মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসম বিধানসভা নির্বাচনের (Assam Assembly Election) ফলাফল স্পষ্ট হতেই দেখা যাচ্ছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ফের একবার গেরুয়া ঝড় অব্যাহত। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে টানা তৃতীয়বারের জন্য দিসপুরের মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোট। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে আসামের রাজনীতিতে এক নতুন নজির গড়ল এনডিএ।
বিপুল জনসমর্থন (Assam Assembly Election)
অসমে ভোট গণনার (Assam Assembly Election) শুরু থেকেই বিজেপি এবং তার সহযোগী দলগুলি—অসম গণ পরিষদ (AGP) ও ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল (UPPL)—প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাজোটের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। গ্রামীণ থেকে শহুরে, প্রায় সব অঞ্চলেই এনডিএ-র (NDA) পক্ষে জনসমর্থনের জোয়ার দেখা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গিয়েছে, জালুকবাড়ি আসনে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৪০,০০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন, অন্যদিকে জোরহাটে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ তাঁর বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বী হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামীর থেকে ১৯,০০০-এর বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিলেন।
উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারের গত কয়েক বছরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড (Assam Assembly Election), পরিকাঠামো নির্মাণ এবং সামাজিক প্রকল্পগুলির সফল রূপায়নই এই জয়ের মূল চাবিকাঠি। পাশাপাশি, রাজ্যে শান্তি বজায় রাখা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে এনডিএ-র (NDA) কঠোর অবস্থানও ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। মন্ত্রী রনোজ পেগু, পীযূষ হাজারিকা, অশোক সিংঘল, প্রশান্ত ফুকন, বিমল বোরাহ এবং চন্দ্রমোহন পাটোয়ারিও ধেমাজি, জাগিরোড, ঢেকিয়াজুলি, ডিব্রুগড়, টিংখং এবং তিহুতে তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অনেক এগিয়ে রয়ছেন।
বিরোধী শিবিরের ব্যর্থতা
অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগীরা প্রচারে যথেষ্ট সক্রিয় থাকলেও আসন সংখ্যায় তা প্রতিফলিত হয়নি। বিরোধী জোটের ঐক্যবদ্ধ লড়াই সত্ত্বেও এনডিএ-র (NDA) শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর কাছে তাদের পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে।
বিজয় উল্লাস
অসমে জয়ের (Assam Assembly Election) খবর নিশ্চিত হতেই গুয়াহাটিসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বিজয় উল্লাস শুরু হয়েছে। আবির খেলা এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন করছেন কর্মী-সমর্থকরা। এই জয়ের ফলে আসামে এনডিএ-র (NDA) আধিপত্য আরও সুদৃঢ় হলো, যা আগামী দিনে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
