Tag: বাংলা খবর

  • Jairam Ramesh: “সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন”, কংগ্রেস-তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের খবর উড়িয়ে দিলেন জয়রাম রমেশ

    Jairam Ramesh: “সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন”, কংগ্রেস-তৃণমূলের সংযুক্তিকরণের খবর উড়িয়ে দিলেন জয়রাম রমেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সংসদীয় দলের (সিপিপি) চেয়ারম্যান সোনিয়া গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, দুই দলের (TMC-Congress) সংযুক্তিকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেই জল্পনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের খবর “সম্পূর্ণ ভুল ও অসত্য”।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুল (Jairam Ramesh)

    জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) বলেন, সোনিয়া গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যের বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত “আন্তরিক ও সৌজন্যমূলক”। দুই নেত্রীর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কারণে সেখানে মূলত ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে জয়রাম রমেশ লিখেছেন, “সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (TMC-Congress) বৈঠকে কী ঘটেছে তা নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভুল। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ছিল এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।” নয়াদিল্লিতে সোনিয়া-মমতার এই বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের একাংশে কংগ্রেস ও তৃণমূলের রাজনৈতিক সংযুক্তিকরণের সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতেই কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতার কাছ থেকে এই স্পষ্টীকরণ এলো।

    অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র

    অন্যদিকে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র রূপ নিয়েছে। দফায় দফায় ইস্তফা এবং বিদ্রোহী নেতাদের মন্তব্যের জেরে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। এরই মধ্যে তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের (TMC-Congress) সঙ্গে কোনও ধরনের সংযুক্তিকরণের জল্পনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যা ঘটছে তা সম্পূর্ণই দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তৃণমূল ব্লকের পক্ষে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বর্তমানে আমাদের সঙ্গে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এঁরা সবাই এসে বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেবেন।” তিনি আরও জানান, তাঁদের পক্ষে বিধায়কদের সমর্থন ৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪ হয়েছে এবং তাঁরা শীঘ্রই নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হবেন। ফলে এই সময়ে জয়রামের মন্তব্য মমতার জন্য কতটা সুবিধা জনক হবে তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা।

    কোনও প্রশ্নই ওঠে না

    শুধু তাই নয়, দলের সংযুক্তিকরণের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কংগ্রেসে (TMC-Congress) যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের সংসদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদও কংগ্রেসে মিশে যাচ্ছেন না।” ঋতব্রত জোর দিয়ে বলেন, দলের কোনও অংশ—তা সে সাংসদ, পুরপ্রতিনিধি, জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত সদস্য হোক না কেন, কেউই কোনও সংযুক্তিকরণের দিকে হাঁটছেন না। তবে এই ঘটনায় তৃণমূল এবং কংগ্রেস দুই দল চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বৈঠকের পরদিন সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও ‘এক্স’-এ পোস্ট করে দুই নেত্রীর মধ্যকার আন্তরিকতার কথা জানানো হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যেদিন দুই নেত্রীর এই বৈঠক হয়, সেদিনই জালিয়াতি সই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে কলকাতার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছায় সিআইডি (CID)-র একটি দল। রাজ্য রাজনীতির আঙ্গিনায় এখন ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।

  • Firhad Hakim: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

    Firhad Hakim: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিরুদ্ধে চেতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (FIR) দায়ের করা হয়েছে। কলকাতার এক বিজেপি কর্মী এই অভিযোগ দায়ের করে মেয়রের অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

    ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের ভিত্তি (Firhad Hakim)

    অভিযোগকারী বিজেপি কর্মীর দাবি, একটি ধর্মীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় কলকাতার মেয়র এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যা কলকাতার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারত এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে।

    আইনি পদক্ষেপের দাবি

    অভিযোগকারীর মতে, একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত অনভিপ্রেত। তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারা অনুযায়ী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানানো হয়েছে।

    বিজেপির অবস্থান

    রাজ্য বিজেপির একাংশের পক্ষ থেকে ববির দাওয়াতে ইসলাম মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই বারংবার এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কলকাতার সামাজিক সম্প্রীতির পরিপন্থী।

