Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Hindu Rituals: সনাতন ধর্মের যজ্ঞের আগুনেই জন্ম গণিত-বিজ্ঞান-কলাশাস্ত্রের বহু সূত্রের!

    Hindu Rituals: সনাতন ধর্মের যজ্ঞের আগুনেই জন্ম গণিত-বিজ্ঞান-কলাশাস্ত্রের বহু সূত্রের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গতির যুগ। হিসেবি মানুষের ভিড়। তাই ইদানিং কোনও ধর্মীয় রীতি পালন করাকে আধুনিক সমাজ সময় নষ্ট এবং অর্থের অপচয় বলে মনে করে। অথচ যুগ যুগ ধরেই বিশ্বের সব দেশেই পালিত হয়ে আসছে ধর্মীয় আচার পালন (Hindu Rituals)। সেটা যেমন পালন করেন সনাতনীরা, তেমনি পালন করেন খ্রিস্টান ধর্মের মানুষও। ইসলাম, শিখ, ইহুদি কিংবা বৌদ্ধ – বিশ্বের এমন কোনও সম্প্রদায় নেই, যারা কোনও না কোনও ধর্মীয় রীতি পালন করে না।

    সনাতনীদের অবদান (Hindu Rituals)

    সনাতনীদের এই ধর্মীয় রীতিই বিশ্বকে দিয়েছে অনেক কিছুই। জ্যামিতির ধারণা কিংবা মহাশূন্যে দ্বাদশ রাশির অবস্থান, শূন্যের ধারণা এসবই সনাতনীদের গভীর তপস্যার ফসল। তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ বলে যাঁরা দাবি করেন, তাঁরাও কোনও কোনও ধর্মীয় রীতি পালন করেন – কখনও জেনে, কখনও আবার অজান্তেই। বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে যেহেতু সনাতন ধর্মই সব চেয়ে বেশি প্রাচীন, তাই সনাতন ধর্মের অবদান কম নয়।

    চলুন, বেদের যুগে

    চলুন, টাইম মেশিনে চড়ে আমরা ফিরে যাই বেদের যুগে (Hindu Rituals)। সেই যুগে তখনও ঈশ্বরের কল্পনা আসেনি মানুষের মাথায়। যদিও এক অনির্বচনীয় নিয়মই (বেদের ভাষায় ‘ঋক’) যে জগতের নিয়ন্ত্রক, পালনকর্তা, মানবজীবনের মূল লক্ষ্যই হল, মহাবিশ্বের এই মহাশক্তিকে খুঁজে বের করা, তাঁর সান্নিধ্য লাভ করা, তা জানতেন বৈদিক ঋষি। এই মহাশক্তির উদ্দেশে সেই সময় যজ্ঞে আহুতি দিতেন উপনিষদের ঋষিও। যজ্ঞাগ্নির মধ্যে দিয়েই যে হবি (আহুতি) দেবতার কাছে পৌঁছে যায়, তা বিশ্বাস করতেন তাঁরা। সেই কারণেই যজ্ঞে আহুতি হিসেবে বৈদিক ঋষি দিতেন কখনও পশু, কখনওবা গাছের ডাল-পালা। এই যজ্ঞের আগুনেই কার্যত জন্ম হয়েছে বিজ্ঞান, গণিত কিংবা অন্যান্য কলাবিদ্যার।

    গণিতের সূত্র রহস্য

    বিশ্বে যে সময় মানুষ জানতেন না জ্যামিতি খায় না মাথায় দেয়, তখনই যজ্ঞবেদীর (Hindu Rituals) জন্য জ্যামিতিক চিত্র আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন বৈদিক যুগের ঋষিরা (Hindu Rituals)। সে যুগে ঋষিরা যে বিভিন্ন মনস্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে নানা যজ্ঞ করতেন, তা আমরা জানি। যুদ্ধ জয়ের আগে-পরে তাঁরা করতেন কখনও অশ্বমেধ যজ্ঞ, কখনও আবার বাজপেয় যজ্ঞ। সন্তান কামনায় করতেন পুত্র্যেষ্টি যজ্ঞ। এমন নানা কামনায় করতেন হাজারো যজ্ঞ। প্রতিটি যজ্ঞের বেদি হত আলাদা। এই বেদির নকশাই পরবর্তীকালে জন্ম দিয়েছে বহু জ্যামিতিক নীতিসূত্রের। আজ যে পিথাগোরাসের সূত্র মুখস্ত করতে হচ্ছে বিশ্বের সব দেশের ছেলেমেয়েদের, সেই সূত্র তাঁর জন্মের দুশো বছরেরও বেশি আগে তৈরি করে ফেলেছিলেন সনাতন ধর্মের ঋষি।

    যখন দূরবীক্ষণের জন্মই হয়নি, তখনই বৈদিক ঋষি পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন জ্যোতিষশাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের মধ্যে। এই দুই শাস্ত্রের চর্চার ফলেই তাঁরা জানতে পারতেন, কবে এবং কখন কোন মহাজাগতিক ঘটনা ঘটবে। সূর্যগ্রহণ কবে, চন্দ্রগ্রহণই বা কবে, পূর্ণগ্রাস না খণ্ডগ্রাস, উল্কাপতনই বা কখন হবে, এসবেরই নির্ভুল ক্ষণ জানিয়ে দিতেন বেদের যুগের ঋষিরা। আর্য ঋষিদের সেই সব সূত্রের ওপরই ভিত্তি করে আজও পাওয়া যায় মহাজাগতিক বিভিন্ন ঘটনার পূর্বাভাস। অঙ্কের বহু সূত্রেরও জন্ম দিয়েছে আর্য ঋষির সেই যজ্ঞকুণ্ড। বর্গক্ষেত্র, আয়তক্ষেত্র, রম্বস মায় ফ্যালকন-শেপড নকশাও তৈরি করা হত যজ্ঞকুণ্ডে। মণ্ডল, যন্ত্র এবং কলামের জ্ঞান আজও প্রয়োজন হয় জ্যামিতির জটিল রহস্য বুঝতে। ‘সুলভ সূত্রজ’ নামক গ্রন্থে এসবের বিস্তৃত উল্লেখ রয়েছে।

    সময় নির্ধারণ

    বিজ্ঞানের যখন এত অগ্রগতি হয়নি, তখনও আর্য ঋষি সময় নির্ধারণ করতে পারতেন। পারতেন ক্যালেন্ডার তৈরি করতে। যেহেতু শুভক্ষণে শুভ কাজটি সম্পন্ন করতে হয়, মাহেন্দ্রক্ষণে করতে হয় বিভিন্ন যজ্ঞ, সন্ধিক্ষণে করতে হয় আদ্যাশক্তির আরাধনা, তাই সময়ের সূক্ষ্ম হিসেব কষতে পারতেন বৈদিক যুগের ঋষিরা। পরবর্তীকালে যা জন্ম দেয় ক্যালেন্ডারের। চাঁদের ক্ষয় দেখেই এই ক্যালেন্ডারে উল্লেখ করা হত, কবে শুক্লপক্ষ, কৃষ্ণপক্ষই বা কবে। অষ্টমী কবে, নবমীই বা কখন থেকে, এর মাঝের কোন সময়টুকু সন্ধিক্ষণ, তা নির্ণয় করে ফেলেছিলেন সনাতনীদের পূর্বপুরুষরা। জানা গিয়েছে, স্বাধীনতার সময় এ দেশে কমবেশি তিরিশটি ক্যালেন্ডার চালু ছিল।

    আরও পড়ুুন: রাম নবমীতে অশান্তি, এনআইএ তদন্ত দাবি শুভেন্দু-দিলীপের

    জন্ম ছন্দ ও সুরের

    সনাতনীরা যেহেতু যজ্ঞের সময় মন্ত্রোচ্চারণ করতেন, সেখান থেকেই জন্ম হয় বিভিন্ন সুরের। পয়ার, ত্রিপদী-সহ নানা ছন্দের জন্মও হয়েছিল সেই যুগে। সুরের আঁতুড়ঘরও বৈদিক ঋষির মন্ত্রোচ্চারণ। হিন্দুরা নানা প্রাকৃতিক শক্তির পুজো করতেন। জল, বায়ু, অগ্নি মায় প্রস্তরখণ্ডের মধ্যেও মহাশক্তিকে খুঁজে বেড়াতেন তাঁরা। তাঁদের এই খোঁজের কাছেই অনেক ক্ষেত্রে ঋণী হয়ে রয়েছে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও রসায়ন শাস্ত্র।

    গাছগাছড়ার পাতা-রস-শেকড় খেয়ে যে মানুষের রোগ নিরাময় হয়, তা জানতেন আর্য ঋষি। দেবযুগে অশ্বিনী কুমারদ্বয় কিংবা বেদের যুগে চরক, সুশ্রুতের চিকিৎসা পদ্ধতির কাছে আজও অনেক সময় হার মানে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। ব্যাকরণের জন্মও তো হয়েছিল সেই আর্য ঋষির যুগে। পাণিনীর ‘অষ্টাধ্যায়ী’কে তো ‘ভাষাতত্ত্বের জনক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। কে বলল সনাতন ধর্ম রক্ষা করা প্রয়োজন শুধুই রাজনীতির স্বার্থে? গণিত-বিজ্ঞান-কলাশাস্ত্রকে সমৃদ্ধ করতে নয় (Hindu Rituals)!

