Tag: Achinta Sheuli CWG 2022

Achinta Sheuli CWG 2022

  • Commonwealth Games: অর্থের জন্য খেলা ছেড়েছিলেন দাদা! জানুন কী বললেন কমনওয়েলথে বাংলার সোনার ছেলে অচিন্ত্য

    Commonwealth Games: অর্থের জন্য খেলা ছেড়েছিলেন দাদা! জানুন কী বললেন কমনওয়েলথে বাংলার সোনার ছেলে অচিন্ত্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাবা ছিলেন ভ্যানচালক। মা জরির কাজ করে সংসার চালান। একেবারেই নিম্ন-মধ্যবিত্ত সংসার। সেখান থেকে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়। কঠিন পথে স্বপ্নপূরণ পাঁচলার ছেলে অচিন্ত্য শিউলির। রবিবার মধ্যরাতে (ভারতীয় সময় অনুসারে) পাঁচলার দেউলপুরের শিউলি পরিবারে তখন উৎসবের আমেজ। ঘরের ছেলে সোনা জিতেছে যে! ২০ বছর বয়সি অচিন্ত্য শিউলি পুরুষদের ৭৩ কিলোগ্রাম ভারোত্তলন বিভাগে সোনার পদক জয় করলেন। অচিন্ত্য স্ন্যাচ বিভাগে ১৪৩ কেজি ওজন তুলেছেন। পাশাপাশি ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগে তিনি ১৭০ কিলোগ্রাম ওজন তুলে দেশের হয়ে এক নয়া ইতিহাস কায়েম করলেন। মোট ৩১৩ কেজি ওজন তুলে দেশকে সোনা এনে দিলেন অচিন্ত্য।

    এখন হাওড়ার অচিন্ত্যকে চেনে গোটা দেশ। কিন্তু লড়াইটা সহজ ছিল না। সোনা জয়ের পর জানালেন অচিন্ত্য। বললেন, “বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে দাদাই আমার জন্য সবকিছু করেছে। আর তাই এই পুরস্কার আমি আমার দাদা এবং কোচকে উৎসর্গ করতে চাই। দাদা নিজে ওয়েট লিফটিং করত। কিন্তু আমার দিকে তাকিয়ে ও ছেড়ে দিয়েছে।”

    আরও পড়ুন: কমনওয়েলথ গেমসে রেকর্ড গড়ে সোনা জিতলেন বাংলার অচিন্ত্য, মণিপুরের জেরেমি

    অচিন্ত্যর বাবা পেশায় ছিলেন ভ্যানচালক।  ৯ বছর আগে মারা যান বাবা। তারপর থেকেই টানাটানির সংসার। জরির কাজ করে সংসার চালান মা। ২০১১ সালে দাদা অলোকের হাত ধরেই অষ্টম দাসের কাছে ভারোত্তলন প্রশিক্ষণ নিতে যান অচিন্ত্য। ২০১৩ সালে দুইভাই একসঙ্গে ন্যাশানাল ভারোত্তলক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এরপর ভাইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য খেলা ছেড়ে দেন দাদা। মা ও দাদা মিলে টানতে থাকেন সংসার। সঙ্গে ভাইয়ের খেলার খরচ। তাই পুরস্কার জিতে তা দাদাকেই উৎসর্গ করলেন অচিন্ত্য।

    সোনা জিতলেও, পুরস্কার গ্রহণ করতে এসে খানিকটা হতাশই দেখাল পাঁচলার এই ওয়েট লিফটারকে! কিন্তু কেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, “এই লড়াইটা ছিল আমার নিজের সঙ্গে। সোনা জিততে আমি আসিনি। এসেছিলাম নিজের রেকর্ডটা টপকে যেতে। চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু, শেষপর্যন্ত সেটা আর করতে পারলাম না। তাই খানিকটা খারাপই লাগছে।”

     

  • Commonwealth Games: রাজ্যের মন্ত্রী কি জানতেন গ্রামের ছেলে বিশ্ব মঞ্চে লড়াই করছে! প্রশ্ন সোনা জয়ী অচিন্ত্যর দাদার

