Tag: Annapurna Yojana

  • Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১ জুলাই থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আর্থিক সহায়তা দেওয়া। কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়। অনুষ্ঠানে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতার উপভোক্তারাও যোগ দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মহিলা আবেদন করেছেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৮ জনের আধার সংযুক্ত থাকায় তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই সরাসরি অর্থ পাঠানো হয়।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Annapurna Yojana)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘না জাগিলে ললনা, এ বিশ্ব জাগে না। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠিত হলে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হবে। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আমরা বড় পদক্ষেপ করলাম। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’’ আবেদন যাচাইয়ের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। প্রতিটি আবেদনপত্র নিয়ম মেনে খতিয়ে দেখা হয়েছে, যাতে অযোগ্য কেউ সরকারি সুবিধা না পান (Annapurna Yojana)। সরকারি অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছানো হবে। এটি কারও ব্যক্তিগত অর্থ নয়। আমরা সব মহিলা বিধায়ককে ডেকেছি, কোনও রাজনৈতিক বিভাজন করিনি। ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই পাবেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমাদের সরকার মাত্র দেড় মাসের পুরানো। এই সময়ের মধ্যেই ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদন পত্রের মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ বাতিল করা হয়েছে। বাকি সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে। কোনও প্রকৃত উপভোক্তাকে বঞ্চিত করা হবে না। এটি তাঁদের অধিকার।’’

    পূর্ববর্তী সরকারের একাধিক অনিয়ম

    তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আগের প্রকল্পগুলিতে মৃত ব্যক্তি, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি, এমনকি ভারতীয় নন, এমন অনেকের নামও ছিল। সেগুলি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের মধ্যে যাঁরা সিএএর জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের সামাজিক ভাতা চালু থাকবে।’’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘৩ জুন আমরা ঘোষণা করেছিলাম যে টাকা দেওয়া শুরু হবে। জুলাই ও অগাস্ট মাসেও আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র যোগ্যদেরই দেওয়া হবে। আগামী দিনে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য গোলাপি কার্ড চালু করা হবে। অনেক মহিলা কর্মী নিজে টিকিট কেটে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের আমি (Suvendu Adhikari) সম্মান জানাই। এই পরিষেবার জন্য সরকারকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে (Annapurna Yojana)।’’

     

  • Jan Kalyan Shibir: উপচে পড়া ভিড়, আরও একদিন বাড়ানো হল জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Jan Kalyan Shibir: উপচে পড়া ভিড়, আরও একদিন বাড়ানো হল জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরে (Jan Kalyan Shibir) সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তাই শিবিরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার ফলতা থেকে তিনি জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এদিনই শিবিরের শেষ দিন ছিল। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবারও রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির চালু থাকবে।

    মেয়াদ বাড়ল জনকল্যাণ শিবিরের (Jan Kalyan Shibir)

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই শিবিরের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা এক জায়গা থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, সরকারের লক্ষ্য হল সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পদ্ধতিতে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অনেক জায়গায় সময়ের অভাবে পর্যাপ্ত শিবির করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ লাইন পড়ছে এবং প্রচুর মানুষ পরিষেবা নিতে শিবিরে ভিড় করছেন। সেই কারণেই শিবিরের মেয়াদ একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শিবিরে ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, জনকল্যাণ শিবিরে মোট ৫৪টি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। তিনি জানান, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার তথা সাড়ে ৬ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় এসে দেশের যে কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, গ্রামীণ এলাকার স্বল্প আয়ের পরিবারগুলি এই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ১০০ ইউনিটে ৩০ হাজার টাকা, ২০০ ইউনিটে ৬০ হাজার টাকা এবং ৩০০ ইউনিটে ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাবেন। এজন্য জনকল্যাণ শিবিরে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।

    লক্ষ্মীর ভান্ডার পেয়েছে অ-লক্ষ্মীরাও!

    অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকে প্রায় সাড়ে চার হাজার পুরুষ এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে ১৭৩ জন পুরুষ বেআইনিভাবে ওই প্রকল্পের টাকা তুলেছেন। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গত ৩ জুন অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ২৮ লাখ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫ লাখ মহিলা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদের তথ্য যাচাই করে পোর্টালে আপলোডও করা হয়েছে (Jan Kalyan Shibir)। আগামী ২২ জুন প্রথম রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ করবে পদ্ম সরকার। সে প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “যুবসমাজ, সরকারি কর্মী, শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী এবং কৃষকদের জন্য একাধিক নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

    ফলতার জন্য বিশেষ ঘোষণা

    এদিকে, ফলতায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ফলতাকে আদর্শ বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে এসইজেডে শিল্পতালুক গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলতা গ্রামীণ হাসপাতালকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। মহিলা কলেজ, দমকল কেন্দ্র তৈরির অনুমোদন, ফলতা থানাকে আরও শক্তিশালী করা এবং মহিলাদের জন্য (Suvendu Adhikari) পৃথক হেল্পডেস্ক চালুর পাশাপাশি অতিরিক্ত মহিলা পুলিশকর্মী নিয়োগের কথাও ঘোষণা করেন (Jan Kalyan Shibir) পদ্ম সরকারের প্রধান শুভেন্দু অধিকারী।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তির (Beldanga Violence) ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি টানাপড়েনে নয়া মোড়। বেলডাঙা হিংসার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর তদন্তের বিরুদ্ধে আগের রাজ্য সরকারের করা আপত্তি বর্তমান সরকার (Suvendu Adhikari) প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মামলার তদন্তে এনআইএর রাস্তা আরও (Beldanga Violence) মসৃণ হল। একই সময়ে মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে আইন-শৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

    এনআইএকে দিয়ে তদন্ত (Suvendu Adhikari)

    বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আদালত জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে এবং প্রয়োজনে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত সাহায্যও চাইতে পারে। হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কার্যত নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। শীর্ষ আদালত এনআইএ তদন্তের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। পরে কেস ডায়েরি এবং ধৃত অভিযুক্তদের হস্তান্তর নিয়েও রাজ্য পুলিশ এবং এনআইএর মধ্যে টানাপড়েন শুরু হলে আদালতের নির্দেশে সমস্ত নথি ও অভিযুক্তদের তুলে দেওয়া হয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে।

    বেলডাঙাকাণ্ড

    ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভা ভোটের আগে বেলডাঙায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ।

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক

    এদিকে, মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক (Suvendu Adhikari) থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিজেও বিএসএফের আউটপোস্ট পরিদর্শনে যাবেন (Beldanga Violence)।

    সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    প্রশাসনিক বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৫০ লাখ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছতে শুরু (Beldanga Violence) করেছে। বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতাও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় স্থানান্তরের বিষয়েও ফের আশ্বাস দেওয়া হয়, যাতে রাজ্যের বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পান।

    প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদ

    উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চাঁচল ও গাজোলকে পুরসভার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে (Suvendu Adhikari)। যদিও চলতি বর্ষায় কাজ শুরু করা সম্ভব না হলেও আগামী বর্ষার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো এবং অতিরিক্ত আড়ম্বর এড়িয়ে ছিমছাম সরকারি বৈঠকের আয়োজন রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Beldanga Violence)। গত কয়েক (Beldanga Violence) বছরের তুলনায় প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই পরিবর্তন নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা (Suvendu Adhikari)।

     

  • Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে গিয়েছেন ৫০ লক্ষ মহিলা! অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Annapurna Yojana: অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে গিয়েছেন ৫০ লক্ষ মহিলা! অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ নিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উপচে পড়েছে অন্নপূর্ণা ভান্ডার। এই যোজনায় (Annapurna Yojana) মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে ঢোকা শুরু হয়ে গিয়েছে। রবিবার পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন, বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। রাজ্যের সব যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পে টাকা পাবেন বলেও জানান তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনায় ফর্ম পূরণ আগামী ৩ মাস চলবে। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শুভেন্দু এদিন বলেন, এত দুর্নীতি হয়েছে যে ব্রিগেড ময়দানকে জেল বানাতে হবে।

    সরকারের টাকা জলে ফেলা যায় না

    এদিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকাল পর্যন্ত ৫০ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে এই যোজনায় ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এটা সবচেয়ে বড় সাফল্য। ফর্মে প্রথমে সমালোচনা হয়েছিল ২-৩ দিন। পরে সবাই বুঝেছেন, সরকারের টাকা এভাবে জলে ফেলা যায় না।”

    পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা

    এরপরই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “আগের সরকার ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে লক্ষ্মীর ভান্ডার দিত। তার মধ্যে ২৭ লক্ষের নাম ভোটার তালিকায় নেই। কেবল মাত্র সিএএ-তে অ্যাপ্লাই করেছেন, ১ লক্ষ ২১ হাজার এখনও অবধি। ১৯ হাজার সার্টিফিকেট পেয়েছেন। ১ লক্ষ ২ হাজার ,সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন। আমরা তাঁদেরও আমাদের দিক থেকে, কেন্দ্রীয় সরকারকে সাথে নিয়ে ক্লিয়ার করব।”

    পুরুষরাও লক্ষ্মী!

