Tag: Asian Games recurve gold

  • Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের ১৩তম দিনটি ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে স্মরণীয় হয়ে থাকল। একদিনেই ৬টি সোনা, ২টি রুপো এবং ২টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ১০টি পদক জিতে নিল ভারত। তিরন্দাজি, বক্সিং, কুস্তি এবং হকিতে একের পর এক সাফল্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতের পদক তালিকা। দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এল ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে—৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) সোনা জিতে তারা সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে জায়গা নিশ্চিত করল। শেষে মহিলা হকি দলের ১-০ ব্যবধানে চিনকে হারানো সেই দিনকে আরও স্মরণীয় করে তুলল। চলতি এশিয়ান গেমসে ১৬টি সোনা হল ভারতের।

    ৪৪ বছর পর মহিলা হকিতে এশিয়ান গেমস সোনা

    দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে। গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ফাইনালে চিনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে মহিলা হকির সোনা জেতে ভারত। ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেন লালরেমসিয়ামি। তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে। এই সোনার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় অলিম্পিক্সের টিকিট নিশ্চিত হওয়ায়। এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ভারত সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ১৯৮২ সালে প্রথম এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতেছিল ভারত। তার পর এ বারই সোনা জিতল তারা। ম্যাচের আগে সম্মান জানানো হয় লালরেমসিয়ামিকে। তিনি ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন গোল করে। তাঁর একমাত্র গোলেই ভারত এশিয়াডে সোনা জিতল দীর্ঘ দিন পর। গত অলিম্পিক্সে রুপো পেয়েছিল চিন। মহিলাদের হকিতে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী দল। এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে তারা। বার বার ঢুকে পড়তে থাকে ভারতের ডি বক্সে। তবে খেলার বিপরীতে গিয়ে প্রথম কোয়ার্টারেই এগিয়ে যায় ভারত। চিনের ডি বক্সে বল পেয়েছিল ভারত। বৃত্তের মধ্যে থেকে লালরেমসিয়ামির শট গোলে ঢুকে যায়। লেখা হয়ে যায় ইতিহাস।

    জন্মদিনে সোনার মুকুট লাভলিনার

    নিজের জন্মদিনেই সোনা জিতে নিলেন ভারতীয় বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁই। মহিলা ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের বাও জিই-কে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। এই সাফল্যের ফলে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হলেন লাভলিনা। এর আগে ২০১৪ সালে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন এমসি মেরি কম। আগের এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন লাভলিনা। এবার সেই রুপোকে সোনায় বদলে দিলেন তিনি। জয়ী হওয়ার পর লাভলিনা বলেন, “আমি খুব ভালো অনুভব করছি। ভেবেছিলাম জন্মদিনে নিজেকেই সোনার পদক উপহার দিতে হবে। এক মুহূর্তের জন্যও হারার কথা মাথায় আসেনি। লড়াইটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি সব সময় ভেবেছি যে আমাকে জিততেই হবে।”

    প্রত্যাবর্তনের পর পারভিন হুডার সোনা

    বক্সিংয়ে ভারতের দ্বিতীয় সোনা আসে পারভিন হুডার হাত ধরে। মহিলা ৬৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনা তাইপেইয়ের চেন নিয়েন-চিনকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন পারভিন। চেন নিয়েন-চিন প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী। তাঁর বিরুদ্ধে এই জয় তাই পারভীনের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসেও নাম লেখালেন পারভীন। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা ভারতীয় মহিলা বক্সারদের তালিকায় তিনি তৃতীয়। এর আগে ২০১৪ সালে মেরি কম এবং এদিনই লভলিনা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

    মহিলা রিকার্ভ দলগত তিরন্দাজিতে ঐতিহাসিক সোনা

    দিনের শুরুতেই ইতিহাস গড়ে ভারত। মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতে অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা এবং ১৭ বছরের কুমকুম মহোদের দল। কঠিন আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের মধ্যেও ভারতীয় তিরন্দাজরা অসাধারণ সংযম দেখান। সেমিফাইনালে চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ভারত। এরপর কুমকুম মহোদ ধীরজ বোম্মাদেভারার সঙ্গে মিশ্র রিকার্ভ দলগত ইভেন্টেও ফাইনালে পৌঁছন। এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে প্রথমবার ফাইনালে ওঠে ভারত। তবে ফাইনালে চিনের কাছে ৩-৫ ব্যবধানে হেরে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

    সুজিতের অবিশ্বাস্য কামব্যাক

    কুস্তির ম্যাটেও দেখা গেল নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। পুরুষদের ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগের ফাইনালে তাজিকিস্তানের আবদুলমজিদ কুদিয়েভের বিরুদ্ধে একসময় ২-৯ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন সুজিত কালকাল। ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে দুর্দান্ত আক্রমণে ফিরে আসেন ভারতীয় কুস্তিগির। শেষদিকে একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০-৯ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। সেমিফাইনালেও বড় চমক দিয়েছিলেন সুজিত। জাপানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোটারো কিয়োকাওয়াকে ৩-৩ ব্যবধানে আটকে দিয়ে ক্রাইটেরিয়ায় ফাইনালে ওঠেন তিনি।