    অভিযোগ নেয়নি এই থানা

    যে বিজেপি কর্মী ববির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি বলেন, “তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর সন্দেশখালিতে তৃণমূলের একটি সভায় মহিলাদের মাল বলে সম্বোধন করেন। এবং প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করেন ও ব্যঙ্গাত্মক কথা বলেন। সেই ভিডিয়ো আমাদের কাছে রয়েছে। এই থানাতেই ওইদিন অভিযোগ জানাতে এসেছিলাম। কিন্তু, সেইসময় ফিরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেয়নি এই থানাই। আজ তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রাক্তন মেয়র ও প্রাক্তন পুরমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলাম। আবার ২০২৪ সালের ৩ জুলাই একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কথা বলেছিলেন ফিরহাদ। তখন তিনি পুরমন্ত্রী। সেইসময় এই থানাতে আমরা এসেছিলেন। তখনও অভিযোগ নেয়নি। এদিন অভিযোগ নিয়েছে। ধর্মীয় বিভাজন ও উস্কানিমূলক কথাবার্তার জন্য আমি তাঁর গ্রেফতারির দাবি জানাই।”

    নবান্ন ও তৃণমূল শিবিরের প্রতিক্রিয়া

    এই অভিযোগ এবং চেতলা থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের হওয়া প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে শাসক শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, মেয়রের (Firhad Hakim) বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বিষয়টিকে রাজনৈতিক মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশ সূত্রের খবর, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • Weather Update: স্বস্তির বৃষ্টি কলকাতায়, দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা ও ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    Weather Update: স্বস্তির বৃষ্টি কলকাতায়, দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় কালবৈশাখীর সতর্কতা ও ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক দিনের তীব্র ও দমবন্ধ করা গরমের (Weather Update) পর অবশেষে স্বস্তির দেখা মিলল। বুধবার বিকেলে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে আকাশ কালো করে ধেয়ে এল কালবৈশাখী ঝড় ও ঝেঁপে বৃষ্টি। বিকেলেই যেন রাতের অন্ধকার নেমে আসে শহর জুড়ে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে এই ঝড়-বৃষ্টির (Rain Forecast) দাপট বজায় থাকবে, যার ফলে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা কমতে পারে।

    জেলাভিত্তিক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস (Weather Update)

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের (Weather Update) বুধবারের সতর্কতা অনুসারে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি বেগে ঝড় উঠেছে। দক্ষিণবঙ্গের ৭টি জেলায় আজ কালবৈশাখীর তীব্র সতর্কতা রয়েছে। জেলাগুলো হলো – কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি।

    বৃহস্পতিবারের সতর্কতা

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঝড়-বৃষ্টির (Weather Update) দাপট বাড়বে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে। বিশেষ করে দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর এবং হুগলিতে ঝোড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁকুড়া ও বর্ধমানের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিও (Rain Forecast) হতে পারে।

    রবিবার পর্যন্ত পূর্বাভাস

    আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি (Rain Forecast)  এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়ার মূল বার্তা

    আগামী রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি চলবে। বিশেষ করে বাঁকুড়া ও বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির (Rain Forecast) সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যে বর্ষা আনুষ্ঠানিক ভাবেই ঢুকে গিয়েছে। ফলে সেখানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে জলপাইগু়ড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতে বৃষ্টি হতে পারে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার ছাড়াও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে। অন্য দিকে, দক্ষিণবঙ্গে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে বর্ষা প্রবেশ করে। এ বার কবে দক্ষিণে আনুষ্ঠানিক ভাবে বর্ষা ঢুকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর গতিবিধির দিকে আবহাওয়া দফতর নজর রেখেছে।

  • Swapan Samaddar: ১, ২, ৩… ১০! এবার গ্রেফতার কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার, নাম জড়িয়েছিল ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিজেপি কর্মী খুনের মামলায়

    Swapan Samaddar: ১, ২, ৩… ১০! এবার গ্রেফতার কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার, নাম জড়িয়েছিল ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিজেপি কর্মী খুনের মামলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভার আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলরকে (TMC Councillor) গ্রেফতার করল পুলিশ। ২০২১ সালের বহুল চর্চিত বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনা এবং এক মহিলার দায়ের করা সাম্প্রতিক অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকালে কলকাতা পুরসভার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারকে (Swapan Samaddar) গ্রেফতার করা হয়েছে। ফুলবাগান এলাকার নিজস্ব বাসভবন চত্বর থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। এই নিয়ে কলকাতা পুরসভার ১০ জন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হল।

    ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের ভিত্তি (Swapan Samaddar)

