Tag: AI summit

  • কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের (Congress) ভোট চুরির অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শুক্রবার তিনি বলেন, “গত কয়েক দশক ধরে দলটি মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে এবং মিলেনিয়ালরা বিরোধী দলকে শিক্ষা দিয়েছে, এবার জেন জেডও প্রস্তুত”। ‘রাইজিং ভারত সামিটে’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সরকারকেও নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, এই রাজ্য সরকারগুলি কেন্দ্রের কিছু কল্যাণমূলক প্রকল্প আটকে দিয়েছে।

    “শার্টলেস প্রতিবাদ” নিয়ে তোপ (PM Modi)

    এআই সামিট চলাকালীন ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের ‘শার্টলেস’ প্রতিবাদ নিয়ে তিনি কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “বিরোধী দল বিদেশি অতিথিদের সামনে শুধু পোশাকই খোলেনি, নিজেদের মতাদর্শগত দেউলিয়াপনাও প্রকাশ করেছে।” তাঁর অভিযোগ, আদর্শের নামে কংগ্রেস এখন শুধু বিরোধিতার টুলকিটে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেস ও তার মিত্ররা কখনও সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করেনি। গরিব মানুষের কষ্ট নিয়ে তাদের কোনও উদ্বেগ নেই (PM Modi)। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আজ পর্যন্ত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় সারা দেশে দরিদ্রদের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। তামিলনাড়ুতে প্রায় ৯.৫ লক্ষ বাড়ি বরাদ্দ হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে ৩ লক্ষ বাড়ির নির্মাণ আটকে রয়েছে। “কেন? ডিএমকে সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেন?”

    ইন্ডি জোট

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে নির্বাচন হবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে কংগ্রেসের সঙ্গে ইন্ডি জোটের অংশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের প্রতিবাদে মানুষের ক্ষোভ বাড়ায় কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীকে সামনে আনার চেষ্টা করেছে। এআই সামিট ছিল দেশের গর্বের মুহূর্ত। কিন্তু দেশের প্রাচীনতম দল সেই অনুষ্ঠান কলঙ্কিত করতে চেয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, “পাপ ঢাকতে হলে কংগ্রেস (Congress) বাপুকে সামনে আনে, আর কৃতিত্ব নিতে হলে একটি পরিবারের নাম করে।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “কংগ্রেসের ভোট কেউ চুরি করছে না, বরং মানুষ আর তাদের যোগ্য মনে করছে না। ১৯৮৪-র পর থেকেই কংগ্রেসের ভোট কমতে শুরু করেছে। এখন মাত্র চারটি রাজ্যে তাদের ৫০-এর বেশি বিধায়ক রয়েছে।” এর পরেই তিনি বলেন, “প্রথমে মিলেনিয়ালরা শিক্ষা দিয়েছে, এখন জেন জেডও প্রস্তুত।” ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাতি গঠন স্বল্পমেয়াদি চিন্তায় হয় না, এর জন্য প্রয়োজন বড় দৃষ্টি, ধৈর্য ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

    কংগ্রেসকে তোপ

    গণতন্ত্রে বিরোধিতা মানে অন্ধ বিরোধিতা নয়, বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস সব ভালো কাজেরই বিরোধিতা করে, যেমন নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ বা অশোক স্তম্ভের সিংহ প্রতীক (PM Modi)।” তিনি জানান, বিদেশি জাহাজে পণ্য পরিবহণে বছরে ৬ লাখ কোটি টাকা, সার আমদানিতে ২.২৫ লাখ কোটি টাকা এবং পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ১১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই অর্থ আত্মনির্ভরতার পথে আগে বিনিয়োগ করা হলে দেশ আরও শক্তিশালী হত। তিনি বলেন, “দেশীয় জাহাজ ও বন্দর পরিকাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে, সারের উৎপাদন বাড়াতে নয়া কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে, ন্যানো ইউরিয়া, ইথানল মিশ্রণ, গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন, সৌর শক্তি ও ইলেকট্রিক মোবিলিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে (Congress)।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারতে উৎপাদন বাড়ালে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমদানি নয়, রফতানির কথা বলবে। দূরদর্শিতার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমই ২০৪৭ সালের আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ ভারতের ভিত্তি।”

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্ক

    তিনি জানান, তাঁর সরকার ভারতকে বিশ্বের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনে পরিণত করছে এবং উন্নত দেশগুলি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী।ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে জনধন-আধার-মোবাইল ‘ত্রয়ী’ এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ২৪ লাখ কোটি টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারত এখন সৌর শক্তিতে অগ্রণী, রেলব্যবস্থা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ভারত শুধু অনুসারী নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণেও অংশীদার। দেশের নিজস্ব এআই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।” তিনি জানান, কৃষিখাতে ২৮ লাখ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং পিএম-কিষান প্রকল্পে ৪ লাখ কোটিরও বেশি টাকা সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটাই সঠিক সময়। আমাদের রুটিন কাজ নয়, বিশ্বমানের কাজ করতে হবে (Congress)।”

     

  • PM Modi: এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রবিবার তিনি একে দেশের সম্মানহানি ঘটানো লজ্জাজনক প্রদর্শন বলে অভিহিত করেন। সংবাদমাধ্যমকে সঠিকভাবে প্রতিবেদন (AI Summit) করার আহ্বানও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী এআই সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে এবং ভারত–মার্কিন অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় যুব কংগ্রেসের প্রতিবাদের নিন্দে করেন।

    কংগ্রেস পার্টির সঙ্গেই যুক্ত (PM Modi)

    মীরাটে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেখুন কী দুর্ভাগ্য। এত পুরানো একটি দলের নেতারা লজ্জা পাওয়ার বদলে, যারা দেশের অসম্মান করছে তাদের নির্লজ্জভাবে সমর্থন করছেন। এই বিষয়টি কংগ্রেস পার্টির সঙ্গেই যুক্ত।” প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমি সব সময় প্রার্থনা করি ঈশ্বর যেন আমাকে সংবাদমাধ্যমকে সবরকমভাবে সহ্য করার শক্তি দেন। কিন্তু আজ আমি সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করছি— যখন আমরা এ ধরনের কাজের সমালোচনা করি, তখন দয়া করে এমন শিরোনাম করবেন না যে মোদি বিরোধীদের পরাজিত করেছেন। কংগ্রেসকে বাঁচানোর এই কৌশল বন্ধ করুন।”

