Tag: বাংলা খবর

  • Amit Shah: বুধবার বাংলায় আসছেন অমিত শাহ, মায়াপুর ইসকনে রয়েছে বিশেষ কর্মসূচি

    Amit Shah: বুধবার বাংলায় আসছেন অমিত শাহ, মায়াপুর ইসকনে রয়েছে বিশেষ কর্মসূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬। ভোটের প্রস্তুতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে আগামী মার্চ মাসে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তবে তার আগেই ফের রাজ্য সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সূত্রের খবর, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসবেন এবং নদিয়ার মায়াপুরে ইসকনের মন্দিরে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

    বুধবার মায়াপুরে অমিত শাহ

    জানা যাচ্ছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার মায়াপুরে ইসকনের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর হেলিকপ্টারে সরাসরি মায়াপুর যাবেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি প্রথমে ইসকনের শঙ্খভবনে যাবেন। সেখান থেকে তিনি রাধামাধব এবং পঞ্চতত্ত্বের বিগ্রহ দর্শন করবেন। পরে পদ্মভবনে সাধু-সন্তদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। এরপর ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের ১৫২তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের অগণিত ভক্ত ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন। জানা যাচ্ছে, মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের আরতিতেও অংশ নিতে পারেন তিনি। মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের আরতিও করতে পারেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠান শেষ করে বিকেলেই তিনি পুনরায় হেলিকপ্টারে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

    নিরাপত্তার কড়াকড়ি মায়াপুরে

    এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মায়াপুর সফর ঘিরে শুরু হয়েছে নদিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই মায়াপুরে সাজসাজ রব। মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। মায়াপুরের অস্থায়ী হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে মন্দির চত্বর, শঙ্খ ভবন— সর্বত্র নিরাপত্তা খতিয়ে দেখছেন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা। দফায় দফায় নিরাপত্তা মহড়া এবং এলাকা পরিদর্শন চলছে। এর আগে, অমিত শাহের মায়াপুর আসার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে সেই সফর বাতিল হয়েছিল।

  • Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    Seasonal Change Health Risks: বিদায় নেবে শীত! আগাম গরম কোন সমস্যা নিয়ে আসছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিদায় নিচ্ছে শীত! আর মাত্র কয়েক দিন! তারপরেই সোয়েটার আর লেপ কম্বলের পর্ব শেষ হতে চলেছে। গরম এবার আগাম পা বাড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। কিন্তু বসন্তেই গরম হাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই আবহাওয়া একাধিক রোগের দাপট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। এমনটাই মত চিকিৎসকদের।

    কেন রোগের দাপট বাড়তে পারে?

    শীতে তাপমাত্রার পারদ কম থাকে। চলতি মরশুমে তাপমাত্রার পারদ অনেকখানি কমে গিয়েছিল। কিন্তু গরমের দাপটে আবহাওয়ার অনেকটাই পরিবর্তন হয়। শীত শেষের এই মরশুমে বাতাসে নানান ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তাই সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া বছরের এই সময় শুষ্ক। বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। তাই নানান ধরনের অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন শরীর সহজে মেনে নিতে পারে না। পেশি ও মস্তিষ্কের স্নায়ুর পরিবর্তিত পরিবেশ মানিয়ে নিতে সময় লাগে। তার ফলে শরীর বেঁকে বসে। হজমের সমস্যা থেকে পেশির খিঁচুনির মতো নানান ভোগান্তি তৈরি হয়। তাই এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাছাড়া আগামী সপ্তাহ থেকে দেশজুড়ে বোর্ড পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। এই অবস্থায় তাদের শরীরের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    সুস্থ থাকার কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    আগাম গরমে বাড়তে পারে ভাইরাসঘটিত জ্বর ও কাশি।‌ তাই সংক্রমণ ঠেকাতে কয়েকটি বিশেষ পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীত কমে গেলেও সন্ধ্যার পরে কিংবা ভোরে হালকা ঠান্ডা থাকে। তাই এই সময়ে বাইরে বেরোলে অবশ্যই কান, গলা ঢাকা দেওয়া পোশাক পরা জরুরি। তাহলে আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি কমানো যাবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই এই আবহাওয়ায় কাশি ও গলা ব্যথার সমস্যায় ভুগছেন। আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন থেকে অনেক সময় জ্বর হয়। ভোগান্তি বাড়ে।

    বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ

    বছরের এই সময়ে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়। ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই শিশু ও বয়স্কদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরে বেরোলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। তাছাড়া ট্রেন-বাস-অটোর মতো গণপরিবহণ ব্যবহারের সময় সকলকেই মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে অনেকেই কাশি-সর্দি-জ্বরে ভুগছেন। তাই সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।

