Tag: Amazon Now

  • India: ২০৩১ সালের মধ্যে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার, লাভের অঙ্কে বড় চ্যালেঞ্জ

    India: ২০৩১ সালের মধ্যে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার, লাভের অঙ্কে বড় চ্যালেঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী কয়েক বছরে ব্যাপক সম্প্রসারণের পথে এগোতে পারে ভারতের (India) দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার। রেডসিয়ার স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্টস এবং গুগলের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে এই (Quick Commerce Market) বাজারের আকার বর্তমানের তুলনায় পাঁচ থেকে সাত গুণ বেড়ে ৭০ বিলিয়ন থেকে ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার অঙ্ক কয়েক লাখ কোটি টাকা। ২০২৬ অর্থবর্ষে এই বাজারের বার্ষিক মোট অর্ডারমূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বা ১.১ লাখ কোটি টাকা।

    তবে এই বিপুল বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাস্তবায়িত করতে হলে প্রতি বছর ৪১ থেকে ৪৮ শতাংশ হারে বাজারের সম্প্রসারণ প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে প্রতিটি পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহকেন্দ্রের দৈনিক অর্ডার, পরিচালন ব্যয় এবং লাভের হিসাব।

    মহানগর ও নতুন পণ্যই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি (India)

    সমীক্ষার ফল তুলে ধরে রেডসিয়ার স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্টসের অংশীদার কুশল ভাটনগর জানিয়েছেন, পাড়াভিত্তিক সরবরাহকেন্দ্রের বিস্তার, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি এবং ডিজিটাল পরিষেবার প্রসার এই বাজারের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    বর্তমানে মাসে অন্তত একবার কেনাকাটা করেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কোটি। ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে সেই সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস। এর ফলে ভারতের মোট খুচরো বাজারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের অংশীদারি বর্তমানের দেড় শতাংশেরও কম থেকে বেড়ে প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

    এই বৃদ্ধিতে মহানগরগুলির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাজারের অতিরিক্ত বৃদ্ধির প্রায় ৬০ শতাংশ আসতে পারে মহানগরগুলি থেকে। বর্তমানে মহানগরের মোট খুচরো কেনাকাটার প্রায় ৬ শতাংশ এই পরিষেবার মাধ্যমে হলেও আগামী দিনে তা বেড়ে ২০ থেকে ২৩ শতাংশ হতে পারে।

    একই সঙ্গে প্রসাধনসামগ্রী, বৈদ্যুতিন পণ্য এবং পোশাকের মতো পণ্যের বিক্রিও দ্রুত বাড়বে বলে অনুমান। এই ক্ষেত্রের বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২১ থেকে ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।

    উৎসবের মরসুমেও এই বাজারের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় উৎসবকেন্দ্রিক বিক্রি ১১০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। অনলাইন মাধ্যমে উৎসবের সময় হওয়া মোট কেনাকাটার প্রায় ১৮ শতাংশ আসতে পারে এই দ্রুত সরবরাহ পরিষেবা থেকে।

    বাজারের সিংহভাগ তিন সংস্থার দখলে

    বর্তমানে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার মূলত তিনটি বড় সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। মোট অর্ডার মূল্যের ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ তাদের দখলে রয়েছে।

    এই বাজারে প্রায় ৪৬ শতাংশ অংশীদারি নিয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্লিঙ্কিট। জেপ্টোর অংশীদারি প্রায় ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ এবং সুইগি ইনস্টামার্টের ২২ থেকে ২৭ শতাংশ। অন্য দিকে, ফ্লিপকার্ট মিনিটস এবং অ্যামাজন নাও—দুই সংস্থারই বাজারের অংশীদারি এখনও ৫ শতাংশের কম। তবে দ্রুত পরিষেবা সম্প্রসারণ করছে (India) তারা।

    ২০২৬ সালের গোড়ার হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রের মাসিক মোট পণ্য বিক্রির মূল্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিন অর্ডারের সংখ্যা প্রায় ৭৮ লাখ।  গড় অর্ডারমূল্য ৪৬০ টাকা এবং সারা দেশে দ্রুত পণ্য সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ গুদাম বা সংরক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা ৬,২৮০-রও বেশি।

    এ ছাড়া, বড় সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক মডেলেও পরিবর্তন এসেছে। আগে অন্য বিক্রেতাদের পণ্য একত্রিত করে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলেও এখন অনেক সংস্থা নিজেরাই পণ্যের মজুত ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। এতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি, নিজেদের ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মোট মুনাফার হার অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। সেখানে দেশের বড় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই হার সাধারণত ৩ থেকে ৫ শতাংশ।

    লাভের মুখ দেখতে দিনে অন্তত ১,২০০ থেকে ১,৫০০ অর্ডার জরুরি

    বাজারের আকার বাড়লেই যে সংস্থাগুলি লাভজনক হয়ে উঠবে, তা নয়। প্রতিটি সরবরাহকেন্দ্রের আয়-ব্যয়ের হিসাবই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি কেন্দ্রকে লাভ-ক্ষতির সমতা অর্জন করতে সাধারণত প্রতিদিন ১,২০০ থেকে ১,৫০০টি অর্ডার সামলাতে হয়।