    কংগ্রেসের পাপ রক্ষার কাজ

    নির্বাচিত প্রতিবেদন এবং কংগ্রেসের পাপ রক্ষার কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিরোধীরা বিরোধী সেজে কংগ্রেসকে রক্ষা করছে। পাপ করে কংগ্রেস, ফল ভোগ করতে হয় তাদেরই। কিন্তু মিডিয়া ‘কংগ্রেস’ শব্দটি দেখে না, শুধু ‘বিরোধী’ শব্দটি দেখে। কেন? কেন কংগ্রেসকে রক্ষা করছেন (PM Modi)?” তিনি জানান, অন্য বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় অংশ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ কি এই পাপ করেছে? না (AI Summit)। ডিএমকে সদস্যরা? বিএসপি সদস্যরা? ফারুক আবদুল্লার দল? না। শুধু এবং শুধু ‘সিরফিরা’ (উন্মাদ) ও ‘বেলাগাম’ (বেপরোয়া) কংগ্রেস নেতারাই দেশ ধ্বংসে উঠেপড়ে লেগেছে।”

    বিরোধী সহকর্মীদের ধন্যবাদ

    প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে দেশের ওপর বোঝা বলে উল্লেখ করেন এবং প্রতিবাদটির নিন্দে করার জন্য অন্যান্য বিরোধী সহযোগীদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমি প্রকাশ্যে এই বিরোধী সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা সত্য ও দেশের মর্যাদার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।” তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে হলে মানুষের হৃদয় জয় করতে হয়, মহিলা সাংসদদের পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করানো নয় (PM Modi)। বাজেট অধিবেশনের সময় লোকসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে কংগ্রেস মহিলা সাংসদদের তাঁর আসন ও ট্রেজারি বেঞ্চের কাছে পাঠিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলটি গঠনমূলক ভূমিকা নেওয়ার বদলে কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে (AI Summit)।

    কংগ্রেসের মিত্রদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে

    তিনি বলেন, “তাঁরা নিজেরাই সংসদে কার্যকর হতে পারেন না, তাই সহকর্মীদেরও কথা বলার সুযোগ দেন না। তাঁরা সংসদ চলতে দেয় না। এতে কংগ্রেসের মিত্রদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে, এবং তারা তা বুঝেছে। দিল্লিতে তারা যে নগ্নতা প্রদর্শন করেছে, তাতে তাদের সব মিত্র স্তম্ভিত হয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছে।” এর আগে আজ প্রধানমন্ত্রী মোদি শতাব্দী নগর নমো ভারত স্টেশনে মিরাট মেট্রো ও নমো ভারত ট্রেনের উদ্বোধন করেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উত্তরপ্রদেশ বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী-সহ অন্য আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী মিরাটে প্রায় ১২,৯৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং সেগুলি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন (AI Summit)।

     

  • Congress Protest: এআই সামিটে কংগ্রেসের বিক্ষোভ “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ, বলল দিল্লি পুলিশ

    Congress Protest: এআই সামিটে কংগ্রেসের বিক্ষোভ “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ, বলল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সদস্যদের বিক্ষোভের ঘটনাকে “বৃহত্তর ষড়যন্ত্র”-এর অংশ বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। আদালতে পেশ করা বক্তব্যে পুলিশ জানায়, এই প্রতিবাদ নেপালের তথাকথিত ‘জেন জি আন্দোলন’ থেকে অনুপ্রাণিত। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কংগ্রেস কর্মীদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যা সেখানে সরকার পতনের কারণ হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    নেপালের জেন জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা

    পুলিশের আইনজীবী আদালতে বলেন, “এটি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র। নেপালের জেন জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের একে অপরের সঙ্গে এবং ডিজিটাল প্রমাণের সঙ্গে মুখোমুখি জেরা করা প্রয়োজন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।” পুলিশ আরও জানায়, বিক্ষোভের অর্থায়ন সম্পর্কেও তদন্ত চলছে। ঘটনায় প্রায় ১০ জন যুব কংগ্রেস কর্মী এআই সম্মেলনের ভেন্যুতে ঢুকে শার্ট খুলে বিক্ষোভ দেখান এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভকারীরা সাদা টি-শার্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ও সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান প্রদর্শন করেন। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁদের আটক করে। পরে সম্মেলন বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

    “দেশবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা বিক্ষোভকে “দেশবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনা করেছেন। বিজেপি নেতা নিতিন নবীন অভিযোগ করেন, “আমরা প্রায়ই ‘আরবান নকশালবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করি। আগে কিছু দল এতে প্রভাবিত ছিল, এখন তারা পুরোপুরি এর অংশ হয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “যখন বিশ্বমঞ্চে ভারতের আলোচনা হচ্ছে, তখন এ ধরনের লজ্জাজনক কাজ দেশের অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।” দিল্লি থেকে মুম্বই—বিভিন্ন শহরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয় বিজেপি। মুম্বইয়ে রাহুল গান্ধীকে কালো পতাকা দেখান বিজেপি কর্মীরা।

    রাহুল গান্ধীকে কালো পতাকা প্রদর্শন

    শনিবার সকালে রাহুল গান্ধী মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে ঠানে জেলার ভিওয়ান্ডিতে একটি ২০১৪ সালের মানহানির মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে যান। বিমানবন্দর চত্বরে বিজেপি সমর্থকেরা কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রাজধানী দিল্লিতেও একই চিত্র দেখা যায়। বিজেপি-র নেতা-কর্মীরা আকবর রোডে কংগ্রেসের দফতরের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। দিল্লি বিজেপি সভাপতি বিরেন্দ্র সচদেবা এবং লোকসভা সাংসদ মনোজ তিওয়ারি যুব কংগ্রেসের ওই প্রতিবাদকে “দেশদ্রোহী” কর্মকাণ্ড বলে কটাক্ষ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।

  • Bharatiya GPT: এআই সামিটে উন্মোচিত ভারতীয় জিপিটি, প্রাচীন জ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেতুবন্ধন

