Tag: Afghanistan

Afghanistan

  • India: আফগানিস্তানের দিকে ‘মানবিকতা’র হাত বাড়াল পাকিস্তান, পাঠানো হল জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী

    India: আফগানিস্তানের দিকে ‘মানবিকতা’র হাত বাড়াল পাকিস্তান, পাঠানো হল জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার আফগানিস্তানের দিকে ‘মানবিকতা’র হাত বাড়াল নরেন্দ্র মোদির ভারত (India)।  ১৬ মার্চ পাকিস্তানের হামলায় যাঁরা জখম হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসা এবং তাঁরা যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাই কাবুলে ২.৫ টন জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর (Medical Aid) একটি চালান পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (India)

    ১৬ মার্চের ওই নৃশংস হামলায় বহু মানুষ জখম হন। তার জেরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিদেশমন্ত্রকের (MEA) মতে, এই চালানে জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কিট এবং অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, যা আপৎকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করতে পাঠানো হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “১৬ মার্চের নৃশংস হামলায় আহতদের চিকিৎসা ও দ্রুত আরোগ্যের সহায়তায় ভারত কাবুলে ২.৫ টন জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কিট এবং যন্ত্রপাতি পাঠিয়েছে।” তিনি এও বলেন, “ভারত (India) আফগান জনগণের পাশে রয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে সব ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”

    মোদি সরকারের মানবিক মুখ

    এই প্রথম নয়, মোদি সরকারের মানবিক মুখ আগেও দেখেছেন আফগানরা। গত সেপ্টেম্বরে ভূমিকম্পের জেরে বস্তুত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তালিবান-শাসিত আফগানিস্তান। তার পরে পরেই ভারত আফগানিস্তানে মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে মৃত্যু হয়েছিল কমবেশি ১৪০০ জনের। এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশও করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানকে সর্বতোভাবে মানবিক সাহায্য করতে প্রস্তুত ভারত। পরে নয়াদিল্লি কাবুলে পাঠিয়েছিল চালের বস্তা, তাঁবু এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বোঝাই ট্রাক। সেই সময় জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, ভারত কাবুলে হাজারটি পরিবারের জন্য তাঁবু পাঠিয়েছে। খাদ্য সামগ্রী পাঠানো হয়েছে ১৫ টন।

    প্রসঙ্গত, সোমবারই পাক বিমানবাহিনী হামলা চালায় কাবুলের একটি বড় রিহ্যাব হাসপাতালে। আফগানিস্তানের দাবি, ওই হামলায় নিহত হয়েছেন ৪০০জন। জখম হয়েছেন ২৫০ জন। পাক হামলার (Medical Aid) সময় হাসপাতালটি ভর্তি ছিল রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীতে (India)। তা সত্ত্বেও সেখানে হামলা চালানো হয়েছিল বলেই দাবি কাবুলের।

     

  • Pak Airstrike on Hospital: ‘সামরিক অভিযানের নামে গণহত্যা’, কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলার কড়া নিন্দা ভারতের

    Pak Airstrike on Hospital: ‘সামরিক অভিযানের নামে গণহত্যা’, কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলার কড়া নিন্দা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বর্বরোচিত’ এবং ‘কাপুরুষোচিত’-র মতো কাজ করেছে পাকিস্তান (Pak Airstrike on Hospital)। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর হামলার কড়া নিন্দা করল ভারত। এই হামলায় অন্তত ৪০০ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই হামলার প্রতিবাদ করে ভারত বলেছে, ‘এই হামলা আদতে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপরে আঘাত যা আঞ্চলিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করবে।’ নয়াদিল্লি জানিয়েছে, সোমবার রাতে পাকিস্তান যা করেছে, তা এক নৃশংস গণহত্যা। এখন সেই গণহত্যাকে ‘সামরিক অভিযান’ বলে চালানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

    কোনও যুক্তিতেই ‘সামরিক নিশানা’ নয়

    ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়, রমজান মাসে শান্তি এবং দয়া প্রদর্শন করে থাকেন গোটা বিশ্বের মুসলিমরা। কিন্তু রমজান মাসেই যেভাবে হামলা হয়েছে সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। হাসপাতালকে নিশানা করে হামলা চালানোটা কোনওভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। পাকিস্তান যেভাবে জঘন্য হামলা চালিয়েছে সেটা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বে আঘাত। অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতে বারবার এভাবেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। কাবুলের হাসপাতালে পাক হামলার তীব্র নিন্দা করে নয়াদিল্লির তোপ, পাকিস্তান সামরিক অভিযানের নামে আফগানিস্তানে গণহত্যা চালিয়েছে। যে হামলায় এত জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়, সেটিকে কোনও যুক্তিতেই ‘সামরিক নিশানা’ বলে দেখানো যায় না। এই হামলাকে পাকিস্তানের ‘আগ্রাসী’ মনোভাব বলে বর্ণনা করেছে ভারত।

