Category: বিজ্ঞান

Get updated Science and Research related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে (Anthropic CEO) নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই। তাঁর (AI Model Development) বক্তব্য, প্রযুক্তির অগ্রগতি থামানো নয়, বরং নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়াই এখন জরুরি।

    একটি ব্লগ পোস্টে আমোদেই জানান, মানুষের জীবনকে আমূল উন্নত করার সম্ভাবনায় বিশ্বাস করেন বলেই গত ১২ বছর ধরে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি রোগ নিরাময়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং মানুষের সুযোগের পরিসর সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    আমোদেইয়ের বক্তব্য (Anthropic CEO)

    এই বিশ্বাস তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমোদেই জানান, তাঁর বাবা এমন একটি রোগে মারা গিয়েছিলেন, যার কয়েক বছর পরেই চিকিৎসা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে, তিনি নিজেও প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার থেকে বেঁচে গিয়েছেন, যে রোগটি ৫০ বছর আগে হলে তাঁর চিকিৎসা করা সম্ভব হত না।

    তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনার পাশাপাশি এর ঝুঁকিও যে অত্যন্ত গুরুতর, তা স্পষ্ট করেছেন আমোদেই। এর মধ্যে রয়েছে এআই ব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, সাইবার হামলা ও জৈব সন্ত্রাসে প্রযুক্তিটির অপব্যবহার এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা। তাঁর মতে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এই ঝুঁকিগুলিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    আমোদেইয়ের এই সতর্কবার্তা এসেছে অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সনের একাধিক সতর্কবার্তার কয়েক দিন পর। কক্সন দাবি করেছেন, “এআই সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে।” তাঁর আরও বক্তব্য, “বর্তমানের সবচেয়ে উন্নত এআই তৈরি করা মানুষরা বিশ্বাস করেন, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই এটি মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।”

    অ্যানথ্রপিক শুরু থেকেই প্রযুক্তি তৈরি এবং তার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে বলে জানান আমোদেই। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তাঁর নিজের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। তিনি লিখেছেন, “আমাদের এআই মডেলের সক্ষমতা উন্নত করার গতি কমাতেই হবে।” তাঁর মতে, গতি কমালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি যথেষ্ট দ্রুতই থাকবে।

    এআইয়ের স্ব-উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ

    আমোদেইয়ের সতর্কতার পেছনে দু’টি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমটি হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। বর্তমানে এআই ব্যবস্থাগুলিকে ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেল তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় পুনরাবৃত্তিমূলক স্ব-উন্নয়ন।

    আমোদেইয়ের আশঙ্কা, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এগোলে গবেষকরা এআই ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী বোঝা এবং তার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতার চেয়েও দ্রুত প্রযুক্তি এগিয়ে যেতে পারে।

    দ্বিতীয় উদ্বেগের বিষয়টি একটি সাম্প্রতিক ঘটনা, যেখানে অ্যানথ্রপিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওপেন এআই ও হাগিং ফেস-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় একদল এআই এজেন্ট এমন কিছু লক্ষ্যের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল, যেগুলিতে হামলা করার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের কার্যক্ষমতা যাচাই করার জন্য ব্যবহৃত ব্যবস্থাতেও হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

    আমোদেই জানান, ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও সীমিত ছিল। কিন্তু আরও সক্ষম এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মাত্র ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় এআই বাহিনী তৈরি হতে পারে, যা বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম হবে (Anthropic CEO)।

    তিনি বলেন, “এআইয়ের সক্ষমতা যে হারে দ্রুত বাড়ছে, তাতে আমার আশঙ্কা, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি বাহিনী স্থায়ী সাইবার-জাল তৈরি করে গোটা ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এর ফলে কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। আর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া এআই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে থাকবে।”

    উন্নয়ন থামানো নয়, নিরাপত্তাকে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা

    এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এআইয়ের উন্নয়নের গতি দায়িত্বশীলভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য তিন দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমোদেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, উন্নয়নের গতি কমানো মানে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সংস্থাগুলিকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

    তাঁর কথায়, “স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, গতি নিয়ন্ত্রণের অর্থ মডেল প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। এর অর্থ হল, সংস্থাগুলি যেন তাদের মডেলগুলিকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেয় এবং তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারীরা যাতে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।”

    প্রথম ধাপে অ্যানথ্রপিক নিজেই বহিরাগত মূল্যায়নকারীদের সংস্থার কর্মীদের মতো নিয়মিত প্রবেশাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে তাঁরা স্বাধীনভাবে সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে পারবেন।

    দ্বিতীয় ধাপে গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে কাজ করা এআই সংস্থাগুলিকে অভিন্ন নিরাপত্তামান তৈরির জন্য পারস্পরিক সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে অথবা সরকারের সহায়তায় এই সমন্বয় করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত আইনগত বাধা, যেমন একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ, কীভাবে সামলানো যায়, তাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

    তৃতীয় ধাপে রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়। এর আওতায় গণতান্ত্রিক দেশগুলির পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলির সঙ্গেও নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার কথা বলেছেন আমোদেই।

    সতর্কভাবে তৈরি হলেই এআইয়ের সুফল মিলবে

    সবশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে নিজের আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছেন আমোদেই। তাঁর মতে, সঠিকভাবে প্রযুক্তিটি তৈরি করা গেলে এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমি এখনও বিশ্বাস করি, এআই মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে। এই সুফল অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আমার একটুও কমেনি। কিন্তু এই সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন আমরা প্রযুক্তিটিকে সঠিকভাবে তৈরি করব। আর (AI Model Development) আমরা যে অতিরিক্ত সময় পাচ্ছি, সেটিকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রযুক্তিটিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত (Anthropic CEO)।”

     

  • India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা। উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশ নজরদারি এবং মাইক্রোস্যাটেলাইট প্রযুক্তি—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করল দুই দেশের সংস্থাগুলি। প্যারিসে আয়োজিত প্রথম ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সামিট-এ এই চুক্তিগুলি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল ফ্রান্সের সাফরান স্পেস এবং ভারতের ধ্রুব স্পেস-এর মধ্যে ৫ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের চুক্তি। ভারতের পরিকল্পিত ৫২টি উপগ্রহের স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন তৈরিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর প্যারিসে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, শিল্পক্ষেত্র এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নেন। সম্মেলনে মোট ৫১টি ঘোষণা করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা)। সেই মঞ্চেই ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির সঙ্গে ফরাসি সংস্থাগুলির একাধিক নতুন অংশীদারিত্ব সামনে এসেছে।

    ৫২ উপগ্রহের নজরদারি ব্যবস্থা

    সাফরান স্পেস এবং ধ্রুব স্পেস-এর চুক্তিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতের এসবিএস-৩ স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন-এর জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৫২টি উপগ্রহের এই কনস্টিলেশন গড়ে তোলা হবে।

    চুক্তির আওতায় ভারতীয় সংস্থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন ইউনিট, অপটিক্যাল পেলোড এবং গ্রাউন্ড স্টেশন-সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করবে সাফরান স্পেস। এর ফলে কক্ষপথে থাকা বিভিন্ন মহাকাশযান ও অন্যান্য বস্তুর উপর নজরদারি এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়বে ভারতের।

    বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে উপগ্রহের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা মহাকাশ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এখন জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। পৃথিবীর কক্ষপথে কোন উপগ্রহ কোথায় রয়েছে, কোনও মহাকাশযানের গতিপথে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, কিংবা কোনও বস্তু সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার জন্য শক্তিশালী স্পেস-সার্ভেইলেন্স পরিকাঠামো প্রয়োজন। ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    সরকারি কর্মসূচির বাইরে বেসরকারি মহাকাশ শিল্প

    এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা ক্রমশ সরকারি মহাকাশ সংস্থার গণ্ডি ছাড়িয়ে নিউ স্পেস বা বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতার মূল স্তম্ভ ছিল ভারতের ইসরো এবং ফ্রান্সের সিএনইএস। কিন্তু সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি দেখাচ্ছে, এখন ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলিও আন্তর্জাতিক মহাকাশ সরবরাহ-শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

    ধ্রুব স্পেস-এর সঙ্গে সাফরানের চুক্তি সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ। পাশাপাশি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশি প্রযুক্তি এবং ভারতীয় শিল্প-উৎপাদন সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

    ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে আরও দুই চুক্তি

    প্যারিস সম্মেলনে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। ফরাসি লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থা রাইড এবং ভারতীয় সংস্থা টেকমিটুস্পেস-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় টেকমিটুস্পেস-এর দুটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। টেকমিটুস্পেস-কে ভারতের প্রথম অরবিটাল ডেটা সেন্টার-এর নকশাকারী সংস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির জন্য আন্তর্জাতিক উৎক্ষেপণ পরিষেবার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর আগে রাইড এবং ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতার নজির রয়েছে। সম্প্রতি একটি ইউরোপীয় অ্যাটমস্ফেরিক রি-এন্ট্রি ক্যাপসুল ভারতের পিএসএলভি-র মাধ্যমে উৎক্ষেপণ, কক্ষপথে সংযুক্তি এবং পরে পৃথিবীতে ফেরানোর কাজে দুই পক্ষের সহযোগিতা হয়েছে।

    অন্যদিকে ফরাসি মহাকাশ সংস্থা ইউ-স্পেস এবং ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাক্সিসকেডস একটি বাণিজ্যিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে। লক্ষ্য ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা মাইক্রোস্যাটেলাইট মার্কেট-এ একসঙ্গে কাজ করা। পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে এগোনোর কথা, যার অন্যতম ভিত্তি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতি। ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্প ও ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতাকে যুক্ত করাই এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।

    পাঁচ দশকেরও বেশি পুরনো সম্পর্ক

    ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে। ইসরো এবং সিএনইএস-এর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব সেই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, স্পেস জিওডেসি, মানব মহাকাশ অভিযান, পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি এবং গ্রহ অনুসন্ধান—একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ সহযোগিতা করেছে।

    দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক স্পেস ডায়ালগ বা কৌশলগত মহাকাশ সংলাপও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অসামরিক এবং প্রতিরক্ষা—দুই ধরনের মহাকাশ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের জুনে প্যারিসে। দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০২৪ সালের মার্চে নয়াদিল্লিতে।

    ইসরো-সিএনইএস সহযোগিতায় ত্রিশনা-সহ একাধিক প্রকল্প

    ইসরো এবং সিএনইএস ইতিমধ্যেই ভবিষ্যৎ লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি, যৌথ ত্রিশনা আর্থ অবজারভেশন মিশন, সামুদ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে নজরদারি এবং স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস-এর মতো বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    দুই দেশের লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থাগুলির মধ্যেও বহু বছরের সহযোগিতা রয়েছে। ভারতীয় পিএসএলভি বাণিজ্যিকভাবে ফরাসি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। আবার ফ্রান্সের এরিয়ানস্পেস ভারতীয় জিওস্টেশনারি উপগ্রহ উৎক্ষেপণে পরিষেবা দিয়েছে।

    ফলে মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক শুধু গবেষণা বা সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উৎক্ষেপণ, উপগ্রহ নির্মাণ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, মহাকাশ নজরদারি এবং বেসরকারি মহাকাশ ব্যবসা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই সহযোগিতার পরিধি বাড়ছে।

    চন্দ্রযান-৩ থেকে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ সহযোগিতা

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে ফরাসি শিল্পের অংশগ্রহণও দীর্ঘদিনের। সাফরানের ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ চন্দ্র অভিযানে তাদের অবদান ছিল। একই সঙ্গে ভারতে তাদের শিল্প পরিকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে।

    ফলে সাফরান-ধ্রুব স্পেস-এর নতুন চুক্তিকে বিচ্ছিন্ন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। বরং এটি ভারতীয় মহাকাশ পরিকাঠামো এবং ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির মধ্যে ক্রমশ গভীরতর শিল্প-সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ।

    প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    মহাকাশ এখন আর শুধুমাত্র বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্র নয়। যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন, আবহাওয়া, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ এবং সামরিক যোগাযোগ—আধুনিক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে মহাকাশ পরিকাঠামো সরাসরি যুক্ত।

    এই কারণেই ভারতের জন্য স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস এবং মহাকাশে নিজস্ব নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় সংস্থার দক্ষতার সমন্বয়ে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই ধরনের প্রকল্পে যুক্ত করার ফলে ভারতের মহাকাশ শিল্পে প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং গবেষণার পরিসরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় নিউ স্পেস সংস্থাগুলি বিশ্ববাজারে প্রবেশের আরও সুযোগ পাবে।

    মাক্রঁর ভারত সফরের পর আরও গতি

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরের সময়ও দুই দেশ অসামরিক উপগ্রহ নির্মাণ এবং মানব মহাকাশ অভিযান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করেছিল। তার পরেই প্যারিসের আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে একসঙ্গে তিনটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি সামনে আসা দুই দেশের মহাকাশ অংশীদারিত্বে নতুন গতি নির্দেশ করছে।

    সব মিলিয়ে, ভারত-ফ্রান্সের মহাকাশ সম্পর্ক এখন ইসরো-সিএনইএস-এর ঐতিহ্যবাহী সহযোগিতা থেকে বেরিয়ে সরকারি কর্মসূচি + প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতা + বেসরকারি শিল্প + আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়াচ্ছে। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত নজরদারি কনস্টিলেশন এবং নতুন বেসরকারি অংশীদারিত্বগুলি সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

  • EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ থেকে পৃথিবীর উপর নজরদারির ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। শুক্রবার ভোরে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল ভারতের নতুন প্রজন্মের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ইওএস-০৫। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটে চেপে শ্রীহরিকোটা থেকে মহাকাশে পাড়ি দিল প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের এই উপগ্রহ। সবচেয়ে বড় বিষয়, ইওএস-০৫-কে সাধারণ নিম্ন কক্ষপথে নয়, সাব-জিটিও বা সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে নিজস্ব প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছবে উপগ্রহটি।

    ভোররাতে শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উৎক্ষেপণ

    শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের সেকেন্ড লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়। প্রায় ৫১.৭ মিটার লম্বা রকেটটি নির্ধারিত সময়েই আকাশে উড়ে যায়। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৮-১৯ মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ইওএস-০৫। এরপর উপগ্রহটিকে নির্ধারিত সাব-জিটিও-তে স্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ইওএস-০৫ এখনও তার চূড়ান্ত ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার অপারেশনাল জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছয়নি। সেটি হবে পরবর্তী অরবিট-রেইজিং ম্যানুভারের মাধ্যমে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপগ্রহটি সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল মিশন শুরু হতে এখনও কয়েকটি ধাপ বাকি।

    ইওএস-০৫ কেন অন্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের থেকে আলাদা?

