Tag: শিশুদের সংক্রমণ

  • Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    Durga Puja Health Tips: দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ৪ সংক্রমণ! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে উৎসবের মেজাজ। উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতা থেকে জেলা, সর্বত্র দূর্গা পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কিন্তু তারমাঝেই চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আনন্দের এই তাল কাটাতে পারে সংক্রামক রোগ! তাই সামান্য অসচেতনতাও বড় বিপদ ঘটাতে পারে। বিশেষত, শিশু স্বাস্থ্যে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সন্তানের স্বাস্থ্যে সামান্য অবহেলাও বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    কোন সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ভাইরাসঘটিত অসুখের দাপট!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই মরশুমে ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্ষার মরশুম সবে শেষ হয়েছে। তবে আবহাওয়া শুষ্ক। সূর্যের তাপে দিনের বেলা বেশ গরম ভাব রয়েছে। কিন্তু রাত বাড়লে কিংবা ভোরের দিকে আবহাওয়া অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। এর ফলে আবহাওয়ার তারতম্য দেখা দিচ্ছে। তাপমাত্রার এই রকমফেরের জেরে বাতাসে একাধিক ভাইরাসের দাপট বাড়ছে। এর জেরে ভাইরাস ঘটিত অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকছে।

    ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে!

    দুর্গাপুজো মানেই ভিড়! একসঙ্গে অনেকে মিলে আনন্দ উদযাপন। কিন্তু ভিড় থেকেই একাধিক সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা ও থাকে।‌ বিশেষত শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিড় এলাকায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে রোগ সংক্রামিত হতে পারে। বিশেষত ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষত যেসব শিশুরা হাঁপানি বা অন্যকোনো শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের বাড়তি সাবধানতা জরুরি।

    ডায়রিয়া বা পেটের সংক্রমণ!

    উৎসবের দিনগুলোতে সকলেই কমবেশি অন্যরকম খাওয়া দাওয়া করেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তাই এই সময়ে পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই রঙিন জলের সরবত, লাগাতার ঠান্ডা পানীয় খেতে পছন্দ করে। শিশুদের এই ধরনের খাবারে বাড়তি আকর্ষণ থাকে। ফলে, তাদের জন্য বিপদ বেড়ে যায়। অনেক সময়েই সরবতের জল পরিশ্রুত থাকে না। তাই ডায়রিয়ার মতো পেটের অসুখের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    মশাবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উৎসবের দিনগুলোতেও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কোনো ভাবেই অবহেলা করা যাবে না। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজারের কাছাকাছি। তার সঙ্গে ম্যালেরিয়া সহ একাধিক মশাবাহিত রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাই শিশুদের বাড়তি যত্ন জরুরি। উৎসবের দিনগুলোতেও যেন শিশুদের এই ধরনের সংক্রমণ না হয়, তার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করতে হবে।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধের পরিকল্পনা করবেন?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে বাড়তি নজর রাখলেই একাধিক বিপদ আটকানো সহজ হয়। বিশেষত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবে অযথা আতঙ্ক নয়। সচেতনতা এবং সতর্কতাই সমস্ত বিপদ আটকাতে সাহায্য করে।

    বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ারা আগে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ানো!

    দুর্গাপুজো মানেই এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল প্রতিমা দর্শন। তবে, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সন্তানকে পেট ভরে খাইয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাইরের খাবার এড়িয়ে চললে একাধিক রোগ মোকাবিলা সহজ হয়। ভারি খাবার খেয়ে বাইরে গেলে, লাগাতার স্ন্যাক্স বা ভাজা জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমে। এর ফলে শরীরে ক্ষতিকারক তেল মশলা কম যাবে, পুষ্টির ঘাটতি হবে না। হজমের সমস্যা ও পেটের অসুখের ঝুঁকি কমবে।

    সঙ্গে পানীয় জল রাখা আবশ্যিক!

    শিশুকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানীয় জল রাখতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় বাইরে থাকলে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। কারণ সূর্যের তাপে যথেষ্ট গরম লাগছে, ঘাম হচ্ছে। আবহাওয়া শুষ্ক। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আবার অপরিশ্রুত জল খেলে ডায়রিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। লিভারের নানান সংক্রামক রোগ হতে পারে। তাই সব সময় পানীয় জল সঙ্গে রাখতে হবে। যাতে শিশু পরিশ্রুত জল খেতে পারে।

    ভিড় এলাকায় মাস্ক ব্যবহার জরুরি!

    ভিড় এলাকায় যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার জরুরি। বিশেষত শিশুদের মাস্ক পরানোর অভ্যাস থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত অসুখ কিংবা ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মাস্কের ব্যবহার খুবই কার্যকরী। এতে হাঁচি কাশি হলেও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    হাত পরিষ্কারে বাড়তি নজর!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাত পরিষ্কার করার দিকে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। বাইরে থেকে ফেরার পরে, খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে কিংবা শৌচালয় থেকে বেরনোর পরে সন্তানের হাত পরিষ্কার কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। বারবার সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করাতে হবে। এতে নানান জীবাণু বাহিত অসুখের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।

    চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়তি পরিকল্পনা!

    শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি কী কী করণীয় সে সম্পর্কে অভিভাবকদের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। তাই সন্তানকে নিয়মিত যে চিকিৎসক দেখেন, তার পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই পুজোর দিনগুলোতে চিকিৎসককে সব সময় পাওয়া যায় না। তাই আগাম কী ধরনের সতর্কতা ও পরিকল্পনা জরুরি সে সম্পর্কে কথা বলে রাখতে হবে। তাহলে জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share