    পুলিশ সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ রাতে এক মহিলা নারকেলডাঙা থানায় স্বপন সমাদ্দারের (Swapan Samaddar) বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে বুধবার সকালে পুলিশ একটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) রুজু করে দ্রুত অভিযানে নামে। ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলরের (TMC Councillor) বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, হেনস্থা, শ্লীলতাহানি এবং হুমকি বা ভয় দেখানোর মতো একাধিক গুরুতর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সিবিআই তদন্তের যোগসূত্র

    ২০২১ সালের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার রাতে পূর্ব কলকাতার কাঁকুড়গাছি এলাকায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও গলার তার পেঁচিয়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

    সিবিআই চার্জশিট

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পরবর্তী সময়ে এই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘সিবিআই’ (CBI)-এর হাতে যায়। সিবিআই আদালতে যে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দিয়েছিল, তাতে বেলেঘাটার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের পাশাপাশি স্বপন সমাদ্দারের নামও (TMC Councillor) অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল।

    কাঁকুড়গাছি এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা

    পূর্ববর্তী সেই আইনি টানাপড়েনের মধ্যেই নতুন করে এক মহিলার দায়ের করা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে আজ নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাঁকে (Swapan Samaddar) নিজেদের হেফাজতে নেয়। কাউন্সিলর (TMC Councillor) গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলেঘাটা, ফুলবাগান এবং কাঁকুড়গাছি এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • Aeps Scam: ওটিপি বা পিন ছাড়াই ফাঁকা হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! জেনে নিন সাইবার অপরাধীদের নতুন হাতিয়ার ‘এইপিএস স্ক্যাম’ সম্পর্কে

    Aeps Scam: ওটিপি বা পিন ছাড়াই ফাঁকা হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! জেনে নিন সাইবার অপরাধীদের নতুন হাতিয়ার ‘এইপিএস স্ক্যাম’ সম্পর্কে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল লেনদেনের যুগে আর্থিক প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে সাইবার অপরাধীরা। এতদিন পর্যন্ত ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ফোনে ওটিপি (OTP) পাঠানো বা ইউপিআই পিন (UPI PIN) হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যেতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এমন এক মারাত্মক প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে কোনও ওটিপি বা গোপন পিন ছাড়াই গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত অর্থ উধাও হয়ে যাচ্ছে। এই নতুন প্রতারণাচক্রের নাম এইপিএস স্ক্যাম’  (Aeps Scam) বা আধার এনাবল্ড পেমেন্ট সিস্টেম জালিয়াতি ।

    আধার এনাবল্ড পেমেন্ট সিস্টেম কী (Aeps Scam)?

    আধার এনাবল্ড পেমেন্ট সিস্টেম (Aeps Scam) হলো ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCI) দ্বারা প্রবর্তিত একটি বিশেষ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোনও গ্রাহক ডেবিট কার্ড বা পিন ছাড়াই শুধুমাত্র নিজের আধার নম্বর এবং আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে মাইক্রো-এটিএম বা বিজনেস করেসপন্ডেন্টের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে বা জমা করতে পারেন। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পৌঁছে দিতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত জনপ্রিয় (UPI PIN)।

    ওটিপি ছাড়া কীভাবে টাকা চুরি করছে জালিয়াতরা?

    সাইবার অপরাধীরা (Aeps Scam) এই ব্যবস্থার একটি বিশেষ ফাঁক বা লুপহোলকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টকে নজরে রাখছে। কীভাবে চলে চোরাকারবার? এর কার্যপদ্ধতি কেমন আসুন একবার দেখে নিই-

    • আঙুলের ছাপ চুরি (Biometric Cloning): জালিয়াতরা বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি পোর্টাল, রেজিস্ট্রি অফিস বা ল্যান্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইট থেকে সাধারণ মানুষের আধার নম্বর এবং আঙুলের ছাপের প্রতিলিপি সংগ্রহ করে।
    • সিলিকন থাম্ব ইমপ্রেশন: সংগৃহীত আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে অপরাধীরা কৃত্রিম সিলিকন বুড়ো আঙুল বা ‘সিলিকন থাম্ব ক্লোন’ তৈরি করে।
    • টাকা তুলে নেওয়া: এই ক্লোন করা আঙুলের ছাপ এবং আধার নম্বর ব্যবহার করে এইপিএস (Aeps Scam) পয়েন্ট থেকে গ্রাহকের অজান্তেই টাকা তুলে নেওয়া হয়। যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় কোনও ওটিপি বা পিনের প্রয়োজন হয় না, তাই গ্রাহক কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতারণা সম্পন্ন হয়ে যায়।

    এই জালিয়াতি থেকে বাঁচার উপায় কী?

