Tag: Amtala

  • Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    Abhishek Banerjee: বুলডোজার অ্যাকশন শুরু, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে আমতলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের কার্যালয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার অফিসে চলল বুলডোজার। ৫ তলা অফিস বেআইনিভাবে তৈরির অভিযোগ, ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার ওই সাংসদ কার্যালয় চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাস্থলে রয়েছে দমকল ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও। পাঁচতলা এই কার্যালয়টি ভাঙতে আনা হয়েছে ৩টি বুলডোজার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই জোড়া শুনানির নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেই নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় শনিবার বুলডোজার নিয়ে যাওয়া হল বিল্ডিং ভাঙার জন্য।

    বুলডোজার অ্যাকশন

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই এই কার্যালয়টি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। জেলা প্রশাসনের দাবি, এই কার্যালয়টি অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। কোনও নথি ছাড়া এই কার্যালয়টি তৈরি হয়। কার্যালয়ের নির্মাণের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেনি অভিষেক। যে কারণে বিল্ডিংটি ভেঙে ফেলা হল। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নামানো হয়েছে পুলিশ ব়্যাফ। বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর শুরু হয় বুলডোজারের অ্যাকশন। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অভিষেকের ৫ তলা কার্যালয়। শনিবার সকালে প্রথমে কার্যালয়ের সামনে থাকা নীল রঙের শেডটি ভেঙে ফেলা হয়। ভবনের সামনে শেড ভাঙার পরে ভেঙে ফেলা হয় দোতলার সামনের দেওয়াল। সেখানে ততক্ষণে জড়ো হন এলাকাবাসীদের অনেকেই। কেউ কেউ ভবনের ভিতরেও ঢুকে পড়েন। তাঁদের ভবনের ভিতর থেকে বার করে দেয় পুলিশ।

    বিপত্তারিণীর দিনে বিপদ দূর!

    এই কার্যালয়টি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও কোনও অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর আগে ১৫ জুলাই বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে শুনানির জন্য জোড়া নোটিস পাঠায় প্রশাসন। বহু বিজেপি কর্মীকে দেখা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)আমতলার অফিসের সামনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে। সেখান থেকে এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক বলেন, ‘‘এখান থেকে বিগত দিনে আমাদের এত অত্যাচার করা হয়েছে, আমাদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হত না। মারধর করা হত। এই সেই জায়গা, যেখান থেকে আমাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। আজ বিপত্তারিণীর দিনে বিপদের খনিটাকেই উপড়ে দেওয়া হবে।’’

    বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস

    অপর এক বিজেপি কর্মী-সমর্থক উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘‘এখান থেকে তৈরি হয়েছে শাহজাহান, জাহাঙ্গির। অবৈধ সন্তান তৈরি হয়েছে এখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে রাজত্ব করার জন্য। বাবর থেকে ঔরঙ্গজেবের জন্ম এই অফিস থেকে। যার জন্য় এই সমাজের অবস্থা। আজ আমাদের পশ্চিমবঙ্গ রসাতলে চলে গিয়েছে। সবার আগে দরকার এখান থেকে এটা তুলে ফেলা। এটা অবৈধ। এখান থেকে বসে বসে আমাদের ওপর কী পরিমাণ অত্যাচার করা হয়েছে, আমরা জানি।’’ বিজেপি কর্মীরা অভিষেকের আমতলার সাংসদ কার্যালয়ের সামনে ‘ভারত মাতা কী জয়’, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন। ওই সময় বিজেপি কর্মীদের জমায়েত সরিয়ে ফেলতেও দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তারই মাঝে এক বিজেপি কর্মী বলেন, ‘‘এই সেই ঘাঁটি যেখান থেকে অভিষেক পাপী তৈরি করেছিল।’’ প্রসঙ্গত, আমতলায় নিজের কার্যালয় নিয়ে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়লেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় সই জাল করার মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আরও এক মাসের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন।

    কেন কড়া পদক্ষেপ

    ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূলের তরফে কোনও সভা হলে তা এই কার্যালয়ে আয়োজন করা হত। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন গত ৩০ জুন প্রথম নোটিস পাঠিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আমতলার কার্যালয়ে। সেই নোটিসে কার্যালয় নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও অনুমোদন নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। পরে ৭ জুলাই আরও একটি নোটিস দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসনের দফতরে হাজির হয়ে বিষয়টি নিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, পরপর দুটি নোটিস পাঠানো হলেও তার কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসনের দফতরেও হাজির হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই প্রশাসন আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা শাসক, এসডিও, বিডিওও সকলে মিলে এই বিল্ডিংটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, যে জমির ওপর এই কার্যালয়টি নির্মিত হয়েছে, সেটি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে কেনা হয়েছিল। সেই জমির নথিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে দাবি। এই সমস্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েই নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। পরপর দু’বার নোটিসের কোনও জবাব না মেলায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

    মাঠপুকুর-এর পর আমতলা!

    গত ২৪ মে ইএম বাইপাসের ধারের মাঠপুকুর এলাকায় দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোডের উপরে থাকা তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ট্যাংরা থানার পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে একটি বাড়ির সামনের অংশ দখল করে প্রথমে ‘মাঠপুকুর ব্যায়াম সমিতি’ নামে ক্লাব তৈরি হয়। পরে সেটিই তৃণমূলের কার্যালয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মদ-জুয়ার আসর ও নানা অসামাজিক কাজ চলত বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসীরা। এবার স্থানীয় লোকেদের অভিযোগে ভেঙা ফেলা হল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এর আমতলার কার্যালয়।

LinkedIn
Share