Tag: পশ্চিমবঙ্গ

  • Rabies Vaccine: প্রাণীর কামড়ে রেবিস টিকা পেতে আর ঘুরতে হবে না, ৪ মডেল কেন্দ্র তৈরির পথে রাজ্য

    Rabies Vaccine: প্রাণীর কামড়ে রেবিস টিকা পেতে আর ঘুরতে হবে না, ৪ মডেল কেন্দ্র তৈরির পথে রাজ্য

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাড়ির পোষ্য হোক কিংবা পথ চলতে গিয়ে, কখনও আবার হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনা—বিভিন্ন প্রাণীর কামড় বা আঁচড় মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। জ্বর, মাথাব্যথা, কামড়ের জায়গায় জ্বালা বা অস্বস্তি প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। পরবর্তী সময়ে জল বা খাবার গিলতে সমস্যা, হাত-পায়ে খিঁচুনি, এমনকি বারবার অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    এই ধরনের বিপদ এড়াতে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পরে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেবিস টিকাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজ্যের বহু জায়গায় পর্যাপ্ত রেবিস টিকার জোগান না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সরকারি হাসপাতালে ঘুরতে হয়। ফলে টিকাকরণের উপযুক্ত সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    এই হয়রানি কমাতেই রাজ্য সরকার রেবিস ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করার দিকে বাড়তি নজর দিতে চাইছে। পাশাপাশি রাজ্যে চারটি পৃথক রেবিস টিকাকরণের মডেল কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্দেশ্য, জেলা থেকে শহর—সমস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে যাতে প্রয়োজনমতো রেবিস টিকাকরণের ব্যবস্থা থাকে এবং রোগীদের অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়।

    কেন মডেল টিকাকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা?

    চিকিৎসকদের মতে, রেবিস ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের পরে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকাকরণ না হলে রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশের দাবি, রাজ্যের একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনেক সময় রেবিস ভ্যাকসিনের জোগান ঠিকমতো থাকে না। আবার কোথাও ভ্যাকসিন থাকলেও টিকাকরণের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। এর জেরেই সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ।

    এই পরিস্থিতি বদলাতেই চারটি মডেল রেবিস টিকাকরণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি থেকে রাজ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত টিকার জোগান রয়েছে কি না, তা নজরদারি করা হবে। কোথাও কর্মীর ঘাটতি থাকলে তা সমাধানেরও চেষ্টা করা হবে।

    রেবিসের টিকাকরণ একাধিক ডোজে সম্পূর্ণ করতে হয়। তাই কোনও রোগী নিয়ম মেনে টিকাকরণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন কি না, সেদিকেও নজর রাখা হবে। সামগ্রিকভাবে জলাতঙ্কে মৃত্যুর হার কমাতেই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    শুধু কুকুর নয়, কোন কোন প্রাণীর কামড়ে প্রয়োজন রেবিস টিকা?

    রেবিসের ক্ষেত্রে শুধু কুকুরের কামড়কেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয় না। বাঁদর বা হনুমানের কামড় কিংবা আঁচড় থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই এমন ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    বাদুড়ের সংস্পর্শের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদুড়ের কামড় বা আঁচড় অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না। এমনকি ঘুমন্ত অবস্থাতেও কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    গ্রামাঞ্চলে শিয়ালের কামড় বা আঁচড়ের ঘটনাও ঘটে। এমন ক্ষেত্রেও রেবিস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী টিকাকরণ করতে হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর লালার সংস্পর্শে এলে রেবিস ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই কুকুর, বেড়াল, হনুমান, বাঁদর, বাদুড়, শিয়াল-সহ কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটলে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া প্রয়োজন।

    কেন রেবিস টিকাকরণে বাড়তি গুরুত্ব?

    ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৯৫ লক্ষ মানুষ প্রাণীর কামড়ের শিকার হন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৬ শতাংশই কুকুরের কামড়ের ঘটনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ রেবিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

    চিকিৎসকদের মতে, রেবিসের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পরে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাই সংক্রমণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় টিকাকরণ অত্যন্ত জরুরি।

    একই সঙ্গে রেবিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন। কোনও প্রাণীকে বাইরে থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হলেও তার মধ্যে রেবিস ভাইরাস থাকতে পারে। তাই কোনও স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে হালকা ভাবে না নিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    কামড়ের জায়গায় কী করবেন?

