Tag: 26/11 Trial

  • 26/11 Trial: ২৬/১১ হামলায় হাফিজ সইদ-সহ ৬ পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইছে মুম্বই পুলিশ

    26/11 Trial: ২৬/১১ হামলায় হাফিজ সইদ-সহ ৬ পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইছে মুম্বই পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার (26/11 Trial) মামলায় পাকিস্তানে থাকা ছয় পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা ‘প্রোক্লেমেশন অর্ডার’ কার্যকর করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইল মুম্বই পুলিশ। এই ছয় অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed) এবং জাকি-উর-রহমান লখভি। মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৬ ধারায় এই আবেদন করা হয়েছে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকাম শুক্রবার একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আর্জি

    শুক্রবার ২৬/১১ মামলার বিশেষ আদালতে সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম জানান, গত জুলাইয়ে জারি হওয়া প্রোক্লেমেশন অর্ডার নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। নিকম আদালতকে জানান, পাকিস্তানে থাকা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রক সেই আবেদন গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে সময় চেয়েছে। আদালতের নির্দেশে যাঁদের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাঁরা হলেন—হাফিজ সইদ, জাকি-উর-রহমান লখভি, সাজিদ মীর, আবু আলকামা, আসিম ওরফে আবু কাহাফা এবং মেজর আবদুর রহমান পাশা। প্রত্যেকেই পাকিস্তানি নাগরিক। মুম্বই হামলায় তাঁদের কথিত ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে হামলার একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল কাসাব এবং পরে রাজসাক্ষী হওয়া ডেভিড কোলম্যান হেডলির বয়ানে।

    অনুপস্থিতিতেই হতে পারে বিচার

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ৩৫৬ ধারায়, কোনও অভিযুক্ত বিচার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করলে এবং তাঁকে দ্রুত গ্রেফতার করার সম্ভাবনা না থাকলে আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতেই পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি বিচার চালাতে পারে। সেই আইনি ব্যবস্থার আওতাতেই এবার ২৬/১১ মামলার বাকি অভিযুক্তদের বিচার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ১০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি মুম্বইয়ে একের পর এক হামলা চালিয়ে শহরকে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তাজ হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ছয়জন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একমাত্র জীবিত ধৃত জঙ্গি আজমল কাসাবকে গণহত্যা এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর পুণের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর ফাঁসি হয়।

    প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা

    ২৬/১১ হামলার সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে মামলার বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর হলে পাকিস্তানে থাকা অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকামের প্রতিনিধিত্বে পুলিশ শুক্রবার পলাতক অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য চলতি বছরের জুলাই মাসে জারি করা ঘোষণাপত্রের ওপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সন্ত্রাস মামলার শুনানি চলা বিশেষ আদালতে নিকাম বলেন, “পাকিস্তানে বসবাসকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ঘোষণাপত্র জারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে (এমএইচএ) চিঠি দিয়েছি। ৩ আগস্ট এমএইচএ আমাদের অনুরোধটি স্বীকার করে নিয়েছিল এবং এর অবস্থা জানানোর জন্য সময় চেয়েছিল।” হাফিজের বিরুদ্ধে ট্রায়াল ইন অ্যাবসেনশিয়া শুরু হলে যদি হাফিজ সইদ এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তাকে যখনই ভারতে আনা হবে, তখনই তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

    পাকিস্তানে বাড়ানো হল হাফিজের নিরাপত্তা!

    ভারত যখন লস্কর প্রধান হাফিজের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াচ্ছে তখনই পাকিস্তানে ‘বন্দি’ হাফিজের নিরাপত্তা আগের থেকেও বাড়িয়ে দিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। যে বাড়িতে হাফিজ রয়েছে, সেখান নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আইবি গোয়েন্দা অফিসারদের মতে, এর আগে, বহুবার হাফিজকে খুন করার চেষ্টা দেখা গিয়েছে অতীতে। হাফিজ ঘনিষ্ঠ অনেকেই খুন হয়েছে, যার জেরেই তড়িঘড়ি আইএসআই হাফিজের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। জানা যাচ্ছে, হাফিজকে ঘিরে টার্গেট গত কয়েক মাসে বেড়ে গিয়েছে। যার জেরে হাফিজকে লস্করের ট্রেনিং ক্যাম্পেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না পাকিস্তানের নিরাপত্তার খাতিরে। শুধু তাই নয়, লস্করের যে জায়গায় উগ্রপন্থায় যুবকদের মগজধোলাই হয়, সেই ক্যাম্পেও হাফিজ যাচ্ছে না বলে খবর। আর এই সবই তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে তোলার জেরে হয়েছে। এর আগে, এই সমস্ত জায়গায় হাফিজের আনাগোনা ছিল।

    কোথায় রয়েছেন হাফিজ?

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তান দাবি করছে, লাহোরের কোট লখপত জেলে নাকি ‘বন্দি’ রয়েছে হাফিজ সইদ। তবে ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, জেলে নয়, লাহোরের মোহাল্লা জোহার এলাকার এক সেফ হাউজ-এ হাফিজকে রেখে দিয়েছে পাকিস্তান। যে সেফ হাউজকে কার্যত দুর্গের মতো করে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে শেহবাজ শরিফ, আসিম মুনিরের দেশ। আরও একটি রিপোর্ট দাবি করছে, লাহোরের মিঞা মীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বাড়িতে হাফিজকে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখানে তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একদিকে, অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে যাওয়া তাদের জঙ্গি শিবিরকে ফের গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে লস্কর ই তৈবা, তারই মাঝে হাফিজ সইদকে কোনও জঙ্গি ট্রেনিং সেন্টারে দেখা যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সে শুধু ভিডিয়ো কল-এ কথা বলে ক্যাডারদের সঙ্গে। তাও শুধু বড় মাপের বৈঠকেই এমন কল হয়, সেখানে কড়া নিরাপত্তা থাকে।

LinkedIn
Share