    কথায় বলে না, অর্বাচীনের অশেষ দোষ!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Ram Navami 2024: “মঙ্গল ভবন অমঙ্গল হারি”-অধর্মকে দূরে সরিয়ে ধর্মের স্থাপনাই হল রাম নবমী

    Ram Navami 2024: “মঙ্গল ভবন অমঙ্গল হারি”-অধর্মকে দূরে সরিয়ে ধর্মের স্থাপনাই হল রাম নবমী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব রাম নবমী (Ram Navami 2024)। ধর্মীয় ধারণা অনুযায়ী এই তিথিতে রামচন্দ্রের জন্মোৎসব পালিত হয়। শাস্ত্র মতে চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাম। তাই এই তিথিটি রাম নবমী নামে পরিচিত। চলতি বছর ১৭ এপ্রিল রাম নবমী পালিত হচ্ছে। ১৬ এপ্রিল দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে নবমী তিথির সূচনা হয়েছে। ১৭ এপ্রিল দুপুর ৩টে ১৪ মিনিটে নবমী তিথি সমাপ্ত হবে। উদয়া তিথি অনুযায়ী ১৭ এপ্রিল রাম নবমী পালিত হবে। রাম নবমীর মধ্যাহ্ন ক্ষণ ১২টা ২১ মিনিট।

    রাম নবমীর গুরুত্ব

    শাস্ত্র মতে ভগবান বিষ্ণু বিভিন্ন যুগে নানা অবতারে মর্তে আবির্ভুত হয়েছিলেন। ত্রেতা যুগে তিনি ভগবান রামের (lord rama) অবতারে অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রানি কৌশল্যার ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন। সংসারকে নানা বিষয়ে শিক্ষাদান করতেই তিনি মর্তে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অধর্মকে নাশ করে ধর্মকে স্থাপন করা, অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভশক্তি সূচনাই হল রাম নবমীর (Ram Navami 2024) মূল উদ্দেশ্য। প্রাচীন ভারতের হিন্দু ধর্মগ্রন্থনুযায়ী ভগবান বিষ্ণু হলেন বিশ্ব সংসারের পালক। বিশ্ব সংসারের সকল মানুষকে ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যের পথ প্রদর্শন করতে এবং মিথ্যার উপর সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করতে শিখিয়েছেন ভগবান রাম। ভগবান রামের উল্লেখ যে শুধুমাত্র প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থে পাওয়া যায় তা নয়, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থেও শ্রীরামের উল্লেখ রয়েছে।

    কেন পালন করা হয় রাম নবমী

    রাম নবমী (Ram Navami 2024) হিন্দুধর্মের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। মন, প্রাণ ও দেহকে পবিত্র করার জন্য এই উৎসবটি পালন করা হয়। অশুভ শক্তির অপসারণ ও ঐশ্বরিক শক্তির আগমনের জন্য রামনবমী উৎসব পালিত হয়। ভগবান রাম অত্যাচারী রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার জন্য পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শত্রুদের বিনাশ করে, অধর্মকে ধ্বংস করে পৃথিবীতে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রীরাম। তিনি তাঁর পিতার নির্দেশে রাজবাড়ির ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্য ত্যাগ করে বনবাসী হয়েছিলেন। পিতৃসত্য পালনের জন্য চোদ্দ বছর বনবাসে থেকে তিনি রাবণকে বধ করে অযোধ্যায় ফিরেছিলেন। এই চোদ্দ বছর শ্রীরামের জীবনে নানা ঝড়, বাধা, বিপত্তির, ঘাত-প্রতিঘাত সহ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও তিনি নিজ লক্ষ্যে স্থির ছিলেন। তাঁর রাজ্যে প্রজারা সুখে শান্তিতে বাস করত এবং সেই রাজ্যের সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার অব্যাহত ছিল। এই জন্য রামের শাসনের অনুসরণে সুশাসিত রাজ্যকে ‘রামরাজ্য’ বলা হয়।

    কীভাবে পালন করবেন রাম নবমী

    চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের ব্রহ্ম মুহূর্তে উঠে রাম ও সীতাকে প্রণাম করে দিন শুরু করুন। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাড়ির প্রবেশদ্বারে আমপাতার তোরণ টাঙান। রঙ্গোলি বানাতে পারেন। এই তিথিতে ধ্বজা লাগানো শুভ। এর পর স্নান করে ব্রতর সংকল্প গ্রহণ করুন। এই তিথিতে হলুদ রঙের নতুন পোশাক পরে পুজো করা শুভ ফলদায়ী। এর পর সূর্যকে জলের অর্ঘ্য প্রদান করুন। ঠাকুরঘরে একটি চৌকিতে লাল বা হলুদ আসন বিছিয়ে রাম পরিবারের প্রতিমা বা ছবি স্থাপন করুন। এর পর আহ্বান মন্ত্র উচ্চারণ করে রামচন্দ্রের ধ্যান করুন। পঞ্চোপচার নিয়মে রাম, লক্ষ্মণ, সীতা ও বজরংবলীর পুজো করুন। এ সময়ে রাম চালিসা বা রাম স্তোত্র পাঠ করতে ভুলবেন না। অবশেষে আরতী করে রামচন্দ্রের কাছে সুখ-সমৃদ্ধি ও ধন লাভের প্রার্থনা করুন।

    আরও পড়ুন: অভিষেকের পর অযোধ্যায় প্রথম রাম নবমীতে পূজিত হবেন রামলালা, চলছে বিশেষ প্রস্তুতি

    ধর্মের প্রতিষ্ঠা

    এই উৎসবের দিন সকালে হিন্দুদের আদি দেবতা সূর্য দেবকে জল প্রদান করে, সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সূর্য দেবতার আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয়। রাম নবমী (Ram Navami 2024) উপলক্ষ্যে ধার্মিক ব্যক্তিরা সমগ্র দিন জুড়ে বৈদিক মন্ত্র পাঠ করেন।  এই দিনটিতে রাম কথার বর্ণনা করে, রাম কাহিনী পড়ে দিনটি পালন করা হয়। অনেকে মন্দিরে যান, অনেকে বাড়িতে রামের মূর্তিতে পুজো করেন। এদিন মন্দ শক্তিকে পরাজিত করে ভালোর প্রতিষ্ঠা করা হয়, অর্ধমকে নিক্ষেপ করে ধর্মের প্রতিষ্ঠা করা হয়। এদিন নিষ্ঠা নিয়ে পুজো করলে মনের অনেক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়। ভগবানের কৃপায় সব ধরনের সংকট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অনেকে রাম নবমীর দিন ভগবান রামের সঙ্গেই দেবী দুর্গারও পুজো করেন। 

    শপথ নেওয়ার দিন রাম নবমী

    ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রাম। হিন্দুধর্মে রাম অন্তঃহীন প্রেম, সাহস, শান্তি, শক্তি, ভক্তি, কর্তব্য ও মূল্যবোধের দেবতা। তিনি শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মেরই নন। তিনি হলেন ভারতীয় ভূখণ্ডের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এই ঐতিহ্যকে ভাগ করা সম্ভব নয়। রামের নাম ভারতে বসবাসকারী কোটি কোটি নাগরিককে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে। বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক চেতনার মহান দূত হলেন ‘শ্রীরাম’। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘রামচন্দ্র হলেন আদর্শ পুত্র, আদর্শ স্বামী, আদর্শ পিতা সর্বোপরি আদর্শ নৃপতি’। তাই শ্রীরামচন্দ্রের জন্মদিনটি ভারতবাসী তথা হিন্দুদের কাছে পবিত্র দিন, শপথ নেওয়ার দিন। ‘রাম নবমী’ (Ram Navami 2024) উৎসব হল মিলনের উৎসব, ভালোবাসার উৎসব, পবিত্রতার উৎসব, সত্য ও ধর্মস্থাপনের উৎসব।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ram Navami 2024: রাত পোহালেই রাম নবমী! কীভাবে করবেন দশরথ নন্দনের পুজো? জেনে নিন