    প্রথম সারির মহানগরগুলিতে একটি কেন্দ্র প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০টি অর্ডার সামলাতে পারে। সেখানে প্রতি অর্ডারে গড় খরচ প্রায় ২৭ টাকা। অন্য দিকে, মহানগরের বাইরের কেন্দ্রগুলিতে দৈনিক গড় অর্ডার প্রায় ৯৫০টি এবং প্রতি অর্ডারের খরচ প্রায় ৩১ টাকা।

    একটি নতুন কেন্দ্র তৈরি করতে ১৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। নতুন কেন্দ্রগুলিকে প্রথম চার থেকে আট মাস পর্যন্ত লোকসানও গুনতে হয়। তবে দেড় বছর বা তার বেশি সময় ধরে চালু থাকা পরিণত কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রভিত্তিক পরিচালন মুনাফার হার ৫ থেকে ৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

    কিন্তু দ্রুত সম্প্রসারণের খরচ সামগ্রিক লাভের উপর চাপ তৈরি করছে। ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ব্লিঙ্কিট ১৮০টিরও বেশি নতুন সরবরাহকেন্দ্র চালু করেছে। এর ফলে সংস্থাটির সমন্বিত পরিচালন মুনাফার হার কমে ঋণাত্মক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

    বিজ্ঞাপন ও অতিরিক্ত পরিষেবায় আয় বাড়ানোর চেষ্টা

    শেষ পর্যায়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার খরচ সামলাতে সংস্থাগুলি এখন বিজ্ঞাপন, সুবিধা-শুল্ক এবং কেন্দ্রের ভিতরে ছোট খাবারের দোকানের মতো বিকল্প আয়ের উপর জোর দিচ্ছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি অর্ডারে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত সুবিধা-শুল্ক নেওয়া হচ্ছে।

    জেপ্টোর বিজ্ঞাপন থেকে আয় গত দুই বছরে ৪৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১,৬৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি দেখিয়ে দিচ্ছে, পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিজ্ঞাপনও দ্রুত সরবরাহ সংস্থাগুলির আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে (Quick Commerce Market)।

    তবে সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের বাজার গড়ে তুলতে হলে মোট অর্ডারমূল্যের অন্তত ৩০ শতাংশ বা তার বেশি আসতে হবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের বিভাগগুলি থেকে। সেই সঙ্গে গড় অর্ডারমূল্য ৪৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা বা তার বেশি হতে হবে (India)।

    তবে বেশি দামের পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন সমস্যাও রয়েছে। বিশেষ করে পোশাকের মতো পণ্যে ফেরত দেওয়ার হার ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে পণ্য ফেরত নেওয়া, পুনরায় মজুত করা এবং সরবরাহের খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে।

    নিয়মকানুনের কড়াকড়ি, আপত্তি খুচরো ব্যবসায়ীদের

    দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার যত বড় হচ্ছে, ততই বাড়ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির নজরদারি। ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সরবরাহকেন্দ্রকে খাদ্য ব্যবসায়ী হিসেবে প্রয়োজনীয় রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স নিতে হয়।

    তেলঙ্গানার খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা টিজি সেফের পরিদর্শনের পরে হায়দরাবাদে ইনস্টামার্ট, জেপ্টো এবং ফ্লিপকার্টের কয়েকটি কেন্দ্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। মুম্বইয়ের ধারাভিতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে উঠে আসা সমস্যার মধ্যে ছিল শীতলীকরণ কক্ষে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে না পারা এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব।

    অন্য দিকে, দ্রুত পণ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অনৈতিক মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশন। সংগঠনটির দাবি, দেশের ৭৫ থেকে ৮০টি শহরে ২ লাখেরও বেশি ছোট মুদির দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি সংগঠনটির নিজস্ব দাবি, এর স্বাধীন যাচাইয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

    এ ছাড়া, রাজস্থান ও কর্নাটকে দ্রুত সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে কর্মীদের নথিভুক্ত করা এবং তাঁদের কল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থ দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে। পণ্য সংরক্ষণকেন্দ্র থাকা প্রতিটি রাজ্যে পৃথক পণ্য ও পরিষেবা কর নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

    প্রস্তাবিত ব্যবসায়ী ছাড়ের হার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশ ২ অক্টোবর ‘ইউপিআই বর্জন দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছিল। প্রস্তাবিত ছাড়ের হার ছিল ০.৫ থেকে ১.১ শতাংশ। পরে অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

    এদিকে, চলতি মাসে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করার বিষয়টিও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বজায় থাকলে পরিবারের হাতে খরচ করার মতো অর্থ কমতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের মতো সুবিধানির্ভর পরিষেবার চাহিদাতেও।

    আগামী দিনে নজর থাকবে যে বিষয়গুলিতে

    বাজারের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির পূর্বাভাস ঘিরে এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। ৯০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বাজারমূল্য বলতে কর ও অন্যান্য শুল্ক-সহ মোট অর্ডারমূল্য বোঝানো হয়েছে, নাকি পণ্য ফেরত ও বাতিলের হিসাব বাদ দেওয়ার পরে প্রকৃত বিক্রিমূল্য—তা পরিষ্কার নয়।