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুনলে অবাক হবেন, ৩ লক্ষ পুরুষ লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকে সাড়ে ৪ হাজার পুরুষ পাওয়া গিয়েছে। কৃষ্ণনগর ২-র একটা অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছে ২৭৩ জন। ভাবলে অবাক হবেন, বিধবা ভাতাও পুরুষ পেয়েছে। আপনি যেখানেই হাত দেবেন, সেখান থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। এ তো ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে জেল বানাতে হবে।”

    স্বচ্ছতার সঙ্গে ডেটা ব্যাঙ্ক

    শুভেন্দুর কথায়, “কী ভয়ঙ্কর দুর্নীতি। হিসেব করে দেখুন, ৩০ লক্ষের টাকা বছরে কত হাজার কোটি টাকা হয়। আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে যা করছি, এর সুফল আগামী ৫০ বছর এই রাজ্যের সরকার পাবে। আমরা ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করে নিয়েছি।” তৃণমূলের শাসনকালে একের পর এক বিজেপি কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। এই নিয়ে এদিন শুভেন্দু বলেন, “আমাদের ৩১৫ জন কর্মী আত্মবলিদান দিয়েছেন। ওই বিজেপি কর্মীদের পরিবারের একজন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। এমাসেই চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।”

    লক্ষ লক্ষ মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা

    অন্নপূর্ণা যোজনা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সুবিধাভোগীরা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাবেন। বুধবার সেই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩০০০ টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু যাদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকাই ঢোকেনি, তারা আগামী ৭ দিনে এই টাকা পাবেন, বলে খবর।

    অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের স্ট্যাটাস চেক

    অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কত টাকা ঢুকবে তা জানতে স্ট্যাটাস চেক করতে https://www.govtschemes.in/west-bengal-annapurna-bhandar-scheme এই লিঙ্কে ক্লিক করে নিজের রাজ্য (State) বেছে নিন। স্ক্রল করে Annapurna Bhandar Scheme Official Portal Link অপশনে ক্লিক করুন। https://socialsecurity.wb.gov.in/login পেজটি আসবে। এবার Track Application Status-এ ক্লিক করুন। নিজের নাম নথিভুক্ত আছে কিনা এবং জুন মাসে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে কিনা উভয়ই এখান থেকে চেক করা যাবে। Track Application Status-এ ক্লিক করলে Search Using অপশন পাবেন। এখানে Select-এ নিজেদের ফোন নম্বর বা আধার নম্বর কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের যে কোনও একটি অপশনে ক্লিক করবেন। এরপর Enter Value-তে সেই নম্বরটি দেবেন। এরপর ক্যাপচা সঠিকভাবে দিয়ে Search করুন। এতেই বুঝতে পারবেন নিজের অ্যাপ্লিকেশন স্ট্যাটাস, এমনকি কত টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে সেটাও।

    অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও চেক

    অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও চেক করতে পারবেন এই যোজনার স্ট্যাটাস। এক্ষেত্রে আপনাকে বা পরিবারের কাউকে স্থানীয় ব্লক অফিস বা পুরসভা অফিসে গিয়ে আবেদন গ্রহণের রসিদ দেখিয়ে তথ্য জেনে নিতে হবে। এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হতে আবেদনকারীদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারী অবশ্যই মহিলা হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বয়স অবশ্যই ২৫-৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আয়করদাতা হওয়া যাবে না। স্থায়ী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী অথবা রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার, পঞ্চায়েত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা, পৌরসভা বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন বা পেনশন গ্রহণকারী হওয়া যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের কোনও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা অশিক্ষক পদে নিযুক্ত থাকা যাবে না। অন্নপূর্ণা ভান্ডার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, বাসস্থানের প্রমাণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট/পাসবুক, পাসপোর্ট আকারের ছবি। নির্বিঘ্নে পেমেন্ট পাওয়ার জন্য আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় এবং আপডেট রাখাও জরুরি।

