Tag: America

America

  • India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    India US Trade Deal: প্রকাশ্যে চলে এল ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে চলে এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল (India US Trade Deal)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে মার্কিন সেনেটর টেড ক্রুজের একটি অডিও রেকর্ডিং। ওই রেকর্ডিংয়ে টেক্সাসের রিপাবলিকান এই সেনেটর বাণিজ্যনীতি ও থমকে থাকা ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance), হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো এবং কখনও কখনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ মিনিটের ওই অডিওটি এক রিপাবলিকান সূত্র শেয়ার করেছে। এটির সময়কাল ২০২৫ সালের শুরু ও মধ্যভাগ। এতে ব্যক্তিগত দাতাদের সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে ক্রুজ নিজেকে ঐতিহ্যবাহী, মুক্তবাণিজ্যপন্থী ও হস্তক্ষেপমূলক নীতিতে বিশ্বাসী রিপাবলিকান হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানের বিরোধিতা করেন, যা সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা (India US Trade Deal)

    অডিওতে ক্রুজ ট্রাম্পের শুল্কনির্ভর বাণিজ্যনীতির কড়া সমালোচনা করে সতর্ক করেন যে, এই নীতি মার্কিন অর্থনীতিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিলের শুরুতে শুল্ক আরোপের পর তিনি ও কয়েকজন সেনেটর গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি ফোনালাপে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তবে সেই আলোচনা ভালোভাবে শেষ হয়নি (India US Trade Deal)। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রুজ দাতাদের জানান মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়া ওই ফোনালাপে ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করেন এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। ক্রুজ বলেন, “ট্রাম্প সেদিন খুব খারাপ মেজাজে ছিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে এমন কথোপকথনেও ছিলাম, যখন তিনি খুব খুশি ছিলেন। কিন্তু এটি সেরকম ছিল না।”

    সতর্ক করেছিলেন প্রেসিডেন্টকে

    ক্রুজ আরও জানান, তিনি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন যে ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি অবসরভিত্তিক বিনিয়োগ হিসেব ৩০ শতাংশ কমে যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ নেমে আসবে। ক্রুজের ভাষায়, তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন, “আপনি প্রতিনিধি পরিষদ হারাবেন, সেনেট হারাবেন, আর পরবর্তী দু’বছর প্রতি সপ্তাহে একবার করে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হবেন (JD Vance)।” এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্প খুবই খারাপ কথা বলেছিলেন। ক্রুজ প্রশাসনের শুল্ক আরোপকে ‘লিবারেশন ডে’ বা ‘মুক্তির দিন’ নামে ব্র্যান্ডিং করার বিষয়টিও ব্যঙ্গ করেন। এক দাতা ওই শব্দবন্ধ ব্যবহার করলে ক্রুজ মন্তব্য করেন, তাঁর দলে কেউ এই শব্দটি ব্যবহার করলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা হত।

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ

    ক্রুজের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গ। তিনি দাতাদের বলেন, চুক্তিটি এগিয়ে নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে লড়াই করছেন এবং যারা এই ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করছেন, তাঁদের নামও উল্লেখ করেন (India US Trade Deal)। আমেরিকার অগ্রগতি কে আটকে দিচ্ছে, এই প্রশ্নে ক্রুজ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং কখনও কখনও স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামও নেন। রেকর্ডিংয়ে ক্রুজ বারবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে রক্ষণশীল পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্লসন বিদেশনীতি বিতর্কে হস্তক্ষেপবিরোধী ও ইহুদিবিদ্বেষী অবস্থানকে উসকে দিচ্ছেন এবং ভ্যান্স মূলত কার্লসনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ক্রুজ বলেন, “টাকারই জেডিকে তৈরি করেছে। জেডি টাকারের শিষ্য, আর তারা দু’জন একই (JD Vance)।”

    যদিও ক্রুজ গত কয়েক মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে কার্লসনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন, এবং অডিও রেকর্ডিংটি দেখায় যে ব্যক্তিগতভাবে তিনি কার্লসন ও ভ্যান্সের মধ্যে আরও স্পষ্ট ও কঠোর সীমারেখা টেনেছেন, যা প্রকাশ্যে তিনি এতটা স্পষ্ট করেননি, যদিও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওই পডকাস্টারের বন্ধুত্ব সুপরিচিত (India US Trade Deal)।

  • PM Modi: ট্রাম্প-ফাঁদে পা দেননি মোদি, ইউরোপীয়রা এখনও ‘শিখছেন’ খামখেয়ালি ডোনাল্ডের কাছে!

    PM Modi: ট্রাম্প-ফাঁদে পা দেননি মোদি, ইউরোপীয়রা এখনও ‘শিখছেন’ খামখেয়ালি ডোনাল্ডের কাছে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) যদি আপনার ওপর ক্ষুব্ধ হন, তাহলে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও রেহাই পান না। মঙ্গলবার সেটাই কঠিনভাবে বুঝে নিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ন্যাটো প্রধান মার্ক রুট (PM Modi)। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ট্রাম্প এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন প্রেমিকের মতো তাঁদের ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ্যে এনে ফেলেন। এমনকি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্বের ঢাক পেটানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চাগোস দ্বীপ চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের কাছে ‘ভয়ঙ্কর বোকামি’র জন্য তীব্র ভর্ৎসিত হন।

    ট্রাম্পের কাছে আনুগত্য (PM Modi)

    এই ঘটনাগুলি এক নির্মম সত্য সামনে এনে দিয়েছে। সেটি হল ট্রাম্পের কাছে আনুগত্য মানেই সম্মান নয়। ঠিক এখানেই ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্য-কূটনীতির মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কৌশলগত নীরবতা ও সুচিন্তিত পদক্ষেপ ভারতকে ‘ট্রাম্প-ফাঁদ’ এড়াতে সাহায্য করেছে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। নতুন বছর শুরু হতেই ট্রাম্পের দৃষ্টি পড়ে গ্রিনল্যান্ডের ওপর। ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের পদক্ষেপে উৎসাহিত হয়ে তিনি আরও আগ্রাসী হন। নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতা দখলের ঘটনায় বিশ্ব যখন বিস্ময়ে তাকিয়ে, তখন ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল নরম (PM Modi)। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প যখন ইউরোপেরই এক সদস্য রাষ্ট্রকে নিশানা করে এবং ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুমকি দেন, তখন ইউরোপ বুঝে যায় এক কঠিন বাস্তবতা, ট্রাম্প বন্ধুত্বে বিশ্বাস করেন না, তিনি আদতেই একজন ব্যবসায়ী।

    সাতটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর শুল্ক চাপানো

    ব্রিটেন এবং আরও সাতটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর শুল্ক চাপানো হয়েছে, যদিও ট্রাম্প গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। অর্থাৎ, বাণিজ্য চুক্তি বা মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার খুলে (Donald Trump) দিলেও ভবিষ্যতের শুল্ক থেকে রেহাই নিশ্চিত নয় (PM Modi)। এহেন প্রেক্ষাপটে ভারত অনেক আগেই সেই বাস্তবতা বুঝে ফেলেছিল, যা ইউরোপ এখন অনুভব করছে। অনিশ্চিত ‘ট্রাম্প ২.০’-এর যুগে শুল্ক শুধু বাণিজ্যিক অস্ত্র নয়, বরং ব্যক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে সব সময়ের হাতিয়ার। এই কারণেই মার্কিন চাপ সত্ত্বেও এবং ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপের মুখে পড়েও, ভারত তড়িঘড়ি করে কোনও বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেনি।

    ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ

    ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্কের হুমকি দিয়ে তিনি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামিয়েছেন। ভারত দ্রুত বুঝতে পারে, এটি ছিল ট্রাম্পের ভূরাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন এবং নিজের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল (PM Modi)। ভারত স্পষ্ট জানায়, সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। পাকিস্তান যেখানে ট্রাম্পের তথাকথিত ‘মধ্যস্থতা’কে স্বাগত জানিয়েছিল, ভারত সেখানে সংযত কিন্তু দৃঢ় অবস্থান নেয়। সরাসরি ট্রাম্পকে আক্রমণ না করেও ভারত তার অবস্থান বজায় রাখে। গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে এক উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়। তার পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট জানান, যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকার কোনও ভূমিকা ছিল না এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়েও আলোচনায় যাননি, পাকিস্তানের মতো অতিরিক্ত তোষামোদ না করেই।

    ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ

    এরই পরিণতি দ্রুত আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপান, যার মধ্যে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও ছিল। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই শুল্কের হার মাত্র ১৯ শতাংশ। চিনের মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, যা আগের মার্কিন প্রশাসনগুলি সযত্নে গড়ে তুলেছিল, তা-ও টলমল করতে শুরু করে (PM Modi)।তারপরেও ভারত ধৈর্য ধরেছে। শুল্ক আরোপের (Donald Trump) পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা তাঁর মন্ত্রীরা ট্রাম্পের সঙ্গে বাকযুদ্ধে নামেননি। যদিও ট্রাম্পের সহযোগীরা প্রতিদিন নতুন অপমানসূচক মন্তব্য করছিল। ভারতকে ‘ক্রেমলিনের মানি লন্ড্রোম্যাট’ বলা থেকে শুরু করে ‘রক্তের টাকা’র অভিযোগ পর্যন্ত নানা ‘সম্ভাষণে’ ভূষিত করেছিল তাঁকে। এদিকে ট্রাম্প নিজে মোদির প্রশংসা চালিয়ে যান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি ‘প্রিয়’, ‘সত্যিকারের’, ‘মহান’ বন্ধু বলে উল্লেখ করেন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

    ভারত এই ভালো পুলিশ–খারাপ পুলিশ খেলায় পা দেয়নি। শুল্কের চাপ সত্ত্বেও কৃষি ও দুগ্ধ খাত খুলে দেওয়ার মতো একতরফা চুক্তিতে সই করেনি। বন্ধ করেনি রাশিয়া থেকে তেল আমদানিও। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগও ছিন্ন করেনি। পীযূষ গোয়েল এবং এস জয়শঙ্করের মতো মন্ত্রীরা নেপথ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে যান। দেশে বিরোধীদের আক্রমণের মধ্যেই মোদি ‘স্বদেশি’র ডাক দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার মোকাবিলা করেন (PM Modi)। তবে ভারত নিজেকে দুর্বলও হতে দেয়নি। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে মোদির চিন সফর ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একান্তে একই গাড়িতে সফর ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা -ভারতের সামনে রয়েছে বিকল্প কৌশলগত পথ। এটাই ভারতের বহু দশকের অ-সংযুক্ত বিদেশনীতির ভিত্তি।

    আংশিক বাণিজ্য

    একই সময়ে ভারত ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি বড় চুক্তিও শীঘ্রই আসছে। নিঃশব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালশস্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ভারত, যদিও এনিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বয়ান নিয়ন্ত্রণ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৭ জুনের পর মোদি চারবার ট্রাম্পের ফোন এড়িয়ে যান। কারণ, আংশিক বাণিজ্য চুক্তির ফল যে ট্রাম্প অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করতে পারেন, এ বিষয়ে ভারত সচেতন ছিলই (Donald Trump)। শেষ পর্যন্ত ১৭ সেপ্টেম্বর, মোদির জন্মদিনে ফোনালাপ হলে, ভারতই প্রথম নিজের বক্তব্য প্রকাশ করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হঠকারী পোস্টের জন্য পরিচিত ট্রাম্পকে তাঁর নিজের খেলায় হারানোর এটিই ছিল কৌশল।

    ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁসের অপমান

    মাক্রোঁ যদি মোদির পথ অনুসরণ করতেন, তবে হয়তো ট্রাম্পের হাতে ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁসের অপমান এড়াতে পারতেন। সব মধুর কথাবার্তা ও চুক্তির পরেও পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিত তালিকা থেকে বাদ পড়েনি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সংযম ও দৃঢ়তার ভারসাম্যই ভারতকে ট্রাম্প-ফাঁদ এড়াতে সাহায্য করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকও স্বীকার করেছেন, মোদি সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে না চাওয়ায় চুক্তি হয়নি (PM Modi)। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফারিদ জাকারিয়াও ভারতের কৌশলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ট্রাম্প অস্থির ও খামখেয়ালি। তাই তাঁকে সামলাতে ধৈর্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ইউরোপ-আমেরিকার বর্তমান টানাপোড়েন প্রমাণ করেছে যে ভারতের সতর্ক কৌশল সময়োপযোগী। প্রকাশ্য আক্রমণ নয়, বরং স্বার্থ রক্ষা ও নেপথ্য কূটনীতি, এটাই ছিল ভারতের পথ। ট্রাম্পের কোনও স্থায়ী ব্যক্তিগত আনুগত্য নেই। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, পরবর্তী লাভজনক চুক্তি। ভারত সেটা অনেক আগেই বুঝেছিল (Donald Trump)। ইউরোপ এবং অন্যরা এখনও নিত্য তাঁর কৌশল শিখে চলেছে। এই কারণেই এগিয়ে ভারত (PM Modi)।

  • EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (EU) ঘোষিত নয়া শুল্ক আরোপের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে (US Tariffs) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন করা ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে ২৭ সদস্যের এই জোটের নেতাদের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে এবং এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি (EU)

    এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ঘিরে প্রথমবারের মতো ইইউ তাদের তথাকথিত ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের কথা ভাববে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনও সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।” ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্কের অধীনস্থ এই ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে এসব ইউরোপীয় দেশের অবস্থানের পরেই এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হয়েছে।

    ট্রেড বাজুকা’

    ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কে দ্রুত চাপ সৃষ্টি হয় এবং রবিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডাকা হয় (US Tariffs)। বৈঠকে তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, “ইইউর ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রথমবারের মতো ব্যবহারের এখনই সময় (EU)।” ‘ট্রেড বাজুকা’ বলতে বোঝানো হয় অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট (ACI)—একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য ইইউকে অ-ইইউ দেশগুলির অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্ষম করে তোলা। এই ব্যবস্থার আওতায় ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারবে, ইউরোপের একক বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রবেশ সীমিত করতে পারবে এবং লাভজনক ইইউ চুক্তির দরপত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্যই হল স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—ইইউ তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইইউ কর্তারা জানিয়েছেন, ‘ট্রেড বাজুকা’ কেবল শুল্ক আরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধও থাকতে পারে (EU)।

    সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতা

    জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার কারণে যে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত (US Tariffs) রাখা হয়েছিল, ইইউ এখন সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের কোনও বিরোধেই এত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি (EU)। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ আলোচনার ওপর। তবে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্কের হুমকি বহাল রাখে বা আরও বাড়ায়, তাহলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রবিবার আটটি ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।” এতে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থের কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়।

    আর্কটিক নিরাপত্তা

    ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করাকে তারা একটি অভিন্ন ট্রান্স-আটলান্টিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে (EU)। বিবৃতিতে এই বলেও সতর্ক করা হয়, ওয়াশিংটনের শুল্ক হুমকি দীর্ঘদিনের মিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এর ফলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্র শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (US Tariffs)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তা বলেন, “নতুন শুল্ক হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইইউ কঠোর অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শুল্ক আরোপ ইউরোপ–আমেরিকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” এদিকে, ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার ফোনে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ভুল এবং এটি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে (EU)।”

    ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি

    ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরো-আটলান্টিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সব ন্যাটো মিত্রেরই অগ্রাধিকার।” এতে আরও বলা হয়, যৌথ ন্যাটো নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক চাপানো কোনওভাবেই যুক্তিযুক্তি ন্যায্য নয় (US Tariffs)। ইইউ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির জবাবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা স্থগিত রাখবেন। গত বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আলোচনা স্থগিত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় পিপলস পার্টির সহ-সভাপতি সিগফ্রিড মুরেসেন (EU)। মুরেসেন জানান, ইইউ দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইইউয়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আপাতত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাণিজ্য আলোচনা

    প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে। একে ট্রান্সআটলান্টিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে(EU)। ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে চিন ও রাশিয়া তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ একে আমেরিকার নিরাপত্তা স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (US Tariffs)। ডেনমার্ক ও ইইউ ট্রাম্পের এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় জার্মানি, সুইডেন ও ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ছোট আকারের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর। তাদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের মতো ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও আরও আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন। ডেনমার্কও ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।

    উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা

    কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সতর্ক করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যদি ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) ভেঙে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইইউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে (US Tariffs)। উল্লেখ্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে গুগল, মেটা এবং এক্সের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ ইউরোপজুড়ে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, ওয়াশিংটনকে আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে শক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা জরুরি হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই

    এদিকে, একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই। কারণ চড়া শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। লেগো ও ফেরারির মতো বিলাসবহুল ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান বিরোধ ন্যাটোর ভাঙন ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দেশই মনে করে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না (US Tariffs)। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেও অভিমত। কারণ এই ধরনের অবস্থার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে গেলে তা মার্কিন প্রশাসনের আরও একতরফা ও অস্থিতিশীল পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে বলেই আশঙ্কা।

     

  • Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে এখনও যারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে চলেছে, সেই সব দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংবলিত একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপনের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত (Tariff Threat)। শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (US)।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Tariff Threat)

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “আমরা প্রস্তাবিত বিলটির বিষয়ে অবগত। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের বাস্তবতার ভিত্তিতে। জয়সওয়াল বলেন, “জ্বালানি উৎস সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান সুপরিচিত। বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সাশ্রয়ী জ্বালানি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাই আমাদের পথনির্দেশ করে, যাতে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় (Tariff Threat)।”

    মার্কিন সেনেটরের প্রতিক্রিয়া

    বিদেশমন্ত্রকের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই। গ্রাহামের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিদলীয় ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে’ সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে (US)। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে গ্রাহাম বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তিনি রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটি অনুমোদন করেন। ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন শুধু কথার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেবে, যারা সস্তায় রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধাস্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে (Tariff Threat)।” গ্রাহামের ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহেই বিলটি দ্বিদলীয় ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে।

    ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’

    এ প্রসঙ্গে এক মার্কিন সেনেটর বলেন, “এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করে। ওই তেল থেকেই পুতিন ইউক্রেনে গণহত্যার অর্থ জোগাচ্ছেন। আমি আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই বিলের পক্ষে শক্তিশালী দ্বিদলীয় সমর্থন মিলবে (US)।” মার্কিন কংগ্রেসের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিলটির নাম ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’। এই আইনের আওতায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার ওপর শুল্কের হার কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই অনুমান কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের (Tariff Threat)।

  • US Russia Cold War: আটলান্টিকে রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার আটক মার্কিন সেনার, ফের কি ঠান্ডাযুদ্ধের পর্বে ফিরছে আমেরিকা-রাশিয়া?