    একই ভাবে, দ্রুত সম্প্রসারণ বজায় রেখেও ছোট সংস্থাগুলি পরিচালন মুনাফায় পৌঁছতে পারবে কি না, অথবা দ্বিতীয় সারির শহরগুলিতে পর্যাপ্ত অর্ডার না থাকলেও ভর্তুকি ছাড়া সরবরাহকেন্দ্র চালানো সম্ভব হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি সূচকের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রথমত, নতুন সরবরাহকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রে দৈনিক অর্ডার কতটা বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, সংস্থাগুলির পরিচালন মুনাফার হার কোন দিকে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মোট অর্ডারের মধ্যে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের পণ্যগুলির অংশীদারি কতটা বাড়ছে (India)।

    পাশাপাশি, প্রতিযোগিতা কমিশনের সিদ্ধান্ত, একাধিক রাজ্যে পণ্য মজুত রাখা সংস্থাগুলির জন্য একক নিবন্ধনের সম্ভাবনা নিয়ে পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন রাজ্যে গিগ কর্মীদের কল্যাণ তহবিল সংক্রান্ত নিয়মও বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

    সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজারে বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১৪২ শতাংশ (Quick Commerce Market)। আগামী ত্রৈমাসিকগুলিতে পুরনো সরবরাহকেন্দ্রগুলি কতটা লাভজনক হয়ে উঠছে এবং নতুন কেন্দ্র খোলার খরচ কতটা সামলানো যাচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করবে ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে এই বাজার ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে কি না।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দু সমাজকে ঘিরে বিতর্ক, হামলায় ব্যাপক উত্তেজনা

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দু সমাজকে ঘিরে বিতর্ক, হামলায় ব্যাপক উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও (Roundup week) মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে ঘিরে একাধিক ঘটনা নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্য, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, সাংস্কৃতিক বিতর্ক, নারী নির্যাতন এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ১৪ থেকে ২০ জুন, ২০২৬ – এই সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা একবার দেখে নেওয়া যাক।

    ককরোচ জনতা পার্টি (Hindus Under Attack)

    ভারতে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে নির্মিত একটি হরিয়ানভি মিউজিক ভিডিও নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মালিকানাধীন ‘আনম্যাড আর্টওয়ার্কস’ (Unmaad Artworks) প্রযোজিত ‘ভোলে কাটিং কারা লে’ (Bhole Cutting Kara Le) নামের ভিডিওতে ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীকে অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

    আর্যভট্টকে তাচ্ছিল্য!

    এদিকে, অ্যামাজন ইন্ডিয়ার কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘অ্যামাজন নাও’ (Amazon Now) -এর একটি বিজ্ঞাপনী প্রচার নিয়েও তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, ওই বিজ্ঞাপনে প্রাচীন ভারতীয় গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর্যভট্টকে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। বিষয়টি ঘিরে আইনি নোটিশ, পুলিশ অভিযোগ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।

    হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত

    কর্নাটকে অধ্যাপক কেএস ভগবানের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি (HJS)। এক জনসভায় তিনি ভগবান শ্রীরাম এবং হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। সংগঠনের দাবি, এসব মন্তব্য কোটি কোটি হিন্দুর ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে।

    ধর্মান্তরের অভিযোগ তরুণী বধূর

    মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বছর চব্বিশের এক বিবাহিত তরুণী ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল, তোলাবাজি এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ এনে (Roundup week) পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও এক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

    ওয়েব সিরিজ বিতর্ক

    এদিকে, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘Raakh’ ওয়েব সিরিজ নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ১৯৭৮ সালের রঙ্গা-বিল্লা হত্যাকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হলেও, সিরিজটিতে বাস্তব চরিত্রগুলির ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় বদলে দেওয়া হয়েছে। অভিনেতা প্রকাশ রাজকেও ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, তিনি নিজেকে হিন্দুবিরোধী নন, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী রাজনীতির বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করলেও তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যে সেই অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছে।

    বাংলাদেশের ছবি

    অন্যদিকে, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী ও সংগঠনের দাবি, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, নারী নির্যাতন (Hindus Under Attack) ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মতো ঘটনা সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

    হিন্দু ব্যবসায়ী পরিবারে হামলা

    বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় রিপন মণ্ডল নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ী ও তাঁর বৃদ্ধা মায়ের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দিনের বেলায় তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। ঘটনায় অন্তত চারজন জখম হন। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে রিপনকে।

    বন্ধ রাম মূর্তি নির্মাণ কাজ

    গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুরে অবস্থিত (Roundup week) শ্রীশ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে নির্মাণাধীন দেশের সম্ভাব্য বৃহত্তম ভগবান শ্রীরামের মূর্তি নির্মাণের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন (Hindus Under Attack)।

     

LinkedIn
Share