    পাকিস্তানের ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণ

    সোমবার রাতে ২০০০ শয্যার এই হাসপাতালে পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ্ ফিতরাত। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতালটিতে হামলা হয়েছে। হামলার জেরে হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ৪০০ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২৫০ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে বলেও প্রাথমিক ভাবে জানান ফিতরাত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই হামলা শুধু আফগানিস্তানের উপর নয়, গোটা এলাকার শান্তি এবং স্থিতাবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। এটি পাকিস্তানের ধারাবাহিক বেপরোয়া আচরণকেই ফের এক বার প্রকট করল বলে মনে করছে দিল্লি। প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। গতবছর ভয়ানক ভূমিকম্পের পর আফগানিস্তানকে বিপুল ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত। কাবুলে পুরোপুরি সক্রিয় হয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। ভারতে প্রথমবার নিযুক্ত হয়েছেন তালিবান রাষ্ট্রদূত। নানা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। দুই দেশই একযোগে বারবার তুলোধোনা করেছে পাকিস্তানকে।

  • Pak Airstrike on Kabul: কাবুলের হাসপাতালে বিমান হানা পাকিস্তানের, ঝলসে মৃত্যু ৪০০ জনের, আহত ২৫০-র বেশি

    Pak Airstrike on Kabul: কাবুলের হাসপাতালে বিমান হানা পাকিস্তানের, ঝলসে মৃত্যু ৪০০ জনের, আহত ২৫০-র বেশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারবার প্রতিবেশী দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পেরে না উঠে সেই দেশের সাধারণ মানুষকে নিশানা করে পাকিস্তান (Pak Airstrike on Kabul)। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। কাবুলের হাসপাতালে ভয়ঙ্কর হামলা চালাল ইসলামাবাদ। তালিবান প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোররাতে আফগান রাজধানীর উপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই হামলায়। আহত আড়াইশো জন। যদিও পাকিস্তানের দাবি, আমজনতাকে লক্ষ্য করে হামলা হয়নি। কিন্তু তালিবান প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, পাক হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে হাসপাতাল। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে ঘটনাস্থলে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী।

    ধ্বংসস্তূপে পরিণত হাসপাতাল

    গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলছে। সোমবারও দু’দেশের সীমান্তে গুলির লড়াই হয়েছে। গোলাগুলিতে আফগান তালিবান বাহিনীর চার সৈন্য নিহত হন। ওই গোলাগুলির কয়েক ঘণ্টা পরেই খবর ছড়ায়, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিতে হাসপাতালের কিছু ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়েছে (ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম)। ফুটেজগুলিতে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যেরা টর্চের আলো জ্বালিয়ে হাসপাতাল থেকে জখমদের উদ্বার করছেন। হাসপাতাল ভবনটির একটি বড় অংশ দৃশ্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারদিকে আগুন জ্বলছে। সেই আগুন নেবানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন একদল দমকলকর্মী।

    রোজা ভাঙার সময় আক্রমণ

    সোমবার রাতে ২০০০ শয্যার এই হাসপাতালে পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, কাবুলের ওই হাসপাতালটি মূলত নেশামুক্তি কেন্দ্র। বরাবরই সেখানে রোগীদের ভিড় থাকে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতালটিতে হামলা হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, অনেকেই ওই সময় রোজা ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেসময়েই হামলা করেছে পাকিস্তান। হামলার জেরে হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ৪০০ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২৫০ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে বলেও প্রাথমিক ভাবে জানান ফিতরাত। আকাশপথে হাসপাতালে হামলার ঘটনায় সরাসরি পাকিস্তানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে আফগানিস্তান।

    ‘নীতিবিরুদ্ধ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

    হাসপাতালে হামলার কথা অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। তাদের দাবি, হাসপাতাল নয়, সামরিক ঘাঁটি, যাকে তারা জঙ্গি ঘাঁটি বলে উল্লেখ করেছে, সেখানেই চালানো হয়েছে এই হামলা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি কাবুলের দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কান্দাহার বিমানবন্দর, পাক্তিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী কাবুলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলা চালানো হয়েছে কান্দাহার শহরের তালিবানের আল-বদর কর্পসের সদর দফতরেও। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ কাবুলের হাসপাতালে হামলার নিন্দা করে পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান নিজেদের ‘নৃশংস কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যাওয়ার জন্যই হাসপাতাল এবং অসামরিক ভবনগুলিকে নিশানা করছে। এই হামলা ‘নীতিবিরুদ্ধ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেছেন তালিবান সরকারের মুখপাত্র।

  • Pakistan: আফগানিস্তানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান, কারণ কী?