    ২০১৮-এর পর পুরুষ বক্সিংয়ে আবার সোনা

    ভারতের তৃতীয় বক্সিং সোনা আসে পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে। আনকুশ পাংহাল জিতে নেন এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব। এই সাফল্যের মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর প্রথমবার কোনও ভারতীয় পুরুষ বক্সার এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলেন। ফলে একই দিনে লাভলিনা, পারভিন এবং আনকুশ—তিন ভারতীয় বক্সারের হাত ধরে তিনটি সোনা আসে।

     

     

     

     

  • Asian Games 2026: ৪৪ বছরের কোরীয় আধিপত্যের অবসান! এশিয়ান গেমসে রিকার্ভে ঐতিহাসিক সোনা ভারতের

    Asian Games 2026: ৪৪ বছরের কোরীয় আধিপত্যের অবসান! এশিয়ান গেমসে রিকার্ভে ঐতিহাসিক সোনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রিকার্ভ আর্চারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৪ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মহিলা দল। এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতলেন অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা ও কুমকুম মহোড। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের এই জয় নিঃসন্দেহে দেশের রিকার্ভ আর্চারির (Asian Games Recurve Gold) এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফাইনালের আগে কোরিয়াকেই স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির অন্যতম সদস্য ছিলেন বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে থাকা কাং চায়ে-ইয়ং। রিকার্ভ ইভেন্টে দীর্ঘদিন ধরেই কোরিয়ার দাপট। কিন্তু প্রতিপক্ষের খ্যাতি বা র‍্যাঙ্কিং নিয়ে মাথা ঘামাননি ভারতের তিন তিরন্দাজ।

    চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে

    সেমিফাইনালেই নিজেদের আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিয়েছিল ভারত। চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে অঙ্কিতা-কীর্তি-কুমকুমের দল। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নাগোয়ার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনজনের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। চিনের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কীর্তির নিখুঁত ১০ পয়েন্টের শট ভারতকে এগিয়ে দেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় সেটের শেষ তিরে তাঁর ১০ পয়েন্ট ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শেষ সেটেও প্রয়োজনের সময় নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি। এরপর ফাইনালে সামনে ছিল শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া। শুরু থেকেই কাং, লি এবং ওহ ই-জিনের কোরীয় দল চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু ভারতীয় দলও একটুও পিছিয়ে যায়নি। প্রথম সেটে কোরিয়া ৫৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করলে ভারতও একই স্কোর করে। দ্বিতীয় সেটে কোরিয়ার ৫৬ পয়েন্টের জবাবেও ৫৬-ই করে ভারত। ফলে দুই সেটের পর স্কোর দাঁড়ায় ২-২। তৃতীয় সেটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। কোরিয়ার ছয়টি তিরের মধ্যে চারটিই ৮ পয়েন্টে গিয়ে লাগে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত ৫৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং সেট জিতে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। চতুর্থ সেটে কোরিয়া ৫৪ পয়েন্ট তোলে। ফলে সোনা নিশ্চিত করতে ভারতকে অন্তত ৫৪ পয়েন্ট করতেই হত। শুরুতে কীর্তির একটি তির ৮ পয়েন্টে গিয়ে লাগে। পরে রিভিউয়ের পর সেটি ৯ পয়েন্ট হিসেবে গণ্য হয়। শেষ পর্যন্ত ভারতও ৫৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। সেটটি টাই হওয়ায় ভারত ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং ইতিহাসে প্রথমবার মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে কোরিয়াকে হারিয়ে সোনা জেতে।

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাফল্য

    এই সাফল্যের নেপথ্যে তিন তিরন্দাজের পথচলাও আলাদা করে নজর কাড়ার মতো। কুমকুম মাত্র তিন বছর আগে রিকার্ভে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। তাঁর আর্চারির যাত্রা শুরু হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ধনুক দিয়ে। অন্যদিকে, কীর্তিকে একসময় বলা হয়েছিল যে তাঁর গড়ন খুবই পাতলা—রিকার্ভ বো ধরে রাখার মতো শক্তি তাঁর নেই। সেই সংশয়কে পিছনে ফেলে আজ তিনি এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী দলের সদস্য। অঙ্কিতা ভকত অবশ্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মুখ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মোট ২৩টি পদক। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা রিকার্ভ দল ব্রোঞ্জ জিতেছিল। সেটিই ছিল দলের আগের সেরা সাফল্য; ফাইনালে ওঠার সুযোগ হয়নি। এবার সেই ইতিহাস বদলে দিলেন অঙ্কিতা, কীর্তি ও কুমকুম। ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাফল্য নতুন দিগন্ত খুলেছে। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে কম্পাউন্ড আর্চাররা নজর কেড়েছিলেন। এবার রিকার্ভ বিভাগেও বিশ্বসেরাদের সঙ্গে সমানে টক্কর দেওয়ার বার্তা দিয়ে দিল ভারত। নাগোয়ায় তিন ‘সোনার মেয়ে’ দেখিয়ে দিলেন—কোরিয়ার দীর্ঘ আধিপত্যও ভাঙা সম্ভব। এখন মিশ্র দল ও পুরুষ রিকার্ভ দলও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

LinkedIn
Share