মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোকধাম মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত পুণ্যার্থীর। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ জন। সোমবার ভোরে শ্রাবণ মাসের সোমবার উপলক্ষে মন্দিরে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়েছিল (President Droupadi Murmu)। সেই সময়ই আচমকাই ভিড়ের চাপ বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের অধিকাংশই মহিলা বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর (Temple Stampede)। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। আহত সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
শ্রাবণী সোমে ব্যাপক ভিড় (President Droupadi Murmu)
প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। শ্রাবণ মাসের সোমবার হওয়ায় ভোর থেকেই অশোকধাম মন্দিরে পুণ্যার্থীদের থিকথিকে ভিড় জমতে শুরু করেছিল। শিবের উদ্দেশে প্রার্থনা ও জলাভিষেক করতে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ মন্দিরে এসেছিলেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় পুণ্যার্থীদের একাংশ ব্যারিকেড ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভিড় চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঠেলাঠেলির চোটে আচমকাই কয়েক জন মাটিতে পড়ে যান। তাঁদের উপর দিয়েই অন্যরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মন্দির চত্বরে। ওই সময়ই স্থানীয় রেলস্টেশনে চলে আসে পর পর আরও দু’টি ট্রেন। তার জেরে মন্দিরে ভিড় আরও বেড়ে যায়। ভিড়ের চাপে মন্দির চত্বরে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে। সেই কারণেও ভয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। আহতদের কাছাকাছি বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। অশোকধাম মন্দিরটি ইন্দ্রমণেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত। লাখিসরাই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দির এটি (President Droupadi Murmu)। শ্রাবণ মাসে এই মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে সোমবারগুলিতে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে জলাভিষেক করেন ভক্তরা। সোমবারের দিনগুলিতে তাই মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় (Temple Stampede)। এবার ভিড় আরও বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার। ধর্মীয় উৎসবের আবহের সঙ্গে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম এবং রেলপথে মানুষের আগমন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রতিটি মৃত পুণ্যার্থীর পরিবারের জন্য ৪ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরের ব্যারিকেড ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরিয়ে আসার পথ, নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
অশোকধাম মন্দিরের দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি অত্যন্ত ব্যথিত। এই শোকের সময়ে আমার ভাবনা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সঙ্গে রয়েছে। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে (President Droupadi Murmu)।”
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন। এক বার্তায় নীতীশ কুমার বলেন, “লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্টের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। দুর্ঘটনায় পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর খবর আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি (Temple Stampede)।”
শোক প্রকাশ রাজনাথের
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
শ্রাবণ মাসে দেশের বিভিন্ন শিবমন্দিরে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম হয়। ফলে এই সময় মন্দিরগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অশোকধাম মন্দিরের এই দুর্ঘটনা সেই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন (Temple Stampede) ঘটনা রুখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, এখন সেদিকেই নজর সকলের (President Droupadi Murmu)।