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ইমেজিং করার ক্ষমতা। সাধারণ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের বড় অংশই লো আর্থ অরবিট (এলইও) বা সান-সিনক্রোনাস অরবিটে (এসএসও) কাজ করে। এই উপগ্রহগুলি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় বিভিন্ন অঞ্চলের ছবি তোলে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ছবি পাওয়ার জন্য পরবর্তী অরবিটাল পাসের অপেক্ষা করতে হয়।

    ইওএস-০৫-এর ধারণাটি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিনক্রোনাস অরবিটে অবস্থান করলে উপগ্রহটি পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রদক্ষিণ করবে। ফলে ভারতের মতো একটি বড় ভৌগোলিক অঞ্চলের দিকে প্রায় একই অবস্থান থেকে ক্রমাগত নজর রাখা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, ইওএস-০৫-এর মূল শক্তি শুধু অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তোলা নয়। এর আসল সুবিধা হল একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘন ঘন আপডেটেড ছবি পাওয়া।

    ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়েও কেন সুবিধা?

    সাধারণভাবে মনে হতে পারে, পৃথিবীর যত কাছাকাছি থাকা যায়, তত বেশি স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব। সেই যুক্তিতে লো আর্থ অরবিটের উপগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তুলতে সুবিধাজনক। কিন্তু ইওএস-০৫-এর লক্ষ্য আলাদা। ধরা যাক, বঙ্গোপসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে একটি ঘূর্ণিঝড়। লো আর্থ অরবিটের কোনও স্যাটেলাইট সেই সময় অন্য জায়গার উপর দিয়ে উড়ে গেলে, নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরবর্তী ছবি পেতে পরবর্তী পাসের অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    ইওএস-০৫ অপারেশনাল হলে একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে অনেক বেশি ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।ফলে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, মেঘের গঠন, বন্যার বিস্তার কিংবা আগুনের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর নজরদারিতে এই ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগের জিস্যাট কর্মসূচি সংক্রান্ত সরকারি তথ্যেও নির্দিষ্ট সেক্টরের ছবি ঘন ঘন সংগ্রহ এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ডের ছবি পাওয়ার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় হাতিয়ার হতে পারে ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ভারতের মতো দেশে প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিধস, দাবানল-সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা আগের তথ্য অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। কোথায় জল ঢুকছে, কোন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি, ঘূর্ণিঝড়ের মেঘ কোথায় তৈরি হচ্ছে—এসব তথ্য যত দ্রুত পাওয়া যায়, প্রশাসনের পক্ষে তত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং স্যাটেলাইট সেই জায়গাতেই বড় সুবিধা দিতে পারে।

    উপগ্রহের ছবি ব্যবহার করে—

    • ● ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ,
    • ● মেঘের বিকাশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তন শনাক্ত,
    • ● বন্যাকবলিত এলাকা চিহ্নিত,
    • ● বনাঞ্চলে আগুনের বিস্তার পর্যবেক্ষণ,
    • ● দুর্যোগের পর ভূমি ও উদ্ভিদের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে।

    তবে ইওএস-০৫ ভারতের অন্যান্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটকে প্রতিস্থাপন করবে না। বরং এটি দেশের বর্তমান উপগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অবজারভেশন সক্ষমতা যোগ করবে।

    কৃষি থেকে পরিবেশ—বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার

    ইওএস-০৫-এর গুরুত্ব শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্থ অবজারভেশন ডেটা কৃষি, বন, পরিবেশ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ডে ইমেজিংয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র কোনও এলাকার ছবি নয়, সেই এলাকার উদ্ভিদ, ফসল, মাটি এবং পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। ভিজিবল ও নিয়ার-ইনফ্রারেডের মতো বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ড ব্যবহার করে কোনও অঞ্চলের উদ্ভিদের স্বাস্থ্য বা পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

    অর্থাৎ প্রশ্নটা শুধু নয় যে—“এই জায়গাটা দেখতে কেমন?” বরং স্যাটেলাইট ডেটা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়—“এই জায়গায় কী পরিবর্তন হচ্ছে?” কৃষিক্ষেত্রে ফসলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ল্যান্ড-ইউজ মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-কে সরাসরি কোনও ডেডিকেটেড মিলিটারি স্পাই স্যাটেলাইট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যার অসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহারই থাকতে পারে।  তবে জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও আশপাশের জলভাগকে ঘন ঘন পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে দেশের সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং সামুদ্রিক অঞ্চলের উপর নিয়মিত নজরদারির ক্ষেত্রে এই ধরনের হাই-ফ্রিকোয়েন্সি স্যাটেলাইট ইমেজারি সহায়ক হতে পারে। এখানেই ইওএস-০৫-এর কৌশলগত গুরুত্ব। এটি কোনও একটি সামরিক লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি নয়, বরং একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপর নিয়মিত ও দ্রুত আপডেটেড নজরদারি সক্ষমতা তৈরি করছে।

    জিস্যাট-১ ব্যর্থতার পাঁচ বছর পর নতুন সাফল্য

    ইওএস-০৫-এর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতীত। উপগ্রহটির সঙ্গে জিস্যাট কর্মসূচির সরাসরি যোগ রয়েছে। মূল পরিকল্পনায় জিওস্টেশনারি অরবিটে ইমেজিং স্যাটেলাইট পাঠিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর প্রায় রিয়েল-টাইম অবজারভেশন সক্ষমতা তৈরি করার লক্ষ্য ছিল।

    কিন্তু ২০২১ সালের অগাস্টে জিএসএলভি-এফ১০ মিশন ব্যর্থ হয়। সেই মিশনে জিস্যাট-১-কে কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজের অপারেশনের সময় সমস্যার কারণে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। প্রায় পাঁচ বছর পর ইওএস-০৫-এর সফল উৎক্ষেপণ সেই বৃহত্তর পরিকল্পনাকেই নতুন করে এগিয়ে দিল।

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল মিশন শুধু একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নয়; এটি জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরো-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনও।

    জিএসএলভি-এফ১৭-ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়

    এই মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জিএসএলভি-এফ১৭। এটি ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। রকেটটিতে রয়েছে সলিড কোর, চারটি লিকুইড স্ট্র্যাপ-অন মোটর, লিকুইড সেকেন্ড স্টেজ এবং ভারতের নিজস্ব ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজ। তুলনামূলকভাবে ভারী স্পেসক্রাফ্টকে জিওসিনক্রোনাস অরবিটের দিকে পাঠানোর ক্ষেত্রে জিএসএলভি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল। ইওএস-০৫-কে সাব-জিটিও-তে সফলভাবে স্থাপন করে জিএসএলভি-এফ১৭ সেই সক্ষমতারই আরও একটি প্রমাণ দিল।

    এখন কী হবে ইওএস-০৫-এর?