    Pakistan: আফগানিস্তানে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই বাড়ছে পাকিস্তান (Pakistan)- আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত বরাবর চলা সংঘাতের ঝাঁঝ। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে এই সংঘাত। তা কমার কিংবা স্থায়ী সমাধানের কোনও লক্ষণ এখনই দেখা যাচ্ছে না। গত বছর কাতার-সহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় দু’দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা এখন কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে। কারণ পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে আফগানিস্তানে (Afghanistan) হামলা চালিয়েই যাচ্ছে।

    আফগান ভূখণ্ডে ব্যাপক হামলা (Pakistan)

    সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহেই আফগান ভূখণ্ডে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। যার জেরে আফগানভূমে পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে নারী ও শিশু-সহ নিরীহ সাধারণ মানুষের জীবন। জানা গিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ২০০-টিরও বেশি রকেট ও আর্টিলারি শেল ছুড়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের একাধিক অঞ্চল। কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর জানিয়েছে, তীব্র হামলা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর মেলেনি।

    পাল্টা আঘাত আফগানিস্তানের

    পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে তীব্র হতে শুরু করেছে। এখনও উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণ নেই। পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালানো শুরু করে এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (TTP) ঘাঁটিগুলিকে টার্গেট করে। এর প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্বাধীন সরকার সীমান্তের ওপারে পাক ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালায় (Pakistan)। কাবুল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের এই হামলা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন (Afghanistan)।

    ‘নৃশংস আগ্রাসন’

    পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলেও নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। তালিবান নেতৃত্বাধীন সরকারের অভিযোগ, পাকিস্তান নির্বিচারে অসামরিক এলাকাকে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে মৃত্যু হয়েছে নারী ও শিশুর। তালিবান সরকারের অভিযোগ, কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছে একটি বেসরকারি এয়ারলাইনের জ্বালানি ডিপোয়ও বোমা ছুড়েছে পাকিস্তান। তালিবান সরকার আরও জানিয়েছে, পূর্ব আফগানিস্তানের একটি প্রদেশে পাকিস্তানের আর্টিলারি হামলায় একই পরিবারের চারজন সদস্য নিহত হয়েছে, যার মধ্যে দু’জন আবার শিশু। কাবুল ইসলামাবাদের এই হামলাকে ‘নৃশংস আগ্রাসন’ বলে নিন্দে করেছে। তারা জানিয়েছে, এর জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।

    কাবুলের অভিযোগ

    পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তার ফলে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। তবে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, পাকিস্তান জঙ্গিদের আড়াল করতেই এমনতর অভিযোগ করছে (Pakistan)। কাবুলের অভিযোগ, পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে আফগানিস্তানে (Afghanistan) হামলা চালিয়ে মিথ্যে খবর রটাতে চাইছে। এসব করে তারা অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

    পাক-আফগান সংঘর্ষের এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লিও আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাগুলিকে বাইরের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে (Pakistan)।

     

  • Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    Iran: “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে পড়তে পারে পাকিস্তানও”, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাকিস্তান (Pakistan) তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ দিয়েছে। এই ভূমিকার জন্য পাকিস্তানকে মূল্য চোকাতে হবে। এর জবাবে ইরানি (Iran) ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখেও পড়তে পারে পাকিস্তান।” এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সিনিয়র কমান্ডার সারদার হোসেইন নেজাত। উল্লেখ্য, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এজন্য পাকিস্তান তার আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এই সতর্কবার্তা।

    ইরান-পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের মানচিত্র (Iran)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টটিতে ইরান ও পাকিস্তানের যৌথ সীমান্তের একটি মানচিত্র সংযুক্ত ছিল। সেখানে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকাকে দৃশ্যত চিহ্নিত করে সম্ভাব্য দুর্বল অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে ইরান পাকিস্তানকে টার্গেট করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মানচিত্রে পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চল থেকে ইরানে প্রবেশের রুটও দেখানো হয়েছে এবং সীমান্ত বরাবর সম্ভাব্য দুর্বল স্থানগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে (Pakistan)। সারদার হোসেইন নেজাত বলেন, “আমাদের নির্ভুল তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসন ইরানের ওপর হামলায় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেছে। পাকিস্তান খুব শিগগিরই এর মূল্য দেবে এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির মতো আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিরাপদ থাকবে না।”

    ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

    প্রসঙ্গত, ১ মার্চ পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনাই-এর মৃত্যু হয়। তারপরেই বিক্ষোভ হিংসার রূপ নেয় এবং অন্তত ২৩ জন নিহত হন। করাচিতে একদল বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের প্রাচীর ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন (Iran)। পাকিস্তানের বৃহত্তম শহর করাচির মাই কোলাচি রোডে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হন। সবচেয়ে গুরুতর হিংসার ঘটনা সেখানেই ঘটে। কিছু যুবক কনস্যুলেটের বাইরের ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে মূল ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে (Pakistan)। পুলিশ সার্জন সুম্মাইয়া সাঈদ জানান, অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ জন জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক (Iran)।

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সেনা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নিঃশর্তভাবে অনুগত বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে পাকিস্তান যে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না, সেই ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের গোপন যোগাযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের চাপের মুখে রয়েছে। যদি ইরান ইসলামাবাদের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে পাকিস্তান আফগানিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাও বাড়তে পারে (Iran)।

     

  • CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আরও দু’টি কমিটি গঠন কেন্দ্রের

    CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আরও দু’টি কমিটি গঠন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), ২০১৯-এর অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আরও দুটি অতিরিক্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (CAA)। রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর (Citizenship Applications)। এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গে এখন মোট চারটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি সিএএর আওতায় দাখিল হওয়া নাগরিকত্ব দাবিগুলি পরীক্ষা ও নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকবে।

    কেন আরও কমিটি গঠন? (CAA)

    প্রশ্ন হল, কেন আরও কমিটি গঠন করা হল? সোমবার জারি করা এক সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংশোধিত আইনের অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সম্প্রসারণ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল। আধিকারিকরা জানান, নতুন কমিটিগুলি মুলতুবি মামলাগুলির যাচাই ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে। সিএএর বিধি আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ মার্চ, ২০২৪-এ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয়। সংসদে আইনটি পাস হওয়ার প্রায় চার বছর পর তা কার্যকর করা হয় (CAA)। সর্বশেষ গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির সভাপতি হবেন ভারত সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার নীচে নন—এমন এক আধিকারিক, যাঁকে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জনগণনা কমিশনার মনোনীত করবেন।

    কমিটির গঠন প্রণালী

    এছাড়ও কমিটিগুলিতে থাকবেন সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর একজন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট এলাকার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর একজন মনোনীত প্রতিনিধি, ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (এনআইসি), পশ্চিমবঙ্গের স্টেট ইনফরমেটিক্স অফিসার কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি, পশ্চিমবঙ্গের পোস্ট মাস্টার জেনারেল অথবা সমপদমর্যাদার কোনও মনোনীত ডাক কর্মকর্তা। এছাড়াও, কমিটির কার্যক্রমে দু’জন আমন্ত্রিত সদস্য অংশ নেবেন। এঁরা হলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রধান সচিব (স্বরাষ্ট্র) বা অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বরাষ্ট্র)-এর দফতরের একজন প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের দফতরের একজন প্রতিনিধি। এর আগে, ১১ মার্চ ২০২৪-এ জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ডিরেক্টর (সেন্সাস অপারেশনস) এবং সেখানে মোট সাতজন সদস্য ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ সালে পাস হয় এবং ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকার বিধি জারি করার পর তা কার্যকর হয়। এই আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আগত নথিবিহীন অ-মুসলিম অভিবাসীরা, যাঁরা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি পথ তৈরি করা হয়েছে (Citizenship Applications)। আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই এটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে (CAA) রয়ে গিয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিবাদ হয়েছে।

     

  • Pakistan Afghanistan War: ডুরান্ড লাইনে বিস্ফোরণ-এয়ারস্ট্রাইক! রাতভর হামলা, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ পাকিস্তানের

    Pakistan Afghanistan War: ডুরান্ড লাইনে বিস্ফোরণ-এয়ারস্ট্রাইক! রাতভর হামলা, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধে’ নামল পাকিস্তান (Pakistan Afghanistan War)। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দহার, পাকতিকায় পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কাবুল। পাল্টা হানায় পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। যদিও এই পরিসংখ্যান মানতে রাজি নয় ইসলামাবাদ। তাদের পাল্টা দাবি, দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। উল্টো দিকে মারা গিয়েছেন ৩৬ জন আফগান সেনা। শুক্রবার ভোর থেকেই কাবুলে বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তালিবান সরকার জানায়, তারা বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন সংলগ্ন বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং পোস্ট দখল করে ফেলেছে। তবে পাকিস্তান এসব দাবি অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, আফগান যোদ্ধাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    পাকিস্তানের অপারেশন ঘাজাব লিল হক

    ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ঘাজাব লিল হক’ নামের সামরিক অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “যে কোনও আগ্রাসী বাসনাকে ধ্বংস করতে সক্ষম আমাদের সামরিক বাহিনী।” ইসলামাবাদের দাবি, পাক-আফগান সীমান্ত বরাবর আফগানিস্তানের আগ্রাসী আচরণের মোকাবিলা করতেই তাদের এই পদক্ষেপ। শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ডুরান্ড লাইন (পাক-আফগান আন্তর্জাতিক সীমান্ত) বরাবর ইসলামাবাদ হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তালিবানের। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ্ তারারের পাল্টা দাবি, আফগান হানায় দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তিন জন। পাকিস্তানের হানায় ৩৬ জন তালিব যোদ্ধা মারা গিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    পাক সেনার এফ-১৬ ভেঙে পড়ার ভিডিও ভাইরাল

    যুদ্ধ ঘোষণার পরেই পাক সেনার এফ ১৬ ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। আফগান প্রশাসনের দাবি, তারাই গুলি করে নামিয়েছে ওই যুদ্ধবিমান। সেই দাবি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। তবে, একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, ভিডিওটি ভুয়ো। এআই-এর সহায়তায় তৈরি। ভিডিওতে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি। তবে, সীমান্তে রক্তক্ষয়ী  সংঘাতের জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে আফগানিস্তান। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ্ মুজাহিদ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে লিখেছেন, “ভীরু পাক সেনা কাবুল, কান্দাহার, পাকতিকার কিছু এলাকায় বিমানহানা চালিয়েছে। ভাগ্যক্রমে কোনও মৃত্যুর খবর নেই।” কাবুলের দাবি, পাকিস্তানই প্রথমে আফগান সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালানো শুরু করে। একাধিক আফগান শহরে এয়ারস্ট্রাইক করে পাকিস্তান। এরপরই দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    পাক সামরিক ঘাঁটি দখল, দাবি আফগানিস্তানের

    আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে পাল্টা অভিযানে পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত, নানগারহার, কুমার ও নুরিস্তান সীমান্ত এলাকায় অভিযান চলেছে। তাদের দাবি, ২টি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে এবং ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া কিছু সেনাকে জীবিত আটক এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আফগান কর্তৃপক্ষ এ-ও স্বীকার করেছে, তাদের ৮ জন তালেব যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। নানগারহারের একটি শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশু সহ ১৩ জন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

    টোরখাম সীমান্ত এলাকাতেও সংঘর্ষ

    প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মশাররফ আলি জাইদি বলেন, ‘‘কোনও পাকিস্তানি সেনাকে আটক করা হয়নি।’’ পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রকের দাবি, আফগান তালিবান বাহিনী খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ইচ্ছাকৃত এবং উস্কানিমূলক হামলা চালায়। যার জবাবে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেন, ‘‘পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে কোনও আপস করবে না।’’ সংঘর্ষ টোরখাম সীমান্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে, যা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারাপার পয়েন্ট।

    কোন দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি

    ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইন, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। গত কয়েক মাস ধরেই সীমান্তে সংঘর্ষ চলছে। যদিও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি শান্ত রেখেছিল। বিতর্কিত ডুরান্ড লাইন নিয়ে এবার সরাসরি যুদ্ধে নামল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ৷ গত কয়েক মাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষে দু’পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেনা জওয়ানদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে। ফের দুই দেশের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি (Iran’s Foreign Minister Seyed Abbas Araghchi) জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে সাহায্য করতে তৈরি ইরান।

    ভারতকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার পাকিস্তানের

    অন্যদিকে, নিজেদের স্বভাববশত যে কোনও বিষয়ে ভারতকে টেনে আনার পুরনো রীতি ছাড়েনি পাকিস্তান। পাক-আফগান দ্বন্দ্ব নিয়েও পাকিস্কতান প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘‘ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর, আফগানিস্তানে শান্তির প্রত্যাশা ছিল ৷ তালিবানরা আফগান জনগণের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর মনোযোগ দিচ্ছে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তালিবানরা আফগানিস্তানকে কার্যত ভারতের উপনিবেশে পরিণত করেছে। তারা সারা বিশ্ব থেকে সন্ত্রাসবাদীদের আফগানিস্তানে জড়ো করছে ৷ সন্ত্রাসবাদকে রফতানি করাও শুরু করেছিল ৷’’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধু দেশগুলির মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল । তবে, তালিবানরা ভারতের মতো প্রতিশোধের মানসিকতাই দেখিয়েছে বলে দাবি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ৷

    নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা কেন, প্রশ্ন কাবুলের

    অন্যদিকে, কাবুলের তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দুই দেশের মধ্যে ২৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তকে আফগানিস্তান কখনওই সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। এক বিবৃতিতে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রমজানের মধ্যেই রাত আটটায় এই অভিযান শুরু হয়েছিল ৷ কয়েকদিন আগে পাকিস্তান বাহিনী আফগান ভূখণ্ড দখলের প্রতিক্রিয়ায় শুরু করেছিল তার বিরুদ্ধেই এই অভিযান বলে দাবি তালিবানের। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘কয়েক দিন আগে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগান ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ৷ আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘন করে এসে নারী ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করেছে ৷ তাই পাক হামলার প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে।’’

  • CAA: সিএএ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া কার্যকর করল কেন্দ্র, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    CAA: সিএএ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া কার্যকর করল কেন্দ্র, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (CAA) অনুযায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে রাজ্যে আইনটির অধীনে আবেদনগুলি প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের কথাও জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি এমন একটা সময়ে নেওয়া হল, যখন পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে এবং সিএএকে বৈষম্যমূলক বলে বিরোধিতা করে আসছে।

    সরকারি নির্দেশিকা (CAA)

    অতিরিক্ত সচিব নীতেশ কুমার ব্যাস জারি করা এক নির্দেশিকায় বলেন, “নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ধারা ৬বি(১) এবং নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯-এর বিধি ১১এ(১) ও (৩) অনুসারে প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের সেনসাস অপারেশন্স দফতরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেলকে কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ করছে।” নির্দেশিকা অনুযায়ী, কমিটির সদস্যদের মধ্যে থাকবেন— সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর একজন ডেপুটি সেক্রেটারি পর্যায়ের আধিকারিক, সংশ্লিষ্ট বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন আধিকারিকের (FRRO) মনোনীত প্রতিনিধি, পশ্চিমবঙ্গের ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের স্টেট ইনফরমেটিক্স অফিসার (উভয়েই আন্ডার সেক্রেটারি পর্যায়ের নীচে নন), এবং পোস্টমাস্টার জেনারেল বা মনোনীত ডেপুটি সেক্রেটারি পর্যায়ের ডাক বিভাগের আধিকারিক।