    Ram Navami 2024: রাত পোহালেই রাম নবমী! কীভাবে করবেন দশরথ নন্দনের পুজো? জেনে নিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলছে চৈত্র নবরাত্রি। আজকে অষ্টমী। এদিন পুজো হয় অন্নপূর্ণা মাতার। একদিন পরেই  নবমী। এদিন দেশ-বিদেশের একাধিক জায়গাতে হিন্দুরা মেতে ওঠেন রাম নবমী (Ram Navami 2024) উৎসব পালনে। ২০২৪ সালের রামনবমীর গুরুত্ব অন্যান্য বছরের থেকে আলাদাও বটে। কারণ চলতি বছরে প্রথমবারের জন্য রাম জন্মভূমি অযোধ্যার রাম মন্দিরে সাদরে পালিত হবে রাম নবমী। অনেকেই চৈত্র নবরাত্রিতে ব্রত পালন করেন ৯ দিন ধরেই। আবার রাম নবমীর দিনেও পাড়ায় পাড়ায় রাম পুজোর চল রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এদিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভগবান রামচন্দ্র। রাম নবমীর (Ram Navami 2024) দিনে সঠিক প্রথা মেনে উপবাস এবং উপাসনা করলে অত্যন্ত শুভ ফল পাওয়া যায় বলে হিন্দুদের বিশ্বাস রয়েছে। শাস্ত্রবিদরা বলছেন, এই দিনে ভগবান রামের পুজো-জপ নিয়ম মেনেই করা উচিত। শাস্ত্রবিদদের মতে, জীবনে যে কোনও রকমের সমস্যা, গুরুতর রোগ অথবা সংকট থাকলে রাম নবমীর দিনে রাম রক্ষা স্তোত্র পাঠ করুন। এতে সমস্ত বিপদ থেকে মুক্ত হবেন। 

    রাম নবমীর তাৎপর্য

    – ভগবান রামচন্দ্রের ভক্তরা রাম নবমীকে (Ram Navami 2024) অত্যন্ত শুভ দিন হিসেবে বিবেচনা করেন এবং তাঁরা সারাদিনব্যাপী রামচন্দ্রের কাহিনী শোনেন
    – ভগবান রামচন্দ্রকে সন্তুষ্ট রাখতে তাঁর কাছে নিজেকে উৎসর্গ করতে ভক্তরা নানা ধরনের কৃচ্ছ্বসাধন এবং উপবাস করেন
    – এই দিনে রামের কীর্তন এবং ভজনে উপস্থিত থাকেন ভক্তরা
    – ভগবান রামের জন্মস্থান অযধ্যাতে এই দিনটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে উদযাপিত হয়

    রাম নবমীর পূজা পদ্ধতি

    – প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, রাম নবমীতে (Ram Navami 2024) ভগবান রামকে হলুদ বস্ত্র হলুদ ফুল এবং হলুদ চন্দন অর্পণ করা উচিত।
    – ভগবান রামকে বিষ্ণুর অবতার মানা হয়। বিষ্ণুর পূজা তুলসী ছাড়া অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেজন্য ভগবান রামের উদ্দেশে অর্পিত ভোগে অবশ্যই তুলসী পাতা রাখুন।
    – রাম নবমীতে (Ram Navami 2024) ভগবান রামের নাম জপ করলে সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয় বলে হিন্দুদের বিশ্বাস রয়েছে। তাই এদিন সারাক্ষণ মনে মনে রামের নাম জপ করতে থাকুন।
    – রাম নবমীর দিনে নদীতে স্নান করা এবং দান করা গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এই দিন সম্ভব হলে নদীতে স্নান করুন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দান করুন। 
    – রাম নবমীর দিনটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয় তাই যে কোনও নতুন কাজ রাম নবমীর দিন থেকে শুরু করা যেতে পারে। 

    কোন কোন বিষয়ে মাথায় রাখবেন

    – রাম নবমীর (Ram Navami 2024) দিনে সর্বদা পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করুন। শুদ্ধ এবং শান্ত মনে ভগবান রামচন্দ্রকে স্মরণ করুন।
    – ভগবান রামের পুজোতে কোনওভাবেই বাসি প্রসাদ বা শুকনো ফুল দেবেন না।
    – যদি কখনও পুজো করতে করতে প্রদীপ নিভে যায় তাহলে সেই প্রদীপ না জ্বালিয়ে নতুন প্রদীপ জ্বালান
    – রাম নবমীর দিন যেকোনও ধরনের তামসিক খাবার, যথা পেঁয়াজ রসুন মাংস অথবা মদ এ সমস্ত থেকে দূরে থাকুন
    – রাম নবমীতে (Ram Navami 2024) যদি উপবাস করেন তাহলে শাস্ত্রমতে এদিন আপনার রাগ, কাম, অশ্লীলতা, ঝগড়া করার মানসিকতা কমে যায়

    কী কী করবেন

    – অনেকেই এদিন দোলনার উপরে রামচন্দ্রকে স্থাপন করে পুজো করেন। এটিকে শুভ বলে মনে করা হয়।
    – ঘুম থেকে ওঠার পরেই ভগবান রামের উদ্দেশে অর্ঘ্য নিবেদন করলে জীবনের সুখ শান্তি নেমে আসে।
    – রাম নবমীর দিনে অনেকেই রামচরিত মানস, রাম চল্লিশা, শ্রী রাম রক্ষা স্তোত্র পাঠ করেন।
    – এই দিনে হনুমান চল্লিশা পাঠ করে দরিদ্রদের দান করা উচিত।

    কী কী করবেন না

    – চৈত্র নবরাত্রি সময়তে এবং রাম নবমীতে (Ram Navami 2024) কোনওভাবেই চুল দাড়ি কিছু কাটবেন না।
    – তরকারিতে পেঁয়াজ বা আদা দেবেন না।
    – রাম নবমীর দিনে যেকোনও ধরনের অশুভ চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।
    – রাম নবমীর দিনে কাউকে কোনও রকম কটু কথা বলবেন না।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Annapurna Puja 2024: আজ চৈত্র নবরাত্রির অষ্টমী, আজই অন্নপূর্ণা পুজো, জানুন দেবীর মাহাত্ম্য

    Annapurna Puja 2024: আজ চৈত্র নবরাত্রির অষ্টমী, আজই অন্নপূর্ণা পুজো, জানুন দেবীর মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চৈত্র মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে পূজিতা হন দেবী অন্নপূর্ণা (Annapurna Puja 2024)। তবে এর পাশাপাশি গ্রাম বাংলাতে নবান্ন উৎসবের সময়ও অন্নপূর্ণা পুজোর রীতি দেখা যায়। সেটা অগ্রহায়ণ মাসে সম্পন্ন হয়। মনে করা হয় বাংলায় অন্নপূর্ণা দেবীর মাহাত্ম্য প্রচারিত হয়েছে কাশী থেকেই। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন করতে গেলে পুজো দিতে হয় মা অন্নপূর্ণাকে। হিন্দুদের বিশ্বাস, বাবা বিশ্বনাথ কাশীধামের নির্মাণকর্তা এবং মা অন্নপূর্ণা সমগ্র কাশী ধামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। চলতি বছরে শ্রী শ্রী অন্নপূর্ণা পুজো আজ, মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বাসন্তী পুজোর চলার অষ্টমীতেই পূজিতা হন মা অন্নপূর্ণা। চৈত্র নবরাত্রির অষ্টমীতে অন্নপূর্ণা পুজোর (Annapurna Puja 2024) পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় রামনবমী।

    এদিন কাশী ধামে আয়োজিত হয় অন্নকূট উৎসব

    অন্নপূর্ণা পুজোর দিনে কাশী ধামে আয়োজিত হয় অন্নকূট উৎসব। আমিষ ভোজন, মাদক পান, ধূমপান প্রভৃতি থেকে দূরে থাকেন এই দিন ভক্তরা। কাউকে কোনওরকম কটু কথাও বলেন না ভক্তরা। যাতে তাদের ব্যবহারে কেউ অন্য কেউ কষ্ট পায়। এদিন ভক্তরা ব্রত পালন করেন এবং মিথ্যা কথা বলেন না। সাদা পোশাকে পুজোয় (Annapurna Puja 2024) দিতে দেখা যায় ভক্তদের। হিন্দুদের বিশ্বাস অন্নকূট উৎসবে কোনও ভিক্ষুককে পিতলের পাত্রে আতপ চাল দান করলে অত্যন্ত শুভ ফল পাওয়া যায়।

