Tag: 7th Pay Commission

7th Pay Commission

  • West Bengal: সপ্তম পে কমিশনের পথে আরও এক ধাপ, বেতনবৃদ্ধি থেকে ডিএ— বড় ঘোষণা রাজ্যের

    West Bengal: সপ্তম পে কমিশনের পথে আরও এক ধাপ, বেতনবৃদ্ধি থেকে ডিএ— বড় ঘোষণা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি (West Bengal) কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগোল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। সপ্তম বেতন কমিশনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলী ও কার্যপরিধি নির্দিষ্ট করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, ন্যূনতম বেতন, বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে বেতনস্তরের সামঞ্জস্য, মহার্ঘ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা-সহ একাধিক বিষয় পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সপ্তম বেতন কমিশনের অপেক্ষায় থাকা রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।

    সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা (West Bengal)

    নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যৌথভাবে এই ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ মে মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বার কমিশন কোন কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবে এবং সুপারিশ তৈরির ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিল শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন সরকার। ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন ভাবনার কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভিত্তি ধরে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিশন। একই সঙ্গে দৈনিক ৩৪৯০ ক্যালোরি পুষ্টির প্রয়োজনীয়তাকে ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এত দিন ২৭০০ ক্যালোরির যে পুরনো মানদণ্ড ছিল, তার বদলে নয়া এই ভিত্তি গ্রহণের বিষয়টি কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। এর ফলে ন্যূনতম বেতনের হিসাবের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

    বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব

    সপ্তম বেতন কমিশনের কার্যপরিধিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ে বছরে ৩ শতাংশ হারে। সেই হার বাড়িয়ে অন্তত ৫ শতাংশ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে কমিশনকে। মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নয়া বেতনস্তর তৈরির বিষয়টিও কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাজ্যের বেতনস্তরের সামঞ্জস্য আনার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। একই বেতনস্তরে সর্বভারতীয় সমতা তৈরির পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বা কার্যত অচল বেতনস্তর একত্রিত করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো আরও সরল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বেতন সংক্রান্ত অপ্রয়োজনীয় মামলা কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    ডিএ-র সংজ্ঞা ও নিয়মিত দেওয়ার ভাবনা

    ডিএর (মহার্ঘ ভাতা) ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে ডিএর সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়টি কমিশনের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ডিএ দেওয়ার জন্য স্থায়ী নির্দেশ জারির সুপারিশ করা যায় কি না, সে ব্যাপারেও কমিশনকে মতামত দিতে বলা হয়েছে (West Bengal)। সপ্তম বেতন কমিশন কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে, সেই বিষয়টিও কমিশনের আলোচনার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা, পরিবহণ ভাতা, শিশুদের শিক্ষাভাতা, হস্টেল ভর্তুকি এবং অন্যান্য ভাতার পরিমাণ ও নিয়ম নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ভাতাগুলির কাঠামো নির্ধারণের বিষয়েও সুপারিশ করতে পারবে কমিশন। বাড়িভাড়া ভাতার ঊর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও রয়েছে।

    অবসরকালীন সুবিধায়ও একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা

    অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের সুবিধার বিষয়েও কমিশনের কার্যপরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত। অবসর নেওয়ার পরে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে পেনশনের যে অংশ এককালীন গ্রহণ করা হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধারের বর্তমান নিয়ম পর্যালোচনা করা হবে। ১১ বছর পর সেই পেনশন পুনরুদ্ধারের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার তালিকায় রয়েছে। অবসরের সময় জমা ছুটির নগদীকরণ এবং ৩০ জুন অবসর নেওয়া কর্মীদের একটি অতিরিক্ত বেতনবৃদ্ধি দেওয়ার বিষয়টিও কমিশনের সামনে রাখা হয়েছে। ফলে অবসরকালীন আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও নতুন সুপারিশ আসতে পারে বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।

    কর্মজীবনে অগ্রগতির কাঠামো বদলের সম্ভাবনা

    সরকারি কর্মচারীদের কর্মজীবনে পদোন্নতি ও আর্থিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে (7th Pay Commission)। বর্তমানে ৮, ১৫ এবং ২৪ বছরের তিনটি ধাপে যে কর্মজীবন অগ্রগতি ব্যবস্থা রয়েছে, তার পরিবর্তে ৫, ৮, ১২, ১৮ এবং ২৪ বছরের পাঁচটি ধাপ চালুর বিষয়টি বিবেচনা করবে কমিশন। এ ছাড়াও সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে নগদহীন চিকিৎসার সুবিধা সম্প্রসারণ, চিকিৎসকদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ও কার্যপরিধিতে রয়েছে।

    কারা রয়েছেন সপ্তম বেতন কমিশনে?

