মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নতুন ইতিহাস গড়লেন লেফটেন্যান্ট দীক্ষা ত্রিপাঠী। তিনি কঠোর ও চ্যালেঞ্জিং আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন (AMAR) কমব্যাট কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করলেন। এই প্রথম কোনও মহিলা সেনা অফিসার এই নজির স্থাপন করেছেন। পুনের আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং (AIPT)-এ এই কঠোর প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পন্ন করেন তিনি। সেনাবাহিনীর মতে, আর্মি মার্শাল আর্টস রুটিন কোর্সটি অন্যতম কঠিন কমব্যাট প্রশিক্ষণ, যেখানে একজন সেনার শারীরিক সহনশীলতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতাকে কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়।
অসাধারণ দৃঢ়তা, অধ্যবসায়ের ফল
লাদাখভিত্তিক সেনার ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কর্পস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, “লেফটেন্যান্ট দীক্ষা ত্রিপাঠী এই কোর্সের কঠিন চ্যালেঞ্জ শুধু সহ্যই করেননি, বরং অসাধারণ দৃঢ়তা, অধ্যবসায় এবং সংকল্পের মাধ্যমে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।” এতে ধারণা করা হচ্ছে যে তিনি লাদাখ অঞ্চলে দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই কোর্সটি একটি আধুনিক ও কাঠামোবদ্ধ কমব্যাট প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, যা ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট এবং আন্তর্জাতিক কৌশলের সমন্বয়ে তৈরি। এতে খালি হাতে যুদ্ধ, অস্ত্রসহ লড়াই, স্ট্যামিনা বৃদ্ধি এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধের জন্য মানসিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
উচ্চ পার্বত্য ও প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয়
এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হল কাছাকাছি সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে সৈনিকদের দক্ষ করে তোলা, যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র সবসময় ব্যবহারযোগ্য নাও হতে পারে। এতে আক্রমণাত্মক কৌশল, অস্ত্রভিত্তিক যুদ্ধ এবং ধারালো বা তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য ও প্রতিকূল পরিবেশে যুদ্ধ করার জন্য এই কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এমন এলাকায় শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা দুটিই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে নারী শক্তি
গত কয়েক বছরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলাদের অংশগ্রহণ দ্রুত বেড়েছে। আগে যেখানে অনেক ক্ষেত্রেই মহিলাদের প্রবেশ সীমিত ছিল, এখন তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় কাজ করছেন। এর আগে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে, আর্মি মেডিক্যাল কর্পসের মেজর দীক্ষা সি. মুদুদেভান বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পরিচয়বাহী সম্মানজনক ‘বলিদান ব্যাজ’ পাওয়া প্রথম মহিলা হন। বর্তমানে ইনফ্যান্ট্রি ও আর্মার্ড কর্পস বাদে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রায় সব শাখাতেই মহিলা অফিসাররা কাজ করছেন। এছাড়াও ২০১৬ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় প্রথমবারের মতো মহিলা ফাইটার পাইলট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে একটি বড় মাইলফলক তৈরি হয়। এখন তারা রাফাল ও সুখোই-৩০-এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমান চালাচ্ছেন এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজেও দায়িত্ব পালন করছেন। লেফটেন্যান্ট দীক্ষা ত্রিপাঠীর এই সাফল্য ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
