Tag: AERO

  • Assembly Election 2026: সংবিধান মেনেই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ, আদালতে জানাতে চলেছে সিইও দফতর

    Assembly Election 2026: সংবিধান মেনেই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ, আদালতে জানাতে চলেছে সিইও দফতর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের জেরে ঘোর বিপাকে পড়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Assembly Election 2026)। সেদিক থেকে বঙ্গবাসীর দৃষ্টি ঘোরাতে কালো গাউন পরে সটান সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে একপ্রস্ত ‘নাটক’ করেন (অন্তত বিরোধীদের দাবি এমনই) তৃণমূল সুপ্রিমো। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দেশের শীর্ষ আদালতে মমতার এই সওয়াল রাজ্যের শাসকদলের কাছে (Micro Observer) এখন সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

    মাথাব্যথার কারণ (Assembly Election 2026)

    আর লজিকাল ডিসক্রিপ্যান্সির পাশাপাশি মূল মাথাব্যথার কারণ ভিনরাজ্যের রোল অবজার্ভার ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারি মাইক্রো অবজার্ভাররা। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় রোল অবজার্ভার থেকে মাইক্রো অবজার্ভারদের নিযুক্তি নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী ও অসাংবিধানিক বলে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেছেন মমতা ও তাঁর দল। যদিও পরিস্থিতির বিচারে সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে রোল অবজার্ভার,  মাইক্রো অবজার্ভার নিযুক্তির সিদ্ধান্ত বলে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন এবং  সিইও দফতর। রাজ্যের সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, “সাংবিধানিক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে থেকেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালতে যথাযথ উত্তর দেওয়া হবে।”

    মাইক্রো অবজার্ভারদের উল্লেখ

    বস্তুত, ১৯৫১ সালের ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচনী মাইক্রো অবজার্ভারদের উল্লেখ থাকলেও ১৯৫০ এবং ১৯৫১ ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে কোথাও ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে মাইক্রো অবজার্ভার এবং রোল অবজার্ভারের উল্লেখ নেই। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র বঙ্গের এসআইআরে মাইক্রো অবজার্ভারদের নিযুক্ত করল কেন? ভোটার তালিকা তৈরিতে ইআরও সর্বোচ্চ ক্ষমতার আধিকারি হলেও তাঁদের কাজ যাচাইয়ের নামে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ কেন?  কমিশনের ব্যাখ্যা, ভারতীয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ ও ১৯৫১ কোথাও ভোটার তালিকার কাজে মাইক্রো অবজার্ভারদের (Micro Observer) কথা উল্লেখ না থাকলেও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ (৬) অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরির জন্য যে কোনও ধরণের ব্যক্তিকে নিযুক্ত করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে (Assembly Election 2026) নির্বাচন কমিশন তথা সিইও-কে। সেই ক্ষমতা কজে লাগিয়েই ইআরও-এইআরওরা যে শুনানি তথ্য বা নথি আপলোড করছেন সেগুলির বিশেষ নিরীক্ষার জন্য রোল অবজার্ভার ও মাইক্রো অবজার্ভাদের নিযুক্ত করা হয়েছে।