    প্রসঙ্গত, সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক অতনু চক্রবর্তীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের প্রবীণ ফেলো পার্থ মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের অর্থনীতির অধ্যাপক পার্থ প্রতীম পাল। কমিশনের সদস্য-সচিব পদে রয়েছেন আইএএস আধিকারিক দেবীপ্রসাদ করনম।

    কোন কোন বিষয় বিবেচনায় রাখবে কমিশন?

    সরকারি নির্দেশিকায় (West Bengal) বলা হয়েছে, সুপারিশ তৈরির সময় কমিশন শুধু রাজ্য সরকারের বর্তমান বেতন কাঠামো দেখেই সিদ্ধান্ত নেবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের বেতন কাঠামো, দেশের অন্যান্য রাজ্যের বেতন কাঠামো, রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্য, সরকারি আয় ও ব্যয়ের পরিস্থিতি এবং অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশও বিবেচনায় রাখা হবে।কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো, ডিএ, বিভিন্ন বিশেষ ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, পদোন্নতির নীতি, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা খতিয়ে দেখবে। নতুন বেতন কাঠামোয় কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের প্রাথমিক বেতন কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সেই পদ্ধতিও কমিশন সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে পেনশনভোগীদের পেনশন সংশোধনের পদ্ধতি নিয়েও মতামত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে ডিএ-সহ—সরকারি চাকরির প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও পরিষেবাগত বিষয়ই কমিশনের পর্যালোচনার আওতায় আসছে (7th Pay Commission)।

    ২০২৭ সালে কার্যকর করার লক্ষ্য

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। এখন কমিশনের সুপারিশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। কমিশনের সুপারিশ পাওয়ার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে আগামী দিনে বেতন, ডিএ এবং অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই দেখার। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। রাজ্যে পালাবদলের সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটেই সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর বার্তা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তির পর সেই প্রক্রিয়াও আরও এক ধাপ এগোল (West Bengal)।

    কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়া

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আমাদের পরামর্শ দিয়েছিল যে যাঁরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং বেতন চাইছেন, তাঁরা দিল্লি চলে যান। আমরা দিল্লির সরকারকেই পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসেছি। আর আজ প্রকাশিত রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে আমাদের বেশির ভাগ দাবিকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা এই বিজ্ঞপ্তি দেখে সন্তুষ্ট। আগামী দিনে বর্তমান রাজ্য সরকার যাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশে থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখের সাথী (7th Pay Commission) হয়, সেই বিষয়ে আমাদের আবেদন থাকবে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে (West Bengal)। কারণ, তিনি বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন যেসব প্রতিশ্রুতি আমাদের দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন।”

     

     

  • Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, কর্মীসঙ্কট এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানী ভবনে (Bhawani Bhavan) পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং কর্মীবান্ধব করে তুলতেই এই পদক্ষেপ। নতুন নিয়োগ, ডিএ বৃদ্ধি, সপ্তম বেতন কমিশন, আধুনিক তদন্তকারী সংস্থা, বদলি নীতি- সব মিলিয়ে পুলিশের জন্য কার্যত একগুচ্ছ ‘মেগা প্যাকেজ’-এর ঘোষণা করেন তিনি। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, সেটা হয় নাকি! পরে আরও দেব, আপনারা ভালোভাবে কাজ করুন।”

    ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment)

    রাজ্যে পুলিশের ঘাটতি পূরণে আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment) করা হবে বলে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া (Police Recruitment) শুরু হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের পথও এখন পরিষ্কার। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জট কাটার পর দ্রুত নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করা ১৪ হাজার কনস্টেবলকে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই বিভিন্ন জেলায় কাজে যোগ দেওয়ানো হবে।

