Tag: Anti Social Activities

  • Anti Goonda Act: সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে রেয়াত নয়, গুন্ডাদমন আইনের অংশ কার্যকর বাংলায়

    Anti Goonda Act: সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে রেয়াত নয়, গুন্ডাদমন আইনের অংশ কার্যকর বাংলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়া পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Suvendu Adhikari)। সোমবার থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়ে গিয়েছে গুন্ডাদমন আইনের (Anti Goonda Act) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আন্দোলন, বিক্ষোভ কিংবা অন্য কোনও অজুহাতে সরকারি বা জনসম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। এমন ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির জন্য বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।

    সোমবার সন্ধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সদ্য পাস হওয়া আইন কার্যকর করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সেখানেই বলা হয়, “আজ, সোমবার থেকেই গুন্ডাদমন আইনের একটি অংশ কার্যকর করা হল পশ্চিমবঙ্গে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”

    সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে হিংসাত্মক আন্দোলন বা অরাজকতার নামে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ক্ষতির মূল পরিমাণের তিন গুণ অর্থ আদায় করা হবে। সেই অর্থ কড়ায়-গন্ডায় সুদ-সহ আদায়ের ব্যবস্থাও করা হবে। শুধু সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ নয়, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায়ও দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    জুলাইয়েই বিধানসভায় পাস গুন্ডাদমন বিল (Anti Goonda Act)

    রাজ্য থেকে অপরাধমূলক ও অসামাজিক কার্যকলাপ নির্মূল করার লক্ষ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতেই বিধানসভায় পেশ ও পাস করা হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’। সাধারণ মানুষের কাছে যা গুন্ডাদমন বিল নামে পরিচিত হয়েছে। বিধানসভায় বিলটি পাসও হয়।

    বিল পেশের সময় সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, সম্পূর্ণ গুন্ডামুক্ত বাংলা গড়ে তোলাই এই আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয় (Anti Goonda Act)।

    এর পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে রাজ্যে আগে থেকেই চালু থাকা আইনি কাঠামোয় সংশোধন এনে পাস করা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ জনশৃঙ্খলা রক্ষণ আইন সংশোধনী বিল, ২০২৬’। দু’টি আইন একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা এসেছে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে প্রতিরোধমূলক আটক করার পাশাপাশি অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া যাবে।

    অতীতের হিংসার প্রসঙ্গ তুলে কড়া বার্তা

    সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের অতীতের একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকায় সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। রেল স্টেশন, ট্রেন এবং সরকারি বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল বলে দাবি করা হয়। কয়েকটি এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    হাওড়ার সাঁকরাইলেও সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলা হয়। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদেরও হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে (Anti Goonda Act)।

    সরকারি সম্পত্তি নষ্টে জিরো টলারেন্সের বার্তা

    বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বাংলায় সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আন্দোলনের নামে হিংসা, অরাজকতা বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Suvendu Adhikari)।

    সরকারের বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসম্পত্তি সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। গুন্ডামি ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নেবে এবং আইন ভাঙলে তার আর্থিক ও আইনি—দুই ধরনের পরিণতিই ভোগ করতে হবে (Anti Goonda Act)।

     

  • Arrest Punishment: রাজ্যে লাগু হয়ে গেল ‘গুন্ডাদমন আইন’, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত-সহ কড়া ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে

    Arrest Punishment: রাজ্যে লাগু হয়ে গেল ‘গুন্ডাদমন আইন’, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত-সহ কড়া ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, সংগঠিত অপরাধ, হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনাকে কঠোর হাতে দমন করতে (Arrest Punishment) সোমবার থেকে কার্যকর হয়ে গেল রাজ্যের নয়া ‘গুন্ডাদমন আইন’। একই সঙ্গে কার্যকর হয়েছে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশোধিত আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। নতুন (New Anti Social Activities Bill) এই দুই আইনের পোশাকি নাম ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’।

    ‘নিবর্তনমূলক আটকে’র বিধান (Arrest Punishment)