    এসআইআরের কাজ

    এসআইআরের কাজে রাজ্য সরকার যদি প্রয়োজনীয় বা উপযুক্ত কর্মী দিত তাহলে তামিলনাড়ু বা অন্য রাজ্যের মতো এরাজ্যেও মাইক্রো অবজার্ভারের প্রয়োজন পড়ত না বলেও জানিয়েছে কমিশন। এমনকি ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য সরকার অসহযোগিতা করায় ডেটা রেকর্ড ও আপলোড করার জন্য বাড়তি চাপ পড়েছে বিএলওদের বলেও যুক্তি আধিকারিকদের (Micro Observer)। উল্লেখ্য যে, এসআইআর শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে ডেপুটেশনে ২৯৪ জন ইআরও এবং প্রথম দফায় ৩,০৬৮ জন এবং তারও পরে আরও দুই দফায় প্রায় ৫ হাজার এইআরও পদমর্যাদার রাজ্য সরকারি কর্মীর অনুমোদন দেয়। এছাড়াও প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও অন্যান্য মিলিয়ে ৮০ হাজারের বেশি বিএলও এবং বিএলও সুপারভাইজার কমিশনকে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। তাছাড়া পদাধিকারবলে জেলশাসকরা তো জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের ভুমিকা পালন করছেন। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ইআরও হিসেবে (Assembly Election 2026) এসডিও এবং এইআরও হিসেবে রাজ্য সরকারের ক্লাস ওয়ান অফিসার পদমর্যাদার কর্মী চাওয়া হলেও রাজ্য বহুক্ষেত্রে গ্রুপ বি আধিকারিক অথবা জুনিয়রদের দেওয়ায় বিপত্তি বেড়েছে। যদিও রাজ্যের বক্তব্য, প্রশাসনিক কাজ চালানোর স্বার্থে সব ক্ষেত্রে এসডিওদের না দেওয়া গেলেও সমতুল পদমর্যাদার অফিসারদের অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সিইওর বক্তব্য

    যদিও সিইওর বক্তব্য, একনাগাড়ে ২৭-২৮ বছর কাজ করার পর একজন রাজ্য ক্যাডারের সিভিল সার্ভিস আধিকারিক তাঁর কাজের বিচারে আইএএস ক্যাডারে উন্নীত হতে পারেন। নির্বাচনের কাজে তো প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাও দরকার। সেক্ষেত্রে রাজ্যের কর্মী তালিকায় পর্যাপ্ত উপযুক্ত কর্মীই মেলেনি। তাই নথি যাচাইয়ের জন্য কমিশনের কাছে অতিরিক্ত কর্মীর আবেদন জানায় সিইও দফতর (Micro Observer)। কমিশনের অনুমতিতেই কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর বা সংস্থা থেকে উপযুক্ত কর্মী নেওয়া হয় যাদের পোশাকি নাম মাইক্রো অবজার্ভার অথবা রোল অবজার্ভার (Assembly Election 2026)। যদিও এদের প্রশিক্ষণ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের। ইআরওদের ওপর আস্থা না রেখে মাথার উপর মাইক্রো অবজার্ভারদের যুক্ত করার যুক্তি কি? উঠেছে পাল্টা প্রশ্ন। সিইও’র যুক্তি, “যখন ইআরও সংবিধানিক দায়দায়িত্ব লঙ্ঘন করে লগ ইন আইডি অন্যকে শেয়ার করেন, যখন অস্তিত্বহীন ভোটারদের ভোটার তালিকায় নাম ঢোকানো হয়, ইআরও-এইআরও যখন নিজের ক্ষমতার উর্ধ্বে উঠে বেআইনিভাবে আরও একাধিক ব্যক্তিকে এইআরও বানিয়ে দেন তখন আস্থার মর্যাদা কোথায় থাকে? ”  সব মিলিয়ে আস্থা-অনাস্থার দোলাচলে রাজ্যের সাধারণ ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় কমিশন-রাজ্য এই ধর্মযুদ্ধ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে চিন্তায় নির্বাচনী আধিকারিকরাই (Assembly Election 2026)।

     

  • SIR in Bengal: খসড়া তালিকা থেকে বাদ ৫৮ লাখের বেশি নাম! শুনানির জন্য ডাকা হবে কাদের?

    SIR in Bengal: খসড়া তালিকা থেকে বাদ ৫৮ লাখের বেশি নাম! শুনানির জন্য ডাকা হবে কাদের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে শেষ হল এনুমারেশন প্রক্রিয়া। রোজই একটু একটু করে লম্বা হচ্ছিল তালিকাটা। বাড়তে বাড়তে এবার ৫৮ লক্ষ ছাপিয়ে গেল রাজ্য়ে আনকালেক্টেড ফর্মের সংখ্যা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্যে ১০০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম বিলি হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে ৯৯.৯৬ শতাংশ ডিজিটাইজেশনও হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গে। সেই তালিকায় কোনও অভিযোগ থাকলে, ত্রুটি থাকলে কমিশনকে জানাতে হবে। তার ভিত্তিতে হবে শুনানি।