    পুজো থেকেই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)

    তৃণমূল সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সরকারে আসতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে ডিএর ফারাক কমাতে প্রথম দফায় আগামী অক্টোবর (পুজোর মাস) থেকেই পুলিশকর্মীদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)-র ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি রাজ্য গঠিত সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই দ্রুত তা কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি। বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করারও ঘোষণা করা হয়েছে, যা পুজোর সময় থেকেই কার্যকর হবে।

    এনআইএ-র আদলে গড়ে উঠছে ‘SIA’

    রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আদলে ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA) গঠনের ঘোষণাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, জটিল অপরাধ ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ তদন্তে এই বিশেষ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আধুনিক পুলিশ পরিকাঠামো

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাহীন সরকারি পুলিশ যান ধাপে ধাপে বদলে নতুন আধুনিক গাড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হবে। পুলিশকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য গুজরাতের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ-এর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণও চালু হবে।

    বদলি নীতিতে মানবিক উদ্যোগ

    পুলিশকর্মীদের দীর্ঘদিনের বদলি-সংক্রান্ত সমস্যার দিকেও নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী-

    • মহিলা কনস্টেবলদের নিজ নিজ জেলায় পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে
    • মহিলা অফিসারদের পার্শ্ববর্তী জেলায় বদলির নীতি গ্রহণ করা হবে
    • যাঁরা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের জেলা থেকে দূরে কর্মরত, তাঁদের ধাপে ধাপে স্বজেলায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে

    গড়ে উঠছে অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড

    পুলিশকর্মীদের আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার না করে তাঁদের পেশাগত উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের পুরনো নাগরিক সহায়তা প্রকল্পও নতুন করে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দেন, শক্তিশালী ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি যেমন চলবে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • 7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালুর চেষ্টা করবে রাজ্য। সেই হিসেবে আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই তা চালু হতে পারে। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on DA)। রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একুশে জুলাইয়েই বড়সড় ঘোষণা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর। সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, একলপ্তে ৪২ শতাংশ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ১০ শতাংশ — কোনওটাই দেওয়া হয়নি, হিসেব করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ তৈরি হয়েছে। তা চূড়ান্ত হলে শীঘ্রই কমিশন গঠন করা হবে।

    কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার কাজ আগের সরকার শুরু করেছিল। আমি আরও অনেকটা দিয়ে দিয়েছি। বাকি রয়েছে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের, সেটা আমরা দিয়ে দেব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘২০ শতাংশ ডিএ আগেই বাজেটে ঘোষণা হয়েছে। অক্টোবর মাস, পুজোর মাসেই অগ্রিম বেতন পাবেন। তখনই পেয়ে যাবেন ২০ শতাংশ ডিএ। এসেই গেল‌ সময়। নকিং দ্য ডোর।’’ অর্থাৎ, আগামী অক্টোবর মাসেই, উৎসবের আগে সরকারি কর্মীদের বেতনের সঙ্গে ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ যোগ হবে।

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে অভিরূপ সরকারের কমিটি হয়। আমি ২০১৬-তে মন্ত্রী হই। ২০১৯-এ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী বলছেন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি নেই। আমি বলেছিলাম, অর্থমন্ত্রী ভুল বলছেন, কমিশনের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করুন। আমার সামনেই জিজ্ঞাসা করা হয়, আর তখন কমিশনার জানান অর্থমন্ত্রী রিপোর্ট জমা দিতে বারণ করেছেন, কারণ টাকা নেই। আমি বলি, এটা দিয়ে দিন। সেই ২০২০-তে আপনারা ষষ্ঠ পে কমিশন পান। তবে ডিএ তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই হয়, তাতে আমারও একটা ছোটখাটো ভূমিকা ছিল। যাঁরা থার্ড পার্টির মাধ্যমে টাকা পান, তাঁদের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।’

    সরকারি কর্মীদের পাশে রাজ্য সরকার

    পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে বেতন কমিশন এবং ডিএ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। এর ফলে সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ দিনের অন্যতম প্রধান দাবি ডিএ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। সেই ঘোষণার পর ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

    সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বা কাজের পরিধি ও দায়িত্বের খসড়া ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। সেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত হলেই দ্রুত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। এর পর কমিশন তার কাজ শুরু করবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন চালুর চেষ্টা করছে তাঁর সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    কীভাবে নতুন বেতন কাঠামো

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করতে পারে সপ্তম বেতন কমিশন। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) কার্যকর করার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।

    বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় বার্তা

    ডিএ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে সব মিলিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান এখনও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, সেই ব্যবধান একবারে নয়, ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, সেটিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

    বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা

    দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং নতুন বেতন কমিশন গঠনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন। শুভেন্দুর সরকার ক্ষমতায় এসেই কর্মচারীদের সেই ক্ষোভে প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের গ্যাপ ধীরে ধীরে মেটাব। আপনারা ভেবেছিলেন হয়তো একলপ্তে ৪২ শতাংশ দিয়ে দেব। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবার ১০ শতাংশের কথাও বলা হচ্ছিল। ৪২ বা ১০ — কোনওটাই দিইনি, হিসেব করে দিয়েছি। আগামী দিনে বাকিটা মেকআপ করে দেব।’ বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দফতরে ভয়ভীতি কাটিয়ে মন খুলে কাজ করুন।’ মঙ্গলবার করুণাময়ীতে বিদ্যুৎ দফতরে এক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কর্মসূচিতেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য নয়া কমিশন নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করেছেন তিনি।

  • Nabanna Cabinet Meeting: নবান্নে বড় ঘোষণা! সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর, মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস ও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’

    Nabanna Cabinet Meeting: নবান্নে বড় ঘোষণা! সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর, মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস ও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠক। সরকার গঠনের পর এটি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক, যেখানে রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষত মহিলা ও সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে একাধিক বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্তগুলির বিস্তারিত ঘোষণা করেন। তাঁর কথায়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মানুষের জন্য দ্রুত কাজ শুরু করেছে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে ফের সক্রিয় করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত

    দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম বড় দাবি ছিল কেন্দ্রীয় হারে বেতন কাঠামো এবং মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে আজকের বৈঠকে সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন পুনর্বিবেচনা, বকেয়া ডিএ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত জট দ্রুত কাটতে পারে। যদিও কমিশনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো, সদস্য তালিকা এবং কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সাধারণত ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্য পে কমিশন গঠন করে। রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। রাজ্য মন্ত্রিসভা সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর দেওয়ার পর বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক নিয়েও চলছে জল্পনা।সরকারি কর্মীরা বলছেন, সপ্তম পে কমিশন গঠন হয়ে কার্যকর হলে, একলাফে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে কর্মীদের বেসিক পে।

    প্রতিশ্রুতি পালন বিজেপির

    নির্বাচনী ইস্তেহার থেকে প্রচারে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে সপ্তম পে কমিশন। তার ফলে বেতন পরিকাঠামোয় বদল আসবে। ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে। রাজ্যে পালা বদল ঘটেছে। গত ৯ মে, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক ৯ দিনের মাথায় দ্বিতীয় বৈঠকে সপ্তম পে কমিশনে সায় দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমরা আগে থেকেই বলেছিলাম, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, প্রশাসনিক কাজেও গতি আনা হবে। সরকার গঠনের পর থেকেই মানুষের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি ফের রাজ্যে চালু করাই আমাদের লক্ষ্য।” যদিও ডিএ নিয়ে এদিনের বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে তা অ্যাজেন্ডায় রয়েছে বলেই জানান মন্ত্রী। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সরকারি কর্মীরা।

    ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বদলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’

    সবচেয়ে বড় ঘোষণা এসেছে রাজ্যের বহুল জনপ্রিয় মহিলা সহায়তা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে নতুনভাবে চালু করা হবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নামে। ক্যাবিনেট সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আওতায় আর্থিক সহায়তা পেতেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে স্থানান্তরিত করা হবে। ফলে পুরনো উপভোক্তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না। আগের মতোই সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।

    নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু শীঘ্রই

    এছাড়া, যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদের জন্য খুব শীঘ্রই একটি নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে। সেখান থেকে আবেদন করে নতুন উপভোক্তারা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র জন্য আবেদনকারীদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পাবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    ১ জুন থেকে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত

    মহিলাদের জন্য আরও একটি বড় স্বস্তির ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। আগামী ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে কর্মজীবী, ছাত্রী, গৃহবধূ এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। মন্ত্রী আরও জানান, জুন মাসে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর রাজ্যে নতুন বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস (E-Bus) পরিষেবা সম্প্রসারণে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা বৈঠক থেকেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে মহিলা কল্যাণ, সরকারি কর্মীদের আর্থিক দাবি এবং গণপরিবহণ—এই তিন ক্ষেত্রকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ ও বিনামূল্যে বাসযাত্রার মতো সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। জুনের পূর্ণাঙ্গ বাজেটের দিকে এখন নজর থাকবে রাজ্যবাসীর, কারণ সেখানেই এই ঘোষণাগুলির আর্থিক কাঠামো এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে।

  • DA Hike: দশেরা-দীপাবলির উপহার মোদির! ডিএ বাড়ল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের, রাজ্যের সঙ্গে ফারাক বেড়ে ৪০ শতাংশ

    DA Hike: দশেরা-দীপাবলির উপহার মোদির! ডিএ বাড়ল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের, রাজ্যের সঙ্গে ফারাক বেড়ে ৪০ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরসুমে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের (Central Govt Employees) জন্য সুখবর৷ ৩ শতাংশ ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধিতে (DA Hike) ছাড়পত্র দিল মোদি মন্ত্রিসভা (Modi Cabinet)৷ বুধবার এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব৷ পাশাপাশি ৩ শতাংশ ডিয়ারনেস রিলিফ বা মহার্ঘ ত্রাণ বৃদ্ধির কথাও ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী৷ সবমিলিয়ে চলতি বছরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের ভাতা (DA Hike) ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেল৷

    নবমীতেই দশেরা-দীপাবলির উপহার

    চলতি বছরের শুরুতেই দুই শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির (DA Hike) সিদ্ধান্ত নেয় মোদি সরকার (Modi Cabinet)। গত মার্চ মাস থেকে নতুন হারে ডিএ কার্যকর হয়। তার পরে আবার ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। চলতি বছরের জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের ওই হারে ডিএ দেওয়া হবে। ফলে, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে, জুলাই, অগাস্ট এবং সেপ্টেম্বরের বকেয়াও দীপাবলির ঠিক আগে পেয়ে যাবেন তাঁরা। সূত্রের খবর, দেশের ১.২ কোটি সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীরা সুবিধা পাবেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা (Central Govt Employees) তাঁদের মূল বেতনের ৫৫ শতাংশ হারে ডিএ পান। এ বার তা বেড়ে ৫৮ শতাংশে দাঁড়াল।

    আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কমিশন!

    এই বর্ধিত ভাতা সপ্তম বেতন কমিশনের আওতাধীন সব কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা পাবেন। চলতি বছরের শুরুতেই অষ্টম বেতন কমিশনের ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। তবে তা এখনও কার্যকর হয়নি। ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ। অর্থাৎ, এটাই সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় শেষ বার ডিএ বৃদ্ধি (DA Hike) করল কেন্দ্র। এতে লেভেল ১ কর্মচারীদের জন্য ন্যূনতম মূল বেতন ৫১,৪৮০ টাকায় সংশোধিত হতে পারে। সেখানে ন্যূনতম পেনশন প্রায় ২০,৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৫,৭৪০ টাকা হতে পারে।

    রাজ্যের সঙ্গে ফারাক আরও বাড়ল

    সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়, পেনশনভোগীরা যে ভাতা পান, তাকে মহার্ঘ ত্রাণ বলা হয়৷ দু’টি ভাতাই বছরে দু’বার জানুয়ারি এবং জুলাই মাসে সংশোধিত হয়৷ এদিকে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে৷ গত ৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সঞ্জয় কারল ও বিচারপতি পিকে মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে৷ এদিন মহার্ঘ ভাতা আরও তিন শতাংশ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের সঙ্গে ফারাক আরও বেড়ে ৪০ শতাংশ হল৷