     

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ মিলবে, তারকেশ্বর থেকেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ মিলবে, তারকেশ্বর থেকেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের একাধিক জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়ন করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এক বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, “অন্নপূর্ণা যোজনা-র (Annapurna Yojana) আওতায় প্রতিশ্রুতি মতন অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া বুধবার (৩ জুন) থেকেই শুরু হতে চলেছে।” এই প্রসঙ্গে তিনি মঙ্গলবার তারকেশ্বর থেকে আরও বলেন, “যত দ্রুত ফর্ম ফিলআপ হবে, তত দ্রুতই চালু হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার।” এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ও পারদ চড়তে শুরু করেছে।

    ঘুষপেটিয়াকে টাকা দেওয়া হবে না (Annapurna Yojana)

    উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পক্ষ থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য এই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র (Annapurna Yojana) কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। শাসকদলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এরপর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় যে রাজ্যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। ২০২৬ সালে ঐতিহাসিক রায়ে বিধানসভায় বিজেপি সরকার গড়তেই ঠিক কথা মতো কাজ শুরু করে দিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তারকেশ্বরে বলেন, “কাল থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া শুরু হবে। যাঁরা ফর্ম পূরণ করেছেন, তাঁরা টাকা পাবেন। আমরা যা বলি, ভেবেচিন্তেই বলি। কোনও ঘুষপেটিয়াকে টাকা দেওয়া হবে না। সরকারি ভাতা যোগ্যদের পাশাপাশি অযোগ্যদের খাতায়ও ঢুকেছে। যাঁরা অন্নপূর্ণার ফর্ম এখনও পূরণ করেননি, তাঁরাও বঞ্চিত হবেন না। তাঁদের অ্যাকাউন্টেও আগের মতো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকবে।”

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠ করেছেন, ছাড়ব না

    এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আগামীকাল থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই যোজনার অর্থ সরাসরি প্রেরণের প্রক্রিয়া আরম্ভ হবে। যাঁরা ১২ পাতা, ১৬ পাতা, ১৮ পাতা করছেন, এই জনগণের দ্বারা রিজেক্টেড নেতা এবং তাঁদের দলের লোকেদের বলব যে, এই সংখ্যাটা কত হবে আমরা জানি না। তাঁদের আমলে অনুপ্রবেশকারীরা তো ভাতা পেয়েছেনই, তার সঙ্গে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, যাঁরা মহিলা নন বা এই কর্মসূচির আওতায় আসেন না, তাঁরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Annapurna Yojana) লুঠ করেছেন। আমি কাউকে ছাড়বো না।”

    দুর্নীতি নিয়ে সরব

    একই সঙ্গে, এই কর্মসূচির ঘোষণা মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্যের বর্তমান শাসকদল ও রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রাজ্যের বর্তমান প্রশাসন সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও কেন্দ্রীয় অনুদান সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি প্রশ্রয় পাচ্ছে। এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া এবং এই রাকিবুল, মুস্তাফিজুর, তারিকুলরা মিলে অন্তত ৩০ লক্ষ ভুয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলেছে। ৩০ লক্ষ গুণিতক ১৫০০ টাকা করে যদি হিসাব করেন, জনগণের কত হাজার কোটি টাকা এরা লুঠ করেছে, এটা তার প্রমাণ। আমরা এদের একেবারে গ্রাসরুট থেকে ক্র্যাক ডাউন করব আইনের মাধ্যমে।”

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে শুভেন্দু অধিকারীর এই দ্রুত পদক্ষেপ (Annapurna Yojana) এবং পাল্টা প্রকল্প চালুর ঘোষণা আসলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে গ্রামীণ ও শহরতলীর মহিলা ভোটারদের নিজেদের পক্ষে ধরে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল।

  • Annapurna Yojana: অনলাইনেও শুরু হয়ে গেল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম ফিল-আপ, কীভাবে করবেন আবেদন?