    Commonwealth Games: রাজ্যের মন্ত্রী কি জানতেন গ্রামের ছেলে বিশ্ব মঞ্চে লড়াই করছে! প্রশ্ন সোনা জয়ী অচিন্ত্যর দাদার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভাবকে হারিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছে ভাই অচিন্ত্য। এরকম আনন্দের দিনেও উচ্ছ্বাসে ভাসতে পারছেন না দাদা অলোক শিউলি। ভাইয়ের লক্ষ্য যে অলিম্পিক। প্যারিস অলিম্পিকে যেতে হবে তাঁকে। কিন্তু তার জন্য দরকার টাকা। “এখানকার কেউ তো সাহায্য করে না।” ক্ষোভ অলোকের গলায়। মুখ্যমন্ত্রী ট্যুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন তো! তাহলে হয়তো এবার সাহায্য আসতে পারে। তবুও নিশ্চিত নয় দাদা অলোক। ভাইয়ের সাফল্যের দিনে তাঁর গলায় ক্ষোভের সুর। বললেন, ‍‘‍‘অভাবকে হারিয়ে আমি না পারলেও ভাই সেই যুদ্ধে জিতেছে। হরিয়ানা-সহ অন্য রাজ্যে এ রকম সাফল্য আনলে সরকার পুরস্কার দেয়। আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ,  কী করবেন জানি না! যুব বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জিতেছিল ভাই। এই সাফল্যের পরে কেউ খোঁজই নেননি। গত বছর জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল ও। দ্বিতীয় হওয়া ছেলেটিকে তাঁর রাজ্য কিন্তু পুরস্কৃত করেছে। আমাদের স্থানীয় সাংসদ বা বিধায়করা তো চেনেনই না অচিন্ত্য শিউলিকে! আমাদের রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী বোধহয় জানেনই না ভাই কমনওয়েলথের আসরে নেমেছে।”

    আরও পড়ুন: আশা করি এবার একটা সিনেমা দেখার সময় পাবে! অচিন্ত্যর প্রশংসায় মোদি

    বাবা রিকশা চালাতেন। অচিন্ত্যর তখন ৮ বছর বয়স। বাবা মারা গেলেন। অলোক একটু বড়। স্বামীর মৃত্যুর পর সেলাই, জরির কাজ করা শুরু করেন অচিন্ত্যর মা পূর্ণিমা শিউলি। দুই ভাইও সময় পেলেই মাকে সাহায্য করত। তাঁদের সাপ্তাহিক আয় ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। সেই টাকাতেই চলত সংসার। বাবার মৃত্যুর ধাক্কা, সংসার সামলে পড়াশোনা, কাজ ও ভারোত্তোলক হওয়ার স্বপ্নে ক্ষান্ত দেন অলোক। তবে ভাই অচিন্ত্যর ভারোত্তোলক হওয়ার স্বপ্নে ধুলো জমতে দেননি। চলতি কমনওয়েলথ গেমসে ৭৩ কেজি বিভাগে সোনা জয়ের পর সে কথা জানাতে ভোলেননি ভাই অচিন্ত্য। প্রতিক্রিয়ায় অচিন্ত্য বললেন, “এই পদক উৎসর্গ করছি দাদাকে।” যাঁর পরিশ্রম, উৎসাহ ছাড়া এতটা পথ হয়তো আসাই হত না। যাঁর জন্য পাতিয়ালায় জাতীয় শিবিরে নিশ্চিন্তে অনুশীলনে মগ্ন থাকতে পারতেন। বললেন, “দাদা ভারোত্তোলক হতে চেয়েছিল। বাবার মৃত্যুর পর তা হয়ে ওঠেনি। আমাকে সাপোর্ট করতে দিনরাত পরিশ্রম করে গিয়েছে। এখনও পরিবারের দায়িত্ব একমাত্র দাদার কাঁধে। এই সোনার পদক দাদা এবং আমার কোচদের উৎসর্গ করছি।” 

    এখন অচিন্ত্য ভারতীয় সেনাবাহিনীতে হাবিলদারের কাজ করেন। ন্যাশনাল ওয়েট লিফটিং প্রতিযোগিতায় অচিন্ত্য চতুর্থ হওয়ার পরেই সেনাবাহিনীর নজরে পড়ে যান তিনি। পরে অল ইন্ডিয়া ট্রায়ালে অংশ নিয়ে সে সেখানে সুযোগ পান। পরে ২০১৪ সালে হরিয়ানায় ন্যাশানাল গেমসে তৃতীয় হয়ে সেনাবাহিনীর স্পোর্টস ইন্সটিটিউটে (Military Sports Institute) যোগ দেন। এরপরে পাতিয়ালায় ভারতীয় শিবিরে ডাক পান অচিন্ত্য। ইতিমধ্যেই অচিন্ত্য ২০১৫ সালে ভারতে যুব কমনওয়েলথ গেমসে রূপো, ২০১৭ সালে ইউথ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ানশিপে রূপো, ২০১৯ সালে জুনিয়র বিভাগে সোনার পদক, ২০২১ সালে ওয়ার্ল্ড জুনিয়র প্রতিযোগিতায় রূপো এবং জুনিয়র ও সিনিয়র বিভাগে জোড়া সোনার পদক জয় করেছেন। এবার লক্ষ্য ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক্সে পদক জেতা। 

LinkedIn
Share