    সাইবার বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের অদৃশ্য চুরি থেকে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। এগুলি হল-

    আধার বায়োমেট্রিক লক করুন (Lock Aadhaar Biometrics)

    এটি এই জালিয়াতি রুখবার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ‘mAadhaar’ অ্যাপ অথবা ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (UIDAI)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে গ্রাহকরা সাময়িকভাবে নিজেদের বায়োমেট্রিক ডেটা লক করে রাখতে পারেন। এর ফলে আপনার আঙুলের ছাপ চুরি হলেও কেউ টাকা তুলতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেনের সময় তা আবার আনলক করা যায়।

    এসএমএস অ্যালার্ট সচল রাখা

    ব্যাঙ্কের প্রতিটি লেনদেনের মেসেজ যাতে ফোনে আসে, তা নিশ্চিত করুন। অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটার কোনও বার্তা পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

    সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করা

    কোনও অচেনা উৎস থেকে আসা লিঙ্ক বা সরকারি সহায়তার প্রলোভন দেখানো পোর্টালে নিজের আধার সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

  • Mangroves: ম্যানগ্রোভ নিধন, নদীচর দখল করে অবৈধ কলোনি! ক্যানিংয়ে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির হদিস, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    Mangroves: ম্যানগ্রোভ নিধন, নদীচর দখল করে অবৈধ কলোনি! ক্যানিংয়ে কোটি কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির হদিস, কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুন্দরবনের ‘প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ’ হিসেবে পরিচিত ম্যানগ্রোভ (Mangroves) অরণ্য ধ্বংস এবং নদীর চর বেআইনিভাবে ভরাট করে কোটি কোটি টাকার ভূমি কেলেঙ্কারির এক মারাত্মক অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং (Canning) থানা এলাকার মাতলা সেতুর সন্নিকটে এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের সন্ধান মিলেছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    ঘটনা ও অভিযোগের বিবরণ (Mangroves)

    স্থানীয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী জানা গিয়েছে, ক্যানিংয়ের (Canning) মাতলা ব্রিজে যাওয়ার পথের ডান দিকে অবস্থিত একটি বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ (Mangroves) জঙ্গল সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর নদীর চরটি বেআইনিভাবে মাটি ও বালি দিয়ে ভরাট করে সেখানে একটি বিশাল আবাসিক কলোনি বা জনবসতি গড়ে তোলা হয়েছে।

    • নতুন জনবসতি: পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে গড়ে ওঠা এই নতুন কলোনিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেতাজি পল্লি’। বর্তমানে এখানে কয়েকশো পরিবার বসবাস করছেন।
    • দলিলের নামে জালিয়াতি: অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনও বৈধ সরকারি নথি বা সরকারি ভূমি রাজস্ব দপ্তরের দলিল ব্যবহার করা হয়নি। পরিবর্তে ‘প্রান্তিক সঙ্ঘ’ নামের একটি স্থানীয় ক্লাবের লেটারহেড বা প্যাডকে ‘দলিল’ হিসেবে ক্রেতাদের দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জালিয়াতির শামিল।

    প্রভাবশালীদের যোগসূত্র ও কোটি টাকার লেনদেন

    স্থানীয় (Canning) বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য (Mangroves) ধ্বংস করে নদীর জমি বিক্রি করার নেপথ্যে এলাকার একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জড়িত রয়েছেন। সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ফুসফুস বলে পরিচিত এই ম্যানগ্রোভ অরণ্য কেটে এভাবে জমি মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। মানবিকতার দোহাই দিয়ে এবং গৃহহীনদের পুনর্বাসনের আড়ালে মূলত একটি পরিকল্পিত ভূসম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেট চক্র চালানো হচ্ছিল।

    বেআইনি মেছো ভেড়িতে রূপান্তর

    ক্যানিং এবং সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলে কীভাবে নদীখাত ও ম্যানগ্রোভের (Mangroves) জমি বেআইনি মেছো ভেড়িতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, তার বাস্তব চিত্র নিয়ে পরিবেশবিদরা এখন ভীষণ ভাবে চিন্তিত। রাজনৈতিক স্বার্থ এবং আর্থিক দুর্নীতি জনজীবন এখন বিপন্ন হওয়ার মুখে। এই সুনির্দিষ্ট আর্থিক দুর্নীতি এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শাসক দল বিগত সরকারের তৃণমূল নেতাদেরদিকেই আঙুল তুলেছে। তবে তৃণমূলের তরফে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্য পরিবেশ দফতর এবং জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা, এখন সেটাই দেখার।

