Tag: Anil Singh

  • Bombay HC: ভারতে থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারবেন না, ইমরান খানকে কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের!

    Bombay HC: ভারতে থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারবেন না, ইমরান খানকে কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নাগরিক নন, তিনি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারী। তাই ভারতের নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর সরাসরি কোনও প্রভাব পড়ে না। এই যুক্তিতেই অভিনেতা ইমরান খানকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay HC)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় নাগরিক না হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদে অংশগ্রহণের অধিকার তাঁর নেই।

    সোমবার প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠীর নেতৃত্বাধীন বিচারপতিদের বেঞ্চে ইমরানের দায়ের করা একটি মামলার শুনানি হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার (SIR Remarks) অভিযোগে মুম্বইয়ের বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর তাঁর উদ্দেশে ভারত ছাড়ার যে নোটিশ জারি করেছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিনেতা। ওই নোটিশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Bombay HC)

    শুনানির সময় ইমরানের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অভিনেতার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারী। আপনি ভারতীয় নাগরিক নন। নির্বাচনী তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় আপনার কোনও প্রভাব পড়ছে না। সুতরাং, এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বা বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার আপনার নেই।”

    এমনকী, অভিনেতাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতেও বলে আদালত। বিচারপতিদের মতে, তাঁর কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করার শামিল।

    কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং জানান, ইমরান খান বিভিন্ন সাক্ষাৎকার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই বক্তব্যগুলির উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ নাগরিকদের উসকানি দেওয়া।

    কড়া বার্তা আদালতের

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও স্পষ্ট করে দেন, ভারতে বসবাস করলেও বিশেষ পরিচয়পত্রধারী কোনও ব্যক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে সমালোচনা বা প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন না বলে আদালত মনে করে। তিনি বলেন, “এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আপনি আমেরিকায় গিয়ে সেখানে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন, এমনকী ভোটও দিতে পারেন। কিন্তু ভারতে এভাবে কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ করা মেনে নেওয়া হবে না।”

    এর পাশাপাশি, ইমরানের ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন না করার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। অভিনেতার জীবনের একটা বড় অংশ ভারতে কেটেছে। এখানেই তাঁর পড়াশোনা ও কর্মজীবন। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “ছোটবেলা থেকেই আপনি ভারতে রয়েছেন। এখানে পড়াশোনা করেছেন, কাজ করেছেন এবং জীবনের প্রায় সবকিছুই এখানে। তা হলে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন না কেন?”

    আদালত আরও জানায়, ইমরান যদি বিশেষ পরিচয়পত্রধারী হিসেবেই ভারতে বসবাস চালিয়ে যেতে চান, তা হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলে তাঁকে লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে (Bombay HC)।

    প্রধান বিচারপতির কথায়, “আপনি যদি এই পরিচয়পত্রধারী হিসেবেই ভারতে থাকতে চান, তা হলে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের প্রতিবাদে অংশ নেবেন না।”

    নিঃশর্ত ক্ষমাও চাওয়ার নির্দেশ

    শুধু লিখিত অঙ্গীকার নয়, নিঃশর্ত ক্ষমাও চাইতে হবে অভিনেতাকে। আদালতের মতে, একজন পরিচিত তারকা হিসেবে ইমরানের বক্তব্য ও আচরণের প্রভাব অনেক বেশি। তাঁর অনুগামীর সংখ্যাও যথেষ্ট। তাই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করার আগে তাঁর আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “একজন তারকার কাছ থেকে অন্তত এইটুকু দায়িত্ববোধ প্রত্যাশিত। আপনি এই দেশেই কাজ করেছেন, এখান থেকেই পরিচিতি ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপনার প্রচুর অনুগামী রয়েছেন (SIR Remarks)। আপনার প্রতিটি বক্তব্যের প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ দেশে কাউকে প্ররোচিত করার অধিকার আপনার নেই। আপনার জীবিকা ও উপার্জনের উৎসও এই দেশ।”

    উল্লেখ্য, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারীদের ভারতে বসবাস ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে এই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। আপাতত (Bombay HC) ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর ভারত ছাড়ার নোটিশের উপর বহাল থাকছে স্থগিতাদেশ।

     

LinkedIn
Share