Tag: Archaeological Survey of India

Archaeological Survey of India

  • ASI Probe: সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল ২০ ফুট গভীর পুরনো কাঠামো, মন্দিরের অবশেষ নয়তো?

    ASI Probe: সাহারানপুরে মসজিদ ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল ২০ ফুট গভীর পুরনো কাঠামো, মন্দিরের অবশেষ নয়তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে মসজিদ (Saharanpur Mosque) ভাঙার পর মাটির নীচে মিলল প্রায় ২০ ফুট গভীর একটি পুরনো কাঠামো। প্রত্নতাত্ত্বিকদের (ASI Probe) প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেটি পুরনো কুয়োর মতো বলে মনে করা হচ্ছে। কাঠামোটিতে ব্যবহৃত হয়েছে লখৌরি ইট, চুন-সুরকি ও চুন। ফলে এর বয়স, নির্মাণের উদ্দেশ্য এবং ওই এলাকার অতীত ইতিহাস নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগ কাঠামোটির সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থাপনার সম্পর্কের কথা নিশ্চিত করেনি।

    ৬ সেপ্টেম্বর এই কাঠামোটির সন্ধান মেলে। তার এক দিন আগে, ৫ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশের পর সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ভাঙার পর ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলাকালীন শ্রমিকদের নজরে আসে মাটির নীচে থাকা একটি শক্ত পাটাতনের মতো অংশ। সেটি কেটে সরানোর পর নীচে একটি গভীর কাঠামো চোখে পড়ে।

    প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তের উদ্যোগ (ASI Probe)

    বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই এলাকাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। জোরদার করা হয় নিরাপত্তা, মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। কাঠামোটির প্রকৃতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রত্নতাত্ত্বিক তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    ৭ সেপ্টেম্বর লখনউ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগের সহকারী প্রত্নতাত্ত্বিক আধিকারিক মনোজ কুমার যাদব ঘটনাস্থলে পৌঁছন। একটি মই ব্যবহার করে তিনি মাটির নীচে থাকা কাঠামোটির ভিতরে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তিনি ভিতরের অংশ, নির্মাণপ্রণালী এবং কাঠামোটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য খতিয়ে দেখেন।

    প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কাঠামোটিকে পুরনো কুয়োর মতো মনে হয়েছে। তবে আধিকারিকেরা এখনও চূড়ান্তভাবে একে কুয়ো বলে ঘোষণা করেননি। কারণ কাঠামোটির ভিতরে যথেষ্ট পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে রয়েছে। সেই ধ্বংসাবশেষ সম্পূর্ণভাবে সরানোর পরই এর প্রকৃতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

    প্রত্নতাত্ত্বিক কাঠামো

    প্রাথমিক প্রত্নতাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী, কাঠামোটির গভীরতা প্রায় ২০ ফুট এবং ব্যাস প্রায় ৩ ফুট। নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে লখৌরি ইট। উত্তর ভারতে মধ্যযুগের শেষভাগ এবং প্রারম্ভিক আধুনিক যুগের বহু স্থাপনায় এই ধরনের পাতলা ইট ব্যবহারের নজির রয়েছে। কাঠামোটির ভিতরে চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি গাঁথুনি এবং চুনের প্রলেপের চিহ্নও দেখা গিয়েছে।

    নির্মাণের ধরন দেখে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আপাতত এটিকে পরবর্তী মধ্যযুগীয় সময়ের সঙ্গে যুক্ত করছেন। কিছু প্রাথমিক মূল্যায়নে কাঠামোটির বয়স ২০০ থেকে ২৫০ বছর হতে পারে বলে অনুমান। তবে এই বয়স এখনও নিশ্চিত নয়। ইটের মাপ, গাঁথুনির ধরন, চুনের প্রলেপ, মাটির স্তর এবং আশপাশের অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পরীক্ষা করার পরেই কাঠামোটির প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব হবে (ASI Probe)।

    এই আবিষ্কারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ কাঠামোটি মসজিদের নীচে এতদিন সম্পূর্ণভাবে আড়ালে ছিল। মসজিদটি ভেঙে ধ্বংসাবশেষ সরানোর পরই সেটি প্রকাশ্যে আসে। ফলে মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় কী ছিল, সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।

    হিন্দু ধর্মীয় কোনও স্থাপনা!