  • 7th Pay Commission: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন বাড়াতে পারে মোদি সরকার

    7th Pay Commission: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন বাড়াতে পারে মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন বাড়ানোর ঘোষণা করা হতে পারে বাজেট প্রস্তাবে। এমনই খবর শোনা যাচ্ছে অর্থমন্ত্রকের অন্দরে। সূত্রের খবর, কমিশনের সুপারিশ মেনে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৬ হাজার টাকা করা হবে।

    ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে বদল

    আগামী বাজেট প্রস্তাবে, কেন্দ্রের তরফে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরে’ বদল আনা হতে পারে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারী ইউনিয়নগুলি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ গুণ থেকে বাড়িয়ে ৩.৬৮ গুণ করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে নয়া পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ বদল করা হলে, প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তে পারে বেতন। প্রসঙ্গত, ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুসারে, তা ২.৫৭ গুণ। এক জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা হলে ভাতা ছাড়া তাঁর বেতন ১৮,০০০ টাকার ২.৫৭ গুণ অর্থাৎ ৪৬২৬০ টাকা। কর্মচারী ইউনিয়নের দাবি মানা হলে বেতন হবে ২৬,০০০ গুণিত ৩.৬৮ অর্থাৎ ৯৫,৬৮০ টাকা!

    আরও পড়ুুন: ‘‘নিরপেক্ষ থাকুন, না হলে পদপিষ্ট হতে হবে’’! পুলিশকে সতর্কবার্তা সুকান্তর

    ন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ৩৪টি সংশোধনী এনে ২০১৭ সালের জুন মাসে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুমোদন করেছিল। এর ফলে এন্ট্রি লেভেলের বেসিক বেতন প্রতি মাসে ৭০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০০০ টাকা করা হয়েছিল। যেখানে সর্বোচ্চ স্তরের অর্থাত্ সচিব পর্যায়ের পদে বেসিক বেতন ৯০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২.৫ লক্ষ টাকা করা হয়। ক্লাস ১ অফিসারদের জন্য, প্রারম্ভিক বেতন করা হয় ৫৬,১০০ টাকা। এবার, বাজেট প্রস্তাবে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে ঘোষণা হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন একলাফে আনেকটাই বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তা হলে দেশের লাখ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফুটবে। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • DA Central Govt Employees: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর, পুজোর মুখেই ঘোষণা হতে পারে ডিএ?

    DA Central Govt Employees: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর, পুজোর মুখেই ঘোষণা হতে পারে ডিএ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের (Central Govt Employees) জন্য সুখবর। পুজোর মুখে আশার খবর শোনাতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। যাঁরা এতদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির (Salary Hike) জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের মুখে এবার ফুটবে হাসি। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রক জুলাই মাসের জন্য এআইসিপিআই ইনডেক্স (AICPI Index) ডেটা প্রকাশ করেছে। ওই মাসের জন্য প্রকাশ করেছে অল ইন্ডিয়া সিপিআই-আইডব্লুও (CPI-IW)। এই সিপিআই-আইডব্লু ০.৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯.৯ পয়েন্টে। এআইসিপিআই ইনডেস্ক বৃদ্ধির জেরে আগামী বছর জানুয়ারি থেকে বাড়বে মহার্ঘ ভাতা। আর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত ডেটার ভিত্তিতে ঘোষণা করা হতে পারে জুলাইয়ের মহার্ঘ ভাতা।

    কেন্দ্রের একটি সূত্রের খবর, পুজোর মুখেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য মিলতে পারে সুখবর। জুলাইয়ের মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হতে পারে সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখে। এই সময় মহার্ঘ ভাতা বাড়তে পারে ৪ শতাংশ। সাধারণত বছরে দুবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বাড়ে। একবার জানুয়ারিতে, পরেরটা জুলাই মাসে। সপ্তম পে কমিশনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এটা করা হয়। তবে কোন বার মহার্ঘ ভাতা কত বাড়বে, তা নির্ভর করে আগের ছ মাসের এআইসিপিআই ইনডেস্কের ওপর।

    আরও পড়ুন : বাড়ল ভারতের জিডিপি, প্রথম ত্রৈমাসিকে কত জানেন?