    সংক্রমণ ঠেকাতে হাত ধোয়া জরুরি

    বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই হাত ধোয়া জরুরি। তাতে নানান সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হয় বলেই মত চিকিৎসকদের একাংশের।
    খাবার খাওয়া নিয়েও বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। বিশেষত পরীক্ষার্থীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। এই আবহাওয়ায় পেটের অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। ঋতু পরিবর্তনের সময় হজমের গোলমাল হয়। তাপমাত্রার হঠাৎ বদলের জেরে শরীরের একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। তাই হজমের গোলমাল, পেটের অসুখ, বমির মতো ভোগান্তি কমাতে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারি, অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার হজমের সমস্যা তৈরির পাশাপাশি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। কিন্তু পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত‌্যন্ত জরুরি। তাই বিশেষ করে রাতের দিকে তাদের হালকা খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে পেশির খিঁচুনি‌ এড়াতে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই আবহাওয়ায় নিয়মিত শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শারীরিক কসরত করলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। নানান সমস্যা এড়ানো যায়‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • PM Modi in Assam: জাতীয় সড়কে নামল প্রধানমন্ত্রীর বিমান, উড়ল রাফাল, সুখোই! প্রস্তুত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইএলএফ

    PM Modi in Assam: জাতীয় সড়কে নামল প্রধানমন্ত্রীর বিমান, উড়ল রাফাল, সুখোই! প্রস্তুত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইএলএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল অসম। শনিবার সকালে অসমের ডিব্রুগড় জেলার মোরানে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটিতে (ELF) অবতরণ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিমান।

    জাতীয় সড়কে নামল মোদির বিমান

    দিল্লি থেকে অসমের চাবুয়া বিমানঘাঁটি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সহ রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। চাবুয়া থেকে বায়ুসেনার সি-১৩০জে বিমানে চেপে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছান মোরান মোরান বাইপাস এলাকায়। সেখানে জাতীয় সড়কের একটি অংশে বিশেষভাবে নির্মিত ইএলএফ-এ অবতরণ করে মোদির বিশেষ বিমান। এই উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বায়ুসনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ইএলএফ হল মোরান বাইপাসের ওপর ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি শক্তিশালী কংক্রিটের রানওয়ে। এটি ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধবিমান ও পণ্যবাহী পরিবহণ বিমানের জন্য কৌশলগত ও বহু-উদ্দেশ্যপূর্ণ রানওয়ে হিসেবে কাজ করবে, যা প্রতিরক্ষা, লজিস্টিক্স এবং দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষমতা আরও মজবুত করবে।

    রানওয়ে থেকে উড়ল সুখোই, রাফাল

    এই নতুন ইএলএফ জরুরি পরিস্থিতিতে ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প অবতরণস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, ফলে এটি ভারতের বিমান পরিকাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪০ মিনিটের এক বিশাল এয়ার শো প্রত্যক্ষ করেন। প্রদর্শনীতে অংশ নেয় ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান ও হেলিকপ্টার। এর মাধ্যমে বায়ুসেনার অপারেশনাল প্রস্তুতি ও হাইওয়ের দ্বৈত ব্যবহারযোগ্যতার ক্ষমতা তুলে ধরা হয়। মোরনের ইএলএফ থেকে পরপর উড়ে যায় সুখোই-৩০এমকেআই, রাফালের মতো যুদ্ধবিমান।

    বায়ুসেনার নজিরবিহীন এয়ার শো

    এছাড়া, বায়ুসেনার ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে পরিচিত সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস এবং এএন-৩২ পরিবহণ বিমান বিশেষভাবে নির্মিত এই ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ ইএলএফ-এ অবতরণ ও উড়ানের মহড়া চালায়। এছাড়া, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (ALH) দিয়ে বিশেষ হেলি-বোর্ন অপারেশন এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (HADR) মহড়া চালানো হয়। এই হেলিকপ্টারগুলি নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্গম এলাকায় খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনার এলিট বাহিনী গরুড় কমান্ডো বাহিনীর সদস্যরাও তাদের নিখুঁত দক্ষতা ও যুদ্ধকৌশল প্রদর্শন করেন।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ

    কৌশলগত দিক থেকে এই ইএলএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোরান থেকে চিন সীমান্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এবং মায়ানমার সীমান্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী আগেই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানিয়েছিলেন, এই ইএলএফ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ মোতায়েনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে। এই পরিকাঠামো বন্যা ও ভূমিকম্পপ্রবণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও বাড়াবে এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। ইএলএফটি সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন ওজনের পরিবহণ বিমান ওঠানামায় সক্ষম।