    Bharatiya GPT: এআই সামিটে উন্মোচিত ভারতীয় জিপিটি, প্রাচীন জ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সেতুবন্ধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চ্যাটজিপিট-র মতো অ্যাপ নিয়ে আসছে ভারত। তৈরি হচ্ছে দেশীয় জিপিটি। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বম্বের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রোগ্রামটি তৈরি করা হচ্ছে, যার নাম ‘ভারত জিপিটি’ (Bharat GPT)। দিল্লিতে ভারত মণ্ডপমে আন্তর্জাতিক এআই সামিটে এর উন্মোচন হল। ভারতের প্রাচীন পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার থেকে নির্মিত একটি দেশীয় বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) এটি। এআই সামিটে স্পুটনিক ইন্ডিয়ার ধৈর্য মহেশ্বরী ও ভারতীয় জিপিটি (BharatiyaGPT)–এর প্রতিষ্ঠাতা আর রামকৃষ্ণনের কথোপকথনে উঠে এল ভারতের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।

    এক কোটি পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার থেকে এআই

    বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ বৃহৎ ভাষা মডেল মূলত পাশ্চাত্য তথ্যভাণ্ডারের উপর নির্ভরশীল। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় উদ্ভাবকদের প্রশ্ন—কেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভারতের সহস্রাব্দ প্রাচীন বিজ্ঞান, চিকিৎসা, গণিত, দর্শন ও জীবনবিজ্ঞানের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে শিখবে না? এই ভাবনা থেকেই গড়ে উঠেছে একটি ভারতকেন্দ্রিক ভাষা মডেলের এক ইকোসিস্টেম। যা ১ কোটিরও বেশি প্রাচীন পাণ্ডুলিপির উপর ভিত্তি করে নির্মিত। চল্লিশেরও বেশি লিপিতে লেখা এই পাণ্ডুলিপিগুলি বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিদ্যার অন্তর্গত। উদ্যোগটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়—এটি সাংস্কৃতিক, বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধারেরও প্রয়াস।

    ভারতীয় জিপিটি-র জন্ম

    কেবল পশ্চিমের ডেটাসেটের অভিযোজন ভারতের বৌদ্ধিক ঐতিহ্যকে ধারণ করতে পারবে না, এই উপলব্ধি থেকে সরাসরি ভারতীয় পাণ্ডুলিপি-সাহিত্যের আশ্রয় নেওয়া হয়। তৈরি হয় ভারতীয় জিপিটি। এর মধ্যে রয়েছে আয়ুর্বেদ নিয়ে ‘লোকস্বস্তি জিপিটি’। যেখানে অষ্টাঙ্গ হৃদয়ম, শুশ্রুত সংহিতার মতো গ্রন্থ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এই মডেল প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞান, শল্যচিকিৎসা, স্বাস্থ্যরক্ষা ও জীবনযাপন পদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রদান করে। ভারতের শাস্ত্রীয় গণিতচর্চাকে নতুন রূপ দিয়েছে ‘গণিত জিপিটি’। বীজগণিত, ত্রিকোণমিতি, সংখ্যা তত্ত্বসহ প্রাচীন গণিতজ্ঞদের আবিষ্কার এখন আধুনিক ভাষায় সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। সাহায্য নেওয়া হয়েছে আর্যভট্ট, লীলাবতী, বীজগণিত-এর। অর্থনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে অর্থশাস্ত্রকে। এই গ্রন্থে রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনার যে বিশ্লেষণ রয়েছে, তা আধুনিক প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক করে তুলছে সংশ্লিষ্ট মডেল। আধ্যাত্মিক ও জীবনদর্শনের জন্য তৈরি হয়েছে ‘ভগবত গীতা জিপিটি’। এখানে ব্যবহারকারী কেবল শ্লোক নয়, তার প্রেক্ষাপট, ব্যাখ্যা ও দার্শনিক তাৎপর্যও জানতে পারবেন।

    ভারতের এআই যাত্রার নতুন পরিচয়

    উদ্যোক্তাদের মতে, ভারতের প্রাচীন গ্রন্থগুলি কেবল ধর্মীয় বা ভক্তিমূলক রচনা নয়; এগুলি ছিল সুসংগঠিত, বিশ্লেষণধর্মী ও বৈজ্ঞানিক দলিল। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই জ্ঞান এখন গবেষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে। এআই সামিটে বার্তা ছিল স্পষ্ট—এটি শুধু ভারতের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও এক নতুন দিগন্ত। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখন আয়ুর্বেদ, গণিত, দর্শন ও রাষ্ট্রনীতির জ্ঞানকে বিচ্ছিন্ন অংশে নয়, এক জীবন্ত ডিজিটাল ভাণ্ডার হিসেবে অন্বেষণ করতে পারবে। প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনই হয়তো ভারতের এআই যাত্রার নতুন পরিচয় গড়ে তুলবে।

  • PM Modi: ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে পার্শ্ববৈঠক ভারত-শ্রীলঙ্কার, বৈঠক হল মরিশাসের সঙ্গেও

    PM Modi: ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে পার্শ্ববৈঠক ভারত-শ্রীলঙ্কার, বৈঠক হল মরিশাসের সঙ্গেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এর পার্শ্ব বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা ডিসানায়াকার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় (AI Summit)। এই সময় দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল প্রেসিডেন্ট দিসানায়কের দ্বিতীয় ভারত সফর। এর আগে তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসেছিলেন।

    ভারত-শ্রীলঙ্কা পার্শ্ব বৈঠক (PM Modi)

    সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলির পরিপ্রেক্ষিতে হওয়া অগ্রগতিও দুই নেতা পর্যালোচনা করেন, যার মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির শ্রীলঙ্কা সফর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁরা ভৌত, ডিজিটাল এবং জ্বালানি সংযোগ বাড়াতে যৌথভাবে কাজ দ্রুততর করার বিষয়ে অভিন্ন সংকল্পের ওপর জোর দেন। উন্নয়নে প্রযুক্তির ভূমিকা স্বীকার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমন্বয় নিয়ে মতবিনিময়ও করেন। সাইক্লোন ‘দিতওয়া’র পর ভারতের দ্রুত ও নিঃশর্ত সাহায্যের জন্য প্রেসিডেন্ট দিসানায়ক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রথম প্রতিক্রিয়াকারী দেশ হিসেবে ভারত ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’র অধীনে জরুরি ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করে। ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাহায্য প্যাকেজের মাধ্যমে পুনর্গঠন প্রকল্পে যে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে, তাও উল্লেখ করেন দুই নেতা রাষ্ট্রনেতা (PM Modi)।