    বাদ পড়া ভোটারের কে কোন বিভাগে 

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এনুমারেশন পর্ব শেষে মোট ৫৮ লক্ষ ৮ হাজার ২০২ জনের নাম বাদ পড়তে চলেছে। খসড়া তালিকাতে এই পরিসংখ্যানে সামান্য হেরফের হতে পারে। তবে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কমিশন সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন। এ ছাড়া, ১২ লক্ষ ১ হাজার ৪৬২ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। কোনও ভোটারের খোঁজে সংশ্লিষ্ট বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) যদি তাঁর বাড়ি থেকে তিন বার বা তার বেশি ঘুরে আসেন, কিন্তু ওই ভোটারের খোঁজ যদি তার পরেও না-পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে তাঁদের নিখোঁজ তালিকায় রাখা হয়। পশ্চিমবঙ্গের খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ৫০ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিল আগেই। মৃত, স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজ ভোটারের সংখ্যা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেল। এ ছাড়া, এ রাজ্যে মোট ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৭ জন ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল। ফলে একটি জায়গায় রেখে বাকি জায়গা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৭৫ জন ভোটারকে কমিশন ‘ভুয়ো’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। তাঁদের নামও খসড়া তালিকায় থাকবে না। এ ছাড়া, আরও ৫৭ হাজার ৫০৯ জনকে রাখা হয়েছে ‘অন্যান্য’ তালিকায়। তাঁরাও বাদ পড়তে চলেছেন।

    কীভাবে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হবে

    সূত্রের খবর, ভোটারদের মোট তিনটি তালিকায় ভাগ করেছে কমিশন— নিজস্ব ম্যাপিং, প্রজেনি ম্যাপিং এবং নন-ম্যাপিং। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (রাজ্যে শেষ বার এসআইআর হয়েছিল ২০০২ সালে) যাঁদের নাম ছিল, তাঁরা নিজস্ব ম্যাপিংয়ের তালিকায় পড়ছেন। এমন ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ১৮৮ জন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাঁদের নাম ২০০২ সালের তালিকায় না-থাকলেও বাবা-মা বা আত্মীয়ের নাম আছে, তাঁরা প্রজেনি ম্যাপিং তালিকায় রয়েছেন। রাজ্যে তেমন ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৩৯ জন। এ ছাড়া, ৩০ লক্ষ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের নিজেদের নাম বা আত্মীয়ের নামও ২০০২ সালের তালিকায় নেই। তাঁরা নন-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত। এই তৃতীয় তালিকার সকলকেই কমিশনের তরফে শুনানিতে ডাকা হবে। তাঁদের তথ্যপ্রমাণ, নথি যাচাই করে দেখা হবে। এ ছাড়া, প্রথম দুই তালিকার ভোটারদের মধ্যে কারও তথ্যে সন্দেহ থাকলে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হতে পারে। সব দেখে শুনে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি।

  • SIR in Bengal: রাজনৈতিক এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক, বাংলায় মৃত-ভুয়ো ভোটার কত? তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন

    SIR in Bengal: রাজনৈতিক এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক, বাংলায় মৃত-ভুয়ো ভোটার কত? তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কাজ শেষ। এসআইআর-এর মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত মৃত, স্থানান্তরিত এবং অনুপস্থিত বা নিখোঁজ ভোটারের যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টের হাতে তুলে দিতে বলল নির্বাচন কমিশন। ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, এনিউমারেশন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পোলিং স্টেশন পুনর্বিন্যাসের কাজও শেষ হচ্ছে এ দিন।

    রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক

    বুধবার রাজ্যের সিইও দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ১১ ডিসেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মৃত, ভুয়ো, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে কোন বুথে কত মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত ও ভুয়ো ভোটার রয়েছেন তার তালিকা তৈরি করছেন বিএলও-রা। কাজ শেষ হয়ে গেলেই তাতে বিএলও ও বিএলএ স্বাক্ষর করবেন। তার পরে বিএলও অ্যাপের নতুন অপশন ‘BLO-BLA MOM’-এ সেই তালিকা আপলোড করে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছে কমিশন।

