মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। তার পরেও দাপট কমেনি গদি খোয়ানো, সদ্য ‘প্রাক্তন’ হয়ে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। যার ফের প্রমাণ মিলল বুধবার রাতে। এদিন গুলি করে খুন করা হয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্ত সহায়ককে। ওই রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার কাছে গাড়ি থামিয়ে চন্দ্রনাথ রথ নামের ওই আপ্ত সহায়ককে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়া হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর (Chandranath Rath)।
পিএ খুনে কাঠগড়ায় তৃণমূল (Suvendu Adhikari)
জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ (Chandranath Rath) যখন বারাসতের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই তাঁর গাড়ি থামিয়ে বাইক থেকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। গুলি বুকের বাঁদিকে লাগে। হার্ট এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায়। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং, শঙ্কুদেব পন্ডার দাবি, মৃত্যু নিশ্চিত করতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে। আপ্ত সহায়কের মর্মান্তিক পরিণতিতে মর্মাহত শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এবার ওই ঘটনায় মুখ খুললেন শুভেন্দু। রাতেই হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে। তিনি বলেন, “দু’তিনদিন ধরে রেকি করে পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন ডিজিপি। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মর্মন্তিক ঘটনা। আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা শোকাহত। এই ঘটনার নিন্দা জানানোর মতো ভাষা আমাদের নেই। দিল্লি থেকে আমাদের সমগ্র নেতৃত্ব এই বিষয়ে খবর পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মৃতের পরিবার এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিভিন্ন নেতা এবং নব-নির্বাচিত বিধায়করা এখানে এসেছেন। তাঁরাও পরিবারের পাশে রয়েছেন। পুলিশ কিছু প্রমাণ পেয়েছে। তারা তদন্ত করবে।”
মহাজঙ্গল রাজের ফল
শুভেন্দু বলেন, “এটা ১৫ বছরের মহাজঙ্গল রাজের ফল… বিজেপি এখানে গুন্ডাদের নির্মূল করার কাজ শুরু করবে…”। দলীয় নেতা-কর্মীদেরও বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর আবেদন, কেউ যেন নিজের হাতে আইন হাতে তুলে না নেন। শান্তি বজায় রাখারও চেষ্টা করতে হবে। তিনি জানান, পুলিশের ওপর আস্থা রয়েছে তাঁদের। দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে পুলিশের তরফে (Suvendu Adhikari)। ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্তও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শুভেন্দু জানান, কোনও একটা ক্লু পেয়েছে পুলিশ। সেটা ধরেই তদন্ত হচ্ছে। আততায়ীর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
কে এই চন্দ্রনাথ?
শুভেন্দুর সঙ্গে চন্দ্রনাথের সম্পর্ক আট বছরের। তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল তাঁদের। পরে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত থেকে রাজনৈতিক সব কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শুভেন্দুর ফাইল বয়ে নিয়ে যাওয়া, তাঁর মিটিং-মিছিলের প্ল্যান করা – সবই করতেন চন্দ্রনাথ। বাংলায় নয়া সরকারের শপথ নেওয়ার আগেই দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেল সেই চন্দ্রনাথের দেহ।
প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পুলুপ এলাকার ঈশ্বরপুর ৫ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেন। দীর্ঘ ১৮ বছর চাকরি করার পর স্বেচ্ছাবসর নিয়ে কর্পোরেট সংস্থায় কাজ শুরু করেন। চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক বহু দিনের। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে থাকাকালীন সময় থেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল। শুভেন্দুর মতোই চন্দ্রনাথের পরিবারও এক সময় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁর মা হাসি রথ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। পরে তিনিও বিজেপিতে যোগ দেন।
২০১৯ সাল থেকে শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ
২০১৯ সালে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ার পর জলসম্পদ দফতরে চন্দ্রনাথকে আপ্তসহায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিলে, তখন থেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কাজ করতে থাকেন চন্দ্রনাথ। ধীরে ধীরে তিনি শুভেন্দুর অন্যতম আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় চন্দ্রনাথ নন্দীগ্রামেও সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর কলকাতায় তাঁর বিভিন্ন সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত কাজের তদারকির দায়িত্বও সামলাতেন চন্দ্রনাথ। চণ্ডীপুরের বাড়িতে বর্তমানে রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে মা হাসি রথ।








