Tag: Army Chief

  • Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮, বানের জলে ভাসল হাজার হাজার পশু, জলমগ্ন ৫৫১ গ্রাম

    Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮, বানের জলে ভাসল হাজার হাজার পশু, জলমগ্ন ৫৫১ গ্রাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮-এ পৌঁছল।  বুধবার শিবসাগর ও গোলাঘাট জেলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে রাজ্যের সাতটি জেলায় এখনও পর্যন্ত বন্যায় (Assam Floods) ক্ষতিগ্রস্ত তিন লাখেরও বেশি মানুষ। সর্বশেষ সরকারি বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে (Rain Alert)। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নতুন করে মৃতদের মধ্যে দু’জন শিবসাগরের এবং একজন গোলাঘাটের বাসিন্দা। এর ফলে চলতি বছরে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ মহানগর—এই সাত জেলায় মোট ৩,০০,০৩১ জন এখনও বন্যার কবলে রয়েছেন।

    বন্যার কবলে (Assam Floods)

    বন্যার জলে এখনও ২১টি রাজস্ব চক্র এবং ৫৫১টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। ২১,৫২৩.০৮ হেক্টর কৃষিজমি জলের তলায়। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ চরাইদেও জেলায়—১,৩৭,৫৬১ জন। এরপর রয়েছে শিবসাগর, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৪,৬০০, এবং যোরহাটে ৪৯,৯১১ জন। মঙ্গলবার ছ’টি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৩.৩২ লাখ। ফলে বুধবার আরও একটি জেলা বন্যার কবলে এলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘরছাড়া ১৬,৫০০-রও বেশি মানুষ ৭১টি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। আরও ৭২,০০০-এরও বেশি মানুষকে ৩০টি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চিকিৎসা ও পশুচিকিৎসা দল এবং একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন্যায় বাঁধ, রাস্তা, বাড়িঘর, স্কুল-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ১১,০০০-এরও বেশি পশু বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে, আরও প্রায় ১৭,০০০ গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর জল উপচে পড়ার পাশাপাশি কামরূপ মহানগর জেলায়ও বন্যা অব্যাহত রয়েছে। সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী, কামরূপ মহানগরের তিনটি রাজস্ব চক্র এবং ১০টি এলাকা বা ওয়ার্ড এখনও ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে রয়েছে পদুমবাড়ি, বোরাগাঁও, এক্সেলকেয়ার হাসপাতাল এলাকা, লাচিত নগর, চিড়িয়াখানা রোড, রুক্মিণীগাঁও, অনিল নগর, নবীন নগর, সাতগাঁও, বেহারবাড়ি, হাতিগাঁও, ওয়্যারলেস, জোরাবাট এবং জুবিন ক্ষেত্রের কাছে কামারকুচি। তবে সরকারি বুলেটিনে বলা হয়েছে, বন্যার কারণে শহরে কোনও জনসংখ্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা, তার পরিসংখ্যান মেলেনি।

    হিমন্ত-অমিত কথা

    বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কথা বলে বন্যা (Assam Floods) পরিস্থিতি এবং ত্রাণকার্যের বিষয়ে আলোচনা করেন। সাত দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার দু’জনের মধ্যে কথা হল। এর আগে ২৩ জুলাই শাহ অসমের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছিলেন। কথোপকথনের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন এবং ত্রাণ, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কেন্দ্রের সব সংস্থা ও সম্পদ অসমের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান। বিজেপি কর্মীদের সংগ্রহ করা ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর কর্মসূচির সূচনা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২১ জুলাইয়ের পর ভারী বৃষ্টি হয়নি এবং বন্যার জলও কমেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এখনও অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বলেন, “বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি এতটাই ব্যাপক যে বহু মানুষ এখনও নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। কারও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবার বাড়ি কাদা ও পলিতে ভরে গিয়েছে। নাগাল্যান্ডের পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদার কারণে কয়েকটি জায়গায় রাস্তা এখনও বন্ধ রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে বন্যাকবলিত পরিবারগুলির দুর্ভোগ কমানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার—উভয়েই এই সঙ্কট মোকাবিলায় সক্ষম। সারা দেশ থেকে অসমের জন্য অনুদান আসছে বলেও জানান তিনি। অনুদান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বন্যাকবলিতদের ঋণে বিশেষ সাহায্য