  • Suvendu Adhikari Cabinet: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দফতর? চমকে দেওয়া দায়িত্ব বণ্টনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ

    Suvendu Adhikari Cabinet: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন দফতর? চমকে দেওয়া দায়িত্ব বণ্টনের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় আরও পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নেন। এরপর ১ জুন দ্বিতীয় দফায় শপথ গ্রহণ করেন রাজ্যের আরও ৩৫ জন মন্ত্রী। এই ৩৫ জনের মধ্যে— ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এবার হয়ে গেল তাঁদের দফতর বণ্টন।

    উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বিশেষ গুরুত্ব

    নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১০ জন মন্ত্রী স্থান পেয়েছেন রাজ্য মন্ত্রিসভায়। একই সঙ্গে জঙ্গলমহল অঞ্চলকেও উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজ জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও চার জন মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ৭ জন মহিলা মুখ।

    দিল্লিতে বৈঠকের পর চূড়ান্ত দফতর বণ্টন

    দফতর বণ্টনের আগে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের পরই মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়। বুধবার নবান্ন থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের কাছেই রাখলেন শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিজের অধীনেই রেখেছেন। তাঁর হাতে থাকা দফতরগুলি হল—

    • ● স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক
    • ● তথ্য ও সংস্কৃতি
    • ● বিদ্যুৎ
    • ● ভূমি ও ভূমি সংস্কার
    • ● উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন

    শুভেন্দুর সরকারের নতুন টিমে কোন মন্ত্রী কোন দফতরের দায়িত্ব পেলেন

    পূর্ণ মন্ত্রী

    • ● দীপক বর্মন – স্কুলশিক্ষা এবং আবাসন দফতর এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতর
    • ● তাপস রায়- শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ
    • ● শঙ্কর ঘোষ- পর্যটন, সংসদীয় বিষয়ক
    • ● মনোজ কুমার ওঁরাও- বন ও পরিবেশ
    • ● অর্জুন সিংহ- পরিবহণ এবং শ্রম
    • ● গৌরী শঙ্কর ঘোষ-গণশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ
    • ● জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়- উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
    • ● স্বপন দাশগুপ্ত- অর্থ
    • ● শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-স্বাস্থ্য
    • ● কল্যাণ চক্রবর্তী- তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন
    • ● অরূপ কুমার দাস- সেচ ও জলপথ
    • ● অজয় কুমার পোদ্দার-পূর্ত এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি
    • ● দুধকুমার মণ্ডল- কৃষি
    • ● নিশীথ প্রামাণিক- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন
    • ● অশোক কীর্তনীয়া- খাদ্য সরবরাহ, সমবায়
    • ● ক্ষুদিরাম টুডু- অনগ্রসর, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা
    • ● দিলীপ ঘোষ- পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন
    • ● অগ্নিমিত্রা পাল- পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর

    স্বাধীন দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী

    • ● মালতি রাভা রায়- নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও কর্মসংস্থান এবং পরিসংখ্যান দফতর
    • ● রাজেশ মাহাতো- প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও মৎস্য দফতর
    • ● ইন্দ্রনীল খাঁ- ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ এবং ক্রেতা সুরক্ষা দফতর