    ভরতচন্দ্র রায়গুনাকর দেবী অন্নপূর্ণার কথা উল্লেখ করেছেন

    দেবী অন্নপূর্ণার (Annapurna Puja 2024) যে কোনও বিগ্রহ দেখলেই বোঝা যায়, তাঁর হাত থেকে অন্ন গ্রহণ করছেন দেবাদিদেব মহাদেব। বাংলাতে ভরতচন্দ্র রায়গুনাকর দেবী অন্নপূর্ণার কথা উল্লেখ করেছেন। সেখানে মা অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্যও বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ন শব্দের অর্থ হল ধান আর পূর্ণা শব্দের অর্থ পূর্ণ। প্রচলিত অনেক কাহিনী রয়েছে মা অন্নপূর্ণাকে নিয়ে। তার মধ্যে অন্যতম হলো কাশীর পৌরাণিক আখ্যান।

    পৌরাণিক কাহিনী জানুন

    পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, শিব পার্বতী বিবাহের পরে দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু শিবের আর্থিক অনটনের কারণে দাম্পত্য সমস্যা শুরু হয়।  সে সময়ে ভোলেনাথের সঙ্গে মা পার্বতীর (Annapurna Puja 2024) মতবিরোধ শুরু হয় মাতা পার্বতী কৈলাস ত্যাগ করেন। মাতা পার্বতীর এই সিদ্ধান্তের পরেই দেখা যায় মহামারি এবং নানা সংকট ভক্তরা তখন আকুল হয়ে পড়েন। তাঁরা দেবাদিদেব মহাদেবকে ডাকতে থাকেন। সেই সময়ই ভিক্ষার ঝুলিকে কাঁধে তুলে নেন মহাদেব। কিন্তু দেবীর মায়ায় কোথাও ভিক্ষা জোটে না। মহাদেব তখন জানতে পারেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্ন দান করছেন। তখন ভোলেনাথ সেখানে উপস্থিত হন। চিনতে পারেন তিনি মাতা অন্নপূর্ণাকে (Annapurna Puja 2024)। মহাদেব মায়ের কাছে ভিক্ষা প্রার্থনা করেন এবং সেই ভিক্ষা গ্রহণ করেই মহামারি এবং খাদ্যাভাব থেকে ভক্তকুলকে রক্ষা করেন বলে মনে করা হয়। চৈত্র মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সেখানে মানে কাশী ধামে মায়ের আবির্ভাব হয়েছিল বলে মানা হয়। তাই তখন থেকেই সেখানে মায়ের পুজো প্রচলন। অন্য আরেকটি পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। সেই পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে দেবী পার্বতীর মায়ায় কোথাও ভিক্ষা পাননি দেবাদিদেব মহাদেব। তবে তা বুঝতে পারেন শিব। কৈলাসে ফিরে পায়েস পিঠে খেয়ে তৃপ্ত হন দেবাদিদেব। তখন থেকেই নাকি অন্নপূর্ণা পুজোর প্রচলন।

    মায়ের প্রিয় ভোগ কী জানেন

    মা অন্নপূর্ণাকে মা দুর্গার আরেক রূপ মানা হয়। বাংলার অন্নদামঙ্গল কাব্যে প্রথম মেলে এই দেবীর (Annapurna Puja 2024) উল্লেখ। শক্তির অপর রূপ মানা হয় মা অন্নপূর্ণাকে তিনি সকলের অন্ন যোগান। মা অন্নপূর্ণার প্রিয় ভোগ হল- মুগের ডাল, ভাত, শাক, ভাজা, মোচার ঘন্ট, আর ছানার ডালনা। ভক্তদের বিশ্বাস, এইভাবে সাজিয়ে মাকে ভোগ নিবেদন করলে তিনি খুশি হন এবং বছরভর সুখ ও শান্তি সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে ভক্তের জীবন।

     

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।
     

  • Basanti Puja 2024: আজ বাসন্তী পুজোর সপ্তমী, জেনে নিন এই উৎসবের ইতিহাস

    Basanti Puja 2024: আজ বাসন্তী পুজোর সপ্তমী, জেনে নিন এই উৎসবের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্জিকা অনুসারে, এখন চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তিথি চলছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্ল তিথিতে আয়োজিত হয় নবরাত্রি উৎসবের। অবাঙালি সম্প্রদায়ের কাছে এটি চৈত্র নবরাত্রি নামেও পরিচিত। নয় রাত ধরে দেবী দুর্গার নয় রূপের আরাধনা করা হয়। আর এই সময়ে মহা ধুমধামের সঙ্গে বাঙালি মেতে ওঠে বাসন্তী পুজোয় (Basanti Puja 2024)। বাসন্তী পুজোই হল বাঙালির আসল দুর্গাপুজো। পরে শরত্‍কালে শারদীয়া নবরাত্রির সময় রামচন্দ্রের অকাল বোধন মেনে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়। এই নবরাত্রির (Navratri 2024) সপ্তমী থেকে নবমী, তিন দিন ধরে চলে বাসন্তী পুজো। দুর্গাপুজোর মতোই সব নিয়ম আচার মেনে বাসন্তী পুজো করা হয়। বসন্ত কালে এই দুর্গা পুজো হয় বলে একে বাসন্তী পুজো বলা হয়ে থাকে।

    মঙ্গলবার অন্নপূর্ণা পুজো, বুধবার রামনবমী (Ram Navami)

    রবিবার, পয়লা বৈশাখের দিন থেকে শুরু হয়েছে বাসন্তী পুজো (Basanti Puja 2024)। গতকাল ছিল ষষ্ঠী। আজ সোমবার, ১৫ এপ্রিল, বাসন্তী পুজোর সপ্তমী তিথি। সেই হিসেবে, ১৬ তারিখ অষ্টমী তথা অন্নপূর্ণা পুজো। পরের দিন, অর্থাৎ, ১৭ তারিখ পালিত হবে রামনবমী। পঞ্জিকা মতে, ১৬ এপ্রিল পড়ছে রামনবমীর তিথি। ওই দিন দুপুর ১টা ২৩ মিনিট থেকে শুরু হচ্ছে রামনবমীর তিথি। আর তিথি চলবে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত। ১৭ এপ্রিল দুপুর ৩টে ১৪ মিনিটে শেষ হচ্ছে রামনবমীর তিথি। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, যেহেতু উদয়া তিথি ধার্য করা হয়, সেই নিয়মেই ১৭ এপ্রিল রামনবমীর (Ram Navami) তিথি পালিত হবে।

    এবছর দেবী এসেছেন ঘোটকে…

    শাস্ত্র মতে, দেবীর আসা ও যাওয়ার বাহনের উপর নির্ভর করে গোটা বছর কেমন কাটতে চলেছে। দেবী দুর্গা কোনও বছর ঘোড়া, কোনও বছর হাতি, আবার কোনও বছর নৌকায় আসেন। চলতি বছরে চৈত্র নবরাত্রিতে দেবীর আগমন (Basanti Puja 2024) হবে ঘোটক বা ঘোড়ায়। ঘোড়ায় চড়ে দেবীর মর্ত্যে আগমন জ্যোতিষ অনুসারে শুভ লক্ষণ হিসাবে মানা হয় না। এর ফলে ক্ষমতার পরিবর্তন ও অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

    রাজা সুরথ ও বাসন্তী পুজোর ইতিহাস

    পুরাণ অনুযায়ী, সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যা পরে বাসন্তী পুজো (Basanti Puja 2024) নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পুজারী হিসাবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে। পরে রাবণ বধের উদ্দেশে শ্রীরামচন্দ্র অকাল বোধন করেন এবং তখন থেকে দূর্গাপুজো শরৎকালে শুরু হয়।

    রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তবংশী রাজা (চিত্রগুপ্তের বংশধর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দূর্গা সপ্তশতী দেবী মাহাত্ম্য এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণে। সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত ছিলেন। কোনও যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হারেননি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য একদিন তাঁকে আক্রমণ করে এবং সুরথ পরাজিত হন। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। কাছের মানুষের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে যান সুরথ। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধাসের আশ্রমে পৌঁছান। ঋষি তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা শান্তি পান না। এর মধ্যে একদিন তাঁর সমাধির সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন, সমাধিকেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তিনি স্ত্রী-ছেলের ভালোমন্দ এখনও ভেবে চলেছেন।

    তাঁরা দুজনেই তখন ভাবলেন, যাদের কারণে তাদের সব কিছু হারিয়েছে, তাদের ভালো আজও তারা কামনা করছেন। ঋষিকে একথা বলায়, তিনি বলেন সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন। ঋষির উপদেশেই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন। পরে মহামায়ার আশীর্বাদ পেতেই বসন্ত কালের শুক্ল পক্ষে রাজা পুজো শুরু করেন। শুরু হয় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja 2024)। এই পুজো এখন কয়েকটি বাড়িতেই শুধু হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Poila Baisakh: জীর্ণ পুরাতনকে মুছে নতুনকে স্বাগত জানানোর দিন পয়লা বৈশাখ, জানেন এর ইতিহাস?