    এআইসিপিআই ইনডেস্ক দেখেই আশা করা যাচ্ছে এবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ডিএ বাড়তে পারে ৪ শতাংশ। এই বৃদ্ধির জেরে এটা হতে পারে ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশ। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা মহার্ঘ ভাতা পান ৩৪ শতাংশ। এটা বেড়ে ৩৮ শতাংশ হলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন এক লপ্তে বেড়ে যাবে অনেকখানি।

    যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করেন, তাঁদের দেওয়া হয় মহার্ঘ ভাতা। আর ডিয়ারনেস রিলিফ দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের। চলতি বছরের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকার ডিএ তিন শতাংশ বাড়িয়ে ৩৪ শতাংশ করেছে। এই বৃদ্ধির হার প্রযোজ্য হয়েছে কর্মীদের মূল মাইনের ওপর।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।  

  • DA Hike for Central Govt Employee: জুলাইয়েই ডিএ বাড়াতে পারে কেন্দ্র, কত হবে বেতন?

    DA Hike for Central Govt Employee: জুলাইয়েই ডিএ বাড়াতে পারে কেন্দ্র, কত হবে বেতন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের (Central Government Employee) জন্যে সুখবর। জুলাই মাসেই বাড়তে চলেছে মহার্ঘ  ভাতা (Dearing Allowance)। সূত্রের খবর, ৫% অবধি মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) বাড়াতে পারে কেন্দ্র সরকার। এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীরা ৩৪% হারে ডিএ পাচ্ছেন, এবার ৩৯% হারে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন মুদ্রাস্ফীতিকে নজরে রেখে জুলাই মাসেই সুখবরটি দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। বছরে দুবার, জানুয়ারি ও জুলাই মাসে ডিএ বৃদ্ধি করে সরকার। গত জানুয়ারিতে এআইসিপিআই (AICPI)- এর উপর ভিত্তি করে ৩% ডিএ বেড়েছে। এ বছর এপ্রিলে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৭৯ শতাংশ। যা গত আট বছরে সর্বোচ্চ। তাই মনে করা হচ্ছে ফের জুলাইয়েই বর্ধিত ডিএ- র ঘোষণা করবে কেন্দ্র সরকার।

    আরও পড়ুন: চিকিৎসকদের পাওয়া ফ্রি স্যাম্পল, উপহারও আসতে চলেছে টিডিএস-এর আওতায়?   

    ডিএ বাড়লে কী হারে বাড়বে বেতন?

    বিভাগ অনুসারে বেতন ম্যাট্রিক্স করা হয়েছে সপ্তম পে কমিশনে। তাই খুব সহজেই হিসেব করা যেতে পারে কেন্দ্র সরকারের কর্মীদের বেতন। ডিএ বাড়ানোর পর বেতন কত বাড়বে, তা নির্ভর করবে সরকারি কর্মীর মূল বেতন কত তার ওপর। বেতন ম্যাট্রিক্স ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের সঙ্গে সংযুক্ত। সরকারি কর্মীদের বেতন বর্তমানে ২.৫৭ গুণ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।

    আরও পড়ুন: জিএসটি বাবদ রাজ্যগুলির প্রাপ্য মেটাল কেন্দ্র, বাংলা কত পেল জানেন?   

    বেসিক বেতন কাঠামো
     
    সপ্তম পে কমিশন অনুসারে, বর্তমানে, কর্মীদের পে ম্যাট্রিক্স লেভেল ৩ থেকে মূল বেতন কাঠামো তৈরি করা হয়। এটি ২১,৭০০ টাকা থেকে শুরু হয় এবং সর্বাধিক ৬৯,১০০ টাকা পর্যন্ত যায়৷ ধরা যাক দিল্লিতে কর্মরত একজন সরকারি কর্মীর মূল বেতন প্রতি মাসে ২১ হাজার ৭০০ টাকা। এখন এর সঙ্গে সব ধরনের ভাতা যোগ করা হবে। ২১ হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতনে বর্তমানে পাওয়া ৩৪ শতাংশ ডিএ অনুসারে, তাঁর বেতনের সঙ্গে ৭,৩৭৮ টাকা যোগ হবে।  