    প্রতিমন্ত্রী

    • ● জোয়েল মুর্মু- আদিবাসী উন্নয়ন এবং সেচ ও জলপথ
    • ● হরেকৃষ্ণ বেরা- উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
    • ● আনন্দময় বর্মন- অর্থ
    • ● অশোক দিন্দা- কৃষি বিপণন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র
    • ● নাদিয়ার চাঁদ বাউরি- পূর্ত এবং অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ
    • ● বিশাল লামা- মাদ্রাসা শিক্ষা
    • ● শান্তনু প্রামাণিক- পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, খাদ্য ও সরবরাহ
    • ● মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র- শিল্প, বাণিজ্য ও উদ্যোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি
    • ● উমেশ রাই- নগর উন্নয়ন ও পুর বিষয়ক, সংসদীয় বিষয়ক
    • ● পূর্ণিমা চক্রবর্তী- পর্যটন
    • ● কৌশিক চৌধুরী- শিক্ষা এবং অগ্নিনির্বাপন ও জরুরি পরিষেবা
    • ● ভাস্কর ভট্টাচার্য- শ্রম এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি
    • ● দিবাকর ঘরামি- সমবায়, বন ও পরিবেশ
    • ● অমিয় কিস্কু- কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন
    • ● কলিতা মাজি- আবাসন
    • ● গার্গী দাস ঘোষ- বিদ্যুৎ, অপ্রচলিত এবং পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি
    • ● বিরাজ বিশ্বাস- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং আইন ও বিচার
    • ● দীপঙ্কর জানা- সুন্দরবন বিষয়ক
    • ● সুমনা সরকার- স্বাস্থ্য
  • CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    CBI: বাংলায় সিবিআই-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ ফিরিয়ে আনল শুভেন্দু সরকার, ৮ বছর পর অবসান মমতার জমানার নিষেধাজ্ঞার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকড় উপড়ে ফেলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এক বড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। দীর্ঘ ৮ বছর আগে তৃণমূল জমানায় প্রত্যাহার করে নেওয়া সিবিআই (CBI)-এর ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বা সাধারণ সম্মতি পুনরায় বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। এর ফলে রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক মামলার তদন্তের গতি কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে ১৯৪৬ সালের ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ (DSPE) আইনের ৬ নম্বর ধারার অধীনে সিবিআই-কে পুনরায় সাধারণ সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

    সাধারণ সম্মতি বা ‘জেনারেল কনসেন্ট’ বিষয়টি আসলে কী (CBI)?

    সিবিআই মূলত ‘দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাব্লিশমেন্ট’ আইনের অধীনে কা জ করে। যেহেতু পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের আওতাভুক্ত বিষয়, তাই কোনও রাজ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে সিবিআই-এর (CBI) জন্য রাজ্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হয়। প্রশাসনিক কাজ সহজ করতে রাজ্যগুলো সাধারণত তদন্ত সংস্থাকে একটি ‘ব্লাঙ্কেট পারমিশন’ বা সাধারণ সম্মতি দিয়ে রাখে। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সম্মতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ফলে গত কয়েক বছরে নতুন কোনও মামলার তদন্ত শুরু করার আগে সিবিআই-কে প্রতিবার রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হতো অথবা আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো। এবার থাকে এই নিয়মের বড় পরিবর্তন সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সিবিআই পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও প্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (CPSU) এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও পূর্ব অনুমতি ছাড়াই সরাসরি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিশেষ শর্তও রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা (CBI) সাধারণ সম্মতি ফিরে পেলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে কর্মরত রাজ্য সরকারি আধিকারিক বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের ক্ষেত্রে এখনও রাজ্য সরকারের লিখিত আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে।

    ২০১৮ সালে কেন এই সম্মতি কেড়ে নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

    ২০১৮ সালের নভেম্বরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই-এর সাধারণ সম্মতি প্রত্যাহার করে অভিযোগ করেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সিবিআই (CBI) এবং ইডি-র মতো সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। সারদা চিটফান্ড থেকে শুরু করে কয়লা পাচার, গরু পাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নাম জড়ানোয় তৎকালীন সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে পর্যবেক্ষকদের মত। এর ফলে তদন্তের গতি শ্লথ হয়ে গিয়েছিল এবং বহু মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

    প্রশাসনিক সংস্কারে অনড় শুভেন্দু সরকার

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূল জমানার বিভিন্ন অনিয়ম সংশোধনে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

    • নিয়োগ দুর্নীতি: গত মে মাসেই সরকার শিক্ষক নিয়োগ, পুরসভা নিয়োগ এবং সমবায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিবিআই-কে বিশেষ অনুমোদন দিয়েছিল।
    • ২০১৯-এর হিংসার তদন্ত: ২০১৯ সালে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের নামে রেলের যে ৯৩ কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছিল, তার তদন্তের দায়িত্বও সম্প্রতি পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
    • তদন্ত কমিশন: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীদের ওপর হওয়া অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত ১৮ই মে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে দুটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

    রাজ্যে পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের রাজনীতিকরণ বন্ধ করা এবং দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে ফেলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। সিবিআই-এর (CBI) সাধারণ সম্মতি পুনরুদ্ধার সেই পথে আরও একটি ইতিবাচক ধাপ।

  • Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    Sushmita Dev Resigns: মমতার দলে মহাভাঙন! সুখেন্দুর পর তৃণমূল-রাজ্যসভা ছাড়লেন সুস্মিতা দেব, হিমন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ক্রমশ গভীরতর হচ্ছে। সেই সংকটের মাঝেই বুধবার (১০ জুন) তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। তাঁর এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই দিনে দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Himanta Biswa Sarma) সঙ্গে তাঁর বৈঠক নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সুস্মিতা দেবের পদত্যাগকে অনেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে চলা বৃহত্তর বিদ্রোহের অংশ হিসেবে দেখছেন। এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায় দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পাশাপাশি, লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

    কে এই সুস্মিতা দেব?