    Annapurna Yojana: অনলাইনেও শুরু হয়ে গেল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম ফিল-আপ, কীভাবে করবেন আবেদন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অফলাইনে আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম ফিল-আপের কাজ। আজ, ১ জুন থেকে ফর্ম পূরণ করা যাবে অনলাইনেও (Application Guide)। আবেদন করা যাবে ৯০ দিন ধরে। ১২ পাতার ফর্ম। ফর্মে আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, পরিবারে কারা রয়েছেন, সন্তান-সন্ততির সংখ্যা, তাদের টিকাকরণের স্টেটাস, জমির পরিমাণ ইত্যাদি।

    প্রয়োজনীয় নথি (Annapurna Yojana)

    ফর্ম ফিল-আপ করার সময় হাতের কাছে রাখতে হবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, অ্যাকাউন্টের তথ্য, বসবাসের প্রমাণপত্র হিসেবে বিদ্যুৎ কিংবা জলের বিল, এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি। এবার জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে অনলাইনে পূরণ করবেন অন্নপূর্ণ যোজনার ফর্ম। প্রথমে রাজ্য সরকারের পোর্টাল থেকে ফর্ম ডাউনলোড করতে হবে। পূরণ করা ফর্ম জমা দিতে হবে অনলাইনেই। আবেদন করতে হবে রাজ্য সরকারের সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টালে। আবেদনের জন্য  https://socialsecurity.wb.gov.in/ ওয়েসাইটে যেতে হবে। এই ওয়েবসাইটেরই নাম দেওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টাল। পোর্টালে গেলেই আবেদনকারী তাঁর নিজের ভাষা অনুযায়ী ফর্ম ডাউনলোড করতে পারবেন। পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করতে হবে মোবাইল নম্বর দিয়ে। ফর্ম ফিল-আপের পর সেটি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে পোর্টালেই। ফর্মের সঙ্গে স্ক্যান করে জমা দিতে হবে প্রয়োজনীয় নথিও।

    কোন কোন তথ্য জানাতে হবে

    ২৭ মে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পেতে হলে পূরণ করতে হবে এই ফর্ম। একটি পরিবার একটিই ফর্ম পাবে। যদিও সেখানে একাধিক নামের জায়গা রয়েছে। ফর্মের প্রথমেই রয়েছে আবেদনকারীর পরিবারের নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, লিঙ্গ, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল ফোনের নম্বর লিখতে হবে। উল্লেখ করতে হবে পরিবারের অন্য সদস্যদের যাবতীয় তথ্য এবং গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক কী, তা। পরিবারের সদস্যদের কারও ব্যক্তিগত চার চাকার গাড়ি থাকলে ফর্মে উল্লেখ করতে হবে তাও (Annapurna Yojana)। আবেদনকারী এখন রাজ্য সরকারের কোনও সুবিধা পান কিনা এবং পরিবারের কোনও সদস্যের স্বাস্থ্যবিমা, কিষান ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড এবং শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড থাকলে, সে সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। পরিবারের সদস্যরা পেশায় কী, তাও উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

    এই প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া (Application Guide) বাধ্যতামূলক করায় সচেতনভাবেই গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে রাজনীতির কারবারিদের একাংশ। যদিও পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সংক্রান্ত কোনও গুজবে কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকের বাড়িতে ফর্ম পূরণের জন্য লোক যাবেন। তাঁরাই ফর্ম পূরণ করিয়ে দেবেন। বিভ্রান্ত না হওয়ার আবেদনও জানান (Annapurna Yojana) নয়া মুখ্যমন্ত্রী।

  • Annapurna Yojana: “যোগ্যরা যাতে টাকা পান, সেই দায়িত্ব সরকারের”, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    Annapurna Yojana: “যোগ্যরা যাতে টাকা পান, সেই দায়িত্ব সরকারের”, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়ে গিয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম ফিলআপের কাজ। ১২ পাতার ফর্ম দেখে অনেকেরই মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। উঠছে নানা প্রশ্নও। অনেকেরই প্রশ্ন, কেন এত তথ্য দিতে হবে (Form Fill Up)? এসব তথ্য দিলে আদৌ লক্ষ্মীর ভান্ডার মিলবে তো? রাজ্যবাসীর এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    গুজবে কান দেবেন না (Annapurna Yojana)

    শনিবার বিনামূল্যে সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রকল্প শুরু হয়েছে। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  “কেউ বিচলিত হবেন না, কেউ গুজবে কান দেবেন না। ফর্ম পূরণ করতে অসুবিধা হলে আমাদের লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণ করবে। যোগ্যরা যাতে টাকা পান, সেই দায়িত্ব সরকারের।”