    বিহারের নিয়মেই বাংলায় এসআইআর

    বিহারের এসআইআরে যে নিয়ম মানা হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও তা মানতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। বুধবার কমিশনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের বলা হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই মৃত, স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজদের তালিকা বিএলএ-দের দেখাতে হবে। প্রতি রাজনৈতিক দল যে কর্মীদের এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ করেছে, তাঁদের হাতে তালিকা তুলে দেওয়া হবে। যাঁরা একাধিক বার ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, একটি জায়গার তালিকায় তাঁদের নাম রেখে বাকি জায়গা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, যাঁদের বাড়িতে তিন বার বা তার বেশি গিয়েও বিএলও ফিরে এসেছেন, যাঁদের খোঁজ পাওয়া যায়নি, তাঁদেরও নাম খসড়া তালিকায় থাকবে না।

    বৈধ ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না-পড়েন তাই বৈঠক

    পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। মোট পাঁচ লক্ষ বিএলও এই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন। এ ছা়ড়া, বিভিন্ন দলের বিএলএর সংখ্যা ১২ লক্ষেরও বেশি। কমিশন জানিয়েছে, বুথ স্তরে এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বিএলওরা। তাতে প্রাথমিক ভাবে খসড়ায় কোনও ভুল থাকলে তা ধরা পড়বে এবং সংশোধন করে নেওয়া যাবে। কোনও বৈধ ভোটার যাতে তালিকা থেকে বাদ না-পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই বিএলও-বিএলএ বৈঠক প্রয়োজন, জানিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে আনকালেক্টেবল এনিউমারেশন ফর্মের সংখ্যা প্রায় ৫৭ লক্ষ। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ

    প্রসঙ্গত, মূলত চারটি ক্ষেত্রে একটি ফর্ম ‘আনকালেক্টবল’ থাকে। যদি কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়ে থাকে, দ্বিতীয়ত যদি কোনও ভোটারের দুই জায়গায় ভোটার কার্ড থাকে, তৃতীয়ত যদি কোনও ভোটার নিখোঁজ থাকেন এবং চতুর্থ হল যদি কোনও ভোটার পাকাপাকিভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়ে যান। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে ভোটার তালিকা ত্রুটিভুক্ত করতে রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর। কাজে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে তা নিশ্চিত করতে বারবার বৈঠক করছে কমিশন। বাংলা-সহ যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর হচ্ছে সেখানে অবর্জাভার পাঠানো হচ্ছে। তাঁরা খতিয়ে দেখছে পরিস্থিতি। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৩,৭৪,৪৬০ জন অনুপস্থিত ভোটারের একটি তালিকা বিএলও-দের কাছে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কাজও প্রায় শেষ। এর পরে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই মৃত, ভুয়ো, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

    তালিকা কোথায় দেখবেন?

    নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং বুথ ভিত্তিক মৃত-ভুয়ো-স্থানান্তরিত-অনুপস্থিত ভোটারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই তালিকা দেখা যাবে ডিইও-এর ওয়েবসাইটে। পাশাপাশি রাজ্যের সিইও-এর ওয়েবসাইটেও তালিকা দেখতে পারবেন ভোটাররা। কোনও ভোটার চাইলে নিজের এপিক নম্বর দিয়েও সার্চ করতে পারবেন। মৃত, ভুয়ো, অনুপস্থিত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের তালিকার পরে আগামী ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এই সংক্রান্ত দাবিদাওয়া এবং অভিযোগ জানানো যাবে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা, বিতর্কের নিষ্পত্তি করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।

     

     

     

     