    Poila Baisakh: জীর্ণ পুরাতনকে মুছে নতুনকে স্বাগত জানানোর দিন পয়লা বৈশাখ, জানেন এর ইতিহাস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  আজ, পয়লা বৈশাখ (Poila Baisakh), বাংলা নববর্ষের শুরু। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু মুছে নতুনকে স্বাগত জানানোর দিন। বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাস থেকে নতুন বছর শুরু হলেও বাংলা ক্যালেন্ডারের হিসেবে নতুন বছর শুরু হয় বৈশাখ মাস থেকে। সূর্য মেষ রাশিতে প্রবেশ করা থেকেই শুরু হয় নতুন বাংলা বছর। অর্থাত্‍ মেষ সংক্রান্তি বা চৈত্র সংক্রান্তির পরের দিনটি পয়লা বৈশাখ নামে পরিচিত। পৃথিবীর সব দেশেই পালন করা হয় নববর্ষ। চলে আনন্দ-অনুষ্ঠান, নাচগান। প্রকৃতপক্ষে এ বর্ষবরণের উৎসব। পয়লা বৈশাখ (বাংলা ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বাংলা সনের প্রথম দিন তথা বাংলা নববর্ষের শুরু। এই দিনটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশে বিশাল জাঁকজমক করে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নেয়। এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন উৎসব। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ই এপ্রিল অথবা ১৫ই এপ্রিল পয়লা বৈশাখ পালিত হয়। সেই মতো এই বছর ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ পালিত হচ্ছে।

    নববর্ষের ইতিহাস

    বাংলা নববর্ষের (Poila Baisakh) ইতিহাস নিয়ে রয়েছে নানা মত ও মতামত। রাজা শশাঙ্কের সময় সপ্তম শতাব্দীতে বাঙালি যুগ শুরু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া চন্দ্র ইসলামি বর্ষপঞ্জি ও সৌর হিন্দু বর্ষপঞ্জির সমন্বয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও মত রয়েছে। এছাড়াও, কিছু গ্রামীণ অংশে, বাঙালি হিন্দুরা তাদের যুগের শুরুর কৃতিত্ব সম্রাট বিক্রমাদিত্যকে দেয়। তারা বিশ্বাস করে যে বাংলা ক্যালেন্ডার শুরু হয়েছিল ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে।

    অঙ্ক বলে শশাঙ্কই বঙ্গাব্দের প্রবর্তক

    বঙ্গাব্দের প্রবর্তক শশাঙ্ক, এই ধারণা মানতে গেলে ইতিহাসের পাতায় ফিরতে হবে ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ দিকে। ঘুরে আসতে হবে আজকের বহরমপুর শহরের কর্ণসুবর্ণতে। সেই সময়ে শশাঙ্ক ছিলেন গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে একজন সামন্ত রাজা। পরবর্তীকালে তিনি সার্বভৌম গৌড়ের শাসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন বঙ্গভূমিতে। এই তত্ত্ব অনুসারে, ৫৯৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা শশাঙ্ক মারা যাওয়ার ৪৫ বছর আগে বঙ্গাব্দ চালু হয়। অঙ্কের দিক থেকে, বঙ্গাব্দের সঙ্গে ইংরেজি সালের ব্যবধানও ঠিক ৫৯৩ সালের। নতুন বছরে, অর্থাৎ ১৪৩১ সালের সঙ্গে ইংরেজি ২০২৪ সালের ব্যবধানও ৫৯৩ বছরের। তবে এই তত্ত্বের সমালোচকরা বলেন যে ওঁর আমলে বাংলা ভাষা চালুই হয়নি। তাই বাংলার জন্য আলাদা সন চালু হওয়া বাড়াবাড়ি ভাবনাচিন্তা।

    বাঙালি সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরার দিন

    বাঙালির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে পয়লা বৈশাখ (Poila Baisakh)। এই দিনে বাঙালি যেন তার নিজস্ব সংস্কৃতিকে আরও একটু বেশি জড়িয়ে ধরে। নিজের শিকড়ের আরও কাছাকাছি এদিন আসে বাঙালি সমাজ। বাঙালি মেয়েরা শাড়ি ও ছেলেরা ধুতি-পাঞ্জাবি বা পাজামা-পাঞ্জাবিতে সেজে বাঙালির ঐতিহ্যের প্রকাশ ঘটান। তার সঙ্গে বাঙালি খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা মারা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই দিনটি কাটান বাঙালিরা।

    হালখাতার সূচনা

    দূর অতীতে নববর্ষে বাংলায় তেমন কোনও অনুষ্ঠান হত না। পয়লা বৈশাখ (Poila Baisakh) মানে ছিল হালখাতার দিন। ‘হাল’ শব্দটি সংস্কৃত ও ফারসি, দু’টি ভাষাতেই পাওয়া যায়। সংস্কৃত ‘হল’ শব্দের অর্থ লাঙল। তার থেকে বাংলায় এসেছে হাল। আর ফারসি ‘হাল’ মানে নতুন। আজকের পয়লা বৈশাখে সে কালে নববর্ষ পালনের উৎসব হত না, এটি ছিল ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা খোলার দিন। এই দিনটি নতুন আর্থিক বছরের সূচনা করে। লোকেরা হালখাতা নামে নতুন অ্যাকাউন্টের খাতাও খোলে। এখনও বাংলার ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রথম দিনটাকে হালখাতা হিসেবে পালন করে থাকেন। তার সঙ্গে দোকানে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো ও ক্রেতাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। তাই বাংলা নববর্ষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে হালখাতা। বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এই হালখাতা। পুরনো বছরের সব হিসেব মিটিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় নতুন খাতায় হিসেব-নিকেশ করা।

    আরও পড়ুন: শুরু হল হিন্দু নববর্ষ ‘বিক্রম সংবত ২০৮১’, জানেন এর তাৎপর্য?

    নানাভাবে উদযাপন

     নববর্ষে ভাল ফসল ফলনের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন চাষিরা। এই দিনে মানুষ পবিত্র নদীতে স্নান করে পুজো করে। ঘর পরিষ্কারের পর তৈরি হয় আল্পনা। নতুন বছরের প্রথম দিনে মন্দিরে গিয়ে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নেওয়া হয়। এইদিন বিশেষ খাবার প্রস্তুত করা হয়। এই দিনে গরু পুজো , নতুন কাজের শুরু, শুভ বৃষ্টির জন্য মেঘ পুজো ইত্যাদিও গুরুত্বপূর্ণ। পয়লা বৈশাখে মানুষ সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য সূর্য দেবের পাশাপাশি গণেশ ও মা লক্ষ্মীর পুজো করে।

    রবি-যাপন

    তবে যেভাবে বা যখন থেকেই বাঙালি পয়লা বৈশাখ (Poila Baisakh) পালন করুক না কেন যিনি বাঙালির প্রাণের সঙ্গে এদিনটিকে জুড়ে দিলেন, তিনি হলেন রবীন্দ্রনাথ। যা ছিল বাণিজ্যিক, তা কবিগুরু হাত ধরে চিরকালের জন্যে ধরা পড়ল আমাদের চিন্তা-চেতনার মধ্যে। তাঁর কবিতা, গান, প্রবন্ধ, নাটকে বার বার এসেছে নতুন বছরের স্বাগতবাণী। এ তাঁর কাছে নবজন্ম। পুরনো জীর্ণ জীবনের অস্তিত্বকে বিদায় দিয়ে নতুন জীবনে প্রবেশের আনন্দ অনুভূতি। কবির আকুল আর্তি, “ওরে, নূতন যুগের ভোরে / দিস নে সময় কাটিয়ে বৃথা সময় বিচার করে”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Gajan Utsav: বঙ্গবাসী মেতেছে গাজন উৎসবে! এর প্রচলন কবে থেকে জানেন?

