মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাশক্তিকে বরণ করে নিতে তৈরি হচ্ছে শহর কলকাতা। নতুন সাজে সেজে উঠছে তিলোত্তমা। ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচে ভারতীয় ফুটবল দলের মুখোমুখি হতে শহরে পা রাখছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (India vs Brazil)। দুর্গাপুজোর আগে এও এক যেন পুজো ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে। আগামী ৩ অক্টোবর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হবে এই ম্যাচ। শুধু ব্রাজিলই নয়, এরপরের ৬ তারিখ এই একই ময়দানে খেলবে উরুগুয়েও। তবে মহারণের বাঁশি বাজার আগেই গ্যালারি ও দর্শক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)-এর সভাপতি কল্যাণ চৌবে।
ফুটবল ম্যাচের টিকিটে ‘সিট নম্বর’
ফেডারেশন সভাপতি জানিয়েছেন, যুবভারতীর সুবিশাল ইতিহাসের পাতায় এই প্রথমবার কোনও ফুটবল ম্যাচের টিকিটে নির্দিষ্ট আসন বা ‘সিট নম্বর’ উল্লেখ করা থাকবে। এর আগে স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের জন্য মুক্ত বা ‘ফ্রি সিটিং’ ব্যবস্থা থাকত, অর্থাৎ দর্শকেরা নিজেদের পছন্দ মতো ফাঁকা আসনে গিয়ে বসতে পারতেন। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেই নিয়মে আসছে আমূল বদল। ইতিমধ্যেই এই ম্যাচের সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমর্থকদের মাঠে আসার সময় ই-টিকিট সঙ্গে রাখতে হবে এবং গেটে তা স্ক্যান করিয়ে ভিতরে ঢুকতে হবে। এরপর টিকিটে বরাদ্দ থাকা নম্বর দেখেই নির্ধারিত চেয়ারটিতে বসতে হবে, অন্য কোথাও বসা যাবে না। প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে মেসি কলকাতায় আসার পর গ্যালারিতে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে ভেঙে গিয়েছিল একাধিক বাকেট চেয়ার। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আইএফএ-র (IFA) মাধ্যমে ভাঙা চেয়ারগুলি মেরামতির পাশাপাশি প্রতিটিতে নিখুঁত নম্বর বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।
গেরুয়া রঙে সাজছে গ্যালারি
রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুবভারতীর পরিচিত নীল-সাদা রঙ বদলে এই প্রথমবার রূপ পাচ্ছে গৈরিকিকরণে। পুরো স্টেডিয়ামকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি ড্রেসিংরুম ও শৌচাগারগুলিকেও ঢেলে সাজিয়ে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা হচ্ছে। ম্যাচের আনন্দে সামিল করা হচ্ছে কলকাতার তিন প্রথাগত ফুটবল শক্তিকেও। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিং – এই তিন প্রধানের সমর্থকদের জন্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে টিকিটের ওপর বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের ‘B2’ এবং ‘D2’ – এই নির্দিষ্ট দুটি গ্যালারির নির্ধারিত সংখ্যক টিকিটে দেওয়া হবে ১০ শতাংশ (10%) ছাড়। উদাহরণস্বরূপ, ওই টিকিটের দর যদি ১০ টাকা হয়ে থাকে, তবে ১০% ছাড়ের সুবিধায় তা কেনা যাবে। এই ছাড়ের টিকিটগুলি উপলব্ধ থাকবে তিন প্রধানের নিজস্ব ক্লাব টেন্ট এবং আইএফএ-র অফিস থেকে।