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের নির্দেশে বৃহস্পতিবার অসমে কাজ করা (Rain Alert) সমস্ত ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাকবলিত নাগরিকদের নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হবে। ২৮ ও ২৯ জুলাই পূর্বাঞ্চলে দু’দিনের সফরের সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠও অসমের বন্যায় ত্রাণকার্য পর্যালোচনা করেন (Assam Floods)। সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, সেনাপ্রধান উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামরিক প্রস্তুতি এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে চলা কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেন। দাও ডিভিশন ও স্পিয়ারহেড ডিভিশন-সহ বিভিন্ন সেনা গঠনের প্রস্তুতি পর্যালোচনার সময় তাঁকে বন্যা ত্রাণকাজের বিষয়েও অবহিত করা হয়। সঙ্কটের সময়ে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য সেনাদের প্রশংসাও করেন তিনি। ওই সফরে জেনারেল শেঠ অসম রাইফেলসের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন। তিনি ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা সেনাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইম্ফলে ১৩৫তম ইন্ডিয়ান অয়েল ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।

    ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    এদিকে, বন্যার জল কমতে শুরু করলেও, অসম-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ফের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর। ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত অসম, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তিনসুকিয়া জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নাগাল্যান্ডের মন, মোককচুং এবং ওখা জেলায়ও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর প্রভাব অসমের পার্শ্ববর্তী চরাইদেও, শিবসাগর, যোরহাট এবং গোলাঘাট জেলায় পড়তে পারে (Rain Alert)। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন করে বৃষ্টি হলে জল জমে থাকা ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি হড়পা বান, যান চলাচলে ধীরগতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থানীয়ভাবে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে (Assam Floods)। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সব জেলার প্রশাসন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা সতর্ক রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

     

  • Asim Munir: ‘‘আপনি কাপুরুষ’’! আমেরিকায় ‘স্বদেশি’দের হাতেই বিক্ষোভের মুখে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির

    Asim Munir: ‘‘আপনি কাপুরুষ’’! আমেরিকায় ‘স্বদেশি’দের হাতেই বিক্ষোভের মুখে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশে গিয়েও রক্ষে নেই পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনিরের (Asim Munir)। পাঁচ দিনের আমেরিকা সফরে গিয়েছেন তিনি। উঠেছেন ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে। সেখানে হাজির হন পাকিস্তানের নাগরিক এবং পাক-বংশোদ্ভূত প্রচুর মানুষ। তাঁরা পাকিস্তানে নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে সোচ্চার হন। ওয়াশিংটনের এই বিক্ষোভের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে শোনা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘আসিম মুনির আপনি একজন কাপুরুষ। আপনি গণহত্যাকারী, ধিক্কার আপনাকে’। পরে ফের বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘ধিক্কার আপনাকে, একনায়ক এবং পাকিস্তানিদের হত্যাকারী’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে উপস্থিত সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। কারণ তাঁরা তাঁদের হোটেলের বিল্ডিংয়ে ঢুকতে বাধা দিচ্ছিলেন।

    আসিম মুনির গণহত্যাকারী (Asim Munir)

    ভাইরাল হওয়া অন্য একটি ভিডিও ফুটেজে একটি মোবাইল ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড দেখা গিয়েছে। বিল্ডিংয়ের সামনে পার্ক করে রাখা ওই বিলবোর্ডে লেখা, ‘আসিম মুনির (Asim Munir), গণহত্যাকারী’ এবং ‘যখন বন্দুক কথা বলে, তখন গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়’। জানা গিয়েছে, যাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন, তাঁরা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সমর্থক। এঁরা বরাবরই বর্তমান পাক সরকারের বিরোধিতা করে আসছেন। মুনিরের সফর সরকারিভাবে ঘোষণার আগেই ওয়াশিংটনে পাকিস্তানি দূতাবাসের বাইরে প্রতিবাদ জানিয়েছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল।

    ওয়াশিংটনে মুনির

    রবিবার ওয়াশিংটনে পৌঁছন মুনির। উদ্দেশ্য, আমেরিকার সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা। ‘প্রাথমিকভাবে দ্বিপাক্ষিক প্রকৃতি’র এই সফর ১৪ জুন মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। কারণ ওই দিন মুনির ওয়াশিংটনে গেলেও যোগ দেননি মিলিটারি প্যারেডের অনুষ্ঠানে। অবশ্য জল্পনা ছড়িয়েছিল শনিবার ওয়াশিংটনে মিলিটারি প্যারেডে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শালকে। যদিও সেই দাবি খারিজ করে দেয় হোয়াইট হাউস।

    প্রসঙ্গত, পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পরে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারত। ভারতের ওই অভিযানে কার্যত ল্যাজেগোবরে দশা হয় পাকিস্তানের। তা সত্ত্বেও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে প্রমোশন দেয় শাহবাজ শরিফের সরকার (Pakistan)। তাঁকে উন্নীত করা হয় পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক পদ ফিল্ড মার্শাল পদে (Asim Munir)।

  • Bangladesh: ক্ষমতার লোভে পদ ছাড়তে চাইছেন না ইউনূস! সরানোর উদ্যোগ শুরু বাংলাদেশের সেনার?