    Gajan Utsav: বঙ্গবাসী মেতেছে গাজন উৎসবে! এর প্রচলন কবে থেকে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চৈত্র শেষে গাজনের ঢাক (Gajan Utsav)। গ্রাম থেকে শহর শোনা যাচ্ছে ঢাক-ঢোল-কাঁসরের আওয়াজ। বাংলা বছরের শেষ উৎসব হল গাজন। এই উৎসবে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। গাজন উৎসবে জাতপাতের বেড়াজাল টপকে সকলেই সামিল হন শিব আরাধনায়। তবে এর পাশাপাশি আমাদের জেনে রাখতে হবে, গাজন উৎসব ধর্মরাজকে কেন্দ্র করেও হয়।

    গাজন শব্দের উৎপত্তি 

    গবেষকরা জানাচ্ছেন, গাজন (Gajan Utsav) শব্দের উৎপত্তি ‘গর্জন’ থেকে। অনেকের ধারণা, শিব সাধনার সময় সন্ন্যাসীদের হুঙ্কার বা রব থেকেই গাজন শব্দের উৎপত্তি। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণেও মেলে গাজনের উল্লেখ। পুরাণের প্রকৃতিখণ্ডে  লেখা রয়েছে, ‘‘চৈত্র মাস্যথ মাঘেবা যোহর্চ্চয়েৎ শঙ্করব্রতী। করোতি নর্ত্তনং ভক্ত্যা বেত্রবানি দিবাশিনম্।। মাসং বাপ্যর্দ্ধমাসং বা দশ সপ্তদিনানি বা। দিনমানং যুগং সোহপি শিবলোক মহীয়তে।।’’ এর অর্থ চৈত্রে কিংবা মাঘে এক-সাত দশ-পনেরো কিংবা তিরিশ দিন হাতে বেতের লাঠি নিয়ে শিবব্রতী হয়ে নৃত্য ইত্যাদি করলে মানুষের শিবলোক প্রাপ্ত হয়।

    জনশ্রুতি অনুযায়ী, শিবের সঙ্গে কালির বিবাহ সম্পন্ন হয়

    অনেক গবেষকের ধারণা, গাজন (Gajan Utsav) উৎসবে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব। আবার বাংলার মঙ্গলকাব্যতেও গাজনের উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন ধর্মমঙ্গল কাব্যে রয়েছে এর বিস্তৃত বিবরণ। তবে অন্য একটি অংশের মতে, গা শব্দ বলতে গ্রামকে বোঝায়। আর, জন শব্দ বলতে জনসাধারণকে বোঝায়। অর্থাৎ গ্রামের জনসাধারণের যা উৎসব তাই গাজন। জনশ্রুতি রয়েছে, গাজনই হল সেই দিন যেদিন শিবের সঙ্গে কালির বিবাহ সম্পন্ন হয়। আরও লৌকিক কথা হল, গাজনের সন্ন্যাসীরা হলেন আসলে শিবের বরপক্ষ।

    গাজন উৎসবের তিনটি অংশ

    গাজন উৎসবের তিনটি অংশ থাকে। যথা- ঘাট সন্ন্যাস, নীলব্রত এবং চড়ক। অনেক জায়গাতে গাজন উৎসব (Gajan Utsav) চৈত্র মাসের প্রথম দিন থেকেই ভক্ত সন্ন্যাসীরা পালন করতেন, সেটা অনেক আগেকার কথা অবশ্য। তবে বর্তমান সময়ে চৈত্র সংক্রান্তির সাত দিন আগে অথবা তিন দিন আগে থেকেই কঠোরব্রত পালন করেন সন্ন্যাসীরা। এই সময়ে পরিচ্ছন্ন বস্ত্র ধারণ করে হবিষ্যান্ন গ্রহণ করেন সন্ন্যাসীরা।

    অনেক জায়গাতে মুখোশ নৃত্যের প্রচলন দেখা যায়

    গাজনে অনেক জায়গাতে মুখোশ নৃত্যের প্রচলন দেখা যায়। যা স্থানীয় ভাষায় বোলান গান নামেও পরিচিত। এগুলি বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, নদিয়া বীরভূম জেলাতে দেখা যায়। এই সময়ে শিব-গৌরী সাজেন অনেকেই। এর পাশাপাশি নন্দী, ভৃঙ্গি ভুত-প্রেত, দৈত্য, দানব প্রভৃতি ধরনের সং সেজেও নৃত্য করেন সবাই (Gajan Utsav)। লৌকিক ছড়া, আবৃত্তি গানও করা হয়। গাজনের ঠিক পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় নীল পুজো। গ্রাম্য মহিলারা সন্তানদের মঙ্গল কামনায় এ দিন ফল, আতপ চাল, অর্থ দান করে থাকেন।

    প্রথম চড়ক পুজোর প্রচলন কবে

    পৌরাণিকভাবে গাজন উৎসবের (Gajan Utsav) সূচনা নিয়ে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে, বান নামে এক রাজা ছিলেন প্রবল শিব ভক্ত। তিনি দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট করতে কঠোর তপস্যা করেন। শিব ভক্তির সেই সূত্র মেনে এখনও পর্যন্ত সন্ন্যাসীরা চড়কের বান পরেন। কাঁটার উপরে ঝাঁপও দেন। গাজন যেন এক প্রকার কৃচ্ছসাধনের ব্রত পালন করেন সন্ন্যাসীরা। আগুন ঝাঁপ, কাঁটা ঝাঁপ কপাল ফোঁড়া ইত্যাদি দেখা যায়। গবেষকরা বলছেন, ১৪৮৫ সালের রাজা সুন্দর আনন্দ ঠাকুর প্রথম চড়ক পুজোর প্রচলন করেন। সেই থেকেই এই প্রথা মেনে আসছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

    অন্ত্যজ শ্রেণির নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই সন্ন্যাস ধর্ম পালন করেন

    গাজনের এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভূত-প্রেত, পুনর্জন্ম প্রভৃতি বিষয়। এক সময়ে গাজনের (Gajan Utsav) সন্ন্যাসীরা হুড়কো দিয়ে নিজেদেরকে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুত বেগে ঘুরতেন। সেসময় ব্রিটিশ সরকার আইন প্রণয়ন করে এই নিয়ম-নীতি বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে আজও অনেক স্থানে এই রীতি দেখা যায়। গাজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এই সময়ে অন্ত্যজ শ্রেণির নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই সন্ন্যাস ধর্ম পালন করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে আবার দেখা যায় শিব-পার্বতী সেজে কেউ কেউ ভিক্ষা পাত্র নিয়ে বের হন। সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে আতপ চাল, কাঁচা আম, কাঁচা কলা প্রভৃতি সংগ্রহ করেন।

    মালদহ জেলায় গম্ভিরা উৎসব পালিত হয় এই সময়

    পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ সর্বত্রই গাজন উৎসব দেখা যায়। মালদহ জেলায় গম্ভিরা উৎসব (Gajan Utsav) পালিত হয় এই সময়। কোথাও তা চৈত্র সংক্রান্তি থেকে হয়, কোথাও তা আবার পয়লা বৈশাখে হয়। চার দিন ধরে চলে এই উৎসব। একদিকে যেমন শিব আরাধনা চলে, তেমনই অন্যদিকে দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যার কথা ভক্তরা দেবাদিদে মহাদেবের উদ্দেশে বলতে থাকেন। সেখানে সমস্ত ধরনের কথাই খোলামেলা বলা হয়। রাজনীতি থেকে জীবনের বঞ্চনা কোনও কিছুই বাদ যায় না। পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির পাশাপাশি কলকাতাতেও দেখা যায় চৈত্র সংক্রান্তির সং সাজা। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে সঙ বের হয়। কলকাতার জেলে পাড়ার সঙ্গে কথাও কম বেশি সকলেই জানেন। এর পাশাপাশি কালীঘাটের নকুলেশ্বর তলা সহ বেশ কিছু জায়গায় আজও গাজন পালিত হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের WhatsappTelegramFacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Birbhum: ব্যতিক্রমী ঘটনা! সবাইকে তাক লাগিয়ে দ্বিজা হল সিউড়ির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী

    Birbhum: ব্যতিক্রমী ঘটনা! সবাইকে তাক লাগিয়ে দ্বিজা হল সিউড়ির পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফকির লালন বলেছিলেন, “বামুন চিনি পৈতে প্রমাণ, বামনি চিনি কী প্রকারে?”। সত্যিই, পৈতে তো শুধু ব্রাহ্মণ ছেলেদেরই হয়, মেয়েদের তো হয় না। ফকির লালনশাহের এই প্রশ্নের উত্তর ছিল না যুগ যুগ ধরে। কিন্তু আজ ২০২৪ সালে ঠিক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটল বীরভূমের (Birbhum) সিউড়িতে। শোনা যায় বৈদিক যুগে মেয়েরাও ‘দ্বিজা’ হতেন, অর্থাৎ মেয়েদেরও পৈতে হত। আর সেই হারিয়ে যাওয়া বৈদিক যুগের রীতি অনুযায়ী আবার প্রথমবার সবাইকে তাক লাগিয়ে দ্বিজা হল সিউড়ির পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কৈরভী। কৈরভী এখনও জানে না, ধর্ম, নিয়ম, রীতি, বৈদিক যুগ কী জিনিস। তবে তার মা-বাবার এরকম একটা অতুলনীয় সিদ্ধান্ত গোটা ভারতবর্ষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

    সাধারণ পৈতের নিয়ম মেনেই হল সবকিছু, দেখতে ভিড় (Birbhum)