    একাধিক কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রীর

    মোরনের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ফের ইএলএফ থেকে বায়ুসেনার সি-১৩০জে বিমানে করে গুয়াহাটির উদ্দেশে রওনা দেন। গুয়াহাটির লাচিত ঘাটে ৫,৪৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর নির্মিত কুমার ভাস্কর বর্মা সেতুর উদ্বোধন করেন, যার নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩,০৩০ কোটি টাকা। এই ছয় লেনের এক্সট্রাডোজড প্রি-স্ট্রেসড্ কংক্রিট (PSC) সেতু গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটিকে সংযুক্ত করেছে এবং এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম এক্সট্রাডোজড সেতু। এই সেতু চালু হলে গুয়াহাটি থেকে উত্তর গুয়াহাটি যাতায়াতের সময় কমে মাত্র ৭ মিনিটে দাঁড়াবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আইআইএম গুয়াহাটির উদ্বোধন করেন এবং পিএম ই-বাস সেবা প্রকল্পের আওতায় চারটি শহরে ২২৫টি বৈদ্যুতিক বাসের সূচনা করেন।

  • SCALP-Meteor Missile: লাগবে নয়া রাফালে, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার স্ক্যাল্প-মিটিয়র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে ভারত

    SCALP-Meteor Missile: লাগবে নয়া রাফালে, সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার স্ক্যাল্প-মিটিয়র ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথে ভারত

    সুশান্ত দাস

    গুলি ছাড়া যেমন বন্দুক মূল্যহীন, ঠিক তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া যুদ্ধবিমানেরও কোনও মূল্য নেই। বৃহস্পতিবারই ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। তবে, স্রেফ যুদ্ধবিমান কিনলেই তো হবে না, তার অস্ত্রও পেতে হবে। যে কারণে, রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করার জন্য বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের বিপুল বরাতও দেওয়ার তোড়জোড় করছে মোদি সরকার। আর এই তালিকায় রয়েছে একজোড়া ভয়ঙ্কর ও পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র— স্ক্যাল্প (SCALP) বা স্টর্ম শ্যাডো (Storm Shadow) এবং মিটিয়র (Meteor)। বরাতের মূল্য প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। বলাবাহুল্য, এই দুই ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি করে ফ্রান্স— যে দেশ থেকে আসছে রাফাল জেট।

    ৩০ কোটি ইউরোর চুক্তি

    কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, এই মর্মে ভারত ও ফ্রান্স একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে। প্রায় ৩০ কোটি ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনা বিপুল সংখ্যক স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল কিনতে চলেছে। এই স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের ভিতরে জইশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর, ফ্রান্স থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্ক্যাল্প ক্রুজ মিসাইল কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    স্ক্যাল্প মিসাইল কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

    স্ক্যাল্প (SCALP)-এর পূর্ণরূপ <Système de Croisière Autonome à Longue Portée>। ফরাসি এই শব্দগুচ্ছের অর্থ হল— দূরপাল্লার স্বায়ত্তশাসিত ক্রুজ সিস্টেম। আন্তর্জাতিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্টর্ম শ্যাডো’ নামেও পরিচিত। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এমবিডিএ নির্মিত যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ক্রুজ মিসাইল মূলত বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার, বিমানঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মতো উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য তৈরি। এই মিসাইল অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড়ে ভূখণ্ড অনুসরণ করে এগোতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের রেডার এড়ানো সম্ভব হয়। এর গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে জিপিএস, ইনার্শিয়াল ন্যাভিগেশন, টেরেন ম্যাপিং এবং ইনফ্রারেড সিকার। এর পাল্লা ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি, ফলে যুদ্ধবিমান নিরাপদ দূরত্ব থেকেই আঘাত হানতে পারে।

    অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহার

    গত বছরের অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমান থেকে ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের সঙ্গে স্ক্যাল্প মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তানের মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুর জেলায় জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। আধিকারিকদের মতে, লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। ৬–৭ মে রাতের অভিযানের পর ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তান বিমানবাহিনীর (PAF) একাধিক ঘাঁটিতে ক্রুজ মিসাইল হামলা চালায়। এই অভিযানে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করা হয় এবং সেখানে থাকা যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানের মতো একাধিক উচ্চ-মূল্যের সম্পদ ধ্বংস করা হয়। স্ক্যাল্প মিসাইল রাফাল যুদ্ধবিমানের অস্ত্রভাণ্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতেও ব্যবহৃত হবে।

    মিটিয়র মিসাইল কী ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ?

    স্ক্যাল্প-এর পাশাপাশি, ভারতীয় বায়ুসেনা রাফাল যুদ্ধবিমানের যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াতে বিপুল সংখ্যক মিটিয়র (Meteor) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। সূত্রের খবর, এর জন্য প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার চুক্তি হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল হল মিটিয়র। এটি একটি আধুনিক প্রজন্মের বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ (BVR) এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল। এটি আকাশযুদ্ধে শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে অনেক দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মিটিয়র মিসাইলের কার্যকর পাল্লা প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি। এর উন্নত গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে ইনার্শিয়াল ন্যাভিগেশন, ডেটালিঙ্ক আপডেট এবং শেষ ধাপে অ্যাকটিভ রাডার সিকার, যার ফলে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়। এই মিসাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর র‌্যামজেট প্রোপালশন সিস্টেম। সাধারণ মিসাইল যেখানে শেষ পর্যায়ে গতি ও শক্তি হারায়, সেখানে মিটিয়র পুরো উড়ানজুড়েই উচ্চগতি বজায় রাখতে পারে। ফলে দ্রুতগামী ও কৌশলী শত্রু বিমান, ড্রোন কিংবা ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই মিসাইলগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য কেনা ২৬টি রাফাল-মেরিন Rafale-M) যুদ্ধবিমানের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে, যেগুলি আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা।

