মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যরাতেই অন্ধ্র্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু (Cyclone Murasu)। সোমবার রাত ১টা নাগাদ প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছে শুরু হয় ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। ঝড়ের দাপট ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছে যাচ্ছে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে অন্ধ্রবাসী। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলকাতাতোও মঙ্গলের ভোর থেকেই আকাশ মেঘলা।
নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা
ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বাপটলা, কৃষ্ণা এবং প্রকাশম জেলায় জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা। প্রকাশম জেলার ওঙ্গোল-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানামের অধিকাংশ জায়গায় এবং রায়লসীমার অনেক এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পালনাড়ু, তিরুপতি ও নন্দিয়াল জেলায় এক-দু’টি জায়গায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এলুরু, এনটিআর, কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপটলা, প্রকাশম, নেল্লোর-সহ একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ৪ ও ৫ নভেম্বরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ
অন্ধ্রপ্রদেশের সরকার উপকূলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। ঝড়ের জেরে সোমবার বিজয়ওয়াড়া, তিরুপতি এবং বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দরে অন্তত ১৯টি বিমান বাতিল করা হয়েছে। ট্রেন পরিষেবাতেও ব্যাঘাত ঘটেছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চিরালা এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। সেগুলি সরানোর কাজ শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
পশ্চিমবঙ্গে তেমন দুর্যোগের আশঙ্কা নেই
মুরাসুর’-এর সরাসরি প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে তেমন দুর্যোগের আশঙ্কা নেই (Bengal weather update)। তবে এর পরোক্ষ প্রভাবেই মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার থেকে রাজ্যের আবহাওয়া শুকনো থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।