    সুস্মিতা দেব দেশের এক সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। তাঁর মা বীথিকা দেব অসমের শিলচর কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সুস্মিতা। ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে অসমের শিলচর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে শিলচর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের অন্যতম সক্রিয় সাংসদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

    ৫ বছরের মেয়াদ তৃণমূলে

    কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টেনে ২০২১ সালের অগাস্ট মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে অসম ও ত্রিপুরায় দলের বিস্তারের লক্ষ্যে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই সময় তৃণমূল তাঁকে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম মুখ হিসেবে তুলে ধরেছিল। দলে যোগদানের পর তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। ২০২১ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ১০ জুন ২০২৬-এ তিনি পদত্যাগ করলেন।

    পদত্যাগপত্রে কী লিখলেন সুস্মিতা?

    রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে সুস্মিতা দেব লেখেন, ‘‘আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে ইস্তফা দিচ্ছি। আমার কার্যকালের সময় সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং সচিবালয়ের সমস্ত আধিকারিককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’’ তবে পদত্যাগপত্রে দলত্যাগের কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন সুস্মিতা?

    পদত্যাগের পরই দিল্লিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, একসময় দু’জনেই কংগ্রেসে ছিলেন। পরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিজেপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যতে সুস্মিতা দেবের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখছে না। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি বা বিজেপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

    তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের আগে মঙ্গলবারই তৃণমূল ছেড়েছেন সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। পদত্যাগের সময় তিনি সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয় আসলে ‘‘১৫ বছরের নৈরাজ্যপূর্ণ শাসনের ফল’’। এদিকে লোকসভায় তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ পৃথক গোষ্ঠী গঠনের পথে হাঁটছেন বলে খবর। এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা আসন বরাদ্দের আবেদন করেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) বলেছেন, ‘‘আমরা ২০ জন সাংসদ স্পিকারের কাছে পৃথক বসার ব্যবস্থা চেয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করব।’’ এই মন্তব্য কার্যত তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান বলেই মনে করা হচ্ছে।

    এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা

    বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, বিদ্রোহী গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-তে যোগ দিতে পারে। তবে ভারতের সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের কারণে বিষয়টি সহজ নয়। আইন অনুযায়ী কোনও দলের সংসদীয় গোষ্ঠী ভেঙে আলাদা সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা ২০ বলে দাবি করা হলেও, তা আইনি স্বীকৃতির জন্য যথেষ্ট কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১৩ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

    সংকট সামলাতে সক্রিয় শীর্ষ নেতৃত্ব

    দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী ঐক্য রক্ষা এবং দলের ভাঙন রোধ করাই এই বৈঠকগুলির অন্যতম উদ্দেশ্য।

    বিধানসভাতেও অস্থিরতা

    সংসদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বে একটি পৃথক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। পরবর্তীতে বিরোধী শিবিরের নেতা হিসেবে রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ

    সুস্মিতা দেবের পদত্যাগ শুধুমাত্র একজন সাংসদের দলত্যাগ নয়, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের আরও একটি বহিঃপ্রকাশ। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের বিস্তারের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত সুস্মিতা দেবের প্রস্থান তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, যদি বিদ্রোহী সাংসদদের একটি বড় অংশ সত্যিই এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে তা শুধু সংসদীয় সমীকরণ নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও নতুন মোড় দিতে পারে। এখন নজর থাকবে— সুস্মিতা দেবের পর আর কতজন সাংসদ বা নেতা তৃণমূল ছাড়েন এবং বিদ্রোহী শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

  • India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের পরমাণু প্রতিরক্ষা নীতিতে কি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে? আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ‘সিপরি’ (SIPRI)-এর প্রকাশিত ‘ইয়ারবুক ২০২৬’-এ দাবি করা হয়েছে, ভারত সম্ভবত প্রথমবারের মতো সীমিত সংখ্যক পরমাণু ওয়ারহেডকে সক্রিয়ভাবে অপারেশনাল বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই মূল্যায়ন সঠিক হয়, তাহলে তা ভারতের দীর্ঘদিনের পরমাণু নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এসেছে, যখন সিপরি (SIPRI Report 2026) বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা পরমাণু প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ভারতের পরমাণু ভাণ্ডার বেড়ে ১৯০

