Tag: স্বাস্থ্য সতর্কতা

  • Sleep Apnea: নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর নয়, বড় বিপদেরও ইঙ্গিত! কোন ৬ লক্ষণে বুঝবেন ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’?

    Sleep Apnea: নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর নয়, বড় বিপদেরও ইঙ্গিত! কোন ৬ লক্ষণে বুঝবেন ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঘুমিয়ে পড়লেই বিকট নাক ডাকার আওয়াজ! এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ, পারিবারিক অশান্তির হাজার কাহিনী কমবেশি সকলের জানা! কিন্তু এই তীব্র নাক ডাকার আওয়াজ ডেকে আনতে পারে একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট। এমনকি বাড়িয়ে দেয় প্রাণ সংশয়! নাক ডাকা তাই পাশের জনের অসুবিধার কারণ শুধু নয়। নিজের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নাক ডাকার এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়‌। ঘুমের মধ্যে শরীরে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছতে না পারার জেরেই এই নাক ডাকার আওয়াজ তৈরি হয়। পরিবারের কেউ অতিরিক্ত নাক ডাকলে যথেষ্ট সতর্ক থাকা জরুরি। না হলেই বড় বিপদ হতে পারে।

    কেন নাক ডাকার আওয়াজ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুমের মধ্যে শরীরে অক্সিজেনের প্রবেশ নিয়ে সমস্যা হলেই নাক ডাকার আওয়াজ তৈরি হয়। শ্বাসনালীতে অক্সিজেন ঢুকতে বাধা পেলেই এই ধরনের আওয়াজ হয়। স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো এমন একটা রোগ, যেখানে ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস বাধা প্রাপ্ত হয়। স্বাভাবিক ভাবে হয় না। কখনও কখনও কয়েক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। যা খুবই বিপজ্জনক।

    কাদের এই রোগ হতে পারে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণত বয়স পঞ্চাশের চৌকাঠ পেরোলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এই রোগের জটিলতাও বাড়ে। তবে যেকোনও বয়সেই এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকি শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
    • স্থূলতার সমস্যায় আক্রান্তদের স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা বেশি হয়। অতিরিক্ত ওজনের জেরে গলায় চর্বি জমে। ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালীর কাজ স্বাভাবিক ভাবে হয় না। তখন স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
    • গলা কিংবা জিভে সমস্যা থাকলে কিংবা টনসিলের কোনও সমস্যা থাকলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই সর্দি-কাশিতে দীর্ঘদিন ভুগলে স্লিপ অ্যাপনিয়া দেখা দিতে পারে।
    • পরিবারের কেউ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগলে এই রোগ বংশানুক্রমিক ভাবেও হতে পারে।
    • শরীরে হরমোন ঘটিত ভারসাম্যের অভাবের জেরেও‌ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

    কীভাবে বুঝবেন আপনি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত কিনা?

    পরিবারের কেউ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত কিনা বোঝার জন্য কয়েকটি উপসর্গের দিকে নজর দিলে সহজেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    • কেউ ঘুমের মধ্যে জোরে বারবার নাক ডাকলে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত। এটা এই সমস্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ‌।
    • ঘুমের মধ্যে খুব অল্প সময়ের জন্য দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিনা, হঠাৎ হাঁসফাঁস করে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে কিনা, এটা পরিবারের অন্য সদস্যদের নজরে রাখা জরুরি।‌ কারণ এগুলো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত।
    • রাতে পর্যাপ্ত ঘুমোনোর পরেও দিনভর ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব থাকলে, এটাও স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
    • সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই মাথা যন্ত্রণা, মনে রাখার ক্ষমতা কমতে থাকার মতো সমস্যা স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ।
    • তবে শিশুদের ক্ষেত্রে কয়েকটি উপসর্গ আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শিশুর যেকোনও কাজে মনোযোগের অভাব, বিছানায় বারবার প্রস্রাব করে ফেলার অভ্যাস স্লিপ অ্যাপনিয়ার জানান দেয়।

    কেন এই রোগ স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা না হলে এই রোগ একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করতে পারে। ঘুমের মধ্যে দম আটকে আসার জেরে অনেক সময়েই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।‌ অর্থাৎ স্লিপ অ্যাপনিয়া প্রাণ সংশয় তৈরি করতে পারে।
    তাছাড়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া হলে পর্যাপ্ত গভীর ঘুম হয় না। ফলে, শরীরের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হয় না। এর জেরেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। স্নায়ুর উপরে চাপ বাড়ে। ফলে, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ে। স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। আবার শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। স্লিপ অ্যাপনিয়ার জেরে রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হতে থাকে। এর ফলে একদিকে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে। আবার হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই নাক ডাকার মতো সমস্যাকে কখনই হালকা ভাবে নিয়ে অবহেলা করা উচিৎ নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আসলে এটা। বড় সমস্যার ইঙ্গিত।

    কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করবেন?

    রোগ চিহ্নিত করা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্লিপ অ্যাপনিয়া কমানোর প্রথম ধাপ হলো সচেতনতা। এটা একটা স্বাস্থ্য সমস্যা, এটাই অধিকাংশ সময় চিহ্নিত করণ হয় না। ফলে, সমস্যার সমাধান হয় না। বরং আরও বিপদ বাড়তে থাকে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা!

    স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা কমাতে হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।‌ হঠাৎ করেই ওজন কমে যাবে না। বরং, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ওজন কমাতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। তেলেভাজা জাতীয় খাবার খাওয়া চলবে না।

    পর্যাপ্ত শারীরিক কসরত করতে হবে!

    স্লিপ অ্যাপনিয়ার বিপদ কমাতে নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি। প্রত্যেক দিন দুবেলা অন্তত তিরিশ মিনিট হাঁটা কিংবা যোগাভ্যাস জরুরি। এতে স্নায়ু ও পেশির সক্রিয়তা বজায় থাকবে। শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার বাড়তি মেদ জমবে না। ফলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যাও কাবু হবে।

    অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছাড়তে হবে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত ধূমপান করলে কিংবা মদ্যপান করলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই এই রোগের প্রকোপ কমাতে মদ্যপান ও ধূমপান‌ ত্যাগ করতে হবে।

    প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা জরুরি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা কতখানি গুরুতর, সেটা নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। তাই পরিবারের কেউ এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে‌ চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শরীরিক পরীক্ষার মাধ‌্যমে পরিস্থিতি কতখানি গুরুতর সেটাও স্পষ্ট বোঝা যাবে। যাতে অন্যান্য বড় বিপদ আটকানো সহজ হয়।

LinkedIn
Share