    ফর্ম নিয়ে যা বললেন অগ্নিমিত্রা

    প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণ যোজনার ফর্মে নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখের পাশাপাশি দিতে হবে গোটা পরিবারের তথ্যও। উল্লেখ করতে হবে বাড়ি, জমির মালিকানা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, রেশনের আইডি থেকে শুরু করে সন্তানের স্কুলের নাম পর্যন্ত সবই। এসব নিয়েই ছড়িয়েছে বিভ্রান্তি। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বক্তব্য, লক্ষ্মীর ভান্ডারের বহু উপভোক্তা যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও টাকা নিতেন। পুরুষ উপভোক্তারও খোঁজ মিলেছে। উপভোক্তারা যাতে ভারতীয় নাগরিকই হন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার। নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ১২ পাতার ফর্ম শুধুমাত্র এই যোজনার জন্যই দেওয়া হয়নি, কেন্দ্রীয় অন্যান্য প্রকল্পেও কাজে লাগবে আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য (Annapurna Yojana)।

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অন্তত ৩০ লাখ ভুয়ো নাম রয়েছে লক্ষ্মীর ভান্ডারের গ্রাহক তালিকায়। অনেক পুরুষের নামও রয়েছে। যোগ্য মহিলাদের বাছতেই এই আবেদনের প্রক্রিয়া। অগ্নিমিত্রাও বলেন, “ফর্ম পূরণ করলেই টাকা পাওয়া যাবে, তা নয়। এই যোজনার টাকা পেতে গেলে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। সেই যোগ্যতা সবাই পূরণ করছে কি না, সেটাও দেখার জন্য এই প্রক্রিয়া (Form Fill Up)।” প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে এতদিন মিলত ১৫০০ করে টাকা। অন্নপূর্ণা যোজনায় এই টাকার পরিমাণই দ্বিগুণ হয়ে হবে ৩০০০ টাকা (Annapurna Yojana)।

     

  • Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    Annapurna Yojana: ‘বেনো জল’ বাদ দিতে, রাজকোষের অপচয় রুখতে অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়া শর্ত আরোপ শুভেন্দুর সরকারের, কী কী নথি লাগবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে গেলে মিলবে ফর্ম। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে এই ফর্ম। যাঁরা তা (Documents List) করতে পারবেন না, তাঁদের সাহায্য করতে সরকারি আধিকারিকরা যাবেন বাড়িতেও। স্থানীয় বিধায়করাও সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে লক্ষ্মীর ভান্ডার যোজনায় লক্ষ লক্ষ ‘বেনো জল’ ঢুকে রয়েছে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজকোষের অপচয় রোধ করতেই অন্নপূর্ণা প্রকল্পে নথি ও তথ্য ভালো করে যাচাই করা হবে।

    ফর্মে জানাতে হবে যেসব তথ্য (Annapurna Yojana)

    ফর্মটি ১১ পাতার। তাতে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের বাকি সব সদস্যের খুঁটিনাটি সব তথ্যই জানতে চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই মিলবে অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক অনুদান। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পে মহিলারা ফি মাসে তিন হাজার করে টাকা পাবেন। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই কারণেই ফর্মটি দীর্ঘ হয়েছে। আবেদানকারীদের ভবিষ্যতে অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনার জন্যও এই ফর্মের নথি এবং তথ্য বিবেচনা করা হবে।

    ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর

    অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে প্রথমেই চাওয়া হয়েছে আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর। ফর্মে উল্লেখ করতে হবে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও এই সব তথ্য এবং গৃহকর্তা বা কর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করাও থাকতে হবে। আবেদনকারী ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে সরকার। যদি থাকে, সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সে সংক্রান্ত তথ্যও বিশদে উল্লেখ করতে হবে ফর্মে।

    শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও দিতে হবে

    আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ানও দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, জানাতে হবে তা-ও। পরিবারের প্রত্যেকের পেশা লিখতে হবে ফর্মে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে (Annapurna Yojana)। পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার কথাও উল্লেখ করতে হবে এই ফর্মে। সে সংক্রান্ত নথিও জমা দিতে হবে। পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণও জানাতে হবে। কেউ সিএএতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, এসআইআরে নাম বাদ পড়েছে কি না, পড়লেও ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এসবও জানাতে হবে সরকারকে। পরিবারের শিশুদের স্কুলের নাম এবং টীকাকরণের খুঁটিনাটি (Documents List) তথ্যও উল্লেখ করতে হবে ওই ফর্মে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফর্ম পূরণ শুরু হবে ১ জুন থেকে, চলবে তিন মাস ধরে। তাই তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই (Annapurna Yojana)।

