Tag: Anubrata CBI arrest

Anubrata CBI arrest

  • Anubrata Mondal: স্কুলে চাকরি করেই কয়েক’শ কোটির সম্পত্তি সুকন্যার! কী করে? উত্তরের খোঁজে সিবিআই

    Anubrata Mondal: স্কুলে চাকরি করেই কয়েক’শ কোটির সম্পত্তি সুকন্যার! কী করে? উত্তরের খোঁজে সিবিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পেশায় স্কুল-শিক্ষিকা। তাতেই কেষ্ট-কন্যার অর্জিত সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক’শ কোটি টাকারও বেশি! কী করে? গরুপাচার মামলার (Cattle smuggling case) তদন্তে এই প্রশ্নের উত্তরই এখন হন্যে হয়ে খুঁজে চলেছে সিবিআই (CBI)। যে কারণে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের পাখির চোখ ফের একবার বোলপুরের (Bolpur) নিচুপট্টিতে অনুব্রতর বাড়ি। এবার অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) স্কুল শিক্ষিকা মেয়ে সুকন্যাকে (Sukanya Mondal) জেরা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিবিআই।

    এদিন সকালে, নিচুপট্টির বাড়িতে সুকন্যাকে জেরা করতে পৌঁছ গিয়েছিল সিবিআই। কিন্তু, আইনজীবী মারফৎ সুকন্যার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, মা বেঁচে নেই, বাবা হেফাজতে। তিনি বাড়িতে একা রয়েছেন। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাই এমতাবস্থায় তিনি কথা বলতে চান না। তবে, সিবিআই যে এত সহজে ছেড়ে দেবে, তা হয় না।

    গরুপাচার মামলার তদন্তে সিবিআই যে আঁটঘাঁট বেঁধেই নেমেছে, তা বলাই বাহুল্য। সুকন্যার পাশাপাশি, বুধবার পূর্ব পল্লিতে সিবিআই-এর শিবিরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় অনুব্রতর অ্যাকাউন্ট্যান্ট মণীশ কোঠারিকে। প্রায় দেড় ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে সিবিআই-এর হাতে বেশ কিছু তথ্য উঠে আসে বলে খবর।

    আরও পড়ুন: কয়লা-গরু পাচারে সন্ধান ‘সেটিং গুরু’ দয়িতাপতির, খোঁজ নিচ্ছে ইডি-সিবিআই

    সূত্রের খবর, অনুব্রতর বাড়ি থেকে বেরিয়ে সিবিআই দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। একটি দল যায় আদালতে। সেখানে সার্চ ওয়ারেন্ট বের করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্য একটি দল সেই সময় পৌঁছয় স্থানীয় ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া শাখায়। সেখানে মণীশ কোঠারিকে জেরা করে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখেন গোয়েন্দারা। ডিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ব্যাংকের আধিকারিকদেরও।

    কেন সিবিআইয়ের নজরে সুকন্যা?

    সিবিআই সূত্রে দাবি, কয়েক বছর আগে স্কুল শিক্ষিকার চাকরি পাওয়া সুকন্যার আয়ের সঙ্গে তাঁর নামে থাকা সম্পত্তি সঙ্গতিহীন।  তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সুকন্যার নামে বোলপুরে কেনা হয়েছে জমি, চালকল-সহ একাধিক সম্পত্তি। সূত্রে খবর, অনুব্রত-কন্যার  নামে এখনও পর্যন্ত বোলপুরেই দশটি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। এর প্রায় প্রতিটিই ২০১৪ থেকে ২০১৬-র মধ্যে কেনা হয়েছে। 

    এ ছাড়াও, সুকন্যার নামে দ্বিতীয় কোম্পানির হদিশ মিলেছে বলে সিবিআই সূত্রে দাবি। নীড় ডেভেলপার প্রাইভেট লিমিটেড নামে ওই রিয়েল এস্টেট কোম্পানি তৈরি হয়েছিল ২০০৬ সালে, যার শেয়ার ক্যাপিটাল ছিল দেড় কোটি টাকা। এএনএম অ্যাগ্রোকেম ফুড প্রাইভেট লিমিটেডের ঠিকানাতেই তৈরি হয় এই রিয়েল এস্টেট কোম্পানি।

