Tomato Flu: এবার টমেটো ফ্লু, নয়া ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুরা

flu

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: করোনা (Covid) এখনও বর্তমান। তার মধ্যেই আর এক অজানা ভাইরাসের হানা। এবার আক্রান্ত পাঁচ বছর বয়সের কম শিশুরা। ইতিমধ্যেই দ্রুত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে কেরলে। খাদ্যে বিষক্রিয়ার পরে নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণে জর্জরিত কেরল। এখনও পর্যন্ত ৮২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন মূলত শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে। তীব্র জ্বর এবং সারা গায়ে ছোট ছোট লাল ফোস্কার মতো ক্ষত এই রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য।  ক্ষুদ্রাকৃতি টমেটোর মতো এই ফোস্কার কারণেই রোগটির নাম ‘টমেটো ফ্লু’ (Tomato Flu)। এটি একটি বিরল ভাইরাল রোগ। কেরলের কোল্লাম জেলায় ইতিমধ্যেই ৮০টি শিশু এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর। আক্রান্ত শিশুদের প্রত্যেকেরই বয়স ৫ বছরের কম বলে জানিয়েছে কেরলের (Keral) স্বাস্থ্য দফতর। কোল্লাম ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলাতেও কিছু রোগীর সন্ধান মিলেছে। আরিয়ানকাভু, আঁচল এবং নেদুভাথুর থেকেও সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে।

এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাতে ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে তাই কেরল-তামিলনাড়ু (Tamilnadu) সীমানায় জারি করা হয়েছে সতর্কতা। প্রশাসনের তরফে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  জ্বর বা অন্য অসুস্থতা নিয়ে যাতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে কেউ যেতে না পারেন, সে বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে। জ্বরের উপসর্গের হদিশ মিললেই করা হচ্ছে পরীক্ষা।

 চিকুনগুনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে এই জ্বরের। তীব্র জ্বর,গা ব্যথা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে রোগীর শরীরে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বমি ও পেটের গোলযোগও। তবে এই সব লক্ষণ ছাড়াও রোগীর দেহে দেখা যাচ্ছে টমেটোর মতো ছোট ছোট ফোস্কা। হাতের বা পায়ের তালুতে এই লাল রঙের ফুসকুড়ি বেশি দেখা যাচ্ছে।
 
রোগটির কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তাই নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা পদ্ধতির কথা এখনই নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ভাবে সংক্রমণ আটকাতে পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথাই বলছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করারও পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। সঙ্গে নিতে হবে যথেষ্ট বিশ্রাম। ফোস্কাগুলি চুলকালে বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। যাঁরা সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের অন্যদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ফোসকাগুলি যাতে গলে না যায়,সেদিকে খেয়াল রাখার কথাও বলছেন চিকিসকেরা।

এখনও পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, তাতে ৫ বছরের বয়সের নীচের শিশুদের এই সংক্রমণটি হচ্ছে। তাই তাদের বেশি সাবধানে রাখার কথা বলা হচ্ছে। যদিও এটি একেবারে নতুন কোনও ভাইরাস নাকি চিকুনগুনিয়া বা ডেঙ্গির প্রভাবে এটি হচ্ছে— তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে চিকিৎসকদের মধ্যে। এখনও পর্যন্ত কেরলের বিভিন্ন অংশে এই ভাইরাস সংক্রমণের কথা জানা গেলেও অন্যত্র এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা।  

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share