    কেন এত কড়াকড়ি, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই না হওয়াতেই নানা ধরনের অসংগতি সামনে আসছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বহরমপুরের শিয়ালমারা রাধারঘাট ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাকিবুল শেখের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর অভিযোগ, একজন পুরুষ হয়েও নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন রাকিবুল, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ উপভোক্তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি নাম মৃত ব্যক্তি, অ-ভারতীয় নাগরিক অথবা সম্পূর্ণ ভুয়ো উপভোক্তার।

    সরকারি অর্থরে অপচয় রোখা লক্ষ্য

    সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সরকার এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে চলেছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ভুয়ো ও অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই যাচাইয়ের ফলে বর্তমান তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ পড়ে যাবে। একইসঙ্গে, স্বচ্ছতার সঙ্গে ভবিষ্যতে যোগ্য পরিবারের মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ফের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু মহিলাদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা নয়, বরং রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

  • Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) কার্যকর করার সরকারি প্রক্রিয়া বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে। কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, বুধবার থেকেই প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করা হবে এবং তা অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে। পাশাপাশি ‘মা ক্যান্টিন’-এ সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত চালু, ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তন, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা এবং আয়ুষ দফতরকে পৃথক করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

    কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে কী আলোচনা হল

    মঙ্গলবার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’-কে আয়ুষ্মান ভারতের কাঠামোয় রূপান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্নে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেই ফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, যত দ্রুত নথিভুক্তিকরণ হবে, তত দ্রুত উপভোক্তারা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

    ১ জুন থেকেই টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি

    প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফর্ম পূরণ ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ মানুষ যাতে আর্থিক সমস্যায় না পড়েন, সে দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু না হচ্ছে, ততদিন পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা আগের নিয়মেই উপভোক্তারা পাবেন।

    অনলাইন-অফলাইন দুই ব্যবস্থাতেই ফর্ম জমা

    শুভেন্দু জানান, বুধবার থেকেই সাধারণ মানুষ ফর্মের প্রতিলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ব্যবস্থাই রাখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র জনগণের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিধায়কেরা নিজ উদ্যোগে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। পাশাপাশি বিডিওদের নেতৃত্বে সরকারি কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সহায়তা করবেন।

    নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

    অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কারা পাবেন, সে বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ দেশের বৈধ নাগরিকদের জন্যই বরাদ্দ।

    মা ক্যান্টিনে সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত

    সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে ‘মা ক্যান্টিন’-এ নতুন খাদ্যতালিকার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪০০টি মা ক্যান্টিন চালু রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’দিন ৫ টাকাতেই মাছ-ভাত দেওয়া হবে। বাকি পাঁচ দিন আগের মতোই ডিম-ভাত মিলবে একই মূল্যে। এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।

    ‘দিদিকে বলো’-র নতুন নাম ‘আপনার সরকারকে বলুন’

    রাজ্যের জনপ্রিয় জনসংযোগ কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিষেবাটির নতুন নাম হবে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। তিনি জানান, পুরনো টোল-ফ্রি নম্বরও পরিবর্তন করা হবে এবং পরিষেবা চালুর দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। পরিষেবার নতুন নাম নির্ধারণ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

    মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি বাসে আপাতত সমস্ত মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভা আগেই এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই পরিষেবার জন্য বিশেষ কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচি পালন করবে রাজ্য

    কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিও রাজ্যে পালন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ ও বন দফতর প্রত্যেক বিধায়ককে গাছ বিতরণের জন্য চারাগাছ সরবরাহ করবে। এছাড়া ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হবে।

    বিশ্ব যোগ দিবস ও আয়ুষ দফতর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

    ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস রাজ্যজুড়ে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকবে আয়ুষ দফতর এবং ক্রীড়া দফতর। এদিন তিনি আরও জানান, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করা হবে। মন্ত্রিসভায় বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পৃথক দফতর গঠনের মাধ্যমে আয়ুষ পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা এবং জাতীয় স্তরের সুযোগ-সুবিধা রাজ্যে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

LinkedIn
Share