    আরও পড়ুন: যৌথ ব্যবসার সত্যতা স্বীকার অর্পিতার! জেলে গিয়ে পার্থকে দেড় ঘণ্টা জেরা ইডি-র

    আবার বোলপুরের কালিকাপুরের হারাধন মণ্ডল রোডে এই একই ঠিকানায় কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ভোলে ব্যোম রাইস মিলেরও। অর্থাৎ একই ঠিকানায় রয়েছে তিন-তিনটি কোম্পানি। সিবিআই সূত্রের দাবি, বেনামেও সুকন্যার মালিকানায় কোম্পানিও খোলা হয়েছে, যার শেয়ার ভ্যালু কোটি টাকা। পেশায় স্কুলশিক্ষিকা অনুব্রত-কন্যার নামে এত সম্পত্তি কীভাবে হল, সেটাই জানতে চান সিবিআই আধিকারিকরা। 

  • Anubrata Mondal: দুর্দিনে পাশে নেই দল, তাই কি কেষ্টর চোখে জল?

    Anubrata Mondal: দুর্দিনে পাশে নেই দল, তাই কি কেষ্টর চোখে জল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিবিআইয়ের (CBI) হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরই এ যে অন্য অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। উধাও পরিচিত দাপট। দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার চোখে জল। উধাও একসময়ে পুলিশকে বোমা মারার নিদান দেওয়া ‘বাহুবলী’ নেতার পরিচিত বচন। এখন নেতার মুখে কুলুপ। যাকে বলে ‘স্পিক্-টি নট’। হঠাৎ কী হল কেষ্টর?

    বৃহস্পতিবার সকালে গরুপাচার মামলায় বোলপুরের বাড়ি থেকে অনুব্রতকে গ্রেফতার করে সিবিআই। বোলপুরে তাঁর বাড়ির সামনে ‘গরুচোর’ বলে কটাক্ষ করেন অনেকেই। বীরভূমের এই ‘বেতাজ বাদশা’-কে যেখানে যেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানেই ‘চোর, চোর’ রব উঠেছে। তাঁকে যখন নিয়ে আসানসোল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় অনুব্রতর গাড়ি দেখে জনতা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ওঠে ‘গরু চোর’ স্লোগান। এরপর অনুব্রতকে আদালতে পেশ করা হলে, সেখানেও জুতো হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন চলে। আসানসোল কোর্টের বাইরে বাম-বিজেপির একযোগে বিক্ষোভ। তাঁদের মুখেও ছিল ‘চোর, গরু চোর’ স্লোগান। 

    আরও পড়ুন: একসময় বেচতেন মাগুর, সেখান থেকে কীভাবে তৃণমূলের ‘মুগুর’ হয়ে উঠলেন কেষ্ট?

    এরপর ১০ দিন হেফাজতে নেওয়ার পর ওইদিন সন্ধ্যেবেলা অনুব্রতকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেয় সিবিআইয়ের কনভয়। মাঝে পালসিটের একটি পেট্রল পাম্পে থেমেছিল অনুব্রতের গাড়ি। সেখানেই কনভয়ের পিছনে থাকা সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েন কেষ্ট। সেই সময় তাঁকে দৃশ্যতই বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। তাঁর চোখের কোণে জল দেখা যায়। বেশ কিছুটা ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর দিকে। যদিও কোনও প্রশ্নেরই জবাব দেননি তিনি। গাড়ির মধ্যই চুপ করে বসেছিলেন। কেষ্ট পুরো সময়টা কিন্তু নির্লিপ্ত ছিলেন।

    এই কিছুদিন আগে পর্যন্ত বীরভূম দাপিয়ে বেড়াতেন তিনি। বলা হতো, রাজ্যের নয়, বীরভূমে অনুব্রতর শাসন চলে। এতটাই ছিল তাঁর প্রতাপ, প্রতিপত্তি ও প্রভাব। লোকে বলত, কেষ্টর দাপটে বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খায়। আজ, গরুচুরির দায়ে সিবিআই হাজতে কেষ্ট। সিবিআই হাজিরা এড়াতে আগামী ১৫ অগাস্ট, স্বাধীনতা দিবসে বাড়িতে যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন কেষ্ট। কিন্তু, তাঁর আগেই সিবিআই হেফাজতে গেলেন তিনি।

