Tag: অঙ্গ প্রতিস্থাপন

  • Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি নয়া দিশা দেখাচ্ছে। বাদ নেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্র! একের পর এক সাফল্যে দেশ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এখনও কয়েকটি জায়গায় হোঁচট খেতে হচ্ছে! রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভারতে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ অঙ্গদান! বিশেষত রোগীর ব্রেন ডেথ হওয়ার পরে দেহদান নিয়েই চলে নানান জটিলতা! অগাস্ট মাসে বিশ্ব জুড়ে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলে। ভারতেও পালন করা হয় ন্যাশনাল অরগ্যান ডোনেশন ডে! আর সেই উপলক্ষে একাধিক কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে প্রশাসনিক জটিলতা। বিশেষত ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদানের ক্ষেত্রে সেই জটিলতা আরও বাড়ে।

    কোন জটিলতায় পিছিয়ে যাচ্ছে অঙ্গদান?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর ব্রেন ডেথ হলে, অর্থাৎ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ শেষ হলে, তাকে মৃত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তারপরেও সেই রোগীর শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভারের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। কিন্তু মস্তিষ্কের মৃত্যুর কারণে রোগীর বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত তার অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা জরুরি। এক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দেরি হয়ে গেলে সেই ব্যক্তির অঙ্গ অন্য রোগীর প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় না। বিশেষত হৃদপিণ্ড, চোখের মতো অঙ্গ দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। কিন্তু উপযুক্ত যোগাযোগ ও তৎপরতার অভাবে অনেক সময়েই অঙ্গদান‌ হচ্ছে না।

    একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাব

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে, তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই সময় অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা এক সরকারি অফিস থেকে আরেক সরকারি অফিস ছুটোছুটি করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। এক ছাদের তলায় সহজে অঙ্গদানের সুযোগ ও পরিকাঠামো থাকলে তবেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। অনেকেই জানাচ্ছেন, অঙ্গদানে ইচ্ছুক থাকলেও, হাসপাতালকে জানানোর পরেও অঙ্গদান হয় না। বিশেষত ছুটির দিনে সরকারি জটিলতা আরও বাড়ে। এর ফলে অঙ্গদান সম্ভব হয় না। অনেক সময় রোগীর পরিবার দ্রুত অনুমতি দেওয়ার পরেও একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে অঙ্গদান ব্যর্থ হয়‌।

    মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় গুরুত্বপূর্ণ

    তাছাড়া মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর আগে স্বেচ্ছায় অঙ্গদানে আগ্রহী। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার অঙ্গদানে ইচ্ছুক। কিন্তু সেক্ষেত্রেও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ এগোতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত তার শরীরের একাধিক অঙ্গ সংরক্ষণ করলে পরবর্তীতে সেটা প্রতিস্থাপনের কাজে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু মরণোত্তর অঙ্গদান পর্বের প্রশাসনিক জটিলতার জেরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেহ চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ানোর কাজ ছাড়া, অন্য কোনও ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায় না।

    কেন অঙ্গদানে বাড়তি গুরুত্ব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে। সেই উন্নতিকে কাজে লাগাতে মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। একাধিক রোগীর সুস্থতার জন্য অঙ্গদান অত‌্যন্ত জরুরি। ভারতের একাধিক মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে চোখ, লিভার, কিডনি, ত্বক এমনকি হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন হয়। একজন রোগীর দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপিত করে, সে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন। কিন্তু অঙ্গদানে ঘাটতির জন্য সেই সুস্থতার পথে বাধা আসে। ঠিকমতো অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা দ্রুত প্রতিস্থাপনের বন্দোবস্ত না থাকার জেরে, প্রতি বছর এদেশে বহু রোগী মারা যান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, লিভার, কিডনি কিংবা হৃদপিণ্ডের জটিল সমস্যা নিয়ে প্রতি বছর কয়েক হাজার রোগী অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ঠিকমতো যথেষ্ট অঙ্গদাতা না থাকার জেরে রোগীর ভোগান্তি বাড়ে। এমনকি প্রাণ সংশয়ও হয়।‌ অন্যান্য দেশের নিরিখে ভারতে অঙ্গদানের হার কম। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সব মহলে এই নিয়ে আরো বেশি সচেতনা জরুরি।

    অঙ্গদানের জটিলতা কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তিনটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই অঙ্গদানের হার বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি দেশ জুড়ে সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের হার বাড়বে।

    জনসচেতনতার হার বাড়ানো দরকার!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানের প্রবণতা বাড়াতে এই নিয়ে লাগাতার সচেতনতা প্রয়োজন। ব্রেন ডেথ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, কখন একজন রোগীর ব্রেন ডেথ ঘোষণায় করা হবে, সে সম্পর্কে সচেতনতা নেই। চিকিৎসায় কোনও সাড়া না দিলে, মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ শক্তি হারালে তবেই ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। তখন তাঁর অঙ্গদান করলে, একাধিক রোগী সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন, এই সম্পর্কে জনসচেতনতা জরুরি। কিন্তু এই নিয়ে ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক হাসপাতালে এই নিয়ে আলাদা বিভাগ প্রয়োজন। রোগীর পরিবারকে এই সম্পর্কে বোঝানো প্রয়োজন। তাঁদের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেই তাঁদের এই সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। পরিবারের সম্মতি পেলে তবেই বাকি কাজ করা সম্ভব হবে। কারণ, হৃদপিণ্ড সক্রিয় থাকলেও মস্তিষ্কের মৃত্যু হতে পারে। আর মস্তিষ্কের মৃত্যু হলে আর বাঁচানো সম্ভব হয় না। এটা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের স্পষ্ট ধারণা নেই।

    হাসপাতাল ও প্রশাসনের অন্যান্য মহলে সমন্বয়!

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মূল সমস্যা সরকারি মহলে জটিলতা। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই জটিলতা কমাতেই হবে। কারণ অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হলে অঙ্গদান ব্যর্থ হবে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের যাতে সহজেই দ্রুত যোগাযোগ হয় এবং প্রয়োজনীয় রোগীরা যাতে অঙ্গ পেতে পারেন, সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষত ছুটির দিনেও যাতে কাজ আটকে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আলাদা এই বিশেষ দফতরে যাতে রুটিন মাফিক কর্মী উপস্থিত থাকেন, সেদিকেও নজরদারি জরুরি।

    অঙ্গ পরিবহণে বাড়তি জোর!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অঙ্গ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্র্যান্সপ্লান্ট সেন্টারে পৌঁছনো জরুরি। না হলে অঙ্গদান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। তাই প্রয়োজন অঙ্গ পরিবহণের পরিকাঠামো। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অঙ্গ নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে পারে না। সেদিকে স্বাস্থ্য দফতরের পাশপাশি অন্যান্য দফতরের খেয়াল রাখতে হবে। তবেই এত বড় বিষয়টি সফল হবে।

LinkedIn
Share