    নাগরিকত্ব আইন

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই নির্দেশের মাধ্যমে নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৬বি এবং নাগরিকত্ব বিধির ১১এ/১৩এ অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করে সিএএ-র কাঠামো কার্যকর করা হল। এর আগে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশে নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য একটি সর্বভারতীয় কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে কার্যকর করার জন্য রাজ্যভিত্তিক কমিটি গঠনের প্রয়োজন ছিল। এই কমিটির কাজ হবে— সিএএ-তে নির্ধারিত যোগ্য নির্যাতিত সংখ্যালঘু আবেদনকারীদের আবেদন যাচাই করা, জেলা পর্যায়ের যাচাইকরণ সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করা এবং নাগরিকত্ব মঞ্জুর বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া। আরও বলা হয়েছে, বৈঠকে দু’জন আমন্ত্রিত সদস্য থাকবেন। একজন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি (গৃহ) বা অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (গৃহ) দফতরের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের একজন মনোনীত প্রতিনিধি।

    কী বলছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক 

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মতে, এই বিজ্ঞপ্তি ২০২৪ সালের ১১ মার্চের নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মাধ্যমে অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটিগুলির কাজ হল পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর আগে ভারতে প্রবেশ করা নির্যাতিত অ-মুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রদান করা। ২০২৪ সালে সরকার নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯ কার্যকর করে এবং সংশ্লিষ্ট বিধি জারি করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আগত অনথিভুক্ত অ-মুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করে। এখন সিএএর অধীনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আগত নির্যাতিত অ-মুসলিম অভিবাসী— হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্শি ও খ্রিস্টানদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

     

  • Indian Medicines: পাকিস্তানি নয়, আফগানিস্তানে ব্যাপক চাহিদা ভারতীয় ওষুধের

    Indian Medicines: পাকিস্তানি নয়, আফগানিস্তানে ব্যাপক চাহিদা ভারতীয় ওষুধের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানি (Pakistani Drugs) নয়, আফগানিস্তানের মেডিসিন বাজারে ব্যাপক চাহিদা ভারতীয় ওষুধের (Indian Medicines)। এক আফগান ব্লগার যিনি এক্স হ্যান্ডেলে ফজল আফগান নামে পরিচিত, আফগানিস্তানে ওষুধ কেনার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন। তিনি জানান, তিনি যখন প্যারল কিনতে যাচ্ছিলেন (এটি পাকিস্তান ও তুরস্কে প্রচলিত একটি প্যারাসিটামল ব্র্যান্ড), তখন ফার্মাসিস্ট তাঁকে জানান, একই ধরনের ওষুধ একটি ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া যাবে, যার দাম অন্তত চার গুণ কম।

    ভারতীয় ওষুধের গুণাবলী (Indian Medicines)

    ফজল প্রথমে তুরস্কে তৈরি প্যারাসিটামলই চাইছিলেন, কারণ তিনি এর মানের ওপর আস্থা রাখতেন। তিনি লেখেন, “১০টি ট্যাবলেটের একটি প্যাকেটের দাম ৪০ আফগানি। এরপর দোকানদার আমাকে আর একটি বিকল্প দেখালেন, ভারতে তৈরি প্যারাসিটামল। পরিমাণ একই, কিন্তু দাম মাত্র ১০ আফগানি। তিনি আরও বললেন, ভারতীয় ওষুধ নাকি অন্যগুলোর তুলনায় ভালো কাজ করে।” দাম কম হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় ট্যাবলেটটি কিনে নেন এবং লেখেন, সেটি খুব দ্রুত তাঁর মাথাব্যথা সারিয়ে দিয়েছে। এরপরেই তিনি মন্তব্য করেন, “ভারতীয় ওষুধ ধীরে (Pakistani Drugs) ধীরে আফগানিস্তানে পাকিস্তানি ওষুধের জায়গা নিচ্ছে (Indian Medicines)।” দুই দেশের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের পর আফগান ওষুধ বাজারে পাকিস্তানের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। যদিও ২০২৪ সাল থেকেই এই অংশ কমছিল, তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর–নভেম্বরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর আফগানিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বরাদর পাকিস্তানি ওষুধের নিম্নমানের অভিযোগ তুলে তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। তিনি ব্যবসায়ীদের ভারত, ইরান ও মধ্য এশিয়া থেকে বিকল্প উৎস খোঁজার আহ্বান জানান।