    আরও পড়ুন: বন্যেরা বনে সুন্দর, চোরেরা জেলে, অনুব্রতর গ্রেফতারিতে প্রতিক্রিয়া সুকান্তর

    অনুব্রত সম্ভবত দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনওদিনও তাঁকে এদিন দেখতে হবে। নিজের বাড়ির সামনে ‘চোর-চোর’ স্লোগান শুনতে হবে। তাই কি চোখে জল? তৃণমূলের অন্দরে খবর যে, বেশ কিছুদিন ধরেই কেষ্ট দিদিকে ফোনে ধরার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু, পারেননি। অনেকটা এসএসসি কাণ্ডে (SSC scam) ধৃত দলের আরেক হেভিওয়েট নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) মতো। তিনিও জানিয়েছিলেন, দিদিকে ফোন করে পাননি। তাঁর দুর্দিনে দল তাঁকে ঝেড়ে ফেলেছে, তা বুঝতে পেরে কেষ্টর এই আক্ষেপ? তাঁর চোখে জল? এত কিছু চেষ্টা করেও, শেষ রক্ষা হল না! কী ভাবছেন কেষ্ট?

  • Anubrata Mondal: একসময় বেচতেন মাগুর, সেখান থেকে কীভাবে তৃণমূলের ‘মুগুর’ হয়ে উঠলেন কেষ্ট?

    Anubrata Mondal: একসময় বেচতেন মাগুর, সেখান থেকে কীভাবে তৃণমূলের ‘মুগুর’ হয়ে উঠলেন কেষ্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে গ্রেফতার কেষ্ট। গরুপাচার মামলায় (Cattle smuggling) সিবিআইয়ের (CBI) হাতে গ্রেফতার অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। বৃহস্পতিবার, সকালে বোলপুরের (Bolpur) নীচুপট্টিতে বাড়ি থেকে অনুব্রতকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    ভাগ্যের উত্থান পতন কাকে বলে তা অনুব্রতকে না দেখলে টের পাওয়া যায় না। এই অনুব্রত মণ্ডল যাঁর নির্দেশে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খেত, তৃণমূলের সেই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা আজ সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার। তবে অনুব্রত মণ্ডল রাতারাতি এইভাবে ‘বেতাজ বাদশা’ হয়ে উঠেছেন এমন নয়। শোনা যায়, একসময় কেষ্ট হাটে মাছ বেচতেন। সেখান থেকে আজ ১০০০ কোটি টাকার মালিক কেষ্ট। 

    কীভাবে এত প্রতিপত্তি হল কেষ্টর?

    বর্তমানে অনুব্রত মণ্ডল বোলপুরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিচুপট্টির বাসিন্দা হলেও তার আসল বাড়ি বীরভূমের নানুরের হাট সেরান্দি গ্রামে। অনুব্রত মণ্ডলরা তিন ভাই, অনুব্রত হলেন মেজ। শোনা যায়, অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর তিনি মাছ বেচা শুরু করেন। এ-ও শোনা যায়, পাশাপাশি তাঁদের একটি গ্রিলের কারখানা ছিল, সেটিও তিনি সামলাতেন। রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকলেও ২০০১ সালে নানুরের সুচপুরের ঘটনায় তার একাধিক পদক্ষেপ নজর কাড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০০৩ সালে তৃণমূলের জেলা সভাপতির দায়িত্ব পান কেষ্ট।

    আরও পড়ুন: গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার অনুব্রত মণ্ডল! নিয়ে যাওয়া হতে পারে সিবিআই ক্যাম্প অফিসে