    ভারতের ভবিষ্যৎ বায়ুশক্তির কেন্দ্রে রাফাল

    প্রস্তাবিত স্ক্যাল্প ও মিটিয়র মিসাইল কেনা ভারতের বিমান শক্তিকে রাফালকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা বিষয়ক মস্ত্রিসভার কমিটিতে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী এক দশকের মধ্যে ভারতের রাফাল বহর প্রায় ১৭৫-এ পৌঁছাতে পারে, যা শত্রুদেশের গভীর আঘাত হানার ক্ষমতা ও প্রতিরোধ শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। ভারত ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ক্রমশ গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে, যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত কর্মক্ষমতার ভিত্তিতেই এই স্ক্যাল্প ও মিটিয়র মিসাইল চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • Enforcement Directorate: কয়লা পাচার মামলায় বড় সাফল্য ইডির, বাজেয়াপ্ত লালা সিন্ডিকেটের ১০০ কোটির বেশি সম্পত্তি

    Enforcement Directorate: কয়লা পাচার মামলায় বড় সাফল্য ইডির, বাজেয়াপ্ত লালা সিন্ডিকেটের ১০০ কোটির বেশি সম্পত্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহে আরও সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। এবার কয়লা পাচার মামলার (Bengal Coal Scam) মূল অভিযুক্ত লালা সিন্ডিকেটের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। শুক্রবার পুরনো কয়লা পাচার মামলাতেই ১০০ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। এর ফলে এই মামলায় এখন পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মোট অঙ্ক দাঁড়াল ৩২২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীরা জানান, গত ৪ জানুয়ারি দিল্লি ও কলকাতায় একযোগে চালানো তল্লাশি অভিযানের সময়ই লালা সিন্ডিকেটের গড়া এই বিপুল সম্পদের নথি উদ্ধার হয়। সেই সূত্র ধরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    কীভাবে হত কয়লা পাচার?

    ইডি (Enforcement Directorate) সূত্রে আরও জানা গেছে, কয়লা পাচারের অর্থ দুটি বেনামি সংস্থার নামে জমি কেনা ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে লুকানো হয়েছিল। ভুয়ো চালানের মাধ্যমে ১০ বা ২০ টাকার নোট আটকে তার ছবি ব্যবহার করে লেনদেন দেখানো হত। এই সামান্য চালানের আড়ালেই গড়ে ওঠে কয়েক’শ কোটির সম্পত্তি। তদন্তে উঠে এসেছে, চালানে পিন আটকানো ১০ বা ২০ টাকার নোট। ওই নোটের নম্বরই আসলে কোড। নাম তার ‘লালা প‌্যাড’। কয়লা মাফিয়া হিসাবে অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার নামেই নামকরণ হয় এই প‌্যাডের। এই নোট-সহ প‌্যাডের ছবি হোয়াটসঅ‌্যাপে কয়লা পাচারের (Bengal Coal Scam) সঙ্গে যুক্ত পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পাঠিয়ে দেওয়া হত। এই টাকা আটকানো চালান যে ট্রাক চালকের কাছে থাকত, তাঁকে আটকানো হত না। ভুয়ো চালানের সঙ্গে পাঠানো হত ট্রাকের নম্বর প্লেটও। সেই ছবির সঙ্গে মিলিয়ে ছেড়ে দেওয়া হত বেআইনি কয়লা-সহ ট্রাক। এভাবেই বেআইনি কয়লা খাদান থেকে কয়লা পাচার হত বলে দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (Enforcement Directorate)। ইডির গোয়েন্দারা জানান, ওই কয়লা পাচার চক্র বিপুল টাকা পাচার করত হাওয়ালার মাধ‌্যমেও। সেই ক্ষেত্রেও ১০ টাকার নোটের নম্বর ব‌্যবহার করা হত। ওই নম্বর দেখেই হাওয়ালা চক্র জায়গামতো পাঠিয়ে দিত কোটি কোটি টাকা। তদন্তকারীদের ধারণা, লালা সিন্ডিকেটের মোট দুর্নীতির পরিমাণ ২,৭০০ কোটি টাকারও বেশি।