    ইতিমধ্যেই দাবি উঠেছে, মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় হিন্দু ধর্মীয় কোনও স্থাপনা বা মন্দির থাকতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে এখনও কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগও এখনও কাঠামোটিকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করেনি। ফলে মন্দির থাকার দাবি এবং মাটির নীচে পাওয়া কাঠামোর মধ্যে সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয় (Saharanpur Mosque)।

    কাঠামোটি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা প্রাক্তন বজরং দলের আহ্বায়ক বিকাশ ত্যাগীর দাবি, মসজিদ নির্মাণের আগে ওই জায়গায় একটি মন্দির থাকতে পারে। নতুন কাঠামো আবিষ্কারের পর তাঁর সেই দাবি আবার আলোচনায় এসেছে। তবে প্রশাসন বা প্রত্নতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষের তদন্তে এখনও ওই দাবির সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে কাঠামোটিকে ঘিরে থাকা মাটির বিভিন্ন স্তর। মাটির স্তর বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করা হবে, কাঠামোটি কখন নির্মিত হয়েছিল, কতদিন ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কখন সেটি পরিত্যক্ত হয়। পরে সেটি মাটির নীচে চাপা পড়েছিল কি না, কিংবা পরবর্তী সময়ে তার উপর কোনও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে (ASI Probe)।

    যে বিষয়টি ভাবাচ্ছে প্রত্নতাত্ত্বিকদের

    প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আরও জানতে চাইছেন, কাঠামোটি আদৌ একটি স্বতন্ত্র জলাধার বা কুয়ো হিসেবে নির্মিত হয়েছিল কি না। এটি কোনও পুরনো বসতির অংশ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। আশপাশের মাটিতে পুরনো নির্মাণের চিহ্ন, ইট, গাঁথুনি বা অন্য কোনও অবশেষ পাওয়া গেলে কাঠামোটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

    কাঠামোটির নির্মাণপ্রণালীও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লখৌরি ইট, চুন-সুরকি এবং চুনের প্রলেপ কোন সময়ের নির্মাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ইটের আকার ও বিন্যাসের সঙ্গে ওই অঞ্চলের পুরনো স্থাপত্যের তুলনাও করা হতে পারে। এই ধরনের তথ্য কাঠামোটির আনুমানিক বয়স নির্ধারণে সাহায্য করবে।

    সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে থাকা মসজিদটিকে সরকারি জমিতে নির্মিত অননুমোদিত কাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন শহরের ম্যাজিস্ট্রেট। মসজিদ পরিচালন কমিটি সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। পরে জেলা আদালত তাদের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ৫ সেপ্টেম্বর মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে (ASI Probe)।

    ইতিহাস নিয়ে বিতর্কে নয়া মাত্রা

    এই জমি দখল এবং সরকারি জমি ব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শহরের ম্যাজিস্ট্রেট প্রায় ৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এখন মাটির নীচে পাওয়া নতুন কাঠামো ওই জায়গার ইতিহাস নিয়ে বিতর্কে আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে (Saharanpur Mosque)।

    মসজিদ ভেঙে ফেলার পর যে জায়গাটি প্রথমে শুধুমাত্র একটি ধ্বংসস্থল বলে মনে হচ্ছিল, নতুন আবিষ্কারের ফলে সেটিই এখন সম্ভাব্য প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। কাঠামোটি শেষ পর্যন্ত শুধুই একটি পুরনো কুয়ো হিসেবে চিহ্নিত হয়, নাকি কোনও বৃহত্তর ঐতিহাসিক স্থাপত্য বা পুরনো বসতির অংশ হিসেবে সামনে আসে, তা জানা যাবে তদন্ত শেষ হওয়ার পরেই (ASI Probe)।

     

  • ASI: প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে একসঙ্গে কাজ করবে এএসআই ও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি

    ASI: প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে একসঙ্গে কাজ করবে এএসআই ও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হয়ে চলা পুরাতত্ত্ব খনন প্রকল্পগুলির কিছুটা অংশ রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (এএসআই)। আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পগুলির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এএসআই-এর কর্মী ও সম্পদের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