    এরপর শহর অনুযায়ী মূল বেতনের ২৭ শতাংশে বাড়ি ভাড়া ভাতা পাওয়া যায়। এইভাবে ৫,৮৫৯ টাকা যোগ হবে। গ্রেড-৩ কর্মী ৩,৬০০ টাকা ভ্রমণ ভাতা পান। এই টাকা যোগ করলে মোট মাসিক বেতন হবে ৩৮,৫৩৭ টাকা।  

    এবার কেন্দ্র যদি আগামী মাসে পাঁচ শতাংশ ডিএ বাড়ায়, তাহলে তা হবে ৩৯ শতাংশ এবং কর্মীদের বেতন বাড়বে মাসে ১,০৮৫ টাকা। ডিএ ৭,৩৭৮ টাকা থেকে বেড়ে ৮,৪৬৩ টাকা হবে। ডিএ বাড়লে উপকৃত হবেন ৫০ লক্ষ কর্মী এবং ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী।  
     
    বর্তমানে সরকার ৩৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিচ্ছে। এআইসিপিআই সূচকের তথ্য বলছে, এবার ডিএ ৪-৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। 

     

  • 7th Pay Commission: সর্বাধিক ৩% বাড়তে পারে HRA, TA! জোড়া ভাতা বৃদ্ধিতে হাসি ফুটবে সরকারি কর্মীদের মুখে

    7th Pay Commission: সর্বাধিক ৩% বাড়তে পারে HRA, TA! জোড়া ভাতা বৃদ্ধিতে হাসি ফুটবে সরকারি কর্মীদের মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে ৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো হয়। সূত্রের খবর, এবার অন্যান্য ভাতাও বাড়াতে পারে কেন্দ্র। 
    সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (DA) এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ডিআর (DR) বাড়ানো হয়েছে তিন শতাংশ। যা ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। আর এবার শীঘ্রই হাউজ রেন্ট অ্যালাওয়েন্স (HRA)বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের হাউজ রেন্ট অ্যালাউন্সে সংশোধন করা হয় মহার্ঘ ভাতার ভিত্তিতে। গতবছর জুলাইতে মহার্ঘ ভাতার পাশাপাশি বেড়েছিল এইচআরএ। বর্তমানে ২৭, ১৮, ৯ শতাংশ হারে এইচআরএ পান সরকারি কর্মচারীরা। সর্বাধিক এইচআরএ হার ২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হতে পারে। যাদের ভাতা ১৮ শতাংশ তারা ২০ শতাংশ হারে এইচআরএ পাবেন। এবং যাদের এইচআরএ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে দশ শতাংশ করে হবে।উল্লেখ্য, এইচআর-এর ক্ষেত্রে তিনটি ভাগে শহরগুলিকে ভাগ করা হয়েছে। এই ক্যাটেগোরির নিরিখে এইচআরএ দেওয়া হয়।  X ক্যাটাগরির শহরের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২৭ শতাংশ এইচআরএ, Y ক্যাটাগরির জন্য ১৮ শতাংশ ও Z ক্যাটেগরির জন্য ৯ শতাংশ এইচআরএ দেওয়া হয়ে থাকে। এদিকে যাতায়াত ভাতা বা ট্রানসপোর্ট অ্যালাওয়েন্সও বাড়তে পারে সরকারি কর্মীদের।  বেতন ম্যাট্রিক্স স্তরের ভিত্তিতে ভ্রমণ ভাতা তিনটি বিভাগে বিভক্ত। শহরের ক্ষেত্রে দুটি ভাগ রয়েছে। শহরের জনসংখ্যার ভিত্তিতে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। মহার্ঘ ভাতা ৩৪ শতাংশ হলে ভ্রমণ ভাতা বাড়তে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। বর্তমানে TPTA শহরগুলিতে, TPTA লেভেল ১ থেকে ২-এর জন্য ১৩৫০ টাকা, লেভেল ৩ থেকে ৮ কর্মীদের জন্য ৩৬০০ টাকা এবং লেভেল ৯ কর্মীদের জন্য ৭২০০ টাকা দেওয়া হয়৷ 

LinkedIn
Share