়া হয় জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে মানুষের দেহ আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল ও মাটি এই পাঁচ উপাদান দিয়ে তৈরি। একই ভাবে পাঁচ উপাদান দিয়েই তৈরি হন প্রতিমাও। মাটির মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার পর তাকে প্রতিমা বলে। পুজো শেষে বিদায় বেলায় আমার সেই মূর্তি আবার প্রাণহীন হয়ে পড়ে। আর সেই মূর্তিকে আবার পঞ্চতত্ত্বে বিলীন করতেই, বিসর্জনের রেওয়াজ রয়েছে। প্রতিমা পুজোর শেষ ধাপ হল বিসর্জন (Durga Visarjan)। পুজো শেষে প্রতিমাকে জলে বিসর্জন দিয়ে আবার প্রকৃতিতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মে শুরু থেকেই গঙ্গা জলে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে। হিন্দু শাস্ত্রবিদদের মতে, আমাদের হৃদয়ে যে নিরাকার ঈশ্বর রয়েছেন, উপাসনার জন্য মাটির প্রতিমা তৈরি করে তাকে সাকার রূপ দেওয়া হয়। পুজোর শেষে পুনরায় সেই সাকার রূপকে বিসর্জন দিয়ে নিরাকার ঈশ্বরকে হৃদয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই কারণেই দুর্গা পূজার সময় যখন প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে পরের বছর আবার আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়।          

    ‘দশমী’ কথাটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বিদায় বেলার যন্ত্রণার। আরও এক বছরের অপেক্ষা। দুর্গা পুজোর আনন্দে তাল কাটে এই দশমীতেই। বাঙালিদের কাছে মা দুর্গা ঘরের মেয়ে। আর ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরলে যেমন আনন্দ উপচে পড়ে, ঠিক সেভাবেই ফেরার সময় মন খারাপের সুর বাজে সানাইয়ে। বিজয়া দশমী সেই ভেজা চোখে বাঙালি বিদায় জানায় তার ঘরের মেয়ে উমাকে। ওই দিনই শশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন উমা। এই দিন বনেদি বাড়ির পুজোর পাশাপাশি বারোয়ারি পুজোতেও বাড়ির মহিলারা একে একে বরণ করেন প্রতিমাকে। তার পর চলে মহিলাদের সিঁদুর খেলা। কিছু বনেদী বাড়িতে প্রথা মেনে দেওয়া হয় কনকাঞ্জলি। এর পর প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গার ঘাটে সেখানে নৌকোতে চেপে বিসর্জন দেওয়া হয়। করোনা কালে ঠাকুর দেখানোর রীতিতে কাঁটছাট করা হয়েছে।           

    দশমীকে ‘বিজয়া’ বলার পিছনে পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। পুরাণের মহিষাসুর বধ কাহিনীতে বলা হয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে তাঁর বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিলেন দেবী দুর্গা। তাই তাকে ‘বিজয়া’ বলা হয়। এছাড়াও শ্রীশ্রীচণ্ডী কাহিনী অনুসারে, দেবীর আবির্ভাব হয় আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে। পরে শুক্লা দশমীতে মহিষাসুর বধ করেছিলেন তিনি। তাই বিজয়াকে দশমী বলা হয়। 

    উত্তর ও মধ্য ভারতে এই দিনে দশেরা উদযাপিত হয়। তবে তার তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। ‘দশেরা’ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ ‘দশহর’ থেকে। যার অর্থ দশানন রাবণের মৃত্যু। বাল্মীকি রামায়নে বলা হয়েছে, আশ্বিন মাসের ৩০ তম দিনে অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেন রাম, সীতা, ও লক্ষণ। রাবণ বধ ও রামচন্দ্রের এই প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যেই যথাক্রমে দশেরা ও দীপাবলি পালন করা হয়ে থাকে। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

LinkedIn
Share