    আফগানিস্তানে ভারতীয় ওষুধ রফতানি

    একই সময়ে আফগানিস্তানে ভারতীয় ওষুধ রফতানি দ্রুত বেড়ে গিয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারত কাবুলে ১০.৮ কোটি ডলারের ওষুধ পাঠিয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের বাকি সময়জুড়ে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলারের ওষুধ রফতানি করা হয়েছে। স্থলবেষ্টিত দেশ হওয়ায় এবং নিজস্ব স্বাস্থ্যখাত দুর্বল থাকায় আফগানিস্তান চিরকালই মৌলিক চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল ছিল (Indian Medicines)। ২০২৫ সালের নভেম্বরের আগে পর্যন্ত পাকিস্তানই ছিল আফগানিস্তানের প্রধান ওষুধ সরবরাহকারী দেশ (Pakistani Drugs)। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং তোরখাম ও চামান সীমান্ত দিয়ে স্বল্প খরচে স্থলপথে পরিবহণের সুবিধা পাকিস্তানকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছিল। উল্লেখ্য যে, আফগানিস্তানে ওষুধ উৎপাদন প্রায় নেই বললেই চলে। দেশটি তার মোট চাহিদার ৮৫ থেকে ৯৬ শতাংশ ওষুধ আমদানি করে।

    রাষ্ট্রসংঘের ইউএম কমট্রেডের তথ্য

    ট্রেডিং ইকোনমিকসের মাধ্যমে প্রাপ্ত রাষ্ট্রসংঘের ইউএম কমট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তান আফগানিস্তানে ১৮.৬  কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ রফতানি করে। বিজনেস রেকর্ডারের হিসেবে, ২০২৩ সালে এই রফতানির পরিমাণ ছিল ১১.২৮ কোটি মার্কিন ডলার (Indian Medicines)। তালিবান প্রশাসনের তরফে নুরুল্লাহ নুরি জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরের আগে আফগানিস্তানে ব্যবহৃত ওষুধের ৭০ শতাংশেরও বেশি পাকিস্তান থেকে আসত (Pakistani Drugs)। এই নির্ভরতা বহু দশকের পুরোনো। ২০০১ সালের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিকাঠামো, মান নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং পরীক্ষাগারের সঙ্কট পাকিস্তানি আমদানিকে সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী বিকল্প করে তুলেছিল। তবে একাধিক সীমান্ত সংঘর্ষের পর গত বছর আফগান ব্যবসায়ীদের জন্য তোরখাম ও চামান সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তালিবান সরকার পাকিস্তানি ওষুধের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর ফলে দেশে ওষুধের বিরাট সঙ্কট দেখা দেয়। ডয়চে ভেলের (DW) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন ও হৃদরোগের ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়। অনেক ফার্মাসিস্ট অতিরিক্ত দাম নেয় কিংবা নকল ওষুধ বিক্রি করে।

    আফগানিস্তানে ওষুধের সঙ্কট

    ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে, যখন আফগানিস্তানে ওষুধের সঙ্কট প্রকট হতে শুরু করে, তখন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঘোষণা করেন যে, ৭৩ টন জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বিমানযোগে কাবুলে পাঠানো হচ্ছে। এটি আফগানিস্তানে ভারতের প্রথম চিকিৎসা সহায়তা নয়। গত বছরের এপ্রিলে ভারত জলাতঙ্ক ও হেপাটাইটিস-বি রোগের টিকা, ছ’টি জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম-সজ্জিত অ্যাম্বুল্যান্স এবং একটি আধুনিক ১২৮-স্লাইস সিটি স্ক্যানার পাঠিয়েছিল (Indian Medicines)। এরও আগে, ২০২২ সালে আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভারত পাঠিয়েছিল ১৩ টন চিকিৎসা সামগ্রী, যার মধ্যে ছিল পাঁচ লক্ষ কোভিড টিকাও। ভারতের সহায়তা শুধু জরুরি ওষুধ পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত চার বছরে ভারত ৩২৭ টন চিকিৎসা সামগ্রী দিয়েছে এবং পাকতিয়া, খোস্ত ও পাকতিকায় পাঁচটি মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কাবুলে একটি ৩০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

    ওষুধ রফতানির পরিমাণ

    এছাড়া কাবুলে একটি অঙ্কোলজি সেন্টার, ট্রমা সেন্টার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও থ্যালাসেমিয়া সেন্টার নির্মাণ ও আধুনিকীকরণের কাজও হাতে নেওয়া হচ্ছে। আফগানিস্তানের রেডিওথেরাপি মেশিন ও অতিরিক্ত চিকিৎসা সামগ্রীর অনুরোধও বিবেচনাধীন (Pakistani Drugs)। ভারত-আফগান সম্পর্কের এই উন্নতি হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও আফগান জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী মাওলভি নুর জালাল জালালির বৈঠকের পর। ভারত শীঘ্রই প্রবীণ ভারতীয় চিকিৎসকদের একটি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যারা আফগানিস্তানে মেডিক্যাল ক্যাম্প চালাবে এবং স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেবে। গত বছরের জুনে আয়োজিত এক মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৭৫ জন আফগান রোগীর শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে ভারতীয় অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ৪০০ শয্যার ইন্দিরা গান্ধী শিশু হাসপাতাল আজও চালু রয়েছে, যেখানে আফগানিস্তানের প্রথম সেরিব্রাল পালসি কেন্দ্র রয়েছে (Indian Medicines)।  বর্তমানে আফগানিস্তানে ভারতের ওষুধ রফতানির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির ওষুধ বাজারের ১২–১৫ শতাংশ দখল করেছে। আগে যেখানে পাকিস্তানের অংশ ছিল ৩৫–৪০ শতাংশ।