    US Russia Cold War: আটলান্টিকে রুশ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার আটক মার্কিন সেনার, ফের কি ঠান্ডাযুদ্ধের পর্বে ফিরছে আমেরিকা-রাশিয়া?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের কি ঠান্ডাযুদ্ধের পর্বে ফিরছে আমেরিকা-রাশিয়া? আপাতত এমনই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে বিশ্ব রাজনৈতিক মহলে। রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে জ্বালানি ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত চলছে, তার জেরে এবার সমুদ্রে এক নয়া এবং বিস্ফোরক মাত্রা যোগ হল (US Russia Cold War)।

    রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া

    রুশ (Putin) পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ মারিনেরা আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করার সময় মার্কিন কোস্ট গার্ড তাতে উঠে অভিযান চালায় (Oil Tanker Seizure)। বুধবার মস্কো (রাশিয়ার রাজধানী) এই ঘটনার নিন্দে করেছে কড়া ভাষায়। ঘটনাটিকে তারা অবৈধভাবে আটক বলে বর্ণনা করেছে। রুশ সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়া সরকারের বক্তব্য, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এই অভিযান চালানো হয়। টানা দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ধাওয়া করার পর আটক করা হয় জাহাজটিকে।

    বেলা ১

    জাহাজটির আগের নাম ছিল বেলা ১। আমেরিকার দাবি, জাহাজটি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহণের একটি নেটওয়ার্কের অংশ। এই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘শত্রুভাবাপন্ন’ সরকারগুলির তৈলক্ষেত্র থেকে আয় বন্ধ করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে অনুমান (US Russia Cold War)। এক্ষেত্রে মস্কোর প্রতিক্রিয়া ছিল দ্রুত ও কঠোর। রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মারিনেরা জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে খোলা সমুদ্রে, কোনও দেশের আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে, যা ১৯৮২ সালে স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন (UNCLOS)-এর সরাসরি লঙ্ঘন। বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ মস্কোর সময় বিকেল প্রায় ৩টায়, মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটিতে ওঠে (Tensions Rise)। এরপর জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”

    রাশিয়ার বক্তব্য

    মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর জাহাজটিকে রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রীয় পতাকার অধীনে চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা রাশিয়ার জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড মেনেই দেওয়া হয়েছিল (Putin)।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নৌচলাচলের স্বাধীনতা, নিষেধাজ্ঞা রাজনীতি এবং সমুদ্রপথে শক্তি প্রদর্শন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাশিয়া সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অন্য কোনও দেশের অধিক্ষেত্রে আইনগতভাবে নিবন্ধিত কোনও জাহাজের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করার অধিকার কোনও রাষ্ট্রের নেই। মার্কিন অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেমারিনেরা  জাহাজকে ঘিরে তৈরি পরিস্থিতি “অস্বাভাবিক”। রুশ বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই রুশ পতাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করছিল জাহাজটি (Tensions Rise)।

    জাহাজটি আটক করার চেষ্টা হয়েছে আগেও

    রুশ কূটনৈতিক মহলের অভিযোগ, “আমরা জানি না কী কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সেনাবাহিনী একটি অসামরিক জাহাজকে ঘিরে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন কোস্ট গার্ড ওই জাহাজটির পিছু নিয়েছিল। এটি পশ্চিমি দেশগুলির ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা’র দাবির সম্পূর্ণ পরিপন্থী (Putin)। রুশ বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, “যে পশ্চিমি দেশগুলি উচ্চ সমুদ্রে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার কথা জোর দিয়ে বলে, তাদেরই আগে এই নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।” মারিনেরা জাহাজের গল্প শুধু পতাকা বদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিষয়টি তার চেয়েও অনেক জটিল (Tensions Rise)। এই তেল ট্যাঙ্কারটি ভেনেজুয়েলা ও ইরান থেকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অপরিশোধিত তেল পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রথমবার জাহাজটিকে আটকানোর চেষ্টা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

    জাহাজ ধরতে কৌশলী পদক্ষেপ

    পিছু ধাওয়া করার সময় জাহাজের ক্রু একাধিক কৌশলী পদক্ষেপ নেন। তাঁরা জাহাজটির গায়ে রুশ পতাকা আঁকেন, জাহাজের নাম বদলে ফেলেন এবং রুশ রেজিস্ট্রিতে নিজেদের নিবন্ধিত দেখানোর জন্য নথিপত্রও বদলায় (Putin)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন কর্তারা জানান, পুরো অভিযানটি কোনও ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। অভিযানের সময় জাহাজের ক্রুরা কোনও শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করেননি এবং আশপাশে কোনও রুশ নৌযানও দেখা যায়নি। তবে মারিনেরা  জাহাজটির পেছনে পর্দার আড়ালে এক নীরব সামরিক অভিযান শুরু করেছিল মস্কো। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রুশ নৌবাহিনী অন্তত একটি পারমাণবিক সাবমেরিন ও একাধিক যুদ্ধজাহাজ দিয়ে ওই তেলবাহী ট্যাঙ্কারটিকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে এই অভিযান বন্ধ করার আহ্বানও জানানো হয় (Tensions Rise)।

    আর্জেন্টিনার সাংবাদিকের দাবি

    আর্জেন্টিনার সাংবাদিক নাচো মন্তেস দে ওকার দাবি, রুশ সাবমেরিনটি মারিনেরা জাহাজকে আইসল্যান্ডের দক্ষিণ দিক দিয়ে নর্থ সি-তে পৌঁছে দেয়। এক্স হ্যান্ডেলে মন্তেস দে ওকা লেখেন, “সংবেদনশীল কোনও পণ্য ছাড়াই চলাচল করছিল জাহাজটি। তবুও এটি মার্কিন অবরোধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধের এক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।” মারিনেরা অভিযানের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। এটি মূলত নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলির অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য নিষ্ক্রিয় করতে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা বৈশ্বিক সামুদ্রিক অভিযানের অংশ। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, গত ডিসেম্বরের পর থেকে মার্কিন সাদার্ন কমান্ড এই ধরনের তৃতীয় অভিযান চালাল।

    চাপ আরও বাড়িয়েছে হোয়াইট হাউস

    মারিনেরা আটক হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে আর একটি জাহাজ আটকের কথা ঘোষণা করে। ওই জাহাজটিও তথাকথিত “ঘোস্ট ফ্লিট”-এর সঙ্গে যুক্ত, যেগুলি ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণ করে এবং পতাকা পরিবর্তন ও ভুয়া নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করে (Putin)। এই সব অভিযান এমন একটা সময়ে ঘটছে, যখন ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে হোয়াইট হাউস। নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কে আটক রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে নার্কো-সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে (Tensions Rise)।কারাকাস সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক অবরোধ বা ‘ইকোনমিক স্ট্র্যাঙ্গুলেশন’ কৌশল হিসেবে তুলে ধরছে। তবে রাশিয়া-সহ একাধিক দেশ এই পদক্ষেপকে আধুনিক জলদস্যুদের কাজকর্মের সঙ্গে তুলনা করছে।

    আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সীমা

    ‘মারিনেরা’ জাহাজকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই ঘটনা শুধু আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের সীমা পরীক্ষা করছে না, বরং স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিশ্বশক্তিগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ এখন সমুদ্রপথেও বিস্তৃত হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে, মার্কিন অভিযানের মধ্যেই আটলান্টিক মহাসাগরে একটি রুশ পারমাণবিক সাবমেরিনের উপস্থিতি ন্যাটো জোটের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যদিও ন্যাটো সরাসরি কোনও পদক্ষেপ করেনি। যদিও মস্কোর স্পষ্ট বার্তা, নিজেদের জ্বালানি ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথও তারা খোলা রাখছে (Tensions Rise)। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে, ‘মারিনেরা’ জাহাজ আটক করা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতিরই অংশ। এর পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলিকে সাহায্য করা অবৈধ তৈল বাণিজ্য নেটওয়ার্ক ভাঙাও এই অভিযানের লক্ষ্য (Putin)।

    শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ

    এদিকে, রাশিয়ার মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন ও সামুদ্রিক শৃঙ্খলার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এর প্রভাব আটলান্টিক অঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত একাধিক ভূ-রাজনৈতিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলের। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার ওই জাহাজটিকে ২০২৪ সালেই ওয়াশিংটনের কালো তালিকাভুক্ত হয়। মার্কিন আধিকারিকরা জানান, গত ডিসেম্বরে জাহাজটি মার্কিন কোস্ট গার্ডের তল্লাশিতে বাধা দেয়। এরপর আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এটি নিজের নাম পরিবর্তন করে, রাশিয়ার নিবন্ধনে যায় এবং জাহাজের গায়ে রুশ পতাকা আঁকে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চল ছাড়ার পর দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনা বাহিনী জাহাজটিকে অনুসরণ করে। জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করার কিছু আগে জাহাজটি স্কটল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের মাঝামাঝি জায়গায় ছিল (Tensions Rise)।

    পূর্বপরিকল্পিত অপারেশনাল সহায়তা

    অন্যদিকে, ব্রিটেনের তরফে জানানো হয়েছে, জাহাজটি আটক অভিযানে তারা আমেরিকাকে পূর্বপরিকল্পিত অপারেশনাল সহায়তা, ঘাঁটি ব্যবহারের সুবিধা-সহ বিভিন্ন সাহায্য দিয়েছে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণকের বিবৃতিতে বলা হয়, একদিকে ব্রিটিশ নৌযান অভিযানে সাহায্য করার পাশাপাশি রয়্যাল এয়ার ফোর্স আকাশপথে নজরদারি চালিয়েছে। মন্ত্রকের দাবি, পুরো অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। জানা গিয়েছে, অভিযানের সময় রাশিয়া একটি সাবমেরিন ও একাধিক নৌযান জাহাজটির কাছে মোতায়েন করে। এতে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, জাহাজটি রুশ পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলাচল করছিল এবং মার্কিন জলসীমা থেকে অনেক দূরে থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর অতিরিক্ত নজরদারির মুখে পড়ে।

    রাশিয়ার সাফ কথা

    মস্কোর দাবি, এই জাহাজ আটক অভিযান রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। রাশিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “উন্মুক্ত সমুদ্রে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা প্রযোজ্য।” রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটিতে ওঠার পরেই ‘মারিনেরা’ নামের ওই জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় (Putin)। মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিকে এই অভিযানের পর ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ভেনেজুয়েলা-যোগাযোগ থাকা আরও একটি তেলবাহী জাহাজ ‘সোফিয়া’কে আটক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তেল নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর রাখার বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন (Tensions Rise)।

  • S Jaishankar: “সেখানকার মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকেন”, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

    S Jaishankar: “সেখানকার মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকেন”, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি (Venezuela Crisis) নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সে দেশের ‘অপহৃত’ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখন নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাস সম্পর্কিত অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণের সুরক্ষা ও কল্যাণই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।” তিনি বলেন, “আমরা এখানে সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসে পরিস্থিতির সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানাই, যাতে ভেনেজুয়েলার মানুষ সুরক্ষিত থাকেন।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর? (S Jaishankar)

    জয়শঙ্কর আরও বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক সব সময় ভালো। তাই ওই দেশটি নিশ্চয়ই সবসময় ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সহযোগিতাই আশা করে।” চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভোরে আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী এবং স্পেশাল অপারেশন ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যায়। ম্যানহাটানে ফেডারেল আদালতে হাজিরও করা হয় ওই দম্পতিকে। আদালতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন। বক্তব্য শুরু করেন “আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট” বলে (Venezuela Crisis)।

    নির্দোষ, দাবি মাদুরোর 

    আদালতে স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি নির্দোষ, দোষী নই এবং আমি একজন সৎ মানুষ।” বিচারকের সামনে তিনি স্পষ্টভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নৈশ অভিযানে ভেনেজুয়েলার এবং কিউবা নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর। কিছু মার্কিন সৈনিকও জখম হয়েছেন (S Jaishankar)। জয়শঙ্কর সাফ জানিয়ে দেন, ভারতের উদ্বেগ লিডারশিপ পরিবর্তনের নৈতিক দিক ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতি প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক স্বার্থের জন্য যে কোনও পদক্ষেপে মানুষের কল্যাণই মূল ভিত্তি হওয়া উচিত (Venezuela Crisis)।

    মামলার পরবর্তী শুনানি

    ১৭ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে (S Jaishankar)। এদিকে, নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার শীর্ষ আদালতের নির্দেশে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodriguez) অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধানের পদ শূন্য হয়ে পড়ায় সৃষ্ট প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালতের একটি সূত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে (Venezuela Crisis)। ওই দেশটির পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজরও রয়েছে (S Jaishankar)।

  • Donald Trump: ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ, অনিশ্চিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি?

    Donald Trump: ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ, অনিশ্চিত ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত–মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পর্কে ফের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার (Unjust Tariff) হুমকি দিয়ে তিনি প্রকাশ্যে চাপ বাড়ালেন ভারতের ওপর। সাম্প্রতিক মন্তব্য ও বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আগ্রাসী অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই নীতি বহু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মানজনক এবং অগণতান্ত্রিক বলে সমালোচিত হচ্ছে।

    ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ (Donald Trump)

    ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ছ’টি দেশের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এই তালিকায় সরাসরি ভারতের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ভারত যদি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে। ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন হুমকি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য রফতানি খাতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় শিল্প ও রফতানিকারীদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা (Donald Trump)।

    বাণিজ্য আলোচনার প্রধান বাধা

    দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ভারত–মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের কৃষি ও দুধের বাজার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বাজার খুলে দিতে রাজি হয়নি নয়াদিল্লি। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। বিপন্ন হবে খাদ্য নিরাপত্তা। ওয়াশিংটনের লাগাতার চাপ সত্ত্বেও ভারত এই বিষয়ে তার নীতি থেকে এক চুলও সরেনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটিই ভারতের নীতিগত স্বাধীনতার প্রকাশ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই অবস্থান মেনে নিতে না পেরে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ভারতকে শাস্তি দিতে চাইছে বলেই অভিযোগ (Unjust Tariff)। গত বছর সেপ্টেম্বর–নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল ভারত-মার্কিন এই বাণিজ্য চুক্তি। কিন্তু তা এখনও ঝুলে রয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও পড়েছে প্রশ্নের মুখে (Donald Trump)।

    মার্কিন হুমকি!