    Bangladesh: ক্ষমতার লোভে পদ ছাড়তে চাইছেন না ইউনূস! সরানোর উদ্যোগ শুরু বাংলাদেশের সেনার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নানা ছুতোয় দেশে সাধারণ নির্বাচন না করিয়ে দিব্যি ক্ষমতায় বসে রয়েছেন বাংলাদেশের (Bangladesh) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)! সূত্রের খবর, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সম্ভাব্য সব বিকল্প পথের সন্ধান করছেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। ইউনূসের অনুগামীরা জানিয়েছেন, দেশে সাধারণ নির্বাচন হবে আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে। তবে ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি নন সেনাপ্রধান। তিনি চান, নির্বাচন সম্পন্ন হোক চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই। সূত্রের খবর, সেনা প্রধান বিভিন্ন বিকল্পের সন্ধান করছেন, যাতে সংবিধানের ফোকর গলে চ্যালেঞ্জ করা যায় ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে।

    বাংলাদেশের সংবিধান (Bangladesh)

    বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোনও সরকার ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া বাধ্যতামূলক। সূত্রের খবর, সেনাপ্রধান পরিকল্পনা করেছেন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার দলগুলিকে একত্রিত করে নির্বাচন হোক। দেশের এই দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে থেকে একটিকে বেছে নিক বাংলাদেশবাসী। ইউনূসের কাছ থেকে ক্ষমতার রশি হস্তান্তর নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি একটি ‘সফট টেকওভার’ করতে পারেন। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী মনে করে নির্বাচনে দেরি করার অর্থ সাংবিধানিক রীতিনীতি লঙ্ঘন। এজন্য রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবউদ্দিনকে দেশে জরুরি অবস্থা জারির জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাতিল!

    এই জরুরি অবস্থায় রাষ্ট্রপতির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাতিল করে দ্রুত নির্বাচন করার জন্য চাপ সৃষ্টিও করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের (Bangladesh) সংবিধানের ৫৮ নম্বর অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতিকে জরুরি ক্ষমতা গ্রহণের অধিকার দেয় তখনই, যখন দেশে সাংবিধানিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ে। জানা গিয়েছে, সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতিকে এই ধারা প্রয়োগ করে ইউনূসের কর্তৃত্ব উপেক্ষা করার জন্য চাপ দিচ্ছে। সেনাপ্রধান এখন সামরিক ঐক্য রক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার দিকে মনোনিবেশ করছেন। তিনি ইতিমধ্যেই নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সমর্থন আদায় করে তার প্রভাব দেখিয়ে দিয়েছেন। তিনি ইউনূসের বিরুদ্ধে (Muhammad Yunus) জনমত গড়ে তুলছেন এবং শীঘ্রই নির্বাচনের ডাক দিতে পারেন (Bangladesh)।

  • Upendra Dwivedi: ‘‘পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ আঁতাঁত রয়েছে’’, সরব সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

    Upendra Dwivedi: ‘‘পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ আঁতাঁত রয়েছে’’, সরব সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান ও চিনের আঁতাঁত নিয়ে এবার সরব হলেন দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi)। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথাই বলেন তিনি। নিজের বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, ‘‘এই দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত বড়সড় আঁতাঁত আজও রয়েছে। আমরা যদি ভার্চুয়াল ক্ষেত্রে দেখি তাহলে এই আঁতাঁত একশো শতাংশ রয়েছে। পাকিস্তান যে সমস্ত সরঞ্জাম পায় তা বেশিরভাগই চিনের তৈরি। তাই এই দুই দেশের কাছ থেকে যুদ্ধের হুমকি একটি বাস্তবতা।’’

    ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে অনুপ্রবেশ থামার কোনও লক্ষণ নেই

    এই সাক্ষাৎকারের সময় সেনাপ্রধান (Upendra Dwivedi) উপেন্দ্র দ্বিবেদীকে জিজ্ঞেস করা হয়, পাকিস্তান সম্পর্কিত নানা ইস্যু। উঠে আসে পাকিস্তানের বর্তমান সামরিক অবস্থান, ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর পরিস্থিতি এবং অনুপ্রবেশ। এর উত্তরে সেনাপ্রধান বলেন, ‘‘ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যে অনুপ্রবেশ তা থামার কোনও লক্ষণ দেখাই যাচ্ছে না কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। সন্ত্রাসবাদীদের প্রতিহত করার জন্য সবসময় ভারতের সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হয়।’’

