Tag: নারী সুরক্ষা

  • Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধে কোনও রকম আপস নয়, অপরাধীদের মনে আইনের ভয় থাকা জরুরি—এই বার্তাই কি আরও একবার সামনে এল গাইঘাটার ঘটনায়? একাদশ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত ২৩ বছরের প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশকর্মীরা।

    পুলিশের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত

    গত রবিবার, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে গাইঘাটা থানা এলাকায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে। সে নির্যাতিতারই এক আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে।

    সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, ফেরার পথে প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামাতে বলে প্রহ্লাদ। গাড়ি থেকে নামার পর এক পুলিশকর্মীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায় সে। প্রাণ বাঁচাতে এক পুলিশকর্মী পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। ঘটনায় এক পুলিশকর্মী আহত হন বলে খবর।

    এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় বলে দাবি। তাতে প্রহ্লাদের পায়ে ও শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি লাগে। পরে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

    আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    নারী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বার্তা ছিল, ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’। অর্থাৎ, অপরাধের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না, এমনই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। নারী নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের রেয়াত করা হবে না এবং আইন ভাঙলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃতের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা সেই বার্তাকেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

    ‘পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে’, বলছেন দিলীপ ঘোষ

    গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষও অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করা এবং পুলিশের উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইন অমান্য করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগেও ঘটনা ঘটেছে। খুনি পালাচ্ছিল। এনকাউন্টার হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে। এখানেও হয়েছে। বিচারের সামনে সবাইকে আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই হবে।”

    পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশকে মানুষকে ন্যায় দিতে হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে ভুলে গিয়েছে। ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে।”

    তাঁর আরও বক্তব্য, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রুখতে সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তৈরি করা জরুরি। দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভয় তো এত সহজে কেউ পায় না। কারণ আইন-কানুন ব্যবস্থা বহু বছর বাংলায় নেই। কিন্তু আইন-কানুনের রাজত্ব যদি প্রতিষ্ঠা হয়, তাহলে সবাই ভয় পাবে। সতর্ক হবে। দু’টো জিনিস করতে হবে। যেমন সমাজে সুবিচার আনা, পরিবেশ ঠিক করা। যাতে লোকে এই ধরনের কাজ না করে। আর করলে তার যে সাজা হবে, তা যেন উদাহরণ হিসেবে থাকে।”

    বারুইপুরের ঘটনারও পুনরাবৃত্তি?

    গাইঘাটার আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও ওঠে। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয় প্রভাসের। গাইঘাটার ঘটনাতেও পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তের গুলির মুখে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মিসভা থেকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৯-এ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করার পাশাপাশি রেজিনগরের মানুষের জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিও দিলেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করেই নিশানা করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে।

    ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    রেজিনগরের কর্মিসভা থেকেই কার্যত উপনির্বাচনের প্রচারের সূচনা করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি একেবারেই আত্মবিশ্বাসী। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামটা আমার উপর ছেড়ে দিন। ওখানে কত ভোটে জিতব আমি জানি। সীমা নেই, অনেক বড় ভোটে জিতব।” এরপরই রেজিনগরের মানুষের উদ্দেশে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “রেজিনগরটা দেবেন তো? একটা নয়, দুটো ব্রিজ দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাব। যত আবাস লাগে দেব। যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব। নন্দীগ্রাম জিতে ২০৮ বিধায়ক হবে বিজেপির। এবার সংখ্যাটা ২০৯ হবে কিনা রেজিনগরের উপর নির্ভর করবে।”

    পদ্ম ফোটানোর লক্ষ্যে…

    রেজিনগর দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ১ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫১ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন প্রায় ৬৪ হাজার ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ২৭ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছিল ১৭ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও উপনির্বাচনে রেজিনগর থেকেই পদ্ম ফোটানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব।

    হুমায়ুনকে নাম না করেই আক্রমণ

    সভা থেকে হুমায়ুন কবীরের নাম উচ্চারণ না করেই তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “কাকে পাঠাবেন বিধানসভায়? যে ঝগড়া করবে, ধমকাবে, কমিউনিটির কথা বলবে, হিন্দু-মুসলমান করবে, মন্দির-মসজিদ করবে, না উন্নয়ন চাইবেন?” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি বলেন, “দম্ভটা ভাঙতে হবে, অহঙ্কারটা ভাঙতে হবে। কার অহঙ্কার ভাঙতে হবে নামটা বললাম না। সামঝদারো কা ইশারা কাফি হ্যা। নাম বললে অনেকে হিরো হয়। তাই নাম বলার দরকার নেই।” উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন যদি চান, হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ, আরও স্কুল, আরও কলেজ, আরও রাস্তা, আরো ব্রিজ, ঘরে ঘরে জল, কৃষকের অধিকার, পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরবে– যদি চান তাহলে পদ্ম ফোটাতে হবে। ৮ বিধায়ক দিয়েছেন, ৯ জন চাই। রেজিনগরটা চাই।”

    আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা

    বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। (কিন্তু) থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, ‘এই করব, ওই করব’, কেউ বলবে, ‘জেলে ৪৭০০ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব’, দয়া করে এই সব ভাষণবাজি আর করবেন না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যও ছিল হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাল্টা জবাব।

    পুলিশের উদ্দেশে ‘ডু ইট নাউ’ নির্দেশ

    পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, বেলডাঙা, রেজিনগর, শক্তিপুরের মতো ঘটনা ঘটলে কাউকে ফোন করার দরকার নেই। ভারতীয় ন্যয় সংহিতাতে যা বলা আছে, আপনি যে শৃঙ্খলিত বাহিনীর ট্রেনিং নিয়ে এসেছে সেই অনুযায়ী ডু ইট নাউ। পরিষ্কার খোলা ছুট দেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, “ট্রেন, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারধর— এ সব এ বার অতীত। নারীসুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার বিচার হবে দ্রুত। শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সে সব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা।”

    নারী সুরক্ষায় জোর

    নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নারী, শিশু কন্যাদের উপর অত্যাচার কার্যত ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যধিকে কী করে মুক্ত করতে হয় আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু জানে।” পুলিশের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, “থানায় থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে, দুর্গা স্কোয়াড মাঠে নেমেছে। আপনারা বারুইপুরে পুলিশ মন্ত্রীর ভূমিকা দেখেছেন। আরও দেখতে পাবেন।” এরপর পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আজই বলেছি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির যত পুরনো কেস আছে সব বের করুন। চার্জশিট না হলে তা করুন, এফআইআর না হলে তা করুন। ছাড়া হবে না কাউকে।”

    ‘ফলতা মডেল’-এর উদাহরণ

    বক্তৃতার শেষদিকে একাধিকবার ‘ফলতা মডেল’-এর উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ফলতার মানুষ যেমন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তেমনই রেজিনগরেও উন্নয়নের পক্ষে মানুষ ভোট দেবেন। বারুইপুরের সাম্প্রতিক পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফলতার মানুষ কথা দিয়েছিল রেখেছে। বারুইপুরের ওই ছোট্ট মেয়েটির পরিবারের লোকেরাও সংখ্যালঘু। ওনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। বাকিরাও রাখুন। ফল হাতেনাতে পাবেন।” রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। একদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বার্তা— দুইয়ের মিশেলেই বিজেপির প্রচারের সুর স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

LinkedIn
Share