    অনুব্রত মণ্ডল জেলা সভাপতি দায়িত্ব পাওয়ার পর বামেদের লাল দুর্গ হিসাবে পরিচিত বীরভূমে নিজের দাপট দেখাতে শুরু করেন। ২০১১ সালে তৃণমূল রাজ্যের শাসক দল হিসেবে পরিণত হলে দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতায় পরিণত হন অনুব্রত মণ্ডল। তবে এর সঙ্গে সঙ্গেই তার নামের পাশে যুক্ত হতে শুরু করে গরু পাচার, কয়লা পাচার, ভোট পরবর্তী হিংসা সহ বিভিন্ন মামলা। এই সকল মামলায় একাধিকবার তলব পাওয়ার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করল সিবিআই।

    এদিন সকালেই অনুব্রতর বাড়িতে পৌঁছে যায় সিবিআই। সার্চ ওয়ারেন্ট সঙ্গে নিয়ে যায়। সিবিআই আধিকারিকদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। সিবিআই মোট ২ কোম্পানি আধাসেনা জওয়ান নিয়ে যায় বলে সূত্রে খবর। অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছনোর পর বাড়ি ঘিরে ফেলেন আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা। অনুব্রতর বাড়িতে যাঁরা আছেন, তাঁদের সবার ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। একদিকে অনুব্রতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন সিবিআই আধিকারিকরা। অন্যদিকে তাঁর বাড়িতে চলতে থাকে তল্লাশি। ঘণ্টা দুয়েক পর, কেষ্টকে গ্রেফতার করে বের করে নিয়ে যায় সিবিআই। গরুপাচার কাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডলের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি সিবিআই সূত্রের। 

    আরও পড়ুন: পার্থ-অনুব্রত কাণ্ডের জের! “সবাই চোর নয়”, সাফাই আতঙ্কিত তৃণমূলের

    এখন কেষ্ট গ্রেফতার হওয়ায় তৃণমূলের অক্সিজেন যে অনেকটাই কমে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

  • Anubrata Mondal: সিবিআই অনুব্রতকে নিয়ে যেতেই একে একে মুখ খুলছেন স্থানীয়রা, কী বলছেন তাঁরা?

    Anubrata Mondal: সিবিআই অনুব্রতকে নিয়ে যেতেই একে একে মুখ খুলছেন স্থানীয়রা, কী বলছেন তাঁরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। বোলপুরে (Bolpur) অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) বাড়ি ছিল বীরভূমের (Birbhum) রাজনীতির ‘নিউক্লিয়াস’। নিচুপট্টির এই বাড়ি থেকেই পরিচালিত হত জেলার যাবতীয় কর্মকাণ্ড, তা সে রাজনৈতিক হোক বা প্রশাসনিক। কিন্তু, গত ৩৬-ঘণ্টায় বিস্তর পট-পরিবর্তন ঘটে গেছে। বৃহস্পতিবার, গরুপাচার মামলায় (Cattle smuggling) অনুব্রতকে ১০ দিন সিবিআই (CBI) হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    স্থানীয়দের মতে, বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ ছিলেন কেষ্ট। তাঁর প্রভাব ও প্রতাপ এতটাই ছিল যে, স্থানীয় প্রশাসন তাঁর নির্দেশেই চলত। এমনকী, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও কার্যত বুড়ো আঙুল দেখাতেন। এতটাই ছিল তাঁর দাপট। স্থানীয়রা জানালেন, তিনি (অনুব্রত) ছিলেন বীরভূমের অঘোষিত রাজা। গোটা জেলা ছিল তাঁর সাম্রাজ্য। আর সেই সাম্রাজ্য চালাতেন নিচুপট্টির এই বাড়ি থেকেই।

    আরও পড়ুন: অন্যদের গুড়-বাতাসা খাওয়াতেন! সিবিআই হেফাজতে কী খেলেন কেষ্ট?