    সভ্যতাগত বন্ধন

    শ্রীলঙ্কায় পবিত্র দেবনিমোরি ধাতুর সফল প্রদর্শনীকে স্বাগত জানিয়ে দুই নেতা বলেন, “দুই দেশের সভ্যতাগত বন্ধন ভারত-শ্রীলঙ্কা অংশীদারিত্বকে অনন্য শক্তি দেয়।” প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ডিসানায়াকা শ্রীলঙ্কার মজবুত উন্নয়নের প্রয়োজন মেটাতে এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা জোরদার করতে যৌথভাবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হন।

    ভারত-মরিশাস বৈঠক

    এদিনই পার্শ্ব বৈঠকে মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীন চন্দ্র রামগুলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী রামগুলামের দ্বিতীয় ভারত সফর। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসেছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁদের সাম্প্রতিক টেলিফোনালাপের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই নেতা ‘এনহ্যান্সড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে’র অধীনে অগ্রগতির পর্যালোচনা করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ডিজিটাল সহযোগিতা-সহ বহুমাত্রিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা করেন। উদীয়মান প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব স্বীকার করে তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনভিত্তিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় করেন।

    মরিশাসের উন্নয়নে অগ্রাধিকার

    দুই রাষ্ট্রনেতাই মরিশাসের উন্নয়ন অগ্রাধিকারকে সমর্থন করে ভারতের প্রদত্ত বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন, মরিশাস ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের একটি আদর্শ উদাহরণ, যা পারস্পরিক আস্থা ও অগ্রগতির যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে (PM Modi)। দুই প্রধানমন্ত্রী ভারতের ‘ভিশন মহাসাগর’ এবং ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ নীতির অধীনে ভারত–মরিশাস অংশীদারিত্বের স্থায়ী গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা জোর দেন যে এই অংশীদারিত্ব পারস্পরিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং গ্লোবাল সাউথের অভিন্ন অগ্রাধিকারের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে (AI Summit)। নেতারা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি জোরদারে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও একমত হন (PM Modi)।

     

  • AI Impact Summit: এআই সামিটে জামা খুলে প্রতিবাদ কংগ্রেসের! বিশ্বের দরবারে দেশকে ছোট করার চেষ্টা, বলল বিজেপি

    AI Impact Summit: এআই সামিটে জামা খুলে প্রতিবাদ কংগ্রেসের! বিশ্বের দরবারে দেশকে ছোট করার চেষ্টা, বলল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনে (AI Impact Summit) অদ্ভুত আচরণ চার কংগ্রেস যুব নেতার। নিরাপত্তাবাহিনীর নজর এড়িয়ে মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে মোদি ও সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেল যুব কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের। শুক্রবার এই ঘটনায় ৪-৫ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। জানা যাচ্ছে, কংগ্রেসের ১০ জন সদস্য এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। গোটা ঘটনায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি।

    কীভাবে বিক্ষোভ কংগ্রেসের

    দিল্লি পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কিউআর-কোড যুক্ত পাশ ব্যবহার করে এই সম্মেলনে (Delhi AI Summit) প্রবেশ করেছিল অভিযুক্তরা। এরপর সকলের অলক্ষে মঞ্চের সামনে গিয়ে নিজেদের জামা খুলে প্রতিবাদ দেখাতে থাকে ১০ প্রতিবাদী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয় পুলিশের তরফে। ঘটনায় ৪ থেকে ৫ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। অভিযুক্তরা নিজেদের যুব কংগ্রেসের সদস্য বলে জানিয়েছেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আইওয়াইসি-র জাতীয় সম্পাদক কৃষ্ণ হরি, বিহার প্রদেশ সম্পাদক কুন্দন যাদব, উত্তরপ্রদেশের সহ-সভাপতি অজয় কুমার এবং জাতীয় সমন্বয়ক নরসিংহ যাদব। দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত সিপি দেবেশ কুমার মহলা জানান, বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

    সামিটের কার্যক্রম ব্যাহত

    এই ঘটনায় কয়েক মিনিটের জন্য সামিটের (AI Impact Summit) কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উপস্থিত দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিরা ও শীর্ষ কর্পোরেট কর্তারাও হতচকিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কিছু দর্শকের বচসা এবং হাতাহাতিও হয়। যুব কংগ্রেসের দাবি, সম্প্রতি ঘোষিত ভারত-আমেরিকা শুল্ক চুক্তির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, ওই চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী এবং স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। আইওয়াইসি-র জাতীয় সভাপতি উদয় ভানু চিব বলেন, “আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে যে কোনও জায়গায় প্রতিবাদ করতে পারি।”

    দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্য

    বিজেপি এই ঘটনার তীব্র ভাষায় নিন্দা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই বিক্ষোভ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভারতের ক্রমবর্ধমান এআই অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত হয়েই কংগ্রেস এই ধরনের কর্মকাণ্ডে নেমেছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘ভারত গর্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনের (AI Impact Summit) আয়োজন করেছে দেশে। সেখানে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও ভারতের কৃতিত্ব প্রদর্শিত হচ্ছে। এহেন একটি পদক্ষেপকে সম্মান জানানোর পরিবর্তে কংগ্রেস সেখানে সমস্যা তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছে।’ পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে তোপ দেগে তিনি আরও লেখেন, ‘রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরা জামা খুলে প্রতিবাদের নামে এই অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটাতে নেমে পড়েছেন। এই ঘটনা আসলে বিশ্বমঞ্চে ভারতকে দুর্নাম করার অপচেষ্টা।’ মালব্যের আরও অভিযোগ, ‘প্রযুক্তিক্ষেত্রে শক্তিশালী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারত। সেখানে কংগ্রেসের এই আচরণ তাঁদের জন্য আনন্দের যারা ভারতের পতন দেখতে মুখিয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদ অবশ্যই গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু তার অর্থ বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করা নয়। ভারত ভালো কিছু প্রত্যাশা করে।’

  • India France Relation: মাইক্রোসফট থেকে শানেল— বহুজাতিক সংস্থাগুলোর মাথায় ভারতীয়রা! ‘‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত’’, প্রশংসা মাক্রঁর

    India France Relation: মাইক্রোসফট থেকে শানেল— বহুজাতিক সংস্থাগুলোর মাথায় ভারতীয়রা! ‘‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত’’, প্রশংসা মাক্রঁর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকে পথ দেখাবে ভারত (India France Relation)। আধুনিক ভারত কেবল বৈশ্বিক উদ্ভাবনে অংশগ্রহণই করে না, বরং নেতৃত্ব দিচ্ছে। মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া–ফ্রান্স ইনোভেশন ফোরামে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাক্রঁ (Modi-Macron Meeting) ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘‘আজকের বিশ্বে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভারত শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, বরং পথপ্রদর্শক।’’ বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার শীর্ষপদে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মাক্রঁ ভারতের প্রতিভা ও ক্ষমতার বিশেষ স্বীকৃতি দেন।