    প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পরে ক্ষতস্থানে হলুদ, মাটি বা অন্য কোনও পদার্থ লাগানো উচিত নয়। বরং দ্রুত ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেবিস টিকাকরণই এই প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Kolkata New Civic Rules: থুতু ১০০, প্রস্রাব ২০০,..! রাস্তায় এই ৫ ভুল করলেই গুনতে হবে জরিমানা, চালু হল নতুন নিয়ম, বদলে ফেলুন অভ্যাস

    Kolkata New Civic Rules: থুতু ১০০, প্রস্রাব ২০০,..! রাস্তায় এই ৫ ভুল করলেই গুনতে হবে জরিমানা, চালু হল নতুন নিয়ম, বদলে ফেলুন অভ্যাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা-সহ রাজ্যের শহরাঞ্চলকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার নাগরিকদের অভ্যাস বদলের উপর জোর দিল রাজ্য সরকার। রাস্তায় যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা, প্রকাশ্যে থুতু ফেলা কিংবা মল-মূত্র ত্যাগের মতো ঘটনায় এবার আর শুধু সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গুনতে হবে জরিমানা। পাশাপাশি নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ‘১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলাবে অভ্যাস, বদলাবে কলকাতা’—এই বার্তাকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উদ্যোগে শহর ও নগরাঞ্চলে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

    কোন কোন কাজে জরিমানা?

    রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় একাধিক নাগরিক আচরণকে জরিমানার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • প্রকাশ্যে থুতু ফেলা: রাস্তায় বা জনসমক্ষে থুতু ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
    • প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগ: যত্রতত্র প্রস্রাব বা মলত্যাগ করে পরিবেশ নোংরা করলে ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে।
    • যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা: রাস্তায় বা নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া অন্যত্র আবর্জনা ফেললেও জরিমানার মুখে পড়তে হবে। আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে ২০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
    • নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার: নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করলেও ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ।

    এছাড়াও নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ছাড়া যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করানো বা বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও জরিমানার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে।

    কোথায় কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম?

    ১ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যের পুরসভা, পুরনিগম এবং নোটিফায়েড এরিয়া-গুলিতে এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের কাছে নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।শহরাঞ্চলের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করতে প্রচার চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র জরিমানা করাই নয়, কোন কোন কাজ করলে জরিমানা হতে পারে, তা সাধারণ মানুষকে জানানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    কোথায় নজরদারি বেশি?

    সরকারের নজরদারির আওতায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে জনসমাগম বেশি হয় এমন এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে বাজার, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় স্থান এবং সরকারি অফিসের আশপাশের রাস্তা ও নর্দমা। এই এলাকাগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

    নগদে নয়, অনলাইনে জমা দিতে হবে জরিমানা

    নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, জরিমানার টাকা নগদে নেওয়া হবে না। নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনলাইনে জরিমানা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    শুধু প্রশাসন নয়, দায়িত্ব নাগরিকদেরও

    পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে শুধু পুরসভা বা প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রচারে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পরিষ্কার শহর শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব। রাস্তা পরিষ্কার রাখা, নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলা, নিষিদ্ধ প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা এবং প্রকাশ্যে থুতু বা মল-মূত্র ত্যাগ না করার মতো দৈনন্দিন অভ্যাস বদলের উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, নিয়মের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়লে কলকাতা-সহ রাজ্যের শহরাঞ্চল আরও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

    নাগরিক সমস্যায় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন

    এদিকে নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮০০-৩৪৫-০৯৩৮ চালুর কথাও জানানো হয়েছে। আপাতত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকার কথা। পরবর্তী সময়ে পরিষেবাটি ২৪ ঘণ্টা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই নম্বরে ফোন করে নাগরিক সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

    সব মিলিয়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে একদিকে যেমন শহর ও নগরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মকানুন আরও কড়া করা হচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাইরে বেরিয়ে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস বদলানোই এখন নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বড় বার্তা।

LinkedIn
Share