Tag: Ambedkar Jayanti

  • Ambedkar jayanti: ১৪ এপ্রিল আম্বেদকর জয়ন্তী, বিশ্বজনীন মর্যাদার জন্য ভ্রাতৃত্বমূলক সাম্য

    Ambedkar jayanti: ১৪ এপ্রিল আম্বেদকর জয়ন্তী, বিশ্বজনীন মর্যাদার জন্য ভ্রাতৃত্বমূলক সাম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪ই এপ্রিল ভারতজুড়ে পালিত হচ্ছে বাবাসাহেব ডঃ বিআর আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী (Ambedkar jayanti)। ভারতের সংবিধানের প্রধান স্থপতি হিসেবেই শুধু নয়, আধুনিক গণতন্ত্রের অন্যতম গভীর নৈতিক চিন্তাবিদ হিসেবে বাবাসাহেবকে আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সারা দেশ। তার জীবন ছিল সমাজের প্রান্তিক মানুষের মর্যাদা রক্ষার এক নিরলস সংগ্রাম। সামাজিক সমরসতা এবং ন্যায় বিচারের (Equality For Universal) জন্য আজীবন কাজ করে গিয়েছেন বাবা সাহেব।

    আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক গণতন্ত্র (Ambedkar jayanti)

    আম্বেদকরের (Ambedkar jayanti) চিন্তাধারা কেবল সংবিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, রাজনৈতিক গণতন্ত্র কখনওই সামাজিক গণতন্ত্র ছাড়া স্থায়ী হতে পারে না। স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্ব (Fraternity) — এই তিনটি আদর্শ একে অপরের পরিপূরক। এর মধ্যে ‘ভ্রাতৃত্ব’ বা বন্ধুত্থ-কেই তিনি সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, ভ্রাতৃত্বই পারে অধিকারকে (Equality For Universal) সম্পর্কের রূপ দিতে এবং সহাবস্থানকে একটি প্রকৃত সমাজে পরিণত করতে।

    আম্বেদকর এবং উপাধ্যায়ের ভাবনার মেলবন্ধন

    প্রতিবেদনটিতে পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘অন্ত্যোদয়’ (Antyodaya) ভাবনার সঙ্গে আম্বেদকরের দর্শনের এক গভীর সংযোগের কথা বলা হয়েছে। অন্ত্যোদয়ের মূল কথা হলো — সমাজের শেষ ব্যক্তিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

    আম্বেদকর: গুরুত্ব দিয়েছেন ‘ন্যায়’-এর (Equality For Universal) ওপর, যাতে আইন ও সংস্কারের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষ মর্যাদা পায়।

    উপাধ্যায়: জোর দিয়েছেন ‘সংবেদন’-এর ওপর, যাতে সমাজের শেষ ব্যক্তিটি কেবল সরকারি সুরক্ষা নয়, বরং সামাজিক স্নেহ ও মমতায় সিক্ত হয়।

    এই দুই মহান চিন্তাবিদের দর্শনই এক জায়গায় মিলেছে — তা হলো সমাজের সবথেকে নিচু স্তরের মানুষের উন্নয়ন। তাদের মতে, কোনো সমাজ যদি তার একটি অংশকে পেছনে ফেলে রাখে, তবে সেই উন্নয়ন কখনোই নৈতিকভাবে বৈধ হতে পারে না।

    বর্তমান ভারতের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা

    সমকালীন ভারতে এই দুই দর্শনের সমন্বয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে চ্যালেঞ্জটি কেবল অর্থনৈতিক বৃদ্ধির নয়, বরং সেই উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) এবং মানবিক করে তোলা। সমাজের প্রান্তিক স্তরে থাকা ব্যক্তির মর্যাদা নিশ্চিত করাই হলো আমাদের গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষা।

    আম্বেদকর জয়ন্তীতে বাবাসাহেবের (Ambedkar jayanti) উত্তরাধিকার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সাম্য যেন কেবল খাতা-কলমে না থাকে, বরং তা যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়িত হয়। ন্যায়বিচার (Equality For Universal) যখন মর্যাদাকে পুনরুদ্ধার করে এবং অন্ত্যোদয় যখন সেই মর্যাদাকে শেষ ব্যক্তিটির কাছে পৌঁছে দেয়, তখনই একটি প্রকৃত ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পন্ন মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে।

    আজকের এই দিনে বাবাসাহেবের দেখানো পথে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সমাজ গড়ার অঙ্গীকারই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

  • Ambedkar Jayanti: ন্যায় ও সাম্যের মূর্ত প্রতীক অম্বেডকর, জন্মদিনে জানুন সংবিধান প্রণেতার জীবনী