    এই ধরনের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে ভিড় করে আশপাশের অনেক মানুষ। সবাই এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কৈরভীর মা-বাবা কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। তাঁরা চিকিৎসক দম্পত্তি। কিন্তু এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয়নি। ছেলেদের পৈতে হয়, সে তো সবাই জানে। কিন্তু প্রথমবার মেয়ের পৈতের ব্যাপারটি নিয়ে অনেক বিস্ময়সূচক প্রশ্নের জবাব দিতে হয় কৈরভীর মা কৌশানী চট্টোপাধ্যায়কে (Birbhum)। আর সব প্রশ্ন, বিস্ময়কে কাটিয়ে সমাজে মেয়েদের ভূমিকা, অধিকার বুঝিয়ে দিতেই তাঁদের ইচ্ছা পূরণ করে ফেলেন। এই সিদ্ধান্ত যে শুধুমাত্র ইচ্ছার ওপর ভর করেই সম্পন্ন হয়েছে তা নয়, বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ, ইতিহাস ঘেঁটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসক দম্পতি। বৈদিক যুগে প্রচলিত ছিল মেয়েদের দ্বিজা প্রথা। আর সেই বৈদিক যুগের পর বর্তমানে পুনরাবৃত্তি হল সেই প্রথার।

    বৈদিক যুগে কি সত্যিই মেয়েদের উপনয়ন হত? কী বলছে শাস্ত্র?

    বৈদিক যুগে নারীদের পবিত্র ব্রহ্মসূত্র দ্বারা দীক্ষিত করা হত, অর্থাৎ তাঁদের উপনয়ন হত।  তাঁরা গায়ত্রী মন্ত্র জপ করতেন, এমনকি পবিত্র অগ্নিযজ্ঞ আরাধনা করতেন, যা একজন পুরুষের সমান। সেই যুগের নারীকে দুই ভাগে ভাগ করা হত। এক সদ্যবধূ ও ব্রহ্মবাদিনী। এক পবিত্র উৎসবের দ্বারা ব্রহ্মসূত্রে উপনীত করে যাদের বিবাহ হত, সেই নারীকে সদ্যবধূ বলা হত। অপরদিকে ব্রহ্মবাদিনীরা বিবাহ করতেন না, তাঁরা সেই যুগের পুরুষদের মতোই ব্রহ্মচর্য পালন করতেন। মহাভারতে পান্ডব মাতা কুন্তীও ব্রহ্মসূত্রে ভূষিতা ছিলেন অর্থাৎ তাঁর পৈতে ছিল (Birbhum)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Nil Sasthi 2024: ‘নীলের ঘরে দিয়ে বাতি, জল খাওগো পুত্রবতী’, শুক্রবার নীলষষ্ঠী, জানেন এই ব্রতর তাৎপর্য?

    Nil Sasthi 2024: ‘নীলের ঘরে দিয়ে বাতি, জল খাওগো পুত্রবতী’, শুক্রবার নীলষষ্ঠী, জানেন এই ব্রতর তাৎপর্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই তেরো পার্বণেরই অন্যতম হল নীল ষষ্ঠীর ব্রত (Nil Sasthi 2024)। সন্তানের সুখ, সুস্বাস্থ্য সৌভাগ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে এই ব্রত পালন করেন বাংলার মায়েরা। গ্রাম থেকে শহর বাংলার মায়েদের কাছে একটি প্রবাদ খুবই জনপ্রিয়, ‘নীলের ঘরে দিয়ে বাতি, জল খাওগো পুত্রবতী।’ পুত্রের কথা বললেও বর্তমানে পুত্র বা কন্যা সকল সন্তানের মঙ্গল কামনা করে এই পুজো-অর্চনা করেন বাঙালি ঘরের বউরা। এখন অবাঙালিদের মধ্যেও এর প্রচার হয়েছে। 

    কবে নীল ষষ্ঠী

    বাংলা বছরের একেবারে শেষে চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন পালিত হয় নীল ষষ্ঠী (Nil Sasthi 2024)। অনেকে একে নীলের পুজোও বলেন। সন্তানের মঙ্গলকামনায় এই দিন মা ষষ্ঠীকে পুজো অর্পণ করা হয়, সেই সঙ্গে উপোস করে অভিষেক করা হয় ভগবান শিবের। শিব পুজোর বিশেষ নিয়ম আছে। আগামী ১২ এপ্রিল, শুক্রবার পালিত হবে নীল ষষ্ঠী। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে সেদিন ২৯ চৈত্র ১৪২৯। এইদিন সন্ধ্যায় নীলের আরাধনা করা হবে।

    নীল ষষ্ঠীর পিছনের কাহিনি

    প্রচলিত কাহিনি অনুসারে পিতা দক্ষের আয়োজিত যজ্ঞে স্বামী মহাদেবের অপমান সহ্য করতে না পেরে আগুনে আত্মাহুতি দিয়ে দেহত্যাগ করেছিলেন শিব-পত্নী সতী। তারপর নীলধ্বজ রাজার ঘরে নতুন জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। সেই জন্মে তাঁর নাম হয় নীলাবতী। এই কন্যার সঙ্গে শিবের বিয়ে দেন রাজা নীলধ্বজ। অর্থাত্‍ দেবী পার্বতীর আর এক নাম হল নীলাবতী। গ্রাম বাংলার প্রচলিত কাহিনি অনুসারে চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিনেই বিয়ে হয়েছিল মহাদেব ও নীলাবতীর। সেই কারণে নীল ষষ্ঠী (Nil Sasthi 2024), চৈত্র সংক্রান্তি ও গাজন শিব দুর্গার বিয়ের উত্‍সব হিসেবে পালিত হয় আমাদের রাজ্যের অনেক জায়গায়। গাজনের সময় গ্রাম বাংলায় শিব ও পার্বতী সেজে ভিক্ষা সংগ্রহের ছবিও দেখা যায়।

    নীলের ব্রত কথা

    অনেককাল আগে একটি  গ্রামে এক ব্রাহ্মণ ও তাঁর পত্নী বাস করতেন। তাঁদের দেবতায় বড় ভক্তি। কিন্তু তারা নীলের ব্রতের কথা জানতেন না। তাঁদের সংসারে বারবার সন্তান আসে। কিন্তু তারা কেউই বেশিদিন বাঁচত না। একাধিক বার সন্তান হারিয়ে ভেঙে পড়েন ওই দম্পতি। সংসারের সব সুখ তাদের কাছে অমূলক মনে হত।  দুঃখের কথা মহাদেবকে খুলে বলতে তাঁরা কাশীবাসী হন। একদিন কাশীতে মণিকর্ণিকায় ডুব দিয়ে তাঁরা পাড়ে বসে দুঃখ করছেন। এমন সময় কোথা থেকে এক বুড়ি এসে তাঁদের কাছে জানতে চাইল  ‘তোরা কাঁদছিস কেন?’ বামুনীও কাঁদতে কাঁদতে তাঁদের দুঃখের কথা জানাল। ওই বৃদ্ধা ছিলেন ছদ্মবেশে মা ষষ্ঠী। তিনি তখন জিজ্ঞাসা করলেন,তাঁরা নীল ষষ্ঠী ব্রত করেন কিনা। তাঁরা তো অবাক। বামুনী জিগ্যেস করল, সে আবার কী? বুড়ি তখন জানাল, পুরো চৈত্র মাস সন্ন্যাস যাপন করে করে সংক্রান্তির আগের দিন মা ষষ্ঠী ও ভগবান শিবের পুজো করে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। সেদিন নিরামিষ খেতে হয়। শরবত খেয়ে ভাঙতে হয় উপবাস। এতে তুষ্ট হন  শিব ঠাকুর। আর মঙ্গল করেন সন্তানদের।  এই কথা বলে মা ষষ্ঠী কোথায় যেন মিলিয়ে গেলেন। ষষ্ঠীবুড়ির কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ওই ব্রাহ্মণী ফের সন্তান লাভ করেন। সেই থেকেই সন্তানের মঙ্গল কামনা করে নীল ষষ্ঠীর ব্রত (Nil Sasthi Brata) পালন করে আসছেন বাঙালি মায়েরা।

    আরও পড়ুন: শুরু হল হিন্দু নববর্ষ ‘বিক্রম সংবত ২০৮১’, জানেন এর তাৎপর্য?