    এখনও ইওএস-০৫-এর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাব-জিটিও-তে পৌঁছনোর পর উপগ্রহটি নিজস্ব অনবোর্ড প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়াবে। একাধিক অরবিট-রেইজিং ম্যানুভার-এর পর সেটি তার নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন এবং কমিশনিং সম্পন্ন হলে শুরু হবে অপারেশনাল ইমেজিং। তাই ইওএস-০৫ ইতিমধ্যেই ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার ফাইনাল জিওসিনক্রোনাস অরবিটে পৌঁছে গিয়েছে—এমন দাবি করা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক হবে না। লঞ্চ এবং অরবিটাল ইনজেকশন সফল হয়েছে; ফাইনাল অপারেশনাল অরবিটে পৌঁছনোর যাত্রা এখনও বাকি।

    ভারতের স্পেস অবজারভেশনে নতুন যুগের সূচনা?

    ভারতের আর্থ অবজারভেশন কর্মসূচি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট শক্তিশালী। বিভিন্ন রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের উচ্চমানের ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু ইওএস-০৫ সেই ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের বড় সুবিধা হল ডিটেল বা স্পেশিয়াল রেজোলিউশন। অন্যদিকে জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং প্ল্যাটফর্মের বড় শক্তি হল ফ্রিকোয়েন্সি এবং পারসিস্টেন্স—একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিবর্তনকে আরও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা।

    দুর্যোগের সময় এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা দাবানলের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা আগের ছবি এবং সদ্য পাওয়া ছবির মধ্যে ব্যবধানই কখনও কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করে। সেই জায়গায় ইওএস-০৫ ভারতের জন্য শুধুমাত্র আরও একটি স্যাটেলাইট নয়। এটি বড় অঞ্চলের উপর দ্রুত, ঘন ঘন এবং ধারাবাহিক আর্থ অবজারভেশনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

    মহাকাশে ভারতের নতুন চোখ

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং ইওএস-০৫-এর সাব-জিটিও-তে সঠিকভাবে পৌঁছে যাওয়া ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এখন নজর থাকবে উপগ্রহটির অরবিট-রেইজিং, কমিশনিং এবং অপারেশনাল ইমেজিংয়ের দিকে। চূড়ান্তভাবে কাজ শুরু করলে ইওএস-০৫-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি, পরিবেশ এবং কৌশলগত নজরদারি—এই একাধিক ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, মহাকাশ থেকে ভারতকে দেখার ক্ষমতা শুধু আরও শক্তিশালী হচ্ছে তাই নয়—কত দ্রুত সেই ছবি পাওয়া যাচ্ছে, সেই ক্ষমতাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে ইওএস-০৫।

  • ISRO Satellite Launch: মহাকাশে আবার সফল ভারত! প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ -কে নিয়ে উড়ল জিএসএলভি-এফ১৭

    ISRO Satellite Launch: মহাকাশে আবার সফল ভারত! প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ -কে নিয়ে উড়ল জিএসএলভি-এফ১৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন ইতিহাস রচনা করল ভারত। অন্ধকারের বুক চিরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার স্পেসপোর্ট থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দিল ইসরোর (ISRO Satellite Launch) আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট (পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ) ইওএস-০৫ বহনকারী জিএসএলভি-এফ১৭ রকেট। রকেটটি ভারতীয় সময় রাত ২.৫৫ মিনিটে সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে আকাশে পাড়ি দেয়। রকেটের উৎক্ষেপণের পরপরই ইওএস-০৫ স্যাটেলাইটটিকে সফলভাবে তার নির্ধারিত ‘সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিট’-এ স্থাপন করা হয়।

    সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট

    ইসরো প্রধান ড. ভি. নারায়ণন বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটটি অত্যাধুনিক আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা জিও-ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’-কে সফল ও নিখুঁতভাবে তার কাঙ্ক্ষিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে।” জিএসএলভি-এফ১৫ রকেট মিশনের ডিরেক্টর থমাস কুরিয়ান জানান, জিএসএলভি-র মাধ্যমে জিটিও বা সাব-জিটিও কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। থমাস কুরিয়ান বলেন, “এটি আমাদের সবার জন্যই অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত। জিএসএলভি তার ১৯তম মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করল। এই মিশনে বহন করা হয়েছিল ইওএস-০৫ স্যাটেলাইটটিকে, যা একটি অনন্য গঠনের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট এবং এটি প্রায় ‘রিয়েল-টাইম’ বা তাৎক্ষণিক ছবি তোলার ক্ষমতাসম্পন্ন। জিএসএলভি-র মাধ্যমে জিটিও বা সাব-জিটিও কক্ষপথে পাঠানো এটিই সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মিনিটের হলেও, এর পেছনে রয়েছে মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম।”

    সর্বক্ষণের নজরদারি

    এই মিশনে ইওএস-০৫ স্যাটেলাইটটি পাঠানো হয়েছে, যা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে পুরো ভারতের ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখতে পারে। ৫১.৭ মিটার উচ্চতা এবং ৪২০.৫ টন ওজনের জিএসএলভি-এফ১৭ উৎক্ষেপণ যানটি ভারতের বৃহত্তম কার্যকর উৎক্ষেপণ যানগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ইসরোর জিএসএলভি-এফ-১৭ রকেট মিশনের সফল উৎক্ষেপণের প্রশংসা করে জানান, ভারতের মহাকাশ সক্ষমতা ক্রমাগত নতুন উচ্চতা স্পর্শ করছে এবং বিশ্বমঞ্চে মহাকাশ শক্তি হিসেবে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করছে। জিতেন্দ্র সিং ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “ইওএস-০৫ হল একটি অত্যাধুনিক আর্থ অবজারভেশন (পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী) উপগ্রহ এবং ভূ-স্থির কক্ষপথ থেকে ভারতের প্রথম ইমেজিং উপগ্রহ। এটি দৃশ্যমান, ইনফ্রারেড, মাল্টিস্পেকট্রাল এবং হাইপারস্পেকট্রাল ব্যান্ডের মাধ্যমে উন্নত মানের ছবি তুলতে পারে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে ইসরো প্রধান নারায়ণন জানান, নেভিগেশন স্যাটেলাইট ‘এনভিএস-০৩’-সহ আরও ছয়’টি উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এই অর্থবছরের জন্য।

  • ISRO Satellite Launch: সাফল্যের আশায় ইসরো! উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে জিএসএলভি-এফ১৭, শুক্র ভোর-রাতে মহাকাশে পাড়ি দেবে ইওএস-০৫

    ISRO Satellite Launch: সাফল্যের আশায় ইসরো! উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে জিএসএলভি-এফ১৭, শুক্র ভোর-রাতে মহাকাশে পাড়ি দেবে ইওএস-০৫

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় আট মাসের উৎক্ষেপণ-খরা কাটিয়ে ফের মহাকাশ অভিযানে ফিরতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO Satellite Launch)। শুক্রবার ভোরে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17) রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হবে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ ইওএস-০৫ (EOS-05)। এই উপগ্রহটি জিস্যাট-১এ (GISAT-1A) নামেও পরিচিত। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর রাত পেরিয়ে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17)-এর উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারিত হয়েছে। এটি ভারতের জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। সফল উৎক্ষেপণ হলে দীর্ঘ বিরতির পর ফের ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে গতি ফিরবে।

