মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) প্রতারণার নয়া ফাঁদ। চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল ‘স্মার্ট ভ্যালু’ নামে এক সংস্থার বিরুদ্ধে। আলিপুরদুয়ার শহরের প্রানকেন্দ্রে একটি ভাড়াবাড়িতে রমরমিয়ে চলছে প্রতারণার কারবার। পুরসভার পক্ষ থেকে এই ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে সংস্থার লোকজনের দাবি। ফলে, এর পিছনে পুরসভার কর্মকর্তাদের কাটমানি রয়েছে কি না তা নিয়ে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কীভাবে প্রতারণা করছে সংস্থার কর্মীরা? (Alipurduar)
আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) ছাড়াও কামাখ্যাগুড়ি ও ফালাকাটাতেও এরকম অফিস করেছে ওই সংস্থা। ১৮ হাজার টাকা বেতনের চাকরির টোপ দিয়ে প্রতারণা শুরু করে ওই সংস্থা। প্রথমে তারা কম্পিউটার শেখানোর নাম করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলে। প্রশিক্ষিত হয়ে গেলেই চাকরি। আর বেতন মিলবে ১৮ হাজার টাকা। গ্রাম বাংলার যুবক-যুবতীকে এমনই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল সংস্থার পক্ষ থেকে। চাকরির আশায় সেই ফাঁদে পা দিয়েছিলেন গৃহবধূরাও। গ্রামের ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের টার্গেট করত এই সংস্থার কর্মীরা। মহিলা ও মেয়েদের স্বনির্ভর করতে কম্পিউটার শেখানোর নাম করে তাঁদের কাছ থেকে অনলাইনে নেওয়া হত ১৫ হাজার টাকা। প্রতারিতদের দাবি, কম্পিউটার শেখা হয়ে গেলে তাঁদের চাকরি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত। ফলে, প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার পড়ুয়া ও গৃহবধূরা ১৫ হাজার টাকা করে দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। সবমিলিয়ে ওই সংস্থা বাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছিল।
প্রতারিতরা কী বললেন?
প্রতারিত এক বধূর বক্তব্য, আমাদের পরিচিত মানুষজনের ৫০০ তালিকা তৈরি করে ফোন করতে বলা হত। আমাদেরকেও একই ভাবে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার কথা বলা হত। পুরানো কর্মীরা প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে যাঁরা ছেড়ে দিচ্ছেন, তাঁদের জায়গায় আসছেন নতুন কেউ। আমি টাকা ফেরতের জন্য প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছি।
আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) পুরসভার চেয়ারম্যান কী বললেন?
আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর বলেন, আমরা এটা সমর্থন করিনা। কেউ যদি পুরসভার নাম ভাঙিয়ে ব্যাবসা করে তা মেনে নেব না। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনব। পুরসভার পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।