    অনুব্রত মণ্ডল বাড়িতে থাকলে রাস্তায় গাড়ি, মোটরবাইকের ভিড় লেগে থাকত। বিভিন্ন জায়গা থেকে সাক্ষাত্‍প্রার্থীরাও আসতেন। গমগম করত গাড়ি আর মানুষের ভিড়ে। আজ বাড়ির মালিক সিবিআই হেফাজতে। রয়েছেন নিজাম প্যালেসে। ফলে, শুনশান বোলপুরের নিচুপট্টিতে কেষ্টর বাড়ির চত্বর পুরোপুরি ফাঁকা। এক প্রতিবেশী জানালেন, আজ বাড়িতে কেউ নেই। শুধু কয়েকজন পুলিশ কর্মী রয়েছেন পাহারায়।

    স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ ও প্রশাসনের যে সকল উচ্চপদস্থ আধিকারিক বীরভূমে দীর্ঘদিন ধরে পোস্টেড ছিলেন, তাঁদের সকলের সঙ্গেই কেষ্টর সুসম্পর্ক ছিল। বা বলা ভাল, সকলেই কেষ্ট-দার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই চলতেন। তাঁদের কথায়, কে-ই বা জলে কুমীর এবং ডাঙায় বাঘের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক রাখতে চায়? ফলে, অনুব্রত যা চাইতেন, জেলায় তাই হতো। রাজনৈতিক হোক বা প্রশাসনিক— সব সিদ্ধান্ত নিতেন অনুব্রতই। 

    আরও পড়ুন: দুর্দিনে পাশে নেই দল, তাই কি কেষ্টর চোখে জল?

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে বীরভূমে কেষ্ট এমন একটা ‘সিস্টেম’ চালু করেছিলেন, যাতে করে ওই জেলার যাবতীয় প্রধান সিদ্ধান্তগুলি তিনিই নিতেন। মাঝে কেষ্টর একটা বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল বটে। তাঁদের দাবি, একটা গোষ্ঠী সেই সময় মুকুল রায়ের দিকে ঝুঁকেছিল। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব উধাও হয়ে যায়। আর অনুব্রত হয়ে ওঠেন বীরভূম জেলার ‘শেষ কথা’।

    স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই গরু, কয়লা ও বালি পাচারের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে বীরভূম। তাঁরা জানান, বীরভূমের বাতাসে টাকা নাকি ভেসে বেড়ায়। আর সবকিছুর হিস্-সা আসত কেষ্টর কাছে। সিবিআইয়ের চার্জশিটে নাম থাকা আব্দুল লতিফ হল গরু হাটের মালিক। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আব্দুল লতিফের সঙ্গে অনুব্রতর দেহরক্ষক বর্তমানে জেল হেফাজতে থাকা সায়গল হোসেনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

  • Anubrata FD Accounts: অনুব্রতর ১৭ কোটির FD-তেই লুকিয়ে আরও ১৯ জনের ‘প্রাণভোমরা’! তাই কি ইডি-সিবিআইতে আপত্তি?

    Anubrata FD Accounts: অনুব্রতর ১৭ কোটির FD-তেই লুকিয়ে আরও ১৯ জনের ‘প্রাণভোমরা’! তাই কি ইডি-সিবিআইতে আপত্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গরুপাচার কাণ্ডের (Cattle Smuggling Case) তদন্তে নেমে অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) ও তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে সিবিআই (CBI)। বুধবার এই প্রেক্ষিতে অনুব্রতর নামে একাধিক ব্যাংকে ছড়িয়ে থাকা ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা প্রায় ১৭ কোটি ফ্রিজ করেছে সিবিআই। এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে কেষ্টর ঘনিষ্ঠদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলি।

    বুধবার দুপুরে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে গিয়েছিলেন সিবিআই আধিকারিকরা। সেখানে কথা বলতে চাননি অনুব্রত-কন্যা। তারপর অনুব্রতর বাড়ির কাছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে যান গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, এসবিআই, ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং অ্যাক্সিস ব্যাংকের একাধিক অ্যাকাউন্টে অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর আত্মীয়দের ১৬ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট বা FD ফ্রিজ করে সিবিআই। ইতিমধ্যেই অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে ও ঘনিষ্ঠদের একাধিক সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। একাধিক সংস্থার খোঁজও পেয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ ১০-১২ জনের নাম উল্লেখ করে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেকে পাঠানো হয়েছে চিঠি।