    নেতৃত্বে ভারত

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ বলেন, “ভারত বৈশ্বিক উদ্ভাবনে শুধু অংশগ্রহণ করে না; ভারত নেতৃত্ব দেয়। অ্যালফাবেট (Alphabet)-এর সিইও ভারতীয়। মাইক্রোসফট (Microsoft)-এর সিইও ভারতীয়। আইবিএম (IBM)-এর সিইও ভারতীয়। অ্যাডোবে (Adobe)-এর সিইও ভারতীয়। পালো অলটো নেটওয়ার্ক (Palo Alto Networks)-এর সিইও ভারতীয়। এমনকি শানেল (Chanel)-এর সিইও-ও ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের বাসিন্দা।” উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন সংস্থা শানেল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খ্যাতনামা ডিজাইনার কোকো শানেল। মাক্রঁ সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai), সত্য নাদেলা (Satya Nadella), অরবিন্দ কৃষ্ণ (Arvind Krishna), শান্তনু নারায়ণ (Shantanu Narayen), নিকেশ অরোরা (Nikesh Arora) এবং লীনা নায়ার (Leena Nair)-এর কথা উল্লেখ করেন। এই সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সভায় উপস্থিত ভারতীয় প্রতিনিধিদের মুখে হাসি ফোটায়।

    ভারতের উদ্ভাবনী শক্তির প্রশংসা

    অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উপস্থিত ছিলেন। মাক্রঁ-র বক্তব্যে ভারতের উদ্ভাবনী শক্তি, বিশাল মানবসম্পদ এবং বৃহৎ জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে দ্রুত ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষমতার বিশেষ প্রশংসা করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের শিল্প গঠনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। মাক্রঁর তিন দিনের ভারত সফরের সূচনাতেই দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে “স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-উন্নত করার কথা ঘোষণা করে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছায় উভয় দেশ। বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব এক শক্তিশালী স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

    ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বে স্থিতিশীলতার এক শক্তি

    মোদি বলেন, “বিশ্ব আজ অনিশ্চয়তার সময় পার করছে। এমন পরিবেশে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বের স্থিতিশীলতার এক শক্তি। আমরা ফ্রান্সের দক্ষতা এবং ভারতের ব্যাপকতার সমন্বয় ঘটাচ্ছি।” মোদি বলেন, ‘‘রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত ও ফ্রান্স গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্রান্স ভারতের অন্যতম প্রাচীন কৌশলগত অংশীদার এবং দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বিশেষ ও বিশ্বাসভিত্তিক। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রেসিডেন্ট মাক্রঁর সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বলেন, “আজ আমরা আমাদের সম্পর্ককে ‘বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত করছি।” দুই নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সহ-উৎপাদন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খল, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং শিক্ষা বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উন্নত প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৌশলগত খনিজ ও টেকসই জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে মোট ২১টি চুক্তি ও নথিতে সই হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা নির্ভরতা

    সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাব্য বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা দাসো এভিয়েশন নির্মিত রাফাল কেনার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রায় ৩০ বিলিয়ন ইউরোর এই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। অধিকাংশ বিমানই ভারতে তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ভারত এর আগে ৬২টি রাফাল কিনেছে। সম্ভাব্য এই চুক্তিকে ফরাসি বিশ্লেষকরা “শতাব্দীর চুক্তি” হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন। মোদি ও মাক্রঁ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্ণাটকের ভেমাগালে ভারতের প্রথম হেলিকপ্টার ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন উদ্বোধন করেন। এটি ভারতের টাটা গ্রুপ এবং ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা এয়ারবাস-এর যৌথ উদ্যোগ। এখানে এয়ারবাসের জনপ্রিয় এক-ইঞ্জিনের হেলিকপ্টার এইচ১২৫ তৈরি হবে। গত এক দশকে ফ্রান্স ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ খাতনির্ভর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে বছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতে ফরাসি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। ভারত গত এক দশকে রাশিয়ার ওপর প্রতিরক্ষা নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকেছে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর নীতি নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    ভারত-ফ্রান্স পাশাপাশি

    ইন্ডিয়া–ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশন উদ্বোধনের পর মাক্রঁ তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে ক্যাপশন দেন, ‘জয় হো!’। এটি তাঁর চতুর্থ ভারত সফর এবং প্রথম মুম্বই সফর। গত বছর মোদির ফ্রান্স সফরের এক বছর পর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি  নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে-এ অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এও মোদির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মাক্রঁ। সোমবার রাতেই ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তিনি একা নন, সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী লেডি ব্রিজিত মাক্রঁ-ও। তিনদিন ভারতেই একাধিক কর্মসূচি তাঁদের। উন্নত উপাদান, জৈবপ্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উদীয়মান প্রযুক্তি, এমএসএমই, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং স্টার্টআপ খাত—এই সব ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করছে কূটনৈতিক মহল। মাক্রঁ-র এই সফর এবং ফোরামের বার্তা স্পষ্ট— বিশ্বের উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও নেতৃত্বের মানচিত্রে ভারত এখন কেন্দ্রীয় শক্তি, আর ফ্রান্স সেই যাত্রায় ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে।

  • PM Modi: মেনুতে ভারতের বৈচিত্র্যময় রন্ধনশৈলী, আগত রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন মোদির

    PM Modi: মেনুতে ভারতের বৈচিত্র্যময় রন্ধনশৈলী, আগত রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ (AI Summit)। এখানে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে জড়ো হয়েছেন বিশ্বের বিশিষ্ট রাষ্ট্রনেতা, নীতিনির্ধারক ও উদ্ভাবকরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) নয়াদিল্লিতে আগত রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করেন। ১৬–২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনটি ২০২৩ সালে হয়েছিল প্রথমবারের মতো। সেবার এই সম্মেলন হয়েছিল ব্রিটেনে। তার পরে এই সম্মেলন হয় ২০২৫ সালে, ফ্রান্সে। তার পর এই হচ্ছে ভারতে। এটি গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত প্রথম বড় আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলন।