    সিপরি-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের হাতে আনুমানিক ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮০। তবে সংখ্যার বৃদ্ধির চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হল সিপরি-র এই পর্যবেক্ষণ যে, ওই ১৯০টির মধ্যে প্রায় ১২টি ওয়ারহেড বর্তমানে অপারেশনাল ফোর্সের সঙ্গে মোতায়েন অবস্থায় থাকতে পারে। এতদিন পর্যন্ত ভারতের পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—ওয়ারহেড এবং ক্ষেপণাস্ত্র বা ডেলিভারি সিস্টেমকে আলাদা করে সংরক্ষণ করা। ফলে যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া দ্রুত পরমাণু হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। নতুন মূল্যায়ন সেই প্রচলিত ধারণার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?

    ভারতের পরমাণু নীতির ভিত্তি দীর্ঘদিন ধরে দুটি মূল নীতির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে—

    • ● নো ফার্স্ট ইউজ (No First Use Policy) বা প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি
    • ● ক্রেডিবল মিনিমাম ডেটারেন্স (Credible Minimum Deterrence) বা ন্যূনতম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা

    এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিপক্ষকে পরমাণু হামলা থেকে নিরুৎসাহিত করা, যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা নয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ারহেডগুলির সীমিত মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত তার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার উপযোগী করে তুলতে চাইছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সঙ্গে এই পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে।

    সমুদ্রপথে পরমাণু প্রতিরোধ শক্তিশালী করছে ভারত

    গত এক দশকে ভারত তার নিউক্লিয়ার ট্রায়াড বা ত্রিমুখী পরমাণু হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

    বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে—

    • ● স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য পরমাণু অস্ত্র
    • ● পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন

    বিশেষ করে আইএনএস অরিহন্ত (INS Arihant) শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ভবিষ্যৎ এসএসবিএন প্রকল্প ভারতের দ্বিতীয় আঘাত হানার সক্ষমতাকে (Second Strike Capability) আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে টহলরত সাবমেরিনে মোতায়েনকৃত পরমাণু ওয়ারহেডের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

    চিনের দ্রুত উত্থান ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

    সিপরি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতের বর্তমান পরমাণু আধুনিকীকরণের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হল চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও পরমাণু শক্তি। বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে নিজের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে চীন। বেইজিং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো নির্মাণ, উন্নত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোতায়েন এবং সাবমেরিন-ভিত্তিক পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নতুন প্রজন্মের অগ্নি সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে চীনের অভ্যন্তরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করা সম্ভব হয়। ফলে ভারতের পরমাণু কৌশল আর শুধুমাত্র পাকিস্তানকেন্দ্রিক নয়; বরং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখছে।

    পাকিস্তান ফ্যাক্টর এখনও গুরুত্বপূর্ণ

    চিনকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হলেও পাকিস্তান এখনও ভারতের নিরাপত্তা সমীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দুই দেশই গত এক দশকে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার সিস্টেম এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত সংঘাত পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের মোতায়েন ভারতকে সম্ভাব্য সংকটকালে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দিতে পারে।

    বিশ্বজুড়ে নতুন পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা

    সিপরি-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি পরমাণু শক্তিধর দেশের হাতে মোট প্রায় ১২,১৮৭টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে।

    এই দেশগুলি হল—

    • ● যুক্তরাষ্ট্র
    • ● রাশিয়া
    • ● চিন
    • ● ফ্রান্স
    • ● ব্রিটেন
    • ● ভারত
    • ● পাকিস্তান
    • ● উত্তর কোরিয়া
    • ● ইজরায়েল

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সব পরমাণু শক্তিধর দেশই বর্তমানে ব্যাপক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশ ক্রমশ আরও অনিশ্চিত ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।

    ভারতের পরমাণু নীতিতে কি বড় পরিবর্তন আসছে?

    যদিও সিপরি-র রিপোর্টে ভারতের প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করা (No First Use) নীতি বা সরকারি পরমাণু মতাদর্শে কোনও আনুষ্ঠানিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি, তবুও সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের সম্ভাব্য মোতায়েন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। অনেকের মতে, এটি ভারতের পরমাণু নীতির মৌলিক পরিবর্তন নয়; বরং ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলার প্রচেষ্টা। তবে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সিপরি, তখন ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

LinkedIn
Share