    জড়িত পুলিশ আধিকারিক?…

    একদিকে পুরনো মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন মামলায় (Bengal Coal Scam) চলছে জোরদার তলব। সম্প্রতি কয়লা পাচার সংক্রান্ত নতুন মামলায় বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে হাজিরার নির্দেশ দেয় ইডি। নির্দিষ্ট দিনে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর বদলে দুই আইনজীবী—শুভ্রাংশু পাল ও দেবতনু দাস হাজির হন। তাঁদের কাছ থেকেই মনোরঞ্জন মণ্ডল এবং তাঁর বাবা-মায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত শুরু করে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। রাজ্যের বিভিন্ন রেল সাইডিং এলাকা থেকে কয়লা চুরির ঘটনা সামনে আসতেই প্রথমে আয়কর দফতর এবং পরে সিবিআই তদন্তে নামে। সেই সূত্রেই প্রকাশ্যে আসে অনুপ মাঝি ওরফে লালা এবং তার সিন্ডিকেটের নাম। গত বছর ইডি (Enforcement Directorate) এই ঘটনায় আরও একটি নতুন মামলা দায়ের করে। ভোটমুখী বাংলায় সেই তদন্ত এখন ফের তীব্র গতিতে এগোচ্ছে।

  • India Chile Trade Deal: রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম লিথিয়াম ভান্ডার! সেই লাতিন দেশের সঙ্গে চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত

    India Chile Trade Deal: রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম লিথিয়াম ভান্ডার! সেই লাতিন দেশের সঙ্গে চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার পর ভারত (India) এখন আর একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে (India Chile FTA)। এই চুক্তিটি প্রচলিত বাণিজ্যের সীমা ছাড়িয়ে বহুমাত্রিক সুবিধা এনে দিতে পারে। নয়াদিল্লি বর্তমানে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলির সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। চিলিকে বিশ্বের বৃহত্তম লিথিয়াম ভান্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিচ গত বছর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এগিয়ে নিতে ভারত সফর করেন। চুক্তিটি (India Chile Trade Deal) সম্পন্ন হলে ভারতের উৎপাদন, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ গবেষণা খাতে কৌশলগত সুবিধা মিলবে বলেই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ চিলি (India)

    দক্ষিণ আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত চিলি লিথিয়াম, তামা এবং কোবাল্ট-সহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এসব সম্পদ ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং সৌরশক্তি শিল্পের জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে চিন একতরফাভাবে রেয়ার আর্থ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর ভারতের শিল্পোন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এসব কাঁচামালের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে (India Chile Trade Deal)। এই প্রেক্ষাপটে ভারত একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেও চিলির সঙ্গে আলোচনা প্রায় দু’দশক আগে শুরু হয়। ২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের আলোচনা শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে একটি প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হলেও তা পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে পরিণত হয়নি। বর্তমানে যে আলোচনা চলছে, তাতে একাধিক খাতে সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোনো হচ্ছে। উভয় দেশ ডিজিটাল পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (India) (MSME) খাতে অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

    পীযূষ গোয়েলের ইঙ্গিত

    কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চিলির সঙ্গে একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারত-চিলি বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে (India Chile FTA)। এর মধ্যে ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ১.১৫ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল ২.৬০ বিলিয়ন ডলার। ভারত প্রধানত যানবাহন, ওষুধ, রাসায়নিক পণ্য, ইস্পাতজাত সামগ্রী, বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, রাবার এবং জুতো রফতানি করে। অন্যদিকে চিলি তামা, আয়োডিন, আখরোট, কিউই এবং আপেলের মতো পণ্য সরবরাহ করে, যা ভারতের শিল্প কাঁচামাল ও কৃষিপণ্যের সরবরাহকে শক্তিশালী করে। ভারতীয় কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই উদীয়মান এই অংশীদারিত্বের সুফল নিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে শুরু করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কোল ইন্ডিয়া সম্প্রতি চিলিতে একটি পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা বিরল মৃত্তিকা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গবেষণা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই পদক্ষেপ ভারতের বিদেশে সরাসরি  খনিজ সম্পদ সুরক্ষিত করার কৌশলগত অভিপ্রায়কে নির্দেশ করে। বেসরকারি খাতও এ ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখাচ্ছে (India Chile Trade Deal)। আদানি গ্রুপ-সহ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী বিশেষ করে খনি ও পরিকাঠামো খাতে চিলিতে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখছে।

    আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন প্রস্তাবিত ভারত–চিলি চুক্তিকে (India Chile Trade Deal) একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে, সীমিত উৎসের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উন্নত (India Chile FTA) উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করতে পারে (India)।

  • Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    Epilepsy in West Bengal: রাজ্যে বাড়ছে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা! কোন বয়সে বাড়তি বিপদ? কী এর সমাধান?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রাজ্যে বাড়ছে এপিলেপসি (Epilepsy in West Bengal) বা মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। গোটা দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি এবং নানান জটিলতা তৈরি করে। তাই প্রথম থেকেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ জরুরি (Epilepsy Symptoms Prevention) বলেই মত চিকিৎসক মহলের।

    দেশের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা কত?