    কীভাবে চলবে কাজ

    এই নয়া উদ্যোগের ফলে, বড় প্রকল্পগুলি সরাসরি এএসআই পরিচালনা করবে। কিন্তু ছোট ও নির্দিষ্ট সাইটের খননকার্য পরিচালনার জন্য রাজ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সহায়তা নেওয়া হবে। যদিও প্রকল্পগুলোর তত্ত্বাবধান এএসআই-ই করবে, এবং এএসআই-এর নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রকল্পগুলির জন্য পুরো খরচও এএসআই বহন করবে। এএসআই কোনও গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বা জটিল পরিস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এএসআই ভারতের সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যকে আরও ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান ও সংরক্ষণ করতে চায়।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    ২০২২-২৩ সালে এএসআই ৩১টি খনন স্থানের অনুমোদন দিয়েছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্থানের মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার রাখিগড়ি, দিল্লির পুরানা কিলা, এবং গোয়ার সেন্ট অগাস্টিন চার্চ। তবে কর্মী ও অর্থের অভাবে অনেক প্রকল্প এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি। যদিও কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রক থেকে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা পায় এএসআই, তার অল্প অংশই খনন কাজের জন্য বরাদ্দ করা হয়। অধিকাংশ অর্থ অন্যান্য কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়, ফলে খনন কার্যক্রমের বাজেট অপূর্ণ থেকে যায়। এই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য এএসআই রাজ্য প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    আরও পড়ুন: রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি! অস্থিরতার জেরে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে বাংলাদেশ

    কোথায় কোথায় খনন কার্য

    ভবিষ্যতে গুজরাটের দ্বারকা এবং তামিলনাড়ুর কাবেরী অববাহিকার মতো পুরাণে উল্লেখিত ডুবে যাওয়া শহরগুলিতে খনন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, মহারাষ্ট্র ও ওড়িশার উপকূলে জলতাত্ত্বিক গবেষণা পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে ভারতের সমুদ্রের ইতিহাসও আবিষ্কৃত হবে। এই বছর, এএসআই খনন প্রকল্পগুলিতে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করছে, যা আগামী বছরে ২০ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে খনন কার্যক্রমের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের লক্ষ্য রয়েছে। এই উদ্যোগ ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা প্রত্নতাত্ত্বিকদের।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Vadnagar: মোদির হোম টাউন ভাদনগরে মিলল ২৮০০ বছরের পুরাতন সভ্যতার নিদর্শন

    Vadnagar: মোদির হোম টাউন ভাদনগরে মিলল ২৮০০ বছরের পুরাতন সভ্যতার নিদর্শন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৮০০ বছরের পুরাতন সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হোম টাউন ভাদনগরে (Vadnagar)। একাধিক স্থানে এএসআই খনন কার্য চালিয়ে এই বহু পুরাতন বসতির সন্ধান পেয়েছে। শহরে নানা সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মেল বন্ধনের নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। বৌদ্ধ, জৈন এবং হিন্দু ধর্মের নানান সাংস্কৃতিক সূত্রের ঐতিহাসিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। হরপ্পা সভ্যতার শেষ পর্যায়ের সময়কার নিদর্শন বলে মনে করা হচ্ছে।

    খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ বছরের পুরাতন একটি সভ্যতা (Vadnagar)

    আইআইটি খড়গপুর, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই), ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি (পিআরএল), জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি (জেএনইউ) এবং ডেকান কলেজের বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে ২০১৬ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত খননকার্য চালিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। এরপর তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, গুজরাটের ভাদনগরের (Vadnagar) সভ্যতা হল খ্রিস্টীয় যুগের অনেক আগের সভ্যতার নিদর্শন। খনন কাজের ফলে প্রাপ্ত উপাদান থেকে গবেষণায় জানা গেয়েছে, এখানে একটি সুপ্রচীন জনবসতি ছিল। আনুমানিক প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ বছরের পুরাতন একটি সভ্যতা এখানে ছিল। গবেষকরা অনুমান করছেন, এই সভ্যতার উপর বিভিন্ন সময়ের উত্থান পতনের ক্ষেত্রে মধ্য এশিয়ায় বারংবার আক্রমণের একটি প্রভাব পড়ে থাকতে পারে। এছাড়াও প্রাকৃতিক ভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন, বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা ইত্যাদির প্রভাব পড়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কী জানালেন বিশেষজ্ঞরা