    নৈশভোজের আয়োজন

    এই হেভিওয়েট অনুষ্ঠানে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁদের জন্য নৈশভোজের মেনু তৈরি করেছেন আইটিসি গ্রুপের শেফরা। ভারত মণ্ডপমের সব সরকারি অনুষ্ঠানের ক্যাটারিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এদেরই। নৈশভোজে ভারতের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় রন্ধনশৈলী তুলে ধরা হয়েছে। মেনুতে এবারের সম্মেলনকে বর্ণনা করা হয়েছে,“শীতের শিশিরের মৃদু অবসান ও শান্ত উপভোগের ঋতু; ফসল, আশা ও সম্প্রীতির প্রাচুর্য নিয়ে আগমনের সময়।” বহু-পদ বিশিষ্ট নৈশভোজ শুরু হয় ‘বর্ণিলা’ নামের একটি (PM Modi) স্টার্টার দিয়ে। এতে ছিল বেবি পালং শাকের ক্রিস্প, দইয়ের স্ফিয়ার, তেঁতুল-খেজুর চাটনি, পুরনো দিল্লির মশলা দিয়ে ধনেপাতা রেলিশ এবং জোয়ার ক্রিস্প (AI Summit)। মূল খাবারের মধ্যে ছিল “সস্য”, যা উত্তরাখণ্ডের পাহাড়কে উৎসর্গ করা। এতে ছিল জিআই-ট্যাগযুক্ত মুন্সিয়ারি রাজমা গিলাওয়াত, পাহাড়ি ভাত ও ঝাঙ্গোরা (বার্নইয়ার্ড মিলেট) পুলাও, কুমায়ুনি আলু ও সবজির গুটকে এবং টমেটো-আনারি সস।

    খাবারের বাহার

    এরপর পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন ভারতীয় রুটি, তাফতান (তরমুজের বীজ ছড়ানো খামিরযুক্ত রুটি) এবং কাশ্মিরি গিরদা (প্রতিদিন সকালে তাজা বেক করা জনপ্রিয় কাশ্মিরি রুটি)। ডেজার্ট পরিবেশন করা হয় “নিস্বর্গ – নেচার্স ক্রিয়েশন” নামে, যাতে ছিল রসমালাই ট্রেস লেচেস উইন্টারবেরি প্রিজার্ভ-সহ। এটি ছিল মিষ্টি দুধে ভেজানো নরম ও ক্রিমি ছানার কেক স্পঞ্জ, যার সঙ্গে ছিল উইন্টারবেরি কমপোট এবং পার্ল মিলেট স্ট্রুসেল (AI Summit)। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত পানীয়ের মধ্যে ছিল কাশ্মিরি কাহওয়া, ফিল্টার কফি ও দার্জিলিং চা। পাশাপাশি ছিল ইন্ডিয়ান রোজ এবং মিশ্রি গুলকন্দ চকলেট লিফ (PM Modi)।

     

  • India France Deal: ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২১টি চুক্তি ও নথি বিনিময়

    India France Deal: ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২১টি চুক্তি ও নথি বিনিময়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির পর এবার ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি, সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্য-সহ মোট ২০টি ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি (India-France Deal) সই করল ভারত। মঙ্গলবার মুম্বইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর (Emmanuel Macron) দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করা হয়। উদ্ভাবন ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগী ফ্রান্স (India France Deal) একথা স্পষ্ট করে দেন প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ।

    সম্পর্কের গভীরতাই আমাদের শক্তি

    এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর আলোচনায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি-সহ একাধিক কৌশলগত বিষয় উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। মুম্বইয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আজ বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত-ফ্রান্স অংশীদারিত্ব বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “ফ্রান্স ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ, এই সম্পর্কের গভীরতাই আমাদের শক্তি।” মঙ্গলবার মোদি-মাক্রঁ বৈঠকের পরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্যের মতো ২১টি বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি সইয়ের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, তিন দিনের সফরে সস্ত্রীক ভারতে এসেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। সোমবার গভীর রাতে মুম্বইয়ে অবতরণ করে তাঁর বিমান। মঙ্গলবার সকালে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের বাসভবনে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক হয়। এর পরে একই গাড়িতে চড়ে তাঁরা যান একটি হোটেলে আয়োজিত ভারত-ফ্রান্স ইনোভেশন ফোরামে যোগ দিতে।

    বিশ্বস্ত অংশীদার ভারত

    এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসারকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর কথায়, “রাফাল জেট থেকে সাবমেরিন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করছি।” পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, “ফ্রান্সের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদারদের মধ্যে ভারত অন্যতম।” নয়াদিল্লির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা আরও গভীর শক্তিশালী করতে চাই। আগামি কয়েক বছরের মধ্যে ৩০ হাজার ভারতীয় পড়ুয়াকে স্বাগত জানাতে ফ্রান্স প্রস্তুত।’’

    এআই সামিটে যোগ

    মুম্বইয়ে বৈঠক শেষে মঙ্গলবার রাতেই কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে ভারতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন মাক্রঁ। এরপর বৃহস্পতিবার এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

    ভারত-ফ্রান্স ২১টি চুক্তি

    ভারত ও ফ্রান্স দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে “স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ”-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মোদি-মাক্রঁ। বৈঠকের পর মোট ২১টি চুক্তির কথা ঘোষণা করা হয়। উভয় দেশ ‘হরাইজন ২০৪৭ রোডম্যাপ’ ও উন্নীত অংশীদারিত্বের বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য বার্ষিক আলেচনার কথা বলেছে। দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে এই আলোচনার কথা হবে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশন’ এবং ‘ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইনোভেশন নেটওয়ার্ক’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চুক্তি

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কর্ণাটকের ভেমাগালে ভারতের প্রথম এইচ১২৫ হেলিকপ্টার সংযোজন লাইন উদ্বোধন করা হয়েছে। কর্নাটকে এইচ-১২৫ হেলিকপ্টারে ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’-র (যন্ত্রাংশ একত্রিত করা) উদ্বোধন করা হল। যা ভারতের প্রথম বেসরকারি হেলিকপ্টারের ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস এবং এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে সেই কাজ চলবে। যে প্রকল্পকে ভারতে বিমান তৈরির ক্ষেত্রে বড় ‘বুস্টার ডোজ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আর সেই প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার তৈরি করবে ভারত এবং ফ্রান্স।

    ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সম্মত

    দুই দেশ ভারত সরকার ও ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি নবীকরণ এবং বিএইএল ও সাফরানের যৌথ উদ্যোগে ভারতে ‘হ্যামার’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সম্মত হয়েছে। ভারতে হ্যামার মিসাইল তৈরির বিষয়ে মউ স্বাক্ষর করেছে ভারত ইলেকট্রনিকস লিমিটেড এবং সাফরান ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড ডিফেন্স। যে মিসাইল আপাতত রাফাল যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হ্যামার মিসাইল মোটামুটি ৬০-৭০ কিলোমিটার দূরে থাকা গ্রাউন্ড ‘টার্গেট’-কে নিখুঁতভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে। পাহাড়ি এলাকা এবং বাঙ্কারের মধ্যে একেবারে নিখুঁতভাবে ধ্বংসলীলা চালাতে পারে হ্যামার এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল।

    রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা

    ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ফরাসি ল্যান্ড ফোর্সেসের প্রতিষ্ঠানে পারস্পরিকভাবে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। মঙ্গলবার মোদি-মাক্রঁ বৈঠকে দ্বিতীয় দফায় ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা এবং ডুবোজাহাজ নির্মাণের বিষয়টি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর। সমঝোতা হয়েছে যৌথ উদ্যোগে হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে উড়ানে সক্ষম হেলিকপ্টার নির্মাণের বিষয়ে।

    উদীয়মান প্রযুক্তি ক্ষেত্র

    গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তি, বিশেষত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উন্নত প্রযুক্তি উন্নয়ন গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ধাতু নিয়ে সহযোগিতার জন্য যৌথ অভিপ্রায় ঘোষণা করা হয়েছে। উন্নত উপকরণ বিষয়ক একটি কেন্দ্র স্থাপনে ডিএসটি ও সিএনআরএস-এর মধ্যে ইচ্ছাপত্র বিনিময় হয়েছে। এছাড়াও ভারত-ফ্রান্স দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির প্রোটোকলে সংশোধন আনা হবে। স্টার্ট-আপ, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার জন্য টি-হাব ও নর্ড ফ্রান্সের মধ্যে অভিপ্রায়পত্র এবং ডিএসটি ও সিএনআরএস-এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    ইন্দো-ফ্রেঞ্চ কেন্দ্র স্থাপন

    ডিজিটাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে একটি ইন্দো-ফ্রেঞ্চ কেন্দ্র স্থাপনে যৌথ অভিপ্রায় ঘোষণা করা হয়েছে। নয়াদিল্লির এইমসে ‘ইন্দো-ফ্রেঞ্চ সেন্টার ফর এআই ইন হেলথ’ চালু হবে। সংক্রামক রোগ ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণায় সহযোগিতার জন্য ডিবিটি ও এএনআরএস-এর মধ্যে অভিপ্রায়পত্র বিনিময় হয়েছে। এছাড়া ‘ইন্দো-ফ্রেঞ্চ সেন্টার ফর মেটাবলিক হেলথ সায়েন্সেস’ প্রতিষ্ঠায় চুক্তি হয়েছে। এর পাশাপাশি এরোনটিক্স ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি জাতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপনে অভিপ্রায়পত্র বিনিময় হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহযোগিতায় ভারতের নব ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রক এবং ফ্রান্সের অর্থ, শিল্প, জ্বালানি ও ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব মন্ত্রকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নবীকরন করা হয়েছে। ভারতীয় ডাক বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রক ও ফ্রান্সের লা পোস্টের মধ্যেও একটি অভিপ্রায়পত্র বিনিময় হয়েছে।

    মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন পরিকাঠামো

    মঙ্গলবার ফ্রান্সের সংস্থা এক্সোট্রেলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে তিন ভারতীয় সংস্থা ধ্রুব স্পেস, পিক্সেল এবং এক্সডিলিঙ্ক্‌স ল্যাব্স-এর সঙ্গে। মঙ্গলবার দুপুরে এক্সোট্রেল নিজেই এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। এক্সোট্রেল মূলত বিভিন্ন মহাকাশ প্রযুক্তি তৈরি করে। জানা যাচ্ছে, তারা তিন ভারতীয় সংস্থাকে ‘প্রোপালশন সিস্টেম’ বিক্রি করবে। কত টাকার প্রযুক্তি কেনার বিষয়ে এই চুক্তি হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। যে তিন ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে এক্সোট্রেল চুক্তি সেরেছে, তিনটিই মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। ধ্রুব স্পেস কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করে। পিক্সেল তৈরি করে মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন পরিকাঠামো। এক্সডিলিঙ্ক্‌স ল্যাব্স-ও ছোট কৃত্রিম উপগ্রহের ডিজাইন তৈরি করে। দুই দেশই এই নতুন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসহ কৌশলগত খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  • AI Impact Summit India: ‘সকলের সুখের জন্য’, নয়াদিল্লিতে এআই সম্মেলন শুরু, উপস্থিত ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা

    AI Impact Summit India: ‘সকলের সুখের জন্য’, নয়াদিল্লিতে এআই সম্মেলন শুরু, উপস্থিত ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সকলের ভালোর জন্য, সকলের সুখের জন্য এআই। এমনই মনে করে আধুনিক ভারত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Impact Summit India)-র প্রভাব নিয়ে পাঁচ দিনের সম্মেলন শুরুতে এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে সকাল সাড়ে ৯টায় এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলন শুরু হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তিনি ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’-এর বার্তা দিয়েছেন। এই সম্মেলনে যোগ দেবেন গুগ্‌লের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান-সহ কমবেশি ৪০টি সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। যোগ দেবেন ২০টি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আগামী বৃহস্পতিবার এই সম্মেলনে বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলন চলাকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান এবং উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। এই সম্মেলন চলবে ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি।

    সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়

    সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “এআই নিয়ে আলোচনায় গোটা বিশ্ব সমবেত হয়েছে। আজ থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ভারত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর আয়োজন করছে। আমি রাষ্ট্রপ্রধান, শিল্পকর্তা, উদ্যোগপতি, নীতিনির্ধারক, গবেষকদের এই সম্মেলনে স্বাগত জানাচ্ছি।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এই সম্মেলনের বিষয়বস্তু হল সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়। অর্থাৎ, সকলের ভাল। সকলের সুখ। এটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষকেন্দ্রিক উন্নতিতে ব্যবহার করার বিষয়ে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরে।” এই সম্মেলনের পোশাকি নাম ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। এই সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসেরও এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই কৃষক এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা মানুষ।

    পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয়

    এটি গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক এআই শীর্ষ সম্মেলন। পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলন নীতি নির্ধারণ, গবেষণা, শিল্পক্ষেত্র এবং জনসম্পৃক্ততা— এই চারটি প্রধান স্তম্ভকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্রনেতা, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি সংস্থা, উদ্ভাবক ও বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেবেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে— গভর্ন্যান্স, ইনোভেশন এবং সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্টে এআইয়ের ভূমিকা। সম্মেলনের ভিত্তি রাখা হয়েছে তিনটি ‘সূত্র’-এর উপর—পিপল, প্ল্যানেট এবং প্রোগ্রেস। এই তিন নীতিই এআই নিয়ে ভারতের সহযোগিতা ও দৃষ্টিভঙ্গির রূপরেখা নির্ধারণ করে।

    কারা কারা যোগ দেবেন সামিটে

    ৭০ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপো’-তে ৩০টি দেশের ৩০০-র বেশি প্রদর্শক অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ১০টি থিম্যাটিক প্যাভিলিয়নে গবেষণা ও পাইলট প্রকল্প থেকে বড় পরিসরে বাস্তব প্রয়োগে এআইয়ের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। এই সম্মেলন ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। উন্নয়নমুখী এআই ব্যবহারে ভারতের যে জোর, তা এই মঞ্চে আরও স্পষ্ট হবে। লক্ষ্য হল, বৈশ্বিক আলোচনাকে বাস্তব ও মানুষকেন্দ্রিক ফলাফলে রূপ দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে একাধিক দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

    • ১. ভুটান – শেরিং তোবগে, প্রধানমন্ত্রী
    • ২. বলিভিয়া – এডমন্ড লারা মনতানো, ভাইস প্রেসিডেন্ট
    • ৩. ব্রাজিল – লুইজ় ইনাসিও লুলা দা সিলভা, প্রেসিডেন্ট
    • ৪. ক্রোয়েশিয়া – আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, প্রধানমন্ত্রী
    • ৫. এস্তোনিয়া – আলার কারিস, প্রেসিডেন্ট
    • ৬. ফিনল্যান্ড – পেট্টেরি অরপো, প্রধানমন্ত্রী
    • ৭. ফ্রান্স – ইমানুয়েল মাক্রঁ, প্রেসিডেন্ট
    • ৮. গ্রিস – কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস, প্রধানমন্ত্রী
    • ৯. গায়ানা – ড. ভররাত জগদেও, ভাইস প্রেসিডেন্ট
    • ১০. কাজাখস্তান – ওলঝাস বেকতেনভ, প্রধানমন্ত্রী
    • ১১. লিচেনস্টাইন – হেরেডিটারি প্রিন্স অ্যালোয়িস, হেরেডিটারি প্রিন্স অব দ্য প্রিন্সিপ্যালিটি অব লিশটেনস্টাইন
    • ১২. মরিশাস – ড. নাভিনচন্দ্র রামগুলাম, প্রধানমন্ত্রী
    • ১৩. সার্বিয়া – আলেকজ়ান্দার ভুচিচ, প্রেসিডেন্ট
    • ১৪. স্লোভাকিয়া – পিটার পেলেগ্রিনি, প্রেসিডেন্ট
    • ১৫. স্পেন – পেদ্রো সানচেজ় পেরেজ়-কাস্তেহন, প্রেসিডেন্ট
    • ১৬. শ্রীলঙ্কা – অনুরা কুমারা দিসানায়াকা, প্রেসিডেন্ট
    • ১৭. সেশেলস – সেবাস্তিয়ান পিল্লে, ভাইস প্রেসিডেন্ট
    • ১৮. সুইৎজ়ারল্যান্ড – গি পারমেলিন, প্রেসিডেন্ট
    • ১৯. নেদারল্যান্ডস – ডিক স্কুফ, প্রধানমন্ত্রী
    • ২০. সংযুক্ত আরব আমিরশাহি – শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, ক্রাউন প্রিন্স অব আবুধাবি

    এ ছাড়া ৪৫টিরও বেশি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেবে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও আলোচনায় যোগ দেবেন।

    আর কারা উপস্থিত থাকবেন?

    মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহ রাষ্ট্রসংঘের শীর্ষস্থানীয় একাধিক কর্মকর্তা নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    মহাসচিবের সঙ্গে থাকবেন—

    • ভলকার টুর্ক — জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার
    • অমনদীপ সিং গিল — আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ও ডিজিটাল ও উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ দূত
    • ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা — আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর
    • গিলবার্ট এফ. হাউংবো — আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-র ডিরেক্টর-জেনারেল
    • ডরিন বগদান-মার্টিন — আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংঘ (ITU)-র সেক্রেটারি-জেনারেল
    • কমল কিশোর— দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি

    এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ, এফএও, ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন,ইউএন ইন্টাররিজিওনাল ক্রাইম অ্যান্ড জাস্টিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    প্রযুক্তি জগতের শীর্ষকর্তারাও অংশ নিচ্ছেন

    সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রযুক্তি জগতের শীর্ষকর্তাদের তালিকা এরকম—

    • জেনসেন হুয়াং — প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, এনভিডিয়া
    • জুলি সুইট — চেয়ার ও সিইও, অ্যাকসেঞ্চার
    • স্যাম অল্টম্যান — সিইও, ওপেনএআই
    • সুন্দর পিচাই — সিইও, গুগল ও আলফাবেট
    • শান্তনু নারায়েন — চেয়ার ও সিইও, অ্যাডোবে
    • শ্রীধর ভেম্বু — সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ সায়েন্টিস্ট, জোহো
    • ইয়ান লেকুন — প্রধান এআই বিজ্ঞানী, মেটা
    • বিল গেটস — চেয়ার, গেটস ফাউন্ডেশন ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা, মাইক্রোসফট
    • ব্র্যাড স্মিথ — প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চেয়ার, মাইক্রোসফট
    • ক্রিস্টিয়ানো আমন — প্রেসিডেন্ট ও সিইও, কোয়ালকম
    • দারিও আমোদেই — সিইও, অ্যানথ্রোপিক
    • ডেমিস হাসাবিস — সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, গুগল ডিপমাইন্ড
    • আর্থি সুব্রহ্মণ্যম — সিওও ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, টিসিএস
    • আলেকজান্ডার ওয়াং — চিফ এআই অফিসার, মেটা
    • অপর্ণা বাওয়া — সিওও, জুম
LinkedIn
Share