Tag: টাইগার শ্রফ

  • Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুম্বই পুলিশের দাবি, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে পরিকল্পিত অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক। অমৃতসর থেকে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতিতে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন অনিল পণ্ডিতের নামও উঠে এসেছে।

    এই ঘটনায় রাজস্থানের কোটা থেকে ধৃত তিন অভিযুক্তকে বুধবার, ২১ অক্টোবর সকালে মুম্বইয়ে নিয়ে এসেছে পুলিশ। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই মামলায় আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা রয়েছেন।

    কী এই ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি?

    পুলিশ সূত্রে খবর, অস্ত্র পাচারের ক্ষেত্রে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় অস্ত্র রেখে দেওয়া হয়। যাঁদের অস্ত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাঁদের সেই জায়গার ঠিকানা জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে, তা সরাসরি জানা কঠিন হয়ে পড়ে।

    তদন্তকারীদের দাবি, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে কুণাল ও সুমিত অমৃতসরে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেন। অস্ত্র কোথায় রাখা হয়েছিল, সেই তথ্য তাঁদের আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে অস্ত্রগুলি ঠিক কে সেখানে রেখে গিয়েছিল, তা কুণাল ও সুমিত জানেন না বলে দাবি।

    এই কাজের জন্য কুণাল ও সুমিতকে ৭০-৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। ওই টাকা থেকে ১০-১২ হাজার টাকা দেওয়া হয় রাধা ও বাবিতাকে। অভিযোগ, এই দুই মহিলা অস্ত্রগুলি মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

    কীভাবে অস্ত্র পৌঁছেছিল মুম্বইয়ে?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, কুণাল চলতি বছরের জুলাই মাসে সোনিপতের জেল থেকে মুক্তি পান। এরপর এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অনিল পণ্ডিতের পরিচয় হয়। পরে একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    প্রায় দু’সপ্তাহ আগে কুণালকে অমৃতসর থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই কাজে নিজের বান্ধবী রাধাকে ব্যবহার করেন কুণাল। রাধার সঙ্গে বাবিতাও মুম্বইয়ে যান।

    পুলিশের দাবি, রাধা ও বাবিতা সোনিপতের একটি কারখানায় কাজ করতেন। তাঁদের উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা মুম্বইয়ের দাদরে গিয়ে তিনজনের হাতে অস্ত্রের একটি বড় চালান তুলে দেন। এই অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    কোটা থেকে মুম্বইয়ে তিন অভিযুক্ত

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় ধৃত তিন অভিযুক্ত হল রেহান ওরফে সুক্কা, হরিয়ানার বাসিন্দা ফুল সিং এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ঋত্বিক কুর্মি ওরফে রোশন, যিনি মুম্বইয়ে থাকতেন।

    কোটা পুলিশ তাঁদের মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করানো হলে অভিযুক্তদের মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয়। বুধবার সকালে সড়কপথে মুম্বইয়ে পৌঁছনোর পর তাঁদের জিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পরে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেলের দফতরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    শুধু টাইগার নয়, টার্গেটে ছিলেন সলমন-আমির-অক্ষয়ও!

    প্রায় ১৬ ঘণ্টার সড়কযাত্রার সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা কয়েকজন বলিউড অভিনেতাকে নিশানা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। সেই তালিকায় সলমন খান, অক্ষয় কুমার ও আমির খানের নাম রয়েছে বলে খবর। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ সূত্রের দাবি, সলমন খানের কড়া নিরাপত্তার কারণে তাঁকে নিশানা করা কঠিন বলে মনে হয়েছিল অভিযুক্তদের। এরপর তুলনামূলক কম নিরাপত্তা রয়েছে বলে মনে করে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা করা হয়। জুহুতে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলতে টাইগার আসবেন বলে কেউ তাঁদের জানিয়েছিল বলে অভিযোগ।

    এমনকী, গত ১১ অক্টোবর অভিযুক্তরা ওই ফুটবল মাঠে গিয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে সেদিন অভিনেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।

    জুহুতে কী ঘটেছিল?

    রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত দু’জন বাইক আরোহী গুলি চালায় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছ’টি গুলি চালানো হয়েছিল। অভিনেতা বড়সড় আঘাত এড়ালেও তাঁর গাড়ির চালক এবং এক পথচারী আহত হন।

    ঘটনার পর অন্ধেরিতে একটি পরিত্যক্ত মোটরবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। সেটি হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পর অভিযুক্তরা প্রথমে সুরাটে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে জয়পুরগামী ট্রেনে ওঠে। পরে বাসে দিল্লি হয়ে নেপালে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ।

    এই ঘটনায় খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ।

    দিল্লি থেকে আরও চারজন গ্রেফতার

    মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই ঘটনায় কুণাল (২১), সুমিত (১৯), রাধা (২৩) এবং বাবিতা (২৩) নামে চারজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের দিল্লি ও হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    অভিযোগ, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশেই কুণাল ও সুমিত অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং রাধা ও বাবিতা তা মুম্বইয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন। অনিল পণ্ডিত বিদেশে বসে অপরাধচক্র পরিচালনা করেন বলে পুলিশের সন্দেহ। তবে এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

    চারজনকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ৩৫(১)(বি) ধারার অধীনে আদালতে পেশ করা হয় বলে সূত্রের খবর। পরে মহারাষ্ট্র পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), মুম্বই, তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের অনুমতি চায়। আদালত সেই অনুমতি দেয়। এরপর মুম্বই পুলিশ তাঁদের তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড পায়।

    তদন্তে কোন দিকগুলি গুরুত্বপূর্ণ?

    এই ঘটনায় তদন্তকারীদের মূল নজর তিনটি বিষয়ে—গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশদাতা কে, অস্ত্র সরবরাহের গোটা নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত এবং হামলার পিছনে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রকৃত ভূমিকা কী।

    রেহান ও অনিল পণ্ডিতের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। অনিল পণ্ডিতকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে একটি অযাচাইকৃত পোস্টে ওই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর। তবে পোস্টটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে গ্যাংয়ের প্রত্যক্ষ যোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা যে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং এর পিছনে অস্ত্র সংগ্রহ, পরিবহণ এবং সম্ভাব্য নির্দেশদাতাদের নিয়ে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করেছে কি না, এখন সেই দিকেই নজর মুম্বই ও দিল্লি পুলিশের।

LinkedIn
Share