    সর্বভারতীয় এক সমীক্ষায় সম্প্রতি জানা গিয়েছে, গোটা ভারতেই এপিলেপসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সঙ্কট। ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে প্রতি ১০০০ জনে মৃগী রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ জন। শহরে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। প্রতি ১০০০ জনে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ জন। পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় ১০০০ জনে এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) সংখ্যা ১৫ জন। পুরুষদের মধ্যে সেই সংখ্যা অনেকটাই বেশি। ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ পুরুষদের ১০০০ জনের মধ্যে ৩৭ জন এপিলেপসিতে আক্রান্ত হন। কলকাতা সহ বড় শহরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    কেন রাজ্যে এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ স্ট্রোক এবং ডিমেনশিয়ার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের একটি বড় অংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। যারা জীবনের কোনও একটা সময় স্নায়বিক সমস্যায় ভুগেছেন। আবার অনেকের স্ট্রোক হয়েছে কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো জটিল সমস্যা রয়েছে। তাই এপিলেপসির (Epilepsy in West Bengal) মতো সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে স্ট্রোকের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিমেনশিয়ার মতো সমস্যাও বাড়ছে। তাই এপিলেপসির মতো জটিলতায় আরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।

    কোন বয়সে এপিলেপসি হওয়ার ঝুঁকি থাকে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার সীমারেখা টানতে পারে না। শিশুর জন্মের পরে প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এই রোগ দেখা দিতে পারে। আবার সম্পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ পঞ্চাশ কিংবা পঞ্চান্ন বছর বয়সে নতুন ভাবে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হলে বছর বারো বয়সের পরে রোগের প্রকোপ অনেকখানি কমে। শিশুদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। তুলনায় বয়স্কদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। ৫০ কিংবা ৬০ বছর বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগ নিয়ন্ত্রণ তুলনায় জটিল হয়ে ওঠে।

    কেন হয় এপিলেপসি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য একধরনের শক্তি তৈরি হয়। যা শরীরের জন্য অতিরিক্ত। আর তার ফলেই খিঁচুনির মতো রোগ দেখা যায়। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এপিলেপসি বলা হয়।
    শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন মস্তিষ্কে ঠিকমতো অক্সিজেন না পৌঁছলে জন্মের পরেই শিশু এপিলেপসি আক্রান্ত (Epilepsy in West Bengal) হতে পারে। এছাড়াও ১-২ বছর বয়সে কোনও জটিল ভাইরাস ঘটিত অসুখ, মেনিনজাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হলে শিশুর এপিলেপসি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এপিলেসসি আক্রান্ত হওয়ার একাধিক কারণ থাকতে পারে। মূলত স্ট্রোকের কারণেই বয়স্কেরা এই রোগে আক্রান্ত হন। এছাড়া, কোনও ধরনের দূর্ঘটনার ফলেও এই রোগ হতে পারে। পথ দূর্ঘটনা কিংবা অত্যন্ত গভীর মানসিক চাপের জেরে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে অস্বাভাবিক ক্রিয়া তৈরি হতে পারে। তার ফলে এপিলেপসি হতে পারে। আবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়ে। তার জেরেও এপিলেপসি হতে পারে।

    ঘুমের মধ্যেই কি রয়েছে সুস্থ থাকার দাওয়াই?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এপিলেপসি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়। তবে এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ (Epilepsy Symptoms Prevention) সম্ভব। ঘন ঘন খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো শরীরের জন্য বিপজ্জনক। তাতে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের সুস্থ থাকা জরুরি। কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এপিলেপসি আক্রান্তের স্নায়ুর বিশ্রাম সবচেয়ে জরুরি। তাই পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্তের নিয়মিত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তাতে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাবে। স্নায়ু অস্বাভাবিক অতিরিক্ত সক্রিয় হবে না। মানসিক চাপ তৈরি হয়, এমন কাজ কখনোই করা উচিত নয়। এপিলেপসি আক্রান্তের পাশপাশি তার পরিবারকেও এদিকে নজর দিতে হবে বলে জানাচ্ছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, মানসিক চাপ স্নায়ুর উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তাই এপিলেপসি আক্রান্তের (Epilepsy in West Bengal) আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তাঁদের মানসিক চাপ দেওয়া চলবে না। এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে হবে। খাবারে যাতে অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং তেল মশলা না থাকে সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এগুলো পর্যাপ্ত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। প্রয়োজনে নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ এতে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। কিন্তু স্নায়ু্র কাজ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া চিকিৎস যদি ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন, তাহলে নিয়ম মেনে সেই ওষুধ খেতে হবে বলেও পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ মহল।