    ‘নটি বয়’-কে নিয়ে প্রত্যাশা

    জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17)-কে ইসরোর অন্দরে অনেক সময় ‘নটি বয়’ বা ‘দুষ্টু ছেলে’ বলেও ডাকা হয়। কারণ, রকেটটির প্রাথমিক উড়ানগুলিতে একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। প্রথম ১৮টি উড়ানের মধ্যে ছ’টি পূর্ণাঙ্গ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে এবারের অভিযান নিয়ে বিজ্ঞানী ও মহাকাশপ্রেমীদের আগ্রহ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। ৪ সেপ্টেম্বর রাত ঠিক ২টো ৫৫ মিনিটে যখন প্রায় গোটা দেশ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকবে, তখন শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে তৈরি হবে এক নতুন ইতিহাস (ISRO launch tonight)। অন্ধকারের বুক চিরে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেবে ভারতের ভূ-সমলয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান ‘জিএসএলভি-এফ১৭’ (GSLV-F17)। সঙ্গে নিয়ে যাবে ৩৬ হাজার কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থানকারী ভারতের প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ (EOS-5)। পরপর কয়েকটি ব্যর্থতার পর ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) জন্য এই মিশন স্রেফ একটি উৎক্ষেপণ নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।

    জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে নতুন সক্ষমতা

    ইওএস-০৫ (EOS-05)-এর এই অভিযান ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সফল হলে এটি হবে ভারতের প্রথম এমন ইমেজিং উপগ্রহ, যা জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করবে। সাধারণত পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহগুলি লো আর্থ অরবিটে অবস্থান করে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর কোনও অঞ্চলের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ছবি সংগ্রহ করে। কিন্তু ইওএস-০৫ প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে কাজ করবে। ফলে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও আশপাশের এলাকার উপর দীর্ঘ সময় ধরে বারবার নজর রাখা সম্ভব হবে। তবে জিএসএলভি-এফ১৭ সরাসরি ইওএস-০৫-কে তার চূড়ান্ত জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছে দেবে না। রকেটটি প্রথমে উপগ্রহটিকে একটি সাব জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে স্থাপন করবে। এরপর উপগ্রহটির নিজস্ব অনবোর্ড প্রপালশন ব্যবস্থা ব্যবহার করে ধীরে ধীরে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়িয়ে নির্ধারিত অবস্থানে পৌঁছবে।

    ২০২১-এর ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা

    ভারতের জিওসিঙ্ক্রোনাস ইমেজিং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে এই অভিযান কার্যত দ্বিতীয় বড় প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে জিএসএলভি-এফ১০ (GSLV-F10) রকেটের মাধ্যমে জিআইস্যাট (GISAT) উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু রকেটের ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজে সমস্যার কারণে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। সেই ব্যর্থতার পর ইওএস-০৫-এর অভিযান তাই ইসরোর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এমনিও সাম্প্রতিক সময়ে ইসরোর দিনগুলো খুব একটা ভাল কাটেনি। বিগত বছরগুলোতে ইসরোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘ওয়ার্কহর্স’ রকেট পিএসএলভি (PSLV) পর পর কয়েকটি অভিযানে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়ে। ফলে সরকারের নির্দেশে সেটিকে আপাতত বসিয়ে রেখে শুরু হয়েছে তদন্ত। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জিএসএলভি-র এই যাত্রা ইসরোর আত্মবিশ্বাস ফেরানোর অন্যতম বড় সুযোগ। অবশ্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিএসএলভি এবং জিএসএলভি সম্পূর্ণ আলাদা গোত্রের। ইঞ্জিনের গঠন বা চালিকাশক্তির ক্ষেত্রে এদের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগাযোগ নেই। ফলে পিএসএলভির সমস্যা জিএসএলভির উপর প্রভাব ফেলবে না- এই ভাবনাই এখন ইসরোর বিজ্ঞানীদের একমাত্র ভরসা।

    কী কী কাজ করবে এই স্যাটেলাইট

    আবহাওয়া থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা, সীমান্তে পাহারা—একাধিক ক্ষেত্রে নজরদারি চালাবে ইওএস-০৫। এটি সফলভাবে কার্যকর হলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জঙ্গল-আগুনের মতো বিপর্যয় নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বারবার পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতার ফলে দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে আরও কার্যকর তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর ধারাবাহিক নজরদারি দেশের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে, এর গুরুত্ব শুধু সাধারণ পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্ত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কৌশলগত জায়গার উপর নিয়মিত নজর রাখার ক্ষেত্রেও এর তথ্য কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে কোনও এলাকায় হঠাৎ কোনও পরিবর্তন হলে তা দ্রুত নজরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে এটিকে সরাসরি ‘গুপ্তচর উপগ্রহ’ বলা ঠিক হবে না। এটি মূলত পৃথিবী পর্যবেক্ষণের উপগ্রহ, যার তথ্যের বেসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহার হতে পারে।

    নয়া অধ্যায়ের সূচনা

    কাউন্টডাউন এগিয়ে চলেছে। এখন সকলের নজর শ্রীহরিকোটার দিকে। সফল উৎক্ষেপণ শুধু ইসরোর দীর্ঘ উৎক্ষেপণ-বিরতির অবসান ঘটাবে না, একইসঙ্গে ভারতের মহাকাশভিত্তিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

  • Space Habitat BHEEM: ভিনগ্রহে মহাকাশচারীদের ঠিকানা ‘ভীম’! ভারতের স্পেস-বাড়ির নকশা দিলেন শুভাংশু

    Space Habitat BHEEM: ভিনগ্রহে মহাকাশচারীদের ঠিকানা ‘ভীম’! ভারতের স্পেস-বাড়ির নকশা দিলেন শুভাংশু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশযানে চেপে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছনোই ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের শেষ কথা নয়। একদিন চাঁদ, মঙ্গল বা অন্য কোনও মহাজাগতিক গন্তব্যে মানুষকে দীর্ঘ সময় বসবাস করতে হলে প্রয়োজন হবে এমন এক আবাসস্থলের, যা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও মানুষকে নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে। সেই ভবিষ্যতের ‘মহাকাশের বাড়ি’-র (Space Habitat BHEEM) একটি ধারণা সামনে আনলেন ভারতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। ভিনগ্রহে মানুষের বাসযোগ্য ঠিকানার একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন তিনি। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভীম’ বা ‘ভারতীয় হ্যাবিটেবল এক্সপ্যান্ডেবল এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল হ্যাবিটেট’ (BHEEM)।