    ভারতের ওপর চাপ আরও খানিক বাড়িয়ে ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, তিনি এমন একটি আইন খসড়া করেছেন যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের প্রস্তাবকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের বাণিজ্য নীতিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আর একটি উদাহরণ। ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার অধিকারকে তোয়াক্কা না করে ট্রাম্প প্রশাসন ভয় দেখিয়ে আনুগত্য আদায়ের চেষ্টা করছে বলেই অভিযোগ (Donald Trump)।

    ট্রাম্পের পদক্ষেপে অস্থিরতা

    ভারত ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ একাধিক অঞ্চলে অস্থিরতার সৃষ্টি করছে। ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তাঁর দাবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া ও চিনের নৌবাহিনীর সম্ভাব্য তৎপরতা গ্রিনল্যান্ডকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলেছে। তাঁর এই বক্তব্য ফের একবার ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক নিয়ম, কূটনৈতিক শালীনতা ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের প্রতি অবহেলার শামিল বলেই অভিযোগ (Unjust Tariff)। পশ্চিম এশিয়ায়, বিশেষ করে ইরানে, পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই রাশিয়ায় আশ্রয় নিতে পারেন (Donald Trump)।

    মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি

    এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রকাশ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে তার পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।” এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত সরকার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে পূর্ব এশিয়ায়ও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে চিন তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে পারে। এর ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Unjust Tariff)। এদিকে, মার্কিন আগ্রাসী কূটনীতি ও একের পর এক ভূ-রাজনৈতিক সংকট বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে বৈশ্বিক বাজারে। লগ্নিকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার দামে।

    সোনার দামে প্রভাব

    আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম এক লাফে ১২৬ মার্কিন ডলার বেড়ে পৌঁছেছে ৪,৪৫৮ ডলারে। ভারতের বাজারেও সোনার দাম দ্রুত বেড়েছে। সোমবারই সোনার দাম বেড়েছে ১,৭৬০ টাকা প্রতি আউন্স। বিশ্ববাজারে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই সোনার দাম আরও ২,০০০ টাকার বেশি বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। একই সঙ্গে বাড়তে পারে রুপোর দামও।সার্বিকভাবে, ট্রাম্পের মুখোমুখি সংঘাতমুখী নীতি—যার মধ্যে শুল্ক হুমকি, সরকার পরিবর্তনের রাজনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা রয়েছে, শুধু ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। এর ঠিক উল্টো দিকে তাকালে দেখা যাবে, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। কৃষক, শ্রমিক ও দেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় আপোসহীন মনোভাব বজায় (Unjust Tariff) রেখে নয়াদিল্লি দায়িত্বশীল ও সার্বভৌম বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করছে (Donald Trump)।

  • Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের (Hindu Minorities) ওপর নৃশংস অপরাধের ঘটনা। বর্তমানে পদ্মাপারের এই দেশের রাশ অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহম্মদ ইউনূস (Bangladesh)। তাঁর জমানায় এই জাতীয় ঘটনা কার্যত নির্বিঘ্নে চলতে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে অমানবিক কার্যকলাপের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনূস প্রশাসন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আইনপ্রণেতারা নিরপরাধ এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনির ঘটনার কড়া নিন্দে করেছেন। ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস ইউনূস সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান থেকে অঞ্চলটি বিচ্ছিন্ন করে ‘বাংলাদেশ’ নামের নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য ভারত ও রাশিয়া যে ত্যাগ স্বীকার করেছিল, তা ভোলার নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই কঠোর স্মরণবার্তাগুলি বাংলাদেশের পক্ষে এক সতর্কবার্তাস্বরূপ। দেশটি বর্তমানে রাজনৈতিক হিংসা, গণপিটুনি, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও হত্যাকাণ্ড এবং উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত নানা চরমপন্থী নৃশংসতায় ক্রমাগত ডুবে যাচ্ছে।

    মার্কিন সাংসদের তোপ (Hindu Minorities)

    হিংসার এই ধারা ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা জেনিফার রাজকুমার। নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিনিধি ও নাগরিক অধিকার আইনজীবী জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ঘটে চলা এক ভয়াবহ লাগাতার হিংসার ইঙ্গিত দেয়।” বিশ্ববাসীর কাছে তাঁর আহ্বান, মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু (Hindu Minorities) সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে চলা হিংসার ঘটনায় আমি গভীরভাবে বিচলিত। সাম্প্রতিক সময়ে এর ভয়াবহ উদাহরণ হল বাংলাদেশি হিন্দু দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা। একটি জনতা তাঁকে মারধর করে, আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং তাঁর দেহ একটি হাইওয়েতে ফেলে রেখে গেল!” তিনি বলেন, “এই ঘটনা বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন (Bangladesh) ও লক্ষ্যভিত্তিক হিংসার এক উদ্বেগজনক ধারার অংশ। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর ২ হাজার ৪৪২টি হিংসা ঘটনা ঘটেছে এবং ১৫০টিরও বেশি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে।” জেনিফার বলেন, “বিশ্বের উচিত বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। বাংলাদেশের হিন্দুদের যে ভয়, যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা আমাদেরও ভাগ করে নিতে হবে।”

    কানাডার নিশানায় বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর লাগাতার নৃশসংতার সমালোচনা করেছেন কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ শুভ মজুমদারও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো ‘পগরোম’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।” বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে হিন্দুদের  (Hindu Minorities) বিরুদ্ধে সংঘটিত সব লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও জঘন্য অপরাধের জন্য জবাবদিহিও দাবি করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে শুভ লেখেন, “এমন সময়ে আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-সহ সব সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে পগরোম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাতে হবে এবং ইউনূস সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার পক্ষে আমাদের নিরলসভাবে কথা বলতেই হবে। এতে চরমপন্থাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের নামে যারা যুক্তি দেখায়, বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ গণমাধ্যমের কিছু অংশ এবং হিংসা ও ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে না পেরে সমতুল্যতার মোহে আচ্ছন্ন রাষ্ট্রসংঘ যতই অস্বস্তিতে পড়ুক না কেন, তা আমাদের করতেই হবে।”