    আরও পড়ুন: টেট মামলায় আদালতে হাজিরা কেষ্ট কন্যার, উঠল ‘গরু চোর’ স্লোগান

    সিবিআই একদিকে যেমন কয়লা ও গরুপাচার নিয়ে আদাজল খেয়ে লেগে রয়েছে, ঠিক তেমনভাবেই এসএসসি দুর্নীতিকাণ্ডর শিকড়ের খোঁজে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে আরেক তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED)। তবে, হালে প্রকাশ্যে আসা কিছু তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহের দৌলতে নতুন করে ভাবতে লেগেছে সিবিআই ও ইডি। কেষ্ট-কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের (Sukanya Mondal) বিপুল সম্পত্তির খোঁজ মেলার পাশাপাশি, টেট পাশ না করেই প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষিকার চাকরি পাওয়ার ঘটনা গোটা বিষয়টিকে অন্য আঙ্গিক এনে দিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে, গরুপাচারের পাশাপাশি এসএসসি-টেট কেলেঙ্কারির সঙ্গেও অনুব্রত যোগ রয়েছে কিনা।

    ইতিমধ্যেই, গত ২৩ জুলাই এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি (SSC Recruitment Scam) মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) গ্রেফতার করে ইডি। তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের (Arpita Mukherjee) জোড়া ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে, সেখানেই থেমে থাকতে চাইছেন না ইডি আধিকারিকরা। তাঁদের নজরে রয়েছে তৃণমূলের আরও ১৯ জন হেভিওয়েট। আবার গরুপাচার মামলায় গত ১১ অগাস্ট সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন কেষ্ট মণ্ডল। সিবিআই সূত্রে দাবি, প্রভাবশালীদের কাছে গরু পাচারের টাকা নগদে পৌঁছনোর পাশাপাশি, প্রভাবশালীদের সংস্থায় ঋণ হিসেবে বিনিয়োগ করে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে।

    এখানে বলে রাখা দরকার, ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ – পরপর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচনী হলফনামা দিয়েছিলেন তৃণমূলের নেতামন্ত্রীরা। কিন্তু বেশ কয়েকজনের সম্পত্তি আচমকা বহুগুণ ফুলে ফেঁপে যাওয়ার অভিযোগে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় সম্প্রতি ইডিকে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তালিকায় ১৯ জন তৃণমূলের নেতা ও মন্ত্রীর নাম রয়েছে। তালিকায় রয়েছেন – ফিরহাদ হাকিম, মলয় ঘটক, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো নেতারা।

    আরও পড়ুন: বিনা টেটে সুকন্যার মাস্টারি কাঠগড়ায় তুলল ব্রাত্যকে!

    এখন ইডি-সিবিআই খতিয়ে দেখতে চাইছে, অনুব্রতর ফ্রিজ করা ফিক্সড ডিপোজিটগুলোয় তৃণমূলের এই ১৯ জনের মধ্যে কারও ‘বিনিয়োগ’ বা ‘ভাগ’ অথবা ‘হিস্‌সা’ লুকিয়ে আছে কিনা। কেন এমন আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা? সূত্রের খবর, এর নেপথ্যে রয়েছে অনুব্রত ইস্যুতে এই হেভিওয়েটরা ‘ভোকাল’ হয়ে উঠেছেন, তাতে জোরালো হচ্ছে সন্দেহ। কারণ, পার্থর বেলায় কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। উল্টে দলের তরফে ‘লজ্জা’ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু, কেষ্টর বেলায় পুরো ভিন্ন চিত্র। সমস্বরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের বিরুদ্ধে সরব হয় শাসক শিবির। বাদ যাননি দলের সর্বেসর্বাও। এর থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ, ক্ষমতায় আসা ইস্তক তৃণমূলের হেভিওয়েটদের সম্পত্তির ওজন লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার নেপথ্যে পাচার-যোগ থাকাটাই স্বাভাবিক।

    এখান থেকেই তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন জাগছে— অনুব্রতর ১৭ কোটির FD-তেই লুকিয়ে আরও ১৯ জনের ‘প্রাণভোমরা’? তাই কি ইডি-সিবিআইতে আপত্তি? 