    ‘ভীম’-এর জন্মবৃত্তান্ত

    রাশিয়া থেকে ফিরে ভারতে মহাকাশচারী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন শুভাংশু। তখনই এই গবেষণার সূত্রপাত। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের (IISc) অলোক ল্যাবে তৈরি হয়েছে এই ‘ভীম’ কনসেপ্ট। ভারতের রকেট সিস্টেম ও অরবিটাল মডিউলের খুঁটিনাটি শেখার পাশাপাশি শারীরিক কসরতও চলছিল। এর মাঝেই ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান নিয়ে অ্যাকাডেমিক গবেষণায় উৎসাহিত করা হয় তাঁদের। শুভাংশুর কথায়, ‘যে মহাকাশযানে ওড়ার জন্য আমরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম, আমি তার বাইরে গিয়ে ভাবতে চেয়েছিলাম। গন্তব্যে নামার পর মানুষ কোথায় থাকবে, সেটা নিয়েই কাজ শুরু করি।’ পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, বিশেষ করে চাঁদ ও মঙ্গলের মতো গন্তব্যে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি আবাসস্থল তৈরির সম্ভাবনাই ছিল গবেষণার মূল বিষয়। এই গবেষণার ফলেই তৈরি হয় ভীম-এর ধারণা। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এর অলোক ল্যাব-এ এই প্রকল্পের গবেষণা হয়েছে।

    মহাকাশে থাকার চ্যালেঞ্জ

    ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল পৃথিবীর বাইরে মানুষকে দীর্ঘ সময় নিরাপদে রাখা। রকেটে চেপে ভিনগ্রহে পৌঁছনো এক জিনিস। কিন্তু সেখানে গিয়ে মানুষের বেঁচে থাকা ও কাজ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রযুক্তিগত লড়াই (Gaganyaan Mission)। শুধু পৌঁছলেই তো হল না! ভবিষ্যতের সেই বাসস্থানে মহাকাশচারীদের চরম মহাজাগতিক বিকিরণ বা রেডিয়েশন থেকে রক্ষা করার বন্দোবস্ত থাকতে হবে। থাকবে তাপমাত্রার বিপুল হেরফের। রুক্ষ ও বিপজ্জনক পরিবেশ। এই সব কিছু সামলে নিরবচ্ছিন্ন জীবনদায়ী ব্যবস্থা বা লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলা ভীষণ জরুরি। এই আশ্রয়স্থলে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, যেমন—শক্তি উৎপাদন, শক্তি সঞ্চয় এবং অক্সিজেনের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে। প্রয়োজন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চয়ের নিখুঁত পরিকাঠামো। একইসঙ্গে সেই বাসস্থান নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ব্যবহারিক পদ্ধতিও তৈরি রাখতে হবে। শুভাংশুর সোজা কথা, ‘আমরা কোথায় থাকব? এই সহজ প্রশ্নটাই ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।’

    এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে

    শুক্লা বলেন, ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাইরে মানুষকে বসবাস করাতে চাইলে এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, ২০ বছর পরে মানুষকে পৃথিবীর বাইরে বসবাস করাতে হলে সেই কাজ ২০ বছর পরে শুরু করলে চলবে না—শুরু করতে হবে এখন থেকেই। ভারতের মানব মহাকাশযাত্রার উচ্চাকাঙ্ক্ষাও ক্রমশ বাড়ছে। গগনযান কর্মসূচি ভারতীয় মহাকাশচারীদের নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে পাঠানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের আরও দূরবর্তী মানব মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি তৈরি করছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চাঁদ ও মঙ্গলের মতো গন্তব্যে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারতের ‘গগনযান’ প্রকল্পের পথ ধরে এই দূরদর্শী গবেষণা দেশের মহাকাশ গবেষণাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘ভীম’-এর মূল লক্ষ্য হল, পৃথিবী থেকে ভাঁজ বা কমপ্যাক্ট অবস্থায় বাসস্থানের উপকরণ চাঁদ কিংবা মঙ্গলে নিয়ে গিয়ে সেখানে ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারণ করা। ফলে সীমিত পে-লোড-এর মধ্যেই তুলনামূলক বড় থাকার জায়গা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

    সাহস দেখাতে হবে, ভাবতে হবে

    ভিনগ্রহে মানুষের বসতি গড়ার দৌড়ে ভারতের গবেষণাগারগুলোও যে আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। শুভাংশু শুক্লার মতে, ‘ভিন্ন বিশ্বে বাসস্থান তৈরির প্রথম ধাপটা হয়তো প্রথম ইট গাঁথা নয়। প্রথম ধাপটা হল, সেই বাসস্থান কেমন হতে পারে, তা কল্পনা করার সাহস দেখানো।’ শুক্লার ভীম প্রকল্প তাই শুধু একটি মহাকাশ-আবাসনের নকশা নয়; এটি পৃথিবীর বাইরে মানুষের ভবিষ্যৎ বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। শুক্লার ভাষায়, অন্য কোনও গ্রহে বা মহাজাগতিক জগতে মানুষের আবাসস্থল তৈরির প্রথম ধাপ হয়তো তার প্রথম ইটটি বসানো নয়—প্রথম ধাপ হতে পারে সেই বাড়িটিকে কল্পনা করার সাহস দেখানো। চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের ভবিষ্যৎ বসতি তৈরির স্বপ্ন যখন ক্রমশ বাস্তব গবেষণার দিকে এগোচ্ছে, তখন সেই ‘মহাকাশের বাড়ি’-র ভাবনাও যে ভারতের গবেষণাগার থেকেই উঠে আসছে, ভীম তারই ইঙ্গিত।

  • PM Modi: চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য স্মরণে জাতীয় মহাকাশ দিবস, দেশবাসীকে শুভেচ্ছা মোদি-শাহের

    PM Modi: চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য স্মরণে জাতীয় মহাকাশ দিবস, দেশবাসীকে শুভেচ্ছা মোদি-শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় মহাকাশ দিবস উপলক্ষে রবিবার দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সাফল্যের কথা তুলে ধরে দেশের বিজ্ঞানী ও তরুণ প্রজন্মকে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর আহ্বান জানান (National Space Day) তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী এক বার্তায় বলেন, “জাতীয় মহাকাশ দিবসের শুভেচ্ছা। আরও বড় স্বপ্ন দেখার, আরও বেশি উদ্ভাবনের এবং নতুন নতুন সীমান্ত অতিক্রম করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলুন।”

    মহাকাশ দিবসের শুভেচ্ছা (PM Modi)

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দেশবাসীকে জাতীয় মহাকাশ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রত্যেক দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনেই ভারতের চন্দ্রযান-৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফলভাবে অবতরণ করেছিল। সময়ের বুকে নিজেদের প্রতিভার অমোচনীয় ছাপ রেখে দেওয়া ইসরোর বিজ্ঞানীদেরও আজ আমরা অভিনন্দন জানাই।” ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণের ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণ করেই জাতীয় মহাকাশ দিবস পালিত হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি সফলভাবে অবতরণকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়ে।

    চন্দ্রযান-৩ অভিযানের অবতরণযান বিক্রম নিয়ন্ত্রিতভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে নরম অবতরণ করে। এরপর তার ভিতরে থাকা প্রজ্ঞান নামের চলমান যানটি চাঁদের মাটিতে নেমে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। এই সাফল্যের ফলে চাঁদে সফল অবতরণকারী নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় ভারত আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে।

    গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

    চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য ভারতের আগের চন্দ্রাভিযানগুলির ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে এই সাফল্য দেশের মহাকাশ কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও মর্যাদা এনে দেয় (PM Modi)।