  • SIR in Bengal: অপসারণের পরেও কাজ! বারুইপুরে দুই বিএলও-সহ চার জনকে শোকজ কমিশনের

    SIR in Bengal: অপসারণের পরেও কাজ! বারুইপুরে দুই বিএলও-সহ চার জনকে শোকজ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেও এমুনারেশন ফর্ম (Enumeration Form) আপলোড করেছেন এক বিএলও (BLO)। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিএলও-র পাশাপাশি অপর আর এক বিএলও এবং তাঁদের কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইআরও, এইআরও-কেও শোকজ করল কমিশন (Election Commission)। বারুইপুর পূর্বের ৯৪ নম্বর বুথের দুই বিএলও (বুথ স্তরের আধিকারিক), ইআরও (ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার), এবং এইআরও (সহকারী ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-কে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলেছে কমিশন।

    দুই বিএলও, ইআরও এবং এইআরও-কে শো কজ

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের হাড়দহের ৯৪ নম্বর বুথে (Booth Number 94) প্রথম যিনি বিএলও ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তৃণমূলের স্থানীয় পদাধিকারী। তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। ওই বিএলও-কে নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ায় তাঁকে রিমুভ করে দ্রুত অন্য একজনকে বিএলও (BLO) হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু অভিযোগ, অপসারণের পরেও ওই বিএলও কাজ করে যান। ওই বুথে নতুন যে বিএলও এসেছেন, তিনি নিযুক্ত হয়েও পুরনো বিএলও-কে কাজ চালিয়ে যেতে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। আগে ওই বুথে বিএলও ছিলেন সোমা সেন। পরে বিএলও হয়েছিলেন দেবী হালদার। পর্যবেক্ষক দুই বিএলও-র সই দেখে চিহ্নিত করেছেন। ওই বুথে ইআরও হলেন দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী। দুই বিএলও, ইআরও এবং এইআরও-কে শো কজ করেছে কমিশন। কমিশন সূত্রে আগেই জানানো হয়েছিল, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সেই সূত্রে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট অফিসারদের শোকজ করে কারণ দর্শাতে বলেছে কমিশন।

    দোষ প্রমাণিত হওয়ায় কড়া পদক্ষেপ

    বাংলার এসআইআরের (SIR in West Bengal) কাজ সুস্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখতে একাধিক রোল অবজার্ভার (Roll Observer) রাজ্যে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। তাঁদেরই একজন সি মুরুগান। সূত্রের খবর, তিনিই এই বিষয়টি প্রথম লক্ষ্য করে স্পেশ্যাল অবজার্ভার (Special Observer) সুব্রত গুপ্তকে জানান। পরে তিনি সিইও দফতরে (CEO Office) রিপোর্ট দেন এবং সিইও দফতর কমিশনকে জানায়। শুধু ওই বিএলও নন, তাঁর জায়গায় যিনি কাজের জন্য নিযুক্ত হয়েছিলেন সেই বিএলও এবং ওই এলাকার ইআরও, ডিইও-র ভূমিকাও খতিয়ে দেখে কমিশন। দোষ প্রমাণিত হওয়ায় এরপরই কড়া পদক্ষেপ করা হল।

    স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভারের কাজ

    নানা ঘটনার পর ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR West Bengal) পর্বে আরও কঠোর হয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। গত শুক্রবারের বৈঠকেই যার ইঙ্গিত মিলেছিল। সোমবার সকালেই সেই ইঙ্গিতকে বাস্তবায়িত করে কমিশন নতুন নির্দেশিকা জারি করে। পাঁচ ডিভিশনে পাঁচজন শীর্ষস্থানীয় আইএএস অফিসারকে স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার (Special Roll Observer) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। যাঁদের প্রত্যেকেই কেন্দ্রের মন্ত্রকের যুগ্মসচিব। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব থাকবে তিনটি বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা। কোনও যোগ্য নাগরিক যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, তা দেখাই বিশেষ পর্যবেক্ষকদের প্রধান কাজ। কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে তালিকায় ঢুকতে না পারেন, তা-ও খেয়াল রাখতে হবে। দাবি–আপত্তি থেকে গণনা, নোটিস নিষ্পত্তি এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ – প্রতিটি ধাপে কঠোর পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন এঁরা।

LinkedIn
Share