    ২০১৮ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা কমেছে ৮৩ শতাংশ

    দেশের সেনাপ্রধান (Upendra Dwivedi) এদিন নিজের বক্তব্যে বেশ কিছু তথ্য ও পরিসংখ্যান দেন এবিষয়ে। তিনি বলেন, ‘‘ভারতীয় সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবাদ দমনে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। এবিষয়ে দেশ অনেকটা এগিয়েছে।’’ এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০১৮ সাল থেকে দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা ৮৩ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Army Chief) এদিন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নিয়োগ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘সেনাবাহিনীর সক্রিয়তার কারণে এই নিয়োগও ব্যাপকভাবে হ্রাস করতে পারা গিয়েছে। সম্প্রতি মাত্র ৪৫ জন ব্যক্তি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে।’’

    জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

    এর পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) জানান। নিজের বক্তব্যে তিনি আরও বলেন,‘‘অমরনাথ যাত্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। জম্মু-কাশ্মীর বর্তমানে সন্ত্রাসবাদ কবলিত এলাকা থেকে পর্যটনে রূপান্তরিত হয়েছে।’’ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘‘যে সমস্ত সন্ত্রাসবাদীকে গ্রেফতার করা গিয়েছে, তাদের ৬০ শতাংশই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে এভাবেই অনুপ্রবেশ ঘটায় পাকিস্তান।’’ দেশের সেনাপ্রধান নিজের বক্তব্যে আরও জানান যে, পাকিস্তান বর্তমানে আভ্যন্তরীণ সংকটে ভুগছে এবং আরও গভীরভাবে এই দেশটি ডুবে যাচ্ছে। এনিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরাও চাই পাকিস্তানের স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক। একইসঙ্গে আমরা এটাও চাই পাকিস্তান যেন সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থলে পরিণত না হয়।

    আফস্পা আইন নিয়ে কী বললেন?

    দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) বলেন, ‘‘সন্ত্রাস কবলিত জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সশস্ত্র বাহিনী এবং আফস্পা আইন বর্তমানে অপসারণ করা সম্ভব নয়।’’ এমন পরিস্থিকি কাশ্মীরে নেই বলেও জানান তিনি। ঠিক কবে এই কাজ করা যেতে পারে তা নিয়েও তিনি নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলেননি তিনি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘স্থানীয়ভাবে পুলিশ যদি অত্যন্ত কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করতে পারে তাহলে সেনাবাহিনী নিশ্চিত হলে আফস্পা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।’’ এ নিয়ে তিনি আরও বলেন,‘‘আমরা ডোডা, রাজৌরি, কিশতোয়ার প্রভৃতি অঞ্চলগুলিতে ঘুরে দেখেছি এবং নিশ্চিতভাবে বলতে পারি সেখানে সন্ত্রাসবাদ আর কখনও থাবা বসাতে পারবেনা। পর্যটকদের আকর্ষণ করানোর জন্য এই অঞ্চলগুলিকে বিশেষভাবে সাজানো হবে এবং সেখানে সমস্ত রকমের থাকার ব্যবস্থা থেকে খাওয়ার ব্যবস্থা সবকিছুই করা হবে।’’

    চিন সীমানা নিয়ে কী বললেন?

    নিজের বক্তব্য এদেশের সেনা প্রধান উল্লেখ করেন, পূর্ব-লাদাখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ডেপসাং এবং ডেমচোক। চিন সীমান্তে অবস্থিত এই দুটি অঞ্চলে সেনা প্রত্যাহারের পরে বর্তমান স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে বলেই জানিয়েছেন তিনি। চিন সীমান্তে জীবনযাপন স্বাভাবিক হয়েছে বলেও জানান সেনাপ্রধান। তাঁর মতে, স্থানীয় মানুষজন পশুপালন এলাকাগুলিতেও পশুপালন করতে পারছেন কোনও রকম সমস্যা ছাড়াই।

    অটলবিহারী বাজপেয়ীকে করলেন উদ্ধৃত

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর সম্পদের কথা বলতে গিয়ে জেনারেল দ্বিবেদী জানিয়েছেন যে একটি দেশের সামরিক বাহিনীর কাছে যত সম্পদই থাকুক না কেন! যুদ্ধের সময় সেগুলি কখনও পর্যাপ্ত নয়। যুদ্ধের পরেও কোনও জাতিকে ভবিষ্যতের যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য মোট সম্পদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মজুদ রাখতেই হবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন যে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী একবার বলেছিলেন আপনি আপনার বন্ধু পরিবর্তন করতে পারেন কিন্তু প্রতিবেশী কখনও পরিবর্তন করতে পারবেন না।

LinkedIn
Share