    জাতীয় মহাকাশ দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হল মহাকাশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ানো। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণা, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে (National Space Day) এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করাও এই দিবস পালনের অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রবিবারের বার্তায় তরুণ ভারতীয়দের বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করতে তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর বার্তাই উঠে এসেছে তাঁদের বক্তব্যে (PM Modi)।

     

  • ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। ভবিষ্যতে রকেট ও নিয়মিত ব্যবহারের উপগ্রহ তৈরির মতো রুটিন উৎপাদনমূলক কাজ থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে গবেষণা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং বিশেষ পরিকাঠামো তৈরিতে আরও বেশি মন দিতে চলেছে ইসরো (ISRO)। সেই সঙ্গে রকেট ও উপগ্রহের উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক পরিচালনার বড় অংশ তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের হাতে। একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইন-স্পেস-এর চেয়ারম্যান ড. পবন গোয়েঙ্কা এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রূপান্তর ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ শিল্পে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    রকেট তৈরির দায়িত্ব আর নেবে না ইসরো

    পবন গোয়েঙ্কার কথায়, ভবিষ্যতে ইসরো নিজে আর কোনও লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করবে না। তাঁর বক্তব্য, রকেট নির্মাণের কাজ বেসরকারি সংস্থা অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে চলে যাবে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যে মডেল কার্যকর ছিল, তাতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন গবেষণা থেকে শুরু করে রকেটের নকশা, উৎপাদন এবং উৎক্ষেপণ—প্রায় প্রতিটি স্তরেই ইসরোর কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। নতুন ব্যবস্থায় ইসরো মূলত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

    এসএসএলভি দিয়ে শুরু হয়েছে পরিবর্তন

    এই প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উঠে এসেছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা এসএসএলভি (SSLV)। ইতিমধ্যেই এসএসএলভি-র প্রযুক্তি ও উৎপাদনের অধিকার নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। ভবিষ্যতে আরও বড় রকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মডেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এবার পিএসএলভি ও এলভিএম ৩-র পালা?

    পরবর্তী ধাপে ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল—পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা পিএসএলভি (PSLV) এবং লঞ্চ ভেহিক্যল মার্ক-৩ বা সংক্ষেপে এলভিএম-৩ (LVM3) —বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোতে পারে। এলভিএম-৩ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী কার্যকরী রকেট। ভারী উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ মানব মহাকাশ অভিযানেও এই পরিবারের রকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এসএসএলভি-এর মতো এবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গোয়েঙ্কা। অর্থাৎ, এই পর্বে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিই মূলত উৎপাদনের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবে।

    গবেষণায় আরও বেশি মন দেবে ইসরো

    এই পরিবর্তনের ফলে ইসরোর চরিত্রও ধীরে ধীরে বদলাবে। শুধু রকেট ও উপগ্রহ তৈরির দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি গবেষণা ও উন্নয়ন বা গবেষণা-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসরোকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি তৈরি, বৈজ্ঞানিক মহাকাশ অভিযান, বিশেষায়িত উপগ্রহ এবং এমন উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণে ইসরো গুরুত্ব দেবে, যেগুলি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে একা তৈরি করা কঠিন। কোনও প্রযুক্তি পরীক্ষিত ও পরিণত হয়ে গেলে তা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসরকারি শিল্প বাণিজ্যিক পরিষেবা চালাতে পারবে। গোয়েঙ্কা জানান, ইতিমধ্যেই ইসরো ১২০টি প্রযুক্তি বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে হস্তান্তর করেছে।

    নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও বেসরকারি হাতে যেতে পারে

    শুধু রকেট উৎপাদন নয়, ভারতের একটি নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বও বেসরকারি শিল্পের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গোয়েঙ্কার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে এই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের অপারেটর চূড়ান্ত হতে পারে। এর ফলে ভারতের মহাকাশ পরিকাঠামোতেও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পরিমাণ বাড়বে।

    ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ অর্থনীতি

    ভারতের এই নীতির পিছনে রয়েছে আরও বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য। বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেটিকে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্য পূরণে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন গোয়েঙ্কা। প্রথমত, মহাকাশ পরিষেবায় সরকারের চাহিদা বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রচলিত মহাকাশ শিল্পের বাইরের ক্ষেত্রগুলিতে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মহাকাশ পরিষেবা ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে একজন ‘অ্যাঙ্কর কাস্টমার’ বা প্রধান ক্রেতা হিসেবে কাজ করতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাড়ছে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার ভূমিকা

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে ৩১টি উপগ্রহের অর্ডার দিয়েছে। একই বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় আরও ২১টি উপগ্রহ তৈরি করার কথা ইসরোর। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, নজরদারি, যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রয়োজনেও বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার তৈরি উপগ্রহের ব্যবহার বাড়তে পারে।

    বদলাচ্ছে মহাকাশ ব্যবসার মডেল

    ভারত শুধু বেসরকারি সংস্থাকে রকেট বা উপগ্রহ তৈরির সুযোগ দিতে চাইছে না, বরং মহাকাশ সম্পদের মালিকানা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন মডেলের দিকে এগোচ্ছে। এই মডেলে বেসরকারি সংস্থাগুলি নিজেরাই উপগ্রহের মালিক হবে। সেই উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত তথ্য, ডেটা ও পরিষেবা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে তারা আয় করতে পারবে। ফলে আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিতে শুধু উৎক্ষেপণ পরিষেবা নয়, স্যাটেলাইট ডেটা, স্পেস-ভিত্তিক পরিষেবা, যোগাযোগ, নজরদারি এবং বিভিন্ন শিল্পে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন যুগের সূচনা?

    স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির বিকাশে ইসরোর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। সীমিত সম্পদ ও পরিকাঠামোর মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করে ভারত আজ বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এবার সেই মডেলেই বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রুটিন উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কাজের বড় অংশ শিল্পক্ষেত্রের হাতে তুলে দিয়ে ইসরো যদি গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি মন দিতে পারে, তাহলে চাঁদ, মঙ্গল, মানব মহাকাশ অভিযান, গভীর মহাকাশ গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, রকেট তৈরি থেকে প্রযুক্তি তৈরি—ইসরোর ভূমিকার এই পরিবর্তনই ভারতের পরবর্তী মহাকাশ অভিযানের অন্যতম বড় ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • Indian Professor Deepak Dhar: হকিংদের পাশে এবার ভারতীয় বিজ্ঞানী, ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল পেলেন দীপক ধর

    Indian Professor Deepak Dhar: হকিংদের পাশে এবার ভারতীয় বিজ্ঞানী, ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল পেলেন দীপক ধর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে ফের এক বড় স্বীকৃতি ভারতের। বিশিষ্ট ভারতীয় তাত্ত্বিক পদার্থবিদ দীপক ধরকে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ডিরাক মেডেলে সম্মানিত করেছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স (ICTP)। পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যায় (Statistical Mechanics) তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৫ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা ও গণিতে অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া হয়। অতীতে এই সম্মানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত বহু বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্টিফেন হকিং-সহ পদার্থবিজ্ঞানের একাধিক কিংবদন্তি। ২০২৬ সালে দীপক ধর-সহ মোট চার জন বিজ্ঞানীকে ডিরাক মেডেলের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক কণার সমন্বয়ে গঠিত জটিল ব্যবস্থাগুলি কীভাবে সম্মিলিতভাবে আচরণ করে, তা নিয়ে গবেষণা করে যে শাখা, সেটিই পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যা। আধুনিক বিজ্ঞানে এই ক্ষেত্রের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জটিল নেটওয়ার্ক এমনকি আর্থিক বাজারের মতো বিষয় বুঝতেও এই গবেষণার বিভিন্ন ধারণা কাজে লাগছে।

