Tag: মহিলা ফাইটার পাইলট

  • India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে শুধু যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কৌশলগত দায়িত্বেই ছিলেন না ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটরা। সরাসরি যুদ্ধ অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (PoJK) জঙ্গি ঘাঁটি এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোয় হামলার জন্য পরিচালিত একাধিক মিশনে মহিলা পাইলটরা অংশ নেন। প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে এমনই দাবি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় এক মহিলা ফাইটার পাইলট সুখোই সু-৩০ (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান উড়িয়েছিলেন। এই যুদ্ধবিমান ব্রহ্মোস (BrahMos) ও র‌্যামপেজ  (Rampage) -এর মতো অত্যাধুনিক এয়ার-টু-গ্রাউন্ড অস্ত্র বহনে সক্ষম। তবে ওই নির্দিষ্ট অভিযানে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা সূত্র। অস্ত্র ব্যবহারের বিস্তারিত এখনও গোপনীয় বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের দাবি, হামলার পর পাকিস্তান কয়েকটি জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে সেগুলির ধরন ও উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই ব্যবহৃত অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

    একাধিক মহিলা পাইলট ছিলেন অপারেশন সিঁদুরে

    সম্প্রতি ১৫ অগস্ট মুক্তি পেয়েছে  ডিসকভারির দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮৮ ঘণ্টার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের নেপথ্যের পরিকল্পনা ও সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে ওই তথ্যচিত্রে। সেখানে এক মহিলা অফিসারের বক্তব্যও রয়েছে, যদিও তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে একাধিক মহিলা ফাইটার পাইলট অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা সুখোই-৩০ এবং রাফাল (Rafale)— দুই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেন। কেউ ককপিটের সামনের আসনে বসে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আবার কেউ পিছনের আসনে বসে উইপন সিস্টেম অপারেটর (WSO) হিসেবে অভিযানে যুক্ত ছিলেন। প্রতিরক্ষা সূত্রের ব্যাখ্যা, ফাইটার স্ট্রিমে যোগ দেওয়ার পর পুরুষ ও মহিলা পাইলটের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য থাকে না। একই প্রশিক্ষণ, একই অপারেশনাল দায়িত্ব এবং একই ধরনের যুদ্ধ মিশনে তাঁদের নিয়োগ করা হয়।

    ৭ মে-র ব্রিফিংয়ের বাইরেও ছিল মহিলা অফিসারদের ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরের সময় মহিলা অফিসারদের ভূমিকা প্রথম থেকেই নজর কেড়েছিল। ৭ মে-র সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বায়ুসেনার হয়ে সামনে এসেছিলেন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তাঁরা অপারেশনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই তথ্য সামনে আসায় স্পষ্ট হচ্ছে, মহিলা অফিসারদের ভূমিকা শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা ভারতের প্রথম সারির যুদ্ধবিমান নিয়ে সরাসরি অপারেশনাল মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন।

    প্রথম দিনেই ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা

    ২০২৫ সালের ৭ মে ভোরে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। প্রথম দফায় মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিকে টার্গেট করে ভারত। এর মধ্যে পাকিস্তানের মুরিদকেতে থাকা মারকাজ তৈবা ছিল লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ সদর দফতর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাহাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহানাল্লা ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এছাড়াও মুজফফরাবাদ, কোটলি, শিয়ালকোট এবং ভিম্বরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের নয়টি টার্গেটের মধ্যে মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অন্য লক্ষ্যগুলিতে ভারতীয় সেনা লয়টারিং মিউনিশন এবং দূরপাল্লার আর্টিলারি ব্যবহার করে আঘাত হানে।

    বালাকোটের তুলনায় অনেক বড় অভিযান

    মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলার তাৎপর্য ছিল যথেষ্ট বেশি। মুরিদকে দীর্ঘদিন ধরেই লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বাহাওয়ালপুর ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছিল ভারত। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে একসঙ্গে নয়টি টার্গেটে হামলা চালানো হয়। এরপর অভিযান আরও বিস্তৃত হয়। পাকিস্তান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু করলে সংঘাত জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার গণ্ডি পেরিয়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে। ভারতীয় বায়ুসেনা বিভিন্ন পর্যায়ে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্রহ্মোস, স্ক্যাল্প-সহ একাধিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে।

    পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতেও ব্রহ্মোস হামলা?

    অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায়ে সুখোই-৩০ এমকেআই থেকে ব্রহ্মোস উৎক্ষেপণ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিও ছিল বলে জানা যায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পরে প্রকাশ্যে দাবি করেন যে ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির একটি সামরিক ঘাঁটিও ছিল।

    অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটদের ভূমিকা শুধুমাত্র প্রতীকী বা সহায়ক ছিল না। প্রতিরক্ষা সূত্রের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ অভিযানে সরাসরি অপারেশনাল কমব্যাট মিশনের অংশ ছিলেন। তবে কোন পাইলট কোন নির্দিষ্ট মিশনে কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, তার বিস্তারিত এখনও সামরিক গোপনীয়তার আওতায় রয়েছে।

LinkedIn
Share