মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে দলের নেতা কর্মীরা সরব হয়েছিলেন। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। প্রার্থী বদল করে আরামবাগে (Arambagh) তৃণমূল আসন ধরে রাখার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে। প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আঁচ মিটতে না মিটতেই তৃণমূলের আসল চেহারা ফের প্রকাশ্যে চলে এল। দলেরই কর্মীরা তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। দল করে ঘরছাড়া হতে হয়েছে। স্বজনহারা হতে হয়েছে। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও মেলেনি কিছুই। আর তাতেই ক্ষোভ ফুঁসছেন তৃণমূলের শহিদ পরিবারের সদস্যরা। আর তৃণমূলের শীর্ষনেতা সুব্রত বক্সির সামনেই তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছেন দলের শহিদ পরিবার। আর ভোটের মুখে এই ঘটনায় বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে শাসক দল।
সুব্রত বক্সির সামনেই বিক্ষোভ (Arambagh)
শনিবার আরামবাগে (Arambagh) এসেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মিতালী বাগ ও তৃণমূলের শীর্ষনেতা সুব্রত বক্সি। আর তাঁকে দেখে দরজার বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়েন গোঘাটের ছয় শহিদ পরিবারের লোকজন। ব্যাপক চিৎকার চেঁচামেচি করেন তাঁরা। অভিযোগ, তাঁদের কথা কেউ শোনেননি। তাঁদের ভিতরেও যেতে দেওয়া হয়নি। প্রতিশ্রুতি মতো এই ছয় পরিবারের কাউকেই চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অথচ তাঁদের বলা হয়েছে চাকরি হয়ে গিয়েছে। বিক্ষোভরত এক ব্যক্তি বলেন, “২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছে। ২০২৪ সাল হয়ে গেল দল দেখে না। আমাদের ১০টাকা দিয়েও দল সাহায্য করেনি। আমরা কী অপরাধ করেছি।” তবে তৃণমূল মুখপাত্র শান্তনু সেন বলেন, “শহিদ পরিবারগুলির সঙ্গে সুব্রত বক্সি কথা বলেছেন। তাই তিনি বলার পর আমি আর কিছু বলব না।”
ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল?
বস্তুত, সালটা ২০০৬। অভিযোগ, তৎকালীন বাম আমলে সিপিএমের দ্বারা অত্যাচারিত হয়, এই ছয় পরিবারের লোকজন। দল করতে গিয়ে শহিদ হয়েছে। বিগত বারো বছর ধরে ঘর ছাড়া ছিলেন তাঁরা। বার বার তৃণমূলের ওপরমহলে গিয়েও কোনও সুবিচার পাননি বলে দাবি ওই সকল পরিবারগুলির। শনিবার দুপুরে আরামবাগের (Arambagh) রবীন্দ্র ভবনে পৌঁছন সুব্রত বক্সি। এরপরই এই ছয় পরিবারের লোকজন সোজা হাজির হয়ে যান। কিন্তু, তাঁদের ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। কেউ কোনও কথা শুনতে চাননি। এরপরই তাঁরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Whatsapp, Facebook, Twitter, Telegram এবং Google News পেজ।