Tag: Air India Pilots Drug Test

  • Air India Pilots Drug Test: ফের অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, প্রাথমিক দফার মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ আরও ২ পাইলট

    Air India Pilots Drug Test: ফের অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, প্রাথমিক দফার মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ আরও ২ পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুকেট-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়া বিমানে ভয়াবহ ঘটনার পর পাইলটদের মাদক পরীক্ষা আরও জোরদার করেছে টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া। এরই মধ্যে আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ড্রাগ স্ক্রিনিং পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে সূত্রের খবর। তবে তাঁদের চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। আপাতত দু’জনকেই ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুকেট-দিল্লি বিমানের কমান্ডার অবতরণের পর করা পরপর দুটি ইউরিন ড্রাগ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পরই পাইলটদের নিয়ে ব্যাপকভাবে ড্রাগ স্ক্রিনিং শুরু করে এয়ার ইন্ডিয়া। ওই পরীক্ষায় তাঁর শরীরে মারিজুয়ানা বা গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছিল বলে জানা যায়।

    কতজন পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিং

    সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ৩০০-রও বেশি এয়ার ইন্ডিয়া পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিং করা হয়েছে। মাদক পরীক্ষার ক্ষেত্রে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি কার্যকর করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে সংস্থা। সাধারণত চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস-এর প্রায় ৫,০০০ পাইলটকে এই বিশেষ ড্রাগ টেস্টের আওতায় আনা হয়েছে। ১৩ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এই পরীক্ষা।

    কেন শুরু হলো এই ড্রাগ টেস্ট?

    ঘটনার কেন্দ্রে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ৩২০এনইও (Airbus A320neo) বিমানটি গত ৪ অগাস্ট উড়ানের সময় আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। ফুকেট-দিল্লি বিমানের এক কেবিন ক্রু সদস্য আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে ওই পাইলট ‘পট’ বা গাঁজা সেবন করেছিলেন। সেই অভিযোগের পর ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায়। এই ঘটনার পরে বিমানের মুখ্য পাইলটের ড্রাগ টেস্ট করা হয়। প্রথম পরীক্ষার পরে তাঁর নমুনার মারিজুয়ানার টেস্ট পজিটিভ আসে বলে সূত্রের খবর। এর পরেই এয়ার ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর সমস্ত পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    যান্ত্রিক ত্রুটিও ছিল

    ফুকেট-দিল্লি বিমানের ঘটনায় বিমানের টেকনিক্যাল বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানের সিস্টেম লগ এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রায় চার সেকেন্ড ধরে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ঘটেছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানের তিনটি হাইড্রলিক সিস্টেমে একাধিক ত্রুটির পর পাইলটের কমান্ড ছাড়াই এলিভেটর এবং আইলারন নড়াচড়া করেছিল। এর পাশাপাশি স্পয়লারগুলিও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    ক্রু সদস্যদের নিয়মিত ড্রাগ টেস্ট

    বিমানের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ফ্লাইট কন্ট্রোল পরিচালনায় হাইড্রলিক সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলিভেটর বিমানের নাক ওপরে বা নীচে ওঠানামা করে পিচ নিয়ন্ত্রণ করে। আইলারন বিমানের ডান-বাঁ দিকের ভারসাম্য বা রোল নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে স্পয়লার লিফট কমিয়ে ড্র্যাগ বাড়াতে সাহায্য করে এবং অবতরণের সময় বিমানকে ধীর করা ও ব্রেকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘তীব্র টার্বুলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হলেও পরে বিমানের সিস্টেম লগ থেকে উঠে আসে যান্ত্রিক ত্রুটির আরও স্পষ্ট ছবি। ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, অসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম মেনে তাদের ক্রু সদস্যদের নিয়মিত ড্রাগ টেস্ট করা হয় এবং ফুকেট-দিল্লি বিমানের ঘটনার কারণেই এই পরীক্ষা শুরু করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাইলটদের উপর ব্যাপক ড্রাগ স্ক্রিনিং এবং দুই পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কড়াকড়ি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

LinkedIn
Share