    বাংলাদেশে শেকড় গেড়েছে ধর্মীয় চরমপন্থা

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে (Bangladesh) যে ধর্মীয় চরমপন্থা শেকড় গেড়েছে, তাকেই কটাক্ষ করেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের অগাস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার হিংসার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।” কানাডার সাংসদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যখন একদিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার নিন্দা করছে এবং গ্রেফতারির কথা ঘোষণা করছে, তখনও নিপীড়নের এই ধারাবাহিকতা থামেনি। স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে উগ্রপন্থী শক্তিগুলি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” সংখ্যালঘুদের ওপর অপরাধ বন্ধে এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া সমালোচনাও(Hindu Minorities) করেন তিনি।

    সরব কানাডার আরও এক সাংসদও

    কানাডার আর এক সাংসদ মেলিসা ল্যান্টসম্যানও বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা ক্রমবর্ধমান হিংসার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গণহামলা, যৌন নির্যাতন, মন্দির ধ্বংস এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি।” তিনি জানান, ২০২৪ সালেই বাংলাদেশে হিন্দুদের লক্ষ্য করে ২০০০-এরও বেশি সহিংস ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। মেলিসা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সময় থাকতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।”

    রুশ হাই কমিশনের কড়া বার্তা

    বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত রুশ হাই কমিশনও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলাদেশের মুক্তিতে ভারতের ভূমিকা ও গুরুত্বের কথা বাংলাদেশকে কড়া ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে ভারত ও রাশিয়ার ত্যাগের ফলেই বাংলাদেশের(Bangladesh) জন্ম হয়েছে। তাই ঢাকা যেন দেরি না করে নয়াদিল্লির সঙ্গে উত্তেজনা কমায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারত ও রাশিয়ার ভূমিকার কথা কখনও ভুলে না যায় (Hindu Minorities)।”

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে বাংলাদেশকে সতর্কবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে যে নিত্য হিংসার ঘটনা ঘটছে, তার যে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে রুশ রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে জড়িয়ে পড়া উত্তেজনা দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান। রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, “১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারত, বাংলাদেশ(Bangladesh) ও রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল। সাম্প্রতিক উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমাতে হবে। কারণ তা ভারত বা বাংলাদেশ, কোনও দেশেরই স্বার্থে নয় (Hindu Minorities)।”

  • Donald Trump: ভারতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ থেকে ভিসা ফি বৃদ্ধি, নিজের দেশেই ঘোর বিপাকে ট্রাম্প

    Donald Trump: ভারতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ থেকে ভিসা ফি বৃদ্ধি, নিজের দেশেই ঘোর বিপাকে ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ‘সবক’ শেখাতে গিয়ে গাড্ডায় পড়ে গিয়েছেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)! ভারতীয় পণ্যের ওপর তিনি যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছেন, তা বেআইনি। অবিলম্বে ওই শুল্ক বাতিল করা উচিত। আমেরিকার সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে শুক্রবার এমনই এক প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, চড়া শুল্কের (India) কারণে আখেরে ক্ষতিই হচ্ছে আমেরিকার। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

    শুল্ক আরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের (Donald Trump)

    ভারতীয় পণ্যের ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না মেনে মস্কো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি কিনে চলেছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। ভারতের এই অনড় মনোভাবে বেজায় খেপে যান ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার পর শাস্তিস্বরূপ ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেন তিনি। ২৭ অগাস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হয়েছে ৫০ শতাংশ শুল্ক। এর ফলে জোর ধাক্কা খেয়েছে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য। এক বিশেষ জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছেন। ট্রাম্পের এই ক্ষমতাকেই সাধারণ মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন মার্কিন সাংসদদের একটা বড় অংশ।

    মার্কিন সংসদে প্রস্তাব পেশ

    জানা গিয়েছে, ভারতের ওপর চাপানো শুল্ক বাতিল করতে চেয়ে মার্কিন সংসদে যে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে (India) তিন সাংসদ। এঁরা হলেন, ডেবোরা রস, মার্ক ভিসে এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজা কৃষ্ণমূর্তি। কেবল ভারত নয়, ব্রাজিলের পণ্যের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। ভারতের পাশাপাশি (Donald Trump) ব্রাজিলের শুল্ক বাতিলও চেয়েছেন মার্কিন সাংসদরা।

    প্রস্তাবের বক্তব্য

    সংসদে পেশ করা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভারতের ওপর চড়া শুল্কের কারণে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উত্তর ক্যারোলাইনা প্রদেশ। এখানকার অর্থনীতি অনেকাংশেই ভারতের ওপর নির্ভরশীল। বাণিজ্য তো বটেই, সেই সঙ্গে প্রচুর ভারতীয় ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ রয়েছে উত্তর ক্যারোলাইনায় (India)। তাছাড়া, এই প্রদেশে তুলনামূলকভাবে বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক বসবাস করেন। শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁরা। মার খাচ্ছে বাণিজ্য (Donald Trump)। রস, কৃষ্ণমূর্তিরা বলেন, “ভারত খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সঙ্গী। বেআইনি এই শুল্ক আসলে সেই সব মার্কিন নাগরিকদের ওপর বাড়তি শুল্কের বোঝা, যাঁরা দৈনন্দিন খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।” কৃষ্ণমূর্তি বলেন, “ট্রাম্প আরোপিত শুল্ক আসলে বাণিজ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যাহত করে। এতে মার্কিন কর্মচারীদের ক্ষতি হচ্ছে, ব্যয় বৃদ্ধি হচ্ছে। শুল্কের ফলে হিতে বিপরীত হচ্ছে।” তাঁর মতে, শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে তা ভারত-মার্কিন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।

    একাধিক নীতির সমালোচনা 

    ভারতীয়-আমেরিকান কংগ্রেসম্যান অ্যামি বেরা মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি নীতির সমালোচনা করেন। বিশেষত, এইচ ১বি ভিসার ওপর এক লাখ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ফি অত্যধিক ও অবাস্তব বলে সমালোচনা করা হয়েছে। অ্যামির যুক্তি, এই অত্যধিক ফি আমেরিকান কোম্পানিগুলির তাদের শিল্পে বিদেশি প্রতিভা নিয়োগের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে (Donald Trump)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “ট্রাম্পের এই ধরনের পদক্ষেপ কঠোর ভারতকে অন্যান্য বিরোধী শক্তির দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করতে পারে।”

    প্রমীলা জয়পালের বক্তব্য

    ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান প্রমীলা জয়পাল ট্রাম্পের শুল্কনীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ আমদানি শুল্ক নীতি অবশ্যই ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। এটি আমেরিকান ব্যবসা ও উপভোক্তাদের ওপরও সমানভাবে প্রভাব ফেলেছে।” তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন এই বলে যে, এই পরিস্থিতি আমেরিকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ বাড়াতে পারে। এর প্রভাব পড়ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্কেও (India)।

    এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আদালতে

    এদিকে, ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন আমেরিকার ২০টি প্রদেশের কর্তারা। মূলত ডেমোক্র্যাটশাসিত প্রদেশগুলিই এইচ-১বি ভিসা নিয়ে জোট বাঁধছে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে। এই ২০টি প্রদেশের মধ্যে রয়েছে ক্যালিফর্নিয়াও। এই প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টে জানিয়েছেন, এইচ-১বি ভিসার ফি বৃদ্ধির কারণে বহু সংস্থা বিদেশের দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ করতে পারছে না। ফলে ক্যালিফর্নিয়া-সহ বিভিন্ন প্রদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কর্মিসঙ্কট তৈরি হচ্ছে (Donald Trump)।

  • Donald Trump: ‘জি৭’-কে টেক্কা দিতে ‘সি৫’! ট্রাম্পের ‘প্রস্তাবিত’ সুপার ক্লাবে থাকছে কোন কোন দেশ?