    ভাদনগরে (Vadnagar) খনন কাজের ফলে পাওয়া নিদর্শন সম্পর্কে খড়গপুর আইআইটির ভূতত্ত্ব এবং ভূ-পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ডঃ অনিন্দ্য সরকার বলেছেন, “আমরা গত ৪-৫ বছর ধরে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে ভাদনগরে কাজ করছি। খননের ফলে উদ্ধার হওয়া ভূমির স্তর দেখে মনে হয়, একটি খুব পুরাতন বৌদ্ধ বিহার এখানে এক সময় ছিল। বিস্তৃত ভূমির স্তরে নানান উপাদান এখানে খুঁজে পাওয়া গেছে। ২০১৬-২০২৩ সালে খনন করে ভূ-গর্ভের মোট ২০ মিটার গভীরে যাওয়া সম্ভব পর হয়েছে। খননের ফলে জানা গিয়েছে ভাদনগরের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। এখনও পর্যন্ত ভূমির মোট সাতটি সাংস্কৃতিক স্তরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত সব থেকে প্রাচীনতম স্তরটি আনুমানিক ২৮০০ বছরের পুরাতন যা ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সময়কার হতে পারে। সবটা মিলিয়ে শেষ স্তরের খনন দেখে বলা যায় আনুমানিক সাড়ে ৩ হাজার বছরের কম হবে না। এটা এক প্রকার হরপ্পা সভ্যতার শেষ সময়কালকেই ইঙ্গিত করে।” আবার এএসআই প্রত্নতত্ত্ববিদ অভিজিৎ আম্বেকর বলেছেন, “খননের ফলে চারিত্রিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, মৃৎপাত্র, তামা, সোনা, রুপো, লোহার বস্তু এবং জটিল নকশা করা চুড়িও পাওয়া গিয়েছে। আমরা ভাদনগরে ইন্দো-গ্রীক শাসনের সময় গ্রীক রাজা অ্যাপোলোডাটাসের মুদ্রার ছাঁচও পেয়েছি।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Qutub Minar: আমি কুতুব মিনারের মালিক! দাবি আগ্রার রাজার স্বঘোষিত বংশধরের, পাল্টা এএসআই

    Qutub Minar: আমি কুতুব মিনারের মালিক! দাবি আগ্রার রাজার স্বঘোষিত বংশধরের, পাল্টা এএসআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবারে ফের কুতুব মিনার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কুতুব মিনারের (Qutb Minar) মালিকানা (Ownership) দাবি করে আদালতে আবেদন করেন কুনওয়ার মহেন্দ্র ধ্বজ প্রসাদ সিং (Kunwar Mahendra Dhwaj Prasad Singh) নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে দিল্লির বেশওয়ান (Beswan) বংশধর বলে দাবি করেছেন। আদালতে (Court) করা আবেদনে ওই ব্যক্তি বলেছেন, জমি ও কুতুব কমপ্লেক্স সিং পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। সেই কারণে কুতুব মিনারের আশপাশের জমি সম্পর্কে কোনও আদেশ কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। যদিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)।

    অন্যদিকে হিন্দু ও জৈন আবেদনকারীরা কুতুব মিনার কমপ্লেক্সের অন্তর্গত মন্দির পুনরুদ্ধার করার দাবি করতে আদালতে গিয়েছিলেন। এরই মধ্যে আরও এক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তারা জানিয়েছে, জমির মালিক হিসেবে দাবি করার সঙ্গে তাঁদের মামলার কোনও যোগ নেই। এটি সরকারের সঙ্গে মালিকের ব্যাপার। তবে ১০০ বছর ধরে যারা কোনও দাবি করেননি তারা এখন কী করে দাবি করতে পারে। তবে এই ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

    আরও পড়ুন: হিন্দু মন্দিরের ওপরই গড়ে তোলা হয়েছিল কুতুব মিনার! প্রমাণ এএসআই রিপোর্টে

    এএসআই-এর তরফে আইনজীবী সুভাষ গুপ্তা বলেছেন, কুনওয়ার মহেন্দ্র ধোয়াজ সিং ১০০ কিমি বিস্তৃত জমির মালিকানা দাবি করেছেন, কিন্তু গত ১৫০ বছরে এই সংক্রান্ত কোনও দাবি ওঠেনি। কীভাবে এই দাবি এখন ওঠে? কুমার সিং-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এএসআই বলেছে, এটির কোনও ভিত্তি নেই। তাই এটি তারা মেনে নিতে পারবে না।

    মহেন্দ্র সিং-এর আইনজীবী এম এল শর্মা দাবি করেন, মহেন্দ্র সিং, রাজা রোহিণী রমন ধ্বজের বংশধর ও রাজা নন্দ রামের উত্তরাধিকারী। ১৯৪৭ সালে তাঁর পূর্বপুরুষ রাজা রোহিণী রমন ধ্বজ প্রসাদের সময়ে ভারত স্বাধীন হয়েছিল। যদিও তাঁদের বিভিন্ন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে এএসআই। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া ও হিন্দু আবেদনকারীর মধ্যে কুতুব মিনারের নতুন আবেদনকারী আসাতে নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছে। যদিও এএসআই ও হিন্দু আবেদনকারী উভয় পক্ষই কুমার সিং-এর দাবির বিরোধিতা করেছে।

    সুপ্রিম কোর্ট কুতুব মিনার নিয়ে আগের বিতর্ক ও এই নতুন মামলার পরবর্তী শুনানি করবে ১৩ সেপ্টেম্বর।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।  

     
LinkedIn
Share