    পাকিস্তানি ওষুধ বিক্রি বন্ধ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানি ওষুধ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত ভবিষ্যতে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ওষুধ রফতানি করতে পারে। ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলি শুধু বিক্রি করেই থেমে নেই। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দুবাইয়ে ভারতীয় সংস্থা জাইডাস লাইফসায়েন্সেস আফগানিস্তানের রফিস ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের সঙ্গে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি মউ (MoU) সই করে। প্রথমে রফতানির ওপর জোর দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, আফগানিস্তানে জাইডাসের প্রতিনিধি দফতর এবং স্থানীয় উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে (Pakistani Drugs)। তালিবান কর্তারা আর এক ভারতীয় সংস্থা ফার্মেক্সিলের সঙ্গেও যৌথ বিনিয়োগ, উৎপাদন কেন্দ্র ও গবেষণাগার স্থাপন নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন (Indian Medicines)। সব মিলিয়ে, আফগান ব্লগারের তুর্কি ও পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের বদলে সস্তা ভারতীয় ব্যথানাশক বেছে নেওয়া আসলে আফগানিস্তানের ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

     

  • Afghanistan: তালিবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথম কূটনৈতিক নিয়োগ, ভারতে নয়া আফগান রাষ্ট্রদূত নূর আহমেদ নূর

    Afghanistan: তালিবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথম কূটনৈতিক নিয়োগ, ভারতে নয়া আফগান রাষ্ট্রদূত নূর আহমেদ নূর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তালিবান ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম ভারতে কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগ করল আফগানিস্তান (Afghanistan)। নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসে কূটনীতিক নূর আহমেদ নূরকে নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছে গিয়ে গ্রহণ করেছেন নয়া দায়িত্ব (Taliban)। নূর আহমেদ নূর এর আগে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রকে প্রথম রাজনৈতিক পরিচালক পদে ছিলেন।

    ভারত – আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক (Afghanistan)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়োগের মাধ্যমে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করার ইঙ্গিত মিলছে, বিশেষ করে মানবিক সহায়তা ও স্বাস্থ্য খাতে। গত ২০ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী মাওলভি নূর জালাল জালালি বলেছিলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় আফগানিস্তান এখন ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল চাহিদা পূরণে ভারতের দিকে বিকল্প অংশীদার হিসেবে তাকাচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ক্রমশ আফগানিস্তানের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উঠে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল (Afghanistan)।

    জালালির বক্তব্য

    আফগানিস্তান ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নয়া অধ্যায়ের সূচনা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ প্রতিনিধি জালালি। তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে ভারত আফগানিস্তানের একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে অবদান রেখে চলেছে (Taliban)। জালালির কথায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। আমরা সহযোগিতা ও পারস্পরিক কাজের ভিত্তিতে একটি নয়া অধ্যায় খুলতে এখানে এসেছি। তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে ভারত ও আফগানিস্তানের ঘনিষ্ঠতা আরও জোরদার হতে চলেছে, পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে কাবুলের সম্পর্ক এখনও রয়েছে টানাপোড়েনের মধ্যেই (Afghanistan)।

    নয়াদিল্লিতে হু

    নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গ্লোবাল সামিট অন ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন উপলক্ষে ভারতে এসে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন আফগানিস্তানের এক শীর্ষ প্রতিনিধি। এই সফরের সময় ভারত আফগানিস্তানের প্রতি তাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় (Taliban)। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ভারত-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম ভারত সফরে আসেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত সফরটি অত্যন্ত ভালো হয়েছে। শুধু দারুল উলুমের মানুষই নন, গোটা এলাকার মানুষ এখানে উপস্থিত হয়েছেন। আমাকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ (Afghanistan)।”

    আলহাজ নূরউদ্দিন আজিজির ঘোষণা

    গত ২৪ নভেম্বর আফগানিস্তানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আলহাজ নূরউদ্দিন আজিজি ঘোষণা করেন যে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে (Taliban) দীর্ঘদিনের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হয়েছে। এর ফলে আফগান নাগরিকরা চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভারতীয় ভিসা পেতে পারবেন। পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আজিজি জানান, এই পরিষেবা সহজ করতে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি, কাবুলে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও আফগান নাগরিকদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে (Afghanistan)। এই প্রেক্ষাপটে, নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসে নূর আহমেদ নূরের নিয়োগ দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন গতি আনতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। মানবিক সহায়তা ও সরকারি স্তরের যোগাযোগের মধ্যে (Taliban) দিয়েই ভারত ও আফগানিস্তান তাদের সম্পর্ক আরও মজবুত করার পথে এগোচ্ছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞমহলের (Afghanistan)।

LinkedIn
Share