    Ambedkar Jayanti: ন্যায় ও সাম্যের মূর্ত প্রতীক অম্বেডকর, জন্মদিনে জানুন সংবিধান প্রণেতার জীবনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১৪ এপ্রিল সংবিধান প্রণেতা ডক্টর ভীমরাও রামজি অম্বেডকরের জন্ম জয়ন্তী (Ambedkar Jayanti)। তাঁর নেতৃত্বেই গড়া হয়েছিল সংবিধান কমিটি। যে সংবিধান গৃহীত হয় ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি। সময় যত গড়িয়েছে, দেশ যত এগিয়েছে, অম্বেডকর (Bhimrao Ramji Ambedkar) ততই পরিচিতি লাভ করেছেন ন্যায় ও সাম্যের মূর্ত প্রতীক হিসেবে।

    অম্বেডকর আখ্যান (Ambedkar Jayanti)

    নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন সময় একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে সংবিধান। যদিও অটুট রয়েছে অম্বেডকরের নেতৃত্বে তৈরি সংবিধান। তফশিলি সম্প্রদায়ের এই মানুষই জন্মেছিলেন ১৮৯১ সালের ১৪ এপ্রিল। মধ্যপ্রদেশের মহউ ক্যান্টনমেন্টে জন্মগ্রহণ করেছিলেন অম্বেডকর (Ambedkar Jayanti)। মহারাষ্ট্রের সাতারায় প্রাথমিক স্কুলের পাঠ চুকিয়ে বম্বের (অধুনা মুম্বই) এলফিনস্টোন হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯১২ সালে বম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ পাশ করেন। কলেজে অসাধারণ দক্ষতার কারণে এমএ এবং পিএইচডি করার জন্য ১৯১৩ সালে বরোদা রাজ্যের মহারাজা তাঁকে বৃত্তি দেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠও নেন তিনি। তাঁর থিসিসের শিরোনাম ছিল ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসন ও অর্থ’। সেখান থেকে অম্বেডকর চলে যান লন্ডনে। ভর্তি হন লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্সে। আইন (Ambedkar Jayanti) পড়ার জন্য ভর্তি হন গ্রেস ইনে। অর্থাভাবে ১৯১৭ সালে দেশে ফেরেন অম্বেডকর। ১৯১৮ সালে সিডেনহাম কলেজ, মুম্বইয়ের রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক হন তিনি।

    গণপরিষদের খসড়া কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন অম্বেডকর

    ১৯৪৬ সালে ভারতের গণপরিষদে নির্বাচিত হন অম্বেডকর। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীন ভারতের দেশের প্রথম আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। পরে নির্বাচিত হন গণপরিষদের খসড়া কমিটির চেয়ারপার্সন। গণপরিষদের তৎকালীন সদস্য মহাবীর ত্যাগী অম্বেডকরকে ‘প্রধান শিল্পী’ আখ্যা দিয়েছিলেন। অম্বেডকর সম্পর্কে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ বলেছিলেন, “চেয়ারে বসে এবং প্রতিদিনের কার্যধারায় দেখছি, আমি বুঝতে পেরেছি যে অন্য কেউ এত উদ্যমে থাকতে পারেন না। নিষ্ঠার সঙ্গে ড্রাফটিং কমিটির সদস্যরাও বিশেষ করে এর চেয়ারম্যান ডঃ অম্বেডকর তাঁর স্বাস্থ্যের কথা না ভেবেই কাজ করে গিয়েছেন। তিনি কেবল তাঁর নির্বাচনকে ন্যায্যতা দেননি, বরং তিনি যে কাজটি করেছেন, তাতে দীপ্তি যোগ করেছেন।”

    অম্বেডকরের সামাজিক আন্দোলন

    ১৯৫২ সালে অম্বেডকর রাজ্যসভার সদস্য হন। এই বছরই কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়। পরের বছরই ওই একই ডিগ্রি দেয় হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও। দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে ১৯৫৫ সালে তাঁর স্বাস্থ্য একেবারেই ভেঙে পড়ে। ১৯৫৬ সালের ৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে ঘুমঘোরে না ফেরার দেশে চলে যান অম্বেডকর। অম্বেডকর ছিলেন সমাজ সংস্কারক। তিনি ছিলেন লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে। মহিলাদের অধিকারের দাবিতে সওয়াল করেছেন নানা সময়। লিঙ্গ বৈষম্য, সমাজ থেকে অস্পশ্যতা দূর করতে এবং দলিত মহিলাদের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়েছিলেন তিনি। স্কুলে পড়ার সময় উচ্চবর্ণের লোকজন যে কলে জলপান করত, সেখানে তাঁকে জল খেতে দেওয়া হয়নি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্তও তা ভুলে যাননি তিনি। এই প্রেক্ষিতেই তিনি লিখেছিলেন বিশ্বখ্যাত বই ‘দ্য আনটাচেবল’। সমালোচকদের একাংশের মতে, যা তৎকালীন সমাজের জীবন্ত দলিল। অম্বেদকর দলিত বৌদ্ধ আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন এবং অস্পৃশ্য বা দলিতদের সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রচার করেছিলেন। অম্বেডকর একজন খ্যাতনামা আইনবিদ, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ। তিনি দলিত বৌদ্ধ আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

LinkedIn
Share