  • Heart Health in Spring: বসন্তে কি বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি? কেন বাড়তি খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Heart Health in Spring: বসন্তে কি বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি? কেন বাড়তি খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শীত আর বেশি দিন নেই। পলাশ ফুল জানান দিচ্ছে বসন্ত প্রায় দোড়গোড়ায়। বছরের এই সময়ে প্রকৃতি নানান রঙে সেজে ওঠে। শীতের আমেজ সরে গিয়ে, গরমের আভাস দেয় বসন্ত! তবে কবির লেখায় বসন্ত নিয়ে নানান রঙিন শব্দ চয়ন থাকলেও বসন্ত কিন্তু বিপজ্জনক! অন্তত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বসন্তে শরীরের দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। না হলেই বড় বিপদ হতে পারে। বিশেষত হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয় বসন্ত।

    বসন্তে কেন বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা কমে। আর বসন্ত এলেই হঠাৎ করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী হয়। আর আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে রক্তচাপে। শরীরের রক্তচাপ হঠাৎ করেই ওঠানামা করতে থাকে। পেশির সংকোচন ও প্রসারণের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। আর তার জেরেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। রক্তচাপ ঘন ঘন ওঠানামা করলে কিংবা পেশি সংকোচন-প্রসারন ঠিকমতো না হলে হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতার উপরেও প্রভাব পড়ে। তার ফলেই হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কাও বাড়ে। তাই বসন্ত ঋতুতে হৃদপিণ্ডের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

    কাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে ভারতে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বয়স আর সীমারেখা মানছে না। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে। তাই বয়স নয়, শরীর কেমন আছে, সেদিকে সকলের খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষত পুরুষদের এই বিষয়ে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। কারণ এ দেশে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, মহিলাদের তুলনায় ছেলেরাই হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হন। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে রক্তচাপ স্বাভাবিক কিনা, তা যাচাই করা জরুরি। বয়স কুড়ি হোক বা পঞ্চাশ, বছরের এই সময়ে অন্তত পনেরো দিন অন্তর রক্তচাপ যাচাই জরুরি। রক্তচাপ ঘন ঘন ওঠানামা করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

    খাদ্যাভ্যাসে বাড়তি নজর থাকুক

    বসন্তে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই খাবারে বাড়তি নজরদারি জরুরি। এই সময়ে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভোগেন। হজমের সমস্যা রক্তচাপকেও বাড়িয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই সময়ে কম তেল মশলা জাতীয় হালকা খাবার খাওয়া উচিত। যাতে সহজেই হজম হয়। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, বাদাম জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। এতে পেশির সংকোচন প্রসারণ ঠিকমতো হয়। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা ঠিক হয়। তাছাড়া নিয়মিত সব্জি খাওয়া জরুরি। সবুজ সব্জি একদিকে হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আবার পালং শাক, পটল, ঝিঙের মতো ভিটামিন ও খনিজ সম্পদ ভরপুর সব্জি হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাই যাদের কোলেস্টেরল বেশি, এই সময়ে তাঁদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। দেহের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। স্নায়ু ও পেশির সক্রিয়তা বজায় রাখে। এর ফলে হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা ঠিক থাকে। তাই হৃদরোগ এড়াতে যোগাভ্যাস জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • India Rafale Jet Deal: ১১৪টি রাফাল কেনার চুক্তিতে সবুজ সংকেত ডিএসি-র, ৯০টি তৈরি হবে ভারতেই, আগেই জানিয়েছিল মাধ্যম

    India Rafale Jet Deal: ১১৪টি রাফাল কেনার চুক্তিতে সবুজ সংকেত ডিএসি-র, ৯০টি তৈরি হবে ভারতেই, আগেই জানিয়েছিল মাধ্যম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্ভাবনা ছিল। ছিল প্রত্যাশাও। দিল্লির আকাশে-বাতাসে খবর ভেসে বেড়াচ্ছিল যে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের আগেই ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছাড়পত্র মিলতে পারে। সেই মতোই, বৃহস্পতিবার এই প্রস্তাবে অনুমতি দিয়ে দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ বা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)। চলতি সপ্তাহেই যে ছাড়পত্র মিলতে পারে, সেই খবর মঙ্গলবারেই জানিয়েছিল মাধ্যম। একইসঙ্গে, ডিএসি-র বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি অতিরিক্ত পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি ও সাবমেরিন-বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা এবং এয়ার-শিপ বেসড হাই-অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (AS-HAPS) প্ল্যাটফর্ম কেনার ক্ষেত্রেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ডিএসি বৈঠকে।

    ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি’ প্রদান

    জানা যাচ্ছে, বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি আন্তঃসরকারি সমঝোতা (Inter-Governmental Agreement) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের সরকারি সফরের ঠিক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (MoD) এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রায় ৩.৬০ লক্ষ কোটি টাকার একাধিক প্রতিরক্ষা প্রকল্পের জন্য কাউন্সিল ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি’ (AoN) প্রদান করেছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ২৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান সরাসরি ফ্লাইঅ্যাওয়ে কন্ডিশনে ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের কারখানা থেকে উড়িয়ে আনা হবে। বাকি ৯০টি বিমান দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা হবে।

    অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পূর্ণ স্বাধীনতা

    বাণিজ্যিক আলোচনার পর দেশীয় উপাদানের হার প্রায় ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগে ৩০ শতাংশ নির্ধারণের কথা ছিল। এছাড়া, রাফাল বিমানে ভারতের নিজস্বভাবে তৈরি অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখবে ভারত। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। সেখানে সবুজ সঙ্কেত মিললেই কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ নেবে। শুরু হবে দুপক্ষের দর-কষাকষি ও টেকনিক্যাল বিষয়ক আলোচনা।

    রাফালের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৫টি

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে ৩৫টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় নৌসেনা বিমানবাহী রণতরীতে ব্যবহারের জন্য ২৬টি রাফাল-এম (Rafale-M) যুদ্ধবিমান অর্ডার করেছে। নতুন এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারতের মোট রাফাল বিমানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৫টি। এতে অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • India UNSC Bid: চিনের অবস্থান বদল! রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে ‘বোঝে ও সম্মান করে’, জানাল বেজিং

    India UNSC Bid: চিনের অবস্থান বদল! রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে ‘বোঝে ও সম্মান করে’, জানাল বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের ইচ্ছাকে “বোঝে ও সম্মান করে” চিন। ভারত সফরে এসে এমনটাই জানালেন চিনের উপ-বিদেশমন্ত্রী। বেজিংয়ের এই মন্তব্য চাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে যে, চিনের বিরোধিতামূলক অবস্থানের কারণেই ভারত এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতে পারেনি। সেখান থেকে চিনের এই মন্তব্য তাদের তরফে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।

    চিন-বৈঠক নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি…

    আগামী ব্রিকস সম্মেলন ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগে, ৮ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে বসেছিল ব্রিকস দেশগুলির শেরপা-বৈঠক। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন চিনের এক্সিকিউটিভ ভাইস ফরেন মিনিস্টার (EVFM) মা ঝাওশু। ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রির সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন ঝাওশু। সেখানেই তিনি সফল ব্রিকস সম্মেলন আয়োজনের জন্য ভারতকে শুভকামনা প্রদান করেন এবং সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তার সঙ্গেই জানান, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লির ইচ্ছাকে বেজিং বোঝে ও সম্মান করে। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারতে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন যাতে সাফল্যের সঙ্গে আয়োজন করা যায়, তার জন্য চিনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উপ-বিদেশমন্ত্রীমা ঝাওশু জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদের ক্ষেত্রে ভারতের ইচ্ছাকে বোঝে ও সম্মান করে চিন।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ চিনের এই অবস্থান পরিবর্তন?

    ২০২২ সালে ভারত যখন রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল, তখন পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র চিনই ভারতের প্রার্থিতাকে সমর্থন করেনি। ওই বছর ২২ জুলাই লোকসভায় দেওয়া এক উত্তরে তৎকালীন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি মুরালিধরণ জানান, চারটি স্থায়ী সদস্য দেশ ভারতের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫ জন সদস্য থাকে। এর মধ্যে পাঁচজন স্থায়ী ও ১০ জন অস্থায়ী সদস্য। স্থায়ী সদস্য দেশগুলি হল চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন ও আমেরিকা। এই পাঁচ দেশের প্রত্যেকেরই ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।

    ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়া ভারতের প্রার্থিপদের প্রতি সমর্থন জানায়। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে ফ্রান্স ও ব্রিটেনও সমর্থনের কথা ঘোষণা করে। ভারতের পাশাপাশি ব্রাজিল, জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকাও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য শীর্ষ দাবিদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে।

    ‘‘ভারতের  স্থায়ী আসন পাওয়া উচিত’’

    ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারতের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে জানান, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের পক্ষে সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে এবং এই অর্জন “অপরিহার্য”। তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে একটি অনুভূতি তৈরি হয়েছে যে বর্তমান কাঠামো বদলানো দরকার এবং ভারতের একটি স্থায়ী আসন পাওয়া উচিত। প্রতি বছর এই অনুভূতি আরও জোরদার হচ্ছে। তবে বড় কিছু অর্জন কখনই কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সম্ভব নয়।”

    ভারত-চিন কৌশলগত আলোচনা

    • ● ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভারত-চিন কৌশলগত আলোচনায় উভয় দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।
    • ● বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশ মতবিনিময় করেছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্থিতিশীল করা এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ খোঁজা।
    • ● দু’পক্ষই তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং বিশেষ করে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে।
    • ● কৈলাস মানসরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এর আরও সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেন বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি।
    • ● ভারত ও চিন একটি উড়ান পরিষেবা চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়।
    • ● চলতি বছরে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রেক্ষাপটে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
LinkedIn
Share