    কীভাবে পালন করা হয় নীল ষষ্ঠী

    চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সারাদিন নির্জলা উপবাস রাখতে। সন্ধেবেলা শিবলিঙ্গে জল ঢেলে মহাদেবের পুজোর প্রসাদ মুখে দিয়ে উপবাস ভাঙা হয়। উপোস ভাঙার পরও এদিন ফল, সাবু ইত্যাদি ছাড়া ময়দার তৈরি খাবারই খেতে হয়। চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন পঞ্জিকা অনুসারে ষষ্ঠী তিথি নয়। তা হলেও এদিন নীল ষষ্ঠীর ব্রত পালন করা হয়। নীল ষষ্ঠীতে (Nil Sasthi Brata) ষষ্ঠী দেবীর সঙ্গেই সন্তানের মঙ্গল কামনা করে মহাদেবের আরাধনা করা হয়ে থাকে। শিবের মাথায় বেলপাতা, ফুল ও একটি ফল ছুঁয়ে রাখতে হয়। অপরাজিতা বা আকন্দ ফুলের মালা পরিয়ে, সন্তানের নামে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করতে হয় ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।’ 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Chaitra Navratri: শুরু হয়ে গেল নবরাত্রি উৎসব, জানুন এই মহাব্রতর তাৎপর্য

    Chaitra Navratri: শুরু হয়ে গেল নবরাত্রি উৎসব, জানুন এই মহাব্রতর তাৎপর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছরে চারবার নবরাত্রি আসে। এর মধ্যে দু’টি গুপ্ত। সে দু’টি পুজোর অধিকার কেবল সাধু-সন্ন্যাসীদের। বাকি দু’টি নবরাত্রি প্রকট। পুজো করতে পারেন গৃহীরাও। এই দুই নবরাত্রি হল শারদীয়া নবরাত্রি ও চৈত্র নবরাত্রি (Chaitra Navratri)। শারদীয়া নবরাত্রিতে হয় দুর্গাপুজো। এর আর এক নাম অকাল বোধন। আর চৈত্র নবরাত্রিতে হয় বাসন্তী পুজো। বাসন্তীপুজোর নিয়মকানুন সব দুর্গাপুজোর মতো হলেও, এই পুজোয় দেবীর বোধন হয় না। শারদীয়া নবরাত্রির গুরুত্ব চৈত্র নবরাত্রির চেয়ে বেশি। ওই সময় দেবীর পুজো করেছিলেন স্বয়ং রামচন্দ্র। রাবণ বধের উদ্দেশ্যে বিষ্ণুর এই অবতার দেবীর ঘুম ভাঙিয়ে ঘটা করে পুজো করেছিলেন মহাশক্তির। আর বসন্তকালে রাম বধের উদ্দেশ্যে দুর্গাপুজো করেছিলেন রাবণ।

    নবরাত্রি উৎসবে কাদের পুজো হয় জানেন? (Chaitra Navratri)

    এসব পুরাণগাথা বাদ দিয়ে ফিরে আসা যাক কাজের কথায়। নবরাত্রি ন’টি দিনের দুর্গাপুজো। পুজো শুরু (Chaitra Navratri) হয় প্রতিপদে, চলে নবমী পর্যন্ত। এই ন’দিনে দেবীর ন’টি ভিন্ন ভিন্ন রূপের পুজো হয়। মহাদেবীর এই ন’টি রূপ হল শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী। চৈত্রের এই নবরাত্রির নবম দিনে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ভগবান রাম। সেই থেকে এই দিনটি রামনবমী হিসেবে খ্যাত। চৈত্র নবরাত্রির অষ্টমী তিথিটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদিন পুজো হয় দেবী অন্নপূর্ণার।

    এবার কী কী যোগ রয়েছে জানেন?

    আজ, মঙ্গলবারই শুরু হয়েছে চলতি বছরের নবরাত্রি উৎসব (Chaitra Navratri)। হিন্দুদের বিশ্বাস, আজকের এই দিনেই শুরু হয়েছিল সৃষ্টি। পণ্ডিত নন্দকিশোর মুদগল বলেন, “এবার চৈত্র নবরাত্রিতে তিরিশ বছর পর তৈরি হতে চলেছে সর্বার্থসিদ্ধি যোগ, অমৃতসিদ্ধি যোগ ও বৈধৃতি যোগ।” দেশজুড়ে এদিন থেকেই শুরু হয়েছে নবরাত্রি উৎসব। হিন্দু-বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র শুক্লপক্ষের এই ন’টি রাত মনকে শুদ্ধ করার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মন শুদ্ধ না হলে জ্ঞানলাভ হয় না। আর জ্ঞানলাভ না হলে ইষ্টদেব অধরা থাকেন।

    গীতায় স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, “ন হি জ্ঞানেন সদৃশ পবিত্রমিহ বিদ্যতে।” জ্ঞানের সদৃশ পবিত্র বস্তু আর ইহ জগতে নেই। নবরাত্রিতে পুজিতা হন দেবী মহাসরস্বতীও। জ্ঞানের এই দেবীর পুজোর জন্য বিশেষ তিনটি তিথিও রয়েছে। এই তিন তিথি হল অষ্টমী, নবমী ও দশমী।

    নবরাত্রিতে মহাসরস্বতীর পাশাপাশি পুজো হয় মহালক্ষ্মীরও। পুজো হয় চামুণ্ডারও। যিনি আদতে মহাকালীরই একটি রূপ। আসলে আদ্যাশক্তি মহামায়ার অনন্ত রূপের মধ্যে নবরাত্রি উৎসবে পুজো হয় মূলত তিন রূপের। দেবীর এই তিন রূপ হল মহালক্ষ্মী, মহাসরস্বতী এবং মহাকালী। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র নবরাত্রিতে (Chaitra Navratri) নিয়মনিষ্ঠা মেনে যাঁরা দেবীর ন’টি রূপের পুজো করেন, তাঁরা যা চান, দেবী তাঁদের মনস্কামনা পূরণ করেন।

    শারদীয়া নবরাত্রিই হোক কিংবা চৈত্র নবরাত্রি এই দুই পর্বেই আদ্যাশক্তির বিভিন্ন রূপের পুজো হয়। প্রতিপদে মহাশক্তি পুজিত হন শৈলপুত্রী রূপে। দেবী ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের মূর্ত প্রতীক। দ্বিতীয়ায় দেবী পুজো পান ব্রহ্মচারিণী রূপে। পরমানন্দময় দেবী ভক্তদের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রদান করেন। তিনি মোক্ষদাত্রীও। তৃতীয়ায় আদ্যাশক্তিকে পুজো করা হয় চন্দ্রঘণ্টা রূপে। অপার সৌন্দর্যের প্রতীক এই দেবী ভক্তদের শান্তি-সমৃদ্ধি দেন। দেবী মহাশক্তির অধিকারী। তিনি বীরত্বের প্রতীক (Chaitra Navratri)। চতুর্থীতে পুজো হয় দেবী কুষ্মাণ্ডার। তিনি নিখিল এই বিশ্বের স্রষ্টা। পৃথ্বীকে শস্যশ্যামলা করে তুলেছিলেন তিনিই। নবরাত্রির পঞ্চম দিনে পুজো হয় স্কন্দমাতার। ভগবান কার্তিকের আর এক নাম স্কন্দ। তিনি কার্তিকের মা। বীরবিক্রমের কারণে এই কার্তিককেই দেব সেনাপতি পদে বরণ করে নিয়েছিলেন দেবতারা।

    ষষ্ঠীতে পুজো হয় দেবী কাত্যায়নীর। দেবী অসীম সাহসের অধিকারী। সপ্তমীতে পুজো হয় কালরাত্রির। তিনি নির্ভীক। দেবী কালরাত্রি দেবী দুর্গার সব চেয়ে উগ্র রূপ। অষ্টমীতে পুজো হয় মহাগৌরীর। এদিনই হয় অন্নপূর্ণা পুজোও। নবমীতে পুজো হয় দেবী সিদ্ধিদাত্রীর। এদিনই পুজো হয় ভগবান রামেরও। দশমীতে হয় নবরাত্রি ব্রতের পারণ।

    এদিকে, নবরাত্রি উৎসব উপলক্ষে ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়েছে অযোধ্যার রাম মন্দিরে। জম্মুতে বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরে ভক্তের ঢল। দিল্লিতে ঝান্ডাবালান মন্দিরে হয়েছে বিশেষ আরতি। রাজস্থানের জয়পুরের বৈষ্ণোমাতার মন্দিরেও নবরাত্রি উপলক্ষে হয়েছে বিশেষ পুজো। বারাণসীর অন্নপূর্ণা মন্দিরেও ব্যাপক ভিড়। অযোধ্যার বড়ি দেবকালী মাতার মন্দিরেও হয়েছে বিশেষ পুজো। প্রয়াগরাজের এলোপি মন্দিরেও হয়েছে বিশেষ পুজোপাঠ। প্রয়াগরাজের গঙ্গা-যমুনার সঙ্গমস্থলে পুণ্য কামনায় ডুব দিয়েছেন বহু ভক্ত (Chaitra Navratri)।

LinkedIn
Share