  • Sukanya Mondal: টেট পাশ না করেই স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি? এবার কাঠগড়ায় কেষ্ট-কন্যা সুকন্যা

    Sukanya Mondal: টেট পাশ না করেই স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি? এবার কাঠগড়ায় কেষ্ট-কন্যা সুকন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরেশ (Paresh Adhikary)-কন্যার অঙ্কিতার (Ankita Adhikary) পর এবার অনুব্রত (Anubrata Mondal)-কন্যার বিরুদ্ধেও উঠল টেট পরীক্ষায় (Primary TET) পাশ না করে স্কুলে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ। আর এই অভিযোগ বিস্ফোরক ঘিরে জোর আলোড়ন। ২৪-ঘণ্টার মধ্যে স্কুলের রেজিস্টার আদালতে পেশ করার নির্দেশ হাইকোর্টের (Calcutta Highcourt)। 

    আয় বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ তো ছিলই, এবার কেষ্ট-কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের (Sukanya Mondal) বিরুদ্ধে উঠল টেট অনুত্তীর্ণ হয়েও চাকরি নেওয়ার অভিযোগ। বোলপুরের কালিকাপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি পেয়েছেন সুকন্যা। এদিন কলকাতা হাইকোর্টে মামলাকারী সৌমেন নন্দী অভিযোগ করেন, অনৈতিক ভাবে, টেট পাশ না করেই স্কুলের চাকরি পেয়েছেন অনুব্রত কন্যা সুকন্যা। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Ganguly) বেঞ্চে ওঠা মামলায় বুধবার অভিযোগ করা হয়েছে, সুকন্যা নাকি স্কুলেও যেতেন না। অথচ, অনুব্রতর বাড়িতে পৌঁছে যেত হাজিরার রেজিস্ট্রার। 

    আরও পড়ুন: স্কুলে চাকরি করেই কয়েক’শ কোটির সম্পত্তি সুকন্যার! কী করে? উত্তরের খোঁজে সিবিআই

    মামলাকারীর আরও অভিযোগ, শুধু সুকন্যাই নয়, চাকরি পেয়েছেন অনুব্রতর আরও ৫ আত্মীয়। আদালতে মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম দাবি করেন, সুকন্যার মতো স্কুলে চাকরি পেয়েছেন অনুব্রতর আপ্ত সহায়ক অর্ক দত্তও। চাকরি পেয়েছেন অনুব্রতর ভাই, ভাইপো, ছাড়াও ২ ঘনিষ্ঠ। শুনানির শেষে আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ৩ টার মধ্যে সুকন্যা সহ ৬ জনকে টেট সার্টিফিকেট নিয়ে হাজিরার নির্দেশ দেয় আদালত। একইসঙ্গে, কালকের মধ্যে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে রেজিস্টার নিয়ে হাজিরার নির্দেশ দেন বিচারপতি। হাজিরা না দিলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশ যাতে কার্যকর করা হয়, তা নিশ্চিত করতে বীরভূমের পুলিশ সুপারকে আদালতের রায় জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    এমনিতেই স্কুল শিক্ষিকা হয়ে কী করে কয়েক’শ কোটি টাকার সম্পত্তি করলেন সুকন্যা, তার উৎস খুঁজতে তৎপর হয়েছে সিবিআই। তদন্তকারীদের অনুমান, গরুপাচারের টাকা দিয়েই এই বিপুল সম্পত্তি কেনা হয়ে থাকতে পারে। যে উত্তর খুঁজতে এদিন সকালে, বোলপুরের নিচুপট্টিতে অনুব্রতর বাড়িতে সুকন্যাকে জেরা করতে পৌঁছ গিয়েছিল সিবিআই। কিন্তু, সুকন্যার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, মা বেঁচে নেই, বাবা হেফাজতে। তিনি বাড়িতে একা রয়েছেন। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাই এমতাবস্থায় তিনি কথা বলতে চান না। 

    আরও পড়ুন: গরু পাচারের ৪২ ঘাটে যুক্ত ৬২ আইসি-ওসি এবার সিবিআইয়ের আতসকাচে

LinkedIn
Share