    নবান্নের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা, সংগঠিত অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের মনে আইনের শাসনের ভীতি সৃষ্টি করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আইন কার্যকর হওয়ার আগেই তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের আশঙ্কা, আইনের কিছু ধারা প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে। যদিও, সরকারের দাবি, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই আইন অপরিহার্য। নয়া আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘নিবর্তনমূলক আটকে’র বিধান। এই আইন অনুযায়ী, প্রশাসনের কাছে যদি বিশ্বাসযোগ্য কোনও তথ্য থাকে যে কোনও ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তাঁকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক করে রাখা যাবে। বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তা কার্যকর করা সম্ভব।

    সমাজবিরোধীর সংজ্ঞা

    আইন অনুযায়ী, রাজ্য সরকার, জেলাশাসক অথবা পুলিশ কমিশনার প্রয়োজন মনে করলে নিবর্তনমূলক আটকের নির্দেশ দিতে পারবেন। রাজ্য সরকারের মতে, বড় ধরনের অপরাধ বা হিংসার ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। নতুন আইনে ‘এলাকাছাড়া’ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও আধিকারিক যদি মনে করেন, কোনও ব্যক্তি নির্দিষ্ট এলাকায় থাকলে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, তাহলে তাঁকে অনধিক এক বছরের জন্য ওই এলাকা বা একেবারে জেলা থেকেই বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে (Arrest Punishment)। আইনে ‘গুন্ডা’ বা ‘সমাজবিরোধী’ শব্দের সংজ্ঞার পরিসরও অনেক প্রসারিত করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধে নিয়মিত যুক্ত ব্যক্তি, অপরাধে অর্থ জোগানদাতা বা মদতদাতা, নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে চার্জশিটে নাম থাকা ব্যক্তি, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক কিংবা মানবপাচার সংক্রান্ত অপরাধে যুক্ত ব্যক্তি এবং সমাজের জন্য বিপজ্জনক বলে পরিচিত ব্যক্তিদের এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

    পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের নিদান

    এ ছাড়াও সাধারণ মানুষের মনে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি, জনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি বিঘ্নিত করা, জীবন বা সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, বৈধ ব্যবসা বা পেশা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি, বেআইনিভাবে জমি বা সম্পত্তি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির বড় ক্ষতি, সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি, অবৈধ বালি উত্তোলন, বেআইনি খনি কারবার, বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত অপরাধ, বড় ধরনের সাইবার অপরাধ এবং আর্থিক জালিয়াতিকেও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা (Arrest Punishment) হয়েছে। এই আইনের আওতায় থাকা সমস্ত অপরাধই জামিন-অযোগ্য। তাই পুলিশ প্রয়োজন মনে করলে পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে। পাশাপাশি বাড়ি, গাড়ি বা (New Anti Social Activities Bill) অন্য কোনও জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ, নথি, সম্পত্তি বা অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

    সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সংগঠিত অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায়ও অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে (Arrest Punishment)। আটক বা এলাকাছাড়ার নির্দেশ অমান্য করলে জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়া বা সাহায্য করলেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে। অন্যদিকে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর মাধ্যমে আন্দোলন বা বিক্ষোভের নামে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য বিশেষ ‘ক্লেম কমিশন’ গঠন করা হবে। কোনও দাঙ্গা, হিংসাত্মক আন্দোলন বা বিক্ষোভের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে চিহ্নিত অভিযুক্তদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করবে এই কমিশন।

    নয়া আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা সরকারের

    বিধানসভায় আইনটি পাস হওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছিলেন, “২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সিএএ-কে এনআরসি হিসেবে প্রচার করে যে আন্দোলন হয়েছিল, তাতে মুর্শিদাবাদে থানায় আক্রমণ করা হয়। ট্রেনে হামলা হয়েছিল, ভাঙচুর করা হয়েছিল রেলওয়ে স্টেশন। সরকারি সম্পত্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমি সেই সময়ে পরিবহণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলাম। সেই সময়ে ২০টি সরকারি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, সংগঠিত অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা আরও মজবুত করতেই এই কঠোর আইন কার্যকর করা হয়েছে। তবে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, নিবর্তনমূলক আটক, এলাকাছাড়া (New Anti Social Activities Bill) এবং জামিন-অযোগ্য ধারার মতো বিধান ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে (Arrest Punishment)। ফলে আইনটি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই তা চলে এসেছে রাজ্যের চায়ে পে চর্চায়।

     

LinkedIn
Share