    Donald Trump: ‘জি৭’-কে টেক্কা দিতে ‘সি৫’! ট্রাম্পের ‘প্রস্তাবিত’ সুপার ক্লাবে থাকছে কোন কোন দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার নয়া প্ল্যান ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)! কোর ফাইভ বা সি৫ নামে বৈশ্বিক শক্তিগুলির একটি নয়া এলিট গোষ্ঠী গঠনের কথা ভাবছেন ট্রাম্প (Core 5 Superbloc Idea)। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই কোর ফাইভে জায়গা হয়েছে ভারতেরও। প্রস্তাবিত এই ব্লকে থাকবে আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ভারত এবং জাপান। সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, এটি মূলত ইউরোপ-প্রাধান্যযুক্ত জি৭ এবং গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক মানদণ্ডভিত্তিক অন্য জোটগুলিকে পাশ কাটাবে।

    কোর ফাইভ গড়ার ‘স্বপ্ন’ (Donald Trump)

    যদিও সরকারিভাবে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি, তবে খবরটি চাউর হয়ে গিয়েছে। যে পাঁচটি দেশ নিয়ে কোর ফাইভ গড়ার ‘স্বপ্ন’ দেখছেন ট্রাম্প, সেই দেশগুলির তরফেও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা মেলেনি। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’ তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, হোয়াইট হাউস সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেই সূত্রেই ছড়িয়েছে এই খবর। শোনা যাচ্ছে, ভারত, রাশিয়া, চিন এবং জাপানকে নিয়ে কোর ফাইভ গড়তে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের এই প্রস্তাবিত কোর ফাইভে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের। তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সব চেয়ে উন্নত অর্থনৈতিক গোষ্ঠী জি৭ এর গুরুত্ব লঘু করতেই এই কোর ফাইভ গঠনের ভাবনা মার্কিন প্রেসিডেন্টের (Core 5 Superbloc Idea)।

    দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন

    ওয়াশিংটন যখন ইতিমধ্যেই আলোচনা করছে যে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন কতটা বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে পারে, ঠিক সেই সময়ই এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ধারণাটি জানিয়ে দেয়, জি৭ ও জি২০–এর মতো যে প্ল্যাটফর্মগুলি রয়েছে, সেগুলি বহু-মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্য যথেষ্ট নয়। এটি মনে হয় বৃহৎ জনসংখ্যা ও সামরিক-অর্থনৈতিক শক্তিগুলির মধ্যে চুক্তি-ভিত্তিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয় (Donald Trump)। মার্কিন মিত্ররা একে এমন একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে যা শক্তিমান নেতাদের মান্যতা দেয়।  কারণ এতে রাশিয়াকে ইউরোপেরও ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমী ঐক্য ও ন্যাটোর সংহতি দুর্বল হতে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ট্রাম্প মনে করেন, পাঁচ শক্তিধর এই দেশকে যদি এক ছাতার তলায় নিয়ে চলে আসা যায়, তাহলে সেখান থেকে বিশ্বের অনেকটা সুবিধা হবে। প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে জি৭ শীর্ষ সম্মলনে যোগ দিয়ে এমনই একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছিলেন, রাশিয়া, চিন এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। তবে এই সুপার ক্লাবে ভারতকে রাখতে চান তিনি।

    সাবধানে পদক্ষেপ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ট্রাম্প খুবই সাবধানে এই পদক্ষেপটি করতে চাইছেন। তিনি মনে করেন, যদি এই দেশগুলি (Core 5 Superbloc Idea) এক ছাতার তলায় চলে আসে, তাহলে সেখানে তিনি তাঁদের নেতা হয়ে সকলকে পরিচালনা করতে পারবেন। তবে বিশ্বের আরও চারটি শক্তিধর দেশ ট্রাম্পের প্রস্তাব যে সহজে মেনে নেবে না, তাও ভালো করেই জানেন ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সম্প্রতি ভারতের ওপর চড়া শুল্ক হার চাপিয়েছে আমেরিকা (Donald Trump)। তার জেরে ভারতের সঙ্গে যাতে আমেরিকার সম্পর্ক খারাপ না হয়, তা মাথায় রেখেই ‘ট্রাম্প কার্ড’টি খেলতে চলেছেন ট্রাম্প। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশগুলির তালিকায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতও। তাই তাকে না চটিয়েই কাজ হাসিল করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই কারণেই ট্রাম্পের ‘প্রস্তাবিত’ সুপার ক্লাবে ভারতের জায়গা হলেও, ঠাঁই হয়নি পাকিস্তানের।

    ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন মস্কো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি কেনায় ভারতের ওপর বেজায় রুষ্ট ট্রাম্প। তার জেরেই ভারতীয় পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক চাপিয়েছেন তিনি। কার্যত, এর পরেই তলানিতে ঠেকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক। অথচ আমেরিকাবাসীর একটা বিরাট অংশই চাইছেন ভারতীয় পণ্যের ওপর যে চড়া হারে শুল্ক চাপানো হয়েছে, অবিলম্বে তা কমানো হোক (Donald Trump)। এ ব্যাপারে তাঁরা ট্রাম্পের হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাই নিজের দেশেই বেশ বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই গাড্ডা থেকে উঠে আসতে মরিয়া ট্রাম্প। সেই কারণেই ভারতের মন রাখতে নয়াদিল্লিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে সুপার ক্লাবে।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি (Core 5 Superbloc Idea) হানা কেলি জানান, এই পরিকল্পনার কোনও ব্যক্তিগত কিংবা লুকোনো কোনও ভার্সন নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোর ফাইভ তৈরির বিষয়টি হতে পারে একেবারেই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ভাবনা (Donald Trump)।

LinkedIn
Share