Tag: সেপ্টেম্বরের ডেঙ্গি

  • Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্ত বাড়ছে। প্রশাসন সক্রিয়। স্বচ্ছ ভাবেই ডেঙ্গি মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে, প্রশাসনের পাশাপাশি ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ রুখতে সাধারণ মানুষের সাহায্য সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে কয়েকটি অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরের ডেঙ্গি আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বর মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। তবে অক্টোবরেও ডেঙ্গি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তবে, ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যু মিছিল কমাতে হলে, সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষার মরশুমে জল জমে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বছরের এই সময়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সব মিলিয়ে মশার বংশবিস্তার এই সময়ে সবচেয়ে বেশি‌ হয়। তাই মশাবাহিত রোগের দাপট বছরের এই সময়ে বাড়ে। সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে, তার প্রকোপ বাড়ে। তাই সেপ্টেম্বরে বাড়তি গুরুত্ব।

    সেপ্টেম্বরে মশার বংশবিস্তার কমাতে পারলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি সংক্রমণ আটকানোর দিকেও নজর দিতে হবে। ডেঙ্গি মোকাবিলার দুই অস্ত্র জরুরি। একদিকে মশার বংশবিস্তার কমাতে হবে, আরেকদিকে, রোগের সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ, এই দুই করতে পারলেই ডেঙ্গি প্রতিরোধ সহজ হবে। এই মাসে সেই দুই দিকেই প্রশাসন সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তাহলে, রোগ ছড়াতে পারবে না। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা কমবে এবং মৃত্যু মিছিল আটকানো‌ যাবে।

    কোন পাঁচ অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জল জমা কিংবা এলাকার অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে যেমন সচেতনতা জরুরি, তেমনি আরও কয়েকটি অভ্যাসে নজর দিতে হবে।

    পোশাকে বাড়তি নজরদারি!

    ডেঙ্গি রুখতে পোশাক খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মশার কামড়ের জেরেই ডেঙ্গির ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তাই হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক এই সময়ে পরে থাকা জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, ডেঙ্গি রুখতে শিশুদের পোশাক নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুরা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়। তাই শিশুরা যাতে, ডেঙ্গির কবল থেকে বাঁচে, সেদিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। বিশেষত বিকেলে পার্কে বা বাগানে খেলতে যাওয়ার সময় হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরাতে হবে। যাতে মশা কামড়ানোর সুযোগ কমে। রাতে ঘুমোনোর সময়েও হাত-পা ঢাকা‌ পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    মশারি টাঙানোর অভ্যাস!

    আধুনিক শহুরে বাঙালির অনেকেই মশারি টাঙানোর অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো রোগ থেকে বাঁচতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস থাকা জরুরি। ঘুমের মধ্যে যাতে মশা না কামড়ায়, সেই জন্য নিয়মিত রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশপাশি বাড়িতে সদ্যোজাত থাকলে, নবজাতক শিশুকে দিনের অধিকাংশ সময় মশারির‌ ভিতরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মশা দিনের বেলায় দাপট বেশি দেখায়। তাই নবজাতক শিশুদের দিনের বেলাতেও মশারির ভিতরে রাখতে পারলে ভালো হয়।

    জানলা খোলা ও বন্ধের সময়ে নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে ঘরের জানলা কখন খোলা আর বন্ধ করা হবে, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। বাড়ির আশপাশে পুকুর বা বাগান থাকলে জানলা খোলা নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। দিনের বেলা, সূর্যের আলোয় ঘরের জানলা খোলা রাখা যেতেই পারে। কিন্তু বিকেলের পরে জানলা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাহলে ঘরের ভিতরে মশার দাপট কমবে।

    বাড়ির শৌচলায় এবং ছাদ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা!

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রশাসন বাড়ির ভিতরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে পারবে না। সে নিয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। তাই নিজের বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং শৌচালয় নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। অনেকেই বাড়ির চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখেন। এই মাসে সেই কাজ করলে বিপদ বাড়বে। মশার বংশবিস্তার কমাতে নিয়মিত চৌবাচ্চা পরিষ্কার করতে হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পরে ছাদে জল জমে থাকছে কিনা, সে দিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেক সপ্তাহে ছাদ পরিষ্কার করতে হবে। অনেকেই বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় বাগান করেন। আবার কলকাতা সহ একাধিক শহরে ছাদে বাগান করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই বাগানের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি সক্রিয় থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, টবে জমা জল থাকছে কিনা দেখতে হবে। আগাছার জন্য মশার বংশবিস্তার হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বাগানে নিয়মিত মশানিধন তেল ও স্প্রে দিতে হবে।

    আক্রান্তের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ!

    ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখতে সবচেয়ে জরুরি আক্রান্তকে চিহ্নিত করা এবং তাঁর আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা। পাশপাশি তাঁর পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সেটা দ্রুত নিশ্চিত করা। আর এই সব কিছুতেই সাধারণ নাগরিকদের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা জরুরি। তবেই কোথায় ডেঙ্গি সংক্রমণ কতখানি গুরুতর, সেটা স্পষ্ট হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ টানা তিন দিন জ্বরে আক্রান্ত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। আবার রোগ নিশ্চিত হলে তাঁকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গি আক্রান্তকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে। যাতে তাঁর থেকে অন্যদের শরীরে সহজে সংক্রমণ না ছড়াতে পারে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তথ্য প্রশাসনকেও জানানো জরুরি। যাতে এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও মশানিধন নিয়ে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয় হতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share