    ছোট শহর থেকে বিশ্বমঞ্চে

    ১৯৫১ সালে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে জন্ম দীপক ধরের। হিন্দি-মাধ্যম পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা দীপকের মা চাইতেন ছেলে আইএএস অফিসার হোক। কিন্তু তাঁর বাবার উৎসাহেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। বাবা নিয়মিত বাড়িতে বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা নিয়ে আসতেন। তার মধ্যে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ সায়েন্স’ (Understanding Science) নামের একটি পত্রিকা কিশোর দীপকের মনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। সেই কৌতূহলই পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে যায় বিশ্বের অন্যতম সেরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। ইলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর তিনি আইআইটি কানপুর থেকে এমএসসি করেন। এরপর পাড়ি দেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (Caltech)। সেখানে তিনি রিচার্ড ফাইনম্যান ফেলোশিপ পান। বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও হয় তাঁর। ফাইনম্যানের সঙ্গে সহকারী হিসেবে পড়াতেন দীপক ধর। ১৯৭৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকেই পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন তিনি।

    বিদেশে কেরিয়ার নয়, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত

    পিএইচডি শেষ করার পর বিদেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু দীপক ধর বেছে নেন অন্য পথ। দেশে ফিরে যোগ দেন টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে (TIFR)-এ। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে ভারতেই গবেষণা চালিয়ে যান তিনি। আইআইএসইআর পুনেতেও (IISER Pune) প্রায় আট বছর অধ্যাপনা করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে পড়ানোর পাশাপাশি ভারতে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। টাটা-তে কাজের সময় কোনও আনুষ্ঠানিক গুরুর অধীনে না থেকেও দেশের শক্তিশালী তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের একটি গবেষণা-সমাজের অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যার নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে কাজ করেছেন।

    ‘দীপক ধরের বার্নিং অ্যালগরিদম’ ও আন্তর্জাতিক সম্মান

    দীপক ধরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান হল বার্নিং অ্যালগরিদম-এর স্যান্ডপাইল মডেল (Dhar’s burning algorithm। Sandpile model)। জটিল ব্যবস্থার আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ডিরাক মেডেলই দীপক ধরের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। ২০২২ সালে তিনি বল্টসম্যান মেডেল (Boltzmann Medal) পান এবং এই সম্মান পাওয়া প্রথম ভারতীয় হন। স্ট্যাটিসটিক্যাল পদার্থবিদ্যায় (Statistical Physics) এটি অন্যতম সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময় নিজের সাফল্য সম্পর্কে ধর বলেছিলেন, “আমি বল্টসম্যান মেডেল পাওয়া প্রথম ভারতীয়, কিন্তু পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যায় ভালো কাজ করা প্রথম ভারতীয় নই।” ২০২৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করে।

    ডিরাক মেডেলের বিশেষ মর্যাদা

    প্রখ্যাত পদার্থবিদ পল ডিরাক-এর নামে এই পুরস্কার চালু করে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স। ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা ও গণিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই মেডেল দেওয়া হয়। এই পুরস্কারের একটি বিশেষ নিয়ম হল—নোবেল, ফিল্ডস বা উলফ পুরস্কারজয়ীদের ডিরাক মেডেল দেওয়া হয় না। তবে অতীতে বহু ডিরাক মেডেলজয়ী পরবর্তীকালে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলির কোনও না কোনওটি পেয়েছেন। দীপক ধরের সাফল্যের তাৎপর্য তাই শুধু একটি পুরস্কার পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরপ্রদেশের একটি ছোট শহরে বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা পড়ে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া এক ছাত্র পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের সঙ্গে কাজ করেছেন, বিদেশে উজ্জ্বল কেরিয়ারের সুযোগ পেয়েও দেশে ফিরে এসেছেন এবং ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চায় কয়েক দশক ধরে অবদান রেখে চলেছেন। ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল সেই দীর্ঘ যাত্রারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তাঁর গল্প একই সঙ্গে প্রমাণ করে—কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং দেশের মাটিতে থেকে বিজ্ঞানচর্চার প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে ছোট শহর থেকেও বিশ্ববিজ্ঞানের মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।

  • International Biology Olympiad 2026: বিশ্বমঞ্চে ভারতের তরুণদের দাপট, আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ১ সোনা ও ৩ রুপো জয়, শুভেচ্ছা মোদির

    International Biology Olympiad 2026: বিশ্বমঞ্চে ভারতের তরুণদের দাপট, আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ১ সোনা ও ৩ রুপো জয়, শুভেচ্ছা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানের মঞ্চে আরও এক গর্বের মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। লিথুয়ানিয়ায় অনুষ্ঠিত ৩৭তম আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াড (International Chemistry Olympiad 2026)-এ অসাধারণ পারফরম্যান্সে পদক জয় দেশের চার প্রতিনিধির। বিশ্বের সেরা তরুণ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে ভারতীয় দলটি ১টি স্বর্ণপদক এবং ৩টি রৌপ্যপদক অর্জন করেছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    বিজয়ীদের তালিকা ও সাফল্য

    লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় ভারতের চার মেধাবী শিক্ষার্থী তাঁদের পারদর্শিতা প্রমাণ করেছেন। স্বর্ণপদক পেয়েছেন ভাব্য গুণওয়াল। রুপোর পদক গিয়েছে সৌমিল মাইতি, নিশীত কালানি ও আনমোল কুমারের ঝুলিতে। হাইস্কুল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াড (International Chemistry Olympiad 2026) বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা হিসেবে গণ্য হয়। এখানে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক- উভয় পরীক্ষাতেই কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষার্থীদের।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    এই ঐতিহাসিক জয়ে আনন্দ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। তরুণ বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের। এটি দেশের আরও বহু শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে উৎসাহিত করবে।” প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীরা জীববিজ্ঞানের একাধিক জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নিজেদের গভীর জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মলিকিউলার বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি (Molecular Biology and Biochemistry), অ্যানিম্যাল ফিজিওলজি (Animal Physiology), অ্যানিম্যাল মরফোলজি অ্যান্ড সিস্টেমেটিক্স (Animal Morphology and Systematics), প্ল্যান্ট কম্পিউটেশনাল বায়োলজি (Plant Computational Biology)।

    ভারতের কৃতিত্ব

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্বজুড়ে দেশের তরুণ বিজ্ঞান প্রতিভার ক্রমবর্ধমান ক্ষমতারই প্রতিফলন। ৩৭ তম আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে চার-এ-চার পদক জয় ভারতের বিজ্ঞান চর্চার ঝুলিতে আরও একটি নতুন ও উজ্জ্বল পালক যুক্ত করল।

LinkedIn
Share