Tag: Adiala Jail

  • Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি ঘিরে দেশটিতে (Pakistan) ফের একবার উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনীর তিন প্রবীণ আধিকারিক মনে করেন, জেলেই হয়তো ইমরানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সাংবাদিক নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর সূত্রগুলির কেউই ব্যক্তিগতভাবে ইমরানকে দেখেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাংবাদিক ওয়াজাহাত ১০ আগস্ট প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিওয় এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাবাহিনীর জেনারেল সদর দফতরে কর্মরত প্রবীণ আধিকারিকদের কাছ থেকেই এই তথ্য পেয়েছেন তিনি।

    সাংবাদিকের দাবি (Imran Khan)

    ওয়াজাহাতের দাবি, অন্তত তিনজন আধিকারিক আলাদাভাবে তাঁকে জানিয়েছেন যে ইমরান আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি কবুল করেছেন, তাঁর কোনও সূত্রই ইমরানকে নিজের চোখে দেখেননি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তথ্যটি নিশ্চিত নয় এবং তিনি আশা করছেন, দাবিটি সত্য নয়। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার, আইনজীবী, দলের নেতারা এবং চিকিৎসকরা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আসছেন। তাঁর বোনেরা এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়ে বারবার আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার চিকিৎসা মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছে দলটি। ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই তাঁদের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দলের সমর্থকরা সামরিক কাঠামোয় হামলা চালিয়েছিলেন।

    মৃত্যুর দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা সোহেল আফ্রিদির দাবি, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। আফ্রিদির বক্তব্য, তাঁদের দাবি অসাংবিধানিক নয় এবং ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হবে না। পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রা করার কথা ঘোষণা করেছে। ইমরানের পরিবার ও চিকিৎসকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হলে তার আগেই বিক্ষোভের হুমকিও দিয়েছে দলটি। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকায় নতুন এই দাবি ফের সেই প্রশ্নই সামনে (Pakistan) এনেছে—ইমরান কি সত্যিই মারা গিয়েছেন? তবে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাঁর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ নেই।

    এর আগেও ছড়িয়েছিল একই ধরনের গুজব

    ইমরানের মৃত্যুর গুজব এই প্রথম নয়। গত বছরের নভেম্বরেও তাঁর পরিবার এবং দলীয় কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সমস্যায় পড়ার পর একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ২ ডিসেম্বর সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ইমরানের বোন উজমা খানুম আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ইমরান শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে তাঁকে একাকী রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নভেম্বরেই ফের একটি বড় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। আফগানিস্তান টাইমস দাবি করেছিল, আদিয়ালা জেলের ভেতরে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জেলে নির্যাতনের পর ৭২ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, এবং তাঁর মরদেহ জেলের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পাক প্রশাসন এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, ইমরান জীবিত রয়েছেন (Imran Khan)।

    ভুয়া সরকারি বিবৃতিতেও ইমরানের মৃত্যুর দাবি

    ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি হিসেবে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিচারাধীন অবস্থায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে (Pakistan)। তবে নথিটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিল, যা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। “৪২৭/২০২৫” নম্বর উল্লেখ থাকলেও, এতে যথাযথ তারিখ ছিল না। পাশাপাশি নথিতে বানান, বিরামচিহ্ন, ভাষা ও বিন্যাসের একাধিক ভুল দেখা যায়। পাকিস্তানের বা আন্তর্জাতিক কোনও বড় সংবাদমাধ্যম, বিদেশমন্ত্রক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। পরে নথিটিকে প্রকৃত সরকারি বিবৃতি নয়, বরং এডিটেড ও বিকৃত ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জেলে ইমরানের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও কিছু দাবির মধ্যেই এটিও ছড়িয়েছিল। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বহর আরও বেড়ে যায়।

    কারাগারে হামলার দাবিও ছিল ভুয়া

    ইমরানের কারাবাসকে ঘিরে শুধু মৃত্যুর গুজবই নয়, আরও নানা দাবি ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথিত চিকিৎসা প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলে ইমরান যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন (Imran Khan)। পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালের নামে প্রচারিত ওই নথিতে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এইচআইভি, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য যৌন-সংক্রমণের পরীক্ষার কথাও বলা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া ইমরানের মুক্তি সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নথিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ছিল। এতে ২০২৫ সালের ৩ মে তারিখ উল্লেখ করা হলেও, সেটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তার আগের দিনই, ২ মে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসা পরীক্ষা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসকরা করেছিলেন, পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালে নয়।

    ভুয়া তথ্য!

    এই সব অসঙ্গতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয় যে চিকিৎসা প্রতিবেদনটি আদতে ভুয়া। ইমরানের আইনজীবীরা যৌন নির্যাতনের দাবির স্বপক্ষে নিশ্চিত করে কোনও বিবৃতি দেয়নি। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকারি কোনও বিবৃতিতেও এই দাবির সমর্থন মেলেনি (Imran Khan)। ইমরানের মৃত্যু, স্বাস্থ্য এবং জেলে তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে বারবার গুজব ছড়িয়েছে মূলত তখনই, যখন তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে (Pakistan) পড়েছেন। ওয়াজাহাত সাঈদ খানের সর্বশেষ দাবিও সেই পুরনো প্রশ্নকে ফের একবার সামনে এনেছে (Imran Khan)।

LinkedIn
Share